পূর্ণতা পর্ব ৩১+৩২

0
132

#পূর্ণতা❤️
#Writer_তানজিলা_তাবাচ্ছুম❤️

৩১.

ইসলামে অন্যের সম্পর্কে কু ধারণা করা হয় হারাম। রাসূল সাঃ বলেছেন,”তোমরা বেশি বেশি ধারনা করা থেকে বিরত থাকো। কেননা ধারনা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যা।”[সহীহ বুখারী:৬৭২৪]। তবুও কীভাবে সে এত কু ধারণা করলো? আলোক কে আন্দাজ করে সে কিনা কি বলেছে। অথচ আল্লাহ বলেন, ‘ধ্বংস হোক তারা,যারা আন্দাজে কথা বলে!'[সুরা যারিয়াত, ১০]। তারা তবুও আলোকের সম্পর্কে কতো আন্দাজে কথা বলেছে। এই জন্য আল্লাহ তা’য়ালা কারোর সম্পর্কে কু ধারণা করতে এবং আন্দাজে কথা বলতে নিষেধ করেছেন, এবং তাদের ধ্বংসের কথা বলেছে। তারা নিজেকে সঠিক ভেবেছিল, নিজে একটু বেশি প্রিয়োরিটি দিয়েছিল যার ফলস্বরূপ আজ সে নিজের কাছেই নিকৃষ্ট! মানুষ এইরকম ই হয় সামান্য কিছু জানলে,জ্ঞান অর্জন করলে নিজেকে সঠিক মনে করে। নিজে যা করে , যা ভাবে, যা বলে সব কিছুই তার নিজের কাছে ঠিক মনে হয়। তারাও সেইরকমই। তারা আজ বুঝতে পারছে এতদিন সে কি ধরনের পাপ করছে। আলোকের মত একজন মানুষ কে সে কতই না কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহ্ কি তাকে ক্ষমা করবে? আলোক কি তাকে ক্ষমা করবে? তারা ধীর পায়ে আলোকের দিকে এগোলো তারপর সামনে এসে ধপ করে নিচে বসলো। আলোকের হাত ধরে নীরবতার সাথে কাঁদছে। তারার ইচ্ছে করছে জোরে জোরে কাঁদতে কিন্তু শব্দ করলে আলোক উঠে যেতে পারে। তারপর তারা হাত ছেড়ে ওযু করে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে বসলো। সে তার প্রতিটি বলা কথা, করা কাজে ভীষন অনুতপ্ত। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাবে। কারন সে এইসবে কিভাবে ইসলামের বিপক্ষে চলে যাচ্ছিল সে নিজেই বুঝতে পারে নি। সে যেটাকে নিজের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক ভাবছিল সেটা আসলে ছিল ভুল। এভাবেই মানুষ নেক সুরেতে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যে, সে ভাবে এইগুলো ইসলামে সমর্থক কাজ। মুনাজাতে তারা হাত পেতে অনেক কাদলো তারপর উঠে আবার আলোকের কাছে গেল। আলোকের মুখ দেখতে কেমন শুকনো শুকনো লাগছে। এতটা কাছ থেকে তারা কখনো আলোককে দেখেনি। আজ দেখছে। হঠাৎ আলোক কেশে উঠল তারা কিছুটা দূরে সরে গেল। কিন্তু আলোক ঘুম থেকে উঠলো না। আচমকা তারার মনে হলো আলোক তো রাতে কিছু খায় নি। আর আলোকের জ্বরের পরিমান টাও অনেক বেশি। আলোক কে মেডিসিন খেতে হবে কিন্তু খাটি পেটে তো খাওয়া যাবে না। তারা দ্রুত গতিতে কিচেনে গেল। দেখলো দুপূ্রের ভাত আছে কিন্তু তরকারি নেই। তারা তেমন ভালো রান্না করতে পারে না। একজন মহিলা এসে রান্না করে দিয়ে যায় কিন্তু আজ বৃষ্টির কারনে আসে নি। তারা ফ্রিজ থেকে ডিম বের করে ভেজে ভাত,পানি সহ আলোকের কাছে গেল। কিন্তু আলোককে ডাকতে সে দ্বিধাবোধ করছে। কিভাবে ডাকবে বুঝতে পারছে না। পরিশেষে নরম কন্ঠে আস্তে করে ডাকল,

‘ আলোক! আলোক?’

আলোকের সাড়া পাওয়া গেল না। তারা পানি টাকে রেখে আলোকের বাহুতে দু’টো আঙ্গুল স্পর্শ করে ডাকলো লাগলো,

‘ আলোক! আলোক।

আলোক একটু নড়লো তারপর পিটপিট করে তাকলে লাগলো। তারা ধীর কন্ঠে বলল,

‘ উঠ_উঠ__উঠুন_।

আলোক স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকাতেই তারা তার হাতে থাকা ভাতের প্লেটে ইশারা করে। আলোক উঠে বসলো, পিছনে হেলান দিলো। আলোক স্থির হয়ে বসে তারার দিকে তাকিয়ে আছে হয়তো তারার এমন কিছু করাতে সে অপ্রতিভ ছিল। তারা আলোকের দিকে তাকানোর সাহস হচ্ছে না তাই সে মাথা নিচু করে আছে। আলোক অনেক্ষণ পর নিজের দৃষ্টিপাত নামিয়ে তারার থেকে প্লেট নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই তারা তাড়াহুড়া করে প্লেট থেকে এক লোকমা ভাত নিয়ে আলোকের মুখের সামনে ধরলো। আলোক সহিষ্ণুতাপরিপূন বিষাদশান্ত দৃষ্টিপাত তারার দিকে তাকালো। তারা এবার আলোকের থেকে চোখ নামায় নি, সে মনে সাহস যুগিয়ে আলোকের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষন পর তারা চোখ দিয়ে ইশারা করে খেতে বললো। তারপর আলোক খেলো। শেষ হতে আর অল্প বাকি! এমন সময় আলোক হাত দিয়ে দেখিয়ে বললো সে আর খাবে না। তারা জোর ও করলো না। প্লেট রেখে আলোক কে মেডিসিন দিলো। মেডিসিন খেতে আলোক ঘুমিয়ে পড়লো। আলোক শুতেই তারা পানি , প্লেট সব নিয়ে কিচেনে আসলো। এসে ভাবলো এই খাবারের কি করবে? ফেলে দিবে? অপচয় করবে? আলোক তো পুরোপুরি খায়নি, কিছু রেখে দিয়েছে। পরিশেষে তারা হাসি মুখে আলোকের এটো খাবার খেলো। তারপর সব কিছু ধুয়ে রেখে রুমে চলে গেলো। বিছানায় গুটি মেরে শুয়ে আছে আলোক। তারা আলোকের কাছে গিয়ে তার কপালে হাত দিতে দেখলো জ্বর অনেকটা বেড়েছে। তারা বাটিতে করে ঠান্ডা পানি এনে আলোকের মাথায় পট্টি দিলো। তারপর আলোকের পাশে শুয়ে পড়লো।আজ প্রথম তারালোক এক বিছানায় শুলো। আলোকের দিকে তাকিয়ে আছে। অশ্রুজল তার নয়ন হতে ঝরছে। রাতভর তারা আলোকের মাথায় পট্টি দিচ্ছে আর ভাবছে , যদি সে আলোকের সাথে থাকতে চায়! আলোক কি তাকে নিবে? আলোক কি তাকে ক্ষমা করবে? আলোক যদি ক্ষমা না করে তাহলে তারা কি করবে? ভাবতেই তারা খুব কান্না পাচ্ছে। নিজের উপর পছন্দ রাগ লাগছে। তারা মনে মনে ভাবলো, তাহলে আশার পাশে যে অন্ধকার রুম টাতে সে ঢুকেছিল সেটাই ছিল চাঁদ আলোকের রুম। আর এখন তারা আলোক যেই রুমে আছে সেটা ছিল তাসলিমার রুম। তারা এখন বুঝতে পারছে ওইদিন আলোক ওই ঘরে ঢোকার পর কান্নার আওয়াজ আসছিল কেনো। কারণ আলোক কাদছিল। আর ডায়েরী টাও হয়তো আলোক বা চাঁদের হবে সাথে ছবি গুলোও। আর ওই ঘরে আছে চাঁদের হাজারো স্মৃতি। আলোক অনেক গভীর ঘুমিয়েছে। তাই তারা কে এইসব উপলব্ধি করতে পারেনি।

________________

সকালে আলোকের ঘুম ভাঙ্গতেই সে হতবাক হয়ে গেলো। বড় বড় চোখ করে দেখছে সে। তাড়াতাড়ি করে উঠে পড়ল আলোক। কারণ তারা তার অনেকটা কাছে ঘুমিয়ে আছে। তারা যদি উঠে দেখে তাহলে উল্টা পাল্টা ভাববে। এমনিতেও সে আলোক কে পছন্দ করে না তারপর কালকের সন্ধ্যায় যা ঘটলো! এইসব ভাবতে ভাবতে আলোক ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হলো। তারপর বেরিয়ে গেলো নামাজের উদ্দেশ্যে। আসার পথে আলোক ভাবছে কালকে কি সত্যি তারাই তাকে খাইয়ে ছিল? নাকি সেটা আলোকের স্বপ্ন ছিল? আলোক ঠিক বুঝতে পারছে না। আলোকের মনে হচ্ছে সত্যি ই ছিলো কিন্তু পরক্ষণে আবার তার মনে হচ্ছে তারা তো তাকে সহ্যই করতে পারে না তাহলে তাকে নিজের হাতে খাওয়াবে কেনো? আবার তারা আলোকের সাথে একই বিছানায় কিভাবে আসলো সেটা নিয়েও ভাবছে আলোক। শরীর থেকে জ্বর এখনো যায়নি আলোকের। নিজেকে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে আলোকের। এইটুকু পথ আজ হাঁটতে পারছে না। আলোক বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে দেখলো তারা বিছানায় বসে আছে। তারার দিকে সামান্য দৃষ্টিপাত দিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয় আলোক। তার এই মুহূর্তে শুতে ইচ্ছে করছে কিন্তু তারা বসে । আলোক ব্যালকনির দিকে পা বাড়াতেই তারার মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে আসলো,

‘ আপ_আপনি এখানে ঘুমান।’

আলোক পিছনে ঘুরে তাকাতেই তারা বিছানা ঝাড়তে ঝাড়তে বললো,

‘ আপনার জ্বর এখনো যায়নি। আপনি বিছানায় উষ্ণতায় থাকুন।’

আলোক অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এ কি সেই তারাই?

‘ আসুন।’

একটু জোড় কন্ঠে তারা বললো। আলোক এসে শুতেই তারা কম্বল টা গায়ের উপর দিয়ে বেরিয়ে এলো। আলোক আর বেশি ভাবলো না ,সে ঘুমিয়ে পড়ল। সারারাত ঘুমিয়ে থাকার পরেও তার শরীর থেকে ক্লান্তির ভাব যাচ্ছে না।

________________

এশার নামাজ পড়ে ঘরে এসে বিছানায় বসলো আলোক। এখন সে অনেকটা সুস্থ। ফোন টা হাতে নিতেই তারা তার সামনে এসে বলল,

‘ আশা মা আর বাবা কোথায় গেছে?আর ওনারা কবে আসবেন?’

আলোক স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিল,

‘ মা নিজের বাড়িতে গেছে।‌‌ বাবাও এইসময় ফ্রি ছিল তাই মায়ের সাথে গেছে।’

তারা ঠোঁটযুগল গোল করে ‘ ওহ’ বলল। তারপর আবার প্রশ্ন ছুড়লো,

‘ কবে আসবে জানেন?’

‘ এইতো এক-দু সপ্তাহ পরে আসবে।’

এবার তারা আর কিছু বলল না। আলোকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তারা কেমন নড়াচড়া করছে। আলোক তা লক্ষ্য করে বলল,

‘ আর কিছু বলবেন?’

তারা ইতস্তত হয়ে বলল,

‘ মানে_ওই__

‘ আমাকে একটু হেল্প করবেন?’

আলোক দাঁড়িয়ে বলল,

‘ হুম।বলুন।’

তারা হাতটা সামনে এগিয়ে অসহায় কন্ঠে বলল,

‘ আমার এই মেডিসিন টা এনে দিবেন প্লিজ।’

আলোক না করতে পারলো না। ঔষুধের প্যাকেট টা নিলো তারপর নিজের ফোনটা নিয়ে বলল,

‘ আচ্ছা আমি আনছি।’

বলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে তারা পিছন থেকে বলে,

‘ কতোক্ষণ লাগবে? কখন আসবেন?’

আলোক তাকিয়ে বলল,

‘ দেড় – দুই ঘন্টা!’

তারা ভ্রু কুঁচকে বলল,

‘ এতো তাড়াতাড়ি? এত কম সময় যেতে লাগবে? এখান থেকে না আরো দূরে?’

‘ হ্যা তবে আমি ওইদিকে যাবো না। বাসার বাম পাশের ওইদিকে একটা ফার্মেসি হয়েছে। সেখানে দেখি পাই কিনা।’

তারা ছোট করে বলল ‘ ওহ আচ্ছা’

আলোক আর কিছু না বলে যাবে ,তারা আবার প্রশ্ন করে উঠলো,

‘ আচ্ছা? ঠিক কতক্ষন লাগবে?’

আলোক পিছে ফিরে তাকালো।

‘ এখন রাত হয়েছে যাওয়ার জন্য তেমন কিছু নাও পাওয়া যেতে পারে । যেতে হয়তো ৪০-৪৫ মিনিট লাগবে, সাথে আসতেও।’

তারা অকপটে বলল,

‘ আচ্ছা। সাবধানে যান। একটু দেরী করে আসিয়েন।’

তারা শেষের কথা শুনে আলোক ভ্রু কুঁচকালো। এদিকে তারা নিজে গালি দিচ্ছে, তাড়াহুড়া করে কিনা বলল সে। তারপর আলোকের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল,

‘ না বলছিলাম দেরী করবেন না। আচ্ছা আপনি যান।’

আলোক গেল। আলোকের মনে হলো তারা যেন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল। কেনো এমন মনে হচ্ছে সে নিজেও জানে না। এদিকে আলোক যেতেই তারা বের হয় ঘর থেকে তারপর ঐ অন্ধকার ঘর অর্থাৎ চাঁদ আলোকের ঘরে যায় সে। দুপুরের দিকে আলোকের অনুপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে খুলেছে সাথে কিছুটা পরিষ্কার ও করেছে। তারা ঘরে ঢুকে লাইট জ্বালানোর জন্য সুইচ দিলো কিন্তু লাইট জ্বললো না। তারা নিজের ফোনের ফ্লাসলাইট জ্বালিয়ে টেবিল টাকে এনে তারউপর একটা টুল রেখে উঠলো তারপর ঠিক করলো কিন্তু মেইন লাইট জ্বললো না। ভাগ্যবশত পার্পেল কালারের ডিম লাইটটা জ্বললো। তারা তাদের ঘর থেকে চার্জার লাইট এনে পুরো ঘরটা টা পরিষ্কার করতে শুরু করলো। তারা দেখলো ঘরের সবকিছুই পার্পেল কালারের। নীরবের কথা মতই। তারা ঘরের মেঝেতে শুকনো রক্ত দেখলো কিন্তু নিরবের কথা যতটুকু মনে আছে সেখানে এইরকম কিছু ছিল না! তাহলে এই ঘরে রক্ত কোথা থেকে আসলো? তারা নিজের উওর না পেয়ে ভাবলো হয়তো আলোকের কোনো সময় কেটে গেছে তার ই রক্ত হবে। তারপর তারা পুরো ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করলো , প্রায় ৪০-৪৫ মিনিটের মত লাগলো। হাতে বেশি সময় নেই। তারপর তারা আলমারি খুললো। আলমারিতে মাকড়সার জাল, ধুলো জমেছে। তারা সেখানে সেই ডায়েরী টা পেল যেটা সে আগে দেখেছিল।সেখানকার ছবিতে চাঁদ কে দেখলো। আলোক সহ চাঁদের হাসি মাখা মুখে দেখেই দু’ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। হয়তো যদি চাঁদ বেঁচে থাকতো তাহলে তারা আলোকের সাথে বিয়ে হতো না, আর আলোককে পেত ও না। তবুও তারার মনে হয় যদি চাঁদ বেঁচে থাকতো তাহলেই ভালো হত। তারা ডায়েরী রেখে কাপড় গুলো কে দেখলো। সব শাড়ি, কারন চাঁদ সবসময় শাড়িই পড়তো। অনেক ময়লা জমেছে। তবুও তারা সেখান থেকে পার্পেল কালারের শাড়িটা নিল। পুরো ঘরটাকে তারা আগের মত করে সাজিয়েছে , যেমনটা নিরব বলেছিল।

_______________

এদিকে টানা দু’ঘন্টা পর আলোক বাড়ি ফিরলো। এত রাতে রাস্তায় কোনো যানবাহন ছিল না তাই হেঁটে এসেছে। দেরী হয়েছে আসতে তার। আলোক নিজের ঘরে যেতেই দরজায় এসে থেমে গেল। দরজা বাহির থেকে লাগা। আলোক ভাবছে তাহলে তারা কোথায় গেল? আলোকের মনে কেমন এক অস্থিরতা জন্মালো। হঠাৎ আলোক আড়াল চোখে পাশে দেখলো ওই ঘর অর্থাৎ সে আর চাঁদ যেখানে থাকতো ওই রুমের দরজা খোলা। আলোক ধীর পায়ে এগোলো। তারপর দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। দরজা টা একটু খোলা। ভিতরে ডিম লাইট জ্বলছে আলোক বুঝতে পারল। কিন্তু এই ঘরে কে আসলো? তারা? আলোক দরজাটা খুলল। আর দরজা খুলতেই সে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
#পূর্ণতা❤️
#তানজিলা_তাবাচ্ছুম❤️

৩২.

দরজা খুলতেই আলোক অবাক হয়ে গেল, হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে যেনো আজ সে প্রথম দেখছে। এ কি সেই তারা? আজ নতুন এক তারা যেনো আলোক দেখছে। আলোক তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। একপাশে সাইড সিঁথি করা চুল গুলো। কিছু চুল পিছনে কিছু সামনে। কাজলে লেপ্টে থাকা তার আঁখিযুগল। ঠোঁটে হালকা পিংক কালারের লিপস্টিক। পড়নে পার্পেল কালারের শাড়ি সাথে ম্যাচিং ব্লাউজ। শাড়ি, ব্লাউজ চাঁদের। গায়ে ঠিক মত হয়নি তবুও যেমন তেমন করে পড়ছে তারা। তারা এখন পর্যন্ত আলোকের দিকে তাকানোর সাহস পায়নি। তারার খুব ভয় লাগছে আলোক যদি রাগ করে চাঁদের এইসব পড়ায় আর একদম তার মত করেই সাজায়। তারা ডায়েরীতে রাখা ছবি গুলোয় দেখেছিল চাঁদকে এইভাবে সাজতে তাই সেও সেম ভাবেই সেজেছে। আলোক তারা থেকে ‌চোখ নামিয়ে পুরো ঘর টাকে দেখছে তার লাগানো সেই পার্পেল কালারের পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার পার্পেল কালারে, ঘরের ডিম লাইটটাও পার্পেল কালারের। আলোকের যেন পুরোনো সব গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আলোকের মনে হচ্ছে সামনে থাকা মেয়েটা তার চাঁদপাখি। তারা মনে সাহস নিয়ে আলোকের দিকে তাকালো। আলোক ও সেই সময় তারার দিকে তাকালো। তারা আলোকের দিকে চেয়ে আছে। তারা ইশারা করে আলোক কে ডাকলো। কিন্তু আলোকের কোনো সাড়া না পাওয়ায় তারা কষ্ট লাগলো সাথে ভয় টাও বেড়ে গেল। পরিশেষে তারা মুখ দিয়ে ডাকলো কিন্তু কোনো আওয়াজ করলো না। আলোক কয়েক কদম এগোলো। তারার কিছুটা কাছে আসতেই তারা শাড়ি গুটিয়ে বসে বলতে শুরু করলো,

‘ ভালোবাসার সংজ্ঞা কিভাবে দিতে হয় আমার জানা নেই। শুধু এতটুকুই বলবো ভালোবাসি।নিজের সবটা দিয়ে ভালোবাসি। আমি নিজেও জানিনা কীভাবে, কেনো তোমাকে ভালোবেসে ফেললাম।‌ যেই ছেলেটাকে একদিন আগে আমি সহ্য করতে পড়তাম না, আজ আমি তাকে এতটা ভালবাসি। আসলে কি জানত যখন আমরা কাউকে অপছন্দ করি, তখন তার ভালো কাজ,ভালো কথা সবকিছুই আমাদের অসহ্য লাগে। তোমার ক্ষেত্রে তেমনি করেছিলাম আলোক। কিন্তু যখন আমরা তাকে খুব কাছ থেকে চিনে ফেলি,তখন তার প্রতি একটা অ্যাট্রাকশন জন্মায়, তখন তার সব কিছুই আমাদের ভালো লাগে, এমনকি আমাদের অপছন্দ কাজ গুলোও ভালো লাগে। তোমার স্নিগ্ধ হাসি, আমি এত আজেবাজে কথা বলার পরেও সব কিছু মুখবুজে সহ্য করে নেওয়া, তোমার ধৈর্য্য, আর তোমার স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকানো, তোমার চোখের চাহনী এইসবের প্রতি আমার ভালোলাগাটা গভীর হয়ে গেছে। আর তোমার ঠোঁটের কোণের হাসি আর তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকানো আমাকে আরো দুর্বল করেছে, আর করেই চলছে। আমি আজ তোমাকে কিছুই জিজ্ঞেস করছি না আর করবো না কারণ আমাদের বিয়ে হয়েছে আর আমি তোমাকে আমার ফিলিং গুলো জানিয়ে দিচ্ছি। শুধু এইটুকুই বলবো আমি আমার পূর্বের কাজকর্ম, আচার আচরণ, কথাবার্তার জন্য অনুতপ্ত।তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অসীম ক্ষমাশীল। আল্লাহর সেই মহান গুনের পরিপ্রেক্ষিতে তুমিও তোমার এই অপদস্ত স্ত্রীটাকে ক্ষমা করে দিও।’

প্রথমে কথা গুলো তারা আলোকের দিকে তাকিয়ে বললেও শেষের কথা গুলো বলার সময় তারা মাথা নিচু করে ফেলে। কারন তার চোখ বয়ে পানি আসছিল। তারা পিছনে ঘুরে টেবিলের উপরে রাখা পার্পেল কালারের প্লাস্টিক ফুলটাকে নিয়ে আলোকের দিকে মুখ ফিরে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,

‘আই লাভ ইউ আলোক । তুমি কি হবে আমার তারার আলোক? আবদ্ধ হবে তারালোকে?’

বলে ফুল টাকে এগিয়ে দিল তারা। এই ঘরে অনেক ফুলদানি ছিল আর সবগুলোই পার্পেল কালারের।তারা সেখান থেকে ই নিয়েছে। ছলছলে চোখে আলোকের দিকে তাকিয়ে আছে। আলোক স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কেমন সব কিছু তার স্বপ্নের মত লাগছে। তারার বলা প্রত্যেক টি কথা আলোকের। আলোক যখন চাঁদ কে প্রপোজ করেছিল তখন এইভাবে করেছিল। তারাও হুবাহু সেভাবেই করেছে। কিন্তু তারা কি সব জেনে করেছে? করলে সে জানলো কিভাবে? আলোক ওখান থেকে দ্রুত পায়ে ব্যালকনিতে গেল। কারন পুরোনো সব স্মৃতি যে তার চোখের সামনে ভেসে আসছে। আলোকের কান্না পাচ্ছে। কিন্তু সে কান্না কে চেপে রেখেছে। আলোক যেতেই তারার চোখ হতে দুফোঁটা অশ্রু জল গড়িয়ে পড়লো। আলোক কি তাহলে রাগ করেছে? তাকে কি নিবে না? তবুও তারা হাল ছাড়লো না। তারাও গিয়ে আলোকের পাশে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ পর আলোক পিছিয়ে ধপ করে বসলো।তারাও পিছনে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সেও সেখানে বসলো। তারপর তারা হাসিখুশি মুখ করে উচ্ছ্বাস কন্ঠে বললো,

‘শোনো ছেলে আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর তুমি আমাকে ভালোবাসো আর না বাসো তোমাকে আমার সাথেই থাকতে হবে। কারণ এত সহজে তুমি তারার হাত থেকে ছাড়া পাবে না।’

‘ তুমি একটু বেশিই ইনোসেন্ট আর ভদ্র ছেলে তাই এর জন্য তোমাকে একটু দেখে শুনে রাখতে হবে।

অনেক হাসিখুশি নিয়ে তারা বললো কিন্তু আলোক কোনো রিয়েক্ট করলো না। তারার মনের ভিতর এক ভয় লাগছে আলোক তাকে ক্ষমা করবে তো? তারা চোখের কার্নিশের জলটুকু মুছে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে অনেক গম্ভীর কন্ঠে আলোক কে ডাকলো,

‘আলোক?’

তারা এতটা গম্ভীর ভাবে ডাকায় আলোক হকচকিয়ে গেল। তারা দিকে তাকালো। তারা ভীরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে। চোখযুগল ছলছলে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি কেঁদে দিবে। আলোক কিছু বলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করলো। তারার দিকে তাকিয়ে কিছু বলবে তার আগেই তারা নিজের পা দুটো মেঝেতে বিছিয়ে দিয়ে আলোকের বাহু ধরে নিজের কাছে এনে তার মাথা নিজের কোলে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে গাইতে শুরু করলো,

‘ঘুমাও তুমি ঘুমাও গো জান,
ঘুমাও আমার কোলে…..
ভালবাসার নাও ভাসাবো,
ভালবাসি বলে…

তোমার চুলে হাত বুলাবো,
পূর্ণ চাঁদের তলে …..
কৃষ্ণচূড়া মুখে তোমার,
জোসনা পড়ুক কোলে…..
আজকে জড়ায় ধরবে,
তোমার মনকে আমার মন….
গাইবে পাখি, গাইবে জোনাক ;
গাছ গাছালি বন….

এত ভালবাসা গো জান,
রাখিও আঁচলে….
দোলাও তুমি, দুলি আমি ;
জগত বাড়ি দোলে …..
শব্দ ঘুমের মূর্ছনাতে,
বাতাসও সুর তোলে…..
ভালবাসার শিশির কণা,
পড়বে ও আঁচলে….
এত ভালবাসা গো জান,

রাখিও আঁচলে….
দোলাও তুমি, দুলি আমি ;
জগত বাড়ি দোলে …..
ঘুমাও তুমি ঘুমাও গো জান,
ঘুমাও আমার কোলে…..
ভালবাসার নাও ভাসাবো,
ভালবাসি বলে……”

[বিঃদ্রঃ এখানে কোনো রকম বাদ্যযন্ত্র বা কোনরকম অশ্লীল ওয়ার্ড নেই।আর স্বামী স্ত্রীর একে অপরের জন্য এইরকম গান গাওয়া যেতে পারে।]

গাওয়া শেষ করতে করতে তারা কেঁদে ফেলল। সাথে আলোকের চোখ হতে গড়িয়ে পড়ল অশ্রু। তারপর তারা আলোকের গালের উপর
নিজের মাথাসহ চোখ রাখলো। তারার চোখের পানি আলোকের গাল ছোয়াচ্ছে বার বার। তারা কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,

‘ আই এম রিয়ালি সরি আলোক। আমি তোমাকে কয়েকদিন অনেক কষ্ট দিয়েছি। রাগের বশে কিনা কি বলেছি। জানি হয়তো তা ক্ষমার অযোগ্য! তবুও আমি ‌ক্ষমাপ্রাপ্তি তোমার কাছে। আমি জানি আমি তোমার মত ছেলেকে ডিজার্ভ করি না। তোমার স্ত্রী হওয়ার আমার যোগ্যতা নেই। জানি না এইকয়েকদিন আমার কি হয়েছিল!হয়তো শয়তান মাথয় চেপে বসছে। আমি_ আমি আমার পরিপ্রেক্ষিতে যেটা সঠিক ভাবছিলাম ,প্রকৃতপক্ষে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সেটা ছিল ভুল! কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি। শয়তানকে প্রশ্রয় দিয়ে তোমার সাথে যা করেছি তার জন্য আমি অনুতপ্ত।আমাকে মাফ করে দাও প্লিজ। নিজের করা পাপের জন্য প্রতিনিয়ত আমি ভিতরে শেষ হতে যাচ্ছি। আমি প্লিজ তুমি আমাকে মাফ করে দাও।’

এইসব বলে কাদঁছে তারা। তার চোখের পানি আলোকের মুখে পড়ছে। আলোক খুব অবাক হয়েছে। এইসব একদম সেদিনের মতই! শুধু আলোক ছিল তারার জায়গায় আর তার জায়গায় ছিল চাঁদ। কিন্তু তারা কিভাবে এইসব জানলো?‌প্রশ্ন হানা দিচ্ছে আলোকের মনে। তারাও আলোকের ওইদিনের মত করে ‌ক্ষমা চাচ্ছে। সেও সেইরকম ভুল করেছে যেরকম আলোক করেছিল।।মানুষ মাত্রই ভুল। আলোকের দ্বাড়াও ভুল হয়েছিল সেও ক্ষমা পেয়েছে। আলোক তারার দিকে তাকালো দেখলো তার চোখের কাজল কান্নায় চারিপাশে লেপটে গেছে। তারা কে আই মুহূর্তে দেখে আলোকের হাসি পেলো। আলোক হালকা হাসলো। আলোকের হাসিতে তারা বিস্মিত হয়ে গেলো। আলোক তারার কোল থেকে উঠলো। তারা হুহু করে কেঁদে কেঁদে আবার বলতে লাগলো,

‘ আম_ আমি জানি আমি তোমার সাথে অনেক অন্যায় করেছি। অনেক অনেক কষ্ট দিয়েছি। তোমার থেকে আলাদা হতে চেয়েছি!’

বলে একটু জোরে কাদলো তারা।

‘ কিন্তু এখন আম_আমি_আমি তোমার সাথে থাকতে চাই। প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও।

আলোক তারা দিকে তাকালো। ইচ্ছে করছে তার চোখ দুটো মুছে দিতে । আলোক শান্ত কন্ঠে বললো

‘আপনার প্রতি আম_____

তারা থামিয়ে দিয়ে মুখ ফুলিয়ে বললো,

‘আপনি না ‘তুমি’। ‘তুমি’ করে বলবে আমায়।আবার বলো।’

তারার কথায় আলোক হাসলো। কারণ এক সময় এটা সে-ই বলেছিল!

‘তোমার প্রতি আমার কোন রাগ, অভিযোগ, অভিমান নেই তারা। তাই এখানে ক্ষমা করার কোনো প্রশ্ন আসে না। আজ যদি আমি তোমার উপর রাগ, অভিমান করে থাকি তাহলে অন্য একজনের কাছে আমি অপরাধী হয়ে থাকব। আমিও একসময় একই ভুল করেছিলাম। তুমি আমার স্ত্রী মানে আমার পরিপূরক। আমার উপর নিজের রাগ,ভালোবাসা, অভিমান সব কিছু করার-ই তোমার অধিকার আছে। আমি তোমার উপর কখনোই রাগ করিনি,না করেছি অভিমান।তাই ক্ষমা করার কথা আসে না।আর আল্লাহ তাআলা মহান। তিনি তার বান্দাকে অতিসহজেই ক্ষমা করে দেন,যদি সে একবার মন থেকে তওবা করে।তাহলে সেখানে আমি কে যে তোমাকে ক্ষমা করার?আমি নিজেও একজন পাপী বান্দা। তাই ক্ষমার করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আর তুমি

তারা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষন থেকে আমচমকা-ই সে আলোককে জড়িয়ে ধরলো। ধরে কাঁদতে লাগলো। হটাৎ করে এমন হওয়ায় আলোক একটু হকচকিয়ে গেল। কারণ আজ এগারো বছর পর কোনো মেয়ের ছোঁয়া পেল। কোনো মেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো। লাস্ট বার চাঁদকে দাফনের সময় আলোক জড়িয়ে ধরেছিল। তারপর থেকে আজ তারা তাকে জড়িয়ে ধরলো।

‘সরি আলোক। সব সময় চেষ্টা করবো তোমায় খুশি রাখার। তোমার সব কথা শুনবো , তুমি যেমন চাও তেমন ভাবে থাকবো। তোমাকে হ্যাপি রাখার নিজের বেস্ট ট্রাই করবো।আল্লাহ্ আমার সাধ্যে যতটুকু দিয়েছে সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো। শুধু প্লিজ তুমি আমাকে ডিভোর্স দিও না! আমাকে ছেড় না। আমি এটা বলবো না যে তোমাকে সব সময় হাসি খুশি রাখবো,কখনো তোমাকে কাদাবো না। কারণ এইসব শুধু কল্পনায় মানায় বাস্তবে নয়। বাস্তবে জীবনে সুখ,দুঃখ,কষ্ট,হাসি,কান্না সবই থাকবে। তবেই না এর নাম জীবন।’

বলে তারা হালকা হাসলো কিন্তু চোখ দিয়ে খুশির অশ্রু বয়ে যাচ্ছে। আলোক ও হাসলো। আলোক ভাবছে তারা বেশির ভাগ কথাই তার সব কথা কপি করে বলেছে। সে চাঁদকে যা বলেছিল সেগুলোই তারা বলছে। কিন্তু আলোকের মনে প্রশ্ন হানা দিচ্ছে তারা এইসব জানলো কীভাবে? তারা আলোককে ছেড়ে তার হাত ধরে বললো,

‘ আমাকে প্লিজ ছেড়ো না। আমি তোমার সাথে থাকতে চাই। তোমার তারা হয়ে থাকতে চাই। প্লিজ আমাকে রাখো।’

বলে আলোকের হাত ধরে বিজড়িত চোখে কাঁদতে শুরু করে জোরে জোরে। আলোকের দুর্বলতা অশ্রু। সে এমনিতেই এটা কে সহ্য করতে পারে না। তারার কান্না করাটাও তার ভালো লাগছে না। আলোক ইতস্তত হয়ে বললো,

‘ তার_ তারা!’

তারা মুখ তুলে বড় বড় চোখ করে বললো,

‘ তারা পাখি হয়না আলোক?’

আলোক মৃদু হাসলো। তারপর তারার চোখের চারিপাশে লেপ্টে থাকা কাজল গুলো মুছতে মুছতে বললো,

‘ হয়। তারা পাখিও হয়! আর তুমি যদি থাকতে চাও আমার এতে না নেই। কিন্তু প্লিজ কান্না থামাও।’

তারা খুশিতে আবার জাপটে ধরে আরো জোরে কেঁদে দিল।

#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here