প্রিয়তমা পর্বঃ ০৩

প্রিয়তমা পর্বঃ ০৩
লেখকঃ আবির খান

হঠাৎই কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পাই। ঘুরে তাকিয়ে দেখি তমা। আমি যেমন তমাকে দেখে বাকরুদ্ধ ঠিক বাকিরাও। আমি ওকে দেখতে লাগলাম মন দিয়ে। তমাকে যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি। কারণ ও পরে এসেছে, আমার মতই ম্যাচিং করে নেভি ব্লু কালারের শাড়ী, হাত ভর্তি সাদা আর নীল কালারের চুড়ি, কানে দুল আর মিষ্টি গোলাপি ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। আহ! এ যেন সাক্ষাৎ এক অপ্সরা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি অপলক দৃষ্টিতে শুধু ওকে দেখছি। আশেপাশে কে আছে কি নাই সেদিকে আমার কোন হুশ নেই। আমার নয়ন জুড়ে শুধু তমা আর তমা। আজ মনে হচ্ছে শুধু ওকে দেখেই কয়েকটা যুগ এমনিই পার করা যাবে। আমাকে নিশ্চুপ দেখে তমা একটু কাছে এসে বলল,

~ কি তোমার গল্পের নায়কাদের মতো লাগছে তাই না?

আমার ঘোর কাটে ওর কথায়। আস্তে আস্তে ওর মাঝ থেকে সবার মাঝে ফিরে আসি। তবে ওর রেশটা এখনো কাটে নি। আমার বিশ্বাস কখনো কাটবেও না। আমি হাসলাম। একটু স্বাভাবিক ভাবেই বললাম,

– কথা যে একদম ভুল বলেছো তা কিন্তু নয়। আমার গল্পের নায়কাদের চেয়েও অনেক বেশী সুন্দরী লাগছে।

তমা বেশ লজ্জা পায়। আমি আর কিছু বলার আগেই আশপাশ থেকে কিছু মৌমাছি উড়ে এসে জুড়ে বসে। তাঁরা তমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আমি একপাশে দাঁড়িয়ে ওকে দেখছি। আমার খারাপ একটু লাগছে। কিন্তু আবার ভালোও লাগছে। কারণ একটা অবশ্য আছে। সেটা হলো তমা ওদের সাথে কথা বলার মাঝে আমার দিকে বারবার তাকিয়ে বিরক্ত নিয়ে হাসি দিচ্ছে। মানে ওর ভালো লাগছে না ওখানে। আমার দিকে তাকালে আমি আবার ছোট্ট করে একটা হাসি দিচ্ছি। বেশ মজাই লাগছিল। কিন্তু হঠাৎ করে একটা মেয়ে এসে আমার সামনে দাঁড়ায় আর বলে,

~ তুমি আবির তাই না?
– হ্যাঁ। কেন?
~ না এমনিই। আমি ইভা। তোমার ক্লাসেই তোমার সাথে।
– ওহ! খেয়াল করি নি হয়তো।
~ আচ্ছা সমস্যা নেই। আমি কি তোমার বন্ধু হতে পারি? যদি কিছু মনে না করো?
– হ্যাঁ অবশ্যই। আমরাতো ক্লাসমেটই।
~ থ্যাঙ্কিউ। তাহলে আজ থেকে আমরা ফ্রেন্ডস।
– ওকে।
~ তা এখানে দাঁড়িয়ে আছো যে, ক্লাসে যাবে না? একটু পরই তো অরিয়েন্টেশন শুরু হবে।
– হ্যাঁ যাবো। আমি আমার এ….

এরমাঝেই তমা একপ্রকার দৌঁড়ে আসে। আর বলে,

~ কী এতোক্ষণ কী কথা চলছিলো তোমাদের?
– না না। তেমন কিছু না। আমরা বন্ধু হলাম শুধু।
~ ওওও। হাই, আমি তমা। তুমি?
~ আমি ইভা। তোমার ক্লাসেরই।
~ ওহ! হ্যাঁ দেখেছি তো তোমাকে। আচ্ছা পরে কথা হবে। আমরা আসি হ্যাঁ। আবির চলো।

তমা আমাকে ধরে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে আর বলছে,

~ এতো মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে কেন হ্যাঁ? আমি আছি তাতে হয় না বুঝি?

আমি বুঝলাম, মেয়ে মানুষের হিংসা একটু বেশি। যেমনটা তমারও। তাঁরও বোধহয় হিংসা হয়েছে আমি অন্য কারো সাথে কথা বলেছি বলে। আমিও ওকে ক্ষেপানোর জন্য বললাম,

– নিজে যে এতোগুলো ছেলের সাথে কথা বললেন তার কি হবে?

তমা দাঁড়িয়ে যায়। আর ভ্রুকুচকে বলে,

~ মাইর চিনো? আমি কি ইচ্ছা করে কথা বলেছি নাকি। বড় ভাইরা এসেছে কথা বলতে আমি এখন কি করবো বলো?

– না না কিছু করতে হবে না। আচ্ছা সরিইই। তা থেমে গেলে কেন? কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলে?

~ আচ্ছা আসো আমার সাথে।

তমা এরপর ক্যাফেটেরিয়াই গিয়ে দুটো গরম চা নিয়ে একটা নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে আমাকে নিয়ে বসে। আমিতো পুরো অবাক। আমি বললাম,

– ওমা! এটা কি হলো?

~ একটা ইচ্ছা ছিল এভাবে শাড়ী পরে পছন্দের কারো সাথে বসে চা খাবো। তুমি তো আমার পছন্দের লেখক সাহেব। তাই ইচ্ছাটা পূরণ করলাম।

– বাহ! আমি তো ধন্য। বেশ সুন্দর একটা ইচ্ছা।

তমার চায়ের কাপে ফু দিয়ে এক চুমুক খেয়ে বলল,

~ হুম। তোমাকে কিন্তু আজ অনেক সুন্দর লাগছে। একদম মানিয়েছে।

– থ্যাঙ্কিউ। ভালো কথা মনে করেছো। তুমি আমার সাথে ম্যাচিং করে শাড়ী পরলে কেন?

আমি খেয়াল করলাম তমার লাবণ্য মাখা মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। তাও ও লজ্জাসিক্ত হয়ে বলল,

~ এমনিই ইচ্ছা হলো তাই। ভাবলাম তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দি। আর দিয়েওছি বোধহয়। কীরকম হা করে তাকিয়ে ছিলে। হিহি।

এবার আমি কিছুটা লজ্জায় পড়লাম। চায়ের কাপে আরেকবার চুমুক দিয়ে বললাম,

– তাড়াতাড়ি শেষ করো। আর একটু পর অরিয়েন্টেশন শুরু হবে।

~ আচ্ছা। এইতো শেষ। জানো যা মাথাটাই না ধরে ছিল। তোমার সাথে চা খেলাম এখন অনেক ভালো লাগছে।

– আমারও।

এরপর চা শেষ করে আমরা একসাথে অনুষ্ঠানে গেলাম। দীর্ঘ দু’ঘন্টা পর আমরা ফুল আর খাবার হাতে বেরিয়ে আসি। তমার মুড ফুল অফ। বুঝলাম বেশ বোর হয়েছে এতোক্ষণ। আমি চট করে বললাম,

– আমার কি মনে হচ্ছে জানো?
~ কি?
– আমরা এই দু’ঘন্টা বসে ছিলাম এই খাবার আর ফুলের জন্য৷ (মজা করে)
~ যাহ! কি যে বলো না। স্যাররা কতো কিছু বলল। অনেক কিছুই তো জানলাম।
– তাহলে ম্যাম আপনি মুডটা অফ করে আছেন কেন? আপনার মুখে মায়াবী হাসি ছাড়া ভালো লাগে না। একটু হাসেন। নাহলে মুই কাইন্দা দিমু।এএএএ…

তমা আমার অনাকাঙ্ক্ষিত কান্ড দেখে রীতিমতো হাসতে হাসতে বেহাল। আমি মুচকি হাসি দিয়ে ওর হাসি দেখছি। ভালোই লাগছে দেখতে। তমা হাসি একটু থামিয়ে বলে,

~ সত্যিই তোমাকে বন্ধু হিসেবে পাওয়াটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। আচ্ছা খাবে না? চলো খাই।

– নাহ! বাসায় গিয়ে খাবো সবার সাথে। ছোট ভাইটাকে খাওয়াবো। চাচা চাচিও আছে। সবাই মিলে খেলে আলাদা শান্তি পাওয়া যাবে।

তমা আমার দিকে অন্যরকম ভাবে তাকিয়ে আছে। জানি না ও কি ভাবছে মনে মনে। দেখলাম ওর মিষ্টি ঠোঁটের কোণায় হাসির রেখাটা অনেকটা বড় হলো। তমা বলল,

~ এতো ভালো হওয়া ভালো না বুঝলা? মেয়েরাতো প্রেমে পড়ে যাবে। আচ্ছা আমিও তাহলে বাসায় গিয়ে সবাইকে নিয়ে খাবো। চলো বাসার দিকে যাই।

– হুম চলো।

এরপর আমরা বাসে করে বাসায় চলে আসি। বেল দিতেই চাচি দরজা খুলে। আমি ভিতরে ঢুকে বলি,

– চাচি সবাইকে নিয়ে আসেন একটা জিনিস নিয়ে এসেছি।

~ কি আনছো আব্বা? মোরে কবা না?

– বলবো বলবো। আগে চাচা আর রনিকে ডাক দেন খাবার টেবিলে।

~ আচ্ছা আচ্ছা ডাকতাছি। তুমি ফ্রেশ হইয়া আহো।

– আচ্ছা।

আমি দ্রুত ফ্রেশ হয়ে বিরিয়ানিটা নিয়ে এসে চাচিকে বলি,

– নেন চাচি এটা সবাইকে ভাগ করে দেন। রনিকে একটু বেশী করে দিয়েন। ভার্সিটি থেকে দিয়েছে। ভাবলাম আপনাদের সাথে খাবো। তাই নিয়ে আসলাম।

চাচা আর চাচি একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝলাম তারা খুব খুশী হয়েছে। চাচা বলে উঠলেন,

– একদম বাপের মতো হইছে পোলাডা। দেখছো রনির মা পোলাডা কত্তো ভালো। মোগো লইজ্ঞা লইয়া আইছে নিজে না খাইয়া। আব্বা তুই জীবনে সত্যি অনেক বড় হবিইই। যে পোলাডা পরিবার নিয়া ভাবে হে কোন দিন কোন কিছুতে আটকায় না। রনির মা দেও দেও আমার কাছ দিয়া ওরেও বেশী দিও। আবির তুই যে আমগো লাইজ্ঞা আনছোছ হেইয়াই অনেক।

– আরে না না৷ কি যে বলেন না। একা খেয়ে মজা পাইনা। আপনারাই তো এখন আমার সব। বাবা-মার মতো আমাকে ভালবেসে রাখছেন। এটা তো সামান্য।

~ হ আব্বা মোরা কিন্তু তোমার আব্বা আম্মার মতোই। মুই তোমার মতো একটা পোলার স্বপ্ন দেহি। আল্লা জানে মোগো রনি তোমার মতো অইতে পারবে কিনা।

– হবে হবে। এখন ওরে বিরিয়ানিটা দেন। কত আগ্রহ নিয়ে বসে আছে দেখেন।

~ আচ্ছা দিতাসি। দেখছো আব্বা তোমার ভাইয়া তোমার লইজ্ঞা বিরিয়ানি আনছে। ভাইয়ারে একটা থ্যাঙ্কিউ দেও দেহি৷

– ভাইয়া থ্যাঙ্কিউ। মোর লইজ্ঞা আনার জন্য। মুই অনেক খুশী।

আমি এত্তো বরিশালের ভাষা শুনে আর না হাসে পারছি না৷ ভাবছি শেষমেশ শুদ্ধ ভাষায় কথা বলাটা ভুলে যাই কিনা। হাসি দিয়ে রনিকে কাছে টেনে বললাম,

– ভাইয়া মুইও খুশী। হাহা।

এরপর আমরা চারজন মিলে অল্প হলেও তৃপ্তিসহ কারে বিরিয়ানিটা খাই। বেশ মজাই লাগছিল। মনে হচ্ছিলো স্বাদটা আরো বেড়ে গিয়েছে সবার সাথে খাওয়ায়। চাচি আমাকে নিজ হাতে প্রথমে খাইয়ে দিয়েছেন। কেন জানি হঠাৎ চোখটা ভরে আসে। চাচা চোখটা মুছে দিয়ে একটা হাসি দিয়েছেন। সত্যি মনে হলো বাবা-মার সাথেই খাচ্ছি।

রাত ১১.২৫ মিনিট,

সব কিছু শেষ করে একটু এফবিতে ঢুকতেই তমার একগাদা ম্যাসেজ। খুব রেগে আছে। ম্যাসেঞ্জারে ওকে কল দিতেই রিসিফ করলো। কিন্তু কিছু বলছে না। আমি বললাম,

– আচ্ছা সরি। একটু ব্যস্ত ছিলাম। সব কিছু গুছাচ্ছিলাম। তাই একটু লেট হয়ে গেল। সরি।

~ তোমার সাথে আর কথা নাই। কোন মেয়ের সাথে চ্যাট করতে ছিলা সত্যি করে বলো? ওই যে ইভার সাথে?

– ইভা আবার কে?

~ বাহ! কি সুন্দর অভিনয়। এর মধ্যে ভুলে গিয়েছো? তোমার সাথে বন্ধুত্ব করলো যে মেয়েটা।

– ওওও। সত্যি মনে ছিল না। রাগ কইরো। খেয়েছো?

~ না। রাগ হলে আমি খাইনা।

তমার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে আমি ওর বিএফ। বেশ মজাই লাগছে। আমিও বিএফের মতো করে বললাম,

– এটা কি বললে! যাও এখনই খেয়ে এসে আমাকে কল দেও। নাহলে কিন্তু আমিও আর কথা বলবো না৷ না খেলে আমি ইভার সাথে গিয়ে কথা বলবো।

~ না না। যাচ্ছি। জাস্ট ৫ মিনিট সময় দেও।

– আচ্ছা। আস্তে ধীরে খেয়ে আসো। তাড়াহুড়া করো না।

~ ওকেএএ।

তমা খেতে যায়। এদিকে আমি শুয়ে শুয়ে ভাবছি, “তমার আচরণ, হিংসা,আমাকে নিয়ে কৌতূহল সব কিছুই এটার জানান দেয় যে আমি ওর কাছে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ। যেমনটা ও আমার কাছে। আমাদের এই বন্ধুত্ব হয়তো খুব তাড়াতাড়ি ভালবাসায় পরিণত হবে। নাকি শুধু বন্ধুই থেকে যাবো। জানি না কি হবে সামনে।” তমার আসার আগে ম্যাসেজ চেক করছিলাম। চেক করতে গিয়ে দেখি ইভার ২০+ ম্যাসেজ। ম্যাসেজ পড়ে আমি অবাক। রিপ্লাই না দিয়ে আর পারলাম না। সাথে সাথেই রিপ্লাই। এরপর এটা ওটা নিয়ে কথা হতে থাকে। ও আমার অনেক প্রশংসা করছে। এরমধ্যেই তমার কল। রিসিভ করে বলল,

~ খেয়েছি। তুমি খাইছো তো?
– হুম। আচ্ছা তুমি আমার সাথে রাগ করে নিজেকে কষ্ট দিলা কেন?
~ জানি না। রাগ হইছে অনেক।
– এটা ঠিক না। শোনো খাবার হলো আল্লাহর একটা বড় নিয়ামত। খাবারকে অসম্মান করলে আল্লাহ তোমার রিযিক কমিয়ে দিবে। তাই আর কখনো খাবারকে অসম্মান করবা না। সময় মতো খাবার খেয়ে নিবা। ওকে?
~ আচ্ছা। সরি।
– পাগলি একটা। আচ্ছা আরেকটা কথা।
~ হ্যাঁ বলো।
– জানো ইভা সত্যিই ম্যাসেজ দিসে। তাও ২০+। তাই আমি ওকে রিপ্লাই দিয়েছি। নাহলে আমাকে খারাপ ভাবতো।
~ আমাকে বলতেছো কেন?(অভিমানী স্বরে)
– ধরো আমি যদি না বলতাম। কাল সকালে ইভার সাথে দেখা হলে ও তোমাকে বলতো আমার সাথে ওর কথা বলেছে। তখন তুমি তো ভাবতে আমি মিথ্যা বলেছি। আমি খারাপ। তাই আগেই সব ক্লিয়ার করে দিলাম।

আমার কথা শেষ হওয়ার পর তমা হাসছে। ওর হাসি শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। কিন্তু এখন আমার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে যে এই হাসির কারণ কি? আমি তমাকে বললাম,

– একি! তুমি হাসছো যে?
~ তুমি বিএফ হিসেবে অনেক ভালো। তাই একটু হাসি পাচ্ছিলো।
– ওমা! এখানে হাসির কি আছে?
~ নাই। বাট আমি অন্য কারণে হাসছি। আর সেটা বলবো না। হিহি।
– আসলেই একটা পাগলি।
~ হুম তোমার জন্য।
– কি! কি বললা?
~ না না কিছু না। আচ্ছা আমি ঘুমাই। তুমি ইভার সাথে প্রেম করো যাও। হিহি। (মজা করে)
– ওকে।
~ এইইই…ওকে মানে? চুপচাপ ঘুমাবা। অনলাইন যাতে না দেখি।
– আচ্ছা আচ্ছা।
~ কাল থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু। তুমি আর আমি মিলে একসাথে পড়াশোনা করবো। অন্য কোথাও যেও না।
– আচ্ছা যাবো না। এবার তুমি ঘুমাও আমিও ঘুমাই।
~ ওকে।

সেদিনের পর থেকে সময়টা খুব দ্রুত যায়। আজ দুই মাস হয়ে গেল আমি বরিশাল এসেছি। মানে তমার সাথে পরিচয়েরও আজ দুই মাস হলো। তমা এখন আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। ওর কাছেও আমি তাই। ওর সব কিছু আমাকে বলে, আমার সবকিছু ওকে বলি। খুব ভালো ফ্রেন্ডশিপ হয়ে যায় আমাদের। ভার্সিটির সবাই ভাবে আমরা জিএফ বিএফ। এটা নিয়ে আমার আর তমার কোন সমস্যা নেই। আমরা আমাদের মতোই চলি।

এরপর আমাদের মিডটার্ম পরীক্ষা চলে আসে। বাকি সবাই চিন্তিত থাকলেও আমার আর তমার কোন চিন্তাই নেই। কারণ আমরা সময় মতো সব পড়ে রেখেছি। তমা আর আমি ক্যাম্পাসের এক কোণায় ঘাসের উপর বসে আছি। তমা আমার পাশে পড়ছে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। তমা পড়তে পড়তে আমার চোখে চোখ রাখতেই আমি অন্য দিকে তাকাই। ও বলে উঠে,

~ তোমার এই স্বভাবটা আর গেল না তাইনা? খালি আমার দিকে তাকিয়ে থাকো।

– মজা লাগে। এতো সুন্দর সুবাসিত একটা গোলাপ ফুল না দেখে না ঘ্রাণ নিয়ে থাকা যায় বলো?

~ ওরে আমার সাহিত্যিক বাবুরে। কতো রঙ তার মনে। এখন পড়ায় মন দেন তো।

– আচ্ছা আমরা তো ফ্রেন্ড। সেইম এইজেরই। তুমি আমাকে তুই করে বলো না কেন?

তমা ঠাস করে পড়া থামিয়ে ভ্রুকুচকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমিতো ভয়ই পেয়ে যাই। ও গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে,

– তুমি মানুষের কথায় কান দিচ্ছো? শোনো আমার যেটা ভালো লাগে আমি তাই ই করি। সো এগুলো প্রশ্ন করবানা। মনে থাকে যেন।

আমি তমার ধমক খেয়ে পড়ায় মন দি। ওর দিকে আর তাকাই না। কিছুক্ষণ পর ও আমাকে বলে উঠে,

~ একেবারেও তাকাতে না করি নাই। একটু পর পর তাকাবা। হিহি।

– না আমি তাকাবো না। তুমি আমার মতো ছোট্ট বাবুটাকে বকা দিসো। আমি অনেক কত্তো পাইতিইই। কতা নাই তোমার তাতে। আলিইইই। (রসিকতা করে)

তমার আমার এরকম কথা শুনে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আমি মুচকি হেসে শুধু ওকে দেখছি। ও আমার বাম হাতটা জড়িয়ে ধরে বলে,

~ তুমি না থাকলে এই ভার্সিটি জীবনটা পানসে হয়ে যেত। তুমি আমার জীবনের রঙ। যে রঙে রঙিন হই আমি বারবার।

– আর তুমি আমার জীবনের হাসি। যখন তুমি হাসো আমি সব ভুলে তোমায় শুধু ভালবাস….

আমি নিজের মুখ চেপে ধরি। আবেগের ঠেলায় সব বলে দিতেছিলাম। হায়! হায়! তমা চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি দৌঁড়ে যেতে নিলে ও আমাকে রীতিমতো ঝাপটে ধরে আর বলে,

চলবে..

কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। সাথে থাকবেন সবসময়। ধন্যবাদ।

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

Related Articles

Latest Articles

error: ©গল্পেরশহর ডট কম