প্রেম এসেছিলো নীরবে পর্ব -১৭

0
60

#প্রেম_এসেছিলো_নীরবে(১৭)
#সাদিয়া_জাহান_উম্মি
নিস্তব্ধ রাত।চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। থেকে কি জানি একটা পাখি ডেকে উঠছে।শরীর হিম করা সেই ডাক।ঝি ঝি পোকাগুলোর ডাক যেন পুরো জঙ্গল মাতিয়ে রেখেছে।এমন ভয়ানক জঙ্গলের মাজেই একটা পরিত্যক্ত পুরনো বাড়ির সদর দরজা ভেদ করে প্রবেশ করলো তিনজন লোক।গার্ড হিসেবে যারা ছিলো সবাইকে ওদের দেখে সালাম জানালো।তারাও মুচকি হেসে সালাম গ্রহন করলো।তারপর সোজা উপরের তলায় একটা রুমে ডুকে পরলো।রুমটায় বিশাল বড় একটে টেবিল, চৌদ্দটা চেয়ার আছে।সামনে বিশাল বড় একটা হোয়াটবোর্ড।টেবিলের উপরে একটা প্রজেক্টর ও পানির বোতল রাখা।বুজাই যাচ্ছে এটা একটা গোপনীয় মিটিং রুম।রুমটায় কড়া সিকিউরিটি দেওয়া।দরজায় ফেস লক দেওয়া।যাতে ওদের তিনজন ছাড়া আর কেউ এখানে প্রবেশ করতে না পারে। হ্যা, এটা আর কারো নয় অর্থ’র একটা পরিত্যক্ত বাড়ি।আর ওর সাথেই সেই দুজন হলো আরাফ আর হেমন্ত।ওরা নিরিবিলি গিয়ে চেয়ার টেনে বসে পরলো।হেমন্ত এইবার অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-” ভাই! আমাকে এইবার জলদি সবটা খুলে বলো।তুমি জেনে শুনে কেন ওর বাস্টার্ড দুটোকে পালাতে দিলে?”
অর্থ বাকা হাসলো।বললো,
-” এটাই তো আমার একটা স্ট্রিক্ট প্লান।”
হেমন্ত বুজতে না পেরে ভ্রু-কুচকে তাকালো।প্রশ্ন করলো,
-” মানে? কি বলতে চাইছো?এক্সেক্টলি ক্লিয়ার করে বলবা তুমি?”
অর্থ এইবার সোজা হয়ে বসলো।তার দুই ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো,
-” শুন,আমরা তদন্ত করে তো জানলাম যে প্রাহির বাবা মাকে ওর মামা মামিই খুন করেছেন।তুই(হেমন্তকে) যখন প্রাহির মা বাবার কেসটা রি-ওপেন করতে বললি। আমি তা না করে দিলাম।কারন এতো বছর পুরনো কেস ঘেটে লাভ নেই।পুলিশ তেমন একটা গুরুত্বও দিবেনা।তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আমার মতো করে কালপ্রিট ধরবো।তাই আরাফের সাথে আলাপ করলাম।ও সিআইডি অফিসার। আমার কাজটা সহজ হবে।তো আমরা প্রাহিদের বাড়িতে গেলাম।বাড়িটা তো মেরামত করা হয়েছে।তাই কোন প্রমান পেলাম না।তাই বুদ্ধি খাটিয়ে আম্মু আর কাকিমার থেকে প্রাহির বাড়িতে আগে যারা কাজ কর‍তো সবার নাম জেনে নিলাম।এবং তারা কোথায় থাকে সেটাও জেনে নিলাম।আম্মুরা দুজনের ঠিকানা বলতে পারলো।কিন্তু প্রাহির মা,বাবা মারা যাওয়ার মাসখানেক আগে নাকি আরো দুজন কাজের লোক নতুন এসেছিলো তাদের ঠিকানা জানেনা।আমার সন্দেহ লাগলো তখনি।তাই আমার লোক লাগিয়ে দিলাম।প্রাহিদের বাড়ির আগে যেই দুজন কাজ করতো তাদের সাথেও যোগাযোগ করলাম।অবশেষে অনেক খুজে ওই দুটোকে পেলাম।দুটো মুখ খুলতে চাইছিলো না।থার্ড ডিগ্রি টর্চার করায় সবটা বলে গড়গড় করে।প্রাহির মামা মামিই ওদের টাকা দিয়েছিলো প্রাহির মা বাবাকে খুন করতে।তুই(হেমন্ত) যেদিন বিদেশ চলে যাবি।সেদিনই ওই লোক দুটো প্রাহিদের কিচেনের গ্যাস সিলেন্ডার লিক করে দিয়ে পালিয়ে যায়।আর সেদিন বাড়িতে প্রাহির মা, বাবা ছাড়া কেউ ছিলো না।কারন তারা তো আমাদের বাড়িতে আসবেন তাই সব চাকরদের ছুটি দিয়ে দিয়েছিলেন।তাই সবাই চলে গিয়েছিলো সকালের খাবার বানিয়ে দিয়ে আর টুকাটুকি কাজ কাম করে দিয়ে।তাই বাড়িয়ে যেহেতু কেউ ছিলো না।প্রাহির মা হয়তো কোন কাজে কিচেনে গিয়েছিলেন।আর গ্যাস জ্বালাতেই পুরো আগুন বিষ্ফোরিত হলো।আর প্রাহির মার গায়ে আগুন লেগে গেলো আর তাকে বাচাতে গিয়ে প্রাহির বাবাকেও আগুন ছাড় দিলো না।দুজনকেই তার তান্ডবে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলো।”
অর্থ থামলো লম্বা করে নিঃশ্বাস ছাড়লো।সবার চোখজোড়া ছলছল করছে।অর্থ’র চোখজোড়াও জ্বলছে।তারই এই অবস্থা যখন সব সত্যি প্রাহি জানবে তখন কেমন করবে তার মেয়েটা।কি করে সামলাবে নিজেকে।আদৌ কি সামলাতে পারবে?অর্থ কি পারবে নিজের প্রাণপ্রিয়াকে আগলে রাখতে?
[আমি তো কাল একটু বলেছিলাম যে অর্থ আর প্রাহিকে আলাদা করে দিবো।দুষ্টুমি করেই নাহয় বলেছিলাম।আমি কি এতো অবুঝ যে আমাত এতোগুলো পাঠককে নারাজ করে তাদের কষ্ট দিবো।বাট আপনারা আমাকে অনেক হার্ট করেছেন।গল্প আর পড়বেন না।আর পড়ে কি হবে।বিচ্ছিরি গল্প না পড়লেই হবে।আমার অনেক খারাপ লেগেছে।আপনাদের যেহেতু এতোই খারাপ লাগলো আমার লিখা।আমি তাই জলদি শেষ করে দিবো গল্প।আপনাদের কথাই রাখবো হ্যাপি এন্ডিং দিবো।আমি নিজেই স্যাড এন্ডিং গল্প পছন্দ করেনা।জলদি গল্প শেষ করবো।যতো জলদি পারি।গতকালকের মজা করাটা আমার উচিত হয়নি ক্ষমা করবেন আমাকে।আজও ক্ষমা চাচ্ছি গল্পের মাজে এসব বলার কারনে]
হেমন্ত চোখজোড়া মুছলে তারপর ধীরে বলে,
-” এইগুলোতো জানি ভাইয়া।আসল কথায় আসো।”
-” পুরো ঘটনা বিস্তারিতভাবে না বললে বুজবি নাকি গাধা।”
আরাফ বলে,
-” তুই বল তো।আমার সহ্য হচ্ছে না আর।”
অর্থ আবারও বলতে লাগলো,
-” প্রাহির মামা মামিকে ধরে আনলাম।এতো টর্চার করলাম।স্বিকার করতে চাইলো না। পরে মার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে এইটুকুই বলে যে ‘ আমরা শুধু লোভে পরে এটা করেছি।আমাদের লোভ দেখানো হয়েছে।প্রাহির মা বাবাকে মারলে আমাদের পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দিবেন।আর তাই আমরা সেটাই করি। কিন্তু আমরা লোকটাকে কোনদিন দেখিনি।সত্যি বলছি।সে শুধু ফোনে কথা বলতো।নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম বলেছিলো তার নাম নাকি ব্লাকহান্টার।এটাই তার পরিচয়।ব্যস আর কিছু জানি না।প্রাহির মা বাবাকে মারার পর সব সম্মত্তি প্রাহির হবে আর তা প্রাহি পুরোপুরি ১৮ বছর হলেই একটা কাগজে সই করলেই হবে।প্রাহি সব সম্মত্তির মালিক।তাই প্রাহিকে নিয়ে আমাদের দূরে কোথায় পালিয়ে যেতে বলে আর প্রাহির ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বড় করতে বলে।ওর সব খরচ নাকি সে দিবে।আমরাও তাই তাই করেছি।আর লোকটা তার কথামতো আমাদের টাকা দিতো।কিন্তু আমরা তাকে চিনি না সত্যি।’ ব্যস তারা এটুকুই বললো।আমারও কেন জানি মনে হলো তারা সত্যি বলছে। কিন্তু এভাবে তো চলবে না আমাকে মেইন কাল্প্রিট ধরতে হবে। তাই একদিন উনাদের খাবারের সাথে ঘুমের ঔষুধ দিলাম।তারা খেয়ে ঘুমিয়ে গেলেই।উনাদের হাতে ছোট্টখোট্ট অপারেশন করে উনাদের হাতে জিপিআরএস বসিয়ে দিলাম।এইবার উনারা যেখানে যেখানে যাবেন সম্পূর্ণ খবর আমার কাছে আসবে।উনারা একদিন না একদিন তো ওই লোকটার কাছে যাবেই তাই না?আমি শুধু সেই আশায় আছি।শুধু একবার ঠিকানা পাই।আমি তাই উনাদের পালানোর সুযোগ করে দিলাম।আর আমাদের কয়েকটা গার্ডদের চব্বিশঘনটা এদের উপর নজর রাখতে বলেছি।”
হেমন্ত আর আরাফ হা করে তাকিয়ে আছে অর্থ’র দিকে।অর্থ কথা শেষ করে দুটোকে এইভাবে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকায়।বলে,
-” হোয়াট?এইভাবে তাকাচ্ছিস কেন?”
হেমন্ত অবাক হয়ে বলে,
-” তোমার মাথায় এতো বুদ্ধি আসে কোথা থেকে ভাইয়া?”
অর্থ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,
-” তা জেনে তুই কি করবি?তুই দিনরাত দেবদাস হয়ে ঘুরেই দিশা পাস না।”
হেমন্ত থতমত খেয়ে গেলো।কাঁপা গলায় বলে,
-” কি বলতে চাইছো ভাইয়া?”
হেমন্ত’র এমন রিয়েকশন দেখে বাঁকা হাসলো অর্থ।বললো,
-” তুই কি ভাবিস?আমি কিছু জানি না?ইশিকে যে ভালোবেসে দিনরাত দেবদাস হয়ে উদাসিন থাকিস আমি বুজিনা?”
হেমন্ত হা করে তাকিয়ে থাকলো।এটা কেমন মানুষ। এই মানুষটার থেকে কিছুই লুকানো যায় না।হেমন্ত বলে,
-” তুমি আসলেই একটা হিটলার।কিছু লুকানো যায় না তোমার কাছ থেকে।”
আরাফ হেসে হেমন্ত’র কাধে হাত চাপড় মেরে বলে,
-” তাহলে ইশিকে বলে দিচ্ছিস না কেন?”
হেমন্ত মুখটা একটুখানি করে বললো,
-” বলতে তো চাই।কিন্তু এই মেয়ে যেই ভীতু।দেখা যাবে আমার সামনেই আর আসবে না কখনো বিয়ে তো দূরে থাক।আর ভাইয়া না বিয়ে করতে আমি কিভাবে বিয়ে করবো।ভাইয়া বিয়ে করে নিলে।আমি ওকে কিডন্যাপ করে হলেও বিয়ে করে নিতাম।বাট ভাইয়া যেই পুচকে মেয়েকে ভালোবাসে।সে এখনো ভালোবাসা কি সেটাই জানে না।তো আমি সেই শোকে দেবদাস হয়ে ঘুরবো না তো কি করবো?”
আরাফ আর অর্থ হেসে দিলো। আরাফ হাসি থামিয়ে একটু ভাবুক হয়ে বলল,
-” কিন্তু প্রাহির মামা মামি হঠাৎ প্রাহিকে ওমন একটা লোকের সাথে বিয়ে কেন দিতে চাইলো?”
অর্থ গম্ভীর স্বরে বললো,
-” কাল্প্রিটটা হয়তো কোনভাবে বুজেছিলো হেমন্ত প্রাহিকে খুজছে।তাই প্রাহিকে বিয়ে দিয়ে সেই লোকের সাথে ওর কাল্প্রিটটার কাছে পাঠিয়ে দিতো।কারন হঠাৎ করে তো আর একটা মেয়েকে উধাও করা যায় না।সমাজ নানান কথা বলে।প্রাহির মামা মামিকেও তাই করতো।প্রাহিকে দেখতে না পেলে অবশ্যই জিজ্ঞেস করতো ওর কথা।আর প্রাহিকে ওই এলাকার সবাই অনেক ভালোবাসে।তাই বিয়ের উছিলায় ওই লোকটার কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্যে ওসব করেছিলো।”
আরাফ, হেমন্ত,অর্থ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।আসল খুনিটাকে যে কিভাবে খুজে বের করবে।তাদের শক্তপোক্ত একটা প্লান বানানো লাগবে এর জন্যে।ভয়ানক প্লান।তিনজন মিলেই সেইগুলাই ডিস্কাস করলো।এইবার বাড়ি যাওয়ার পালা।অর্থ এইবার আরাফ আর হেমন্তকে বলে,
-” আপাততো আমরা তোর (আরাফ) আর হিয়ার বিয়ে না হওয়া অব্দি চুপ থাকি।এই কয়েকটাদিন ব্যস্ততায় কাটবে তাই বললাম।আর আমার লোকরা তো আছেই প্রাহির মামা মামির সাথে।যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাই তাহলে আগাবো।নাহলে কয়েকটাদিন চুপ থাকি আমরা।”
সবাই অর্থ’র সিদ্ধান্তে সায় জানালো।এরপর ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
#চলবে______
কেমন হয়েছে জানাবেন।ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here