মনের অন্তরালে পর্ব -১৯+২০(শেষ)

0
51

#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ১৯
নয়না অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে পুরো ছাদ সুন্দর করে সাজানো পুরো পরিবার একসাথে দাড়িয়ে আছে।নয়নার মনটা একদম ভালো হয়ে গেলো প্রীতি এগিয়ে এসে নয়নার হাত ধরে বললো,
~ভাবি,আমি তোমার একমাত্র ননদীনি।কিন্তু তুমি তো আমার থেকে অনেক ছোট।
নয়না অবাক চোখে একবার প্রলয়ের দিকে তাকালো প্রলয় চোখের ইশারায় তাকে বুঝিয়ে দিলো।নয়না বললো,
~কেমন আছো আপু?
প্রীতি বললো,
~ভালো।
প্রলয় নয়নার জন্য একটা চেয়ার নিয়ে আসলো নয়নাকে সেটায় বসিয়ে দিয়ে বললো,
~এখান থেকে উঠবেনা কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবে।
নয়না বললো,
~ঠিক আছে।
প্রহেলী এগিয়ে এসে বললো,
~সবাই এসে পরেছে আমি খাবার সার্ভ করছি।
পরশ বললো,
~হুমম খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।
অনেকদিনপর সবাই একসাথে খেতে বসেছে প্রহেলী সবাইকে খাবার সার্ভ করে দিতে ব্যস্ত তাই পরশ প্লেটে খাবার নিয়ে প্রহেলীকে একজায়গায় বসিয়ে খাবার খাইয়ে দিতে লাগলে।প্রহেলী বললো,
~কী করছেন?এতো কাজ এখনো বাকি আছে আর আপনি এসব নিয়ে বসে আছেন।
পরশ বললো,
~পুরো খাবার শেষ করে তারপর কাজ করবে।
পরশের কাছে হার মেনে প্রহেলী সব খাবার খেয়ে নিলো।খাবার শেষ করতেই প্রহেলীর বমি এসে পরলো সে দৌড়ে নিচে চলে আসলো তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে হরহর করে বমি করে দিলো।পরশও তার পিছে পিছে চলে আসলো প্রহেলীকে এভাবে বমি করতে দেখে পরশ অনেকটাই ঘাবড়ে গেলো সে প্রহেলীকে ধরে বিছানায় বসিয়ে দিলো প্রহেলীর মুখ মুছে দিয়ে বললো,
~কী হয়েছে তোমার শরীর কী খারাপ লাগছে?
প্রহেলী বললো,
~কেন যে এমন হলো বুঝলাম না শরীরটাও খারাপ লাগছে।
পরশ বললো,
~তুমি শুয়ে পরো আর খবরদার যদি বিছানা ছেড়ে উঠেছে তো।
প্রহেলী বললো,
~আচ্ছা ঠিক আছে।
প্রলয় প্রহেলীকে শুইয়ে দিয়ে রুমের বাহিরে চলে আসে তার মুখে চিন্তার ছাপ।ছাদে এসে সে এক জায়গায় দাড়িয়ে রইলো তখনই প্রলয় এসে বললো,
~কী হয়েছে তোর?
পরশ বললো,
~প্রহেলীর,শরীরটা ভালো না বমি করে অস্থির হয়ে পরেছে।
প্রলয় বললো,
~ডক্টরকে ফোন করবো?
পরশ বললো,
~এসব শেষ করে আমি নিয়ে যাবো।
প্রলয় বললো,
~চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে।

_________________

সব আয়োজন শেষে সবাই রুমে চলে গেলো নয়না প্রহেলীর কাছে যাওয়ার বায়না ধরলে প্রলয় তাকে প্রহেলীর রুমে নিয়ে যায়।নয়না প্রহেলীর কাছে বসে বললো,
~আপু তোমার কী অনেক খারাপ লাগছে?
প্রহেলী মুচকি হাসি দিয়ে বললো,
~এখন ভালো আছি।
নয়না বললো,
~বড় মা তোমার জন্য কতো টেনশন করছে।
তখনই ঘরে প্রবেশ করলো আমেনা সিকদার আর রুমানা তালুকদার তাদের দেখে প্রহেলী উঠে বসলো রুমানা তালুকদার বললেন,
~কী হয়েছে মা তোমার?
প্রহেলী বললো,
~বমি হয়েছে মা গত ২দিন ধরেই শুধু বমি বমি লাগে।
রুমানা তালুকদার হালকা হেসে বললো,
~আজই ডাক্তারের কাছে যাবে।
আমেনা সিকদার বললেন,
~তুই কিছু খাবি মা?
প্রহেলী বললো,
~না মা।কিছু খাবো না
রুমানা তালুকদার আর আমেনা সিকদার রুম থেকে চলে যেতেই নয়না বললো,
~তাদের এতো খুশি খুশি দেখাচ্ছে কেন?
প্রহেলী বললো,
~কী জানি তুই মেডিসিন নিয়েছিস?
নয়না বললো,
~হ্যাঁ নিয়েছি।
প্রহেলী আলতো হেসে নয়নার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।পরশ প্রহেলীকে নিয়ে বসে আছে ডাক্তারের সামনে ডাক্তার প্রহেলীর সব সমস্যা শুনে কিছু টেস্ট দিয়ে দিলো।পরশ জিজ্ঞেস করলো,
~ডক্টর প্রহেলী ঠিক আছে তো?
ডাক্তার মুচকি হেসে বললেন,
~উনি ঠিক আছেন এই টেস্ট গুলো করিয়ে আমার কাছে নিয়ে আসবেন।
প্রহেলী একবার ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে বললো,
~আমি যা ভাবছি তা কী সঠিক?
ডাক্তার হেসে বললো,
~টেস্ট গুলো করিয়ে সিউর হয়ে নিন।
পরশ বললো,
~আমি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছিনা প্রহেলী কী হয়েছে তোমার?
প্রহেলী মুখ টিপে হেসে বললো,
~আমি কী জানি নাকি টেস্ট করালে বুঝা যাবে।
পরশ বললো,
~আমার অনেক ভয় করছে।
ডাক্তার বললেন,
~আগামীকাল চলে আসবেন।
পরশ প্রহেলীকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো তার মুখে এখনো চিন্তার ছাপ।প্রহেলী গুনগুন করে গান গাইছে এতে পরশের রাগ লাগছে তবুও সে চুপ হঠাৎ প্রহেলী জোরে বলে উঠলো,
~আমি হাওয়াই মিঠাই খাবো।নিয়ে আসেন
পরশ বললো,
~তোমার শরীর ঠিক নেই এসব খেতে হবে না।
প্রহেলী বললো,
~যাবো না আমি বাসায় আপনি গাড়ি থামান।
পরশ বললো,
~আচ্ছা ঠিক আছে এনে দিচ্ছি।

___________________

নয়না শুয়ে আছে তার ঠিক অপরপাশে প্রলয় শুয়ে আছে।প্রলয় দুরত্ব বজায় রেখে শুয়ে আছে তা দেখে নয়না প্রলয়ের একটু কাছে গিয়ে তার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরলো।প্রলয় চোখ খুলে নয়নাকে নিজের এতোটা কাছে দেখে অবাক হলো কিন্তু কিছুই বললো না।
নয়না বললো,
~জড়িয়ে ধরতে ট্যাক্স লাগে না।
প্রলয় মুচকি হেসে নয়নাকে জড়িয়ে ধরলো নয়না বললো,
~আমি সুস্থ হয়ে উঠলে পূর্ণিমা রাতে আমরা চাঁদ দেখবো আর বৃষ্টিতে ভিজবো।আপনি কিন্তু মানা করবেন না আমার অনেক ইচ্ছা আর আমার ইচ্ছা আপনাকে পূরণ করতে হবে।
প্রলয় বললো,
~কেন পূরণ করবো?
নয়না কপট রাগ দেখিয়ে বললো,
~থাক আপনার পূরণ করতে হবে না কোচিংয়ে আমার যে ছেলে ফ্রেন্ডটা আছে সেই পূরণ করে দিবে।
প্রলয় বললো,
~খবরদার ওই বাদরটার কথা মুখে নিয়েছে তো।
নয়না প্রলয়ের দিকে মুখ উঠিয়ে বললো,
~তাহলে উল্টো কথা কেন বলেন?
প্রলয় নয়নার নাক টেনে বললো,
~আর বলবো না হয়েছে।
নয়না বললো,
~good boy.
নয়না আবারো প্রলয়ের বুকে মাথা রেখে চোখ বুঝে নিলো দুজনই পরম সুখে ঘুমের জগতে চলে গেলো।
পরেরদিন সকালে প্রীতি আর তার বর বের হয়ে গেলো এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রাসেলের অনেক জরুরি কাজ পরেছে তাই চলে যেতে হবে।প্রীতি সবার থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে পরলো পরশ রুমে এসে প্রহেলীকে বললো,
~রেডি হও ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
প্রহেলী বললো,
~বোরখাটা পরে নেই।
পরশ বললো,
~ঠিক আছে।
প্রহেলী রেডি হতেই তারা বের হয়ে পরলো নয়না আর প্রলয়ও আজ তাদের সাথে যাচ্ছে।নয়নার রিপোর্ট আজ ডাক্তার দেখবে তাই হাসপাতাল পৌছে পরশ আর প্রহেলী রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে চলে আসলো।ডাক্তার রিপোর্ট দেখে বললো,
~Congratulation প্রহেলী।আপনি মা হতে চলেছেন
প্রহেলী বললো,
~টেস্ট দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম আর মাও বলেছিল।
পরশ এখনো স্তব্ধ হয়ে বসে আছে প্রহেলী বললো,
~এই যে শুনতে পেরেছেন আপনি?
প্রহেলীর কথায় পরশের ঘোর কাটে সে বললো,
~ধন্যবাদ ডক্টর। প্রহেলী চলো বাসায়
নয়না আর প্রলয় ডক্টর দেখিয়ে অপেক্ষা করছে পরশদের জন্য। পরশ আর প্রহেলী আসতেই নয়না জিজ্ঞেস করলো,
~সব ঠিক আছে?
প্রহেলী বললো,
~সব ঠিক আছে বাসায় চল সবাইকে একটা কথা বলতে হবে।
পরশ বললো,
~প্রলয় আমার সাথে চল প্রহেলী তোমরা বাসায় যাও আমরা আসছি।
প্রহেলী বললো,
~আপনারা কোথায় যাচ্ছেন?
পরশ বললো,
~আমরা এসে পরবো তাড়াতাড়ি তোমরা বাসায় চলে যাও।

_______________

নয়না আর প্রহেলী বাসায় পৌছে সবাইকে একত্রিত করলো তারপর প্রহেলী বললো,
~অনেক তাড়াতাড়ি একটা ছোট্ট মেহমান আসছে আমার জীবনে সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
সবাই খুশিতে আত্মহারা হয়ে পরলো নয়না প্রহেলীকে জড়িয়ে ধরলো সবাই খুশি হয়ে প্রহেলীকে দোয়া দিতে লাগলো।শুধু আমরুল সিকদারের চোখ ছলছল করছে তার মেয়ে যে এতো বড় হয়ে গেছে এখন যে নিজে মা হতে চলেছে।আমরুল সিকদার চোখের পানি মুছে প্রহেলীর কাছে গিয়ে বললো,
~আল্লাহ তোমাকে সকল সুখ দান করুক।
তখনই পরশ পিছন থেকে বলে উঠলো,
#গল্পের_নাম_মনের_অন্তরালে
#লেখনীতে_Alisha_Rahman_Fiza
পর্বঃ২০ শেষ পর্ব
~সবাই কী শুধু হবু মাকেই দোয়া করবে হবু বাবাও যে আছে তা তো কেউ দেখছেন।
প্রলয় পরশের পিঠ চাপড়ে বলে,
~হবু বাবা তোর কোনো importance নেই এখন সবকিছু এখন হবু মায়ের জন্যই হবে।
পরশ বললো,
~তোরও দিন আসবে সেদিন দেখিস আমি কী করি।
প্রলয় হেসে হাতে থাকা মিষ্টির প্যাকেটটি টেবিলে রেখে বললো,
~সবাই মিষ্টি খেয়ে নিন সুখের দিনে মিষ্টি মুখ করতে হয়।
পরশ প্রহেলীর সাথে এসে সোফায় বসে পরলো সবাই ব্যস্ত হৈ হুল্লোড় করতে। পরশ প্রহেলীর হাত ধরে বললো,
~তোমার কী খারাপ লাগছে?
প্রহেলী মৃদু হেসে বললো,
~নাহ খারাপ লাগছে না।
সবাই সারাদিন মজা-মাস্তিতে কাটিয়ে দিলো বিকেলবেলা সবাই রওনা দিয়ে দেয় বাসার উদ্দেশ্যে। নয়না প্রহেলীকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~আপু নিজের খেয়াল রেখো।আমি তোমার সাথে দেখা করতে আসবো।
প্রহেলী বললো,
~তুই সুস্থ হয়ে তারপর আমার কাছে আসিস।কোনো সমস্যা নেই আর মেডিসিন সময় মতো নিবি।
নয়না মাথা দুলালো সবাই গাড়িতে উঠে বসলো গাড়ি চলতে শুরু করলো আপন গতিতে।নয়না তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভিতরে চলে আসলো।প্রলয়ও তার সাথে ভিতরে এসে পরলো নয়নার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো তার মন খারাপ।প্রলয় নয়নাকে বললো,
~সবাই চলে গেছে বলে মন খারাপ?
নয়না বললো,
~আসলে ছোট থেকেই আমি অনেক মানুষের ভীরে বড় হয়েছি এ বাসায় আপনি ছাড়া কেউ নেই।আর আপনিও অফিসে চলে যান তখন আমি একা হয়ে যাই।
প্রলয় বললো,
~হুম আমি বুঝতে পেরেছি।
নয়না বললো,
~আমার পা ব্যাথা করছে একটু রেস্ট করতে হবে।
প্রলয় নয়নাকে বিছানায় শুইয়ে দিলো তারপর ল্যাপটপ নিয়ে কাজে বসে পরলো।
পরশরা বাসায় পৌছে যে যার রুমে চলে গেলো প্রহেলী রুমে এসে বিছানার চাদর সরিয়ে নতুন চাদর বিছিয়ে ফেললো তখনই ঘরে প্রবেশ করলো পরশ আর বললো,
~এসব এখন করার কী দরকার ছিল?তোমার রেস্ট নিতে হবে।
প্রহেলী বালিশে মাথা রেখে বললো,
~চাদরটা ময়লা হয়ে গেছে তাই সরিয়ে ফেলেছি।
পরশ প্রহেলীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
~আচ্ছা আমাদের একটা মেয়ে হলে কেমন হয়?
প্রহেলী বললো,
~আল্লাহ যা দেয় তাতেই আমি খুশি কিন্তু সুস্থ সবল দান করুক।
পরশ বললো,
~আমার একটা ছোট্ট রাজকুমারী পুরো বাসায় হেঁটে বেড়াবে কতোটা আনন্দ দায়ক হবে ব্যাপারটা।
প্রহেলী হেসে উঠলো আর বললো,
~আগেই এতো কিছু ভাবছেন।
পরশ বললো,
~তুমি আমার কল্পনার রাজ্যে একবার ভ্রমণ করে এসে প্রিয়।কতো যে স্বপ্ন বুনেছি আমি তা দেখতে পাবে
প্রহেলী বললো,
~ওহে কবি সাহেব এখন আমার জন্য একটু পানির ব্যবস্থা করুন।
পরশ হালকা হেসে বিছানা থেকে উঠে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলো।প্রহেলী ভাবছে,
~সব স্বপ্ন পূরণ হবে তো নাকি অপূর্ণতায় ঘিরে ধরবে আমাদের।

_________________

সময় চলছে নিজ গতিতে দেখতে দেখতে ৭ মাস কেটে গেলো এ কয়েকদিনে প্রহেলীর পেট অনেকটাই উঁচু হয়ে গেছে পরশ,রুমানা তালুকদার, আমেনা সিকদার প্রহেলীকে একটুও কাজ করতে দেয় না।প্রহেলী এখন মুখ ফুলিয়ে বসে আছে বিছানায় পরশ রুমে প্রবেশ করতেই প্রহেলী বললো,
~আমি আর আপনাদের সাথে থাকবো না।
পরশ ভ্রুকুচকে প্রহেলীর দিকে তাকিয়ে বললো,
~কী বলছো এসব?
প্রহেলী বললো,
~আপনারা সারাদিন আমায় কোনো কাজ করতে দেন না এভাবে বসে থাকতে ভালো লাগে।কোনো কিছু করতে গেলেই মা ধমক দেয় এসব আর ভালো লাগে না।
পরশ মুচকি হেসে বললো,
~তোমার শরীরের অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।ডাক্তার কী বলেছে শুনো নি তোমার প্রপার রেস্টের প্রয়োজন।
প্রহেলি বললো,
~তাই বলে সারাদিন এভাবেই শুয়ে বসে কাটাবো।
পরশ বললো,
~একদম না তুমি হাটা-চলা করো বাহিরে গিয়ে প্রকৃতি দেখো বই পরো,নামাজ পরো তাহলেই তো সময় কেটে যায়।
প্রহেলী কিছু না বলে বসে রইলে পরশ প্রহেলীর কাছে গিয়ে তার গাল টেনে দিয়ে বললো,
~আমার বাবুর আম্মু এই কয়েকটাদিন নিয়ম গুলো মেনে চলো তারপর তো সব ঠিকই হয়ে যাবে।
প্রহেলী বললো,
~দাদীকে দেখতে মন চাইছে।
পরশ বললো,
~আমি কালকে দাদীকে নিয়ে আসবো তোমার কাছে।
প্রহেলী পরশের কাঁধে মাথা রেখে বললো,
~আচ্ছা আমি যদি মরে যাই আপনি কী আরেকটা বিয়ে করবেন?
প্রহেলীর কথায় পরশের বুকটা কেঁপে উঠে সে প্রহেলীকে সরিয়ে দিয়ে বললো,
~আমার সাথে কথা বলবে না তুমি খবরদার আমাকে ফোন দেওয়ারও চেষ্টা করবে না।
বলেই সে গটগট করে রুম থেকে বের হয়ে গেলো তারপর বাসা থেকে বের হয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
আর এখানে প্রহেলী অবাক হয়ে বসে আছে সে তো এভাবেই প্রশ্নটা করেছিল এতে রেগে কেন গেল পরশ?
প্রহেলীর এখন খারাপ লাগছে মানুষটা না খেয়েই চলে গেলো।
নয়না আজ শাড়ি পরেছি এ কয়েকদিনে প্রলয়ের সাথে তার সম্পর্কটা গভীর হয়ে গেছে।আজ নয়না প্রলয়কে সারপ্রাইজ দিবে তাই তো সে শাড়ি পরে রেডি হয়েছে।পুরো ঘর সাজিয়েছে প্রলয়ের পছন্দের খাবার রান্না করেছে সে নয়না তৈরি হয়ে প্রলয়ের জন্য অপেক্ষা করছে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো রাতঃ৯টা প্রলয় কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবে।
তখনই কলিংবেল বেজে উঠলো নয়না দরজা খুলে দিতেই দেখতে পেলো প্রলয় দাড়িয়ে আছে। প্রলয় নয়নাকে দেখে অনেকটাই অবাক হয়েছে পরনে শাড়ি খোঁপায় বেলীফুলের মালা তাকে দেখতে অপরূপ লাগছে।
নয়না মুচকি হেসে বললো,
~কী দেখছেন?
প্রলয়ের ভাবনা সেখানেই শেষ হলো সে বললো,
~কিছু না।
বলেই সে ভিতরে প্রবেশ করলো নয়না পানি এনে তার হাতে দিলো প্রলয় পানি পান করে বললো,
~কালকে আমরা পরশদের বাসায় যাবো।
নয়না মাথা দুলালো প্রলয় উঠে দাড়ালো রুমে যাওয়ার জন্য নয়নাও তার পিছে পিছে চলে আসলো।প্রলয় রুমে ডুকতেই তার মুখ হা হয়ে গেলো সে একবার নয়নার দিকে তাকালো নয়না হেসে প্রলয়ের গলা জড়িয়ে ধরে বললো,
~কেমন হয়েছে সব আমি নিজ হাতে করেছি।
প্রলয় নয়নার কোমড় জড়িয়ে ধরে বললো,
~আমার জন্য করেছো এসব?
নয়না বললো,
~নাহ পাশের বাসার করিমের জন্য করেছি।
প্রলয় নয়নার কোমড় আরো শক্ত করে ধরে বললো,
~এতো সাহস তোমার নেই।
নয়না ফিক করে হেসে বললো,
~ফ্রেশ হয়ে আসেন খাবার সার্ভ করছি।
প্রলয় আচমকা নয়নাকে কোলে তুলে নিলো এতে নয়না অবাক হয়ে বললো,
~কী করছেন নিচে নামান।
প্রলয় বাঁকা হেসে বললো,
~আজ তোমায় ছাড়ছি না সুন্দরী।
বলেই সে নয়নাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তার ঘাড়ে মুখ গুজে বললো,
~আজ তোমার মাঝে বিলীন হতে চাই আমাকে সেই অনুমতি দিবে।
নয়না আবেশে প্রলয়ের শার্টের কলার চেপে ধরলো দুজন ভালোবাসার জগতে চলে গেলো যেখানে কোনো বাধা নেই।এই জীবনে তারা একসাথে পথ চলার প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছে দুটি প্রাণ এখন মিলিত হয়ে এই ধরনীতে সুন্দর এক ভুবন তৈরি করবে।

_________________

পরশ বাসায় ফিরে রাত ২টায় সে অনেকটাই রেগে ছিল এখন সে ঠান্ডা হয়েছে।রুমে ডুকেই দেখলো প্রহেলী গালে হাত দিয়ে শুয়ে আছে পরশের মায়া লাগলো সে ধীর পায়ে গিয়ে প্রহেলীকে কোলে তুলে নিলো প্রহেলী পিট পিট করে চোখ খুলে পরশকে দেখে বললো,
~আপনি এসেছেন প্লিজ আমার সাথে রাগ করবেন না আমি ওসব আর বলবো না।
পরশ প্রহেলীকে বিছানায় বসিয়ে বললো,
~আর কোনোদিন এসব বলবেনা।
প্রহেলী পরশকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~খেয়েছেন?
পরশ বললো,
~নাহ
প্রহেলী বললো,
~চলেন টেবিলে খাবার রাখা আছে খেয়ে নিবেন।
পরশ ফ্রেশ হয়ে আসলে তারা একসাথে খাবার খেয়ে
শুয়ে পরে প্রহেলী পরশের বুকে মাথা রেখে বললো,
~আমি আপনাকে ভীষন ভালোবাসি।
পরশ প্রহেলীর কপালে তার ওষ্ঠজোড়া ছুইয়ে দিয়ে বললো,
~সারাজীবন তোমায় ভালোবাসতে চাই।
সকালের এক ফালি রোদ নয়নার মুখে পরতেই সে ঘুম
থেকে উঠে পরে।প্রলয় তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে সে হালকা হেসে প্রলয়কে ছাড়িয়ে উঠে পরলো।ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো নাস্তা তৈরি করছে তখনই প্রলয় তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে বললো,
~আমাকে রেখে চলে আসলে কেন?
নয়না বললো,
~কাজ করছি আপনি যান ফ্রেশ হয়ে নিন।
প্রলয় নয়নার কাঁধে থুতনি রেখে বললো,
~তোমাকে ছাড়া ভালো লাগে না।
নয়না বললো,
~সকাল ১০টা বাজে আপনার মিটিং আছে আজকে মনে আছে।
প্রলয় বললো,
~হুম মনে আছে।
বলেই সে ফট করে নয়নার গালে চুমো খেয়ে চলে গেলো নয়না কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো তারপর একটা হাসি দিয়ে আবার কাজ করতে শুরু করলো।
ভালোবাসাময় দিন গুলো এভাবেই কাটতে লাগলো প্রলয়,নয়না,পরশ,প্রহেলী নিজ জীবনে খুশিতে কাটাতে লাগলো।পরিবার নিয়ে তারা সুখে আছে কিন্তু আজ সবার মনেই ভয় কাজ করছে কারণ

_____________

আজ প্রহেলীর ডেলিভারি সবাই কড়িডোরে অপেক্ষা করছে।পরশ চিন্তায় পায়চারি করছে প্রলয় তাকে সামলিয়ে রাখছে নয়না বোনের জন্য দোয়া করছে আমরুল সিকদার অনেকটাই চিন্তিত আমেনা সিকদার দোয়ায় ব্যস্ত।পরশ বললো,
~আমার অনেক চিন্তা হচ্ছে প্রলয়।
প্রলয় বললো,
~কোনো চিন্তা করবি না সব ঠিক হয়ে যাবে।
বেশকিছুক্ষন পর ডাক্তার বের হয়ে বললো,
~Congratulation.ছেলে হয়েছে আর মাও ঠিক আছে
পরশ খুশিতে কান্না করে দিলো প্রলয় পরশকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~দোস্ত তোর রাজকুমার এসেছে।
সবাই খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো ছেলেকে এনে বাবার হাতে দিলো পরশ তার কপালে চুমো খেয়ে বললো,
~আমার সরফরাজ এসেছে।
বিকেলবেলা প্রহেলীকে নিয়ে সবাই বাসায় এসে পরলো বাবুকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত নয়না তো বাবুকে ছাড়ছেই না।প্রহেলী নয়নাকে ডেকে বললো,
~তোর কী আজকেও বমি হয়েছিল?
নয়না বললো,
~হুম।
প্রহেলী আলতো হেসে নয়নার হাতে একটা জিনিস দিয়ে দিলো নয়না বললো,
~pregnence kit?
প্রহেলী বললো,
~হুম
রাতে প্রহেলী বাবুকে নিয়ে বসে আছে পরশ রুমে ডুকেই বাবুর কাছে বসে বললো,
~আমার সরফরাজ কী করছে?
প্রহেলী বললো,
~ঘুমায়।
পরশ প্রহেলীর কপালে ঠোঁট ছুইয়ে বললো,
~ধন্যবাদ আমার #মনের_অন্তরালে এতো সুন্দর ঘর তৈরি করার জন্য।
প্রহেলী হেসে পরশের কাঁধে মাথা রেখে জানালা দিয়ে সেই পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে লাগলো।
নয়না ভয়ে ভয়ে প্রলয়ের কাছে গেলো আর হাতে থাকা জিনিসটা প্রলয়ের সামনে রেখে বললো,
~আমি প্রেগন্যান্ট।
প্রলয় ভ্রুকুচকে বললো,
~তুমি কী?
নয়না বললো,
~যা শুনেছেন তাই।
প্রলয় একবার প্রেগ্ন্যাসির কীটের দিকে তাকালো আসলেই নয়না সত্যি বলছে।নয়না বললো,
~এতে আমার কোনো দোষ নেই যা দোষ আপনার।
নয়নার কোথায় প্রলয় হো হো করে হেসে উঠলো তারপর নয়নাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~অবশ্যই আমারই দোষ।
রাতের অন্ধকারে পূর্নিমার চাঁদের আলো নয়নার মুখে পরছে প্রলয় অতি আদরে প্রেয়সীকে নিয়ে চাঁদ দেখছে।নয়না ঘুমের দেশে চলে গেছে প্রলয় নয়নার ঠোঁট তার ওষ্ঠজোড়া ছুইয়ে বললো,
~#মনের_অন্তরালে শুধু তোমারই বসবাস।

সমাপ্ত।

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here