পূর্ণতা পর্ব ১০+১১

0
131

#পূর্ণতা ❤️
#লেখনীতে-#তানজিলা_তাবাচ্ছুম❤️

১০.

আলোক এখানে ঢুকেছে আর কান্নার আওয়াজ আসছে কেন? কে কাঁদছে? কি হচ্ছে? যেহেতু আলোকেই ঢুকতে দেখেছে সেহেতু তারা ভাবছে আলোক ই কাঁদছে। তার মাথা ঘুরছে! কেন কাঁদছে আলোক? তারা না চাইতেও তারার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে। তারা নিজেকে খুব দুর্বল লাগছে।মাথাটা কেমন ঘুরে উঠছে, আশেপাশে সবকিছু সে ঝাপসা দেখছে। তারার কানে খালি কান্নার শব্দ আসছে। সাথে মাথাটা ঘুরে আসছে আর সবকিছু ঝাপসা। তারা দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে। তারপর আস্তে আস্তে করে নিজের রুমে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সে যেতে পারল না কিছুটা এগোতেই সে সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেল। এখনো তার কানে সেই কান্নার আওয়াজ বাজছে। ফ্লোরে উল্টো হয়ে পড়ে আছে তারা চোখগুলো একটু একটু খুলতেই সামনে একটা ঝাপসা আবছা দেখতে পেল। কিন্তু উঠতে আর পারল না তারপর তারার চোখ আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেল ।

_________________

বিছানায় এলোমেলো হয়ে শুয়ে আছে তারা। কানে তার কান্নার শব্দ এখনো বাজছে। তারা আস্তে আস্তে চোখ মেলতে শুরু করে। চোখ খোলা কিছুক্ষণ পরেই দেখে তার পাশে আলোক একটা ছুরি নিয়ে নিজের হাতে স্লাইড করছে। এমনটা দেখে তারা ভয়ে একটা ঢোক গিলে সাথে নিচের ঠোঁট টা কামড়ে ধরে। তারা উঠে গেছে দেখতেই আলোক একটা আপেল নিয়ে এসে ছুরি দিয়ে কেটে তার আগে খেতে দিল। হঠাৎ আলোকের এমন কাজে তারা হতবাক হয়। তারা কাপাকাপি হাতে আপেলের পিস গুলো নিয়ে খেতে শুরু করে। খাওয়া শুরু করতেই আলোক গম্ভীর কন্ঠে বলে,

‘ওখানে কিছু শুকনো খাবার রাখা আছে। খিদে পেলে খেয়ে নিবেন।আর কিছু লাগলে আমাকে বলবেন। এই অবস্থায় বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।’

তারা চোখ তুলে তাকাতেই আলোক আবার বলে,

‘আপনার পায়ের ক্ষত না শুকানো পর্যন্ত আপনার চলাচল করা দরকার নেই।ইরা মানা করেছেন আপনাকে।’

বলে আলোক ঘুরলো। তারা ভাবছে তারমানে আলোক ভেবেছে সে খিদে পাওয়ার কারণে বাহিরে গেছিল। কিন্তু তারা তো আলোকের পিছু পিছু গেছিল। তারা ভাব চালক কে কি জিজ্ঞেস করবে? কেন গিয়েছিল ওই ঘরে? আর কে কাঁদছিলো? আলোক? কেনই বা কাঁদছিল? আলোক যাবে তারা স্লোলি কন্ঠে পিছন থেকে বলে ওঠে,

‘আপনি ওই ঘরে___________

আচমকা আলোক ছুড়ি টাকে উপর থেকে ফেলে দেয়। জোরে শব্দ হয় তারা একটু ভয় পেয়ে যায়।তারা তার কথা সম্পূর্ণ করতে পারলো না। তারার আচমকা এমন হওয়ায় ভয় পেয়ে যায়।আলোক ছুড়ি টাকে উঠিয়ে পিছন ফিরে তারার দিকে তাকায়।তারা ভয়ে ঘাবড়ে আছে।আলোক তারার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে এগোতে লাগলো।তারার কাছাকাছি আসতে ছুড়িটা সামনে নেয়।তারা ভয়ে যেনো পাথর হয়ে যাচ্ছে।ঘা ঘামছে, জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।আলোক ছুড়িটা তারার মুখ বরাবর নিয়েই তারা ভয়ে চোখ বন্ধ করে না কেঁদে কেঁদে চিৎকার করে উঠে,

‘আলো__আল__আলোকক_পিল__প্লিজ_মারব__মানবেন ________

পাশ থেকে জোরে একটা শব্দ হলো ।তারা আসতে আসতে চোখ মেলতে শুরু করলো।দেখলো মেঝেতে একটা টিকটিকি পড়েছে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায়।তারা টিকটিকি টাকে দেখার পর আলোকের দিকে তাকালো।আলোক তার থেকে দূরে সরে গেল। তারপর তারা কে উদ্দেশ্য করে বলল,

‘টিকটিকি তাকে মারতে ছিলাম আপনাকে না।’

এদিকে তারাতো ভয় ফ্রিজড হয়ে গেছিলো।এখনো তার ভয়ে পুরো শরীর কাঁপছে। তারা একটা ঢোক গিলল। আলোক তারাকে বলল,

‘আপনি কিছু বলছিলেন?’

তারা চোখ মুখ মুছে মাথা নাড়িয়ে না বলল।আলোক ভ্রু কুঁচকে তাকালো।তারপর টিকটিকি টাকে উঠিয়ে বাহিরে গেলো।আলোক যেতেই তারা একটা বড় শ্বাস নিলো। যেনো তার জীবন ফিরে এলো।তারা ওড়না দিয়ে মুখ টা মুছলো।আলোক কে অনেকটা হিংস্র প্রানীর মত লাগছিলো তার। কিন্তু টিকটিকি মারা কোনো হিংস্রতা নেই।কারন টিকটিকি মারা জায়েয।উল্টা টিকটিকি মারা সওয়াবের কাজ।আবু হুরাইরাহ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতে একটি টিকটিকি হত্যা করবে, তার জন্য এরূপ সওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে এটি হত্যা করবে, তার জন্য এরূপ এরূপ সওয়াব রয়েছে, যা প্রথম আঘাতে মারার তুলনায় কম। আর যে ব্যক্তি তৃতীয় আঘাতে তা হত্যা করবে, তার জন্য এরূপ এরূপ সওয়াব রয়েছে, যা দ্বিতীয় আঘাতে হত্যার চেয়ে কম।” [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: শিষ্টাচার, অনুচ্ছেদ-১৭৬ টিকটিকি হত্যা করা সম্পর্কে, হা/৫২৬৩-সনদ সহিহ]।অন্য বর্ণনায় এসেছে:
“যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই একটি টিকটিকি মারবে, তার জন্য রয়েছে একশ সওয়াব, দ্বিতীয় আঘাতে মারলে রয়েছে তার চেয়ে কম সওয়াব, আর তৃতীয় আঘাতে মারলে রয়েছে তার চাইতেও কম সওয়াব।” (সহিহ মুসলিম ৫৯৮৩-৫৯৮৪ নং)।অন্য বর্ণনায় প্রথম আঘাতে হত্যা করলে ৭০ সওয়াবের কথা এসেছে -আবু হুরাইরাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “প্রথম আঘাতে মারতে পারলে তার জন্য সত্তর সওয়াব রয়েছে।” [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: শিষ্টাচার, অনুচ্ছেদ-১৭৬ টিকটিকি হত্যা করা সম্পর্কে, হা/৫২৬৪-সনদ সহিহ]।

_____________

ব্যালকনিতে পায়চারি দিচ্ছে তারা। মাথা ভর্তি টেনশন আর চিন্তা। তারা ভেবে পাচ্ছে না কি করবে? কিভাবে আলোকের থেকে বিচ্ছেদ হবে ভাবছে। কালকে আলোক কে রাগান্বিত হয়ে বলেছিলো তারা। কিন্তু আলোক কোনো রেসপন্স করে নি।তাহলে কি আলোক তারাকে ডিভোর্স দিবে না?তারা সবচেয়ে বেশি রাগ লাগছে তার বাবা মার উপর।হয়তো দুনিয়ায় এইরকম বাবা মা খুব কম-ই আছে।তারার মনে হয় তার বাবা মায়ের কাছে থাকার থেকে সে যদি একটা অনাথ আশ্রমে থাকতো তাহলে খুব ভালো হতো।তার বাবা মায়ের সবসময় সব কথা না চাওয়ার সত্বেও মেনেছে। কিন্তু বিয়েটা করতে চায়নি তারা। কিন্তু তারা বাবা মা এতটাই অপছন্দনীয় যে তার ইচ্ছে বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়েছে। অজ্ঞান করিয়ে বিয়ে দেওয়া জোরপূর্বক না।বরং তাকে বাধ্য করে,নানা রকম ভাবে ফোর্স ,ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে দেওয়া জোরপূর্বক বিয়ে।তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে বিয়ে করাতে বাধ্য করাই হলো জোরপূর্বক বিয়ে।তারা ভাবতে লাগলো তার বিয়ের দিনের কথা___

____

তারার তার বাবা মাকে বিয়ে ঠিক করার প্রথম দিনই বলেছে সে বিয়ে করবে না। কিন্তু তার বাবা মা তার কোনো কথা শুনে নি।তাই তারা শেষমেষ ডিসিশন নেয় সে পালিয়ে যাবে।বিয়ের দিন ভোরে সে পালানোর প্রস্তুতি নেয়।বাড়িতে বেশি লোকজন না থাকায় পালানো টা তার সহজ ছিলো । কিন্তু বাড়ি থেকে পালানোর কিছুটা দূরে যাওয়ার পরে তার বাবার হাতে ধরা পড়ে যায়।আর তার বাবা ওখানেই তাকে সবার সামনে থাপ্পর মারে তারপর টেনে টেনে বাড়িতে নিয়ে আসে।তারপর____

___#পূর্ণতা❤️
#তানজিলা_তাবাচ্ছুম❤️

১১.

আর তার বাবা ওখানেই তাকে সবার সামনে থাপ্পর মারে তারপর টেনে টেনে বাড়িতে নিয়ে আসে।তারপর রুমে ছুড়ে মারে আর চেঁচিয়ে বলে,

‘একটা পা-ও যদি বাড়ির বাহিরে রেখেছিস,তোর পা কেটে রেখে দিবো বলে দিলাম।

তারা কাঁদতে কাঁদতে বলে,

‘বাবা প্লিজ যাই করেন না কেনো প্লিজ বিয়েটা ভেঙ্গে দিন।আমি বিয়ে করতে চাই না।’

তারার বাবা তাকে একটা চড় মেরে ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে,

‘তোর জন্য আমি আমার মান সম্মান নষ্ট হতে দিবো না।তোর আজকে বিয়ে হবে আর তুই করবি বলে দিলাম।আর যদি পালানোর চেষ্টা করিস তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।’

তারা গিয়ে তার বাবার পা দু’টো ধরে কাঁদতে শুরু করে।যদি একটু তার বাবার মনে মায়া,মমতা জন্মায়। কিন্তু তার বাবা পা ছাড়নোর চেষ্টা করছে।তারা কাঁদতে কাঁদতে বলে,

‘ আমি আপনার সব কথা শুনব কিন্তু প্লিজ আমি বিয়ে করবো না।’

তারার বাবা তাকে ঝটকা মেরে সরিয়ে দেয়।এদিকে এত চেঁচামেচি হওয়ায় তারার মা রুমে চলে আসে তারপর জানতে চায় কি হয়েছে।তারার বাবা রাগী কন্ঠে বলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।তার পর তারার মাকে বলে,

‘শোনো তোমার এ অপয়া মেয়েকে বলে দিও যদি ওর জন্য যদি আমার মান সম্মানের নষ্ট হয় তবে তোমাকে আমি তালাক দিবো বলে দিলাম।’

বলে তারার বাবা হনহন করে চলে যায়।তারা তার মায়ের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই তার মা বলে উঠেন,

‘যদি তোর জন্য আমার সংসার ভাঙ্গে তবে তুই আমার মরা মুখ দেখবি অপয়া মেয়ে কোথাকার।’

বলে চলে যায়।তারা নিচে বসে পাথরের মত হয়ে যায়। শুধু চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।যদি আত্মহত্যা করা মহাপাপ না হতো তাহলে তারা এক সেকেন্ড ও ভাবতো না আত্মহত্যা করতে।দেখতে দেখতে বিয়ের সময় হয়ে এলো।তারার মা এসে তাকে বিয়ের শাড়ি না পড়িয়ে বোরকা আর নেকাব পড়িয়ে দেয় ,তারা তখন ও একই কথা বলে সে বিয়ে করতে চায় না, কিন্তু প্রতিউত্তরে তার মা কিছু বলে না।তারপর ছেলে পক্ষ রা আসে।তারা তার ঘরে একাই বসে আছে।চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরেই যাচ্ছে ।তার চোখের পানিতে নেকাব টা যেনো ভিজেই গেছে।প্রায় অনেকক্ষণ পর তারার বাবা মা আসে।তারা বিয়ের পেপারে সাইন করার সময় ও তার বাবার দিকে তাকিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে,সে বিয়ে করবে না। কিন্তু তার বাবা কোনো কথা না শুনে শুধু তার মাকে বলে ,’এই যদি কোনো নাটক শুরু করে তবে আমার থেকে কেউ খারাপ হবে না।’বলে চলেই যায়।তারপর তার মা-ও তাকে আবার সেই একই কথা বলে,যদি তারা পাত্র পক্ষের সামনে কোনো রকম সিন ক্রিয়েট করে তবে সে তার মায়ের মরা মুখ দেখবে। তারা যেনো পাথরের মত হয়ে যায়।তারপর তারাকে বিদায় দেয়। বিদায় দেওয়ার সময় তারা তার বাবা মা কে দেখেছিল তাদের চোখে কোনো রকম পানি ছিল না আর না তাদের মুখে কোনো রকম দুঃখের ছাপ ছিল। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল ওনারা খুব খুশি। শুধু তারার বোন তরী কেদেছিল আর তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। পুরো রাস্তায় তারা চুপ করে বসে ছিল।মুখে কোনো কথা নেই। শুধু চোখ বয়ে পানি আর পানি।যেনো সে জীবিত লাশ হয়ে আছে।তারপর প্রায় ৫ ঘন্টার পর সে তার শশুর বাড়িতে আসে।
________

তারা চোখের পানি টুকু মুছে নিল। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে মনে করছিল।আকাশটা আজ বেশ মেঘলা। কিছুক্ষণ পর একটু রিমঝিম বৃষ্টি পড়তে শুরু করে।তারা আর ভিতরে গেলো না।বৃষ্টিতে একটু ভিজলো। বৃষ্টির আল্লাহর রহমত।’বৃষ্টির পানি স্পর্শ করা সুন্নাহ'[সহীহ মুসলিম]।তারা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে দুয়া করছে যাতে সে সব রকম ঝামেলা থেকে মুক্তি পায়।আর তার জন্য যা কল্যানকর হবে তাই যেনো হয়।এইসব কিছুর যাতে একটা সমাধান হয়।’বৃষ্টির সময়ে দুয়া কবুল হয়'[আবু দাউদ:]।তাই তারা এই সময়ে দুয়া করলো। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থেকে যায়।একটু ঝিরঝিরে বৃষ্টি রয়েছে। তারা ছাদে হাঁটতে শুরু করে।ছাদের এক পাশে রেলিং আছে ওপর পাশে নেই।তারা রেলিং না থাকা ওইপাশে যায়। খুব কাছাকাছি যায় তারপর নিচে তাকিয়ে দেখছে। হঠাৎ তারার কেমন ভয় লাগতে শুরু করে।তার হার্ট বিট দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করে।তারার মনে হচ্ছে কেউ তার কাছে আছে, খুব কাছে। তারা পিছন ফিরে তাকাতেই আলোকের হাসি মাখা মুখ ভেসে উঠে। তারা আতংকে পিছনে ধাক্কা খায়। আর রেলিং না থাকায় ছাদ থেকে পড়ে যায়।তারার মাথায় শুধু একটা কথাই আসছিল যে ,আলোক তাকে ধাক্কা দিলো,তার মানে আলোক সত্যি একজন কিলার।তারা নিচে পড়তেই তার চোখ মুখ থেকে রক্ত পড়তে শুরু করে।নিচের জায়গা টুকু প্লাস্টার হওয়ায় তার বেশি আঘাত লাগে। বিশেষ করে মাথায়।মাথা ফেটে রক্ত পড়তে শুরু করেছে।তারার ধীরে ধীরে শক্তি হ্রাস পাচ্ছে।তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।আর প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে তার। যেনো নিজের মৃত্যুকে নিজের চোখেই দেখলো।

_____________

মাথাটায় প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে।চোখ খোলার মত শক্তি হচ্ছে না। খালি চোখের সামনে একটা সিন ই ভেসে উঠছে যে,আলোক তাকে ধাক্কা দিল।আলোক হাসছিল তখন।তারা মুখ দিয়ে বিড়বিড় করে বলে,আল_আল_আলো_আলোক_ন_না!’তারা ধীরে ধীরে হাঁপাতে শুরু করে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে।তারপর চোখ খোলার চেষ্টা করে।তারার কানে আওয়াজ আসছে কেউ তাকে ডাকছে।তারা চোখ মেলে তাকাতেই ইরার মুখ টা ভেসে ওঠে।ইরার মুখটা কেমন চিন্তিত।ইরা তারাকে হালকা ঝাঁকিয়ে বললো,

‘তারা কি হয়েছে তোমার?কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখেছো? কাকে ডাকছো তুমি?’

ইরার দিকে তাকানোর শক্তিটুকু ও নেই।কারন ঘাড় বাঁকা করতেই তার প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে।তারাকে এভাবে দেখে ইরা বলে,

‘তারা তুমি রিল্যাক্স করো।বড় বড় শ্বাস নেও।ভয়ের কিছু নেই আমি আছি ‌।জাস্ট কাম ডাউন তারা।’

বলে তারা গাঁয়ে ও মাথায় হাত বুলাতে শুরু করে আর মুখে বলে,

‘রিল্যাক্স!জাস্ট রিল্যাক্স! কিচ্ছু হয়নি তোমার জাস্ট রিল্যাক্স।’

বেশ কিছুক্ষণ পর তারা একটু স্বস্তির শ্বাস নেয়।স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে।ইরা তারাকে ছেড়ে বলে উঠে,

‘তারা তুমি কোনো প্রেশার নিও না। কিচ্ছু হয়নি তোমার।জাস্ট একটু লেগেছে। কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তুমি একদম চিন্তা করবে না।’

তারা চোখ দুটো কে মেলে চারিপাশ টা একটু ভালো করে দেখার চেষ্টা করলো।দেখলো সে হসপিটালের একটা কেবিনের বেডে।মাথাটা কেমন চাপা চাপা লাগছে।তারা মাথায় হাত দিতেই বুঝতে পারে তার মাথায় ব্যান্ডেজ করা। হাতেও ভালো ভাবে লক্ষ্য করে দেখে হাতেও ব্যান্ডেজ করা।ইরা তারার কাছে এসে বলে,

‘তারা তুমি রেস্ট করো। কিছুক্ষণের মধ্যেই নার্স আসবেন। তোমার কোনো কিছু প্রয়োজন হলে তাকে বলবো ঠিক আছে!’

বলে ইরা একটু হাসলো।তারপর তারার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিয়ে যেতে শুরু করলো। কিছু একটা ভেবে ইরা পিছনে ফিরে তাকিয়ে বলল,

‘তারা আলোক ভাইয়া কে পাঠিয়ে দেই?’

আচমকা ‘আলোক’ নামটা শুনে তারার বুক কেঁপে উঠে।তার ভয় লাগতে শুরু করলো। আলোকের কথা শুনতেই তারার গা মৃদু কাঁপতে লাগলো।তারা পরপর ঢোক গিলতে শুরু করলো কিন্তু তাতেও তার ব্যথা অনুভব হচ্ছে।ইরা দু পা এগিয়ে এসে বলল,

‘আজ একদিন ধরে তুমি সেন্সলেস হয়ে আছো।আলোক ভাইয়া তখন থেকে এখানেই আছে।বার বার খালি জিজ্ঞেস করেছিলো যে তোমার জ্ঞান ফিরেছে কিনা।’

বলে থামলো ইরা।তারা কথা বলতে পারছে না। কারণ জোর দিয়ে কথা বললে তার সমস্যা হবে।ইরা যেতে যেতে বলল,

‘দ্বারাও আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি ওনাকে।’

বলে চলে গেলো ইরা।ইরা বের হতেই একজন নার্স কিছু কাগজ পত্র নিয়ে আসে তার কাছে।ইরা বেশ কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে দেখলো তারপর আলোক কে ডাকলো।বাহির থেকে আলোকের নাম শুনেই তারা মৃদু কাঁপতে শুরু করে।তার মাথায় শুধু একটি কথায় আসছে যে আলোক তাকে মেরে ফেলবে, আলোক খুনি।

___________

#চলবে……
“।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here