প্রথম প্রেম পর্ব ৩

0
129

#প্রথম_প্রেম
পর্ব-০৩
লেখিকা-#খেয়া

আমি তোমার খুব কাছের একজন।

—-আচ্ছা,ছোটোবেলায় কী আপনার আকিকা দেওয়া হয়েছিল।

—- এইগুলো কেমন প্রশ্ন।অবশ্যই দেওয়া হয়েছিল।

—- তাহলে আকিকা দিয়ে যে নাম রাখা হয়েছিল সেটা বলেন। নয়ত ফোন রাখেন।

—- আরে বাহ্।আমার নাম জানার এত আগ্রহ।আচ্ছুা শোনো তাহলে আমার নাম প্রহর।এবার দেখি আমায় কেমন খুজে বের করতে পারো।

” কথাটা বলেই লোকটা ফোন কেটে দিলো।আজব লোক তো,আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোন কেটে দিলো।
আমিও আর সাতপাচ না ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম।”

————

কেটে গেছে সাতদিন।সবকিছুই তার আপন গতিতে চলছে। তেমনি আমার জীবনও।

একদিনে একবারও আমার নিবির ভাইয়ার সাথে কথা হয়নি।মামাবাড়ি যাওয়াটাও কমিয়ে দিয়েছি।বেশ কিছু দিন ধরেই মামি বারবার ফোন করছে ওবাড়ি যাওয়ার জন্য।তাই ঠিক করছি আজ বিকেলে যাবো।তবুও নিবির ভাইয়ার মুখোমুখি হতে চাচ্ছিনা।

বিকেলে নিবির ভাইয়াদের বাসায় গিয়ে বেল বাজাতেই নিবির ভাইয়া এসে দরজা খুলে দিলো।

—- কী চায়?

—-বাথরুম পরিস্কার করতে আসছি।

—- What!!!

—- কী হোয়াট।আমাকে দেখে আপনি বুঝেন নাই যে আমি এখানে কী করতে আসি।যত্তসব সরেন দেখি,ভেতরে যেতে দেন।

” নিবির ভাইয়াকে কিছু বলতে না দিয়েই আমি ভেতরে ঢুকে গেলাম।বাড়ি থেকেই ঠিক করে আসছি এখন থেকে নিবির ভাইয়াকে একদম ইগনোর করব আমি। তাকেও বোঝাবো যে আমারও আত্মসম্মান আছে।”

আমিও সোজা মামির কাছে চলে গেলাম।অনেকক্ষন গল্প করলাম দুজন।রাত প্রায় ৮ টা বাজে। রাতে ভাইয়া বাসায় যাওয়ার সময় আমায় নিয়ে যাবে।

কিছুক্ষন পর মামির এক প্রতিবেশী এসে মামিকে ডেকে নিয়ে গেলো তার কী যেন সমস্যা হয়েছে তাই।বাড়িতে এখন আমি একাই।নিবির ভাইয়াও আছে তার ঘরে।

আমি সিড়ি দিয়ে নেমে নিছে যাচ্ছিলাম তখনই কিছু একটার সাথে বেধে পড়ে যেতে নিলেই কেউ আমাকে ধরে ফেলে কিন্তু শেষ রক্ষা হলোনা।দুজনেই নিচে পড়ে গেলাম।

কোমরটা বুঝি ভেগেই গেলো।পরক্ষনেই মনে পড়ল নিবির ভাইয়া তো আমাকে ধরবেনা তাহলে কে ধরল।ভূত না তো আবার।
তাকিয়ে দেখি একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে। বেশ সুদর্শন।

—- এই আপনি কে হ্যা।আর আমাকে কেন ধরলেন।

—- জী আর বলি বলুনতো ভাবলাম আপনাকে ধরে হিরোদের মতো পরার হাত থেকে বাচিয়ে নিবো।কিন্তু তা আর হলো কই। মাঝখান থেকে নিজেও পরে গেলাম।

—- বেশ হয়েছে পড়ে গেছেন।খুব শখ না হিরো হওয়ার।

কী হচ্ছে এখানে।
নিবির ভাইয়ার কথা শুনে দুজনেই তার দিকে তাকালাম।উনি ছেলেটাকে উদ্দেশ্য করে বললেন

—- প্রহর,ঘরে আয়।কাজ আছে।

নিবির ভাইয়ার কথা শুনেই মনে পড়ল ঐ লোকটার কথা।সেও নিজের নাম প্রহর বলেছিল।গত সাতদিনেও আমার ফোনে এমন অনেক মেসেজ এসেছে যদিও আমি সেগুলোকে একদম ইগনোর করছি।
আচ্ছা,এই লোকটাই কী সেই লোক।না সেটা কীভাবে সম্ভব।

—-এখানে দাড়িয়ে এত কী ভাবছিস,আফরা।

মামির কথায় ধ্যান ভাঙল।

—- আচ্ছা মামি তোমাদের বাড়িতে এসছে ঔ ছেলেটা কে?

—-ওহ,প্রহর।ও তো আমার বড় ভাইয়ের ছেলে।

—- ওহ।আমি কেন তাকে আগে দেখিনি।

—- ওরা সবাই তো দেশের বাইরে থাকত।তাই হয়ত দেখিসনি।গত কালই দেশে এসেছে।
আচ্ছা আবিরের আসার সময় হয়ে গেছো, চল তোকে খেতে দিয়ে দেয়।

—- হুম,চলো।

————-

রাতে ভাইয়ার সাথে বাড়ি ফিরছিলাম।তখন ভাইয়া আমায় জিঙ্গেস করল

—- আফরা,তোর সাথে কি নিবিরের আর কোনো কথা হয়েছে।

—- না ভাইয়া।আচ্ছা তোর তো আজকে অফডে ছিলো।তাহলে হসপিটালে কেন গেলি।

—- তুই ছিলি না তাই।তোকে ছাড়া বাসায় থাকতে আমার একদম ভালোলাগেনা।

—- তুই একটা বিয়ে কেন করিসা।বউ থাকলে সব ভালো লাগবে।

—- তুই খুব পেকে গেছিস তাইনা।

—- সবই তোর অবদান।

—- তাই বুঝি।

আজ শুক্রবার।আজ আমাদের বাসায় মামা আর মামির বড় ভাইদের দাওয়াত করা হয়েছে।মামির বড় ভাই নাকি আব্বুর খুব ভালো বন্ধু ছিল।অথচ আমি কিছুই জানতাম না।

সকাল থেকেই খুব বোর হলাম।মামি সকাল সকাল এসেই মায়ের সাথে কাজ করছে।আমাকে কোনো কাজে আমায় হাত লাগাতে দিচ্ছে না।অসুস্থ থাকায়।যদিও অন্য সময়ও কোনো কাজ করিনা।

পাশেই আরশিদের বাড়ি।তাই ভাবলাম বোর হওয়ার চেয়ে আরশিকে জ্বালিয়ে আসি।

আরশিদের বাড়িতে এসে দেখলাম ওর ভাই খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু লিখছে।ওর নাম আহির।মাত্র ক্লাস ফোরে পড়ে।

—- কী লিখিস পিচ্ছি।

—- আরে আপুনি তুমি আসছো।একটু সুন্দর করে চিঠিটা লিখে দাও তো।

—- কিসের চিঠি?

—-আরে আমার গার্লফ্রেন্ড রাগ করেছে তার রাগ ভাঙানোর জন্যই এই চিঠিটা লিখছিলাম।

“আহিরের কথা শুনে যেন আমি শূন্যে ভাসছি।ছেলে বলে কী।”

—- এই ছেলে,বয়স হয়নাই দশ বছর এখনই গার্লফ্রেন্ড জুটিয়েছিস।

—- হ্যা আপু।আমাদের দুই বছরের রিলেশন।

আচ্ছা আপু আমি যাই আম্মু ডাকছে।তোমাকেই বললাম কিন্তু কাউকে বলো না।

এখন মনে হচ্ছে জীবনে কী করলাম।জীবনটাই বৃথা।এতবছরে ও নিবির ভাইয়াকে পটাতে পারলাম না আর এদের দুই বছরের রিলেশন।

—————

আরশির সাথে খানিক্ষণ গল্প করে বাসায় এসে গোসল করে নামাজ পড়ে নিলাম।
সবাই হয়ত নামাজ পর আসবে।এদিকে পেটের মধ্যে ইদুর দৌড়াচ্ছে।এখন আম্মু জীবনেও খেতে দিবেনা।
তাই মোবাইলটা নিয়ে বেলকনিতে চলে গেলাম।

একটু পরে ঘরে এসে দেখি বিছানায় বেশ সুন্দর একটা প্যাকেট রাখা।সুন্দর কাগজে মোড়া। কিন্ত এটা কে দিলো।আব্বু বা ভাইয়া দিলো তো আমাকে বলতোই।
আমি কি এটা খুলে দেখবো।

বক্সটা খুলে দেখি একটা কালো জামদানি শাড়ি আর একজোড়া ঝুমকা।
কালো জিনিস বরাবরই আমার খুব পছন্দ।তাই শাড়িটাও বেশ ভালো লাগল।
তখনই আমার মোবাইলে একটা মেসেজ এলো।

“শুভ্রপরী তোমার শুভ্রতায় কালো রংটা বড্ড মানায়।সবাই তো নীল শাড়ি পরে তুমি নাহয় কালোই পড়লে।”

আমার কী গিফটা নেওয়া উচিত।কে না কে দিয়েছে।
আচ্ছা রেখে দি যদি কখনে তাকে পাই তাইলে ফেরত দিয়ে দিবো।

মেহমানরা চলে এসেছে।মামির ভাইয়ের বউ বেশ সুন্দর দেখতে অনেকটা বিদেশিদের মতো দেখতে।

উনি আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল-

—-বাহ্।মেয়েটা তো মাশাল্লহ।এমন একটা মেয়েই খুজছিলাম প্রহরের জন্য।

উনার কথা শুনে আমি অবাক হয়ে আম্মুর দিকে তাকালাম। তখনই,,,,,

(চলবে)

(যারা ভেবেছিল আফরাকে মেসেজগুলো নিবির দিয়েছে তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here