পুতুল বউ 💔পর্ব ২

0
79

“পুতুল বউ”
পর্ব-২
~
রিয়ার সাথে দুষ্টুমি শেষে ড্রয়িংরুমে বসে সবার সাথে কথা বলছিলাম।এমন সময় ছোট শালিকা বলে উঠল ভাইয়া হানিমুনে যাচ্ছেন কবে?আরে সত্যি তো!হানিমুনের কথা তো আমি ভুলেই গেছিলাম।আচ্ছা আনিকা(শালিকা) কোথায় যাওয়া যায় বলো তো?উমম…সাজেক যেতে পারেন তারপর ওখান থেকে কক্সবাজারে যাবেন।আপুর খুব ইচ্ছা সমুদ্রপারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সুর্যাস্ত দেখার।রিয়া খাওয়ার জন্য সবাইকে ডাকছে।আমি ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে দেখি সবাই আমার জন্য ওয়েট করছে।তারাতারি বসে পরলাম বউয়ের হাতের রান্না খাওয়ার জন্য।ইশ…রিয়া মায়ের মতই রান্না শিখছে।আনিকা মাংসের বাটিটা দাও তো।না,আনিকা দিবিনা।কেন আপু?তুই জানিস না আমার মোটা মানুষ পছন্দ না?তোর ভাইয়া গরুর মাংস খাইলে মোটা হয়ে যাবে।পেটে মেদ জমবে যেটা আমার একদমই পছন্দ না।এই শোনো?লাউ শাক আর পুটি মাছের ঝোল করেছি এইটা খাও।এতে কোনো সমস্যা হবেনা তোমার।কি হ্রামি বউরে!!খাইতে দেয়না আমায়।নিজে ভালো ভালো মুখরোচক খাবার খাবে আর আমাকে খাওয়াবে সবজি?দাঁড়াও আমি এর ব্যবস্থা করছি।প্রায় রাত ১১টা বাজে।লাউ শাকের তরকারি দিয়ে কোনোমতে কয়েকটা ভাত গিলে ফরমালিটিজ মেইনটেইন করে উঠে আসছি।এখন ক্ষিধেয় পেট জ্বালা করছে।হুর..ক্ষিধের জ্বালার চেয়ে বড় জ্বালা হয়েছে আমার বউটা।আইডিয়া!!বুদ্ধি থাকলে ঠকায় কে?ড্রয়িংরুমে আনিকা টিভি দেখছিলো।কাছে গিয়ে বসলাম এমন সময় কেএফসির ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন দিলো।আনিকা?জ্বি ভাইয়া?চলো কেএফসির ফ্রাইড চিকেন খেয়ে আসি।সত্যি! চলেন আমি রেডি।বাইকে করে শালিকাকে নিয়ে বের হলাম।পাশেই কেএফসি ছিলো।ঢুকতেই এই গরমে এসির বাতাসের ঠান্ডা হাওয়া মনটা ঠান্ডা করে দিল।ভাইয়া আমি জানি আপনার ক্ষুধায় অবস্থা বেগতিক তাই আমাকে নিয়ে এখানে এসেছেন।বড্ড বেশি বোঝো তুমি আনিকা,খাওতো।হঠাৎ আনিকার কলেজফ্রেন্ডরা এসে বলে কিরে আনিকা এই হ্যান্ডসাম কোত্থেকে জোটালি?আমি লজ্জা পেয়ে গলা কাশি দিয়ে বললাম তোমরা আনিকার ফ্রেন্ড?ফ্রেন্ড মানে?তার চেয়েও বেশি কিছু।বসো চিকেন খাও।না ভাইয়া আপনারা সময় কাটান।দেখলাম আমার প্রতি আনিকার বন্ধুদের ধারণা উল্টাপাল্টা তাই ওদের জোড় করে বসালাম।ওর এক বান্ধবি বলে ভাইয়া আমরা কাবাবে হাড্ডি হতে চাইনা।ইশ…মেয়েটা একটু বেশিই ইচরেপাকা।ওদের জন্য অর্ডার করে আলাপ করতে করতে বললাম আমি আনিকার বোন জামাই।সবাই জিহ্বায় কামড় দিলো আমার কথা শুনে।সরি বলতে বলতে সবাই মাফ চাইলো আমার কাছে।আসলে বোমটা না ফাটালে আমার নিজেরই ফাটতো।আড্ডা শেষে দেখি ১২:২০ বাজে।আনিকা অনেক রাত হইছে চলো বাসায় ফেরা যাক।রাস্তা ফাঁকা তাই বাইক বেশ জোড়েই চালাচ্ছিলাম।আচ্ছা ভাইয়া আপনি কখনও প্রেম করেছেন?হ্যা করি তো।বিয়ের পরও প্রেম?আপুকে বলে দিব।যার সাথে প্রেম করি তাকেই বলে দিবা?আমার কথা শুনে হেসেই শেষ।একথা ওকথা বলে বাসায় এসে দেখি আমার পুতুল বউ পুতুলের মত জড়সরো হয়ে ঘুমিয়ে আছে।কাছে গিয়ে গায়ে হাত দিতেই হাত সরিয়ে দিলো।এই পুতুল বউ রাগ করেছ?যা তো আমার চোখের সামনে থেকে।ঘ্যান ঘ্যান করবি না।ও বউ(ভালোবাসা দিয়ে ডাকছি)।লাফিয়ে উঠেই বালিশ দিয়ে এলোপাথাড়ি মাইর শুরু করলো।কয়েকটা মাইর খাওয়ার পর বালিশ কেড়ে নিলাম।আল্লাহ্‌!! বালিশ কেড়ে নিয়ে মনে হয় ভুল করলাম!এবার নরম হাতের মাইর সহ্য করছি।আজিব তো!আদর করার সময় হাত নরম আর মাইর দেয়ার সময় লোহার মত শক্ত!এমন কেন মেয়েটা?বউ হইছে এবার থামো।আরে এটা তো ডাইনি বউ।খামচে আমার ঘারের চামড়া মুখের চামড়া তুলে ফেলছে।সত্যি সত্যি তো মাংসখেকো নয়!আহত যোদ্ধা হয়ে খাটে হেলান দিয়ে ফ্লোরে বসে আছি।ওদিকে বউটার চোখ লাল হয়ে আছে মুখে পানি কেন?আচ্ছা রিয়া কি কান্না করছে?কিন্তু আমি তো ওর চোখের পানি সহ্য করতে পারিই না।নাহ্ রিয়ার মন খারাপ করে দিছি বাইরে ঘুরতে গিয়ে।এখন আমাকে ফ্লোরে ঘুমাতে হবে বাধ্য হয়ে।কেটে যাওয়া জায়গায় ঔষধ লাগাতে দিল না।মুখ,গলা,ঘার ভীষনভাবে জ্বালা করছে।রিয়াকে আজ খুব কষ্ট দিলাম।বুঝতেই পারিনি মেয়েটা এমন রিয়েক্ট করবে।একটা বালিশ দিয়ে শশুড়বাড়ি ফ্লোরিং করে প্রথম রাত কাটাচ্ছি।কি ভাগ্য আমার!শুয়ে শুয়ে রিয়ার চাপা কান্না শুনছি।মাইর খাওয়ার ভয়ে কিছু বলতে পারছিনা।কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা।হঠাৎ অনুভব করলাম আমার গলায় কেউ চুমু দিচ্ছে।টপ করে এক ফোটা পানি ঠোঁটের উপর পড়তেই জেগে উঠলাম।এ কি রিয়া এখানে কেন?আমি উঠতে যেতেই ও আমাকে চেপে ধরল আর জখম হওয়া জায়গায় চুমু দিতে থাকল।এটা আবার কেমন ঔষধ!নিমিষেই জ্বালাপোড়া কমে গেল।আমি জোড় করে উঠতে চাইলাম কিন্তু ওর ডাইনি শক্তির কাছে হার মেনে ওভাবেই শুয়ে থাকতে বাধ্য হলাম।তারপর রিয়া আমার বুকে মুখ গুজে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।আমি আড়ামের জন্য একটু সোজা হয়ে রিয়াকে পুতুলের মত করে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
চলবে(…..)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here