ভেতরে বাহিরে পর্ব -২৩

0
104

#ভেতরে_বাহিরে
পর্বঃ২৩
লেখিকাঃ #রুবাইদা_হৃদি
গুমোট অন্ধকার আচ্ছন্নতা ঘিরে আছে সর্বদিকে৷ মাধুর্য আবেশের বুকে মাথা দিয়ে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে আছে৷ হাত দুটো আবেশের বলিষ্ঠ হাতজোড়ায় নিবদ্ধ৷ আবেশের গলা কম্পয়মান৷ কেঁপে উঠা গলায় আবারো বলল,

‘ মাধু..মাধবীলতা..আমার মাধবীলতা চোখ খুলে তাকাও৷’

‘ আবেশ ওকে দ্রুত হসপিটালে নিতে হবে বিপি ফল করেছে৷ হার্টবিট একদম স্লো৷’ ইরা পাশ থেকে বলল৷ আবেশ নজরুল সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল,

‘ সবটা আগে তোমার আমাকে বলা উচিৎ ছিলো,বাবা৷ আমি ওকে যতোটা ঠিক করার চেষ্টা করছি কেউ না কেউ এসে ঠিক তার থেকে বেশি ভেঙ্গে দিয়ে যাচ্ছে৷’

ইরা উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

‘ কথা বাড়িয়ো না আবেশ৷ আমি গাড়ি বের করছি তুমি মাধুর্যকে নিয়ে আসো৷’

‘ মাধুর্যের সবকিছু জানতে হবে,মানতে হবে সব সত্যি ৷ আর পাঁচটা পরিবার বা তার জীবন সহজ ছিলো না৷ তাই সব সহজ করতে হলে সবটা তাকে জানতে হবে৷’ বললেন নজরুল সাহেব৷ তার চোখেমুখেও স্পষ্ট চিন্তার ছাপ। আবেশ তার কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে বলল,

‘ আমাদের এতোদিন কেন জানাও নি এইসব মাধুর্যের৷ ঘোর অন্যায় করেছো৷ তোমাদের অন্যায়ের শাস্তি মাধুর্য পেয়েছে৷’

‘ ভুল বলছিস আবেশ৷ তুই নিজে খোজ করিস নি৷ তবে আমি আর আম্মা প্রায়শই রুপগঞ্জ যেতাম মাধুর্যকে খুজতে৷ শাহেদ আঙ্কেল অতিরিক্ত চালাক মানুষ বলেই রুপগঞ্জ ছেড়ে মুয়াপাড়া গিয়ে থেকেছেন তারপর এসেছেন সিলেট৷’ ফয়েজ বলতেই আবেশ ভাবলো৷ সে সত্যি কোনো খোজ নেয় নি ওই চিঠিটা পাবার পর৷ নজরুল সাহেব গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,

‘ রাব্বীর স্টেটমেন্ট নিয়ে অফিসার কাল বা পরশু আসবে৷ এখন দেরি না করে মাধুর্যকে নিয়ে হসপিটালে যাও৷’

মাধুর্যের শীতল হাতের স্পর্শ আবেশের ভাবনায় ভাঁটা ফেলে৷ মাধুর্যের কান্না গুলো শুকিয়ে আছে গালে৷ ঠোঁট ফ্যাকাসে হয়ে আছে৷ আবেশের ভেতর দুমড়ে মুচড়ে উঠে ৷ দ্রুত মাধুর্যকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় ৷

নাজিফা স্তব্ধ হয়ে আছে সেই সাথে ফয়েজ ৷ নজরুল বলেছিলেন এইসব তার দাদাবাড়ীর সম্পদ বিক্রি করে তৈরি করেছেন ৷ তবে সব যে মাধুর্যের সেটা মোটেও বুঝতে পারে নি তারা ৷ ফয়েজের নিজেকে ছোট লাগছে ৷ তার বাবা-মা লোভ সামলাতে পারে নি খুব করে বুঝতে পারছে সে! রাগ দেখিয়ে বলল,

‘ বাবা,তুমি চাইলে মাধুর্যকে খুজে বের করতে পারতে ৷ ইচ্ছা করেই করো নি,তাই না? আমি আর আম্মা চুপিচুপি খোজ করতাম৷ তুমি ইচ্ছা করে চুপ থেকেছিলে৷’

‘ আজ যে জায়গায় আছিস সে জায়গায় থাকতে পারতি যদি আমি এইসব ধরে না রাখতাম!’ নজরুল ঠান্ডা স্বরে বললেন ৷ মাহফুজা নজরুলের কথার পৃষ্ঠে বলল,

‘ আমি মানছি আমাদের অন্যায় ছিলো ৷ কিন্তু তোর বাবা মাধুর্যের নামেই সব উইল করে রেখেছে ৷’

‘ সেটা আরো আটবছর আগে মাধুর্যকে বাসায় নিয়ে এসে ভালো জীবন দেওয়ার মাধ্যমেও পারা যেত৷ শাহেদ আঙ্কেল সম্পদের লোভে মেহরুন আন্টিকে বিয়ে করেছেন,যখন সম্পত্তি পেলেন না তখন মাধুর্যের জীবন দুর্বিষহ করে তুললেন ৷ আর রাব্বী! সে তার মায়ের জীবনে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের শাস্তি দিলো মাধুর্যকে ৷ সবাই সবার দিক থেকে প্রতিশোধ আর সম্পদের লোভে আকৃষ্ট ছিলো তবে সব কিছুর শুরু আর শেষে মাধুর্যের জীবনের কতগুলো বছর নষ্ট হয়ে গেছে৷ আর সেটা দায়ভার তোমার বাবা ৷’ ফয়েজের কন্ঠে রাগ ঝরছে৷ মাহফুজা কী বলবেন খুজে পেলো না৷ নজরুল গলার স্বরে কাঠিন্য ভাব এনে বললেন,

‘ রাব্বী আর শাহেদ তাদের শাস্তি পাবে ৷ তবে আমার শাস্তি আমি মাধুর্যের হাতে তুলে দিবো৷ এর বাইরে আর একটা কথাও আমি তোমাদের থেকে শুনতে চাই না ৷’

ফয়েজ রাগ নিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেলো ৷ তার বাবার সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব ধারণ করেছিলো তারা ৷ যে ব্যক্তিত্বে মিথ্যা বা প্রতারণা ছিলো না ৷ তবে আজ ফয়েজ ভালো করে বুঝে গেছে,এই ব্যক্তিত্বের আড়ালে সত্য লুকায়িত ছিলো ৷ যে সত্য হচ্ছে,তার বাবা মাধুর্যের সাথে অন্যায় করেছে ৷ এই বাড়িতে একটা মুহূর্ত থাকতে ইচ্ছা হচ্ছে না তার ৷ মাধুর্যের প্রতি আরো খারাপ লাগার সৃষ্টি হলো তারমনে৷

নাজিফা নখ কামড়াচ্ছে ৷ নজরুল সাহেব চুপ করে বসে আছেন সোফায়৷ নাজিফা সরল গলায় বলল,

‘ এইসব কিছু ছোট ভাবীর ৷ তাকে সব ফিরিয়ে দাও বাবা৷ আমাদের কিছু লাগবে না৷ ভাবী সুন্দর জীবন পাক আমি সেটা চাই৷’

নজরুল সাহেব নাজিফার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,

‘ হ্যাঁ মা৷ তোমার বাবা এতোটাও নিষ্ঠুর না যতোটা তোমার বড় ভাই ভাবছে ৷ আমি সবকিছু তোমার ভাবীকে ফেরত দেওয়ার জন্যই এতোকাল অপেক্ষা করেছি৷’

নাজিফা তারা বাবার মুখপানে তাকিয়ে হাসলো৷ সে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে তারা বাবা কখনো ভুল করতে পারে না ৷

_____________

আঁধার ছুঁয়েছে ভুবন ভরে৷ শিরশিরে বাতাসের সাথে ফিনাইলের গন্ধ ভারী করছে পরিবেশ৷ সাদা পর্দা হাওয়ার তালে উড়ো উড়ি করছে ৷ কেবিনের প্রত্যেকটা জায়গায় বিভিন্ন মেডিকেলের চার্ট টাঙানো৷ মাধুর্যের হাতে স্যালাইন লাগানো হয়েছে ৷ ইরা মাধুর্যের ফর্মালিটি পূরণ করেই ঘন্টা তিনেক পূর্বে নিজের ডিউটি তে চলে গেছে ৷

মাধুর্যের হাত নিজের কপালে ঠেকিয়ে বসে আছে আবেশ ৷ জর্ণজীর্ণ চেহারায় ফুঁটে উঠেছে আকুতি৷ কোমল কন্ঠে বলল,

‘ জানি না সামনে কী হবে,মাধুর্য৷ তবে কথা দিচ্ছি তোমায় আর কাঁদতে দিব না৷’

‘ ম..মা আমি চাই নি তুমি আমায় ছেড়ে যাও৷ মা প্লীজ আমায় রেখে যেয়ো না৷’ মাধুর্য ঘুমা কাতুরে কন্ঠে জেগে উঠে অস্থিরচিত্তে বলল।

‘ মাধুর্য..’ আবেশ শ্লেষাত্মক কন্ঠে ডেকে উটলো তাকে। মাধুর্য চোখ খুলে তাকালো ৷ নজরুল সাহেবের বলা কথার পর তার আর কিছু মনে নেই ৷ শুধু মনে আছে রাব্বী তার মা’কে মেরে ফেলেছে ৷ উঠে বসার চেষ্টা করতেই আবেশ থামিয়ে দিয়ে বলল,

‘ রিলাক্স কিছু হয় নি মাধুর্য৷সব ঠিক আছে৷’

‘ কিছু ঠিক নেই আবেশ৷ আমার মা’কে মেরে ফে..ফেলেছে৷ ওই রাব্বী আমার মা’কে মেরে ফেলেছে৷’

মাধুর্য কান্নারত অবস্থায় বলল৷ আবেশ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে ৷ মাধুর্য হাতের স্যালাইনের নল টানছে ৷ আবেশ চটজলদি উঠে মাধুর্যকে থামানোর চেষ্টা করেও বৃথা হলো ৷ আবেশ মাধুর্যের দুই হাত ধরে রেখে বলল,

‘ মাধুর্য পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে শেখো ৷ তুমি এতো বছর ধোঁয়াশায় ছিলে,আন্টিকে নিয়ে সে আদেও বেঁচে আছে কী’না সেটাও জানতে না৷ তবে আজ কেন মানতে পারছো না ! তোমায় মানতে হবে,সেই সাথে রাব্বীকে শাস্তি দিতে হবে৷’

‘ আমি পারবো না আবেশ ৷ কিচ্ছু পারবো না! আমাকেও মেরে ফেলতে বলুন,রাব্বীকে ৷ আমি আমার মায়ের কাছে যেতে চাই ৷’

মাধুর্যের এতো টুকো কথা শোনে আবেশ পাগলপ্রায় হয়ে উঠলো ৷ সব সংকোচ দূরে ঠেলে জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে ৷ তার মাথায় নিজের থুঁতনি ঠেকিয়ে বলল,

‘ বি স্ট্রোং মাধুর্য৷ তোমায় লড়তে হবে এবং সেটা বেঁচে থেকে ৷’

মাধুর্য আবেশের বুকে মুখ গুজে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলল,

‘ আমি পারবো না আবেশ৷’

‘ তুমি পারবে৷ আমি আছি তো তোমার সাথে৷’

মাধুর্য দুইহাতে শক্ত করে ধরলো আবেশকে ৷ সম্পূর্ণ ভর আবেশের উপর ছেড়ে দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে৷ আবেশের ভেতরে শিহণের আন্দোলন তুলেছে ৷ রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাচ্ছে অনুভূতির হিমেল হাওয়া ৷ মাধুর্য তখন ভরসার আশ্রয় খুজতে ব্যতিব্যস্ত৷ আর আবেশের মনে আন্দোলনের ঝড়ো হাওয়ার দাপটে প্রত্যেক ক্ষণে ক্ষণে ভালোবাসার মজবুত ভীত তুলতে ব্যস্ত৷

‘ সর‍্যি সর‍্যি রং টাইমিং৷ আমি কিছু দেখি নি৷’ ইরা দরজা দিয়ে ঢুকে ফাইল দিয়ে মুখ ঢেকে বলল ৷ আবেশ মাধুর্যকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো না৷ ‘ থাক কিছু অনুভূতিতে তৃতীয় ব্যক্তি সাক্ষী,এতে ক্ষতি কী?’
আবেশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

‘ রং টাইমিং নয় ভাবী৷ ভেতরে আসো৷’

‘ জো হুকুম,দেবরজি৷’ ইরা মেকি হাসি টেনে বলল ৷ নজরুল সাহেবের বলা কথাগুলোতে সেও অপ্রস্তুত৷ এতোদিন যেটাকে নিজেদের বাড়ি ভেবে এসেছিলো সেটা এই ছোট মেয়েটার ৷ আর যার জন্য তার জীবন আজ দুর্বিষহ ৷ ভেবে মন খারাপের রেশ নিয়ে আবেশকে বলল,

‘ মেডিসিন গুলো..’

‘ আমি হ্যান্ডেল করতে পারবো৷ তোমার ডিউটি আওয়ার শেষ হলে চলে যাও।ভাই নিজেও তো অসুস্থ৷’

‘ তুমি পারবে?’

‘ অফকোর্স ভাবী৷ ভরসা করতে পারো৷’ আবেশ মাধুর্যের মাথায় হাত রেখে বলল ৷ ইরা মেডিসিন গুলো রেখে যেতে যেতে বলল,

‘ আজ থাকতে হবে এখানে৷ টেনশন নিয়ো না আমি একটা নার্স রেখে যাচ্ছি৷’

আবেশ সম্মতি দিতেই ইরা চলে যায়৷ আবেশ সরে যেতে চাইলে মাধুর্য আরো আঁকড়ে ধরলো ৷ আবেশ মৃদু হাসলো ৷ তার প্রতি মাধুর্যের মনে ভরসা জন্মাচ্ছে দেখে স্বস্তি পেলো ৷

‘ মাধুর্য?….’

‘ বলেন৷’ মাধুর্যের কান্নাভেজা গলা৷ আবেশ মুখ ফুলিয়ে শ্বাস টেনে বলল,

‘ আমায় জাস্ট দু সেকেন্ডের জন্য ছাড়ো,আমি এখুনি আসছি৷’

‘ না..আপনি এখানে থাকুন৷ যাবেন না আমায় ছেড়ে৷’

আবেশ কী বলবে খুজে পেলো না৷ ওইভাবে দাঁড়িয়ে থেকেই পকেট থেকে ফোন বের করে রিসেপশনে ফোন দিলো৷ রিসিভ হতেই গম্ভীর ভাবে বলল,

‘ ডক্টর মিসেস ইরা এহসান ৩০২ নাম্বার কেবিনে যাকে পাঠাতে বলে গেছেন তাকে কাইন্ডলী একটু পাঠিয়ে দিন৷’

ওইপাশে থেকে উত্তর আসার পূর্বেই আবেশ কল কেটে দিয়ে বিছানায় বসে নিজে থেকে মাধুর্যকে জড়িয়ে ধরলো ৷
সাথে সাথে মাধুর্য আরো মিশে গেলো আবেশের সাথে ৷ আবেশ তার মনে প্রশান্তি অনুভব করছে৷

‘ আমার কিছু চাই না আবেশ৷ আপনি আঙ্কেল কে বলে দিয়েন,আমার শুধু শান্তি চাই৷ যেখানে আমি ভয় ছাড়া বাঁচতে পারবো৷’ মাধুর্য আবেশের শার্ট তার হাতের মুঠোয় আগলে রেখে বলল ৷ আবেশ বলল,

‘ তোমার প্রাপ্য যেগুলো সবটা তুমি পাবে৷’

‘ আসবো স্যার৷’ দরজায় টোকা দিয়ে অচেনা এক নারীকন্ঠ অনুমতি চেয়ে বলল৷ আবেশ গলার স্বর একটু উঁচিয়ে বলল,

‘ জ্বী আসুন৷’

মেয়ে নার্স রুমে ঢুকেই ভড়কে যায় আবেশকে দেখে৷ সাথে আবেশের ও বিরক্তি চোখেমুখে ছেয়ে যায়৷ এইটা সেদিনের সেই মেয়ে নার্স । যেদিন ফয়েজকে দেখতে এসেছিলো সে আর এই মেয়ে তার দিলে তাকিয়ে ছিলো। মাধুর্য আবেশের বুকে মাথা রেখে চোখ বোজে আছে৷ মেয়েটা কিছুটা অবাক হয়ে বলল,

‘ ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড,আমি আপনাকে একটা কোয়েশ্চেন করতে পারি?’

‘ ইয়াহ!’ আবেশ বিরক্তি মাখা গলায় জবাব দিলো৷ মেয়েটা এখনো মাধুর্যের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ আবেশ গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,

‘ কিছু বলবেন? না বললে আমায় মেডিসিন গুলো দিতে হ্যাল্প করে এখান থেকে চলে যান৷’

‘ আপনি কী উনার ভাইয়া?’মেয়েটা হড়বড় করে বলতেই আবেশ কেঁশে উঠলো ৷ নিজেকে ঠিক রেখে বলল,

‘ না ছাইয়া৷’

মেয়েটা বুঝতে না পেরে ফ্যালফ্যাল চোখ করে তাকিয়ে আছে ৷ মাধুর্য সব শুনে নির্বাক হয়ে আছে৷ আড়চোখে তাকালো নার্সের দিকে ৷ বিরবির করে বলল,

‘ উনি বোধহয় আপনাকে পছন্দ করে৷’

আবেশ তাকালো মাধুর্যের দিকে ৷ মাধুর্যকে কিছুটা স্বাভাবিক দেখে মৃদু হাসলো ৷ সেই সাথে নার্সের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বলল,

‘ মেডিসিন গুলো দিন৷’

‘ দ…দ.দিচ্ছি৷’ নার্স ভগ্নহৃদয় নিয়ে বলল৷ আবেশের অস্বস্তি লাগছে৷ এইদিকে মাধুর্য শান্ত হয়ে সব পর্যবেক্ষণ করছে ৷

_____________

‘ হাটতে পারবে?’ আবেশ চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করলো৷ মাধুর্য সম্মতি জানি বলল,’ হ্যাঁ পারবো৷’
বলেই গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়৷ রাত আনুমানিক দু’টোর উপরে হবে৷ মাধুর্যের হসপিটালে দমবন্ধ লাগছিলো বললে আবেশ সাথে সাথে কোনোকিছুর পরোয়া না করে নিয়ে আসে মাধুর্যকে ৷
মাধুর্য ধীরপায়ে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,

‘ কাল সকালে আমি জেলে যেতে চাই,আবেশ৷’

‘ রাব্বীকে রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে,মোহসীন ফোন করে বলল৷’ আবেশ দ্রুত পায়ে মাধুর্যের পাশাপাশি এসে বলল৷ মাধুর্য ক্লান্তিকর কন্ঠে বলল,

‘ আর তাকে?’

‘ শাহেদ আঙ্কেল?’ আবেশ প্রশ্ন করতেই মাধুর্য থেমে গেলো ৷ শুকিয়ে উঠলো মুখ৷ আবেশের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল,

‘ আমি বিষয়গুলো ভেবে দেখি নি আবেশ!’

‘ কী বিষয়?’

‘ মা’কে বা লতা বেগমকে উনি ভালোবাসেনি৷ লতা বেগম তার স্ত্রী হওয়ার পরেও সম্পদের জন্য আমার মায়ের জীবনে আসেন ৷ উনি জঘন্য মানুষ৷ না উনি রাব্বীর বাবা হওয়ার যোগ্য না আমার৷’ বলতেই মাধুর্যের গলা কেঁপে উঠলো ৷ সাথে সাথেই কোমড়ে হাত দিয়ে নীচে ঝুঁকে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করলো৷ আবেশ বুঝতে পারলো মাধুর্যের কষ্ট হচ্ছে৷ সাথে সাথেই তাকে দুইহাতে ধরে বলল,

‘ এতো কথা বলো কেন! আমার কাছে এসো৷’

‘ না..আমি পারবো৷’ মাধুর্য জেদ দেখিয়ে বলল৷ আবেশ তাকে জোর করেই কোলে তুলে নিয়ে বলল,

‘ তুমি আমি মিলে আমরা ৷ তাই আমাদের দায়িত্ব আমাকেই নিতে দেও৷’

মাধুর্য নিজেকে ছাড়াতে একফোঁটাও চেষ্টা করলো না৷ তার জীবনের সুতোটা সে ছেড়ে দিবে দূর আকাশে৷ হয় উড়বে নয়তো ভেসে যাবে হাওয়ার তালে…

চলবে….

[ কেমন লাগছে জানাবেন৷]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here