পুতুল বউ 💔পর্ব ৭+৮

0
55

“পুতুল বউ”
পর্ব-৭
~
অ্যালার্মের শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখি রিয়া আমার পাশে নাই।ভাবলাম মনে হয় কিচেনে গেছে।আমি বারান্দায় গিয়ে প্রকৃতি দেখলাম কিছুক্ষণ। রিয়া বেডরুমে চলে আসছে।ডায়নিটা চুল দিয়ে মুখ ঢেকে আমার পিছনে চুপি চুপি কখন এসেছে জানিনা।আনমনে পিছন ফিরতেই ওরকম ভয়ংকর দৃশ্য দেখেই আমি চিল্লায়া উঠছি।কিচেন থেকে আম্মু দৌড়ায়া চলে আসছে কি হইছে দেখার জন্য।হ্রামি বউ আমার চিল্লানির সাথে ও নিজেও গলা মিলাইছে।কি খারাপ মেয়েকে বিয়ে করছি আমি!আমার ভয় পাওয়া দেখে ও খিল খিল করে ডায়নি বুড়ির মত করে হাসছে।আম্মু এসব খুনসুটি দেখে মুচকি হেসে চলে গেল।আমার হাতে টাওয়াল ধরিয়ে দিয়ে রিয়া আবার কিচেনে গেল।তারপর সবই ঠিক ছিল কিন্তু তবুও মনে হয় কিছু ঠিক ছিলনা।রিয়া আজ টাই পড়িয়ে দেইনি,শার্টের বোতাম লাগায়নি,চুল আঁচড়ে দেইনি।যাবার সময় ডায়নিং থেকে শুধু মাথা নাড়ল।তার মানে কিচেনে মা ওকে কথা শুনিয়েছে।ভালোই হইছে ওকে কথা শুনাইছে।হ্রামি মার্কা বউ শুধু আমাকে প্যারায় রাখে।নাহ্ ভাল্লাগছে না কিছুই।বাইক ঘুরিয়ে বাসায় ফিরে কলিংবেল দিতেই রিয়া দৌড়ে এসে দরজা খুলল।কিছু বুঝলাম না ওর চোখে পানি কেন।রিয়া মনে হয় আমার ফিরে আসার জন্যই ওয়েট করছিল।ও মনে হয় খুব করে চাইছিল ওর পিচ্চি বরটা ফিরে আসুক ওর কাছে তারপর নিজ হাতে সাজিয়ে,আদর দিয়ে বিদায় দেবে।আমাকে দরজায় দেখেই বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে মেয়েটা।ভীষন জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছিল ওকে।রুমে নিয়ে এসে ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম আম্মু বকছে?মাথা নিচু করে আছে।বুঝলাম ধারনা সত্যি।আজকে হঠাৎ রিয়া আমার কাছে আসতে চাইছে।আমার খুব কাছে আসতে চাইছে।কিন্তু কেন?ওকে বুকে নিয়ে অনেক্ষণ শান্তির প্রশ্বাস নিলাম আর নিঃশ্বাস ছাড়লাম।রিয়া আজকে শরীরের সাথে খুব করে মিলিয়ে যেতে চাচ্ছিল।তারপর চুপি চুপি বের হলাম অফিসে যাওয়ার জন্য।আজকে দিয়া অফিসে বার বার ফোন দিয়েছে।মনে হয় ও আমাকে চাইছিল ওই সময়টাতে,আমাকে মন থেকে ডাকছিল যে ওর কাছে আমি চলে আসি।দুর থেকে রিয়ার ডাক আমি শুনতে পাই।বুঝতে পারি ওর মনটাকে যে ও আমাকে ডাকছে।বিকেলে বাসায় ফিরে দেখি আনিকা আসছে আমাদের বাসায়।ভালোই হইছে আনিকা আসছে।রিয়া এখন কিছুটা সময় কাটাতে পারবে আনিকার সাথে।কেমন আছেন ভাইয়া।এইতো ভালো।কখন আসছো।মাত্রই আসলাম।রেস্ট নাও।আমি ফ্রেশ হয়ে খেতে আসলাম।রিয়া, আমি,আনিকা তিনজন খাচ্ছিলাম।খাওয়ার মাঝেই আনিকা বলল ভাইয়া তাহলে হানিমুন কোথায় করছেন।আরে ব্যাপারটা তো ভুলেই গেছিলাম আমি!মনে করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।তোমার আপুকে জিজ্ঞেস কর সে কোথায় যেতে চায়।রিয়া মনে হয় লজ্জা পেল।ওর উপর দায়িত্ব দেয়াতে কিছুটা নির্বাক হয়েছে।তুমি বল আনিকা কোথায় যাওয়া যায়।ভাইয়া সাজেক ভ্যালিতে যেতে পারেন।অসম্ভব সুন্দর জায়গা রাঙামাটি জেলার।রিয়াকে বললাম চলবে?ও মাথা নাড়ল।বউ আমার লজ্জা পাচ্ছে কেন?খাওয়া শেষে সবাই গল্প করে সন্ধায় নামায শেষে বাইরে ঘুরতে বের হলাম।এই শহরে রাত দশটা পর্যন্ত মানুষের ভীরে হাটা যায়না।গভীর রাতটাই বেশি ভালো।কোনো ট্রাফিক নেই।কেবল ফাকা রাস্তার পর রাস্তা।আনিকা মিষ্টি টক দিয়ে ফুচকা খাবে।আমাদের এখানে এই ফুচকা অনেক বিখ্যাত।রিয়ার আবদার দই ফুচকা।আগে আনিকার শখ পুরন করে রিয়াকে দই ফুচকা খাওয়াইলাম।বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত নয়টা বেজে গেছে।কিছুক্ষন টিভির সামনে সময় কাটিয়ে ডিনার করলাম।আনিকা বলল ভাইয়া হানিমুনে যাবেন কেনাকাটা করবেন না?কালকে বিকেলে যাব শপিং করতে।রিয়াকে লিস্ট বানিয়ে রাখতে বললাম।আজকে বেশ তারাতারিই ঘুমিয়ে পড়লাম।আনিকা আসাতে আজ রাত শান্তিতে ঘুমুতে পারব এটা ভেবে খুশিতে লাফাতে ইচ্ছে করছে।আমি যে খুশি সেটা ডায়নি বউকে বুঝতে দেয়া যাবেনা।তাইলে ও আমার ঘুম হারাম করে ছাড়বে।রিয়া গেস্ট রুমে ঘুমুতে চলে গেল।লাইট অফ করে রিয়া আমার পাশে ঘুমাবে কিন্তু আমি উপর হয়ে আগেই ঘুমিয়েছিলাম।কোনোভাবে আমাকে জড়িয়ে ঘুমানোর উপায় না পেয়ে পুতুলটা আমার পিঠের উপর ঘুমিয়ে পড়ল।হঠাৎ রাতে ধুমধাম কিল শুরু হলো আমার পিঠে।জেগে দেখি রিয়া বসে আছে বিছানায়।কি হইছে পুতুল?ঘুম আসছেনা পিচ্চি বর।এসো কাছে এসো।পুতুলটাকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছি কিন্তু ওর ঘুম বসছেনা।বুকের মধ্যে থেকে মাথা বের করে আমার নাকের সাথে ও নাক লাগিয়ে শুয়ে থাকল কিছুক্ষণ।বুঝলাম ও আজকেও আমাকে ঘুমুতে দেবেনা।এই ওঠ।কি?আমার ঘুম পাচ্ছেনা।চোখ বন্ধ করপ থাকো ঘুম চলে আসবে।চেষ্টা করেছি ঘুমানোর কিন্তু পারলাম না।চলো বারান্দায় যাই।ওখানে ভুত আছে।কিসের ভুত?আমি নিজেই একটা ভুত।বাধ্য হয়ে গেলাম বারান্দায়।দুটো কুকুর গেটের সামনে ঘুর ঘুর করছে।ওদের দিকে তাকিয়ে আছে রিয়া।একটু পর ওরাও চলে গেল।ল্যাম্পপোস্ট ছাড়া সামনে দেখার মত আর কিছুই নাই।এবার রিয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলল পিচ্চি বর কাছে এসো।ও নিজেই আমার কোমড় টেনে ধরে কাছে নিল।বারান্দার গ্রিলের সাথে রিয়া হেলান দেয়া আর আমি ওকে গ্রিলে চাপ দিয়ে ধরে আছি।কপালে কপাল আর নাকে নাক ঘষছে মেয়েটা।মেয়েটার মুদ্রা কি এই পর্যন্তই নাকি?নিজেও এগোবেনা আমাকেও এগোতে দেবেনা।এরকমভাবে কতক্ষণ ছিলাম মনে নাই।একসময় দেখলাম রিয়া এভাবেই ঘুমিয়ে পড়েছে।মানুষের ঘুমানোর স্টাইল যে এরকম হতে পারে তা আমার জানা ছিলনা।সকালে অফিসে চললাম প্রতিদিনের মত করেই।রিয়ার যত্ন দিন দিন বেড়েই চলেছে।কেমন যেন হয়ে গেছি আমি।রিয়ার প্রেমে পড়েছি আমি।ওয়াক!বউয়ের প্রেমে কেউ পড়ে?তাহলে ভালোবাসি।হ্যা এবার ঠিক আছে।সবাই বউকে ভালোবাসে।আচ্ছা বউয়ের সাথে প্রেম করা ভালো নাকি ভালোবাসা ভালো?উত্তরটা জানা নেই।বিকেলে ফিরে খাওয়াদাওয়া শেষে রিয়া আমাকে লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে বলল এগুলা কিনতে হবে।এ আর এমন কি?আরো বড় লিস্ট করতে পারতে।এটুকুই করে দেখাই।(কটুক্তি করে)।এগুলো কিনতে যে আমার ফাটবে সেটা কি ও জানে?সন্ধায় শপিং করার জন্য আনিকা যেতে চাইলে বললাম ১০টার পরে যাব।ওই সময় ভীর কম থাকে।চলে গেলাম শপিং করতে তিনজন।সবার জন্য সবকিছু কিনতে হলো অথচ হানিমুনে যাব আমি আর রিয়া।আম্মুর জন্য শাড়ি,আব্বুর জন্য পানজাবি,আনিকার ড্রেস,শশুড় শাশুড়ির ড্রেস আর নিজেদেরটা তো আছেই।অনেক রাতে বাসায় ফিরলাম।কিন্তু বাসের টিকিট বুক করা হয় নাই।কালকে করে ফেলব ভাবছি।সকালে টেবিলে নাস্তা করতে করতে রিয়াকে বললাম সামনের বৃহস্পতিবার গেলে কেমন হয়।রিয়া আমার কথা শুনে চুপসে গেল।ওর মনে হয় এই সপ্তাহে যাওয়ার ইচ্ছে নেই।যথারীতি বিকেলে ফিরে খাওয়াদাওয়া করলাম।রাতে আনিকা,রিয়া আর আমি গল্প শেষে ঘুমালাম।এদিন রিয়া কেমন যেন বিষন্ন।ওকে কেমন যেন লাগছে।কিছু বলতে চেয়েও পারছেনা বলতে।আচ্ছা কি এমন বলতে চায় ও যে বলতে পারছেনা কোনো এক অজানা কারনে!আজকে বুকের মধ্যে নেয়ার পর সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ল পুতুলটা।আমার আজকে রাতে আর ঘুম হলনা।রিয়াকে ডাকছিনা আমি কিন্তু ওর ঘুমন্ত মায়াবী মুখ দেখছি আমি ডিম লাইটের আলোয়।সকাল হয়ে গেছে তবুও পুতুল বউটার ওঠার নাম নেই।আমি নিজেই উঠে ফ্রেশ হয়ে ওকে ডাকলাম।রিয়া উঠতে পারছেনা।গায়ে হাত দিয়ে দেখলাম জ্বর নেই।তাহলে আমার রিয়ার কি হলো?আনিকাকে বললাম তোমার বোনকে একটু দেখে রেখো।অফিসে গেলাম অসুস্থ রিয়াকে রেখে।বিকেলে আমি আসাতে আনিকা চলে গেল।ভাইয়া আপনি আসছেন ভালো হইছে।আপুর কেয়ার নিয়েন।রিয়ার তলপেট ব্যথা করছে।পেটের উপর একগাদা বই দিয়ে রাখছে।মেয়েটা ব্যথায় কাতরাচ্ছে।বিছানায় রক্ত দেখলাম আর ফ্লোরে রক্ত ছিটানো।ভয় পেয়েছিলাম পরে বুঝলাম ওর পিরিয়ড হয়েছে।আহারে পিরিয়ড হলে মানুষ এরকম হয়ে যায় নিজের চোখে কোনোদিন দেখিনি।একটু পর পর রিয়া ব্যথায় চিৎকার করে উঠছে।ওর কাছে গিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।আমার কোনো আদর ওর ব্যথাকে কমাতে পারছেনা।ঔষধ খাওয়াইলাম কিন্তু ব্যথা কমেনা।একটু পর পর ব্লিডিং হচ্ছে।ব্যথায় ও হাটতে পারছেনা।ধরে ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে যাচ্ছি।ন্যাকরা দিয়ে ফ্লোর মুছে দিলাম।ব্যথায় কাঁদছে মেয়েটা।হে আল্লাহ্ মেয়েদের তুমি বানিয়েছ ছেলেদের বুকের পাজরের হাড্ডি দিয়ে।কিন্তু এই হাড্ডির তৈরী মানুষের মাঝে তুমি এতটা সহ্য ক্ষমতা দিয়েছ ভাবাই যায়না।কিন্তু আমরা ছেলেরা সামান্য ব্যথায় কাতর হয়ে পরি।রিয়ার তলপেটে আমি চাপ দিয়ে ধরে রাখলাম অনেকক্ষণ।কিন্তু কিছুতেই ওর ব্যথা কমছেনা।ঘণ্টা তিনেক পর কমল কিছুটা।আমি রিয়াকে না দেখলে কোনোদিন এই ব্যথার মর্ম বুঝতে পারতাম না।একটা মেয়ে কতটা ব্যথা সহ্য করে হাসিমুখে সব কাজ করে,অফিস করে,বাইরে বের হয়,বন্ধুদের বুঝতে দেয়না তার ভিতরের ক্ষতবিক্ষত হওয়া ব্যথা।আচ্ছা মেয়েরা কিসের তৈরী যে এতটা ব্যথা সহ্য করে থাকে।রাতের বেলা বাসের টিকিট ক্যান্সেল করে সোমবার নিলাম।আমার রিয়ার অবস্থা খুবি খারাপ।ওর কাপর চোপর,বেডশিট,ফ্লোর সব পরিষ্কার করলাম রাতে।চেঞ্জ করে নতুন একটা পড়িয়ে দিলাম।কিন্তু শেষ রাতের দিকে রিয়ার চিৎকার আমাকে ভয় পাইয়ে দিছিল।আবারও ব্যথা শুরু হলো।ব্লিডিং হচ্ছে আমি চোখের পানি আটকাতে পারছিনা।এত কষ্ট কিভাবে সহ্য করছে ও।ওকে পরিষ্কার করে গোসল করিয়ে শুইয়ে দিয়ে অফিসে গেলাম।আম্মুকে ডেকে বললাম রিয়া অসুস্থ একটু খেয়াল রেখো।বিকেল এসে দেখি রিয়া ঘুমুচ্ছে।আম্মু এসে আবারও কাপর চেঞ্জ করে দিয়ে গেছিল।আমি এসে রিয়ার মুখে কিছুটা হাসি দেখলাম।দুপুরে আম্মু ওকে খাইয়ে দিছিল।আমি খাওয়াদাওয়া করে ওর কাছে বসে আছি।প্রায় এভাবে তিনদিন পর্যন্ত রিয়া ব্যথায় কষ্ট করল।মাঝে মাঝে কমে আবার মাঝে মাঝে প্রচন্ড বেড়ে যায়।রিয়া এখন সুস্থ্য।কালকে রবিবার।আশা করি ও সোমবার একদম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।আমিও অফিস থেকে ছুটি নিলাম।সোমবার রাতে বাস।হানিমুনে যাব,জীবনের প্রথম হানিমুন,রিয়ার সাথে।
চলবে(……)”পুতুল বউ”
পর্ব-৮
~
দেখতে দেখতে সোমবার চলে আসলো।আমি আর পুতুল বউ দুজনই বেশ রোমাঞ্চিত।রিয়ার অসুস্থতা এখন একদম নেই।আমি সোমবার অফিস শেষ করে বিকেলে বাসায় ফিরে দেখলাম রিয়া কিছুই গোছগাছ করেনি।এমন এলোমেলো মেয়ে কেন রিয়া?ঘরে ঢুকে দেখি রিয়া পুতুলের মত শুয়ে আছে।ড্রেস চেঞ্জ করছি আর রিয়া অসুস্থ কিনা তা দেখলাম।নাহ্ পুতুলটা তো সুস্থ আছে।তাহলে এই অসময়ে শুয়ে আছে কেন?চেঞ্জ করে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা লক করব এমন সময় রিয়া নিজেও ওয়াশরুমে ঢুকল।আমি বের হতে চাইলে ও বলে বের হতে হবেনা।কেন?আমি এখানে আসছি তোমাকে গোসল করিয়ে দিতে।আমাকে গোসল করাতে হবেনা।ও কেমন যেন চুপসে গেল।রাগে গজগজ করতে করতে সাবান আর শ্যাম্পুর বোতল নিয়ে বের হয়ে গেল।রিয়া তুমি ওগুলো নিলে আমি গোসল করব কেমন করে?রিয়া কিছুতেই দিতে চাচ্ছেনা।উল্টো কাঁদছে।মেয়েটাকে নিয়ে আর পারিনা।যখন বললাম ঠিকআছে গোসল করিয়ে দাও তখন মুখে হাসি নিয়ে ওয়াশরুমে এলো।কিন্তু সাবান শ্যাম্পু কই?না ওগুলো দিয়ে তোমাকে গোসল করতে দিবনা।কেন?আমি তোমার গায়ের গন্ধ নিতে চাই তোমার সাথে মিশে গিয়ে।যখন প্রথম বার তোমার খুব কাছে যাব তখন আমি যেন এই কৃত্রিম সাবান আর শ্যাম্পুর গন্ধ না পাই।আমি আমার পিচ্চি বরের আসল গায়ের গন্ধ নিতে চাই।খুব কাছ থেকে তোমাকে দেখব আর সেই গন্ধ নিজের গায়ে মাখব।তুমি জানোনা সাবানের গন্ধ কিছুক্ষণ পরে আর থাকে না?হ্যা জানি তো।কিন্তু মানুষের গায়ের আসল গন্ধ সারাজীবন থেকে যায়।আমি তোমাকে যখন কাছে ডাকব তখন তোমাকে সেই চিরচেনা গন্ধ নিয়ে অনুভব করব।পিচ্চি বর একটা কথা বলি?হ্যা বল।তুমি যখন বাসায় থাকোনা তখন আমি তোমাকে না পেয়ে তোমার শার্ট,টি শার্ট পড়ি,তোমার পোশাক নাকে লাগিয়ে গন্ধ নিই।এসব পাগলামি কেন কর?কেন করি বলতে পারবনা তবে আমি যদি পাগলও হয়ে যাই তবে যেন তোমার গায়ের গন্ধ আমাকে ঠিক তোমাকে চিনিয়ে দেয়।আমি পুতুল বউয়ের কথা শুনে কি বলব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।অবশেষে হেসেই দিলাম।তখন রিয়া আমাকে কয়েকটা কিল আর মাথায় ছোট ছোট থাপ্পর দিল।কি হ্রামি বউ!বরকে মারধর করে!রিয়ার ইচ্ছাই পুরন করলাম।শুধু পানি দিয়ে গোসল করে নিজের গায়ের গন্ধ অটুট রাখলাম।খাওয়া শেষে দুজন মিলে ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছি।আম্মু এসে আমাদের যাবতীয় সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে গেল।রিয়া কি পড়ে যাবে সেটাই ঠিক করতে পারছিলনা।আনিকাকে ফোন করেও শিওর হতে পারছিলনা।সবশেষে আমাকেই জিজ্ঞেস করল।শোনে রিয়া যেহেতু তুমি আমার পুতুল বউ তাই বউদের শাড়িতেই মানায়।সালোয়ার কিংবা অন্য কোনো পোশাকে মনে হয় তারা অবিবাহিতা।এবার রিয়া আমার কথায় সায় দিয়ে একটা শাড়ি পড়ল।রাত নয়টায় বাস তাই আমরা আটটায় বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলাম।আব্বু আম্মুকে সালাম করে আল্লাহর নাম নিয়ে বের হলাম।ট্যাক্সি করে টার্মিনালে পৌছালাম।বাসে উঠে আব্বু আম্মুকে জানিয়ে দিলাম আমরা যাচ্ছি।এদিকে রাঙামাটিতে আগেই হোটেলে বুক করে রেখেছিলাম।রিয়া জানালার পাশে বসে আছে।রিয়া আমাকে এসি বাসের টিকিট নিতে মানা করেছিল।সে নাকি বাইরের বাতাসে নিজেকে মেলে ধরতে চায়।এমন পাগলী বউ কোথাও পাওয়া যাবেনা।বাস চলছে দুরন্ত গতিতে।বাইরে থেকে বাতাস কুড়িয়ে এনে রিয়া আমার মুখে লাগিয়ে দিচ্ছে।ওর চুলগুলো এলোমেলোভাবে বাতাসে উড়ছে।আমার মুখে মাঝে মাঝে এসে আলতো করে ছুয়ে যাচ্ছে।রিয়া আমার পাশে বসে আছে এর চেয়ে আর সুখের অনুভূতি পৃথিবীতে দ্বিতীয় আছে কিনা সন্দেহ।কখনও জানালার সাথে হেলান নিয়ে বাতাস উপভোগ করছে,কখনও আমার কাধে স্বস্তি খুঁজছে,কখনও আমার বুকে আশ্রয় খুঁজছে।এভাবেই সারারাত কেটে গেল।শেষরাতে জেগে দেখি রিয়া আমার বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে ঘুমিয়ে আছে।কি অপুর্ব লাগছে মেয়েটাকে।বাসের জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে রিয়ার মুখে লাগছে।এ কেমন সময় আমি জেগে উঠলাম!আমি এসব কি দেখছি।এসব দেখার ভাগ্য কি সবার হয়?আমার সৌভাগ্যটা রিয়া গড়ে দিচ্ছে প্রতিটি মুহূর্তে।এরকম দৃশ্য জীবনে কেউ কোনোদিন দেখেছে কিনা সন্দেহপোষন করছি আমি।সকাল সাতটায় বাস টার্মিনালে পৌছাল।তখনও রিয়া ঘুমিয়ে আছে।রাতে চন্দ্রের আলোতে রিয়াকে দেখতে দেখতে সুর্যের সোনালি আভায় দেখছিলাম সকালবেলা।এরকম দৃশ্য আমার চোখে কোনোদিন পড়বে স্বপ্নেও ভাবিনি।রিয়াকে জাগিয়ে দিতে ইচ্ছা করছেনা।মন চাচ্ছে রাঙামাটি আরে দুরে হলে বেশি ভালো হত।প্রায় চার ঘণ্টা আমি রিয়াকে মুগ্ধ নয়নে শুধু দেখেই গেছি।কিন্তু তবুও মন ভরেনি।বাস থেকে নামতেই রাঙামাটির চোখ রাঙানো সৌন্দর্য চোখে এসে লাগছে।কিন্তু চন্দ্রের আলোয় আর সুর্যের সোনালি আভায় রিয়ার মুখটা আমার কাছে বেশি বেশি ভেসে উঠছে।এরকম কেন হচ্ছে আমার?এই সৌন্দর্য রিয়ার সৌন্দর্যের কাছে কিছুই না।আমার আবারও ওই চার ঘণ্টায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে।এসব ভাবছি এমন সময় রিয়া জেগে উঠে বলে পিচ্চি বর তোমায় ভালোবাসি।তারপর রিয়াকে নিয়ে বাস থেকে নামলাম।একটা গাড়িতে করে হোটেলে পৌছালাম।রুমটা অনেক সুন্দর।শহরের মাঝখানে হওয়ায় শহরের অনেকটুকু এই বিল্ডিং থেকে দেখা যায়।সকালে নাস্তা করা হয়নি।ক্লার্ক এসে নাস্তা দিয়ে গেল।রিয়া চায়ের কাপটা নিয়ে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে ওই দুর আকাশের প্রান্তে মেঘে ঢাকা পাহাড় দেখছে।সাতরঙা রংধনু দেখছে কারন সকালেই এক পশলা বৃষ্টিতে রাঙামাটি পবিত্রতা অর্জন করেছে।চায়ের কাপে রিয়া প্রকৃতি দেখছে আর আমি প্রকৃতিতে বিমোহিত না হয়ে রিয়াকে বিমোহিত হয়ে দেখছি।রিয়া জানালার পাশ থেকে বলে উঠল পিচ্চি বর দূরে কেন দাঁড়িয়ে আছো?এসো কাছে এসো চা খাই আর প্রকৃতি দেখি।হা হা..রিয়া তো জানেনা আমি আজ শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কি দেখেছি!ও কাছে গিয়ে দাড়িয়ে আমি প্রকৃতি দেখছিলাম।বেশ ঠান্ডা লাগছে আমার।আচ্ছা তুমি আমাকে ওইভাবে দেখছিলে কেন?আমি!দেখছিলাম!কি?বাব্বাহ্ পিচ্চি বর মনে হয় কিছুই বোঝে নাই।শোনো আমি জানি তুমি বাসের মধ্যে আমাকে না ঘুমিয়ে হ্যাবলার মত দেখছিলে।জাদুকর নাকি?কেমনে জানল?কে কে বলছে আমি তোমাকে দেখছিলাম?আমি জানি,আমি অনুভব করেছিলাম তুমি আমায় দেখছিলে।কিভাবে?কারন তোমার হৃৎপিন্ডের সাথে আমার হৃৎপিন্ডের যোগাযোগ সবসময় হয় কিন্তু তুমি তা জানোনা।এহ্ কে বলছে তোমাকে?আগে বলো আমি মিথ্যে কথা বলছি?এ কেমন মেয়ে?ওর তো এসব জানার কথা না।হ্যা তা ঠিকি বলছো।নাস্তা করে দূজন একটু রিল্যাক্স করছিলাম।রিয়া চুপচাপ বসে আছে আমি ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করলাম আর বাসায় ফোন করে কথা বললাম।রিয়া আমার ফোন হাতে দেখে বেশ বিরক্ত।এক ঝটকায় ফোন হাতে থেকে নিয়ে নিল।এই শোনে হানিমুন করতে এসে ফোন ব্যবহার করা চলবেনা।এখানে যতক্ষণ থাকব ততক্ষণ আমাকে সময় দিতে হবে।কারন আমার জন্যই এখানে আসছ।বাসায় তোমাকে সারাদিন না পেয়ে কত ছটফট করি তা তো জানোনা।প্লিজ এখানে আমি তোমাকে শতভাগ চাই।এক অংশ কম পেলে আমি কেঁদেই মরব।বউয়ের একগাদা চাওয়া পুরন করতে আসলাম নাকি হানিমুনে আসলাম বুঝতেছিনা।এই ডায়নি বউ আমাকে শতভাগ চাও?হ্যা…।খেয়ে ফেল তাইলে সম্পূর্ণটা।ওমা!!বলতে না বলতেই আমাকে কামড় দেয়া শুরু করল!সুযোগ বেশি দিয়ে ফেললাম না তো?
চলবে(….)
“পুতুল বউ”
পর্ব-৯
~
রাঙামাটি আসতে আসতেই সকাল বেলাই রিয়া ওর একশভাগের কিছু ভাগ নিয়ে নিল।মেয়েটা আমাকে ফকির করে দিবে আমার সবকিছু নিয়ে।কামড়েই প্রায় বিশভাগ নিয়ে নিল।এরপর যে আরো কত অত্যাচার করবে আল্লাহ্‌ জানে।কখন যে বুকের উপর রিয়া ঘুমিয়ে পড়েছে আর আমিও যে ঘুমাইছি বুঝতেই পারিনি।সারারাত বাসে ঘুমাইনি আমি।ক্লান্ত শরীরে রিয়ার সাথে থাকার পরেও ঘুমানোর সময় পাওয়া মানে আমার কাছে বিশাল কিছু।নিশ্চিন্তভাবে ঘুমিয়ে পড়লাম আমি।হঠাৎ শরীরে কাতুকুতু অনুভব করলাম।রিয়া আমার হাতে পায়ে পেটে নাক আর কান লাগিয়ে দেখছে আমার শরীরের প্রতিটি কোষে ও অবস্থান করছে কিনা।কিছুক্ষণ পর আর কিছু করলনা।মনে হয় পুতুল বউটা ফিল করতে পারছে হাউ মাচ আই লাভ হার।আমার শরীরের প্রতিটি কোষে রিয়ার নাম লেখা।আসলেই কি মেয়েটাকে ভালোবাসি?আচ্ছা এই ভালোবাসা কোনোদিন শেষ হয়ে যাবেনা তো?হুর!!এটা আত্মার ভালোবাসা।এই ভালোবাসা শেষ হওয়ার নয়।আচ্ছা রিয়া আমার কাছে কি চায়?ও কখনও বলেনা আমাকে কিন্তু আমার অজান্তেই আমাকে অত্যাচার করে তা আদায় করে নেয়?পৃথিবীতে কি এমন বউ আছে যে অত্যাচার করে ভালোবাসা আদায় করে?স্বপ্ন পুরন করে?আচ্ছা আমাকে বললেই তো আমি ওর স্বপ্ন পুরন করতাম,তাহলে কেন বলেনা?নাকি আমাকে জ্বালাতে,অত্যাচার করতে ও পৈশাচিক আনন্দ পায়?এসব ভাবছি কেন? আমি ভালো করেই জানি রিয়া পাক্কা একটা হ্রামি।কি তুই আমাকে হ্রামি বললি?তোর এত বড় সাহস?রিয়া জেগে উঠেই আমাকে মাইর দেয়া শুরু করল।আরে আমি তো মনে মনে বলছিলাম।ও কেমনে বুঝল আমি ওকে হ্রামি বলছি?এটা বউ নাকি সাইকোলজিস্ট?মনের সব কথা ধরতে পারে!বউ বউ থামো থামো।নাহ্ থামছেনা।অগত্যা জোড় করে জড়িয়ে ধরলাম রিয়াকে।বুকের সাথে যখন ওর মাথা লাগলো তখন রিয়া নরম হয়ে গেল।আরো ক্লোজ হয়ে বুকে মুখ গুজে ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলছে তোকে ভালোবাসি তাই এমন করি।যেদিন আমি চলে যাব সেদিন বুঝবি আমি তোর জীবনে কি ছিলাম!পিচ্চি বর নাম দিয়েছি তোর।কেন জানিস?যেন তোর উপর আমি অধিকার দেখাতে পারি।বড় বর বললে তোকে আমার ভয় পেতে হতো।একজন স্ত্রী যদি তার স্বামীকে ভয় পায় সেখানে আর যাই হোক ভালোবাসা জন্ম নিতে পারেনা।সেখানে শুধু ভালোবাসার মৃত্যুর পচা গন্ধ পাওয়া যায়,কলিজা পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়।রিয়ার কথাগুলো মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।একটা মেয়ে একটা ছেলেকে এতটা ভালোবাসতে পারে আমার তা জানা ছিলনা।রিয়া ওর ভালোবাসা দিয়ে আমার চোখ খুলে দিল।আযান দিছে রিয়া গোসল করে নামায পড়ি চলো।আজকেও রিয়া সাবান শ্যাম্পু ব্যবহার করতে দিলনা আমাকে।শুধু কাচা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে ছাড়ল আমাকে।দুজনে নামায শেষে লাঞ্চ করলাম।দুপুর টাইম তাই রিয়া শরীরের উপর শুয়ে আছে।মেয়েটা একমিনিট আমাকে।ছেড়ে থাকতে চায়না।সবসময় গিলে ফেলতে চায় আমাকে।পিচ্চি বর?হুম?তুমি তো সারাদিন অফিসে থাকো আর আমি বাসায় একা একা থাকি।আমার একা একা ভাল্লাগেনা।তুমি চাকরী ছেড়ে দাও।পুতুল আমি চাকরী ছাড়লে খাবে কি?তোমায় পেলে আমি না খেয়ে থাকতে পারব।শুধু ভালোবাসা দিও তাতেই আমার পেট ভরে যাবে।হা হা করে হাসছি।রিয়া বিরক্ত হয়ে আর কিছুই বলল না।আমি নিজেই একটু পর বললাম বেবি চাও?বলতে না বলতেই বুকের উপর থেকে লাফিয়ে পেটের উপর বসে পড়ল।হ্যা চাই, দাওনা একটা বেবি।মেয়ে চাই আমার যদি রাজি থাকো তবে দিব।না পিচ্চি বর আমার ছেলে চাই।না মেয়ে চাই।শোনো তাহলে, মেয়ে জন্ম নেয়া মানেই কষ্ট।তিনদিন আগেই দেখলা আমি তলপেটের ব্যথায় কত কষ্ট করলাম।তুমি কি তোমার প্রিয় মেয়ের এই কষ্ট সহ্য করতে পারবে?তারপর বাচ্চা হওয়ার সময় মেয়েরা অনেক কষ্ট পায়।তুমি কি তোমার মেয়ের ওই কষ্ট সহ্য করতে পারবে?রিয়ার কথায় যুক্তি আছে।একটা মেয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যথায় কষ্ট করে।যা সহ্য করা একজন সুস্থ ছেলের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।মেয়েরা পারেও বটে।কত কিছু সহ্য করে ওরা বেঁচে থাকে।জীবনের প্রতিটি ঝড় সামলে বেঁচে থাকে ওরা।কিন্তু আমার যে মেয়ের শখ।মেয়ে হলে ওর কষ্টগুলো সহ্য করতে পারবে?না পারবোনা।তাহলে ছেলের জন্য প্রার্থনা কর।রিয়া চলো বের হই।শাড়িতে রিয়াকে বউ বউ লাগছে।হ্যা পিচ্চি বরের পুতুল বউ।যে পিচ্চিটার সারাজীবনের খেলার সঙ্গী।গাড়িতে করে পাহাড়ে উঠছি।অপরুপ দৃশ্য।চারদিকে পাহাড় কুয়াশায় ঢাকা।সবকিছু মানুষের কল্পনার মত করে আঁকা।রিয়া মুগ্ধ চোখে দেখছে।একদম পাহাড়ের চুড়ায় পৌছে গেলাম।গাড়ি থেকে নেমে আমি আর রিয়া হাত ধরে হাটছি।রিয়ার কনুই আঙুলের সাথে আমার কনুই আঙুল লেগে আছে।পাহাড়ের উপরে বেশ সাজানো গোছানো।অনেকেই বেড়াতে এসেছে।ছবি উঠছে সবাই।এখানেও খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা আছে।রিয়া আমার হাত ছেড়ে দিয়ে সোজা পাহাড়ের শেষ কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পরল।কি যেন দেখছে ও।কিছুক্ষণ পরে দুই হাত পাখির মত মেলে ধরল।ভাবলাম বউটা উড়তে শিখল নাকি!নাহ রিয়া কি যেন অনুভব করছে।মনে হচ্ছে পাহাড়ের সাথে ওর অনেকদিনের পরিচয়,ওর পুরনো কোনো বন্ধু।কিছুক্ষণ পরে ঝুম বৃষ্টি চলে আসল।মনে হচ্ছে রিয়া উপর দিকে তাকিয়ে হাত তুলে বৃষ্টিকে আহ্বান জানাচ্ছিল।রিয়া পাখির মত হাত উঠিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছিল।আমি পেছনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রিয়াকে বৃষ্টিতে ভেজা দেখছিলাম।অপরুপ লাগছে মেয়েটাকে।এদিকে যে আমি ভিজে যাচ্ছি সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই।লোকজন দৌড়ে বিভিন্ন ছাউনিতে আশ্রয় নিচ্ছে।কিন্তু আমি আর রিয়া বৃষ্টিতে আবালের মত ভিজছি।আমার ভেজার কোনো ইচ্ছা ছিলনা।কিন্তু রিয়ার জন্য আমি ভিজতেছি।রিয়াকে মুগ্ধ নয়নে দেখছি।অনেকক্ষণ হলো বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু থামার কোনো নাম নেই।রিয়া ওভাবেই দাড়িয়ে আছে।আর আমি শীতে কাঁপছি।সন্ধা হয়ে গেছে অনেকটাই অন্ধকার নেমে আসছে পাহাড়ে।রিয়ার পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে টাইটানিক সিনেমার মত করে ওর হাত ধরে আমিও উড়তে চাইলাম।রিয়া মনে হয় বেশ মজা পেল।মেয়েরা বৃষ্টিতে ভিজলে ওদের শরীর দিয়ে একটা সুন্দর মোহময় ঘ্রান পাওয়া যায়।যারা বৃষ্টিতে ভিজেছে একমাত্র তারাই জানে এই ব্যাপারটা।আমি রিয়ার গায়ে গন্ধ টের পাচ্ছি।অসম্ভব মায়াবি সেই গন্ধ।মায়ায় জড়িয়ে গেলাম দুজন।রিয়া আমাকে বৃষ্টির পানিতে ভেজা শরীরের গন্ধে আমাকে পাগল করে রেখেছে।আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে রিয়ার শরীর আমার মত ঠান্ডা হয়নি।ওর শরীর এখনো উষ্ণতায় ভরপুর।বৃষ্টির বেগ কমে এলো।আমরা দুজনে পিচ্ছিল পথে জুতো খুলে খালি পায়ে পাহাড়ের উপরে হাটছি।কেমন যেন একটা অনুভূতি। আমি শীতে কাপছি অথচ রিয়ার এরকম কোনো লক্ষণই নেই।আশেপাশের লোকজন আমার আর রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে মনে ভাবছে এরকম পাগলা আর পাগলী কাপল এর আগে দেখিনি।হঠাৎ একটা মেয়ে আমার নাম ধরে ডাক দিল।রিয়া আমাকে কেউ মনে হয় ডাকল!পাহাড়ে ওরকম ডাক এমনিতেই শোনা যায়।কান না দিয়ে দুজনে হাটছি।আবারও ডাক পড়ল।ছাউনির দিকে তাকিয়ে দেখি উপমা ডাকছে।আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের বান্ধবী।ও দৌড়ে আমার কাছে এসে হাতে হাত মেলাল।পাশ থেকে বুঝতে পারলাম রিয়ার এটা পছন্দ হয়নি।কিরে বিয়ে করেছিস জানালি না যে?কেমনে জানাব বল?রাতে ঘুমিয়ে আছি এমন সময় আম্মু এসে হাতে বিয়ের কার্ড ধরিয়ে দিয়ে বলে গেল তোর বিয়ে।কোনোরকম প্লানিং ছাড়াই বিয়েটা হইছে।রিয়ার সাথে উপমার পরিচয় করিয়ে দিলাম।উপমার হাজব্যান্ডও আসছে এখানে ঘুরতে আমরা দুজনে কাকভেজা হয়ে আছি।উপমা এরকম দেখেই আমাকে বলল তোর মনে আছে ভার্সিটি থেকে বের হওয়ার পর বৃষ্টি নেমেছিল।তুই বৃষ্টিতে ভেজা পছন্দ করতি না অথচ তোকে আমরা জোড় করে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে সাতদিন জ্বরে ভুগিয়েছিলাম।কি হ্রামি বান্ধবী রে!সব মনে রাখছে।মনে থাকবেনা কেন?হইছে হইছে এখন বল ভাইয়া কোথায়?ওইতো ছাউনিতে দাঁড়িয়ে আছে।জানিস তোক আর রিয়াকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে আমারও ভিজতে ইচ্ছে করছিল।কিন্তু ও নিয়ে গেলনা।তোদের দেখে সবাই বলল সাহস আছে এই কাপলটার।আয় ডিনার করব সবাই একসাথে।নারে বৃষ্টিতে ভিজে আছি।আর কিছুক্ষণ থাকলে অসুখ করবে।তারাতারি হোটেলে ফিরে গোসল করে কম্বলের মাঝে ঢুকে গেলাম আমি।শীত করছে আমার।রিয়া ওর চুল আচড়াচ্ছে।ভেজা চুলে,কুচি দিয়ে শাড়ি পড়া কোনো মেয়ের শরীর দিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা একটা গন্ধ বের হচ্ছে।পুরো ঘরটা সেই মোহময় গন্ধে ভরপুর।হঠাৎ দরজায় নক করল কেউ।খুলে দেখি ডিনার চলে আসছে।রিয়া আর আমি ডিনার করে নিলাম।ক্রিকেট দেখছি আমি টিভিতে আরর রিয়া চুল শুকাচ্ছে।রিয়া এখনও হয়নি শুকানো?কিছু বলছেনা পুতুলটা।কাছে গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে নিলাম ওকে।আমি আবারও সেই তীব্র গন্ধ পাচ্ছি রিয়ার শরীর থেকে।মাতাল হয়ে গেলাম আমি।রিয়ার ঘারের চুলগুলো সরিয়ে সেখানে একটা নিঃশ্বাস ফেলতেই চিরুনি দিয়ে আমাকে মাইর শুরু করল।তুই বৃষ্টিতে আগেই ভিজেছিস না?জানিস তোর জন্য আমি কোনোদিন বৃষ্টিতে ভিজিনি!স্বপ্ন ছিল তোর সাথে প্রথম বৃষ্টিতে ভিজব।ভিজলাম কিন্তু তুই কি করেছিস?তোর এই এক্সপেরিয়েন্স আগেই নেয়া।রিয়ার শরীরের গন্ধে আমি মাতাল হয়ে আছি।ওকে কোলে নিয়ে শুইয়ে ঘুমিয়ে দিব কিন্তু ঘুমুচ্ছেনা পুতুলটা।আমার কাছে ও কিছু চায়।কি চাও?আমাকে বেবি দাও।আচ্ছা ঠিকআছে তোমাকে বেবি দিব।সকালবেলা রিয়া আগে আগেই উঠে ফ্রেশ হয়ে আমাকে ডাকছে।এই পিচ্চি বর ওঠো।কি?সকাল হইছে ফ্রেশ হয়ে আসো।দুজনে একসাথে ব্রেকফাস্ট করব।আজকে রিয়াকে বেশ চনমনে মেজাজে দেখা যাচ্ছে।ও মনে হয় অনেক খুশি আজকে।পিচ্চি বর আমি অনেক অনেক খুশি আজকে।তুমি আমার স্বপ্ন পুরন করেছ।রিয়ার মুখে এরকম হাসি দেখে আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম।এটুকু ভালোবাসা পেয়েই একটা মেয়ে এতটা খুশি হতে পারে ভাবা যায়না।পুতুল?কি?বেবি পেয়ে আমাকে ভুলে যাবেনা তো?যেতেই পারি।কারন আমি আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন পেয়ে গেছি।কি হ্রামি বউ?আচ্ছা আমি ভুল করলাম তো?হ্যা আহমেদ সাহেব তুমি ভুল করেছ।ভুল করেছ তুমি আমাকে বেবি দিয়ে।একটা বেবির জন্যই তোমাকে এতটা ভালোবেসেছিলাম।পেয়ে গেছি এখন তোমাকে ভুলে আমার ছেলেকে নিয়ে থাকব।এহ্ কি খারাপ!তোমার মেয়ে হবে।একথা বলতেই ধুমধাম কিল শুরু করল পুতুলটা।কি আজব!পুতুলের পেটে বেবি হবে।আরকেটা পুতুল জন্ম নিবে।ভাবাই যায়না কতটা আনন্দ এর মাঝে লুকায়িত আছে।আচ্ছা রিয়া কি নাম রাখবে?বলবনা।তুমি সেটা নিয়েও মজা করবে।আমার মোটেও ভালো লাগবেনা এই মজা।মাইর খেতে না চাইলে চুপ থাকো।যাও ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসে।আমি ওয়েট করছি।এই শোনো?কি সবান আর শ্যাম্পু নিয়ে যাও।কেন তোমার গায়ের গন্ধ লাগবেনা?নাহ লাগবেনা।যা পাওয়ার পেয়ে গেছি।এই গন্ধের আর কোনোদিন দরকার পরবে বলে মনে হয়না।কি স্বার্থপর বউ আমার কপালে জুটছে!
চলবে(…..)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here