পূর্ণতা পর্ব ৩

0
86

#পূর্ণতা❤️
#Writer_Tanjila_Tabassum❤️

৩.

রাত ১২ টা বাজতে আর মাত্র তিন মিনিট বাকি। আচমকা তাঁরা র ঘুম ভেঙ্গে যায়।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। ঘুম ভাঙ্গতেই তারা উঠে বসে হাতের তালু দ্বারা কপালের ঘাম মুছে নেয় ‌।কেমন অস্বস্তি লাগছে তার।বার বার ঢোক গিলছে তারা।আড়াল চোখ করে ব্যালকনির দিকে তাকালো।আজ ও আলোক ওখানেই ঘুমিয়েছে। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আবারো শুয়ে পড়লো কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না।আর শুয়ে থাকতেও শান্তি পাচ্ছে না। তারা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।তারপর দরজা খুলে বের হলো। তাদের রুমের বা’পাশে একটা রুম আর ডান’পাশে তিনটি রুম রয়েছে। তারা লক্ষ্য করলো ডান পাশের তিনটি রুমের মধ্যে শেষে থাকা রুম টাতে লাইট জ্বলছে। তারা সেদিকে পা বাড়ায়।আর রুম টার কাছে আসতেই কিছু কথা শুনতে পায়। তারা কন্ঠ শুনে বুঝতে পারলো তার শশুর শাশুড়ি কথা বলছে। তাঁরার শশুর রায়হান তার শাশুড়ি আশাকে বলছে,

‘আমরা তারা কে ব্যাপার টা না বলে অন্যায় করছি না আশা?’

আশা দাড়িয়ে গিয়ে বলল,

‘এখানে অন্যায়ের কি পেলে?এখন জানলেই বা কি আর হবে?বিয়ে তো হয়েছেই।’

‘বিয়ে হয়েছে তবুও ওর জানার পুরোপুরি অধিকার রয়েছে।’

আশার মুখে বিষন্নতার ছাপ ফুটে উঠলো।সে রাগান্বিত ভাবে বলল,

‘মানলাম ওর অধিকার আছে কিন্তু জানলে এখন ও আর কি করবে?আর আমার মনে হয় না তাঁরা জানলেও বা কিছু হবে। তাঁরা একটা ভদ্র, সুশীল মেয়ে।’

রায়হান ও এবার দাঁড়িয়ে গেল আশার সামনে।তারপর তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল,

‘তাঁরা ডিসিশন কি হবে সেটা নাহয় সে-ই বলবে।’

আশা ভ্রু কুঁচকে বলল,

‘মানে?’

‘মানে আমি তাঁরা কে কাল সব বুঝিয়ে বলবো।’

আশার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরতে লাগল।

‘আমার ছেলেটাকে একটু শান্তিতে থাকতে দিবে না তুমি?’

রায়হান আশার কাঁধে একটা হাত রেখে বলল,

‘আলোক আমারও ছেলে আশা। আমার একমাত্র সন্তান। কিন্তু তাই বলে অন্যের সন্তানের সাথে আম….

রায়হানকে থামিয়ে আশা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

‘কি দোষ করেছে আমার ছেলেটা?কেনো তোমরা ওর জীবনটা নষ্ট করার উপর লেগেছো?প্রথমত তোমার ওই ভাইয়ের ছেলের জন____

এতক্ষণ তারা বাহির থেকে সব শুনছিলো কিন্তু আনমনা হয়ে যাওয়ার কারণে পাশের ফুল দানিটা তার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলো।আর সাথে সাথে আশা এবং রায়হান বাহিরে তাকালো।আর আশাও তার কথা অসম্পূর্ণ রেখে থেমে গেলো।তাদের দু’জনের দৃষ্টি এখন বাহিরে।অন্য দিকে তারা হাঁপিয়ে উঠেছে। কিভাবে এখন সে নিজের রুম পর্যন্ত যাবে ?কারন যেতে যেতে তো রায়হান আর আশা তাকে দেখে ফেলবে।আশা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। তাঁরা অন্য কোনো উপায় না পেয়ে পাশের রুম টার দরজা খোলার চেষ্টা করে আর খুলে যেতেই ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। তারা জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে। খুব ভয় পেয়ে গেছিল সে। কিন্তু তার শশুর শাশুড়ি কি বিষয় নিয়ে কথা বলছিল সেটা তারা ঠিক মত বুঝতে পারছে না।তবে এইটুকু বুঝতে পেরেছে যে তাকে এবং আলোক কে নিয়ে কথা হচ্ছিল। তারা যে রুমের ভিতর ঢুকেছে সেই রুম টা ভালো ভাবে দেখতেই তার ভয়টা আরো বেড়ে যায়।পুরো রুমটা অন্ধকার সাথে মাকড়সার জাল। ফ্লোর টাও ময়লা। কিন্তু রুমটার ব্যালকনির ওইদিক থেকে একটু আধটু আলো আসছে বিন্দু বিন্দু। তারা র কেমন অদ্ভুত লাগছে।এইরকম উচ্চবিত্ত পরিবারের একটা বাড়ি এইরকম একটা ময়লা , ভয়ংকর রুম থাকবে সে ভাবতে পারে নি।রুমটা দেখে মনে হচ্ছে কয় বছর ধরে এখানে কেউ থাকে না ,কেউ আসে না। তারা বিন্দু বিন্দু আলো গুলো দিয়ে রুমটা দেখার চেষ্টা করছে।কিছুটা দেখতে পারছে আবার কিছুটা পারছে।তবে যতটুকু দেখতে পারছে সে টুকু দেখে এতটুকু ধারনা পেয়েছে যে-ই এই রুমটাতে থেকেছিল সে রুমটাকে অনেক সাজিয়ে রেখেছিল।পুরো রুমটা সুন্দর ভাবে সাজানো কিন্তু তাতে ধুলো পরেছে। তারা সামনে এগোতাই হচট খেয়ে পড়ে গেলো নিচে।আর মুখ দিয়ে ‘আহ’ শব্দ হলো তার।পুরো শরীর তার ফ্লোরে পরেছে।তারা উঠার চেষ্টা করলো কিন্তু ব্যথা একটু বেশিই পেয়েছে তাই উঠতে পারলো না। বাহিরে আলো গুলো তার মুখ বরাবর পরেছে।ফ্লোর টাকে একটু ভালো করে দেখতেই তারা র পুরো শরীর কেঁপে উঠে।ভয়ে তার গলা শুকিয়ে আসছে।ফ্লোরে রক্তের দাগ।তবে দেখে মনে হচ্ছে অনেক আগের দাগ। কেননা দাগ গুলো শুকিয়ে গেছে। তারা পর পর ঢোক গিলতেই আছে ,এই মুহূর্তে তার খুব ভয় করছে।তার পুরো শরীরটা থেকে যেনো ধীরে ধীরে শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। তারা র নিজেকে খুব উইক মনে হচ্ছে,উঠার মত শক্তিটুকুও সে পাচ্ছে না।

.

.

অপর দিকে আশা বেরিয়ে কাউকে দেখতে পেলো না। শুধু মাত্র দেখলো ফুলদানি টা নিচে পড়ে আছে। আশা চারপাশে সন্দেহ জনক দৃষ্টিতে দেখছে।পিছন থেকে রায়হান এসে বলল,

‘কে ছি…

এতটুকু বলে থেমে গেল।দেখলো নিচে ফুলদানি পরেছে।

‘ওহ ফুলদানি টা পরেছে।’

আশা রায়হানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে বলল,

‘কেউ ফেলে দিয়েছে।’

আশার কথা শুনে রায়হান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,

‘কেউ ফেলেছে মানে?কি বলতে চাও তুমি?’

আশা রায়হানের দিকে বড়সড় চোখ করে তাকিয়ে বলল,

‘মানে কেউ আমাদের কথা শুনছিল।’

‘কিসব বলছো?কে বা আছে বাড়িতে? তুমি,আমি আলোক আর তারা ই তো আছি।বাকি সবাই তো চলে গেছে।’

আশা রায়হানের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ফুল দানিটাকে ঠিক করতে করতে বলল,

‘কে এসেছিল জানিনা।তবে কেউ ছিল।’

রায়হান আশার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,

‘আহা!কি সব বলছ?হয়তো বাতাসে পড়ে গেছিল।দেখো বাহিরে কতো বাতাস বইছে।’

আশা ভ্রু কুঁচকে বলল,

‘বাতাস?বাতাস এখান পর্যন্ত কিভাবে আসবে?যদি ঘরে পড়তো তাহলে একটা কথা হতো।’

রায়হান ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নিলো না।সে আশাকে বোঝাতে লাগলো,

‘তাহলে হয়তো ইঁদুর বা অন্য কিছুতে পরেছে।’

‘ইদুরের গায়ে এতটা শক্তি আছে?’

আশার প্রশ্নের কোনো উত্তর পেলো না তাই চুপ থাকলো রায়হান।আশা তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে চারপাশ টা দেখছে।

‘আহ আশা এত রাতে কে আসবে?

আশা উঁচু করে কুঁচকে তাকাতেই রায়হান বলল,

‘আচ্ছা এই ব্যাপার টা আমরা কালকে দেখবো।এখন অনেক রাত হয়েছে।ঘুমিয়ে পড়া যাক।’

আশা কিছু বলার আগে রায়হান তার হাত ধরে ভিতরে নিয়ে আসে।

.

.

অনেকক্ষণ যাবত নিচে পড়ে আছে তারা।অনেক কষ্টে উঠার চেষ্টা করছে। একসময় সফল হয়ে যায়।উঠে দাঁড়ায় সে। তার ভয়টা এখনো কমেনি।প্রতিটা মূহুর্ত ই তার মনে প্রশ্ন বেড়ে চলছে। কিন্তু সব গুলোর উত্তর ই অজানা। তারা তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে রুমের চারপাশ টা দেখছে। এবার সাবধানতার সাথে পা বাড়ালো। বিছানায় হাত দিতেই দেখে ধুলো জমেছে। আর আরেকটু কাছাকাছি ভাবে দেখতেই দেখে সাদা চাদরে ও রক্তের দাগ।দেখেই তারা র ভয় আরো বেড়ে যায়।সে বার বার জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। তারা বিছানা টার আরো কাছে যায়।তার পর সে লক্ষ্য করে বালিশের নিচে কিছু একটা চাপা পরে আছে।তারা সেটাকে বের করে এনে দেখে একটা ডায়েরী। তারা ভিতরে কি আছে সেটা পরার জন্য আলোর ওইদিক নিয়ে যায় ডায়েরী টাকে।তারপর প্রথম পেজ খুললেই দেখে বড় করে পূর্ণতা লেখা। তারা পরের পেজ উল্টায় দেখে সেখানে কিছু লেখা।কিছু কবিতা আর কিছু ছন্দ। তারা সেগুলো পড়লো না কারন এমনিতেই ভালো মত কিছু দেখা যাচ্ছে না।ডায়েরী টার পরের পেজ উল্টা টেই কিছু ছবি ছবি নিচে পড়ে যায় । তারা সেগুলোকে উঠিয়ে দেখবে তখনি কেউ পিছন থেকে তারা র নাম ধরে ডাকে। নিমিষেই তাঁরা থমকে যায়।তার গা ঘামতে শুরু করেছে। তার শরীর কাঁপছে।এখানে কে আসবে?পিছনে ঘুরে তাকানোর সাহস হচ্ছে না তারা র।কে ডাকলো তাকে?

#চলবে…

[*

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here