পুতুল বউ 💔পর্ব ৯

0
85

“পুতুল বউ”
পর্ব-৯
~
রাঙামাটি আসতে আসতেই সকাল বেলাই রিয়া ওর একশভাগের কিছু ভাগ নিয়ে নিল।মেয়েটা আমাকে ফকির করে দিবে আমার সবকিছু নিয়ে।কামড়েই প্রায় বিশভাগ নিয়ে নিল।এরপর যে আরো কত অত্যাচার করবে আল্লাহ্ জানে।কখন যে বুকের উপর রিয়া ঘুমিয়ে পড়েছে আর আমিও যে ঘুমাইছি বুঝতেই পারিনি।সারারাত বাসে ঘুমাইনি আমি।ক্লান্ত শরীরে রিয়ার সাথে থাকার পরেও ঘুমানোর সময় পাওয়া মানে আমার কাছে বিশাল কিছু।নিশ্চিন্তভাবে ঘুমিয়ে পড়লাম আমি।হঠাৎ শরীরে কাতুকুতু অনুভব করলাম।রিয়া আমার হাতে পায়ে পেটে নাক আর কান লাগিয়ে দেখছে আমার শরীরের প্রতিটি কোষে ও অবস্থান করছে কিনা।কিছুক্ষণ পর আর কিছু করলনা।মনে হয় পুতুল বউটা ফিল করতে পারছে হাউ মাচ আই লাভ হার।আমার শরীরের প্রতিটি কোষে রিয়ার নাম লেখা।আসলেই কি মেয়েটাকে ভালোবাসি?আচ্ছা এই ভালোবাসা কোনোদিন শেষ হয়ে যাবেনা তো?হুর!!এটা আত্মার ভালোবাসা।এই ভালোবাসা শেষ হওয়ার নয়।আচ্ছা রিয়া আমার কাছে কি চায়?ও কখনও বলেনা আমাকে কিন্তু আমার অজান্তেই আমাকে অত্যাচার করে তা আদায় করে নেয়?পৃথিবীতে কি এমন বউ আছে যে অত্যাচার করে ভালোবাসা আদায় করে?স্বপ্ন পুরন করে?আচ্ছা আমাকে বললেই তো আমি ওর স্বপ্ন পুরন করতাম,তাহলে কেন বলেনা?নাকি আমাকে জ্বালাতে,অত্যাচার করতে ও পৈশাচিক আনন্দ পায়?এসব ভাবছি কেন? আমি ভালো করেই জানি রিয়া পাক্কা একটা হ্রামি।কি তুই আমাকে হ্রামি বললি?তোর এত বড় সাহস?রিয়া জেগে উঠেই আমাকে মাইর দেয়া শুরু করল।আরে আমি তো মনে মনে বলছিলাম।ও কেমনে বুঝল আমি ওকে হ্রামি বলছি?এটা বউ নাকি সাইকোলজিস্ট?মনের সব কথা ধরতে পারে!বউ বউ থামো থামো।নাহ্ থামছেনা।অগত্যা জোড় করে জড়িয়ে ধরলাম রিয়াকে।বুকের সাথে যখন ওর মাথা লাগলো তখন রিয়া নরম হয়ে গেল।আরো ক্লোজ হয়ে বুকে মুখ গুজে ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলছে তোকে ভালোবাসি তাই এমন করি।যেদিন আমি চলে যাব সেদিন বুঝবি আমি তোর জীবনে কি ছিলাম!পিচ্চি বর নাম দিয়েছি তোর।কেন জানিস?যেন তোর উপর আমি অধিকার দেখাতে পারি।বড় বর বললে তোকে আমার ভয় পেতে হতো।একজন স্ত্রী যদি তার স্বামীকে ভয় পায় সেখানে আর যাই হোক ভালোবাসা জন্ম নিতে পারেনা।সেখানে শুধু ভালোবাসার মৃত্যুর পচা গন্ধ পাওয়া যায়,কলিজা পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়।রিয়ার কথাগুলো মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।একটা মেয়ে একটা ছেলেকে এতটা ভালোবাসতে পারে আমার তা জানা ছিলনা।রিয়া ওর ভালোবাসা দিয়ে আমার চোখ খুলে দিল।আযান দিছে রিয়া গোসল করে নামায পড়ি চলো।আজকেও রিয়া সাবান শ্যাম্পু ব্যবহার করতে দিলনা আমাকে।শুধু কাচা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে ছাড়ল আমাকে।দুজনে নামায শেষে লাঞ্চ করলাম।দুপুর টাইম তাই রিয়া শরীরের উপর শুয়ে আছে।মেয়েটা একমিনিট আমাকে।ছেড়ে থাকতে চায়না।সবসময় গিলে ফেলতে চায় আমাকে।পিচ্চি বর?হুম?তুমি তো সারাদিন অফিসে থাকো আর আমি বাসায় একা একা থাকি।আমার একা একা ভাল্লাগেনা।তুমি চাকরী ছেড়ে দাও।পুতুল আমি চাকরী ছাড়লে খাবে কি?তোমায় পেলে আমি না খেয়ে থাকতে পারব।শুধু ভালোবাসা দিও তাতেই আমার পেট ভরে যাবে।হা হা করে হাসছি।রিয়া বিরক্ত হয়ে আর কিছুই বলল না।আমি নিজেই একটু পর বললাম বেবি চাও?বলতে না বলতেই বুকের উপর থেকে লাফিয়ে পেটের উপর বসে পড়ল।হ্যা চাই, দাওনা একটা বেবি।মেয়ে চাই আমার যদি রাজি থাকো তবে দিব।না পিচ্চি বর আমার ছেলে চাই।না মেয়ে চাই।শোনো তাহলে, মেয়ে জন্ম নেয়া মানেই কষ্ট।তিনদিন আগেই দেখলা আমি তলপেটের ব্যথায় কত কষ্ট করলাম।তুমি কি তোমার প্রিয় মেয়ের এই কষ্ট সহ্য করতে পারবে?তারপর বাচ্চা হওয়ার সময় মেয়েরা অনেক কষ্ট পায়।তুমি কি তোমার মেয়ের ওই কষ্ট সহ্য করতে পারবে?রিয়ার কথায় যুক্তি আছে।একটা মেয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যথায় কষ্ট করে।যা সহ্য করা একজন সুস্থ ছেলের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।মেয়েরা পারেও বটে।কত কিছু সহ্য করে ওরা বেঁচে থাকে।জীবনের প্রতিটি ঝড় সামলে বেঁচে থাকে ওরা।কিন্তু আমার যে মেয়ের শখ।মেয়ে হলে ওর কষ্টগুলো সহ্য করতে পারবে?না পারবোনা।তাহলে ছেলের জন্য প্রার্থনা কর।রিয়া চলো বের হই।শাড়িতে রিয়াকে বউ বউ লাগছে।হ্যা পিচ্চি বরের পুতুল বউ।যে পিচ্চিটার সারাজীবনের খেলার সঙ্গী।গাড়িতে করে পাহাড়ে উঠছি।অপরুপ দৃশ্য।চারদিকে পাহাড় কুয়াশায় ঢাকা।সবকিছু মানুষের কল্পনার মত করে আঁকা।রিয়া মুগ্ধ চোখে দেখছে।একদম পাহাড়ের চুড়ায় পৌছে গেলাম।গাড়ি থেকে নেমে আমি আর রিয়া হাত ধরে হাটছি।রিয়ার কনুই আঙুলের সাথে আমার কনুই আঙুল লেগে আছে।পাহাড়ের উপরে বেশ সাজানো গোছানো।অনেকেই বেড়াতে এসেছে।ছবি উঠছে সবাই।এখানেও খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা আছে।রিয়া আমার হাত ছেড়ে দিয়ে সোজা পাহাড়ের শেষ কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পরল।কি যেন দেখছে ও।কিছুক্ষণ পরে দুই হাত পাখির মত মেলে ধরল।ভাবলাম বউটা উড়তে শিখল নাকি!নাহ রিয়া কি যেন অনুভব করছে।মনে হচ্ছে পাহাড়ের সাথে ওর অনেকদিনের পরিচয়,ওর পুরনো কোনো বন্ধু।কিছুক্ষণ পরে ঝুম বৃষ্টি চলে আসল।মনে হচ্ছে রিয়া উপর দিকে তাকিয়ে হাত তুলে বৃষ্টিকে আহ্বান জানাচ্ছিল।রিয়া পাখির মত হাত উঠিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছিল।আমি পেছনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রিয়াকে বৃষ্টিতে ভেজা দেখছিলাম।অপরুপ লাগছে মেয়েটাকে।এদিকে যে আমি ভিজে যাচ্ছি সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই।লোকজন দৌড়ে বিভিন্ন ছাউনিতে আশ্রয় নিচ্ছে।কিন্তু আমি আর রিয়া বৃষ্টিতে আবালের মত ভিজছি।আমার ভেজার কোনো ইচ্ছা ছিলনা।কিন্তু রিয়ার জন্য আমি ভিজতেছি।রিয়াকে মুগ্ধ নয়নে দেখছি।অনেকক্ষণ হলো বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু থামার কোনো নাম নেই।রিয়া ওভাবেই দাড়িয়ে আছে।আর আমি শীতে কাঁপছি।সন্ধা হয়ে গেছে অনেকটাই অন্ধকার নেমে আসছে পাহাড়ে।রিয়ার পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে টাইটানিক সিনেমার মত করে ওর হাত ধরে আমিও উড়তে চাইলাম।রিয়া মনে হয় বেশ মজা পেল।মেয়েরা বৃষ্টিতে ভিজলে ওদের শরীর দিয়ে একটা সুন্দর মোহময় ঘ্রান পাওয়া যায়।যারা বৃষ্টিতে ভিজেছে একমাত্র তারাই জানে এই ব্যাপারটা।আমি রিয়ার গায়ে গন্ধ টের পাচ্ছি।অসম্ভব মায়াবি সেই গন্ধ।মায়ায় জড়িয়ে গেলাম দুজন।রিয়া আমাকে বৃষ্টির পানিতে ভেজা শরীরের গন্ধে আমাকে পাগল করে রেখেছে।আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে রিয়ার শরীর আমার মত ঠান্ডা হয়নি।ওর শরীর এখনো উষ্ণতায় ভরপুর।বৃষ্টির বেগ কমে এলো।আমরা দুজনে পিচ্ছিল পথে জুতো খুলে খালি পায়ে পাহাড়ের উপরে হাটছি।কেমন যেন একটা অনুভূতি। আমি শীতে কাপছি অথচ রিয়ার এরকম কোনো লক্ষণই নেই।আশেপাশের লোকজন আমার আর রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে মনে ভাবছে এরকম পাগলা আর পাগলী কাপল এর আগে দেখিনি।হঠাৎ একটা মেয়ে আমার নাম ধরে ডাক দিল।রিয়া আমাকে কেউ মনে হয় ডাকল!পাহাড়ে ওরকম ডাক এমনিতেই শোনা যায়।কান না দিয়ে দুজনে হাটছি।আবারও ডাক পড়ল।ছাউনির দিকে তাকিয়ে দেখি উপমা ডাকছে।আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের বান্ধবী।ও দৌড়ে আমার কাছে এসে হাতে হাত মেলাল।পাশ থেকে বুঝতে পারলাম রিয়ার এটা পছন্দ হয়নি।কিরে বিয়ে করেছিস জানালি না যে?কেমনে জানাব বল?রাতে ঘুমিয়ে আছি এমন সময় আম্মু এসে হাতে বিয়ের কার্ড ধরিয়ে দিয়ে বলে গেল তোর বিয়ে।কোনোরকম প্লানিং ছাড়াই বিয়েটা হইছে।রিয়ার সাথে উপমার পরিচয় করিয়ে দিলাম।উপমার হাজব্যান্ডও আসছে এখানে ঘুরতে আমরা দুজনে কাকভেজা হয়ে আছি।উপমা এরকম দেখেই আমাকে বলল তোর মনে আছে ভার্সিটি থেকে বের হওয়ার পর বৃষ্টি নেমেছিল।তুই বৃষ্টিতে ভেজা পছন্দ করতি না অথচ তোকে আমরা জোড় করে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে সাতদিন জ্বরে ভুগিয়েছিলাম।কি হ্রামি বান্ধবী রে!সব মনে রাখছে।মনে থাকবেনা কেন?হইছে হইছে এখন বল ভাইয়া কোথায়?ওইতো ছাউনিতে দাঁড়িয়ে আছে।জানিস তোক আর রিয়াকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে আমারও ভিজতে ইচ্ছে করছিল।কিন্তু ও নিয়ে গেলনা।তোদের দেখে সবাই বলল সাহস আছে এই কাপলটার।আয় ডিনার করব সবাই একসাথে।নারে বৃষ্টিতে ভিজে আছি।আর কিছুক্ষণ থাকলে অসুখ করবে।তারাতারি হোটেলে ফিরে গোসল করে কম্বলের মাঝে ঢুকে গেলাম আমি।শীত করছে আমার।রিয়া ওর চুল আচড়াচ্ছে।ভেজা চুলে,কুচি দিয়ে শাড়ি পড়া কোনো মেয়ের শরীর দিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা একটা গন্ধ বের হচ্ছে।পুরো ঘরটা সেই মোহময় গন্ধে ভরপুর।হঠাৎ দরজায় নক করল কেউ।খুলে দেখি ডিনার চলে আসছে।রিয়া আর আমি ডিনার করে নিলাম।ক্রিকেট দেখছি আমি টিভিতে আরর রিয়া চুল শুকাচ্ছে।রিয়া এখনও হয়নি শুকানো?কিছু বলছেনা পুতুলটা।কাছে গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে নিলাম ওকে।আমি আবারও সেই তীব্র গন্ধ পাচ্ছি রিয়ার শরীর থেকে।মাতাল হয়ে গেলাম আমি।রিয়ার ঘারের চুলগুলো সরিয়ে সেখানে একটা নিঃশ্বাস ফেলতেই চিরুনি দিয়ে আমাকে মাইর শুরু করল।তুই বৃষ্টিতে আগেই ভিজেছিস না?জানিস তোর জন্য আমি কোনোদিন বৃষ্টিতে ভিজিনি!স্বপ্ন ছিল তোর সাথে প্রথম বৃষ্টিতে ভিজব।ভিজলাম কিন্তু তুই কি করেছিস?তোর এই এক্সপেরিয়েন্স আগেই নেয়া।রিয়ার শরীরের গন্ধে আমি মাতাল হয়ে আছি।ওকে কোলে নিয়ে শুইয়ে ঘুমিয়ে দিব কিন্তু ঘুমুচ্ছেনা পুতুলটা।আমার কাছে ও কিছু চায়।কি চাও?আমাকে বেবি দাও।আচ্ছা ঠিকআছে তোমাকে বেবি দিব।সকালবেলা রিয়া আগে আগেই উঠে ফ্রেশ হয়ে আমাকে ডাকছে।এই পিচ্চি বর ওঠো।কি?সকাল হইছে ফ্রেশ হয়ে আসো।দুজনে একসাথে ব্রেকফাস্ট করব।আজকে রিয়াকে বেশ চনমনে মেজাজে দেখা যাচ্ছে।ও মনে হয় অনেক খুশি আজকে।পিচ্চি বর আমি অনেক অনেক খুশি আজকে।তুমি আমার স্বপ্ন পুরন করেছ।রিয়ার মুখে এরকম হাসি দেখে আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম।এটুকু ভালোবাসা পেয়েই একটা মেয়ে এতটা খুশি হতে পারে ভাবা যায়না।পুতুল?কি?বেবি পেয়ে আমাকে ভুলে যাবেনা তো?যেতেই পারি।কারন আমি আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন পেয়ে গেছি।কি হ্রামি বউ?আচ্ছা আমি ভুল করলাম তো?হ্যা আহমেদ সাহেব তুমি ভুল করেছ।ভুল করেছ তুমি আমাকে বেবি দিয়ে।একটা বেবির জন্যই তোমাকে এতটা ভালোবেসেছিলাম।পেয়ে গেছি এখন তোমাকে ভুলে আমার ছেলেকে নিয়ে থাকব।এহ্ কি খারাপ!তোমার মেয়ে হবে।একথা বলতেই ধুমধাম কিল শুরু করল পুতুলটা।কি আজব!পুতুলের পেটে বেবি হবে।আরকেটা পুতুল জন্ম নিবে।ভাবাই যায়না কতটা আনন্দ এর মাঝে লুকায়িত আছে।আচ্ছা রিয়া কি নাম রাখবে?বলবনা।তুমি সেটা নিয়েও মজা করবে।আমার মোটেও ভালো লাগবেনা এই মজা।মাইর খেতে না চাইলে চুপ থাকো।যাও ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসে।আমি ওয়েট করছি।এই শোনো?কি সবান আর শ্যাম্পু নিয়ে যাও।কেন তোমার গায়ের গন্ধ লাগবেনা?নাহ লাগবেনা।যা পাওয়ার পেয়ে গেছি।এই গন্ধের আর কোনোদিন দরকার পরবে বলে মনে হয়না।কি স্বার্থপর বউ আমার কপালে জুটছে!
চলবে(…..)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here