পুতুল বউ 💔পর্ব ৪

0
49

“পুতুল বউ”
পর্ব-৪
~
বাইক নিয়ে দেখি ট্যাংকি প্রায় খালি।তার মানে তেল তুলতে হবে।এদিকে বার বার হর্ণ দিয়েই যাচ্ছি কিন্তু রিয়া আসছেনা।১০মিনিট পর রিয়া নিচে এসে বলে চলো হয়ে গেছে।এতো দেরী করলে কেন?এমন এমন কাজ কর তুমি যে মেজাজ হারিয়ে ফেলি?এটুকুতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলো তাহলে আমি যখন তোমাকে জ্বালাব তখন তুমি আমাকে কেমনে সহ্য করবে?জ্বালাবে মানে?শোনো আমি কেন দেরী করছিলাম জানো?কেন?তোমার ধৈর্য্য দেখছিলাম আমার কাজের প্রতি।কি পেলে?তুমি আসলেই অধৈর্য্যবান একটা ছেলে।আমার একটা পরীক্ষায়ও তুমি পাশ করনা।এমন ফেল করাই কর যে উল্টো আমিই তোমার কাছে আরো নম্বর পাব।আচ্ছা দেখা যাবে কার ধৈর্য্য কতটুকু।গাড়িতে ওঠো তারাতারি।বাইক স্টার্ট করে সোজা তেল পাম্পে গেলাম।এখানে কেন আসলে?তেল নাই বাইকে তাই তেল নিতে আসলাম।প্রায় পনের মিনিট লাগল তেল নিতে।আমি লক্ষ্য করলাম রিয়া রাগে গজগজ করছে কিন্তু কিছু বলছেনা।বাইকে উঠে রিয়াকে প্রশ্ন করলাম বি প্যাশেন্স মাই ডিয়ার পুতুল বউ।কথাটা বলতে না বলতেই পিঠের উপর ধুমধাম শুরু হইলো কিছুক্ষণ।বাধ্য হয়ে বাইক থামায়া নিচে নামছি।দেখি বউ আমার কান্না করছে।এই তুমি কান্না কেন করছ?তুমি আমাকে কষ্ট দাও কেন?তুমি যে আমাকে কষ্ট দাও তখন আমারও এমন লাগে।আমি ভালোবেসে তোমার সাথে এমন করি।যেদিন মরে যাব সেদিন বুঝবে।আর তুমি আমার সাথে আমার ব্যবহারের প্রতিশোধ নাও।এমন কেন তুমি?ভালোবেসে এরকম করলে আপত্তি নাই কিন্তু কখনও প্রতিশোধ নিবানা।(কেদে অস্থির) আসলেই তো!আমি ওর ব্যবহারের প্রতিশোধ নিই।রিয়া ঠিকি বলেছে আমি পাশ করার যোগ্য তো নই-ই বরং পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা রাখিনা।দিয়া বাড়ি পৌছাইলাম অবশেষে।অনেক বড় রাস্তা অনেক দুর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।এই শোনো?কি?বাইকে যাবনা।কেন?তোমার হাত ধরে এমন অজানা রাস্তার শেষটুকু দেখব।রাস্তাটা এতই লম্বা ছিল যে চোখ শেষ পর্যন্ত পৌছায়না।চারপাশে বড় বড় ঘন সবুজ ঘাস, হালকা ঝিড়ি ঝিড়ি বাতাস,রিয়ার হাতের আঙ্গুল আমার আঙ্গুলে বাধা,ঝিড়ি বাতাসে রিয়ার খোলা চুল আমার মুখে এসে লাগছে,রিয়ার চুলের গন্ধ শরীরের গন্ধ আমার নাকে এসে লাগছে।মাতাল করা এক অনুভূতি।জানিনা এই অনুভূতির নাম কি দিব!যে একবার এই অনুভূতির স্বাদ পেয়েছে সে এমন মানুষের সাথে সারাজীবন এরকম রাস্তায় হাটতেই থাকবে।আর একটু সামনে গেলে কাশফুল পাওয়া যাবে।আমি আর হাটতে পারছিনা আমাকে কোলে নাও।রিয়াকে কোলে নিয়ে আমি হাটছি,চারপাশে নিস্তব্ধতা নীল আকাশ গৌধুলির সুর্য্যের আলোতে রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।ঐ দূরে কয়েকটা সাদা বক উড়ে যাচ্ছে।রিয়া আমার কোলে শুয়ে শুধু আমাকে দেখছে।অদ্ভুত চাহনিযুক্ত চোখ আমাকে নেশায় ফেলছে।মনে হচ্ছে ও আমাকে আবারও সম্মোহন করার চেষ্টা করছে।কাশফুলের মধ্যে চলে এসেছি।রিয়াকে নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি।দুজনের মুখে কোনো কথা নাই।চুপচাপ নিরবতা এমন সময় একটা প্লেন উরে গেল আকাশে অনেক শব্দ করে।দুজনের ঘোর কেটে গেল তখন রিয়া নামতে চাইলো।ওকে নামিয়ে কাশফুল ছিড়ে ওর গায়ে ঝাকুনি দিয়ে মেখে দিচ্ছি।পুতুলটা দোড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।হঠাৎ করেই ওকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না।প্রথমে হালকা ভাবে নিলেও পরে সিরিয়াসলি ওকে হারিয়ে ফেললাম আমি।কোন দিক চলে গেছে বুঝতে পারছিলাম না এই বড় বড় ঘাস আর ফুলের মাঝে ও সত্যি হারিয়ে যাচ্ছে।পাগলের মত হয়ে গেছি আমি রিয়াকে না পেয়ে।যখন নিজের উপর কন্ট্রোল হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়লাম তখন কে যেন কাধে হাত রাখল।পেছন ফিরে দেখি রিয়ার চোখে পানি।হ্যা আমি রিয়াকে খুঁজে পেয়েছি।এই পুতুল কই গেছিলা তুমি?আরেকটু হলে আমি এখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম।নইলে এখানেই নিজেকে শেষ করে দিতাম।কথাটা বলতেই রিয়া আমার মুখ চেপে ধরল।কিছু বলছেনা ও শুধু কাঁদছে।হঠাৎ করেই রিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।ওকে কোলে নিয়ে দৌড়ে বাইকের কাছে আসলাম।পানি মুখে ছিটিয়ে ওর জ্ঞান ফেরালাম।কি হয়েছে রিয়া?খুব কষ্ট হচ্ছে?তুমি আমাকে এতটা ভালোবাসো আমি বুঝতেই পারিনি।তোমার ভালোবাসা ফিল করতে গিয়ে আমার মাথা ঘুরাইছিল।একটু পানি খাও।অন্ধকার হয়ে গেছে প্রায়।বাইকে রিয়াকে উঠিয়ে ওর হাত আমার কোমরে পেচিয়ে নিলাম তারপর সোজা আমার বাসায় চলে আসলাম।আমি বুঝতে পারছিলাম রিয়ার বিশ্রাম দরকার কারন আজকে সারাদিন ও রান্না করা সহ অনেক পরিশ্রম করছে।মেয়েটাকে কোলে নিয়ে দরজা নক দিতেই মা অস্থির হয়ে বলল কি হইছে?কিছুনা মা, মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেছিলো।এখন রেস্ট নিলেই ও ঠিক হয়ে যাবে।একটু গরম দুধ ওকে খাইয়ে দিলাম।ও খুব ক্লান্ত তাই ওকে বুকে নিয়ে শুয়ে আছি।মা এসে একবার দেখে গেল আমরা ঠিক আছি কিনা।সকাল হয়ে গেছে তবুও ও আমার বুকে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে।ওকে বিছানায় একা রেখে উঠতেও পারছিনা।অনেকক্ষণ পর উঠব এমন সময় রিয়া আমার টি-শার্ট টেনে ধরল।যেওনা পিচ্চি বর।আমার কাছে থাকো আরেকটু।এবার আর উঠতে পারলাম না।আমার পুতুল বউ আমাকে কাছে টানছে কিভাবে আমি দুরে যাব? হাত দিয়ে রিয়ার চোখ বন্ধ করে কপালে মিষ্টি করে আদর দিয়ে দিলাম।ও আমাকে আরো জোড়ে চেপে ধরল।একটু পর নিজেই লাফিয়ে উঠে বলে এই তোর কাণ্ডজ্ঞান নেই?অফিসে যাওয়া বাদ দিয়ে বউয়ের সাথে পিড়িত করা হচ্ছে?কি হ্রামি বউ!!😱নিজেই টেনে ধরে রেখে এখন আমাকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলছে।রিয়া নিজেই বিছানা থেকে নেমে গিয়ে টেবিলে নাস্তা রেডি করল।আমি গোসল শেষে টাওয়াল পড়ে বসে আছি।আমার এই অবস্থা দেখে ওর চোখে আগুন ধরে গেল।মাথার পিছনে থাপ্পর দিয়ে বলে ছোট বাচ্চাদের মত ড্রেস না পড়ে টাওয়াল পরে বসে আছো কেন?ওমা!তুমি না বললে আমি তোমার পিচ্চি বর!পিচ্চিরা কি কিছু করতে পারে?পড়িয়ে দাও আমাকে ড্রেস।ওরে হ্রামি জামাই!কি খ্রাপ?আমি তোর বান্দি নাকি যে যা ইচ্ছা তাই করাবি?উহু…তুমি আমার পুতুল বউ।একটানে টাওয়াল খুলে দিছে আমার।লজ্জায় আমি শেষ।দৌড়ে খাটের কোনায় লুকাইলাম। কিসের লজ্জা?পিচ্চি বাচ্চারা আবার লজ্জা পায় নাকি?এ…. এ… তোমাকে পড়িয়ে দিতে হবেনা আমিই পড়ে নিব।এখন রুম থেকে যাও।হাসতে হাসতে চলে গেল রিয়া।শার্টের বোতাম লাগাচ্ছি এমন সময় রিয়া এসে বলল এই অধিকার আমি চাই।রিয়া আমার শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিচ্ছে।টাই লাগিয়ে দিয়ে চুল আচড়ে দিল।তারপর আমার মোটা ফ্রেমওয়ালা চশমা চোখে পড়ায়া দিয়ে বলে ভুলভাল দিকে তাকাবেনা।যদি তাকাও খুন করে ফেলব।খুব দেখার ইচ্ছা হলে এই চশমা দিয়ে আমাকে দেখবে। নাস্তা শেষে দরজার সামনে রিয়া আমাকে বিদায় দিতে আসছে।বাই বলে যাব এমন সময় বলে এই পিচ্চি বর শোনো?কানের কাছে মুখ এনে চুপি চুপি বলল “ভালোবাসি তোমায় পিচ্চি বর”।আমিও ওর কানের কাছে গিয়ে বললাম “ভালোবাসি তোমায় পুতুল বউ”।
চলবে(……)
আমাদের পোস্টে লাইক কমেন্ট না করলে পরবতি পাট গুলা আপনি পড়তে পারবেন নাহ,,,আপনার ফিড নিঊজে যাবে নাহ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here