মনের অন্তরালে পর্ব -১৫+১৬

0
40

#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ১৫
পরশ বাসার সামনে এসে গাড়ি থামালো আমেনা সিকদার আর রুমানা তালুকদার সেই কখন থেকে চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছেন।তারা সবাই গাড়ি থেকে বের হয়ে ভিতরে চলে আসলো হলরুমে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলো সোফায় মাহিন আর তার পাশে বসে আছে বোরখা পরিহিত একজন মেয়ে।প্রহেলী আন্দাজ করে ফেলেছে কী হয়েছে এখানে?মারিয়া সিকদার আমেনা সিকদারকে দেখে তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো আর বললেন,
~দেখেছো বুবু আমার ছেলে কী করেছে?মানসম্মান সব শেষ বুবু আর এসবের জন্য দায়ী মাহিনের বাবা।রোজ ছেলেটা বলতো একবার মেয়েটা দেখে আসো কিন্তু উনি শুনতেনি না উল্টো অকথ্য ভাষায় কথা বলতেন।এখ মন ঠান্ডা হয়েছে তো?
জামিলা সিকদার বললেন,
~এসব কথা বাদ দাও নাতি যেহেতু বউ নিয়ে এসে পরেছে তাহলে এখন আর কিছুই করার নেই।
আমরুল সিকদার হুংকার দিয়ে বললেন,
~আমি এসব বস্তির মেয়েদের আমার ঘরে তুলবোনা।
মাহিন রেগে গিয়ে বললো,
~আমার বউকে এসব বললে খুব খারাপ হবে।আরে আপনি কতো ভালো তা আমরা জানি আপনি তো বস্তির মানুষদের থেকেও ছোট।
আমরুল সিকদার ছেলের মুখে এসব শুনে দ্বিগুন রেগে গিয়ে বললেন,
~এই তুই বাসা থেকে বের হ আমার বাসায় তোর জায়গা নেই।
মাহিন বাঁকা হেসে বললো,
~কোনটা আপনার বাসা? এ বাসা তো নয়না আর আমার ভুলে গেছেন আপনি?
আমরুল সিকদার রাগে ক্ষোভে ফোস ফোস করতে লাগলেন।প্রহেলী এগিয়ে গিয়ে সেই মেয়েকে জিজ্ঞেস করলো,
~তোমার নাম কী?
মেয়েটি অতি শান্তস্বরে বললো,
~আমার নাম ইতি।
প্রহেলী বললো,
~বেশ ভালো নাম। নয়না ইতিকে মাহিনের ঘরে নিয়ে যা।
নয়না ইতিকে নিয়ে মাহিনের রুমে নিয়ে যায়।প্রলয় বললো,
~মাহিন এখন এসব কথা বাদ দেও।ইতির মা-বাবা কী জানে সে এখানে?
মাহিন মাথা-নিচু করে বললো,
~নাহ।
প্রলয় বললো,
~যতদ্রুত সম্ভব তাদের জানানোর ব্যবস্থা করো।আর তোমাদের বিয়ে যেহেতু হয়েই গেছে সেখানে আর কিছুই বলার নেই আমার মতে।তোমরা দুজনই নিজ সম্মতিতে এই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছো।
পরশ বললো,
~যাও ঘরে যাও আর এখন কোনো চেচামেচি করবেনা আশেপাশে কথা ছড়াছড়ি হবে।
মাহিন নিশব্দে ঘরে চলে গেলো প্রহেলী বললো,
~শুনুন এখন যা হওয়ার হয়ে গেছে সেটাকে নিয়তি মেনে স্বীকার করুন।
আমরুল সিকদার কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।প্রহেলী রান্নাঘরে গিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করতে থাকে দুপুরের খাবারটা এইখানেই করার সিদ্ধান্ত নিলো তারা।
নয়না ইতির সাথে বসে আছে ইতি নাক টেনে কাঁদছে তা অনেক খেয়াল করে দেখছে নয়না।ইতি দেখতে অনেক সুন্দর কাঁদার কারণে নাকটা লাল হয়ে আছে।নয়না বললো,
~আপনার বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়েছে এসে পরবে।
ইতি বললো,

_______________

~আমার ছোট বোনটার কথা মনে পরছে।
নয়না হালকা হেসে বললো,
~আপনার ছোট বোনের নাম কী?
ইতি বললো,
~মিতি ওর বয়স ৫ বছর।
নয়না বললো,
~প্রহেলী আপুও আমায় অনেক আদর করে জানেন আর আপনাকেও অনেক আদর করবে।
ইতি বললো,
~প্রহেলী আপু তো তোমার আপন বোন না তাই না?
নয়না বললো,
~প্রহেলী আপু আমার বোন এরকম আর কোনোদিন বলবেন না।
ইতি মাথা নাড়িয়ে চুপ হয়ে বসে রইলো নয়না বললো,
~বড় মা আপনার জন্য কাপড় পাঠিয়েছেন ফ্রেশ হয়ে বাহিরে চলে আসবেন।
নয়না রুম থেকে বের হয়ে চলে গেলো প্রহেলীর কাছে প্রহেলী টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখছে।নয়না এসে বললো,
~আপু,বাবা আসেনি এখন পর্যন্ত?
প্রহেলী বললো,
~পরশ আর প্রলয় দোকানে গিয়েছে তার খোজ নিতে।
নয়না বললো,
~মাহিন ভাই কোথায়?
প্রহেলী বললো,
~দাদীর ঘরে।
মারিয়া সিকদার সেই যে কাঁদছেন আর থেমেই দেখছেন আমেনা আর রুমানা অনেক চেষ্টা করছে।জামিলা সিকদার মাহিনকে নিয়ে তার ঘরে বসে আছেন
জামিলা সিকদার বললেন,
~নাতবউরে আমার কাছে নিয়ে আয় আর শোন মাথায় যাতে ঘোমটা থাকে।
মাহিন বললো,
~নিয়ে আসছি।
মাহিন চলে গেলো ইতিকে আনতে জামিলা সিকদার পান চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন,
~আমার কর্তব্য আমি পালন করে দিচ্ছি।
মারিয়া সিকদার আমেনা সিকদারকে বললেন,
~ছেলেটা কেন যে এমন করলো?
আমেনা সিকদার বললেন,
~মারিয়া,যা হয়েছে তা ভুলে যাও ছেলের বউকে আপন করে নেও।
মারিয়া সিকদার বললেন,
~কতো স্বপ্ন ছিল সব মাটিতে পুঁতে দিলো এই ছেলেটা।
আমেনা সিকদার বললেন,
~সব স্বপ্ন পূরণ হয় না বোন।
রুমানা তালুকদার বললেন,
~প্রহেলী খাবারের জন্য ডাকছে চলেন কিছু খেয়ে নিন।
মারিয়া সিকদার বললেন,
~মাহিনের বাবা এসেছেন?
আমেনা সিকদার বললেন,
~নাহ পরশ আর প্রলয় গিয়েছে সাথে করে নিয়ে আসবে।
মারিয়া সিকদার উঠে দাড়ালেন বাহিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
ইতিকে জামিলা সিকদারের সামনে বসিয়ে রাখা হয়েছে জামিলা সিকদার একটা নেকলেস বের করে ইতির গলায় পড়িয়ে দিয়ে বললো,
~এটা তোমার আমার নাতির বউ তুমি এটার উপর তোমার অধিকার আছে তাই তোমাকে দেওয়া হলো।
ইতি বললো,
~এসব আমি সামলিয়ে রাখতে পারবো না আপনি রেখে দিন।
জামিলা সিকদার বললেন,
~আমার কর্তব্য আমি পালন করেছি তোমার জিনিস তোমায় দিয়েছি।এখন তুমি এটা সামলিয়ে রাখবে।

__________________

আমরুল সিকদার কে নিয়ে ফিরে এসেছে পরশ আর প্রলয়।আমরুল সিকদার বাসায় ঢুকেই চুপচাপ তার রুমে চলে আসলো রুমে এসে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে বসে পরলো।তার এমন ঠান্ডা আচরণ দেখে সবাই হতবাক মাহিন ধীর পায়ে বাবার সামনে দাড়িয়ে বললো,,
~বাবা,আমার ভুল হয়ে গেছে এভাবে বলাটা উচিত হয়নি।
ইতি এগিয়ে এসে বললো,
~আমরা ভুল করেছি আমাদের ক্ষমা করে দিন।
আমরুল সিকদার বললেন,
~আমাকে যদি খাবার দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে দেও না হলে আমি যাই।
আমরুল সিকদার উঠে দাড়ালো চলে যাওয়ার জন্য তখনই প্রহেলী বললো,
~ছোট মানুষ তারা ভুল করেছে খাবারের প্লেট সামনে রেখে উঠে যাবেন না।
আমরুল সিকদার বললেন,
~আমার খিদে নেই তোমরা খেয়ে ফেলো।
বলেই সে চলে গেলেন জামিলা সিকদার বললেন,
~সবাই খাওয়া শুরু করো সব ঠিক হয়ে যাবে।
খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রহেলীরে রওনা দিলো বাসায় প্রহেলী গাড়িতে বসে ভাবছে,
~কী থেকে কী হয়ে গেলো?মাহিনই বা কেন এভাবে?
পরশ প্রহেলীর ভাবনা দেখে বললো,
~প্রহেলী যা হওয়ার হয়ে গেছে তুমি এতো ভেবো না।
প্রহেলী বললো,
~পরশ মাহিন কী ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
পরশ বললো,
~সময় হলে বোঝা যাবে।
নয়না বাসায় পৌছে রাতের রান্নাটা সেরে ফেললো তারপর রুমে এসে দেখলো প্রলয় বসে ফাইল চেক করছে।নয়না প্রলয়ের পাশে বসে বললো,
~আপনার কাজ শেষ হয়নি?
প্রলয় বললো,
~না।
নয়না বললো,
~আমি একটু ছাদে যাই।
প্রলয় বললো,
~যাও।
নয়না ধীর পায়ে রুম থেকে বের হয়ে ছাদে চলে গেলো।আকাশটা একটু মেঘলা আর হিমেল বাতাসে নয়নার অনেক ভালো লাগছে যদি বৃষ্টি হয় তাহলে আরো ভালো হবে।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকালো মেঘলা আকাশ থেকে বিন্দু বিন্দু পানি এই ধরনীতে পরতে লাগলো।নয়নার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো সে দুহাত মেলে বৃষ্টির পানি গুলো অনুভব করতে লাগলো।
প্রলয় মেঘের গর্জন শুনে হাতে থাকা ফাইল সাইডে রেখে ঘর থেকে বের হয়ে পরলো নয়নাকে অনেকবার ডাকলো কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠে পরলো।ছাদের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই সে অবাক নয়নে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো।

_________________

নয়না ভিজে একাকার হয়ে আছে প্রলয় ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো নয়নাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।নয়না অনেকটাই কেঁপে উঠলো প্রলয় একটা ঘোরের মধ্যে আছে।নয়না বললো,
~কী করছেন?
প্রলয় কোনে জবাব দিলো সে নয়নাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।নয়না নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলোনা কারণ তার কেনজানি প্রলয়ের স্পর্শ খুব ভালো লাগছে।প্রলয় নয়নাকে ছেড়ে দিয়ে কোলে তুলে নিলো নয়না ঘাবড়ে গিয়ে বললো,
~কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
প্রলয় নয়নাকে নিয়ে সোজা রুমে এসে পরলো তারপর তাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে বললো,
~এই বৃষ্টিতে কেন ভিজতে গিয়েছো তুমি?
প্রলয়ের আচরণের পরিবর্তন দেখে নয়না অবাক হয়ে গেলো।নয়না বললো,
~তো কী হয়েছে?
প্রলয় বললো,
~এখনই চেঞ্জ করবে।
নয়না একটা ভেংচি কেটে যেই উঠে দাড়ালো তখনই তার চোখ পরলে প্রলয়ের ফোনের দিকে। যেখানে প্রীতি নামটা জ্বলজ্বল করছে
#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ১৬
হাজার প্রশ্ন নিয়ে নয়না ওয়াশরুমে চলে গেলো প্রলয় ফোন হাতে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে কথা সেরে নিলো।নয়না ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সোজা চলে আসলো বারান্দায় প্রলয় রেলিং ঘেষে দাড়িয়ে ফোন টিপছে নয়না কিছু না বলে অন্য রুমে চলে আসলো অজান্তেই মনটা খারাপ হয়ে আছে। নয়না চুপচাপ বিছানায় গা এলিয়ে দিলো চোখ বন্ধ করতেই অশ্রু গড়িয়ে পরলো।
পরশ অফিসের কাজ শেষ করে প্রহেলীকে খুঁজতে লাগলো তখনই রান্নাঘর থেকে আওয়াজ আসতেই সে রান্নাঘরে চলে গেলো।প্রহেলী মাছ তেলে ছাড়ছে পরশ পিছন থেকে বললো,
~কোনো সাহায্য লাগবে ম্যাডাম?
প্রহেলী পিছন ফিরে বললো,
~আপনি আর রান্না থাক আমার কাজ বাড়াতে হবে না ঘরে গিয়ে আরাম করেন।
পরশ বললো,
~তুমি কী আমাকে খোঁটা দিচ্ছো যে আমি কাজ পারিনা।আমি মাকে অনেক সাহায্য করতাম মা তো আমার অনেক প্রশংসা করতেন।
প্রহেলী বললো,
~ওওও তাই নাকি মাকে জিজ্ঞেস করতে হবে তাহলে।
পরশ বললো,
~অবশ্যই করবে আমি কী মানা করেছি?
বলেই সে প্রহেলীকে জড়িয়ে ধরলো প্রহেলী বললো,
~মা দেখে ফেলবে ছাড়ুন তো কাজ করছি।
পরশ বললো,
~মায়েরা এখন গল্পে ব্যস্ত তাদের কোনো খেয়াল নেই।কতক্ষণ ধরে বউটাকে কাছে পাইনা বলো তো।
প্রহেলী বললো,
~একদম এসব করবেন না আমাকে মাখন লাগিয়ে লাভ নেই।
পরশ বললো,
~মাখন লাগাতে যাবো কেন?
প্রহেলী বললো,
~অনেক হয়েছে এখন ছাড়ুন।
তখনই আমেনা সিকদার বলে উঠলেন,
~প্রহেলী বেয়ানকে এক কাপ চা দে তো।
আমেনা সিকদারের আওয়াজ শুনে পরশ দূরে সরে দাড়ালো এটা দেখে প্রহেলী মুখ টিপে হেসে বললো,
~সব বাহাদুরি শেষ?
পরশ কিছু না বলে কটমট চোখে তাকিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো প্রহেলী নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পরলো আর মনে মনে বললো,
~জীবনটা কতো সুন্দর হয়ে উঠেছে মনে হচ্ছে আমি কোনো স্বপ্নের রাজ্যে আছি।এই স্বপ্নটা কোনোদিন যাতে ভেঙ্গে না যায় সুখে দুখে পরশকে যাতে আমি আমার কাছে আগলে রাখতে পারি।
প্রহেলী এসব ভাবতে ভাবতে কাজ করছে আর গুনগুন করে গান গাইছে।তার মনের সাগরে আজ সুখের পানি বইছে শুধু একটাই ভয় এই সুখ আবার কোনো ঝড়ের মতো দুঃখ না নিয়ে আসে।

_______________

প্রলয় ফোনটা রেখে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো রাতঃ৯.৩০ কাজ করতে করতে কখন যে এতো দেরি হয়ে গেলো বুঝতে পারিনি সে।প্রলয় ঘরের বাহিরে এসে নয়নাকে খুঁজতে লাগলো দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো তা বন্ধ। প্রলয় রান্নাঘরে দেখলো সেখানেও নেই
প্রলয় একটু চিন্তিত হয়ে অন্যরুমে দেখতে লাগলো অবশেষে নয়নাকে পাওয়া গেলো অন্যরুমের বিছানায় গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে সে।প্রলয় ধীর পায়ে নয়নার কাছে গিয়ে তাকে কোলে তুলে নিলো তারপর নিজের রুমে এনে বিছানায় শুইয়ে দিলো।নয়নাকে ছেড়ে উঠতে যাবে তখনই নয়না প্রলয়ের একহাত শক্ত করে ধরে শুয়ে পরলো প্রলয় মুচকি হেসে নয়নার কপালে ওষ্ঠজোরা ছুইয়ে দিয়ে হাত ছাড়িয়ে রান্নাঘরে চলে আসলো।খাবার টেবিলে সাজিয়ে সে ওয়াশরুমে চলে গেলো হাত-মুখ ধুয়ে কাপড় চেঞ্জ করে প্রলয় নয়নার কাছে চলে গেলো আলতো স্বরে ডাকতে লাগলো,
~নয়না এই নয়না উঠো।খাবারের সময় হয়েছে।
নয়না প্রলয়ের ডাকে আড়মোড়া দিয়ে বললো,
~আপু,এখন খাবো না তুমি খেয়ো নেও।
প্রলয় ভ্রুকুচকে বললো,
~আমি তোমার আপু নই আর খাবেনা কেন রাতঃ১০টা বাজে।
প্রলয়ের কথায় ধ্যান ভাঙ্গলো নয়নার লাফ দিয়ে উঠে বসে পরলো তারপর প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
~সরি ঘুমের কারণে বুঝতে পারিনি।
প্রলয় বললো,
~ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার টেবিলে বসো।
নয়না মুখে হাসি টেনে বিছানা থেকে উঠতে নিবে তখনই তার মনে পরলো প্রীতি নামটার কথা।তার মনটা আবারো খারাপ হয়ে গেলো রাগটাও আবার চলে আসলো।নয়না মুখটা কালো করে বললো,
~আপনি খেয়ে নিন।আমি পরে খাবো।
প্রলয় নয়নার কথা শুনে বললো,
~একসাথে খাবো।
নয়না এবার চেঁচিয়ে বললো,
~বলেছিনা আপনার সাথে খাবোনা নাহ আমি আপনার সাথে থাকবো আপনি খারাপ লোক।আমাকে বাসায় দিয়ে আসুন।
প্রলয় নয়নার এমন আচরণ দেখে অবাক হয়ে গেলো বিকেলে তো ঠিক ছিল এখন কী হলো? প্রলয় বললো,
~নয়না আস্তে কথা বলো আর আমার সাথে এভাবে কথা বলবেনা।
নয়না বললো,
~যে যেমন তার সাথে ব্যবহারও তেমন করা উচিত।
বলেই সে ওয়াশরুমে চলে গেলো প্রলয় তার যাওয়ার পাণে তাকিয়ে রইলো।
নয়না ওয়াশরুমে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়ে ফেলছে।সে ঠিক করেছে প্রহেলীর কাছে চলে যাবে তারপর প্রীতি পেত্নীকে চুলের মুঠি ধরে ঘুরাবে। কতোবড় সাহস আর প্রলয়কে তো কাঁচা চিবিয়ে খাবে
নয়না আবারো কাঁদতে লাগলো কিন্তু এতোটা খারাপ তার লাগছে কেন?
নয়না মুখ ধুয়ে নাক টানতে টানতে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখলো প্রলয় হাতে পেল্ট নিয়ে বসে আছে।
নয়না দেখেও না দেখার ভান করলো প্রলয় নয়নার হাত ধরে সোফায় বসিয়ে দিলো তারপর খাবার মুখের সামনে দিলো নয়না মুখ ঘুরিয়ে নিতেই প্রলয় বললো,
~যদি খাবার না খাও তাহলে এই পেল্ট তোমার মাথায় ভেঙ্গে আমি জেলে যাবো।
নয়না ভয়ে ভয়ে সেই খাবারটা খেয়ে নিলো বলা যায় না এই মানুষ তাও করতে পারে।

________________

খাবার শেষে প্রলয় বললো,
~এখন বলো সমস্যা টা কী?
নয়না বললো,
~কোনো সমস্যা নেই আপনার সাথে কথা বলতে মন চাইছে না।
প্রলয় নয়নার গালে হাত রেখে বললো,
~২দিন পর আমি চলে যাচ্ছি কালকে নতুন বাসায় যাবো নিজের খেয়াল রাখবে।
নয়না বললো,
~ঠিক আছে।
প্রলয় বললো,
~আমাকে বলবেনা “আপনিও নিজের খেয়াল রেখেন”
নয়না বললো,
~আপনার সেখানে অনেক মানুষ আছে খেয়াল রাখার।
বলেই সে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলো প্রলয় হালকা হেসে মনে মনে বললো,
~কী নিয়ে খেপেছে কে জানে?
প্রলয় নয়নার পাশে শুয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো নয়না কিছু না বলে চুপচাপ শুয়ে রইলো।
২দিন পর,
আজ প্রলয় চলে যাবে নতুন বাসায় সব কিছু গুছিয়ে ফেলেছে তারা।সকাল থেকে নয়না প্রলয়ের সাথে কথা বলছেনা মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।প্রলয় এতো ব্যস্ততার মধ্যেও নয়নার অভিমান ভাঙ্গার চেষ্টা করছে।প্রলয় ব্যাগ গুছিয়ে বারান্দায় চলে আসলো নয়না সেখানে দাড়িয়ে আছে।প্রলয় নয়নাকে পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~১ঘন্টা পর বের হচ্ছি সাবধানে থাকবে বুঝতে পেরেছো।পড়াশোনা ঠিক মতো করবে ফোনটা সাথে সাথে রাখবে।বুঝতে পেরেছো?
নয়না কিছুই বললো না প্রলয় এবার রেগে গিয়ে বললো,
~হয়েছে কী তোমার? আমি এমন কী করেছি?অপরাধটা কী আমার?
নয়না তবুও চুপ প্রলয় নয়নার বাহুডোর শক্ত করে ধরে বললো,
~নয়না কিছু জিজ্ঞেস করছি আমি।
নয়না এবার মুখ খুললো,
~সব কথা শুনেছি আমি বয়রা না আর না আমি অন্ধ।
প্রলয় বললো,
~আমি কী বলেছি তুমি অন্ধ?
নয়না বললো,
~আমি সবই দেখছি আপনি কী করছেন?
প্রলয় বললো,
~মানে?
নয়না বললো,
~প্রীতি নামের মেয়েটা আপনাকে সকাল-সন্ধ্যা ফোন দিচ্ছে আমি কী এসব বুঝিনা?এতই যদি আপনাদের তাহলে আমাকে কেন বিয়ে করলেন?
প্রলয় বললো,
~এসব কী বলছো তুমি?
নয়না বললো,
~কথা বলতে চাই না আমি আপনার সাথে।
বলেই নয়না দৌড়ে কলেজ ব্যাগটা নিয়ে বের হয়ে আসে বাসা থেকে প্রলয়ও তার পিছে পিছে আস্তে থাকল আর নয়নাকে ডাকতে থাকে।কিন্তু নয়না তার কথা শুনছেনা সে দৌড়েই চলছে প্রলয় তাকে বলছে,
~নয়না দাড়াও কথা তো শোনে।
নয়না রাস্তার মাঝে দাড়িয়ে চিৎকার করে বললো,
~কোনো কিছু শুনবোনা আমি
নয়না নিজ কথা শেষ করার আগেই একটা ট্রাক এসে সজ্জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায় নয়নাকে।

_______________

নিমিষেই রক্তাক্ত দেহটা মাটিতে পরে যায় প্রলয় সেখানেই স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে পরলো। নয়না প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে আছে মাথার বামপাশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।নয়না হাত দিয়ে প্রলয়কে ইশারা করলো।তখনই প্রলয়ের ধ্যান আসলো সে দৌড়ে গিয়ে নয়নাকে পাজকোলে তুলে নিলো।আশেপাশের মানুষ জড়ো হয়ে পরেছে।প্রলয় একটা গাড়িতে নয়নাকে তুলে নিলো প্রলয় বার বার নয়নার নিশ্বাসটা সে বার বার চেক করছে।প্রলয় বললো,
~নয়না চোখ খোলা রাখবে কিচ্ছু হবে না তোমার।
নয়না আধো আধো চোখে তাকিয়ে আছে প্রলয়ের দিকে।হাসপাতাল পৌছে নয়নাকে নিয়ে প্রলয় সোজা ডাক্তারের কাছে চলে গেলো ডাক্তার বললো,
~মাথায় অনেক বড় ক্ষত হয়েছে তাই অপরেশন করতে হবে আর রক্তের ব্যবস্থা করুন।
প্রলয় ডক্টরের হাত ধরে বললো,
~আমার বউকে ঠিক করে দিন।
ডক্টর বললো,
~সব আল্লাহর হাতে।
ডক্টর যেতেই প্রলয় ফ্লোরে বসে পরলো চোখ দিয়ে পানি পরছে তার।প্রলয় পকেট থেকে ফোন বের করে পরশকে ফোন করলো।
পরশ ফোনের আওয়াজ পেয়ে দেখলো প্রলয়ের ফোন পরশ রিসিভ করতেই বললো,
~আমরা এখনই বের হচ্ছি।
প্রলয় বললো,
~হাসপাতাল চলে আয় তাড়াতাড়ি নয়নার এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে।
বলেই সে ফোন কেটে দিলো পরশের হাত থেকে মোবাইল পরে গেলো প্রহেলী শুনলে তার কী অবস্থা হবে?

চলবে

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here