পুতুল বউ 💔পর্ব ৩

0
57

“পুতুল বউ”
পর্ব-৩
~
শেষরাতের দিকে রিয়া জেগে উঠে আমাকে ডাকছে-এই ওঠো।কি?আযান দিচ্ছে যাও ফ্রেশ হয়ে ওযু করে আসো দুজন একসাথে নামায পড়ব।হুহ?রাতে জামাইটাকে রক্তাক্ত করার পর এখন ভালোবাসা দিয়ে ডাকছে!আমি পাশ ফিরে আবার শুয়ে পড়াতে পুতুলটা আবার ডাইনিতে রুপান্তর হলো।বুকের উপর ধুপধাপ ঘুষিয়ে আমাকে জাগিয়ে বলে যা বললাম তারাতারি কর।আমি তোর সাথে নামায পড়ার জন্য কত স্বপ্ন দেখেছি জানিস?আমার সব স্বপ্ন তোকে পুরন করতে হবে।আমি এখন নামায পড়ব তোর পাশে,এখনই।(রাগের সাথে)।হে খোদা কি এমন অপরাধ করেছিলাম যে এমন বউ আমার ভাগ্যে আইলো!ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি আমার জন্য পানজাবি আর টুপি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আমাকে পানজাবি টুপি পড়িয়ে দিয়ে জায়নামাজ বিছিয়ে দুজন নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম।নামায শেষে মুনাজাত করলাম।আরও কিছু দোয়াকালাম শেষে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ভোরের আলো ফুটে গেছে চারপাশে।রিয়া আমার জন্য ঝটপট গরম চা নিয়ে আসলো।চায়ের কাপে দুজন কিছুক্ষণ গল্প করলাম।ভাবছি আরেকটু ঘুমিয়ে নিব কারন আজ শুক্রবার।ফ্লোরে শুয়ে পড়ব এমন সময় ট্রাওজার,জার্সি আর কেডস নিয়ে রিয়া হাজির।তুমি মর্নিং ওয়াকে যাবা?যাও।আমি যাব না আমার ফিটনেস ঠিক আছে।তোমার জন্য নিয়ে আসছি,নাও পড়ে নাও।শোনো সকাল সাতটার আগে বাসায় ফিরতে পারবেনা।কাল রাতে চিকেন খাইছো আজ সকালে দৌড়ে তা ঘাম করে করবে।বউয়ের অত্যাচার সহ্য করতে করতে আমি খুব তারাতারি মরে যাব মনে হয়।হায়াত কমে যাচ্ছে আমার সেটা হারে হারে টের পাচ্ছি। দরজা খুলে দিয়ে বলে যাও-পা বাড়িয়েছি এমন সময় ডেকে বলে আরেকটা কথা।কি?পোশাক যেন ঘামে দুর্গন্ধময় হয়।যদি ঘাম না হয় তবে তোমার একদিন কি আমার একদিন-মনে রাইখো কথাটা।এ কেমন বউ?ফাকিবাজি করতেও দেবেনা!এত চালাক কেমনে মেয়েটা।সাতটার সময় বাসায় ফিরলাম ঘর্মাক্ত শরীরে।রিয়া আমাকে দেখে টাওয়াল আর লুঙ্গি দিলো।গোসল শেষে বের হয়ে অনেক ক্লান্ত লাগছে আর খুব ক্ষিধেও পেয়েছে।পেট ভরে ভাত খাওয়ার প্লান করছি এমন সময় রিয়া পাতলা দুইটা রুটি আর একটুখানি সবজি নিয়ে এসে বলে খেয়ে নাও।তুমি খাইছো?আমার খাওয়া দেরি হবে।কেন?ভাত উঠিয়ে দিছি এখনও হয়নি।আমিও ভাত খাব তোমার সাথে।তোমার ভাত খাওয়া মানা।মানা!কিসের মানা?আমি বলছি তাই মানা।ভালো ছেলের মত এগুলো খেয়ে নাও।ক্ষুধার জ্বালায় পৃথিবী গদ্যময় সকালের সোনালি সুর্য্য যেন অমলেট ডিমের কুসুম।কিন্তু ওই কুসুম খাইতে সৌভাগ্য লাগে।আমার কোনোদিন আর সেই সৌভাগ্য হবে বলে মনে হয়না।সকালের নাস্তা শেষে পেপার পড়ছি সোফায় বসে এমন সময় রিয়া এসে পুতুলের মত করে আমার কোলে বসে বলে আমার চুলে বিলি কেটে দাওতো-মাথা চুলকাচ্ছে।কি হ্রামি বউরে?একটু শান্তিতেও থাকতে দেবেনা।আমি বিলি কাটতে পারিনা।রাগে গজ গজ করে উঠে বলে দিবি কি না বল?রাতের সেই অত্যাচারের ভয়ে আমি নখ দিয়ে বিলি কাটছি।শশুড় আব্বা কান্ডকারখানা দেখে মিষ্টি মিষ্টি হাসে।ইশ…কি লজ্জা কি লজ্জা।মান-সম্মান আর রাখলো না রিয়া।আনিকা ঘুম থেকে উঠে সোফায় বসে টিভি অন করতেই রিয়া বলল আনিকা আমার ঘর থেকে নারিকেল তেলের বোতলটা নিয়ে আয়।তেল দিয়ে কি করবা?কেন তুমি বিলি কেটে দিচ্ছ আর তেল দিয়ে দেবেনা তা কি হয়?রিয়া এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।কিসের বাড়াবাড়ি! আমার সব স্বপ্ন পুরন করতে হবে তোমার।হায়রে কপাল!বাপ মা কার সাথে বিয়ে দিলো আমায় যে সবসময় প্যারার মধ্যে রাখে!ভালো করে মাথায় তেল দিয়ে ডায়নি বউকে কিছুটা বশে আনলাম।দুপুরবেলা নামায থেকে এসে দেখি টেবিলে খাবার রেডি করা।আহ কি গন্ধ বেড়িয়েছে!জিহ্বায় পানি এসে যাচ্ছে বোয়াল মাছ দেখে।সবাই মিলে খুব মজা করে খাওয়া দাওয়া করলাম।চোখটা লেগে আসছে তাই বিছানায় শুয়ে পড়লাম একটু।কখন যে ঘুমিয়েছি জানিনা।হঠাৎ টের পেলাম কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমুতে চাচ্ছে।মনে হচ্ছে আমাকে জড়িয়ে ধরাটা খুব প্রয়োজন।চোখ খুলে দেখি রিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমুতে না পেরে বিছানায় বসে আছে মন খারাপ করে।আমি ওকে কাছে ডাকতেই জোড়ে লাফিয়ে বুকের উপর ঝাপিয়ে পড়ল।ইশ…ব্যথা পেলাম তো।আমার কথা বলাটা মনে হয় অন্যায় হইছে তাই হাত দিয়ে মুখটা চেপে ধরল আর বুঝালো যে কথা না বলে ওকে জড়িয়ে ধরে যেন ঘুমাই।আহা!হাতটা কত নরম লাগছে এখন আর যখন মাইর দেয় তখন মনে হয় ডাইনি বুড়ির হাত।বিকেল বেলা আযান দেয়ায় পুতুলটা চোখ মুছতে মুছতে উঠে বলে নামায পড়ব ওযু করে আসো।পাশেই দাঁড়িয়ে নামায শেষে আমার গলা জড়িয়ে ধরে তোষামোদ করছে রিয়া।কি ব্যাপার এখন এত ভালোবাসা দেখাচ্ছ যে!কাহিনীটা কি?ঘুরতে যাব নিয়ে চলো আমাকে।কোথায় যাবে?ওই যে দেখছো সুর্য্য ওখানে যাব-নিয়ে চলো।পাগল হইছো তুমি?ওই আদর দিয়ে বলছি ভালো লাগছেনা, তাইনা?চল দিয়া বাড়ি যাব।কাশফুলের মাঝে আমি তোর হাত ধরে হাটব।আনিকা যাবে?ও কেন যাবে আমার আর তোর মাাঝে?না ছোট মানুষ ওরও তো শখ করে বাইরে বের হওয়ার।না ওর শখ করেনা।এখানে বসে থাকো আমি তোমার ড্রেস নিয়ে আসছি।আলমিরা থেকে পোলো শার্ট আর জিন্স দিয়ে বলে পড়ে নাও।রিয়া আমি একজন সরকারী চাকুরীজীবী এগুলো পড়া আমার মানায় না।অফিসে যেতে বলিনি তোমাকে, আমাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে বলেছি।ড্রেসটা পড়ে আয়নার সামনে যেতেই পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল।বাহ্ বেশ স্মার্ট লাগছে তো আমাকে।রিয়া কেমন লাগছে আমায়?ভেবেছিলাম আমি কালো তাই ফর্সা জামাই পাবো কিন্তু সেই পেলাম তোমার মত এক পিস।ভালোই লাগছে রিয়া শাড়ি পড়তে পড়তে বলছে কথাগুলো।শাড়ির কুচি দিতে পারছিনা একটু হেল্প করো।হা হা…এরকম করে কেউ শাড়ি পড়ে?কোনোদিন পড়োনি?হ্যা এর আগে মনে হয় আমার চল্লিশটা বিয়ে হইছিল যে আমি শাড়ি পড়া জানব।কুচি দিয়ে দাও।শাড়িতে কুচি দিয়ে ওর নরম পেটে গুজে দিতেই মাথায় একটা থাপ্পর দিলো।কি হলো?থাপ্পর দিলে কেন?শাড়ি কুচি দিতে বলেছি পেটে গুজে দিতে বলিনি আমি।কি হ্রামি বউ আমার?কথায় কথায় মাইর দেয়।এই শোনো চুল ছেড়ে দিব নাকি বাধব?বেধে ফেলো।না ছেড়ে দিয়ে রাখব।তাহলে আমাকে কেন বলছো বাধবে নাকি ছেড়ে দিবে?দেখলাম তোমার রুচিটা কেমন।কেমন আবার?পুরাই ক্ষ্যাত মার্কা।উফ…হেমলক থাকলে এখনই খেয়ে মরতাম আমি।যাও বাইক বের কর আমি নিচে আসছি।
চলবে(….)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here