বিনি সুতার মালা পর্ব-০২

0
74

#বিনি_সুতার_মালা💚
#লামিয়া_রহমান_মেঘলা
#পর্ব_০২
আদ্রির ঘুমন্ত মুখ অর্নের ভেতরের কষ্ট জাগ্রত করতে বাধ্য করছে।
–আমি তোমাকে খুব কষ্ট দেয় তাই না সত্যি আমি খুব খারাপ।
আদ্রি একটা বার ভালোবেসে দেখো কখনো কষ্ট পেতে দিবো না।
রাত টা অর্ন আদ্রিকে দেখে কাটালো।
মাঝ রাতে চোখ দুটো বুজে আসতে আদ্রির মাথার কাছে হাত দিয়ে ঘুমিয়ে যায়।
ঘুমের মাঝে শীতের কারনে আদ্রি অর্নকে জড়িয়ে রাখে।
সকালে,
চোখের উপর আলো পড়তে অর্নের ঘুম ভেঙে যায়।
ঘুম ভাঙতে বুকের মাঝে আদ্রিকে দেখে কিছুটা অবাক হয়।
কিন্তু ঘুমন্ত সে নিষ্পাপ মুখটা অর্নের ঠোঁটে হাসি ফোটাতে বাধ্য করে।
এমনি ত ছিল তার আদ্রি আগে সব সময় বুকের মাঝে গুটিয়ে ঘুমিয়ে থাকতো।
কিন্তু আজ ঘুমের মধ্যে এমন কাজ করেছে।
কথা গুলো ভাবতে থাকে অর্ন কিন্তু এমন সময়
অর্নের ফোনটা বেজে ওঠে,
হাত বাড়িয়ে ফোনটা পিক করে,
–হ্যালো।
–স্যার সকালের খাবার।
–খাবার পাঠিয়ে দেও উপরে।
–আচ্ছা।
ফোনটা কেটে অর্ন নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে ফ্রেশ হতে যায়।
,
পাশ থেকে শীতল হাওয়া অনুভব হতে চোখ মেলে তাকায় আমি।
মাথাটা ঝিম ঝিম করছে।
মাথায় হাত দিয়ে উঠে বসতে সামনে তাকিয়ে দেখি অর্ন বের হলো ওয়াশরুম থেকে।
ওনাকে দেখে মাথা নিচু করে নি।
–জামা পাল্টে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে হবে।
মাথা নিচু করে ওনার কথা শুনে উঠতে গেলাম কিন্তু খুবই ক্লান্ত আমি কাল সারা দিন খাওয়া হয় নি।
উনি হয়ত বুঝতে পারলেন ।
উনি এসে আমাকে পাজকোলে উঠিয়ে বাথরুমে সামনে নিয়ে এলেন।
–ভেতরে কাপড় দেওয়া আছে।
আমি মাথা নিচু করে বাথরুমে চলে গেলাম।
গোসল করে একটা বাসন্তী রঙের শাড়ি দেখতে পেলাম।
এগুলা পরে বাইরে এলাম।
আমি বাইরে আসতে অর্ন আমাকে ধরে বিছনায় বসিয়ে দিলেন।
তার পর খাবার মুখের সামনে ধরলেন,
–খেয়ে নেও।
আমার প্রচুর খুদা পেয়েছে তাই খেয়ে নিলাম।
আমাকে খাওয়ানো শেষ করে নিজে খেয়ে নিলেন।
–আদ্রি আমি বাইরে যাচ্ছি তুমি রেস্ট নেও ঘর থেকে বার হইও না কিছু লাগলে সার্ভেন্ট দের বলবা এনে দিবে।
এবারও মাথা নিচু করে তার কথা শুনলাম কিছু বললাম না।
আমাকে চুপ থাকতে দেখে উনি চলে গেলেন৷
যাবার সময় দরজা টা বাইরে থেকে দিয়ে গেলেন।
,
বন্দি বন্দি মনে হচ্ছে নিজেকে।
কিন্তু খাবার খাওয়াতে ঘুম চলে এলো দু চোখে।
এক রাজ্যের ঘুম।
,
,
,
ঘুম থেকে উঠে দেখি ১২ টা বাজে।
বিছনা ছেড়ে উঠতে গিয়ে ঘাড় ব্যাথা অনুভব হচ্ছে।
ঘাড়টা নিশ্চিত খারাপ দিকে পড়ছে।
খুবই কষ্টে উঠে,
দাঁড়িয়ে পাশে চোখ দিতে দেখলাম জানালা টা খোলা৷
সূর্য টা বেশ সুন্দর দেখা যাচ্ছে।
জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াতে বেশ মিষ্টি মিষ্টি বাতাস ও শীতল অনুভূতি গুলো ভালোই লাগছে,
কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে পেলাম৷ কিছু পাখি উড়ে যাচ্ছে।
এই দুপুর সময় এতো গুলা পাখি দেখে অবাক হলাম।
–পাখিদের মতো ডানা থাকলে এখনি এই জানালা দিয়ে উড়ে যেতাম তাই না৷
–মনের কথা। (আনমনে)
–হুম বুঝি,
হটাৎ অর্নের কন্ঠ শুনে চমকে গেলাম।
আমি কি এতো সময় ওনাকে কথাটা বললাম নাকি।
–ভয় পাবার কিছু নাই এতোটা ভয় পাবার ত কিছুই নাই ।
আমি মাথা নিচু করে রইলাম।
–এসো খাবার খাবে এসো আদ্রি।
–খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না।
–তাহলে কি করতে ইচ্ছে হচ্ছে।
–মায়ের সাথে একটু কথা বলব।(কিছুটা সাহস নিয়ে)
–হুম কি করবা?
–মা বাবার সাথে কথা বলব কখনো একা থাকি নি। (করুন শুরে)
–কিন্তু এখন ত একা থাকা শিখতে হবে।
–আমি কি,
–কথা বেঁধে যাচ্ছে কেন তোমার। সাহস থাকলে সোজা বলো।
আমি ওনার কথায় বুঝতে পারলাম আমার কথা বলা বৃথা।
তাই চুপ করে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম।
–এসো খাবার খেতে এসো।
কথাটা বলেই আমাকে ধরে বিছনায় বসালেন।
দুপুরের খাবার খাইয়ে নিজে খেয়ে নিলেন।
–তুমি কাছে থাকলে ভিশন ঘুম পায় জানো তুমি।
–ঘুমের ঔষধ নাকি আমি (আনমনে)
–না তুমি ত আফিম।
–কি!
–কিছু না মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিবে?
–আমি!
–এখানে অন্য কাউকে দেখতে পাচ্ছি না আমি।
–(আমাকে আটকে রেখে এখন মাথা টিপে দেও কতো দুর বদমাশ) মনে, মনে,
–কি দিবে।
–(এখন না বললে কি জানি কি রিয়াকশন দিবে হ্যাঁ বলে দি)
হুম।
আমার কোলের উপর অর্ন মাথা দিলো।
আমি তার মাথায় হাত দিয়ে বিলি কেটে দিতে লাগলাম।
ধিরে ধিরে অর্ন ঘুমিয়ে গেল।
তার ঘুমন্ত মুখটা নিতান্ত মায়াবি।
চোখ দুটো বন্ধ চুল গুলো ঘুমিয়ে আছে।
ফর্সা মুখটা তার বেশ মায়াবি।
কিন্তু তার কাজ গুলো খুব কষ্ট দায়ক।
আমার খুব কষ্ট হয়।
ভালোবাসা কি যোর করে পাওয়া যায় নাতো তাহলে এমন কেন।
উনি এমন কেন করছেন।
জদি সত্যি ভালোবাসবেন তবে কেন মায়ের থেকে আমাকে আলাদা করবেন।
কেন?
মায়াবী সেই মুখের নেশায় মক্ত হয়ে আমারও চোখে ঘুম নেমে এলো।
,
আদ্রি পেছনে মাথা ঠেকিয়ে, অর্ন আদ্রির কোলে মাথা দিয়ে। দু’জন ঘুমিয়ে পাড়ি দিলো ঘুমের রাজ্য,
সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে লাল আভা ছড়ালো।
পাখি কিচমিচ ডাকে তার বাসায় ফিরছে।
মৃদু আলোতে আলোকিত রুমটায়।
আদ্রি আর অর্নকে বেশ মানিয়েছে।
কিন্তু ঘুম ত ঘুম তা ত ভাঙবেই।
ঘুম ভাঙতে আদ্রির শরীরের মিষ্টি ঘ্রাণ অনুভব হতে লাগলো অর্নের।
আরো কঠিন ভাবে জড়িয়ে ধরলো আদ্রিকে।
জেন ছেড়ে দিলে কোথায় পালিয়ে যাবে সে,
চলবে,
(গল্প সম্পর্কে নেক্সট, নাইস, ন, বাদে একটু মতামত দিয়েন প্লিজ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here