মনের অন্তরালে পর্ব -০৭

0
32

#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ৭
প্রহেলীকে পরশের পাশে বসিয়ে দেওয়া হলো পরশ এখনো প্রহেলীর দিকে তাকিয়ে আছে।প্রহেলী পরশের দিকে ফিরে তাকালো আর ইশারা করে বললো,
~কী হয়েছে?
পরশ মুচকি হেসে প্রহেলীর দিকে ইশারা করে বললো,
~অনেক সুন্দর।
প্রহেলী লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে ফিরে তাকালো নয়না, সায়েম,ফারিহা একসাথে দাড়িয়ে কথা বলছে।পরশ আর প্রহেলী ফটোসুটে ব্যস্ত প্রলয় সব মেহমানদের নিয়ে ব্যস্ত সব মুরুব্বিরাও একই কাজ করছে।প্রলয় সেই ব্যস্ততার মাঝেও নয়না আর সায়েমের দিকে নজর রাখছে।সায়েম আর নয়না এখন একা কথা বলছে ফারিহা প্রহেলীর কাছে চলে গেছে সায়েম বললো,
~নয়না,তুমি শাড়ি পরলে একদম পিচ্চি থেকে বড় হয়ে যাও।
নয়না বললো,
~ভাইয়া আমাকে পিচ্চি পিচ্চি বলবেনা আমি এখন যথেষ্ট বড় হয়েছি।
সায়েম আলতো হেসে নয়নার গাল টেনে বললো,
~ওরে আমার বুড়িরে তুই তো কুটনি বুড়ি।
নয়না গাল ফুলিয়ে বললো,
~যাও কথা বলবোনা।
নয়নার কথা শেষ হতেই প্রলয় পিছন থেকে বলে উঠলো,
~কথা না বললে আবার পেটের ভাত হজম হবে না।
নয়না আর সায়েম পিছন ফিরে প্রলয়কে দেখতে পেলো নয়না কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো স্টেজে সায়েম প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললো,
~বিয়ের সব কাজ ঠিকঠাক মতো হচ্ছে তো?
প্রলয় একটা সিগারেট বের করে মুখে পুরে বললো,
~তা আপনারও তো বোনের বিয়ে একটু কাজে সাহায্য করতে পারেন।নয়নার পিছে পিছে ঘুরছেন কেন?
সায়েম বললো,
~আপনি কী নয়নাকে পছন্দ করেন?
সায়েমের এমন প্রশ্ন শুনে বড় বড় চোখ করে তাকালো প্রলয় সায়েম আবার বললো,
~আপনি যদি আমাকে নিয়ে কোনো সন্দেহ করে থাকেন তাহলে সেই কাজটা ভুল করছেন।আমার পছন্দ অন্য কেউ
বলেই সে ফারিহার দিকে একনজর তাকিয়ে অন্যদিকে চলে গেলো। প্রলয় এখনো নিজ ভাবনায় ব্যস্ত সে একপলক নয়নার দিকে তাকিয়ে হাতের সিগারেটটা মাটিতে ফেলে তা পা দিয়ে পিষে ফেললো।
মাহিন নয়নার হাত ধরে তাকে একটা রুমে নিয়ে গেলো নয়না ভয়ে চুপসে গেছে।মাহিন বললো,
~প্রলয়ের আশেপাশে যাতে তোকে না দেখি।নিজের বয়সটা আর প্রলয়ের বয়সটা দেখেছিস যে তুই ওর সাথে মজা করতে থাকিস।আর যাতে এসব না দেখি একদম চুপচাপ থাকবি বিয়ে শেষ হলেই তুই আমার সাথে চলে যাবি।
একনাগাড়ে কথা গুলো বলে মাহিন নয়নাকে রেখে রুম থেকে বের হয়ে আসলো নয়না কান্নায় ভেঙ্গে পরলো মাহিনের কান্ডে।
প্রহেলী আর পরশের বিয়ের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেলো কাজী সাহেব তাদের বিয়ে পড়ানোর কাজ শুরু করলো।প্রথমে প্রহেলীর কাছে চলে আসলো কাজী সাহেব প্রহেলীকে কবুল বলতে বললো প্রহেলী একটু সময় নিয়ে কবুল বলে দিলো এখন পরশের পালা।কবুল পড়ানোর আগে আমরুল সিকদার পরশের কানে ফিসফিস করে বললেন,
~আমার একাউন্টে টাকা এসে পরেছে তুমি কিন্তু আবার টেনশন ফ্রী হয়ে যেও না আমার পাওনা এখনো বাকি আছে।
পরশ তার এক ভ্রু উঁচু করে বাঁকা হেসে বললো,
~আপনার সকল পাওনা আমি পরিশোধ করে দিবো।
কাজী সাহেব পরশকে কবুল বলতে বললেন পরশ কবুল বলে দিতেই বিয়ের কার্যক্রম শেষ হলো।পরশ আর প্রহেলী এখন চিরসঙ্গী হয়ে গেছে এক পবিত্র বন্ধনে তারা আবদ্ধ হয়েছে।সকল দুঃখে সুখে তারা এখন একসাথে থাকবে জীবনের প্রতিটি ধাপে তারা একসাথে চলবে।তারা যাতে সর্বদা সুখে থাকুক তাই আমাদের ইচ্ছা।

______________

বিয়ের কার্যক্রম শেষ হতেই সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।প্রলয় প্রহেলী কাছে গিয়ে বললো,
~আমি যা করেছি তার জন্য ক্ষমা করে দিও আসলে
প্রলয়কে থামিয়ে দিয়ে প্রহেলী বললো,
~পরশ সব বলেছে আপনি ভুল বুঝে এমনটা করেছেন আমি ক্ষমা করলাম আপনাকে।আর হ্যাঁ আপনার জীবনে একটা মিষ্টি মেয়ে বউ হয়ে আসুক এই একাকিত্ব জীবন থেকে আপনি খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবেন।
প্রলয় আলতো হেসে বললো,
~তুমিও সুখী থাকো এই আমার দোয়া।
তখনই নয়না এসে প্রহেলীকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠলো প্রহেলী অনেকটাই অবাক নয়নার কান্না শুনে।প্রলয়ও অবাক নয়নে তার দিকে তাকিয়ে আছে প্রহেলী নয়নাকে ছাড়িয়ে তার গালে হাত রেখে বোনের চেহারাটা ভালো করে দেখলো তারপর বললো,
~কী হয়েছে?এভাবে কাঁদছিস কেন?
নয়না নাক টানতে টানতে বললো,
~মাহিন ভাইয়ের সাথে এখনই চলে যাচ্ছি তুমি তো এবাসায়ই থেকে যাবে তোমাকে অনেক মিস করবো।
বলেই আবার প্রহেলীকে জড়িয়ে ধরলো প্রহেলী নয়নার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
~এখন কেউই যেতে পারবেনা আমার যে সবার সাথে কথা আছে।তুই মাহিনকে আমার কাছে পাঠা আমি কথা বলছি
নয়না খুশি হয়ে প্রহেলীকে ছেড়ে দিয়ে বললো,
~আমি এখনই ডেকে নিয়ে আসছি।
নয়না চলে যেতেই প্রলয়ের ধ্যান ভাঙ্গলো সেও নয়নার পিছন পিছন হাঁটা ধরলো।নয়না মাহিনকে পাঠিয়ে দিলো প্রহেলীর কাছে তারপর সে ফারিহার কাছে চলে আসতে নিবে তখনই কেউ তাকে হেঁচকা টান মেরে রুমের ভিতর ঢুকিয়ে দিলো।আর দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো নয়না ভয়ে চোখ-মুখ খিচে আছে ওর চোখ দুটো বন্ধ কান্না করার ফলে নাকটা লাল হয়ে আছে।নয়না সামনের ব্যক্তির কোনো হেলদোল বুঝতে না পেরে পিটপিট করে চোখ খুলে দেখলো প্রলয় তার দিকে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।নয়না এই দৃষ্টির মানে বুঝতে পারছেনা সে রেগে গিয়ে বললো,
~এসব কী করছেন আপনি ছাড়েন?মাহিন ভাই দেখলে আস্তো রাখবেনা আমায় আপনার জন্য কতো বকা খেয়েছি জানেন?
প্রলয় কিছু না বলে নয়নাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো নয়না নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পরলো প্রলয় তাকে আরো জোরে চেপে ধরলো আর বললো,
~আমাকে সামলে রাখতে পারবে তুমি?
প্রলয়ের কথার আগাগোড়া কিছুই বুঝতে পারছেনা নয়না সে বললো,
~কী বলছেন এগুলো?
প্রলয় নয়নার কোমড় জড়িয়ে নিজের কাছে টেনে বললো,
~আমার একাকিত্ব তুমি দূর করতে পারবে।আমি এবার আমার মনের কথাই শুনলাম
বলেই সে নয়নাকে ছেড়ে দিলো আর রুম থেকে বের হয়ে আসলো সোজা চলে গেলো পরশের কাছে।নয়না এখনো বোকার মতো সেখানেই দাড়িয়ে আছে ফারিহা নয়নাকে রুমের ভিতরে দেখে তাকে নিয়ে প্রহেলীর কাছে চলে আসলো।
সব মেহমান চলে যেতেই প্রহেলী হলরুমে নিজ পরিবার আর পরশদের একত্রিত করলো।আমরুল সিকদার বললেন,
~রাত অনেক হচ্ছে সবাই বিশ্রাম নিতে চায় তুমি এই অসময় কেন সবাইকে ডেকেছে?
প্রহেলী কিছু পেপারস টেবিলের উপর রেখে বললো,
~অসময় না এটাই ঠিক সময় আমার দায়িত্ব পালন করার।
মারিয়া সিকদার বললেন,
~এতো বছর পর দায়িত্ব কীভাবে মনে পরলো?
রাবেয়া সিকদার বললেন,
~এতো কথা কেন বলছো?চুপ থাকো।
প্রহেলী বললো,
~আমি সম্পত্তি ভাগ করেছি।
প্রহেলীর কথা শুনে পরশ, আমেনা সিকদার, আর জামিলা সিকদারা সবাই অবাক।আমরুল সিকদার পরশের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো পরশ মনে মনে বললো,
~এখন তো খেলা শুরু।
প্রহেলী বললো,
~আমি সম্পত্তির এক ভাগ মাহিনের নামে,আরেকভাগ নয়নার নামে আর একভাগ দাদী আর আমার মায়ের নামে করেছি।দোকান শুধু আমার নামে
প্রহেলীর কথা শুনে আমরুল সিকদারের মাথাশ আকাশ ভেঙে পরলো সে পরশের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে মিটমিট করে হাসছে।প্রলয় আর রুমানা তালুকদারও খুশি হয়েছে আমরুল সিকদার রেগে গিয়ে চিৎকার করে বললেন,
~এতো বড় ধোঁকা তাও আমার সাথে পরশ তালুকদার তুমি তোমার ওয়াদা রাখোনি।
পরশ বললো,
~কোন ওয়াদা বাবা?
আমরুল সিকদার চুপ হয়ে গেলেন তিনি কিছু বললেই নিজেরই ভান্ডা ফুটে যাবে তাই সে চুপ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো।প্রহেলী একবার পরশের দিকে তাকালো পরশ ইশারায় বুঝালো সব ঠিক হয়ল যাবে।
প্রহেলী বললো,
~তোমরা সবাই এখানেই থাকবে আজ মাহিন নয়নার উপর আর কোনোদিন হাত উঠাবিনা সব খবর আমার কানে আসে।

__________________

ফারিহা প্রহেলীকে পরশের রুমে দিয়ে আসলো প্রহেলী লাগেজ থেকে একটা শাড়ি নিয়ে চেঞ্জ করতে চলে গেলো।পরশ রুমে এসে দেখলো প্রহেলী নেই আশেপাশে তখনই ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজ আসে প্রহেলী ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পরশকে দেখতে পেলো।প্রহেলী কোনো কথা না বলে টাওয়ালটা বারান্দায় দিয়ে চলে আসলো আয়নার সামনে।পরশ নিজ কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো রুমে পিনপতন নীরবতা। প্রহেলী বাহির থেকে নিজেকে শান্ত রাখছে কিন্তু ভিতরে তার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
প্রহেলী আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল চিরুনি করা শুরু করলো পরশ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলো।একবার প্রহেলীর দিকে তাকিয়ে বিছানায় ল্যাপটপ নিয়ে বসে পরলো তা দেখে প্রহেলী মনে মনে বললো,
~বাসর রাতেও এই মানুষটার কাজ করতে হবে?রসকষহীন মানুষ একবার বললো না যে প্রহেলী আজ তোমায় অনেক সুন্দর লাগছিল বিয়ের সাজে।
এসব ভাবছে আর রাগে ফুসছে সে। প্রহেলী চিরুনিটা খট করে রেখে দিলো তার আওয়াজ পেয়ে পরশ বললো,
~প্রহেলী,একটা জরুরি কাজ করছি প্লিজ আওয়াজ করো না।
প্রহেলী নিজের রাগকে কন্ট্রোল করে বললো,
~হ্যাঁ আজকে তো আপনার কাজটাই জরুরি।
পরশ প্রহেলীর রাগ বুঝতে পেরে মুচকি হেসে ল্যাপটপটা সাইডে রেখে প্রহেলীর কাছে গিয়ে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~রাগ করে আছো।
প্রহেলী পরশের স্পর্শ পেয়ে কেঁপে উঠলো পরশ প্রহেলীকে ছেড়ে দিলো পরশ তাকে কোলে তুলে নিলো আর বিছানায় বসিয়ে দিয়ে বললো,
~আজকে আমাকে সেই অধিকারটা দিবে প্রহেলী।তোমাকে আমি আপন করতে চাই নিজের করে পেতে চাই তোমার মনের প্রতিটি কোণায় আমি নিজের অবস্থান চাই।তুমি কী আমায় সেই অধিকার দিবে?
প্রহেলীর সকল কথা হারিয়ে গেছে সে তো ডুব দিতে চায় পরশের ভালোবাসায়।প্রহেলী পরশকে জড়িয়ে ধরলো খুবই শক্ত করে পরশ প্রহেলীর কথা বুঝে নিলো জড়িয়ে ধরলো পরম আদরে।
প্রহেলীকে শুইয়ে দিয়ে তার গলায় মুখ গুজে হারিয়ে গেলো অন্য জগতে তাদের ভালোবাসার জগতে সেখানে শুধু তাদের অবস্থান।রাত যতো গভীর হচ্ছে তারা দুজনও ভালোবাসার সাগরের গভীরে চলে যাচ্ছে।

চলবে

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here