মনের অন্তরালে পর্ব -১৭+১৮

0
48

#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ১৭
পরশ এখনো একটা ঘোরের মধ্যে আছে তখনই ঘরে প্রবেশ করলো প্রহেলী।পরশকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রুকুচকে তার কাছে গিয়ে বললো,
~কী হয়েছে?
প্রহেলীর কন্ঠস্বর শুনে পরশের ধ্যান ভাঙ্গলো সে করুন দৃষ্টিতে প্রহেলীর দিকে তাকালো।পরশের মুখশ্রী দেখে প্রহেলীর মনে একটা শীতল পানি বয়ে গেলো বুকটা ধ্বক করে উঠলো।প্রহেলী কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,
~কী হয়েছে একটু বলবেন?আমার খুব ভয় হচ্ছে।
পরশ বললো,
~নয়নার এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে হাসপাতালে যেতে হবে।
প্রহেলীর সবকিছু ধমকে গেলো এমন মনে হচ্ছে যে ভিতরটা জ্বলে পুরে যাচ্ছে।পরশ প্রহেলীর হাত ধরে বললো,
~চলো প্রহেলী।
প্রহেলী চিৎকার করে বললো,
~আমার নয়নার কিছু হবে না তাই না পরশ?বলেন না
পরশ বললো,
~চলো প্রহেলী নয়নাকে অপারেশন থ্রেটারে নিয়ে যাবে।
পরশ প্রহেলী,আমেনা সিকদার আর রুমানা তালুকদারকে নিয়ে রওনা হলো হাসপাতালে।আমরুল সিকদারকেও জানানো হলো সে তাড়াতাড়ি রওনা দিয়েছে বাসা থেকে।
প্রহেলীরা হাসপাতালে পৌছে গেলো প্রহেলী গাড়ি থেকে দৌড়ে বের হয়ে হাসপাতালের ভিতরে চলে গেলো।রিসিপশনে জিজ্ঞেস করে প্রহেলী উপরের তলায় চলে গেলো প্রহেলীর পিছে পিছে সবাই ছুটছে।
পরশ প্রহেলীর একহাত ধরে বললো,
~নিজেকে সামলাও প্রহেলী মায়ের অবস্থা দেখো।
প্রহেলী আমেনা সিকদারের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে কান্না করছে রুমানা তালুকদার তাকে সামলাচ্ছে।উপরের তলায় উঠে সবার আগে নজরে পরে প্রলয় ছন্নছাড়ার মতো ফ্লোরে বসে আছে।প্রহেলী এগিয়ে গিয়ে বললো,
~আমার বোন কেমন আছে?
প্রলয় চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো প্রহেলীকে প্রলয় বললো,
~আইসিউতে নিয়ে গেছে।
প্রহেলী পাশে থাকা চেয়ারে বসে পরলো কিছুক্ষণ পর এক এক করে সবাই চলে আসলো।মারিয়া সিকদার কান্না করতে ব্যস্ত একমাত্র মেয়ের এমন অবস্থা দেখে তার বুকটা কাঁদছে।
আমরুল সিকদার এক সাইডে দাড়িয়ে আছে অতি শোকে সে পাথর হয়ে গেছে।মাহিন বোনের জন্য চোখের পানি ফেলছে ইতি তাকে সামলিয়ে রাখছে।জামিলা সিকদারকে কিছু জানানো হয়নি বয়স্ক মানুষ তার শরীরের অবস্থাও বেশি ভালো না তাই তাকে বাসায় রাখা হয়েছে।

_____________

প্রায় ২ঘন্টা পর ডক্টর বের হয়ে আসলেন তার মুখটা গম্ভীর হয়ে আছে।প্রলয় উঠে দাড়ালো পরশ ডক্টরের কাছে গিয়ে বললো,
~নয়নার অবস্থা এখন কেমন?
ডক্টর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,
~দেখেন অপারেশন তো হয়ে গেছে কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি জ্ঞান না ফিরে তাহলে অবস্থা শোচনীয় হয়ে যাবে।
প্রলয় শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে তার কিছুই ভালো লাগছেনা তার মনে হচ্ছে সব কিছু তার কারণে হয়েছে।প্রলয় একপা দুপা পিছিয়ে ছুটে চললো হাসপাতালের বাহিরে তারপর সামনে থাকা মসজিদে ওযু করে ডুকে পরলো নামাজে দাড়িয়ে সে অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগলো।মোনাজাতে সে বললো,
~হে করুনাময় আল্লাহ পাক তুমি তোমার এই বান্দাকে আজ খালি হাতে পাঠিও না।নয়নাকে ঠিক করে দেও তোমার কাছে আমি ভিক্ষা চাইছি।দয়া করো আল্লাহ আমার উপর দয়া করো
প্রলয় হাত উঠিয়ে দোয়া করেই যাচ্ছে।পরশ, মাহিন প্রলয়কে খুঁজতে ব্যস্ত পরশ বললো,
~মাহিন আমার মনে হয় প্রলয় মসজিদে তুমি যাও আমি নিয়ে আসছি।
মাহিন বললো,
~ঠিক আছে।
পরশ ওযু করে মসজিদে ডুকে পরলো একটু খুঁজতেই প্রলয়কে মোনাজাতরত অবস্থায় পেয়ে গেলো।পরশ প্রলয়ের কাঁধে হাত রাখতেই প্রলয় পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে পরশকে।প্রলয় বিচলিত হয়ে বললো,
~নয়নার জ্ঞান ফিরেছে?নয়না ঠিক আছে তো?
পরম বন্ধুর এমন অবস্থা দেখে পরশ নিজেকে সামলাতে পারছেনা তবুও নিজেকে ঠিক রেখে বললো,
~সব ঠিক হয়ে যাবে তুই আমার সাথে চল কিছু খেয়ে নে সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করছে।
প্রলয় বললো,
~এসব কিছু আমার জন্য হয়েছে যদি আমি জানতাম ও পছন্দ করছেনা আমার কথা বলা প্রীতির সাথে তাহলে এমন হতো না।
পরশ অবাক হয়ে বললো,
~প্রীতি কোথা থেকে আসলো?
প্রলয় বললো,
~থাইল্যান্ডে তো আমি ওর বাসায়ই থাকি তাই কিছুদিন ওর সাথে অনেক সময় কথা বলতে হয়েছে।কাজের বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে।
পরশ বললো,
~প্রীতি তো এক হিসেবে তোর মামাতো বোন তাই না?
প্রলয় বললো,
~হুম।ওর বিয়ে হয়েছে ৪বছর আগে কিন্তু নয়না এসব কিছুই বুঝে নি।
পরশ এবার রেগে গিয়ে বললো,
~তুই কেন ওকে জানাসনি এসব?
প্রলয় বললো,
~দরকার বোধ করে নি আর প্রীতি আর ওর পরিবার আমার সাথেই বাংলাদেশে চলে আসবে নয়নাকে সারপ্রাইজ দিতে।
পরশ বললো,
~অনেক বড় ভুল হয়েছে বিষয়টা অনেক খারাপ হয়ে গেছে।

________________

পরশ প্রলয়কে নিয়ে হাসপাতাল চলে আসে সবার মন উদাস প্রহেলী চুপ করেই বসে আছে। কোনোকিছুই বলছে না পরশ তার পাশে বসে বললো,
~প্রহেলী কিছু তো খেয়ে নেও শরীর অসুস্থ করবে।
প্রহেলী পরশের দিকে তাকিয়ে বললো,
~আমার বোনটা কী অবস্থায় আছে এখন?
পরশ বললো,
~সেই একই রকম।
প্রহেলী বললো,
~জানেন যেদিন নয়নাকে সেই ছোট্ট পিচ্চিটাকে মা আমার কোলে তুলে দিয়ে বলেছিল, “তোর বোন এসেছে তোর কিন্তু ওকে সামলিয়ে রাখবে”। সেদিন থেকে আমি নয়নাকে আগলে রেখেছি বুকের ভিতর পুষে রেখেছি কখনো ভাবিনি ও আমার আপন বোন না।যখনই কেউ বলতো নয়না আমার আপন বোন না তখন আমি বলতাম নয়না আমার বোন আমার অংশ।
প্রহেলী হুহু করে কেঁদে উঠলো পরশ প্রহেলীকে সামলে নিয়ে বললো,
~পরীক্ষা করছে আল্লাহ আমাদের এই সময় টাও কেটে যাবে ভরসা রাখো আল্লাহর উপর।
প্রহেলী পরশকে শক্ত করে ধরে কান্না করছে পরশ সবাইকে বাসায় পাঠিয়ে দিলো শুধু সে, প্রহেলী আর প্রলয় আছে।
প্রলয় নয়নার রুমের সামনে গিয়ে কাঁচের গ্লাসের জানালা দিয়ে তাকে দেখলো কেমন করে তাকে একলা করে এই মেয়েটা শুয়ে আছে।কেন এতো কঠোর হলো এই মেয়েটা এতোটা কষ্ট কেন দিচ্ছে?
নয়নার অবস্থা সেই একই রয়েছে কোনো কিছু চেঞ্জ হয়নি।প্রহেলী এখনো বসে আছো বোনের ফিরে আসার
অপেক্ষা করছে।সেই ছোট বোনটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমো খাবে সে চুলগুলো বেনুনি করে দিয়ে বকা দিয়ে বলবে,
~নয়না নিজের যত্ন কবে থেকে নেওয়া শিখবি তুই?
তখন নয়না দুষ্ট হেসে বলবে,
~তুমি তো আছোই আমি শিখে কী করবো?
প্রহেলীর মুখে হাসি ফুটে উঠলো পরক্ষণেই আবার কেঁদে উঠলো।
রাত যত গভীর হচ্ছে ভয়টা আরো বাড়ছে নয়না কী ফিরবে না এতগুলো মনকে গুড়িয়ে দিয়ে সে কী চলে যাবে?প্রলয়ের সুখটা ছিনিয়ে নিয়ে নয়না চলে যাবে নাকি ভালোবেসে হাত বাড়িয়ে দেবে?আমরুল সিলদার সারা রাত মেয়ের জন্য জায়নামাজে কাটিয়েছেন।মারিয়া সিকদার মেয়ের জন্য দোয়া করেই যাচ্ছেন জামিলা সিকদার কে জানানো হয়েছে যার ফলে সে অনেক উত্তেজিত হয়ে যায় তাকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পারানো হয়েছে।

________________

রাতের শেষে জ্বলজ্বলে সকালের আবির্ভাব হলো সবাই অসহায়ের মতো বসে আছে অপেক্ষা করছে নয়নার ফিরে আসার।প্রলয় অধীর আগ্রহে চেয়ে আছে প্রেয়সীর দুয়ারে সে কেন বার বার তাকে প্রত্যাক্ষ্যান করছে।ঠিক তখনই ডক্টর উপস্থিত হয় ডক্টরকে দেখল সবাই তাকিয়ে আছে কিন্তু জিজ্ঞেস করার সাহস পাচ্ছে না।ডক্টর মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন,
~ পেশেন্টের জ্ঞান ফিরেছে।সে out of danger কিন্তু তাকে কোনো ধরনের মানসিক চাপ দেওয়া যাবেনা।সব সময় খুশি রাখতে হবে চিন্তা মুক্ত রাখতে হবে দুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।
আমরুল সিকদার বললেন,
~আমার মেয়ের সাথে দেখা করতে পারবো?
ডক্টর বললেন,
~কিছুক্ষন পর দেখা করতে পারবেন।
বলেই ডক্টর চলে গেলেন সবাই খুশিতে দোয়া করতে লাগলেন।প্রলয় মোনাজত ধরে আল্লাহকে শুকরিয়া জানালো কিছুক্ষন পর নার্স এসে জানালো নয়নার সাথে দেখা করতে পারবে সবাই।এক এক করে সবাই দেখা করে আসলো এখন প্রলয়ের পালা প্রলয়ের হাত-পা কাঁপছে প্রহেলী বললো,
~নয়না আপনাকে দেখতে চাইছে।
প্রলয় মনে মনে খুশি হলো সে দৌড়ে রুমের ভিতর ডুকল দেখলো নয়না
#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ১৮
নয়না চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে।প্রলয় ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বেডের কাছের চেয়ারে বসে পরলো নয়না প্রলয়ের অস্তিত্ব টের পেয়ে চোখ বন্ধ করে বললো,
~বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নিবেন।
প্রলয় বললো,
~তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না।
নয়না এবার চোখ খুলে বললো,
~প্রহেলী আপু আছে এখানে আপনার এখানে না থাকলেও চলবে।
প্রলয় অসহায় মুখে বললো,
~এমন করে কেন বলছো?আমাকে এতোটা দূরে কেন ঠেলে দিচ্ছো?
নয়না বললো,
~কথা বলতে মন চাইছে না প্রলয় আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে।আপনি বাসায় চলে যান প্লিজ কিছু খেয়ে নিন
প্রলয় বললো,
~ঠিক আছে আমি ফ্রেশ হয়ে আবার আসবো।তোমার কথা রাখবো।
প্রলয় উঠে দাড়ালো একটু ঝুঁকে নয়নার কপালে ঠোঁট ছুইয়ে বললো,
~আমি অনেক দ্রুত চলে আসবো।
প্রলয় দ্রুত পায়ে রুম থেকে বের হয়ে আসলো নয়না তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।
প্রহেলী হাসপাতালেই রয়ে গেছে তার প্রয়োজনীয় জিনিস সব পরশ দিয়ে গেছে। আমেনা সিকদার খাবার রান্না করে দিয়েছেন প্রহেলী ফ্রেশ হয়ে প্লেটে খাবার নিয়ে নয়নার সামনে বসে পরলো তারপর নয়নাকে খাইয়ে দিতে লাগলো।নয়নাকে প্রহেলী বললো,
~নয়না,আমি জানি কেন তুমি বাসা থেকে বের হয়েছিলে।
নয়না খাবার মুখে নিয়ে প্রহেলীর দিকে তাকালো প্রহেলী বললো,
~জানো তো নয়না সন্দেহ একটা সম্পর্ককে শেষ করে দিতে পারে।যে মেয়েটার জন্য তুমি প্রলয়কে সন্দেহ করেছো আসলে সে প্রলয়ের মামাতো বোন ৪বছর আগে তার বিয়ে হয়ে গেছে।তোমাকে সারপ্রাইজ দিবে বলে জানানো হয়নি সে কাল বাংলাদেশ আসছে তোমাকে দেখতে।
নয়না অবাক চোখে বোনের দিকে তাকিয়ে আছে প্রহেলী মুচকি হেসে বললো,
~প্রলয়কে একবার জিজ্ঞেস করতে পারতে কিন্তু তুমি রাগের মাথায় উল্টো ভেবেছো।
নয়না মাথা নিচু করে কাঁদছে প্রহেলী নয়নার মেডিসিন তার হাতে দিয়ে বললো,
~খেয়ে নেও আর ঠান্ডা মাথায় সব চিন্তা করবে।
নয়না মেডিসিন নিয়ে শুয়ে পরলো প্রহেলী তার মাথার কাছে বসে আছে।তখনই প্রলয় এসে উপস্থিত প্রহেলী বললো,
~খাবার খেয়েছেন আপনি?
প্রলয় অপরাধীর মতো চোখ করে বললো,
~না।
প্রহেলী বললো,
~টিফিন বক্সে খাবার আছে খেয়ে নিন।
প্রহেলীর কথা মেনে নিয়ে প্রলয় খাবার প্লেটে নিয়ে খেতে লাগলো।প্রহেলী রুম থেকে বের হয়ে পরশকে ফোন করলো প্রলয়ের দিকে একনজরে তাকিয়ে আছে নয়না মানুষটা কী পরিমাণে কষ্টে আছে তা তার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।প্রলয় খাবার শেষ করে প্লেট রেখে হাত ধুয়ে নিলো তখনই নয়না বললো,
~এখানে আমার পাশে বসুন।
প্রলয় নয়নার পাশে বসে পরলো নয়না উঠে বসার চেষ্টা করলো তখনই প্রলয় তাকে সাহায্য করলো নয়না

_____________

প্রলয়ের অগোছালো চুলগুলো ঠিক করে দিয়ে বললো,
~চুলটাও ঠিক মতো মুছেন নি।যদি জ্বর এসে পরে
প্রলয় বললো,
~আসলে শাওয়ার নিয়েই এখানে চলে এসেছি।
নয়না বললো,
~খাবার ঠিক মতো খেতে হয় নাহলে অসুস্থ হয়ে পরবেন।
প্রলয় কিছু বললো না নয়না বললো,
~আমার জন্য অনেক চিন্তা হয়েছে?
প্রলয় তবুও চুপ নয়না বললো,
~রাগ করেছেন?
প্রলয় এবার নয়নাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
~কেন তুমি আমার কথা শোনো না তুমি আমার সাথে কেন কোনো কথা শেয়ার করোনা।আমি তো তোমার মনের কথা পরতে পারবোনা তুমি যদি একবার জিজ্ঞেস করতে আমি তোমায় সব কিছু বলে দিতাম।
নয়না প্রলয়ের পিঠে হাত বুলিয়ে বললো,
~ভুল হয়ে গেছে সরি।আর এমন হবে না
প্রলয় বললো,
~আমি আর এমন কিছু হতে দিবো না জানো তোমার রক্ত দেখে আমি কতোটা ভয় পেয়েছি।প্লিজ আর কোনেদিন এমন করবেনা।
নয়না বললো,
~আর এমন করবো না আই প্রমিজ।
প্রলয় নয়নাকে ছেড়ে দিয়ে বললো,
~আমি ডক্টরের সাথে কথা বলে আসছি।
প্রলয় উঠে রুম থেকে বাহিরে চলে আসলো সোজা চলে গেলো ডক্টরের কাছে।
প্রহেলী পরশের সাথে কথা বলছে পরশ বললো,
~সব বুঝিয়ে বলেছো নয়নাকে?
প্রহেলী বললো,
~হুম আপনি খেয়েছেন?
পরশ বললো,
~মায়ের সাথে খেয়েছি।
প্রহেলী বললো,
~পরশ, আপনার মাথা ব্যাথা কমেছে নাকি এখনও আছে।
পরশ বললো,
~এখন নেই।তুমি খেয়েছো?
প্রহেলী বললো,
~জ্বী খেয়েছি।নয়নাকে আমি বুঝিয়ে দিয়েছি কিন্তু পরশ ওকে আরো অনেক কিছু বুঝাতে হবে।সংসার জীবন টাকে বুঝতে হবে নাহলে ওর জন্য ক্ষতি হবে।পড়াশোনার দিক দিয়েও ক্ষতি হবে কেনজানি নয়নার জন্য চিন্তা লাগছে।
পরশ বললো,
~উহু প্রহেলী এতো ভেবোনা আমার বিশ্বাস নয়না ঠিক সব বুঝতে পারবে।
প্রহেলী বললো,
~তাই জানি হয়।
পরশ বললো,
~এখন রাখি অফিসের কিছু কাজ শেষ করে তোমার কাছে আসছি।
প্রহেলী বললো,
~ঠিক আছে।
প্রহেলী ফোন রেখে নয়নার কাছে চলে গেলো।প্রলয় ডক্টরের সামনে বসে আছে ডাক্তার কিছু রির্পোট চেক করে বললেন,
~দেখেন প্রলয় ক্ষতটা অনেক গভীর ঠিক হতে সময় লাগবে।আর পায়ের ক্ষতটা একটু বেশি তাই হাঁটতে একটু অসুবিধা হবে এখন সবই নরমাল কালকে পেশেন্টকে নিয়ে যেতে পারবেন।
প্রলয় বললো,
~ধন্যবাদ।
ডাক্তার বললেন,
~প্রোপার রেস্ট দিতে হবে আর কোনো বাজে চিন্তা তাকে করতে দিবেন না ফ্রেশ মাইন্ড থাকতে হবে।মেডিসিন ঠিক টাইম মতো নিতে হবে।
প্রলয় বললো,
~অবশ্যই আমরা সব কিছুর খেয়াল রাখবো।

____________________

পরেরদিন নয়নাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করা হলো নয়না নিজেই বলেছে সে প্রলয়ের বাসায় যাবে। তাই কেউ কিছু বলেনি মারিয়া সিকদার মেয়ের সাথে যাবে তার বাসায়। তাই সবাই রওনা দিলো প্রলয়ের বাসার উদ্দেশ্যে কিছুক্ষণের মধ্যে তারা পৌছে গেলো।প্রলয় নয়নাকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো।নয়না বললো,
~প্রহেলী আপুকে বলবেন সেও যাতে থাকে আমার ভালো লাগবেনা একা একা।
প্রলয় বললো,
~ঠিক আছে।
প্রলয় বাহিরে এসে দেখলো সবাই গল্প করছে প্রলয় তাই একটা সিদ্ধান্ত নিলো।প্রলয় সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো,
~আমার একটা ইচ্ছা আছে।
পরশ বললো,
~কী?
প্রলয় বললো,
~আমি চাই সবাই এখানেই কিছুদিন থাকুন কারণ এতে নয়নার মনটা ভালো থাকবে।
আমরুল সিকদার বললেন,
~কিন্তু তুমি একা মানুষ কীভাবে কী করবে?
প্রহেলী বললো,
~আমি সব সামলে নিবো একসাথে কিছু সময় কাটাতে পারবো সবাই।
জামিলা সিকদার বললেন,
~তাহলে তো বেশ হয় রাতের বেলা চাঁদনীর আলো শরীরে জড়িয়ে আড্ডা দিতে পারবো।
প্রলয় বললো,
~আমি সায়েমদেরও ফোন করে ফেলেছি তারাও আসছে।প্রহেলী ফারিহাকেও ফোন করে আসতে বলো
প্রহেলী বললো,
~ঠিক আছে আর নয়নাকে কেউ বলবেনা এটা সারপ্রাইজ।
ইতি বললো,
~আপু চলো আমরা ছাদটা সুন্দর করে সাজিয়ে ফেলি নয়না খুশি হয়ে যাবে।
তখনই কেউ পিছন থেকে বললো,
~আমাকে কী সবাই ভুলে গেছে?
সবাই পিছন ফিরে দেখলো একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে তার পাশে একজন যুবক আছে।প্রলয় তাদের দেখে বললো,
~প্রীতি, রাসেল তোমরা কেমন আছো?
প্রীতি বললো,
~ভালো।
প্রলয় সবাইকে বললো,
~প্রীতি আমার মামাতো বোন।
প্রীতি বললো,
~কেমন আছেন আপনারা সবাই?
প্রহেলী বললো,
~ভালো।
রাসেল বললো,
~তা পরশ তোমার বউটা কিন্তু অনেক সুন্দর।
পরশ বললো,
~দেখতে হবে না কার পছন্দ।
রাসেল বললো,
~তা ঠিক।
প্রহেলী বললো,
~চলো প্রীতি আপু আমরা কাজে লেগে যাই।

_________________

প্রলয় রুমে ডুকতেই নয়না বললো,
~বাহিরে এতো চেচামেচি কেন হচ্ছে?
প্রলয় বললো,
~কোথায়?আসলে পাশের বাসায় বিয়ে তাই হয়তো এমন লাগছে।
নয়না বললো,
~সত্যি?
প্রলয় নয়নার কাছে বসে বললো,
~সত্যি।তোমার মেডিসিনের সময় হয়ে গেছে
নয়না মেডিসিন নিয়ে বললো,
~প্রহেলী আপুক ডেকে দিবেন একটু আজ শাড়ি পরতে মন চাইছে।
প্রলয় বললো,
~এই অবস্থায় শাড়ি পরতে হবে না।
নয়না বললো,
~অনেকদিন হলো আপু আর আমি এক রকম শাড়ি পরিনা প্লিজ আপুকে ডেকে দেন।
প্রলয় বললো,
~ঠিক আছে কিন্তু নিজে নিজে হাঁটতে যাবে না।
নয়না বললো,
~ঠিক আছে।
প্রলয় প্রহেলীকে ডেকে দিলো প্রহেলী নয়নাকে অনেক সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে দিলো।প্রহেলীও একই রকম শাড়ি পরে নিলো প্রলয় এসে নয়নাকে কোলে তুলে নিলো এতে নয়নাকে অবাক হয়ে বললো,
~আরে কোলে নিলেন?
প্রলয় বললো,
~ছাদে যাবো আমরা।
প্রলয় নয়নাকে নিয়ে ছাদে আসতেই নয়নার অবাক চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেলো আর পাশাপাশি তার মনে একটা আনন্দের হাওয়া বইতে লাগলো।

চলবে

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here