বিনি সুতার মালা পর্ব-০৬

0
72

#বিনি_সুতার_মালা💚
#লামিয়া_রহমান_মেঘলা
#পর্ব_০৬
সেদিনের পর থেকে তাদের কথা এবং কথপোকথন চলে থাকলো,
একটা সময় দু’জন একটা পবিত্র সম্পর্কে আবদ্ধ হয়৷
তাদের বিয়ে হয়,
আল্লাহ তায়লা যেন দু হাত তুলে তাদের দোয়া করেছিলো।
তারা খুব ভালো করেই তাদের সংসার পেতেছিল।
তাদের মধ্যে না ছিল ভালোবাসার অভাব আর না ছিল কোন কিছুর খামতি,
এভাবে কাটলো ২ বছর,
অর্ন তার বিজনেস এর কাজে বাইরে যাবে,
অন্য দিন হলে আদ্রির খুব মন খারাপ হতো
কিন্তু আজ আদ্রি যে অর্নের যাওয়ার কথা শুনে খুশি তা অর্নের বুঝতে বাকি রইলো না।
কিন্তু এমন কেন হটাৎ এতো বদল কেন?
অর্ন ভাবতে ভাবতেই প্লেনে ওঠে।
দুবাই গিয়ে সারাটা দিন আদ্রিকে ফোনে ট্রায় করে কিন্তু কোন মতেই আদ্রি ফোন ধরে না।
এভাবে কাটলো ২ দিন অর্ন বাংলাদেশে এসে এতো বড়ো সারপ্রাইজ হবে তা সে কল্পনা করতে পারে নি। কারন আদ্রি নাই আদ্রিকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের এমন কোন কোনা নাই যেখানে সে আদ্রি কে খোঁজে নি কিন্তু কোথাও পায় নি সে আদ্রি কে।
অর্ন ভেঙে পড়েছিল সে দিন। ভালোবাসাকে হারানোর যন্ত্রণা তাকে খুব বেশি জ্বালাচ্ছিল।
এভাবে কাটে ১ বছর,
–স্যার,
সার্ভেন্ট এর কথায় অর্ন বর্তমানে ফিরে আসে,
–হুম বলো,
–স্যার আপনি ত কিছুই খান নাই কিছু খাবার দিবো।
–না এখন ইচ্ছে নাই।
কথাটা বলেই অর্ন হাতে মদের বোতল নিয়ে বাসা থেকে বার হয়ে গেল।
,
এদিকে,
–আদ্রি মা কতো ঘুমোবি ওঠ।
মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে।
–মা এখন খাবো না পরে খেয়ে নিবো।
–তোর খাবার কি রেখে দিব।
–হুম রেখে দেও।
–আচ্ছা আমি গেলাম
মা চলে গেলেন।
আমার না কিছুতেই ভালো লাগছে না সব কেমন উল্টো পাল্টা হচ্ছে।
অর্নকে যে খুব বেশি মনে পরছে তা বুঝতে বাকি নাই আমার।
,
,
গায়ের ওড়নাটায় হাত দিতে পুরোনো দিনের স্মৃতি গুলো মনে পড়তে লাগলো,
প্রায় ১ বছর আগের কথা,
ভার্সিটি তে ক্লাস শেষ করে বার হচ্ছিলাম বর্ষা(আমার বান্ধবী) এর সাথে,
হটাৎ
চোখে পড়লো একটা বৃদ্ধ মহিলাকে কিছু লোক ঘিরে ধরেছে,
–বর্ষা দেখ ওখানে কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়,
–হ্যাঁ তাই ত মনে হচ্ছে চল ত দেখি।
আমরা এগিয়ে গেলাম,
–কি হয়েছে এখানে,
–এই বৃদ্ধ মহিলা আমাদের টাকা চুরি করেছে,
–কি বলপন ভাই এই মহিলাটাকে দেখে এমন মনে হলো আপনাদের আপনারা পারেন ও বটে,
বৃদ্ধ মহিলার সব যায়গায় চেক করিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনলাম আমি আর বর্ষা।
–দেখ এরা কতোটা খারাপ।
–তোমাদের ভালো হেক মা তোমরা না থাকলে ওরা হয় ত আমাকে মেরেই ফেলত।
–আপনি চিন্তা করবেন না চাচি আমরা আছি,
ওনাকে ওনার বাসায় পৌছে দিয়ে আমরা চলে এলাম, হাঁটতে হাঁটতে বাসায় আসছিলাম আমার বাসারা বর্ষার বাসা থেকে একটু দুরে তাই ও আগে বাসায় চলে যায়।
এদিকে আমিও বাসার দিকে হাঁটছি।
হটাৎ কেউ পেছন থেকে খুব জোরেই আমার হাতটা ধরে টান দিল ।
আমি পেছনে ফেরার আগেই লোকটা আমাকে জড়িয়ে ধরল।
–আরে কি আজব কে আপনি।
–তুমি কই ছিলা এতো দিন।
–মানে কি কি হচ্ছে এসব ছাড়েন আমাকে।

–আদ্রি তুমি আমার আদ্রি তুমি কই ছিলে আদ্রি।
–আরে ভাই আপনি দেখি আমাট নাম ও জানেন। অসভ্য ছেলে ছাড়ুন।
–আদ্রি আমি অর্ন।
–আরে মুসকিল কে অর্ন ছাড়ুন আমাকে।
–আদ্রি তুমি তোমার অর্নকে চিনতে পারছো না।
–আপনি কি আমাকে ছাড়বেন কি না।
লোকটা আমাকে ছেড়ে দিল।
আমি আর কথা না বলি দৌড়ে বাসায় চলে আসি,
–বাবা লোকটা কি পাগল ছিল নাকি বুঝলাম না৷
বাসায় এসে সারা দিন ওই মানুষ টার কথাই ভেবেছি কিন্তু কেন বুঝি নি।
,
পরের দিন,
কলেজে গিয়ে বর্ষাকে সব বললাম।,
–হটাৎ এমন কে করতে পারে।
–সেটাই ত বুঝলাম না রে।
–লোকটাট মুখ কি দেখেছিস।
–নারে,
–এই হোল তোর দোষ সে যদি আবার তোর সামনে আসে।
–কন্ঠ শুনলে চিনব ত।
–ধুর সালা উল্টো পাল্টা মানুষ।
–আচ্ছা শোন চল ক্লাসে যাই।
–হুম চল।
আমরা ক্লাসে চলে এলাম।
চলবে,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here