প্রিয়তমা পর্বঃ ০২

প্রিয়তমা পর্বঃ ০২
লেখকঃ আবির খান

এরপর ঝালমুড়ি খেতে খেতে আমরা একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়াই। কিন্তু এরপর যা হলো আমি এর জন্য সত্যিই প্রস্তুত ছিলাম না। হঠাৎই একটা ৬/৭ বছরের বাচ্চা ছেলে এসে আকুতি মিনতি করে বলতে লাগলো,

– বাইয়া বাইয়া আমারে ইট্টু দেবেন? অনেক ক্ষিদা লাগছে। দুইদিন অইছে কিছু খাইনা। কেউ ইট্টু খাইতেও দেয় না বাইয়া।

বাচ্চা ছেলেটার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। স্পষ্ট ওর অব্যক্ত অনেক কষ্ট সেখানে প্রতিফলিত হচ্ছে। আমি জানি ক্ষুধার কষ্টটা সবচেয়ে বড় কষ্ট। পেটে খাবার না থাকলে একটা শরীর কখনো চলে না। যেমন ইঞ্জিনে যদি তেল না থাকে। ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। তমার দিকে তাকিয়ে বললাম,

– আমার সাথে আসো।

তমা কিচ্ছু বলল না। আমি বাচ্চা ছেলেটাকে নিয়ে ফেরির দোতলায় যে হোটেল আছে সেখানে গেলাম। ওকে বসিয়ে ওর জন্য দ্রুত এক প্লেট ভাত, মুরগীর মাংস আর ডাল নিয়ে আসলাম। ওর সামনে রেখে বললাম,

– নে খা এখন।

মানুষের রাগ,দুঃখ,খুশী যদি কেউ ঠিক ভাবে বুঝতে চায় তবে তার চোখটা পড়তে জানতে হবে। আমি বোধহয় তা জানি। বাচ্চাটার চোখে সীমাহীন খুশী পরিলক্ষিত হলো। ও তাও খাওয়া শুরু না করে বলল,

– বাইয়া এগুলা সব কি আমার?
– হ্যাঁ রে বোকা তোর৷ এবার খা তো। আরো খেতে ইচ্ছা করলে বলিস।
– না না বাইয়া। এয়া অনেক আমার লইগা। আপনে অনেক ভালা। আমার বাইয়া আপনে।
– আচ্ছা বাবা খা তুই।

ছেলেটা খাচ্ছে। এবার নজর দিলাম আমার নজরকাড়ার দিকে। সে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। বললাম,

– কি খাবা বলো?

~ বাইরের কিছু খাইনা। আর সত্যি বলতে ওর খাওয়া দেখে আমার কোন ক্ষুধাই লাগছে না। তুমি সত্যি অনেক ভালো।

আমি তমার পাশে বসে বললাম,

– ছোট এই ছেলেটাকে একবেলা খাওয়ালাম কি এমন হলো বলো৷ আমি চিন্তায় আছি ও রাতে কি খাবে। ক’জনই বা ওদের পাশে এসে দাঁড়ায়। অনেকের কাছে গেলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। এদের কথা ক’জনই বা ভাবে। আমার ইচ্ছা জীবনে কখনো বড় হলে এদের মতো অনের পাশে দাঁড়াবো। নাহলে এরা অনাহারেই মারা যাবে।

~ তোমার মতো সবাই ভাবলে কত অসহায় মানুষ বেঁচে যেত। আমরা অনেক স্বার্থপর জানো। নিজের স্বার্থ ছাড়া এক পা ভাবি না। কাউকে সাহায্য করতে গেলেও তাকে নাস্তানাবুদ করে ফেলি। তুমি এগুলো নিয়ে গল্প লিখো। তোমার লেখা পড়ে অনেকেই এদের বুঝবে সাহায্য করবে৷

– আচ্ছা লিখবো। একটা জুস অন্তত খাও?

~ উমমম, তা একটা খাওয়া যায়। একটু ঝাল লেগেছে।

– হাহা। আচ্ছা। কিরে ছোটু তোর কিছু লাগবে?

– বাইয়া গো বাইয়া, পেট ভইরা গেসে একদম আর জায়গায়ই নাই। আপনে অনেক ভালা।

– কি বলিস! পেট ভরছে! প্লেটে দি এখনো অনেক খাবার বাকি। এগুলো?

– আমার কাছে একটা পলিথিন আছে। এডায় ভইরা নিয়ে যামু। রাতে খামু।

আমার চোখটা হঠাৎ ঝাপসা হয়ে আসে। জানি না কেন। ছেলেটা ওর প্লেটের খাবার গুলো পলিথিনে চট করে ভরে ফেলে। ওর মুখে সেই অসহায় ভাবটা এখন আর নেই। আছে উজ্জ্বলতা, আছে দুনিয়া দাপিয়ে বেড়ানোর ক্ষমতা। আমি ছেলেটার ছোট্ট পকেটে ১০০ টাকার একটা নোট গুজে দিয়ে বললাম,

– টাকা ঠিক যখন খুব দরকার হবে তখন খরচ করবি। আর কাউকে বলবি না। ঠিক আছে?

– আচ্ছা বাইয়া। আমি যাই।

– যা।

ছেলেটা পলিথিনে খাবার নিয়ে চলে গেল। আমি তমার দিকে তাকাই। ওর চোখটাও ভিজা। এরপর ওকে জুস কিনে দিয়ে আমিও একটা নিয়ে খেতে খেতে বাসের দিকে আসি। বাসে উঠে দুজনে পাশাপাশি বসে আছি। দুজনেই চুপচাপ। মনটা ভারাক্রান্ত দু’জনেরই। আমার ভালো লাগছিলো না এমন টা। তাই মজা করে বললাম,

– জানো এই জুস খেতে খেতে অনেকের হুশ যায় গা।

আমার এরকম কথা শুনে তমা আশ্চর্য হয়ে বলে,

~ কি বলো কীভাবে?

– ধরো এইযে তুমি জুস খাচ্ছো এটাতো বাচ্চারা খায়৷ তুমি আমি যে খাচ্ছি এটা কি ঠিক বলো? আমরা ওদের ভাগের জুসটা খেয়ে ফেলছি। এখন ওরা কি খাবে?(মজা করে)

তমা অসহায় হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওর অবস্থা দেখে হেসে দেই। সেকি হাসি আমার। পরে তমা শয়তানিটা বুঝতে পেরে ওও অনেক হাসে আর বলে,

~ আচ্ছা দুষ্টতো তুমি। মানে আসলেই আমার হুশ চলে গেছিলো। জুসের কি অভাব পড়েছে। আমি একটা খেলে কি এমন হবে৷ তুমিও না। হাহা।

আমি খুব হাসছি। আমার হাসি দেখে তমাও হাসছে। হাসতে হাসতে ও আবার বলে উঠে,

~ তুমি অনেক ভালো একটা ছেলে। আমরা বন্ধু হতে পারি? যেহেতু একই ডিপার্টমেন্ট একই ভার্সিটির।

– অবশ্যই। কেন নয়৷ আজ থেকে আমরা ফ্রেন্ড।

~ যাক একজন এতো বড় ভালো লেখক মানুষের ফ্রেন্ড হতে পারলাম। আমার জীবন আজ ধন্য।

– আমারো। হাহা।

এরপর আমাদের ফেরি ঘাটে ফিরে। আস্তে আস্তে গাড়ি নেমে আবার পিচঢালা পথ ধরে। ফেরি পাড় হতেই গ্রামের একটা মিষ্টি মিষ্টি ঘ্রাণ নাকে এসে লাগতে থাকে। সাথে সাথেই মনটা পুলকিত হয়ে উঠে। কিন্তু পরক্ষণেই আমার মনে পড়ে যে, তমার সাথে আজকের সাক্ষাৎ হয়তো আর কিছু মুহূর্ত পর সমাপ্তি হবে। ভাবতেই কেমন জানি লাগে। তাও নিজেকে বুঝালাম যে, একই ভার্সিটিতে আমরা। আল্লাহ চাইলে কাল আবার দেখা হবে।

বিকেল ৪.২৩ মিনিট,

বাস আমাদের স্টান্ডে এসে থামে। আমরা নেমে পড়লে আবার সামনে চলে যায়। আমি তমাকে বললাম,

– তুমি একা ম্যাসে কীভাবে যাবে?
~ একা না। এক আপু আসতেছে। ম্যাসেজ দিয়ে বলল।
– ওওও৷ তাহলে তো ভালো।
~ তুমি তাহলে যাও৷ তোমার চাচার বাসায়।
– আরে যাবো নি। আগে তোমাকে আপুর কাছে তুলে দি তারপর।
~ আরে সমস্যা নেই।
– উহুম। এটা আমার দায়িত্ব।
~ আচ্ছা কল দি আপুকে দেখি কোথায়।
– আচ্ছা।

তমা কল দেওয়ার আগেই একটা হিজাব পরা আপু এসে বলল,

~ তুমি কি তমা?
~ জ্বী আপু।
~ আমি মেরিন। তুমি আমাদের ম্যাসেই থাকবে আজ থেকে। চলো।
~ আচ্ছা।…তাহলে আমি আসি লেখক সাহেব৷ কাল দেখা হবে।
– ইনশাআল্লাহ। বাই।
~ বাই।

এরপর তমাকে বিদায় দিয়ে রিকশা নিয়ে চাচার বাসায় চলে যাই। ২৫ টাকা ভাড়া। বেশী দূর নয়। চাচার বাসায় আগেও অনেক বার এসেছি। তাই চাচা আসতে চাইলেও আমি না করেছি। কারণ তমা সাথে ছিল। আর আমি চিনিও। চাচারা বিল্ডিংয়েই থাকে ভাড়া৷ আমি বেল দিতেই চাচি দরজা খুলে।

– আসসালামু আলাইকুম চাচি। কেমন আছেন?
~ আইসো আব্বা। মুই ভালো আছি। আও আও ভিতরে আও৷ তোমার লইগাই অপেক্ষা করতে আছিলাম মোরা।

চাচির কথা শুনে মনে হলো, হ্যাঁ এবার সত্যিই বরিশাল এসেছি। আমি হাসি দিলাম। ভিতরে ঢুকতেই চাচার সাথে দেখা। তাকে সালাম দিলাম। সে আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বলল,

– দেখছো রনির আম্মা পোলাডা কত্তো বড় হইয়া গেছে। এই কয়দিন আগেও এসএসসি পরীক্ষা দিসে। আর আজকে হে মোগো শহরে। বড় হ বাবা অনেক বড় হ।

এটা হলো আমার একমাত্র ছোট চাচা। আমার বাবা খুব যত্ন করেই তাকে বড় করেছেন। তাই এতো ভালবাসেন আমাদের। তার একটা ছোট ছেলে আছে। ক্লাস ৪ এ পড়ে। একটু পরে সেও এসে উপস্থিত। কিন্তু সে এসে বলে,

– আব্বু এটা কে?

আমিতো পুরো অবাক। হায়! হায়! আমাকে দেখি পিচ্চিটায় ভুলে বসে আছে। চাচা হাসি দিয়ে বলে উঠলেন,

– এইটা তোমার বড় ভাইয়া। আজ থেকে তোমার সাথেই থাকবে বাবা।

– ওওও আমার ভাইয়া। আসো ভাইয়া তোমারে মোর রুম দেখাই।

আমি পিচ্চির মুখে মোর শুনে হেসে দেই। চাচি বলে উঠে,

~ আবির যাও ফ্রেশ হইয়া আসো। তোমারে খাবার দি। খিদা লাগছে না অনেক। যাও যাও। আব্বু ভাইয়াকে তোমার রুমটায় নিয়া যাও।

– আচ্ছা। ভাইয়া আসেন। আমনারে রুম দেহাই।

– হ চলো চলো। তোমার রুম দেখমু মুই। হাহা।

এরপর ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে বিছানায় গা’টা দিলাম। তার আগে বাবা-মাকে জানিয়েছিলাম যে এসে পৌঁছেছি। তমার কথা খুব মন পড়ছে। মিষ্টি মুখখানা বার-বার চোখের সামনে ভাসছে। জীবনটা সত্যি খুব অদ্ভুত। হঠাৎ করেই কেউকে ভালো লেগে যায়। তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছা করে। অনেকটা দূরের স্বপ্ন। একসাথে থাকার স্বপ্ন। কিন্তু আমরা আদও জানি না স্বপ্ন গুলো কোনদিন পূরণ হবে কিনা। তমার সাথে আজকের মধুর স্মৃতিগুলো লিখে ফেললাম। আমার প্রিয় পাঠক/পাঠিকারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আমার গল্পের জন্য। তাদের খুশী করতেই ক্লান্তিটাকে ঝেড়ে ফেলে লিখতে লাগলাম।

সকাল ৫.২৯ মিনিট,

কানের ফজরের আযান ভেসে আসছে। লিখতে লিখতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম খেয়াল নেই। যাক অভ্যাসের ন্যায় ঘুমটা ভেঙে গেল ফজরের সময়। আমি মনে করি, একজন মুসলমান হিসেবে অন্তত নামাজটা বাদ দেওয়া উচিৎ না। কারণ এই নামাজ একদিন আপনাকে জানা অজানা অনেক পাপ থেকে বাঁচাবে। তো উঠে আড়মোড়া দিয়ে ওজু করে নামাজ পড়তে চলে গেলাম চাচার সাথে। নামাজ পড়ে বাসায় এসে আবার একটা ঘুম দিলাম। ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নাস্তা খেয়ে চাচা চাচিকে বিদায় দিয়ে রওনা দিলাম ভার্সিটির উদ্দেশ্য। বেশ এক্সাইটেড হয়ে আছি। জীবনের প্রথম পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়বো। না জানি কেমন হবে। তবে একটু ভয় পাচ্ছি র‍্যাগিং এর মতো জঘন্য অপরাধ এর শিকার হই কিনা।

মেইন রোডে এসে ৬ নং বাসে উঠে সোজা ভার্সিটির সামনে গিয়ে নামি। বিশাল বড় বরিশাল ইউনিভার্সিটি। বাহ! গর্বে চোখ ভরে আসছে। এক স্বপ্ন পূরণ হলো। মাকে ফোন দিয়ে দোয়া চেয়ে বিসমিল্লাহ বলে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করলাম। জীবনটা আজ থেকে শুরু। আজ আর বাবা-মার আঙুল ধরে ছোট আবির প্রবেশ করে নি। আজ আবির একাই এসেছে। তবে তাদের দোয়া সাথে নিয়ে।

মেইন গেইট থেকে ভিতরে ঢুকে হাঁটতে হাঁটতে আরও ভিতরে যাচ্ছি। আমার সাথে আরও অনেকেই আসছে। বুঝলাম তারাও নতুন। অনেক ছাত্র ছাত্রী। কিন্তু আমার চোখ খুঁজছে তমাকে। কোথাও পেলাম না। নিজের রোল অনুযায়ী ক্লাসটা খুঁজে বের করলাম। দুতলায় আমার ক্লাস৷ বড় ভাইরা এখানে র‍্যাগিং না করে উল্টো নতুনদের সাহায্য করেছে। বিষয়টা দেখে ভালো লাগলো। ২০৬ নং ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। হ্যাঁ এটাই আমার ক্লাস। ভিতরে ঢুকলাম আল্লাহর নাম নিয়ে। বিশাল বড় ক্লাসরুম আমার। কিন্তু সব কিছু বাদ দিয়ে আমি থমকে যাই। তমা! হ্যাঁ তমাকে দেখতে পাচ্ছি কিছু মেয়ের সাথে কথা বলছে। বলতে বলতে ও হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে অবাক। আমার কাছে এসে বলে,

~ ওয়াও! তুমি আমার রুমে?

– হ্যাঁ। তাইতো দেখলাম।

~ জোস হয়েছে। আসো আমার নতুন বান্ধবীদের সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দি।

– হুম চলো।

~ ফ্রেন্ডস, এই হলো সেই আবির আহমেদ। যার কথা তোমাদের এতোক্ষণ বলছিলাম।

~ ওয়াও। তোমার আইডি দেখলাম। বেশ ভালো গল্প লিখো দেখি। আমরা কি তোমার ফ্রেন্ড হতে পারি?

– হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই। তবে একটা শর্ত আছে।

~ কি? (অবাক হয়ে)

– গল্প পড়ে কমেন্ট করতে হবে আর রিয়েক্ট করতে হবে। নাহলে বন্ধুত্ব করবো না। হাহা।(মজা করে)

তমা আর ওর বান্ধবীরা হেসে দেয়। ওরা বলে,

~ আচ্ছা আচ্ছা করবো।

– তাহলে আমিও তোমাদের ফ্রেন্ড আজ থেকে।

তমা মজা করে বলে উঠে,

~ মিস্টার লেখক আমাকে আবার ভুইলো না।

– না না।

এরপর আমি আর তমা একসাথেই বসি। ওই বসতে চেয়েছে। আমি বাকি ছেলেদের সাথে পরিচিত হতে থাকি। এর মধ্যে স্যার চলে আসেন। স্যার এর সাথে আমরা সবাই পরিচিতি হই। স্যার আমাদের ভার্সিটি সম্পর্কে অনেক কিছু বলেন। আজকে একটা ক্লাসই ছিল। ক্লাস শেষ হলে আমি আর তমা ভার্সিটিটা ঘুরে ঘুরে দেখছি।

– কালতো ওরিয়েন্টেশন। কি পরবে?
~ সারপ্রাইজ। তুমি?
– আমিও সারপ্রাইজ।
~ এই না না। বলো।
– উহুম। তুমি তো বলো নাই। আমি কেন বলবো?

তমা দাঁড়িয়ে যায়। অভিমানী কণ্ঠে বলে,

~ তুমি না বললে আমি আর তোমার গল্পই পড়বো না।

– আচ্ছা বলছি বলছি। রাগ কইরো না। ভাবছি নেভি ব্লু কালারের একটা পাঞ্জাবি আছে ওটা পরবো। কেমন হবে?

~ খুব মানাবে। আমার ফেভারিট কালার।
– হাহা। আমারও। আচ্ছা বলো না তুমি কি পরবে।
~ সারপ্রাইজ তো। কাল দেখো।
– আচ্ছা। বাসায় যাবে না?
~ হ্যাঁ হ্যাঁ। চলো যাই।
– আমার সাথে যাবে? আমিতো ৬ নং বাসে যাবো। তুমি?
~ আমিও তো। ওয়াও। তুমি কয় স্টপ পর নামো?
– আমি তিনটা। তুমি?
~ আমি তোমার আগেরটায়।
– যাক ভালোই হলো। চলো তাহলে।
~ আচ্ছা। শোনো তোমাকে তো ম্যাসেজ দিলাম রিপ্লাই দিলানা। কি ভাব টাব নিছো নাকি?
– ওমা কই? আমি তো দেখিনি। নাম কি তোমার আইডির?
~ এঞ্জেল পরী।

ভাই আমি রীতিমতো হাসতে হাসতে খুন। মিমারদের কথা মনে পড়ে গেল। এঞ্জেল নাম মানেই ফেক আইডি। আমার হাসি দেখে তমা লজ্জাও পায় আবার ভ্রুকুচকে তাকিয়ে আছে। আমি বলি,

– আজই বাসায় গিয়ে প্রিয়তমা নামে আইডির নাম দিবা। ঠিক আছে?

~ আচ্ছা দিব নি। শয়তান একটা। এতো হাসার কি আছে? আমি দেখতে এঞ্জেল এর মতো না?

– আর হাসিও না। মরে যাবো। হাহা। হ্যাঁ তুমি তো পরীর মতোই দেখতে। শুধু ডানা নাই। হিহিহি।

আমার কথা শুনে তমাও হেসে দেয় অনেক। এরপর আমরা এভাবে হাসাহাসি করতে করতে বাসায় চলে আসি। সেদিন টা পরের দিনের প্রস্তুতি নিতে নিতেই চলে যায়। আমি শুধু অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি তমার জন্য। যে ও কি পরবে? রাতে উত্তেজনার কারণে আর তেমন একটা পাকা ঘুম হয়নি।

পরদিন সকালে একদম হিরোর মতো টিপটপ হয়ে চলে যাই ভার্সিটিতে। ঢুকতেই খেয়াল করি অনেক সুন্দরী মেয়ের চোখে পড়েছি। তাদের গুরুত্ব না দিয়ে আমার চঞ্চল চোখ শুধু তমাকে খুঁজছে। ওকে না পেয়ে মন খারাপ করে বন্ধুদের সাথেই কথা বলছিলাম। হঠাৎই কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পাই। ঘুরে তাকিয়ে দেখি…

চলবে…

কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। সাথে থাকবেন সবসময়। ধন্যবাদ।

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles

error: ©গল্পেরশহর ডট কম