পূর্ণতা পর্ব ২২+২৩

0
87

পূর্ণতা❤️
তানজিলা তাবাচ্ছুম❤️

২২.

চাঁদ দেখে হকচকিয়ে গেল। তার অবস্থা এখন কেমন। সে দ্রুত আঁচল টেনে মাথায় দেয়। আর সাথে সাথে নাহিদ বলে উঠে,

‘ ইয়াক! আমি এই মেয়ের জন্য নিজের এত সময় নষ্ট করলাম? সিরিয়াসলি?’

চাঁদ মাথা নিচু করে জোরে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে। এমন কিছু হবে সে ভাবতে পারে নি। নাহিদ দু’পা এগিয়ে বললো,

‘ আমি তো ভেবেছিলাম আলোকের বউ অনেক অনেক অনেক সুন্দরী হবে! যেভাবে আলোক কথা বলছিল আর দেখাচ্ছিল না। বাট হেয়ার ইট ইজ কমপ্লিটলি ডিফারেন্ট। ‘

চাঁদের হাত পা মৃদু আকারে কাঁপতে শুরু করছে। সে তাড়াতাড়ি করে নাহিদের পাশ কেটে যাবে নাহিদ তার হাত ধরে তারপর বিশ্রী ভাবে হেসে বলে,

‘ আরে ভাবি জি! আপনার জন্য আমার সময় নষ্ট হলো! আর আপনি এভাবেই চলে যাচ্ছেন?’

চাঁদ হাত ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু একটা ছেলে মানুষের শক্তি মেয়ে মানুষের তুলনায় অনেক। তাই তার থেকে ছাড়াতে পারছে না। নাহিদ ব্যাঙ্গ ভাবে বললো,

‘ চাঁদ কে যখন পেয়েছি ! না ছুঁয়ে যাই কিভাবে? চাঁদ কে ছোঁয়ার সৌভাগ্য কি আর সবার থাকে?’

বলে মাথা থেকে আঁচল টা সরিয়ে জড়িয়ে ধরলো। এমন কিছু হবে চাঁদ কল্পনাও করতে পারে নি। চাঁদের কাঁদতে শুরু করে আর ছাড়া পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। নাহিদ এক হাত দিয়ে চেপে কোমর ধরেছে আর আরেকটা হাত দিয়ে চাঁদের চুল গুলো সরিয়ে চাঁদের গালে হাত দিয়ে বললো,

‘ awww…সফট ‘

চাঁদ তার হাত সরাতে চেষ্টা করেও পারে না। নাহিদ তার হাত দিয়ে চাঁদের কোমরে খামচে ধরে। ব্যাথায় কুকড়ে উঠে চাঁদ। আস্তে আস্তে হাঁপাতে শুরু করে। তার যেনো আবার শ্বাসকষ্ট হতে শুরু করে। কিন্তু নাহিদের সে দিকে কোনো খেয়াল নেই। সে আবারো কেমন বাকা হেসে বলে,

‘ না এভাবে ছুয়ে ভালো লাগছে না। আরো একটু কাছ থেকে ছুঁতে ইচ্ছে করছে। ‘

বলে চাঁদের মুখের সামনে ঝুঁকে পরে কিস করার জন্য। চাঁদ শেষমেশ নিজের পা দিয়ে নাহিদের পায়ে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে লাঠি মারে। আর সাথে সাথে নাহিদ কিছু দূরে সরে যায়। নাহিদ কিছুটা সরতেই চাঁদ তড়িৎ বেগে তার পাশ কেটে আশার চেষ্টা করলে নাহিদ পিছন থেকে আঁচল টেনে ধরে। চাঁদ যেমন তেমন করে ছড়িয়ে নিয়ে দরজা খুলে বের হয়। তাড়াহুড়া করে দৌড়াতেই সামনে তার কারো সাথে ধাক্কা লাগে। ছিটকে সরে যায় চাঁদ। সামনের ব্যক্তিটিকে দেখতেই তড়িৎ বেগে তাকে জড়িয়ে জাপটে ধরে। চাঁদ জোরে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে সাথে হাপাচ্ছে। আচমকা চাঁদ এভাবে জড়িয়ে ধরায় আলোক মুচকি হাসে। সে তো কিছুই জানে না । হটাৎ আলোকের মনে হলো চাঁদের আচরণ তার অস্বাভাবিক লাগছে। আলোক চাঁদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

‘ চাঁদ কি হয়___

নাহিদ কে তাদের রুম থেকে বের হতে দেখেই আলোক চুপসে গেল। নাহিদ হতভম্ব হয়ে বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে।চোখ মুখে ভয়ের ছাপ তার। আলোক চাঁদ কে ছাড়িয়ে তার দু গালে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছলো। আলোক দেখলো চাঁদ হাপাচ্ছে। তার মানে চাঁদের আবার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। আলোক নাহিদের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি ঘরে গিয়ে চাঁদের ইলেহেনার নিয়ে আসে।তারপর চাঁদের মুখে দেয়। তারপর বেশ কিছুক্ষণ পর কিছুটা হাপানো থামে। আলোক চাঁদকে লক্ষ্য করলো মাথার চুল গুলো এলেমেলো, শাড়িটাও কেমন অগোছালো,আর চাঁদ তো সবসময় মাথায় কাপড় দিয়ে রাখে কিন্তু এখন নেই। মুখ ঘেমে গেছে সাথে মুখে ভয়ভীতির ছাপ। আর চাঁদ তো কখনো এভাবে দৌড়োয় না। আর হাঁপানি ও তো এমনি এমনি উঠে না। চাঁদ দীর্ঘ শ্বাস নিচ্ছে। এখন কিছুটা ভালো আছে সে। আলোক চাঁদের শাড়ি ঠিক করে দিয়ে আঁচল টা মাথায় আর পুরো গায়ে ভালো করে দিলো। তারপর তাকে সাইডে রেখে নাহিদের সামনে আসতেই নাহিদ ইতস্তত হয়ে বললো,

‘ ভা_ ভা_ ভাই_আমার কথ_কথা শুন।’

আলোক হাসলো। তারপর তাচ্ছিল্য করে বললো,

‘ তোর স্বভাব এখনো চেঞ্জ করলি না? আগের মতন এখনো চরিত্র হীন ই আছিস?’

নাহিদ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে বলতে লাগে,

‘ ন_না !না ভাই _শু__

আলোক নিজের সর্ব শক্তিতে একটা চড় মারলো। নাহিদ কিছুটা হেলে গেলো। আলোক কর্কশ কন্ঠে বলে উঠলো,

‘ তোকে আজ সকালেই মানা করেছিলাম আমার চাঁদের থেকে দূরে থাকবি! তবুও তোর সাহস কিভাবে হলো রে ওকে টাচ করার? কোথা থেকে পেলি এত সাহস? ‘

নাহিদ উঠে তবুও হেসে বলছে ,

‘ আর_আরে ভাই_ আম_ আমি তো ভাবির সাথে পরিচিত হতে এসেছিলাম জাস্ট। হেহে __

সাথে সাথে আরেকটা চড় মারলো আলোক। তারপর ওর মাথা কলার ধরে জোরে চেঁচিয়ে বললো,

‘ বের হ বাড়ি থেকে এখনি।’

বলে টানতে টানতে নিচে নিয়ে আসলো। এত চেঁচামেচি শুনে আশা আর তাসলিমা আসলো বাহির থেকে। নাহিদ কে এভাবে টানা দেখে তাসলিমা বলল,

‘ ওকে এভাবে টানছিস কেনো আলোক?’

আলোক কোনো কথাই শুনছে না। বাড়ির বাহিরে টানতে টানতে নিয়ে আসলো। সাথে পিছু পিছু আশা তাসলিমা ও আসলো। আলোক নাহিদ কে ঝটকা মারলো। নাহিদ মাটির উপরে পড়লো। তারপর আলোক মারতে যাবে তাসলিমা গিয়ে আশা কে বললো,

‘ ভাবি দেহেন কি করতেছে। ওরে থামান। আমার ছেলে ডারে শেষ কইরা ফেলবে। ‘

বলে আশার হাত ধীরে ঝাঁকাতে শুরু করলো। আশা জানে নিশ্চয়ই নাহিদ কিছু করেছে যার কারণে আলোক এইরকম করছে। কিন্তু তবুও তাসলিমা কথা রাখতে বলে উঠলো,

‘ আলোক? কি হয়েছে?’

আলোক শুনলো না। এই মুহূর্তে আলোক যে কি পরিমান রেগে আছে তা ধারণার বাহিরে। আশা এগিয়ে আলোকের হাত টেনে তাকে ধমক দিয়ে বললো,

‘ আলোক কি হয়েছে? ওর সাথে এমন করছিস কেনো?’

সাথে সাথে আলোক রাগান্বিত কন্ঠে চেঁচিয়ে বললো,

‘ মা ও চাঁদের গায়ে ব্যাড টাচ করেছে! ওর সাথে খারাপ কিছু করার চেষ্টা করছে।’

ব্যাস আশা সরে গেলো। সে আর কিছু বললো না। আশা জানত এমন কিছুই হবে। কারণ আলোক এমন মানুষ নয়। আশেপাশের মানুষের কেউ টিনের ফুটা দিয়ে দেখছে। কেউবা বাড়ির দরজা খুলে দেখছে। আলোক অগ্নিফুর্তি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আশা কে বললো,

‘ মা এই ছেলে কে এখান থেকে যেতে বলো! নাহলে আমি কি করবো আমি জানি না।’

আশা তীক্ষ্ম চোখে নাহিদের দিকে তাকিয়ে তাকে যেতে বললো। নাহিদ উঠলো তারপর একটা ভাব নিয়ে নিজের কলার ঠিক করলো।সবার সামনে এমন অপমানিত হলো সে! আলোকের দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে চলে যেতে লাগলো। আশেপাশের মানুষ কানাকানি শুরু করে দিয়েছে।তাসলিমা রাগে ক্ষোভে কেঁদে কেঁদে ভিতরে গেলো। বলার মতন কিছুই তার কাছে নেই। আশেপাশের মানুষ গুলো তাকিয়ে আছে!

__________________

অপরাধীর মতন চাঁদের সামনে হাঁটু মুড়ে বসলো আলোক। চাঁদের ভয়ার্ত হয়ে কাদঁছে। আলোক চাঁদের হাত ধরে নরম কন্ঠে বলে উঠে,

‘ আমাকে মাফ করো। আমি আমার দায়িত্ব ঠিক মত পালন করতে পারি নি। তোমাকে সেফটি দিতে পারিনি নিজের ফ্যামিলি মেম্বার থেকে! সরি!’

চাঁদ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো। চোখ মুখে কষ্টের ছাপ। আলোক একটা হাফ ছেড়ে বললো,

‘ তুমি রেস্ট করো। ঘুমাও।’

বলে দাড়িয়ে চাঁদ কে শুয়ে দিল।দেখলো চাঁদ কোমরের এক সাইড চেপে ধরে আছে। শাড়ীটা একটু সরতেই দেখতে পেলো খামচানোর দাগ। আলোক দেখা মাত্রই চোখ জোড়া বন্ধ করলো। এই মুহূর্তে তার যে কেমন অনুভূতি হচ্ছে তা বলতে পারছে না। আলোক খামচানো জায়গায় একটু টাচ করতেই চাঁদ ব্যাথায় কুকড়ে উঠে। নাহিদ অনেক গভীর ভাবেই খামচে ধরেছিল। আলোক মলম এনে লাগিয়ে দিলো।তারপর চাঁদ ঘুমানোর পর আলোক বেরিয়ে এলো কারণ তার ফোন কল এসেছে।বাহিরে এসে আলোক বললো,

‘ হ্যাঁ নিরব বল।’

‘ আলোক রিপোর্ট কাল সন্ধ্যার দিকে দিবে ইরা বললো।আমি তোকে কল করে জানবো। পরে তুই এসে নিয়ে যাস।’

‘ আচ্ছা।’

আলোকের কণ্ঠের স্বর নীরবের কাছে কেমন লাগলো।সে দ্রুত আলোক কে প্রশ্ন ছুড়লো,

‘ আলোক তুই ঠিক আছিস? কি হয়েছে? তুই এভাবে কথা বলছিস কেনো?’

আলোক বললো,

‘ আরে না তেমন কিছু না।আচ্ছা রাখি পরে কথা হবে।’

বলে রেখে দিল আলোক।নীরবের কেমন লাগলো এভাবে কেটে দেওয়ার জন্য।

_____________

এখন প্রায় রাত বারোটা বাজতে চলেছে। আলোকের চোখে ঘুম নেই। সে বিছানায় খালি নড়াচড়া করছে। তার ভিতর কেমন দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। আলোক আর পারলো না উঠলো। পাশে তাকাতেই দেখে চাঁদ ঘুমোচ্ছে। আলোক একটু উঠে একটু কাছে গিয়ে চাঁদের কপালে ভালোবাসার পরশ ছুঁইয়ে দিল। তারপর দরজা খুলে বের হয়ে তার মায়ের ঘরে ঢুকলো। ঢুকতেই দেখে তার মা হাতে তাসবিহ গুনছে। দরজা খোলার শব্দ শুনে আশা চোখ খুলে তাকায়। আশা ইশারায় আলোক কে ডাকলো। আলোক যেতেই প্রশ্ন ছুড়লো,

‘ বাবা আসে নি মা?’

আশা মলিন মুখে হাসি টেনে বললো,

‘ তোর বাবা যে কোথায় থাকে ! কখন আসে, কখন যায় আল্লাহ্ জানে। তার ভাই আসার পর থেকে তার কোনো পাত্তাই পাওয়া যায় না।’

আলোক ভ্রু উচুঁ করলো। তারপর তার মায়ের পাশে বসলো।আশা ছেলেকে টেনে তার মাথাটা নিজের কোলে নিল তারপর হাত বুলাতে লাগলো। আলোক নিরাশয় কন্ঠে বলল,

‘ মা তোমার মনে আছে? আগে স্কুল থেকে এসে আমি তোমাকে সব বলতাম?’

‘ হ্যাঁ বাবা সব মনে আছে সব! তোর ছোট বেলার সব কিচ্ছুই আমার মনে আছে।’

আলোক অনেকটা হতাশা নিয়ে বললো,

‘ নাহিদ এখনো বদলায় নি মা। ও আগের মতোই আছে। স্কুল এ থাকতে মেয়েদের দিকে খারাপ নজর দিত। তাদের খারাপ খারাপ কথাবার্তা বলত। সুযোগ পেলেই তাদের গায়ে হাত দিত। ওর এই স্বভাব এখনো আছে মা।’

আশা সহজলভ্য ভাবে বললো,

‘ আলোক প্রবাদে একটা কথা আছে, “কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয়না। বাঁকা বাঁকাই থাকে।” ঠিক তেমন তাই।’

আলোক নিরন্তরতা হয়ে বললো,

‘ মা ও অনেক খারাপ। ও চাঁদের কোমরে খামচে দিয়েছে। অনেক কষ্ট দিয়েছে।’

‘ থাক বাবা তুই এইসব ভাবিস না। অনাথ মেয়েটাকে ভালো রাখার চেষ্টা করিস। ওকে কষ্ট দিস না। শুধু একটা কথা মনে রাখিস, ” আল্লাহ অনাথ ,এতিম দের প্রতি জুলুম সহ্য করেন না “।

আলোক ধীর কন্ঠে বলল,

‘ হুম__’

বেশ কিছুক্ষণ আশা ছেলের মাথায় হাত বুলাচ্ছে।এমন সময় আলোক প্রচন্ড আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বললো,

‘ মা চাঁদ কোন অনাথ আশ্রমে থাকতো?’

‘ আ*** এই আশ্রমে। রাস্তার বা দিকে তারপর ১-২ ঘণ্টার পথ হবে। আলোক ছোট মুখে বললো ‘ আচ্ছা’ তারপর আলোক উঠলো যাওয়ার জন্য।আলোক পিছন থেকে বললো,

‘ কেনো আলোক?’

আলোক তাকিয়ে হেসে বললো , ‘ না মা এমনি আরকি!’

তারপর আলোক ঘরে চলে এলো।
#পূর্ণতা❤️
#Writer_তানজিলা_তাবাচ্ছুম❤️

২৩ & ২৪

‘ আসতে পারি?’

বৃদ্ধ মহিলা টি চোখ তুলে তাকানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু বোধহয় খালি চোখের দৃষ্টিতে ঠিক মত দেখতে পাচ্ছেন না। তাই চশমা টা উঠিয়ে পড়লেন। তারপর আস্তে আস্তে হেঁটে গিয়ে আলোকের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন,

‘ ক্_কে তুমি বাবা?

‘আসো। ভিতরে আসো।’

আলোক হাতের তালু দ্বারা মুখ টা মুছে ভিতরে ঢুকল তারপর কোমল কন্ঠে বললো,

‘ আসসালামুয়ালাইকুম। আমার নাম আলোক। আমি আপনার সাথে একটু কথা বলতে চাই।’

বৃদ্ধ মহিলা টি বসলেন। ইশারায় আলোক কে বসতে বললেন। তারপর বৃদ্ধ মহিলাটি নিজের কাপাকাপি কন্ঠে বললেন,

‘ তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না। কে তুমি ? কি চা_চাও?

আলোক এবার সিরিয়াল হয়ে বললো,

‘ জ্বি আসলে আমি কিছু জানতে চাই। যেটা আপনি ভালো জানবেন কারণ আপনি এই ‘___’ আশ্রমে দীর্ঘ বছর ধরে আছেন।’

মহিলাটি মৃদু কন্ঠে বললেন,

‘ কি জানতে চাও ?’

আলোক অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বললো,

‘ চাঁদ! চাঁদ কে চিনেন?’

বৃদ্ধ মহিলাটি চশমা টা ঠিক করতে করতে মনে করতে লাগলেন তারপর অনেকক্ষণ ভেবে বলে উঠলেন,

‘ চাঁদ কোন চাঁদ?’

আলোক মহিলাটির কথা শুনে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। তারপর ধীর কন্ঠে বলল,

‘ চাঁদ!‌ গায়ের রং উজ্জল শ্যামলা। কথা বলতে পারে না। ওর বয়স এখন ২২ বছরের মতন হবে।’

কালকে রাতে আলোক তার মায়ের থেকে জেনে নেওয়ার পর বিকালের দিকে এখানে এসেছে। কারণ সে জানতে চায় চাঁদ কে? কি তার আসল পরিচয়! ওর বাবা মা কোথায়? আর ও অনাথ আশ্রমে কেনো ছিল? কেনই বা অনাথ! আর চাঁদ ওইদিন ঐরকম ব্যবহার করল কেনো? আর নাহিদের নামই বা কেনো লিখলো! এতসব প্রশ্ন জানতে চায় আলোক। তাই তার উত্তর খুঁজতে এখানে এসেছে।

‘ হ্যাঁ ওইযে বোবা মেয়েটা?’

মহিলাটির কথায় আলোক ভাবনা কেটে গেলো। তারপর মাথা নাড়াতে নাড়াতে করুন কন্ঠে বললো,

‘ হ্যাঁ ও। আসলে আমি ওর অতীত জানতে চাই। ও বোবা কেনো? ওর বাবা মা কোথায়? ও এখানে কিভাবে এসেছে?প্লিজ বলুন!’

‘ কিন্তু তুমি?’

আলোক তাড়াহুড়া করে বললো,

‘ আমি! আমি ওর হাসব্যান্ড।’

মহিলাটি হাসলেন।তারপর মিষ্টি কন্ঠে বললেন,

‘ যাক মেয়েটার তাহলে বিয়ে হয়েছে। ভারী মিষ্টি মেয়ে ছিল একটা।’

মহিলাটির কথায় আলোক একটু হাসলো।তারপর মহিলাটি বলতে শুরু করলেন,

‘ আমি যতটুকু জানি মেয়েটা যখন সাড়ে তিন বছর তখন এখানে নিয়ে এসেছিলেন তার এক প্রতিবেশী মহিলা। মেয়েটা যখন এসেছিল তখনও কোনো কথা বলত না! চুপচাপ থাকতো। কিন্তু আমার মেয়েটা অদ্ভুত লাগে।তাই আমি জানার প্রচেষ্টা চালাই। তারপর জানতে পারি, চাঁদের বাবা ছিলেন একটা গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক আর মা ছিলেন গৃহিণী। তার বাবার নাম “রেজাউল” আর মায়ের নাম “চাঁদনী”। চাঁদ রা গ্রামেই থাকতো। চাঁদ রা দুই ভাই বোন।চাঁদের থেকে পাঁচ বছরের বড়ো তার ভাই ছিল। যার নাম ছিল “নাহিদ্রিয়ান”। চাঁদ ছিল তার বাবা-মার কলিজার টুকরো মেয়ে। আর ভাইয়ের আদরের বোন। তাদের ফ্যামিলি ছিল একটা সুখী পরিবার। আর চাঁদ কথা বলতেও পারত। অনেক কথা বলতো সে। কিন্তু কোনো এক কারণে তার কথা বলা চিরজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। চাঁদ রা যে গ্রামে থাকত সে গ্রামের চেয়ারম্যানের ছিল অবৈধ ব্যবসা। ছোট ছোট বাচ্চাদের অপহরণ করে তাদের পাচার করতো। একদিন চাঁদের বাবা রেজাউল তাদের দু’ভাই বোনকে নিয়ে বাহিরে ঘুরতে গেল । ছেলের ক্ষুদা পেয়েছিল তাই তুমি ছেলে মেয়েকে রেখে তাদের জন্য কিছু খাবার আনতে গেলেন। চাঁদ আর নাহিদ্রিয়ান একসাথে খেলছে। নাহিদ্রিয়ান দৌড়চ্ছে আর চাঁদ তার পিছে দৌড়াচ্ছে। হঠাৎ চাঁদ হচট খেয়ে পড়ে যায় আর কাঁদতে শুরু করে তখন তার ভাইকে ডাকে,

‘ নাদিয়ান ভাইয়া। আমার লাগছে।ভাইয়া’

নাহিদ্রিয়ান পিছনে ঘুরে চাঁদের কাছে যায় তারপর তার ব্যাথা লাগার জায়গায় হাত বুলিয়ে বলে,

‘ কাদিস না মুন ঠিক হয়ে যাবে।’

নাহিদ্রিয়ান চাঁদ কে ভালোবেসে ‘মুন’ বলে ডাকে।চাঁদের কান্না কিছুটা কমে। কারন ছোট বাচ্চা রা এমন ই হয়। তাদের ব্যাথা লাগার জায়গায় যদি কেউ হাত বুলিয়ে দেয় তাহলে তারা ভাবে তাদের ব্যাথা কমে।নাহিদ্রিয়ান চাঁদকে উঠিয়ে বলল,

‘ মুন তুই আমাকে নাদিয়ান বলিস কেনো? আমার নাম নাহিদ্রিয়ান। নাহিদ্রিয়ান বল!’

চাঁদের ‘হা’ করে তাকিয়ে আছে। নাহিদ্রিয়ান আবার বলল,

‘ না-হি-দ্রি-য়া-ন!‌ [ টেনে টেনে]

চাঁদ মনোযোগ সহকারে শুনে বলে উঠলো,

‘ নাদিয়ান।’

নাহিদ্রিয়ান বাক্যলংকারে বললো,

‘ না হি দ্রি য়া ন ।’

কিন্তু তবুও চাঁদ বলতে পড়লো না। তারপরে অনেক বার বলল কিন্তু চাঁদ সঠিক উচ্চারণ করতে পারলো না। শেষমেশ সে বলল,

‘ তুই এটা উচ্চারণ করতে পারছিস না। তাই তুই সংক্ষেপে আমাকে ‘নাহিদ’ বলিস। আচ্ছা?’

চাঁদ ছোট মুখে উওর দিলো ‘ ঠিক আছে না-হি-দ ভাইয়া’। তখন থেকে চাঁদের মনে এই ‘নাহিদ’ নাম টা গেঁথে গেছে। চাঁদ বার বার মুখস্ত করছে আর বিড়বিড় করে ‘নাহিদ নাহিদ ‘ বলছে। তারপর কিছুক্ষণ পর দুই ভাইবোন আবারো দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। কয়েকটা জনের চোখ লেগে আছে মিষ্টি চাঁদের উপর। তারা অপেক্ষায় আছে সুযোগ পেলেই তাকে উঠিয়ে নেবে। নাহিদ চাঁদের থেকে অনেকটা দূরে চলে যেতেই তারা এসে পড়ে। চাঁদকে নিজেদের কাছে ডাকে । ছোট চাঁদ তো আর এইসব ফাঁদ বুঝে নি তাই সে তাদের ডাকে সাড়া দিলো। তারপর লোক গুলো চাঁদের হাতে একটা চকলেট ধরিয়ে দিয়ে তাকে খেতে বলে। ছোট মেয়ে সে তো এইসব বুঝে না চকলেট খেতে যাবে তখনি তার বাবা ডেকে উঠে। বাবার ডাক শুনে চাঁদ হাসি মুখে ওনার কাছে দৌঁড়ে যায় তারপর গিয়ে কোলে উঠে। আর রেজাউলও তার আদরের মেয়েকে কোলে নেন। তারপর চাঁদ তার বাবা কে বলে,

‘ বাবা ঐ আঙ্কেল রা দেখো আমাকে চকলেট দিয়েছে।’

রেজাউল সামনে তাকাতেই দেখে ওই লোক গুলো নেই। তার কেমন সন্দেহ হয়। তারপর তিনি নাহিদ্রিয়ান আর চাঁদ কে নিয়ে বাসায় চলে আসেন। রাতে উনি এইসব নিয়ে ভাবতে লাগেন। চাঁদের হাত থেকে চকলেট টা নিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বাড়ির সামনে কয়েকটা কুকুর ঘুরঘুর করছিল। তখন তিনি একটা কুকুর কে চাঁদ কে দেওয়া সেই চকলেটটা দেন। তারপর কিছুক্ষণ পরেই সেই কুকুর টা লুটিয়ে পরে মাটিতে। উনি বুঝতে পারেন চকলেট এ কিছু ছিল। আর বেশ কয়েকমাস আগে গ্রাম থেকে অনেক বাচ্চা গায়েব হয়ে গেছে। কেউ বলে বাচ্চা খেলতে গিয়ে তাদের শিয়ালে খেয়ে ফেলেছে আর নানান রকমের কথা। কিন্তু রেজাউল বুঝতে পারে আর পিছনে হয়তো অন্য কিছু আছে। আর সেই থেকে উনি এগুলো উপর খোঁজে লেগে পড়েন আর শেষে জানতে পারেন এই গ্রামের ই একজন ব্যাক্তি।তারপর উনি গ্রামের চেয়ারম্যানদের এইসব জানায় আর তখন আরো জানতে পারেন এইসবের পিছনে রয়েছে এই চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানের লোক তাকে অনেক বুঝাই কিন্তু রেজাউল বলেন উনি এইসব সবাইকে বলে দিবেন। সবার সামনে আনবেন এইসব। আর আজ থ্রেট দিয়ে উনি চলে যান। বাড়িতে আসে তিনি চাঁদের মা চাঁদনী কে সব বলেন। চাঁদনী শুনে অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েন। সেইদিন চাঁদের বাবা অনেক তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লেন। চাঁদের মা চাঁদকে গল্প শুনলেন তারপর তাদের দু’ভাই বোন কে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।

_____________

২৪.

মাঝ রাত। চারিদিকে নিস্তব্ধ। কোথায় কোনো শব্দ নেই। হটাৎ চাঁদ কে কেউ ঝাঁকিয়ে উঠে। চাঁদ ধড়পরে উঠে বসে তারপর কিছু চেঁচানো শুনতে পায় তার বাবা মার রুম থেকে। চাঁদ নিজের মায়ের দিকে তাকাতেই দেখে ওনার মুখে ভয়ের ছাপ। মুখে পানিতে ভেজা। চাঁদ ভয়ার্ত কন্ঠে তার মাকে বলে,

‘ আম্মু কি হয়েছে? বাবার ঘর থেকে কিসের শব্দ হচ্ছে?’

চাঁদের মা জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে বললেন,

‘ মামনি ঘরে না চোর ঢুকেছে।’

চাঁদ শুনে ভয়ে কেঁপে উঠে।

‘ মামনি ভয় পেও না। মা আছে তো সাথে।আসো আমার সাথে আসো।’

তারপর চাঁদ কে নিজের সাথে নিয়ে। বাড়ির আরেকটা দরজা দিয়ে বের হয়ে বলেন,

‘ মামনি এখানে এই গাছের পিছনে থাকো। মা ভাইয়া কে নিয়ে আসছে।ঠিক আছে?’

চাঁদ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সম্মতি প্রদান করে। চাঁদের মা ভিতরে গেলো। চাঁদ তাকিয়ে আছে ভিতরে। এখান থেকে দেখা যাচ্ছে। চাঁদ দেখলো তার মা অনেকক্ষণ ধরে ভিতরে গেছে কিন্তু আসছে না তাই সে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে দেখলো তার মা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে আছে। আর তার সামনে তার ভাইয়ের গলায় ছুরি ধরে আছে একটা লোক। তার মুখ দেখা যাচ্ছে না কারণ তাদের সবার মুখে মাস্ক পড়া। চাঁদনী মেঝে তে থেকে আস্তে আসতে বলছে,

‘ না্- নাহি__নাহিদ্রি__নাহিদ্রিয়ান!!

‘ ওক_ওকে ছেড়ে দি_দিন।’

চাঁদ সামনে তার মা ভাইয়ের কাছে এগোতে যাবে তখনি তার ভাইয়ের গলায় ছুরি ধরে থাকা লোকটা গলা কেটে দেয়। আর নাহিদ্রিয়ান লুটিয়ে পড়ে মেঝে তে।সাথে সাথে চাঁদনী জোরে চেঁচিয়ে উঠে, ‘ নাহিদদ__
নিজের সন্তান কে নিজের চোখের সামনে মরতে দেখা কোনো মায়েই পারবেন না। চাঁদনী চেঁচানোর সাথে সাথে আরেকজন লোক তার মাথায় লোহা দিতে জোরে মারলো। আর মেঝেটা রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেলো। আর এদিকে ছোট চাঁদ নিজের মা আর ভাইয়ের নৃশংস মৃত্যু দেখলো। তারপর লোক গুলো একে অপরকে বলছে, ‘ এর বাপ ভিতরে মরছে ‘ বলে লোক গুলো হাসলেন। তারপর একজন আরেকজনকে বলল, ‘আগুন লাগা।আগুন লাগা।’
কিছুক্ষন পর হাতে আগুন নিয়ে একটা লোক আসলো আর বললো,’ আগুন।’ আরেকজন তাকে বললো, ‘ আগুন লাগা।আগুন লাগা। চাঁদের কানে কানে খালি তাদের বলা শব্দ গুলো বাজছে।চাঁদ ভয়ে কয়েক পা পিছিয়ে দৌড়ে যেতে লাগলো তারপর সে মাটিতে সেন্সলেস হয়ে লুটিয়ে পড়লো। অপরদিকে তার বাবা, মা, ভাই এর মৃত্যুর রহস্য যাতে কেউ জানতে না পারে তাই তাদের পুরো বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল। তারপর সেই লোক গুলো চলে গেলো। ভাগ্যবশত শুধু চাঁদ বেচেঁ গেলো।

সকালে চাঁদ উঠতেই নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করলো। সে উঠতেই তার প্রতিবেশী এক মহিলা আরফিন নামে এক মহিলা বলে উঠলেন,

‘ মামনি ‘

বলে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন। পরে সবাইকে যেভাবে ছড়ানো হয়েছে সেভাবেই সবাই জানলো দুর্ঘটনা বসত তাদের বাড়িতে আগুন লেগে যায় আর সেই আগুনেই তাদের পুরো পরিবার মারা যায়। এভাবে কেটে যায় এক সপ্তাহ। চাঁদ যার কাছে আছে‌ উনি লক্ষ্য করলেন চাঁদ কোনো কথা বলেন না। একদম চুপসে গেছে। আরফিন ভাবলেন হয়তো এত বড় ঘটনা ঘটেছে তাই চাঁদ সেটা মেনে নিতে পারে নি। আর যেহেতু তার বয়স টাও অনেক কম তাই অনেক শকড হয়েছে। কিন্তু উনি তো জানেন না যে চাঁদ নিজের প্রিয় জন নিজের মা, ভাই এর নৃশংস মৃত্যু দেখেছে। চাঁদের তার বাবার সাথে তার লাস্ট দেখাও হয়নি। এভাবেই হয়ে গেলো চাঁদ অনাথ। প্রায় এক মাসের মতন হয়ে যায় চাঁদ কথা বলে না। তখন আরফিনের কেমন লাগে। তাই সে চাঁদকে ডক্টর দেখান। আর তখনকার যুগে ডক্টর অনেক কম ই ছিল আর চিকিৎসার খরচও থাকতো অনেক। তবুও তিনি চাঁদ কে ডক্টর দেখান। চাঁদ কে ডক্টর দেখানোর পর ডক্টর বলেন, চাঁদ অনেক ছোট। আর হয়তো সে অনেক ভয়ংকর কিছু দেখেছে যেটা এই বয়সে তার ব্রেন সেটাকে নিতে পারছে না। চাঁদের মনে অনেক ভয় আর সে অনেক শকড হয়ে আছে। যার ফলে সে কথা বলছে না। কিন্তু ট্রিটমেন্ট করালে সে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ট্রিট মেন্ট এর জন্য লাগবে টাকা। আর আরফিন অন্যের সন্তানের জন্য টাকা দিবেন কেনো? এমনিতেই তার সংসার ই ঠিক মতন চলে না সেখানে কিভাবে দিবেন তিনি? এরপর কেটে যায় এক সপ্তাহ। তারপর সবার পরামর্শে তিনি ডিসিশন নেন চাঁদ কে অনাথ আশ্রমে রাখবেন। কারণ এভাবে নিজেদের কাছে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আর কোনো মানুষ কেনই বা অন্যের সন্তানকে নিজেদের কাছে রাখবেন? তাই উনি রাখলেন না চাঁদ কে দিয়ে আসলেন অনাথ আশ্রমে। আশ্রমে যখন দেয় তখন আশ্রমের অনেকেই আরফিনকে বলেছিল কেনো চাঁদ কথা বলে না।উত্তরে তিনি বলেছেন ,চাঁদ ছোট থেকেই বোবা।’

____________

চোখের কোণ থেকে গড়িয়ে পড়ল অশ্রু। আলোক মুছে নিলো। সাথে বৃদ্ধ মহিলাটি ও কেঁদে ফেলেছেন‌ ।তারপর আবার বলতে লাগলেন,

‘ তখন যদি সেই মহিলাটি আমাদের বলতেন তাহলে হয়তো আমরা ওর ট্রিটমেন্ট করাতাম। কিন্তু যখন আমরা জানতে পারি তখন দেরি হয়ে গেছিলো। আমি বুঝতে পড়ার পরে এইসব সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সব জানতে পারি। চাঁদ কে ডক্টর ও দেখাই। কিন্তু ডক্টর বলেছেন অনেক দেরি হওয়ার কারণে চাঁদ তার বাক শক্তি চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছেন। তাই আর কিছু করা সম্ভব নয়।’

আলোক মাথা নিচু করে দু হাত দিতে নিজের মুখ চেপে ধরলো। সে কখনোই ভাবে নি চাঁদের অতীত টা এতটাও ভয়ানক হবে। এতটা কম বয়সে চাঁদ কতো কিছু সাফার করছে। ভেবেই তার কষ্টে বুকে মোচড় দিচ্ছে। আলোক উঠলো তারপর বললো,

‘ ধন্যবাদ বলার জন্য। আমি চলি।’

বৃদ্ধ মহিলাটি পিছন থেকে ডেকে উঠে,

‘ বাবা শুনো।’

আলোক তাকিয়ে বললো,

‘ জী বলুন।’

মহিলাটি সামনে এসে বললেন,

‘ তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি অনেক ভালো , সৎ ছেলে। শুধু এতটুকু বলবো মেয়েটা দেখো। অনেক কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা।’

আলোক মুখে হাসি টেনে বললো,

‘ জি ইন শা আল্লাহ্। নিজের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু আছে আমি আমার বেস্ট ট্রাই করবো ওকে হ্যাপি রাখার ইন শা আল্লাহ্।’

বৃদ্ধ মহিলাটি হেসে বললেন,

‘ আল্লাহ তোমাদের উপর রহম করুক।’

আলোক হেসে বিদায় নিয়ে আসলো। আলোকের মন সত্যি অনেক খারাপ। সে ভাবে নি তার চাঁদপাখির ছোট বেলা এতটা কষ্টের হবে। আলোক এবার বুঝতে পারছে সেদিন রাতে চাঁদের জ্বর কেনো আসছিল? কেনো চাঁদ ঐরকম ব্যবহার করেছিল। কারণ আলোক বলেছিল ‘আগুন’ এই শব্দটা অনেকবার বলেছিল যেটা চাঁদের মনে এক ভয়ঙ্কর শব্দ হয়ে আছে। তারপর যখন তারা তাদের মেয়ের নাম ‘চাঁদনী’ রাখার জন্য বলেছিল তখন চাঁদের মন খারাপ হয়ে গেছিল।কারন তার মায়ের নাম ‘চাঁদনী’ ছিল। তারপর খাতায় ‘নাহিদ্রিয়ান ‘ লেখার কারণ টাও আলোক এবার উপলব্ধি করতে পারছে।

___________________

অনেকক্ষণ যাবত ফোনটা বেজে উঠছে। চাঁদ ধীর পায়ে এগিয়ে দেখলো আলোকের ফোন। আলোক ভুলবশত ফোন টা রেখেই বাহিরে গেছে। ফোনটা চাঁদ উঠল, দেখলো স্ক্রিনে নিরব নামটি লেখা। চাঁদ ফোন চালাতে পারে না কিন্তু আলোক কে দেখেছে চালাতে। তাই সেভাবেই কল টা রিসিভ করলো। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে যা বললো টা শোনার জন্য চাঁদ মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। তার হাত থেকে মৃদু আওয়াজে ফোনটা পরে গেলো। সে ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো।

#চলবে….

[*

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here