মনের অন্তরালে পর্ব -১১+১২

0
40

#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ১১
তারা ৪জনই রাতের খাবার শেষ করে হোটেলে চলে আসলো। ১২টা বাজতে ৫মিনিট বাকি তাই প্রলয় নয়নাকে নিয়ে হোটেলের পিছন গেইট দিয়ে চলে যায়।
পরশ প্রহেলীর চোখ একটা কাপড় দিয়ে বেঁধে দেয় প্রহেলী অনেকটাই অবাক হয়ে বললো,
~কী করছেন চোখ কেন বাঁধছেন?
পরশ বললো,
~হুসস একদম চুপ থাকো সব বুঝতে পারবে।
প্রহেলীর হাত ধরে পরশ তাকে হোটেলের ভিতর প্রবেশ করালো।তারপর পরশ প্রহেলীর চোখ থেকে কাপড়টা সরিয়ে দিলো প্রহেলী পিটপিট করে চোখ খুলে দেখলো পুরো হোটেল অন্ধকারে আচ্ছন্ন।প্রহেলী ঘাবরে গিয়ে আশেপাশে পরশকে খুঁজতে লাগলো কিন্তু কোথাও পেলো না।হঠাৎ হোটেলের সব লাইট জ্বলে উঠলো আর সবাই একসাথে বলে উঠলো,
~Happy birthday to you.
প্রহেলী অবাক হয়ে সবার দিকে তাকিয়ে আছে।পুরো হোটেল সুন্দর করে সাজানো প্রহেলী তো ভুলেই গিয়েছিল আজ তার জন্মদিন।নয়না প্রহেলীকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~Happy birthday আপুনি।
প্রহেলী বললো,
~ধন্যবাদ।
প্রলয় এগিয়ে এসে বললো,
~Happy birthday.এটা তোমার জন্য
হাতে থাকা বক্সটা এগিয়ে দিলো সে প্রহেলীর দিকে
প্রহেলী বললো,
~ধন্যবাদ।আর আপনাদের সবার মনে ছিল
তখনই পরশ বললো,
~কেন মনে থাকবেনা?
প্রহেলী পরশের দিকে তাকিয়ে বললো,
~মা,দাদী,ফারিহা,আর নয়না ছাড়া কেউ wish করেনা তাই এমনটা বললাম।
পরশ বললো,
~এখন থেকে সবার মনে থাকবে।
প্রহেলী মুচকি হেসে সামনে এগিয়ে গেলো পরশ প্রহেলীর হাত শক্ত করে ধরে বললো,
~Happy birthday proheli my queen.
তারপর প্রহেলী কেক কেটে সবাইকে খাইয়ে দিলো।বাড়ির সবার সাথে আর ফারিহার সাথে ভিডিও কলে কথা বললো।সবাই তাকে wish করলো সব কিছু শেষে পরশ আর প্রহেলী নিজ রুমে এসে পরলো।রুমে গিয়ে তো প্রহেলীর মুখ হা হয়ে গেলো পুরো রুম গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো।পরশ প্রহেলীর হাত একটা প্যাকেট দিয়ে বললো,
~এটা পরে আসো।
প্রহেলী হাতে থাকা প্যাকেটটা দেখে বললো,
~এতে কী আছে?
পরশ বললো,
~ওয়াশরুমে গিয়ে দেখে নেও।
প্রহেলী ওয়াশরুমে গিয়ে প্যাকেট খুলে দেখলো একটা কালো গাউন।প্রহেলীর মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠলো সে আর দেরি না করে গাউনটা পরে নিলো সাথে আছে কালো পাথরের গহনার সেট।প্রহেলী চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে বাহিরে এসে দাড়ালো পরশ তখন মোবাইল নিয়ে বসে আছে প্রহেলী বললো,

_____________

~আমি রেডি।
প্রহেলীর কন্ঠস্বর শুনে পরশ মাথা তুলে তার দিকে তাকালো।পরশ প্রহেলীকে দেখে একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেলো পরশ ধীর পায়ে উঠে প্রহেলীর একদম কাছে গিয়ে তার কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।প্রহেলী লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো পরশ প্রহেলীকে ছেড়ে দিয়ে কোলে তুলে নিলো।প্রহেলী পরশের দিকে তাকালো পরশ ধীর পায়ে হেঁটে বারান্দায় নিয়ে গেলো।প্রহেলীকে কোল থেকে নামিয়ে দোলনায় বসিয়ে দিলো প্রহেলীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বললো,
~প্রহেলী,তুমি জানো আমি কোনদিন তোমায় প্রথম দেখেছিলাম?
প্রহেলী ভ্রুকুচকে বললো,
~জানবো না কেন?৬ মাস আগে বাবাই তো আপনাকল বাসায় নিয়ে গিয়ে ছিল?
পরশ হালকা হেসে বললো,
~নাহ তোমাকে আমি প্রথমদিন দেখেছিলাম ৭মাস আগে তাও রাস্তায়। তুমি ভার্সিটি যাচ্ছিলে তখন তুমি একটা বস্তির বাচ্চাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছিলে।সেদিন থেকেই আমি তোমার সব ইনফরমেশন কালেক্ট করতে থাকি।
প্রহেলী বললো,
~এর মানে আমার পিছে পিছে ঘুরছিলেন তাও আমার অগোচরে।
পরশ হেসে বললো,
~জ্বী ম্যাডাম। এই কাজটা করেই তো তোমাকে বাঁচাতে পেরেছি।
প্রহেলী বললো,
~বাঁচাতে পেরেছেন মানে?
পরশ দাড়িয়ে পরলো তারপর বললো,
~তোমার বাবা তোমাকে মারার প্লান করেছিল।
প্রহেলীর জন্য এতটুকু কথাই যেনো যথেষ্ট ছিল তাকে গুড়িয়ে তোলার জন্য তার নিজ বাবা তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।এতোটা ঘৃণা করেন আমায় নিজ মেয়েকে এতোটা ঘৃণা করেন সে।
পরশ বললো,
~সেদিনই আমি তোমার বাবার সাথে দেখা করি আর বলি যে তোমাকে যাতে কোনো ধরনে আঘাত না করে।আমার সাথে বিয়ে হওয়ার পর সকল সম্পত্তি তার নামে করিয়ে দিবো।কিন্তু আমি জানি সে কতোটা নিচ তাই আমিই তোমাকে বলি সকল সম্পত্তি ভাগ করে দিতে।
প্রহেলী নিশ্চুপ হয়ে সব কথা শুনলো পরশ প্রহেলীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তার গালে হাত রেখে বললো,
~আমি যা করেছি তোমার ভালোর জন্য করেছি তুমি কী আমার উপর অভিমান করেছো।
প্রহেলী নিজ নীরবতা ভেঙ্গে বললো,
~আপনি তো আমার পর হয়ে কতোটা ভালোবেসেছেন আর আমার বাবা আমাকে কতোটা ঘৃণা করেছে।আপনার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই আর আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আপনার সাথে কিছু একটা চলছে তাই তো চুপ ছিলাম।
বলেই সে পরশকে জড়িয়ে ধরলো পরশ প্রহেলীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।
রাত গভীর হচ্ছে ঘুম নেই প্রহেলীর চোখে পরশ তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোচ্ছে। প্রহেলী ঢাকা ফেরার পরপরই সে আমরুল সিকদারের সাথে কথা বলবে।
প্রলয় ঘুমিয়ে পরেছিল কিন্তু কারো ফুঁপানোর আওয়াজ শুনে ভেঙ্গে যায় প্রলয় সোফা থেকে উঠে বিছানার দিকল তাকিয়ে দেখলো নয়না কাঁদছে। প্রলয় তাড়াহুড়ো করে বিছানায় গিয়ে বসে নয়নাকে বললো,
~নয়না কী হয়েছে তোমার কাঁদছো কেন?
বলতে বলতে সে নয়নার শরীরে হাত দিয়ে বুঝতে পারলো নয়নার অনেক জ্বর উঠেছে।

_____________

প্রলয় নয়নাকে নিজের কাছে ঘুরিয়ে বললো,
~বলেছিলাম এতো পানিতে ঝাঁপাঝাপি করো না কিন্তু আমার কথা কে শুনে?
প্রলয় নয়নাকে বিছানায় ভালোমতো শুইয়ে দিয়ে কম্বল দিয়ে তাকে ডেকে দিলো।প্রলয় হোটেল রিসিপশনে ফোন করে বললো,
~এক বাটি ফ্রেশ পানি ৩০৪ নং রুমে পাঠিয়ে দিন আর একটা থার্মোমিটারের ব্যবস্থা করুন।
প্রলয় ফোন রেখে আবার নয়নার কাছে গিয়ে বসে পরলো হঠাৎ নয়না উঠে বসে প্রলয়ের উপর বমি করে দেয়।সবচেয়ে আজব ব্যাপার হলো প্রলয় এতে কোনো রাগ দেখালো না উল্টো নয়নাকে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে মুখ-হাত ধুইয়ে দিলো।নয়নার জামা-কাপড় নষ্ট হয়নি বলে প্রলয় মনে মনে আল্লাহকে শুকরিয়া জানালো।
বেডশিট নিজেই চেঞ্জ করলো হোটেলের কার্বাডে একস্ট্রা বেডশিট ছিল।তারপর নয়নাকে শুইয়ে দিয়ে নিজে ফ্রেশ হয়ে আসলো ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দরজায় কেউ নক করলো।প্রলয় দরজা খুলে দেখলো হোটেলের স্টাফ প্রলয় হাত থেকে বাটিটা আর থার্মোমিটার নিয়ে নিলো তখনই সেই ছেলেটি বললো,
~স্যার,জ্বরের ঔষধটা।
প্রলয় বললো,
~ঔষধ কোথা থেকে পেলো।
সেই ছেলেটি বললো,
~আসলে অনেক guest দেরই এই প্রবলেম টা হয়ে যায় তাই আমরা ডাক্তারের সাথে কানেক্ট হয়েই থাকি কিন্তু রাত হওয়ার কারণে ডাক্তার আসতে পারিনি।কিন্তু ফোন করে এই ঔষধটার নাম জেনে নিয়েছি।
প্রলয় বললো,
~আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
প্রলয় দরজা বন্ধ করে দিলো নয়নার কাছে গিয়ে জলপট্টি দিতে লাগলো থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর পরীক্ষা করলো।নয়নার কোনো হেলদোল নেই প্রলয় সারা রাত নয়নার সেবায় কাটিয়ে দিলো।
সকালে আধো আধো চোখ খুলে নয়না প্রলয়কে নিজের অনেক কাছে পায়।দূর্বলতার কারণে সে উঠে বসতে পারলোনা প্রলয়ের ঘুমটাও ভেঙ্গে যায়।প্রলয় নয়নাকে দেখে বললো,
~তোমার শরীরটা এখন কেমন?
নয়না বললো,
~অনেক খারাপ লাগছে মাথা ব্যাথা করছে।
প্রলয় বললো,
~ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নেও দেখবে ভালো লাগবে।
নয়না বললো,
~হেটে যেতে পারবো না।
প্রলয় নয়নাকে কোলে তুলে নিলো তারপর ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে বললো,
~ফ্রেশ হয়ে বের হও।
প্রলয় নাস্তার অর্ডার দিয়ে পরশকে ফোন দিলো পরশ ফোন উঠাতেই প্রলয় বললো,
~নয়নার ভীষন জ্বর আমি রুমেই নাস্তার অর্ডার দিয়েছি তোরা চলে আয়।
পরশ বললো,
~কী বলিস?নয়নার জ্বর
প্রহেলী পরশের দিকে তাকালো পরশ আশ্বাস দিলোসব ঠিক আছে।

___________

প্রহেলী নয়নার পাশে বসে আছে নয়নার শরীরটা অনেকটাই ভালো।কিন্তু নয়না ঢাকায় ফিরতে চায় আর পরশও তাই চাইছে।প্রলয় বললো,
~তাহলে ১ঘন্টা পর রওনা হই।
পরশ বললো,
~হুম
নয়না বললো,
~আমার জন্য আপুরা কেন যাবে তারা থাকুক না।
প্রহেলী বললো,
~একদমই না আর আমরা দুজনই আমাদের বাসায় যাবো এখান থেকে।মা আর দাদীও সেই বাসায়।
প্রলয় বললো,
~তোমাদের বাসায় যেতে হবে না।
প্রহেলী বললো,
~আমি যা বলিছি তাই হবে।
১ঘন্টা পর তার রওনা হলো প্রহেলী নয়নাকে জড়িয়ে ধরে আছে নয়নার জ্বরটা আরো বেড়েছে।
প্রলয় অনেটাই চিন্তিত ডাক্তার দেখাতেই হবে না হলে প্রবলেম বাড়বে।তাই প্রলয় বললো,
~ঢাকায় পৌছে আগে ডাক্তার দেখাতে হবে।
পরশ বললো,
~হুম ঠিক বলেছিস।
প্রহেলী বললো,
~জ্বর কিন্তু বেড়েছে।
প্রলয় কিছু না বললো না সে রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইলো।
#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ১২
ঢাকায় পৌছাতেই নয়নাকে ডক্টর দেখানো হয় ডক্টর সব কিছু চেক করে বললেন নয়না ঠিক আছে পরিবেশ পরিবর্তনের কারাণে এই অবস্থা সে কিছু মেডিসিন লিখে দিলো আর বললো নয়নার খেয়াল রাখতে।
পরশ আর প্রলয় দুজনই হাফ ছেড়ে বাঁচলো ডক্টরের কথা শুনে প্রহেলী আর নয়নাকে তাদের বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে পরশ বললো,
~প্রলয়,নয়নাকে উপরে দিয়ে আয়।
প্রহেলী বললো,
~আমি নিয়ে যেতে পারবো আর ২দিন এখানেই থাকবো।
প্রলয় বললো,
~আমি নয়নাকে দিয়ে আসি।
বলেই সে নয়নার একহাত ধরে আস্তে আস্তে উপরে নিয়ে যেতে লাগলো।পরশ বললো,
~প্রহেলী,আমি আগামীকাল আসবো আজ মাকে নিতে একটু মামার বাড়ি যেতে হবে।
প্রহেলী বললো,
~মাকে সাথে করে আগামীকাল নিয়ে আসবেন।
পরশ বললো,
~আচ্ছা।
তাদের কথার মাঝেই প্রলয় এসে পরলো প্রহেলী তাদের বিদায় দিয়ে উদাস মনে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে পরলো।বাসার দরজা খোলা থাকায় সে ভিতরে ঢুকে পরলো আর প্রথমেই তার দেখা হলো আমেনা সিকদারের সাথে মাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~কেমন আছো মা?
আমেনা সিকদার বললেন,
~ভালো।তুই কেমন আছিস?
প্রহেলী বললো,
~আছি ভালোই।
আমেনা সিকদার বললেন,
~নয়নার এতোটা শরীর খারাপ হলো কী করে?
প্রহেলী গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বললো,
~কক্সবাজারের আবহাওয়া ওকে মানায়নি মা।
তখনই মারিয়া সিকদার উপস্থিত হলেন আর বললেন,
~প্রহেলী,মেয়েটার জ্বরটা কমেছে মেডিসিন গুলো কোথায়?
প্রহেলী হাতে থাকা প্যাকেটটা এগিয়ে দিলো মারিয়া সিকদার বললেন,
~আমার মেয়েটার খেয়াল রাখার জন্য ধন্যবাদ।
প্রহেলী বললো,
~আমার বোনের খেয়াল আমিই তো রাখবো বলুন।
মা তুমি সব কিছু গুছিয়ে নিয়ো ২দিন পর তুমি আমার সাথে যাবে।
মারিয়া সিকদার বললেন,
~সে কি বুবু কোথায় যাবে?
প্রহেলী বললো,
~আমার সাথে যাবে এ বাড়ি এখন আপনার সন্তানদের আমার মায়ের সন্তান আমি তাই সে আমার সাথে থাকবে।
জামিলা সিকদার সেখানে চলে আসলেন আর এসব শুনে বললেন,
~তাহলে তোর দাদী কী দোষ করেছে? আমাকেও সাথে নিয়ে চল।
প্রহেলী বললো,
~তোমার সন্তানকে ছেড়ে যেতে পারবে।
জামিলা সিকদার বললো,
~তুই নিয়ে গেলে যাবো।
প্রহেলী কিছু না বলে মুচকি হেসে তার নিজ রুমে চলে আসলো বারান্দায় গিয়ে টবের মরে যাওয়া ফুলটির দিকে তাকিয়ে বললো,
~সব কিছুরই শেষ আছে।
মারিয়া সিকদার রান্নাঘরে দাড়িয়া নয়নার জন্য সুপ রাঁধছেন আর ভাবছে,
~এরকম কেন হলো?প্রহেলী কেন এই সিদ্ধান্ত নিলো?
হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠলো মারিয়া সিকদার হাতের কাজ রেখে দরজা খুলতে চলে গেলেন।দরজা খুলেই দেখতে পেলেন আমরুল সিকদার আর মাহিন দাড়িয়ে আছে।আমরুল সিকদার বললেন,
~নয়নার শরীর কেমন এখন?
মারিয়া সিকদার বললেন,
~এখন ভালোই।
তারা দুজন রুমে চলে গেলেন প্রহেলী নিশ্চুপ ভাবে আমরুল সিকদারের রুমে ডুকে পরলেন।যেমনটি ছোটবেলায় ঢুকতো আমরুল সিকদার প্রহেলীকে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন,
~যা বলার তাড়াতাড়ি বলো।

_______________

প্রহেলী বললো,
~আমি কী আপনার নিজ সন্তান?
প্রহেলীর মুখে এমন কথা শুনে ভরকে যান আমরুল সিকদার সে মেয়ের মুখের দিকে তাকাতেই তার বুক কেঁপে উঠলো।এই কয়েক বছর পর প্রথম সে প্রহেলীকে কাঁদতে দেখছেন প্রহেলী কোনো জবাব না পেয়ে বললো,
~মায়ের সব সম্পত্তি আপনার নামে করে দেওয়া হয়েছে আমি মাকে নিয়ে চলে যাবো।আশা করি আপনার কোনো কিছু আমাট কাছে অবশিষ্ট নেই।
আমরুল সিকদার চুপ করে আছেন কিছুই বলছেন না তার মনে ঝড় উঠেছে।প্রহেলী বললো,
~আমি কী জানতে পারি আপনি কেন আমাকে মারতে চেয়েছেন?
আমরুল সিকদার করুন চোখে প্রহেলীর দিকে তাকালো প্রহেলী বললো,
~থাক বলতে হবে না দাদীও আমার সাথে যেতে চায়।কিছুদিন থাকার পর আমি তাকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দিবো।
বলেই প্রহেলী রুম থেকে বের হয়ে গেলো আমরুল সিকদার সেখানেই দাড়িয়ে রইলো।সম্পত্তির লোভে সে নিজ সন্তানকেই মেরে ফেলতে চেয়েছিল তাদের দুজনের সবকথাই মারিয়া সিকদার শুনেছে তার কেন যেন প্রহেলীর জন্য খারাপ লাগতে শুরু করলো মেয়েটা সেই ছোটবেলা থেকে একা লড়ছে।মারিয়া সিকদার রুমে ঢুকে স্বামীর দিকে তাকিয়ে ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে ওয়াশরুম চলে গেলো।
২দিন পর
এই দুদিনে আমরুল সিকদার কারো সাথেই ভালো মতো কথা বলিনি।আজ প্রহেলী আর নয়না চলে যাবে তাই প্রলয় আর পরশ আসবে।সবাই আয়োজনে ব্যস্ত আমেনা সিকদার বললেন
~মারিয়া,তুৃমি যদি অনুমতি দাও তাহলে নয়নার বাবার সাথে একান্তে কিছু কথা বলতাম।
মারিয়া সিকদার আমেনা সিকদারের দুহাত ধরে বললো,
~অবশ্যই বুবু।
আমেনা সিকদার বললেন,
~একটু কাজটা সামলাও।
আমেনা সিকদার তার রুমের কার্বাড থেকে বড় বক্স বের করে চলে আমরুল সিকদারের রুমে।
আমরুল সিকদার চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন আমেনা সিকদার বললেন,
~আমি ভিতরে আসতে পারি?
আমরুল সিকদার চোখ খুলে তাকালেন আমেনা সিকদারকে দেখে উঠে বসলেন আর বললেন,
~আসো।
আমেনা সিকদার ভিতরে ডুকে হাতের বক্সটা বিছানায় রেখে বললো,
~এটার ভিতরে আমার বিয়ের সব গহনা আছে আর নাকফুলটা আমি নিয়ে যেতে চাই।
আমরুল সিকদার বললেন,
~তোমার জিনিস আমায় কেন দিচ্ছো?
আমেনা সিকদার বললেন,
~আমার এখানে কিছুই নেই মাফ করবেন। এগুলো এতবছর আমি সামলিয়ে রেখেছি মাহিনের জন্য আমার ছেলের বউকে আমি এগুলো দিতে চাই।
বলেই আমেনা সিকদার রুম থেকে চলে আসলো আমরুল সিকদার একবার বক্সের দিকে তাকিয়ে বক্সটা হাতে নিয়ে ভাবতে লাগলো,
~আমার ভাবনাই কী তাহলে ভুল?প্রহেলী আর আমেনা তো নিজের সবকিছু আমায় দিয়ে চলে গেলো এতোটা স্বার্থপর কী করে হলাম?
তার ভাবনার মাঝে ঘরে প্রবেশ করলো মারিয়া সিকদার তাকে দেখে আমরুল সিকদার হাতের বক্সটা এগিয়ে দিয়ে বললো,
~আলমারিতে তুলে রাখো এটা।
মারিয়া সিকদার বললেন,
~আমি তো ভাবতাম আমিই বুঝি খারাপ কারণ অন্যের সংসারে আগুন দিয়ে নিজ সংসার গড়েছি।কিন্তু আপনি তো নিজ মেয়েকে মেরে ফেলতে চেয়েছেন।
পরশ,প্রলয় আর রুমানা তালুকদার এসে পরেছেন প্রহেলী, নয়না আর আমেনা সিকদার সব গুছিয়ে নিয়েছেন প্রহেলী জামিলা সিকদার কে বুঝিয়ে এখানেই রেখে যাচ্ছে।
প্রহেলী নয়নার হাত ধরে বললো,

________________

~বোন আমার আমি জানি তুই ছোট কিন্তু সংসারের হাল ধরতে হবে।প্রলয় তোকে অনেক সাহায্য করবে এগিয়ে যেতে পড়াশোনা মন দিয়ে করবি কোনো সাহায্য লাগলে আমাকে জানাবি।আমি তোর পাশে আছি তুই তো আমার লক্ষ্মী বোন সবকিছু বুঝিস।সুখে থাক অন্যকেও সুখে রাখ।
নয়না প্রহেলীকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~আপু,আমি তোমার সাথে দেখা করতে যাবো প্রতি সপ্তাহে তুমিও যাবে আমার বাসায় বড়মাকে নিয়ে।
প্রহেলী বললো,
~অবশ্যই যাবো।
তখনই দরজায় টোকা পরলো প্রহেলী নয়নাকে ছেড়ে দিলো দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো আমরুল সিকদার দাড়িয়ে আছে।নয়না হাসি মুখে বললো,
~বাবা ভিতরে আসো বাহিরে কেন দাড়িয়ে আছে?
আমরুল সিকদার একবার প্রহেলীর দিকে তাকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো।প্রহেলী নিজ কাজ করতে লাগলো বোঝাই যাচ্ছে আমরুল সিকদারের আগমনে তার কোনো ভাবান্তর নেই।আমরুল সিকদার নয়নার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
~ভালোভাবে থাকবি পড়াশোনায় মনোযোগ দিবি।আর কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাবি।
নয়না বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~অবশ্যই জানাবো বাবা।
আমরুল সিকদার নয়নার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন আর প্রহেলীকে দেখতে লাগলেন।প্রহেলী নিজ কাজে ব্যস্ত এখানে তার কোনো খেয়াল নেই।
নয়না আমরুল সিকদারকে ছেড়ে দিয়ে বললো,
~আমি দাদীর কাছে গেলাম।
নয়না চলে গেলো আমরুল সিকদার প্রহেলীর কাছে এসে বললো,
~প্রহেলী মা তোমার সব গুছানো শেষ?
প্রহেলী অবাক নয়নে আমরুল সিকদারের দিকে তাকালো পরক্ষনেই মনে পরলো সবকিছু পরিশোধ করা হয়ে গেছে তাই হয়তো এতো ভালোবাসা।
প্রহেলী বললো,
~হ্যাঁ সব গোছানো শেষ আর দাদীকে বুঝিয়ে দিয়েছি সে কোথাও যাবে না।
আমরুল সিকদার আরো কিছু বলতে যাবেন তার আগে পরশ রুমে প্রবেশ করলো।পরশকে দেখে আমরুল সিকদার চলে গেলেন প্রহেলী পরশকে দেখে বললো
~আপনার শরীরটা কেমন?
পরশ বললো,
~ভালো।
বলেই সে প্রহেলীকে জড়িয়ে ধরলো প্রহেলী বললো,
~মা আমাদের সাথে যাচ্ছে তাতে কী কোনো সমস্যা হবে?
পরশ বললো,
~কোনো সমস্যা হবে না তুমি ওসব নিয়ে চিন্তা করো না।
তারা সবাই দুপুরের খাওয়ার পর রেস্ট নিয়ে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সবার থেকে বিদায় নিতে লাগলো।
মারিয়া সিকদার আমেনার হাত ধরে বললো,
~বুবু,আপনার বাসা ছেড়ে কোথাও যেতে হবে না আমরা সবাই একসাথে থাকবো।
আমেনা সিকদার বললেন,
~ভালো থেকো ওনার খেয়াল রেখো।
আমেনা সিকদার আমরুল সিকদারের কাছে এসে বললেন,
~দোকান এখন আপনার নামে সবকিছু দেখে শুনে রাখবেন।
পরশ,প্রহেলী,আমেনা সিকদার আর রুমানা তালুকদার রওনা হলো। অন্য গাড়িতে নয়না আর প্রলয় রওনা হলো।

____________

প্রলয় বললো,
~তোমার বাবার আজ অনেক খুশি হবে।
নয়না বললো,
~কেন?
প্রলয় বললো,
~প্রহেলী নামের আপদ যে তার জীবন থেকে দূর হয়ে গেলো তাই।
নয়না বললো,
~এভাবে বলবেন না আমি জানি বাবা ভুল করেছে।
প্রলয় বললো,
~কোনোদিন প্রহেলীর হয়ে প্রতিবাদ করেছো?করো নি তাই না?
নয়না চুপ করে রইলো প্রলয় নয়নার হাত ধরে বললো,
~নয়না,প্রহেলী তোমাকে অনেক ভালোবাসে একথাটা মনে রাখবে।
নয়না মাথা দুলালো প্রহেলী বাসায় পৌছে সবকিছু গুছিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো খাবার রাঁধতে তখনই আমেনা সিকদার বললেন,
~তোর করতে হবে না এবাসায় কী বসে বসে খাবো?আমি এসব কাজ করবো।
প্রহেলী কিছু বলবে তার আগে রুমানা তালুকদার বললেন,
~এসব কথা বলবেন না আপা এটা আপনারও বাসা আপনি চলেন দুই বুড়ি মিলে আড্ডা দেই।প্রহেলী সব সামলে নিবে।
এ বলে সে আমেনা সিকদারকে নিয়ে চলে গেলো।
রাতে সবাই একসাথে খাবার শেষ করে যে যার রুমে চলে গেলো পরশ প্রহেলীকে বললো,
~কোনো ধরনের চিন্তা করবে না সব ঠিক হয়ে যাবে।
প্রহেলী পরশের বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরলো একটু শান্তির ঘুম প্রয়োজন।
প্রলয় সোফায় শুয়ে পরলো তখনই নয়না বললো,
~আপনি বিছানার এ সাইডে শুয়ে পরুন কোনো সমস্যা নেই।
প্রলয় বললো,
~তুমি সিউর?
নয়না বললো,
~একদম কোনো সমস্যা নেই।
প্রলয় বিছানার অন্যসাইডে শুয়ে পরলো নয়না নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে শুয়ে পরলো।
সকালে প্রহেলী নাস্তা তৈরি করছে তখনই কলিংবেল বেজে উঠলো প্রহেলী শাড়ির আঁচলে হাত মুছে দরজা খুলে সামনে তাকাতেই হতভম্ব হয়ে গেলো এ মানুষটি এখানে কী করছে?

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here