প্রেমচতুর্দশী পর্ব -০৫+৬

0
67

#প্রেমচতুর্দশী💛
[পর্ব-৫]

~|15`|
অনেকক্ষণ আগেই বাড়িতে চলে আসছে অহমিরা।রিথি আর রিশমি দুজনে মিলে স্টাডি করছে।অহমি আর নিরা দুজনে মিলে বাগানে বসে গল্প করছে।

– ম্যাম আর যাই বলুন না কেনো রিশমির আজ ভালোই শিক্ষা হয়েছে আর মনে হয়না ইজুমি রেস্টুরেন্টের আশেপাশে ঘেষঁবে।(হাসতে হাসতে)
অহমি নিরার কথা শুনে প্রতিবারের মতো ছোট্ট করে মুচকি হাসলো।

– আচ্ছা নিরা সোহাগ কি আর বিডিতে ফিরবে না,,?(মুচকি হেসে)
মুহুর্তেই মুখ কালো করে নিলো নিরা।সোহাগ যে আর কখনোই ফিরবে না ওর কাছে বিডিতে সেটা ২ বছর আগেই সাফ সাফ বলে দিয়েছে সোহাগ।
নিরা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে মাথা নিচু করে বলে উঠলো।

– ফিরবে ম্যাম এইতো আর কিছুদিন পরই ফিরবে আমার কাছে,রিথির কাছে।(দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে মুচকি হেসে)
কথার প্রসঙ্গেই নিরা কৌশলে বলে উঠলো।

– আচ্ছা ম্যাম আর কতদিন রিশমিকে মিথ্যা বলবেন?আর কতদিন ওকে মিথ্যা বলে যাবেন যে ওর বাবা নেই আকাশের স্টার হয়ে গেছে।আসলে আমি জানি ম্যাম রিশমির বাবা বেচেঁ আছে।আর আমি‌এও জানি যে রিশমির পাপা কে?সেহরিশ চৌধুরী তাইনা( করুন চোখে অহমির চোখের দিকে তাকিয়ে)

নিরার কথা শুনে যেনো অহমি চমকে উঠলো।হার্টবিট দ্রুত ছুটতে লাগলো।অহমির নিশ্বাস ভারী হয়ে যেতে লাগলো ক্ষণে ক্ষণে নিশ্বাস ফেলছে অহমি।অহমির ব্যাকুলতা দেখে আবারো মিঠে হাসলো নিরা।
মাথা নিচু করে সেও গভীর নিশ্বাস ছাড়লো।অহমি যতই‌ ওকে এসব কথা না বলুক নিরার ধারনাতেই সব প্রকাশ পেয়েছে সে।

– ম্যাম আপনি ভাবছেন আমি এসব কি করে জানি আমি আপনার ল্যাগেজ গোছানোত সময় একটা ডায়েরী আর কিছু ছবি পেয়েছি যেটাতে আপনার আর স্যারের কিছু মুহুর্তের ছবি ছিলো,,!!আর তখন আমি ব্যাপরটা এতই স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারেনি বাট সেদিন অপারেশন থিয়েটারে যখন ডক্টর আহসান স্যারের অপারেশন করছিলো তখন আপনি এক কোনায় দাড়িয়ে ছিলেন আপনার চোখ মুখ আর স্যারকে দেখেই আমি ব্যাপরটা বুঝতে পেরেছিলাম,,(মাথা নিচু করে)

অহমি মাথা নিচু করে বসে আছে।আর চোখ থেকে টুপটুপ পানির বর্ষন হচ্ছে।নিরা আবারো গভীর শ্বাস আবারো বলে উঠলো।

– ম্যাম আপনি ভুল করেছেন গত ৭ বছর ধরে আপনি সত্যিটা যাচাই করতে পারতেন শুধু শুধু কাউকে একটা মেসেজের উপর বিশ্বাস করে ভুল বুঝাটা আসলেই ভিত্তিহীন।আর গত ৭ বছর ধরে রিশমির বাবা থেকেও সে বাবা নামক লোকটার ভালোবাসা পায়নি কেবল আপনার জন্য।আপনি ভুল করছেন ম্যাম রিশমির জীবনের থেকে ওর পাপার ছায়া আপনি চাইলেও মুছতে পারেন না ম্যাম এটা বড্ড বেমানান এখনো সময় আছে রিশমিকে সব বলে দিন ওকে ওর পাপার সাথে থাকতে দিন!!আমি চাইনা যে রিশমিও রিথির মতো‌ওর পাপার আদর না পাক(গভীর শ্বাস নিয়ে)

অহমির আর নিরার সামনে বসার শক্তি হলো না চুপ করে উঠে বাড়িতে ভেতরে ডুকে যেতে লাগলো।
অহমির পালিয়া যাওয়া থেকে মুচকি হাসলো নিরা।

– আপনি চাইলেও সত্য থেকে পালাতে পারবেন না ম্যাম কারন নিয়তি যে সব লিখে রেখেছে,,??(মুচকি হেসে)
নিরাও বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।

~|16`|

– মাম্মা এই আংকেলটা তোমার সাথে কি করছে,,! আর এইটাই বা কি!(ভাবুক কন্ঠে)

রিশমি হাতে অহমির ডায়েরীটা আর সেহরিশ আর অহমির কিছু ছবি নিয়ে দাড়িয়ে আছে সেগুলোর দিকে তাকিয়ে। অহমিকর রুমে প্রবেশ করতে দেখে রিশমি গরগর করে কথাটা বলে দিলো।
রিশমির কথায় থমকে দাড়ায় অহমি।ভ্রু কুচকে রিশমির দিকে তাকায়।সাথে পুরো রুমে একবার চোখ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে।
দেখে পুরো রুম ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাপড়-চোপড়ে।
অহমির চোখ বড় বড় হয়ে যায় রিশমির হাতে সেহরিশ আর তার ছবি সাথে সেই ডায়েরীটা যেই ডায়েরীর প্রতিটা পাতায় সেহরিশকে নিয়ে লেখা যা গত বেশ কিছু কয়েক বছর ধরে সে লিখেছিলো।
নিজের লুকানো ভালোবাসাকে একটু একটু ফুটিয়ে তুলেছিলো এই ডায়েরীতে।

অহমি আর পারলো না ফুপিয়র ফুপিয়ে কান্না করে দিলো।এদিকে মায়ের হঠাৎ এভাবে কেদেঁ উঠায় রুমে থাকা রিথি সহ রিশমি দুজনেই বিস্ময়কর চোখে অহমির দিকে তাকিয়ে আছে।

– মাম্মা তোমার কি হয়েছে তুমি কাদঁছো কেনো,,?দেখো আমি রুম গুছিয়ে দিচ্ছি তাও তুমি কান্না করো না।এই রিথি মাম্মা কান্না করছে চলনা রুমটা দুজনে মিলে গুছিয়ে নেই হয়তো মাম্মা এটার জন্য কান্না করছে।(কাদো কাদো গলায়)

রিথি কাচুমাচু হয়ে এসে রিশমির পাশে দাড়ায়।অহমি হাজারো চেস্টা করে আজ চোখের পানি লুকাতে পারেনা। আজ কতগুলো দিন পর আবারো সেই একই ভাবে কাদঁছে অহমি যেই কান্নাটাকে ৫ বছর আগে বিসর্জন দিয়েছিলো সে।

রিশমি আর পারলো না মায়ের কান্না দেখে কান্না করে দিলো।সাথে রিথিও কান্না করে দিলো।
এদিকে উপরে প্রচন্ড কান্নার শব্দ শুনে হন্তদন্ত হয়ে উপরে ছুটে আসলো নিরা।এসে দেখলো রিথি,রিশমি সাথে অহমি কান্না করছে।রিশমির পায়ের নিচে সেহরিশ,অহমির কিছু ফটো আর সেই পুরনো ডায়েরীটা পড়ে আছে।
নিরা বেশ ভালোই বুঝতে পারলো অহমি কেনো কান্না করছে।

অহমির কান্না দেখে গভীর নিশ্বাস ছাড়লো নিরা।অহমির কাছে গিয়ে অহমি কাধেঁ হাত দিলো।কাধেঁ কারো ছোঁয়া পেতেই তার দিকে তাকালো অহমি দেখলো নিরা।নিরাকে দেখতেই কস্টরা জেনো আরও দলা পাকিয়ে এলো।নিরাকে জরিয়ে কান্না করতে লাগলো অহমি।
আর নিরা অহমির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।

– ম্যাম আম নিজেকে সামলান দেখেন তো আপনার জন্য না বুঝে বাচ্চাটা দুটোও‌ কান্না করছে!!(অহমির মাথায় হাত বুলিয়ে)

অহমি থামলো না।কিছুক্ষণ এভাবে যাওয়ার পর অহমি কান্নার বেগ কমিয়ে নিলো।
এরপর নিরাকে ছেড়ে রিশমির কাছে গেলো আর রিশমির গাল ধরে বলে উঠলো।

– লুক এট মি রিশমি বাবুই।(বলেই ফ্লোর থেকে তার আর সেহরিশ কিছু ছবি ওঠালো)

– লুক রিশমি বাবুই দেখো এটা তোমার পাপা আর তোমার পাপা আকাশের স্টার হয়নি আমাদের কাছেই আছে তোমার পাপা,,??(নাক টেনে)

রিশমির কান্না অটোমেটিকলি অফ হয়ে যায়।পাপার কথা শুনে মুহুর্তেই ‌রিশমির চোখ উজ্জল হয়ে উঠে।
জোরে নাক টেনে উঠে।তা দেখে অহমি আবারো বলে।

– তুমি কি তোমার পাপার কাছে যেতে চাও,,??

রিশমি চোখ বড় বড় করে হা করে বলে উঠে।
– আবার পাপা সত্যিই বেচেঁ আছে স্টার হয়নি।

অহমি মাথা নাড়ায় যার মানে নাহ্।রিশমি খুশিতে অহমির গলা জড়িয়ে বলে উঠে।

– মাম্মা আমি পাপাইয়ের কাছে যাবো প্লিজ আমায় নিয়ে চলো,,??(আদুরে গলায়)

অহমি মুচকি হেসে রিশমিকে জড়িয়ে ধরে।এদিকে নিরাও আজ খুশি হয়েছে।নিরা রিথির দিকে তাকালো দেখলো রিথি মন বিষন্ন করে রিশমি আর অহমির দিকে তাকিয়ে আছে।
কোথাও না কোথাও রিথি পাপা শব্দের অর্থ বোঝে।
সোহাগের কথা মনে পড়তে চোখ থেকে এক ফোঁটা পানির বর্ষন হয় নিরা।কিন্তু তা পরম যত্ন সহকারে মুছে নেয়।আর রিথির কাছে গিয়ে ওকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে।রিথিও মায়ের জড়ানো দেখে মাকে জড়িয়ে ধরে।

~|17`|

– এই বাবু তুমি কেগো কোথা থেকে এসেছো??(ভ্রু কুচকে বলে উঠলো পৃথা)
পৃথার কথা শুনে সামনে দরজায় দাড়িয়ে থাকা পুচকি মেয়েটার দিকে তাকালেন মিসেস তরা আর মিসেস নিতু সাথে মি.আজমীন আর মি.ইমরান।
এত্তক্ষণ সবাই ড্রয়িংরুমেই উপস্থিত ছিলেন সবাই।হঠাৎ গাড়ির হর্নের শব্দে আর পৃথা কথা শুনে সামনে তাকালেন ওনারা।

– তুমি কে বাবু,,?(মিসেস তরা)

রিশমি সবার কথা শুনে খানিকটা বিচলিত হলো সাথে একটু ভয় পেলো।এই প্রথম মাম্মাকে সাথে না নিয়ে এইরকম একলা আসলো সে।

– আমি রিশমি আমার মাম্মা বলেছে এই বাড়িতে নাকি আমার পাপা থাকে,,!!আমার পাপা কোথায়।(করুন চোখে)

রিশমির কথা শুনে মিসেস নিতু আর মি. আজমীন অবাকের সাথে রিশমির দিকে তাকিয়ে রইলো।
#প্রেমচতুর্দশী💛
[বোনাস পর্ব]

~|18`|

– পাপা,!!
সবেমাত্র বাড়িতে প্রবেশ করেছিলো সেহরিশ।মন মেজাজ একটুও ভালো ছিলো না তার।সারাটা দিন হেলায় ফেলায় কেটেছে তার।সব কেমন অগোছালো ভাবেই সময়টা কেটে গিয়েছে তা বুঝতেই পারেনি সেহরিশ।অগোছালো ভাবে মাথা নিচু করে বাড়িতে প্রবেশ করতেই কারো মিহি কন্ঠের পাপা ডাক শুনে থেমে যায় সেহরিশ।
মাথা তুলে সামনে তাকাতেই ভ্রু কুচকে আসে তার।
কারন তার সামনে রিশমি তার দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে।
সেহরিশ রিশমির দিকে তাকাতেই রিশমি দৌড় দিয়ে সেহরিশের কাছে চলে আসে।আর সেহরিশের হাত ধরে বলে।
– পাপাই তুমি এসেছো!(মিহি কন্ঠে)

মুহুর্তেই সেহরিশের মনে একটা শীতল পরশ ছেয়েঁ গেলো।বাচ্চাটার মুখে পাপা কথাটা শুনতেই সেহরিশের সারা শরীরে এক ফালি ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেলো।
সেহরিশ এসব তোয়াক্কা না করে ভ্রু কুচকে বলে উঠলো।

– তুমি কে বাবু,,??(ভ্রু কুচকে)
রিশমি কিছু না বলে সেহরিশের গলা জড়িয়ে ধরলো।আর মিটমিট করে হেসে উঠলো।আজ কতদিন পর বাবা নামক এক ব্যাক্তির ছোঁয়া পাচ্ছে রিশমি।
সেহরিশকে গলা জরিয়ে ধরে মনে মনে বলে উঠলো।

– ইয়াহু আমারো এখন পাপা আছে।(মনে মনে বলল রিশমি)

– আব আসতে পারি!
সেহরিশ সহ বাড়ির সকলে দরজার দিকে তাকালো। দেখলো একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।

– আপনি কে আর এই বাচ্চাটাই বা কে!যে আমাকে পাপা বলে সম্মোধন করছে?(ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করলো সেহরিশ)

সেহরিশের কথা শুনে মুচকি হেসে ভেতরে ডুকলো নিরা।এরপর রিশমিকে ইশারায় ডাকলো রিশমি সেহরিশকে ছেড়ে দৌড়ে নিরার কাছে গেলো।

– আ ও হলো রিশমি! আর ও আপনারই সন্তান মি. সেহরিশ!

নিরার কথা শুনে বিদ্যুতের গতিতে চমকালো সেহরিশ।ভ্রু কুচকে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো।

– আপনি মিথ্যা বলছেন!
নিরা মুচকি হাসলো এবং সাইড ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করলো আর একটা ভিডিও অন করলো।এবং ফোনটা সেহরিশের হাতে দিলো।

–“প্রিয় সেহরিশ,,আপনি নিশ্চয় ভাবছেন এতবছর পর একটা বাচ্চা মেয়ে আপনাকে এসে পাপা বলে সম্মোধন করছে।আর সামনে থাকা মেয়েটাএ বলছে এটা আপনার মেয়ে হ্যাঁ আসলেই রিশমি আপনার মেয়ে।আমাদের মাঝে যতই ভালোবাসা থাকুক না কেনো স্বামি-স্ত্রীর ভালোবাসাটা নিশ্চয়ই ছিলো।এই সেই ভালোবাসার চিহ্ন হলো রিশমি।আপনি ভাবছেন আমি কেনো সামনাসামনি আপনার সামনে এইসব বলিনি কেনো কোন মুখে বলতাম আপনাকে ভুল বুঝে এত বছর নিজেকেও কস্ট দিয়েছি সাথে আপনাদের সবাইকে কস্ট দিয়েছি।রিশমিকে ওর পাপার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি এর জন্য আমি দুঃখীত ভিষণ ভাবে দুঃখীত,,রিশমি আপনাকে খুব ভালোবাসে ওর পাপার আদর পেতে চায় যার দরুন ও আমার থেকে দূরে থাকতেও রাজি।
অবশেষে একটাই কথা বলবো আমার জন্য আর দুঃখ পাবেন না খুশী থাকবেন সবসময় রিশমির সাথে।ধন্যবাদ আমার কথাগুলো মন দিয়ে শোনার জন্য।

ব্যাস ভিডিও শেষ।ভিডিওতে অহমিত প্রত্যকটা কথা মন দিয়ে শুনেছে সেহরিশ।অহমির সব কথা শুনে চোখেত কার্নিশ বেয়ে আপনাআপনি পানি গড়াতে লাগলো সেহরিশের।
বাম হাত দিয়ে চোখের কোণের পানি মুছে নিলো।তবুও যেনো অবাধ্য জল গুলো দমে থাকতে পারছে না।
সেহরিশ রিশমিকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো।রিশমিও আপন যত্ন তার পাপাকে জড়িয়ে ধরলো।নিরা মুচকি হেসে বলে উঠলো।

– আমার দায়িত্ব শেষ ম্যাম!(বলেই নিরা পিছন ফিরে চলে যেতে লাগলো)

সেহরিশ রিশমিকে কোলে করে নিয়ে সবার দিকে ফিরে তাকালো।

– মা,বাবা ও আমার মেয়ে অহমি আর আমার ভালোবাসার চিহ্ন,!!আমি ফিরে পেয়েছি আমার ভালোবাসাকে হ্যাঁ আমি ফিরে পেয়েছি আমার কলিজাকে।(বলেই রিশমির কপালে একটা চুমু খেলো সেহরিশ)

~|19`|

চেয়ারের সাথে বেধেঁ রাখা হয়েছে অহমিকে।মুখ টেপ মারা।অহমি নিজেকে বাচাঁনোর চেস্টা না করে চুপচাপ বসে আছে।
হয়তো মৃত্যুর সন্নিকটে যেতে চাচ্ছে।অহমির সামনেই দুই চেয়ারে বসে আছে অর্ণা আর ইফাজ।
ইফাজের মুখে সয়তানী হাসি আর অর্ণা রাগে ফোস ফোস করছে।আজ এই মেয়েটার জন্য তাদের মা বাবা তাদেরকে ত্যাজ্য করেছে।
বাড়ি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে।
অর্ণা রাগে উঠে অহমির কাছে গিয়ে সজোড়ে অহমির গালে একটা চড় মারলো।আর রাগে ফোস ফোস করে বলে উঠলো।

– ইডিয়েট গার্ল শুধু তোর জন্য এত বছরেও সেহরিশকে নিজের দিকে করতে পারলাম না আর না পারলাম বাড়ির মালিক হতে,,??কাকা তো তোর নামে পুরো সম্পত্তি লিখে বসে আছে আর আমার বাবার যেকুটু ছিলো তাও হাত ছাড়া হয়ে গেছে তোর এই সেহরিশের জন্য!বাবা মা আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে শুধু মাত্র তোর আর তোর সেহরিশের জন্য।
(রাগে ফোস ফোস করতে করতে বলল অর্ণা)

অহমিকে অর্ণা জোড়ে চড় দেওয়াতে ইফাজ খানিকটা রেগে অর্ণাকে বলে উঠলো।

– অর্ণা ওকে মারছিস কেনো! ভুলে গেছিস ওকে এখানে এনেছি কেনো!ওর সব সম্পত্তি আমাদের নামে + ওকে আমার বউ আর তোর ভাবি করতে ওকে এখানে এনেছি নেক্সট টাইমে যেনো তোর এই কাজটা রিপিট না হয়(রাগে)

ইফাজের কথা শুনে অর্ণা ইফাজের দিকে রাগে তাকালো এরপর ইফাজকে ধাক্কা দিয়ে বলল।

– তুই তো সব সম্পত্তি পাওয়ার পর নিজের নামে করে নিবি আমাকে একচুলও দিবি না সাথে এই মেয়েকেও নিজের করবি নিজের লাইফটাকে সেট করেনিবি আর বদলে আমি আমি কি করবো,,(ইফাজের চোখে চোখ রেখে)
অর্ণার কথা শুনে ইফাজ ভ্রু কুচকে বলে উঠে।

– আমরা কি এখানে ঝগড়া করতে আসছি!আর সম্পত্তির ভাগ কি আমি একলা নিবো নাকি তোকে না দিয়ে,,!!অবশ্য তোর মন কালো সব সম্পত্তি তুই পেলে আমাকে এক চুলও দিবি না তা নিয়ে আমি নিশ্চিত তাইতো অর্ধেকের বেশি ভাগ আমি নিবো আর বাকিটুকু তোকে দিবো। আর যদি তোর মন্জুর না থাকে তাহলে চলে যা(ভ্রু কুচকে)

অর্ণা ইফাজের কথা শুনে বুঝে যায় যে যদি ইফাজ সব পায় তাহলে তাকে কিছুই দিবে না।আর যদি কিছু না পায় তাহলে তাকে বারবার ইফাজের পায়ে পড়তে হবে হাত জোড় করতে হবে যা অর্ণা কখনোই করতে চায়না।

এদিকে নিশ্চুয় হয়ে ইফাজ আর অর্ণার দিকে স্থির দৃষ্টি দিয়ে চুপ করে আছে অহমি।এখন ওর বোধগম্য হচ্ছে না কি হতে পারে।
এদিকে অর্ণা ইফাজের থেকে এক টান দিয়ে সম্পত্তির পেপার’স গুলো নিয়ে নিলো যাতে অহমির সাইন করার কথা।
পেপার’স গুলো হাতে নিয়ে অর্ণা সয়তানী হাসি দিয়ে বলে উঠে।

– সম্পত্তির একভাগও আমি তোকে দিবো না ইফাজ।কারন আমি ভালো করেই জানি তুই কখনোই আমাকে কিছু দিবি না আর আমাকে কি ভেবেছিস বারবার তোর হাত ধরবো,পা ধরবো তেমন মেয়ে আমি নই ইফাজ!!এই সব সম্পত্তি তো আমারই হবে কিন্তু তার আগে তোকে সড়াতে হবে।(সয়তানী হেসে)

ইফাজ অর্ণাকে দেখে অবাকের শেষ পর্যায়ে চকে গেছে।এতদিন বোন নামে যাকে চিনতে সেই আজ এই‌ রূপ ধারন করেছে।

~|20`|

সম্পত্তির পেপার’স গুলো নিয়ে হাতাহাতি করতে করতে এক পর্যায়ে অর্ণা ছাদের শেষ প্রান্তে চলে যায় কিছুক্ষন আগেই‌ এক ধাপ বৃষ্টি হয়েছিলো সব জায়গা পিচ্ছিল হয়ে ছিলো।
আর তারউপর বিল্ডিংটার কাজও চলছিলো।
ছাদের উপর অনেক জায়গায় বস্তায় বস্তায় মাটি,সিমেন্ট,বালু রাখা ছিলো।
অর্ণা যেই জায়গায় দাড়ালো সেখানেই কিছু মাটি আর বালু পড়েছিলো অর্ণা পা মাটির মধ্যে পিছলিয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যেতে নেই নিজেকে বাচাঁনোর জন্য অর্ণা নিজেও ইফাজের শার্ট খামচে ধরে।
ফল বাবদ ইফাজ আর অর্ণা দুজনেই পড়ে যায় ছাদ থেকে।
এত উপর থেকে পড়ার কারণে মৃত্যু ঘটে ইফাজ আর অর্ণা’র।

“”অতি লোভে তাতিঁ মরে””

কথাটা ভিষন করে মনে পড়ছে অহমির।সম্পত্তির লোভে দুজন দুজনকে নিয়েই মারা গেলো।
এসব দেখে অহমির চারপাশ অন্ধকার হতে লাগলো।কিছুই ঠিক মতো দেখতে পাচ্ছে না অহমি চারদিক কেমন ধোঁয়া ধোঁয়া লাগছে তার কাছে।
আর চোখ মেলে রাখা সম্ভব হয়নি অহমি।পরম যত্নসহকারে চোখ বন্ধ করে নিলো অহমি।

চলবে,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here