প্রেম এসেছিলো নীরবে পর্ব -১৪

0
65

#প্রেম_এসেছিলো_নীরবে(১৪)
#সাদিয়া_জাহান_উম্মি
ড্রয়িংরুমে বসে আছে সবাই।আনন্দে চারপাশ মুখরিত।হিয়া আর আরাফ এর বিয়ে ঠিক হয়েছে আজ থেকে দশদিন পর শুক্রবারে।হিয়ার ইচ্ছে তারা ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করবে।তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেন্টমার্টিন যাবে বিয়ের জন্যে সবাই।সকালের মাজে এইজন্যে চাপা উত্তেজনা।সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে ও।কিন্তু কোন এক কারনে সে তার খুশিটা প্রকাশ করতে পারে না।কারন ও কোন জিনিস নিয়ে অতিরিক্ত খুশি প্রকাশ করলে সেটা ওর কপালে সয় না।অর্থ গম্ভীর মুখ করে বসে প্রাহির দিকে একধ্যানে তাকিয়ে আছে।আরাফ তাই খোঁচা মেরে বললো,

-” ভাই বিয়ে তো আমার। আমি তাকিয়ে থাকবো আমার বউয়ের দিকে। তুই কি দেখিস এতো?”

অর্থ তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকালো আরাফের দিকে।বললো,

-” তো?তুই দেখ না তোর বউকে আমি মানা করেছি,?তুই আমার দেখাদেখি নিয়ে এতো হাইপার হচ্ছিস কেন?সি ইজ মাইন ওকে?আমি চব্বিশ ঘন্টা ওর দিকে তাকিয়ে থাকবো।কি করবি তুই?বেশি কথা বললে তোর বিয়ে ক্যান্সাল!”

আরাফ শুকনো ঢোক গিললো।মুখে জোড়পূর্বক হাসি টেনে বলে,

-” না,না আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম।তুই বললে এক্ষুনি তোর বিয়ে প্রাহির সাথে দিয়ে দেই।”

অর্থ এমনভাবে আরাফের দিকে তাকালো।যার দৃষ্টির অর্থ,’ হ্যা এক্ষুনি বিয়ে দিয়ে দে না দোস্ত।’মুখে বললো,

-” তুই যদি এই কাজ করতে পারিস।আমি নিজেও তোর বিয়ে কাল দিয়ে দিবো।”

আরাফ খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলে,

-” সত্যি?চল আজ তোকে আর প্রাহিকে বিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হবো আমি।চল দোস্ত।এতো সুন্দর সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।”

হিয়া আর প্রাহি দুউ বন্ধুর এমন সব কথা শুনে পারেনা মাটি ফাক করে তার ভীতরে ডুকে যেতে।কিসব বলছে এরা?প্রাহির কান গরম হয়ে হিয়েছে এসব শুনে।ও আর একমুহূর্ত অপেক্ষা না করে ছুটলো।হেনা আর রায়হানা বেগমের কাছে।
এদিকে হেমন্ত চেচিঁয়ে ওকে ডাকলেও ও দাঁড়ায় না।হেমন্ত হাসতে হাসতে আঁড়চোখে ইশা’র দিকে তাকালো।মেয়েটা মুখ কাচুমাচু করে একেবারে হিয়ার সাথে লেগে বসে আছে।হেমন্ত দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।ও যে কবে বিয়ে করতে পারবে। ইস,ভাইটাও না এমন মেয়ে ভালোবাসলো যার এখনো হাটু সমান বয়স।কি করবে যে ও।একটু প্রেমও করতে পারছে না বেচারা।ইশাকে আই লাভ ইউ বললে দেখা যাবে এই মেয়ে আর জীবনেও তার মুখদর্শন হেমন্তকে করাবে না।বিরক্তিতে হেমন্ত’র শরীর রি রি করছে।এদিকে হিয়া তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে আরাফের দিকে তাকিয়ে ইশাকে নিয়ে সেও মায়ের কাছে চলে গেলো।

অর্থ এইবার বিরাট গম্ভীর স্বরে বললো,

-” হেমন্ত কি মনে করিস?মেয়ের আগেই কি কেসটা সল্ফ করে ফেলবো!”

হেমন্ত চিন্তিত স্বরে বলে,

-” আমি তো শুধু এটা ভাবছি প্রাহি কিভাবে সব মেনে নিবে।সি কান্ট টলারেট ভাই।ছোট থাকতে বুজেনি।কিন্তু এইবার ওকে সামলানো দায় হয়ে পড়বে যখন জানবে ওর খালামুনি আর আংকেল এক্সিডেন্টে মরেনি।উনাদের খুন করা হয়েছে।”

আরাফ বললো,

-” কিন্তু তার আগে স্বয়ং মেইন কাল্প্রিট এর মুখ থেকে সত্যি বাহির করতে হবে।”

অর্থ ভ্রু-কুচকে বললো,

-” সেটা বড় কথা না।ওটা কোন ব্যাপার না।বাট আমার টেন্সন হচ্ছে প্রাহির সেফটি নিয়ে।আর দু মাস পর প্রাহির বার্থডে।ওর বয়স সতেরো হবে।এর মানে ওর লাইফ রিস্ক আগে ফিফটি পার্সেন্ট ছিলো আর এখন পুরো হান্ড্রেন্ট পার্সেন্ট হবে।প্রাহিকে অনেক সাবধানে রাখা লাগবে।বাড়িতে সিকুরিটি গার্ডের সংখ্যা বারিয়ে দেওয়া লাগবে।আর হ্যা সেন্টমের্টিন গেলেও প্রচুর সাবধানতা অবলম্বন করা লাগবে।”

হেমন্ত বললো,

-” হ্যা ভাই তুমি ঠিক বলছো।তবে প্রাহির নামের যে সম্পত্তিগুলো আছে।সেগুলোর দলিল কালেক্ট করা হয়েছে।”

অর্থ হঠাৎ রেগে গিয়ে বললো,

-” বাস্টার্ডগুলো দিতে চাইছিলো না।পরে এমন থ্রেড দিয়েছি।সুরসুর করে বাহির করে দিয়েছে।”

হেমন্ত হালকা চিল্লানোর মতন বলে,

-” একটা মানুষ কতোটা খারাপ হলে এই কাজ করতে পারে।নিজের আপন বোন আর বোনের জামাইকে খুন করতে পারে।জঘন্য।”

অর্থ গম্ভীর স্বরে বললো,

-” তারা আসল প্লেয়ার না।খেলাটার নাটোর গুরু কে আমাদের সেটা বাহির কর‍তে হবে।”

আরাফ বললো,

-” কিন্তু তারা দুজন তো স্বিকারই করছে না।সেই ব্যাক্তির কথা।”

অর্থ হালকা আওয়াজে বললো,

-” আই থিংক তারা সত্যি কথাই বলছে।”

হেমন্ত চেচিঁয়ে উঠলো,

-“হোয়াট?”

-” হ্যা! আপাততো এসব কথা রাখ।এসব কথা এখানে আলোচনা করাটাও রিস্ক।কারো কানে এই কথা গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।”

হেমন্ত, আরাফ আর অর্থ মিলে এই কয়দিন প্রচুর পরিমানে প্রাহির মা,আর বাবার কেস নিয়ে ইনভেস্টিকেশন করছে।আরাফ যেহেতু একজন সিআইডি অফিসার তাই ওদের কাজটা অনেকটা সহজ হয়ে উঠেছে।প্রাহির মামা আর মামি এখন ওদের আন্ডারে।তাদের থেকেই জানতে পেরেছে প্রাহির মা বাবাকে তারা খুন করেছে।তবে তাদের প্রধান শত্রুকে এখনো ধরতে পারেনি।ওরা এখন তাকে খোজার জন্যেই উঠে পরে লেগেছে।

—–
ডায়নিং টেবিলে রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।আজ আরাফের ফ্যামিলি খাওয়া দাওয়া করেই যাবে।হিয়াজ,হিয়ান্ত আর আরাফের বাবা আর কাকা ছাদে গিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন।
আরাফের মা আর কাকি, হেনা এবং রায়হানার সাথে কথা বলছেন আর হিয়া এবং প্রাহির সাথে খাবার এনে টেবিলে রাখছেন।
প্রাহি মুখটা কাচুমাচু করে রেখেছে কারন আরাফের কাকি এখানে আসার পর থেকেই তীক্ষ্ম চোখে ওকে পর্যবেক্ষন করে যাচ্ছেন।যখন থেকে শুনেছে প্রাহিকে নাকি অর্থ ভালোবাসে।আর ভবিষ্যতে সিকদার বাড়ির বড় বউ হবে প্রাহি।এটা জানার পর থেকে উনি পারেনা রিতিমতো প্রাহিকে গিলে খেয়ে ফেলতে।আরাফের সাথে অর্থ’র বন্ধুত্ব তো আছেই।যবে থেকে অর্থ প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে।উনার একটাই ইচ্ছা উনি তার মেয়েকে এই বাড়ির বউ বানাবেন। ইলফা হলো উনার মেয়ে।যে আপাততো দেশে নেই।নিউইয়র্কে আছে সে।এক সপ্তাহ পরই আসছেসে।ইলফা আসলেই তিনি যে করেই হোক ইলফাকে অর্থ’র গলায় ঝুলাবেই।ইলফার মা কটমট দৃষ্টিতে প্রাহির দিকে তাকিয়ে আছে।এতে প্রাহির অসস্থি হচ্ছে।তাই প্রাহি আস্তে করে রায়হানার কাছে গিয়ে বলে,

-” মামুনি!”

রায়হানা বেগম বললেন,

-” বল মা।কিছু লাগবে আম্মুনিটার?”

প্রাহি কাচুমাচু করে উত্তর দেয়,

-” আমার না প্রচুর মাথা ব্যাথা করছে।আমি গিয়ে একটু রেস্ট করি?”

রায়হানা বেগম প্রাহির কথা শুনে অস্থির কন্ঠে বলে,

-” সেকিরে মা।কখন থেকে হচ্ছে?আমাকে বলিস নি কেন?আমি আদা চা করে দিচ্ছি।ওটা খেয়ে ডিনার করে মেডিসিন নেহ।দেখবি ঠিক হয়ে যাবি।”

প্রাহি তাড়াতাড়ি করে বললো,

-” নাহ মামুনি এতো কিছুর দরকার নেই।তুমি একটু আদা চা করে দেও।আমি সেটা নিয়ে রুমে গিয়ে খেয়ে রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।শুধু মেডিসিন কেন খাবো?”

-” এ আবা কেমন কথা?ডিনার করবি না?”

প্রাহির মিষ্টি হেসে বলে,

-” তোমরা এখন খাও।আমার খুদা লাগলে আমি এসে খেয়ে যাবো।এখন আর কথা বলো নাতো।আমাকে তাড়াতাড়ি তোমার মিষ্টি হাতের মিষ্টি আদাচা করে দেও।”

রায়হানা আর কথা বারালেন না।প্রাহিকে আদাচা করে দিলে প্রাহি সেটা নিয়ে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে আসে।ডায়নিং টেবিল পার হয়ে সিড়ির কাছে যেতে হয়।প্রাহি মাথা নিচু করে সেখান থেকে যেতে নিয়ে আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখে।অর্থ ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।প্রাহি দ্রুত চোখ সরিয়ে উপরে চলে গেলো।
রায়হানা আসতেই অর্থ গম্ভীর স্বরে উনাকে বলে,

-” মা! ওর আবার কি হলো?ডিনার করবে না?”

রায়হানা বেগম সবার প্লেটে খাবার বেরে দিতে দিতে বলেন,

-” ওর নাকি মাথা ব্যাথা।মেয়েটা এতো চাপা স্বভাবের। মাথা ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে আমাকে এখন বলছে।”

অর্থ মায়ের কথা শুনে আরাফের কাকির দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকাতেই তিনি থতমত খেয়ে যান।জলদি চোখ সরিয়ে খাওয়ায় মনোযোগ দেন তিনি।অর্থ একটা রহস্যময় বাঁকা হাসি দিলো। রায়হানা বেগমকে বললেন প্লেটে বেশি করে খাবার দিতে।ও নিজে গিয়ে প্রাহিকে খাইয়ে দিয়ে আসবে।হেনা আলতো হাসলেন।তিনি নিজেই অর্থকে দুপ্লেট খাবার দিতেই।অর্থ সেগুলো নিয়ে উপরে চলে গেলো।আরাফের কাকি তা দেখে ভীতরে ভীতরে রাগে ফেটে যাচ্ছেন।পারেনা প্রাহিকে আগুনে ভষ্ম করে দিতে।

#চলবে_________

ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।কেমন হয়েছে জানাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here