মনের কোনে পর্ব ২

0
56

#মনের_কোনে
#নাহিয়ানা_আফ্রিন_লেখিকা
#পর্ব_২+৩

আফ্রিন তার মামনি এর সাথে বসে গল্প করছে আর কফি খাচ্ছিলো তখন মামনি বললো আসফিন না কি জগিং থেকে ফিরে জুস খায় তা আবার ফ্রুটস দিয়ে বানানো।

আফ্রিনঃ আসছেরে নবাব জাদা এ টা খায় না ওটা খায় না এটা ঠিক না ওটা ঠিক না।মামনি তুমি ভাইয়া কে কি ছোট বেলায় হওয়ার পর তার মিস্টি মুখ করো নাই?

মামনি ঃ যা ফাজিল কোথাকার এভাবে কেউ বলে?ও আসলে এমন ই উসৃৃঙ্খল দেখতে পারে না। ও সবসময় চায় যে আমরা আমাদের আদব কানুন মেনে চলি। ওয়েস্টার্ন কালচার ও দেখতেই পারে না।

আফ্রিনঃ আমি কি করবো মামনি ইউ নো না আমি কোথায় থাকতাম কিভাবে থাকতাম?

মামনি ঃ যাহ এসব বাদ দে তুই জুস অনেক মজা করে বানাস ভাইয়ার জন্য বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিয়ে আয়!

আফ্রিনঃ ওকে মামনি। এটা বলে আফ্রিন রান্না ঘরে গিয়ে খুব সুন্দর ভাবেই জুস বানায় অরেঞ্জ জুস যেটা আসফিন বেশি লাইক করে।আফ্রিন মনে মনে ভাবছে যে এই লোকটা তো তিতা তিতা কথা বলে তাকে তো করলার জুস উইথ মালাই খাওয়ানো দরকার। থাক একদিন আমি এটা খাওয়াবোই তাকে এটা বলে ফ্রিজ এ জুস রেখে উপরে যায়।

অনেকদিন ধরে কারো সাথে যোগাযোগ নাই যাই লিয়া এর সাথে কথা বলি।লিয়া আফ্রিন এর বেষ্টি সেও বাঙালি তারা ছোট থেকে একসাথে বড় হয়েছে একবার রিং হতেই লিয়া ফোন তুলে

লিয়াঃহ্যালো হুস স্পিকিং?(হ্যালো,কে বলছেন?)

আফ্রিনঃ আসসালামু-আলাইকুম আর রাখ তোর হুস স্পিকিং সালাম দেওয়া অফ করলি কবে থেকে সালি কাহিকি?

লিয়াঃ ওয়ালাইকুম-আস সালাম তুই ডায়ান কাহিকা বিডি যাইয়া আমাকে ভুলেই গেছোস?আমি ঘুমাচ্ছিলাম এখানে তো এখন রাত?

আফ্রিনঃ না রে তোকে কি ভুলতে পারি আমি বল? অনেক ট্রাজেডি হয়ে গেছে বিডি তে আমার সাথে?

একে একে সব খুলে বললো লিয়া কে লিয়া আফ্রিন এর কথা শুনে কান্না করতে শুরু করলো কারণ আফ্রিন এর আম্মু তাকে খুব আদর করতো।

লিয়া ঃ ডোন্ট বি স্যাড বেবস আল্লাহ আছে না আর আমার আম্মু আব্বু ও বিডিতে আমি খুব জলদি আসছি।আই এম কামিং টু সুন এস পসিবল।

আফ্রিনঃ আচ্ছা আসার সময় আমার সব সার্টিফিকেটস আর ডকুমেন্টস গুলা নিয়া আসিস তোর কাছে তো বাসার চাবি আছে?

লিয়াঃ হুন আছে ডোন্ট ওয়ারি সব নিয়ে আসবো।

আফ্রিন ঃ আচ্ছা রাখি আমি তুই ঘুমা!

আফ্রিন এর খুব ভালো লাগছে লিয়া এর কথা শুনে।আফ্রিন এর মাস্টার্স কমপ্লিট সে এখন তার প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্টস পেলে জব এর জন্য এপ্লাই করতে পারবে আর জব পেলে এখান থেকে সে চলে যাবে এগুলো ভেবে রাখলো সে। আফ্রিন হয়তো ভাবতেই পারবে না তার ইচ্ছা পূরণ হবার নয় আসফিন কখনোই এটা হতে দিবে না।

ঝিমলি এর ডাকে হুস ফিরলো ”

ঝিমলিঃ আফা আন্নে জাইগা জাইগা সপন দেহেন তাইনা।চলেন আগে দুইহান খাইয়া লইবেন আম্মায় আর ভাইজান আন্নের লাই অফিক্ষা করতাইছে।

আফ্রিনঃ আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি। আর হ্যাঁ তোমার কথা গুলো খুব সুইট আমার অনেক ভাল্লাগে যদিও অল্প অল্প বুঝছি।(হেসে দিয়ে)

ঝিমলি ঃ আন্নে তো বিলিতি মাইয়া কেন্নে বুঝবেন আর কথা?আন্নে দেখতে পুরাই ফরি এর মতো আফা।

আফ্রিন এবার আর বুঝলো না ঝিমলি কি বললো তাই তো সে হেসে নিচে নামলো ব্রেকফাস্ট করতে’

আসফিন ঃ আম্মু আজকে ফ্রুট জুস টা অসাধারণ হয়েছে আমার অনেক ভালো লাগছে সো আমাকে সেম জুস প্রতিদিন বানিয়ে দিবে ওকে?

মামনিঃ আরে বাব অইটা আমি বানাই নাই রে পাগল ওটা তো আফ্রিন বানাইছে এখন তার উপর নির্ভর সে তোমাকে বানিয়ে দিবে কি দিবে না? আমি কিছু জানি না। (বলে মামনি চুপচাপ নাস্তা করতে লাগলেন)

আফ্রিনঃ সমস্যা নাই মামনি আই কেন মেক দি জুস ফর ভাইয়া।

আসফিনঃ থাক আমার লাগবেনা জুস। মামনি আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আমি যাই আর আমার ফিরতে লেট হবে লাবিব আসবে তো তাকে এয়ারপোর্ট থেকে পিক করে আসতে মেবি ভোর হয়ে যাবে চিন্তা করো না ওকে”

আফ্রিন ভাবতে লাগলো কে এই লাবিব যে তাকে আনতে এই তিতা করলা যাবে? মামনি লাবিব কে?

মামনিঃ লাবিব আমার ভাসুর এর ছেলে আর আসফিন এর বেষ্টফ্রেন্ড বুঝছো?

আফ্রিনঃ ইয়াপ,কিছু সয়তানি বুদ্ধি ভাবতে হবে এখন গিয়ে ঘুমাই আজকে আরামসে থাকা যাবে।

আসফিন আজ খুব খুশি কারণ তার প্রিয়তমা তার জন্য কিছু বানিয়েছে। অইদিন কাজের লোক বলার কারণ হলো আফ্রিন একটা লেগিংস আর টি-শার্ট পরা ছিলো যা দৃষ্টি কটু লাগছিলো আর আসফিন এর ফ্রেন্ড আফ্রিন এর দিকে বাজে ভাবে তাকিয়ে ছিলো তাই তো রাগে কাজের লোক বলছিলো।আর আসফিন ওর ফ্রেন্ড কে খুব সুন্দর ভাবে মেরব হসপিটাল এডমিট করে রেখে আসছে।

(নায়িকা আফ্রিন ঃ পুরো নাম নাহিয়ানা আফ্রিন।সে দেখতে খুব ই সুন্দর গোল গোল চোখ, কালো মনি, জোর ভুরুযুগোল, গোলাপি ঠোঁট, বাদামি স্ট্র্বেট সিল্কি চুল কোমর অবদি বিছানো, যেনো পরি, অনেক সুন্দর দেখতে ৫’৫ হাইট। সে মাস্টার্স কাম্পলিট করেছে ২২ বছর এর তরুনী)

(নায়ক আসফিন ঃ পুরো নাম আসফিন আসিফ। টপ বিজনেস মেন দের মধ্যে একজন খুব ই বিখ্যাত সে তার কাজের জন্য। অনেক রাগি আর দেখতেও মাশাল্লাহ উচ্চতা ৬। জিম করা ফিট সিক্স প্যাক এবস এর বডি।শ্যামলা রঙের অধিকারী হয়েও হাজারো নাড়ীর স্বপনের পুরুষ সে।বয়স ২৯)

কাল সারাদিন খুব ভালোভাবেই কাটিয়েছে আফ্রিন রাতে ঘুম ও ভালো হয়েছে। সকালে ফজরের সালাত আদায় করে সে বেলকনি তে গেলো ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাশ বইছে তাইতো বাহিরের প্রকৃতির আনন্দ নিতে লাগলো চোখে বুঝে আর গাইতে লাগলোঃ

যযে জন প্রেমের ভাব জানে না
রুনা লায়লা
.
যে জন প্রেমের ভাব জানে না
তার সঙ্গে নাই লেনাদেনা
খাঁটি সোনা ছাড়িয়া যে নেয় নকলসোনা
সে জন সোনা চেনে না
.
কুটা – কাঁটায় মানিক পাইল রে
অথই পানিতে ফেলিয়া দিল রে
সাত রাজার ধন মানিক হারাইয়া
ওহায়রে
কুটা- কাঁটায় মন যে মানে না
সে জন মানিক চেনে না
উল্লুকের থাকিতে রে নয়ন
না দেখে সে রবির কিরণ
কি কব দুঃখের কথা
ও আমি
সে জন ভাব জানে না
সে জন মানিক চেনে না
.
পিঁপড়া বোঝে চিনির দাম,
ও বানিয়ায় চিনে সোনা
মাটির প্রেমের মূল্য কে জানে
ওহায়রে
ধরায় আছে কয়জনা,
সে জন মানিক চেনে না
যে জন প্রেমের ভাব জানে না
তার সঙ্গে নাই লেনাদেনা
খাঁটি সোনা ছাড়িয়া যে নেয় নকলসোনা
সে জন সোনা চেনে না

আসফিন আর লাবিব বাড়ির ভিতর এ প্রবেশ করার সময় গানের আওয়াজ পেয়ে থেমে যায়,উপর এর দিকে তাকিয়ে দেখে আফ্রিন প্রকৃতি উপভোগ করছে আর গান গাইছে।আফ্রিন এর গান লাবিব আর আসফিন মুগ্ধ হয়ে শুনছে। অনেক সুন্দর কন্ঠ আফ্রিন এর।

লাবিবঃ দোস্ত ভাবির কন্ঠ তো মা শা আল্লাহ এতো ভালো গান গায়।তোর পছন্দ আছেরে চল ভিতর এ আম টায়ার্ড!

আসফিনঃ আমার পছন্দ গুলো সবসময় ই সুন্দর হয় রে আর তাই তো তার ও আমার পছন্দ করা সব জিনিস ছিনিয়ে নিতে সুবিধা হয়(কার কথা বলছে আসফিন?কে সে কেনই বা তার জিনিস সব নিবে?)

লাবিবঃ বাদ দে দোস্ত আল্লাহ সহায় আছে চল!

আসফিন ঃ হ্যা চল!

______——-চলবে———______

#মনের_কোনে
#নাহিয়ানা_আফ্রিন_লেখিকা
#পর্ব_৩

আফ্রিন ভাবতেও পারিনি যে এতক্ষণ দুইজন যুবক কেমন মুগ্ধ হয়ে গান শুনছিল তার। সে বেলকনি থেকে বেরিয়ে রান্না ঘরে যায় রোজকার মতো কফি বানানোর জন্য যা আফ্রিন এর অভ্যাস।

আসফিন কে ও তার সাথে এক যুবক কে উপর এর দিকে যেতে দেখলো সে তাদের দুজন কে খুব ক্লান্ত লাগছিল।তাই সে চা কফি বানিয়ে চা মামনির রুম এ দিয়ে আসলো।দুই মগে কফি ঢেলে সে সাথে বিস্কুট রাখলো ট্রে-তে হাটা দিলো আসফিন এর রুম এর দিকে।আসফিন এর রুম এর দরজা নক করলো আফ্রিন;

আসফিনঃ কে?

আফ্রিনঃ ভাইয়া আমি আফ্রিন আসবো?

আসফিনঃ আপনি এখানে হঠাৎ? হ্যাঁ ভিতরে আসতে পারেন।

আফ্রিন ঃ রুম এ ঢুকে গেলাম ভাইয়ার, আসলে ভাইয়া আপনাদের জন্য কফি.।

আসফিন অবাক আজ নিজ থেকে আফ্রিন তার সাথে কথা বললো আর কফি ও নিয়ে আসলো।

লাবিব ঃ ওহ থ্যাংক্স আপ্পি আপনাকে ঠিক সময় এই নিয়ে আসছেন, কফি টা অনেক জরুরি ছিলো আমাদের জন্য থ্যাংক্স আ লট।

আসফিন কিছু না বলে কফি নিয়ে সোজা বেলকনি তে চলে গেলো।

আফ্রিন এবার হাটা ধরলো নিজের রুম এর দিকে,আফ্রিন কফি একটু খেলো হঠাৎ তার অনেক বমি পেলো সে দৌড়ে চলে গেলো ওয়াসরুম এর দিকে বমি করে ফ্রেস হয়ে এসে বেড এ বসলো আফ্রিন, ভাবতে লাগলো লাস্ট ৩ মাস ধরে তার পিরিয়ড মিস যাচ্ছে,এমন তো নয় যে সে আর ভাবতে পারলো না বসে পরলো বিছানায়। মোবাইল নিয়ে কল দিলো রামিম কে।

রামিম ঃ হ্যালো মাই কিউটি,আজ এতো সকাল সকাল আমার কথা মনে পরলো?

আফ্রিন ঃ কেনো পরবে না রামিম,আমাকে বিয়ে করবে তুমি?

রামিম ঃ সাডেন বিয়ে নিয়ে পরলা তুমি?(কিছুটা আশ্চর্য হয়ে)

আফ্রিনঃ রামিম আমার লাস্ট দু মাস ধরে পিরিয়ড মিস যাচ্ছে, আজ সকালে বমি হয়েছে,আই থিংক দেট আই এম প্রেগন্যান্ট।

রামিমঃ হোয়াট দা হেল আফ্রিন?তুমি কিভাবে এসব (বসে পরলো সোফায় আর উত্তেজিত হয়ে চিল্লিয়ে বললো)

আফ্রিনঃ আমার সাথে এভাবে কেনো কথা বলছো রামিম আমাকে না তুমি ভালোবাসো?

রামিমঃ এসব কথা পরে বলা যাবে তাড়াতাড়ি রেডি হও আমি এসে তোমাকে হসপিটাল এ নিয়ে যাবো।

আফ্রিন ঃ কেনো?

রামিম ঃ জানো না কেনো এবরশোন করানোর জন্য, এখন বেবি আমার লাগবে না তাছাড়া বিয়ের আগে বেবি এদেসে চলে না।

আফ্রিন ঃ কি আমি কিছুতেই এবোরশন করাবো না রামিম,সমস্যা কোথায় রামিম মামু আর মামির সাথে কথা বলি আমরা তারা নিশ্চিত আমাদের মেনে নিবেন।

রামিম ঃ তুমি বুঝতে পারতেছো না চুপচাপ রেডি হও,

আফ্রন ঃ না কিছুতেই না রামিম আমরা তো একে অপর কে খুব ভালোবাসি তাই না?তোমার কথায় তো আমরা সেদিন ইন্টিমেট হই এখন তুমি এগুলা কেনো বলছো?

রামিম ঃ সো হোয়াট আর কে বলেছে আমি তোমাকে ভালোবাসি এই রামিম ইকবাল এর পিছে কতো মেয়ে ঘুরে জানো আর আমি কিনা তোমার মতো মেয়ে কে করবো বিয়ে হাহ।যা মন চায় তা করো ডোন্ট কল মি এগেইন!

বলেই কল কেটে দেয় রামিম, আফ্রিন কান্না করা শুরু করে আর ভাবে কি হচ্ছে তার সাথে এগুলা। রামিম এখন আমন কেন করছে? কি হবে তার এখন।রামিম এভাবে পালটে গেলো কেনো? ভাবতে লাগলো সেই পুরোনো দিনের কথা।

…………অতীত…………

৩ মাস আগে রামিম ইউ এস এ যায় আফ্রিন দের বাসায়।
তো যেহেতু রামিম সেখানে নতুন কিছু চিনে না তাই রামিম কে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পরে আফ্রিন এর কাধে। আফ্রিন আর রামিম তারা অনেক যায়গায় ঘোরাঘুরি করতো এমন একদিন রামিম আফ্রিন কে প্রপোজ করে ফেলে আর আফ্রিন রামিম কে হ্যাঁ বলে দেয়।এভাবে তাদের দিন কাটে রামিম এর জন্মদিন এর দিন রামিম এর আফ্রিন একটি রিসোর্ট এ জন্মদিন সেলিব্রেট করে রামিম জোর করে আফ্রিন কে ড্রিংকস করায় আফ্রিন নেসায় বুদ হয়ে থাকার ফলে রামিম তার কাজে সফল হয় ভালোবাসার কথা বলে আফ্রিন কে নিজের করে নেয়।যখন আফ্রিন এর জ্ঞান ফিরে সে নিজেকে রামিম এর বুকে পায় রাতের কথা মাথায় আসতেই সে কান্নায় ভেংগে পরে সে রামিম তাকে অনেক কষ্টে বুঝিয়ে সুনিয়ে শান্ত করে সামলে নেয় সেদিন সব।

তারপর আফ্রিন না দেশে আসে মা-বাবার মৃত্যু তে এতো ঝামেলায় সে ভুলে যায় সব

……বর্তমান….

রামিম বসে আছে অনেক ভয়ানক দেখাচ্ছে তাকে আজ,রামিম বলা শুরু করলো, আমি তো আফ্রিন কে কখনো ভালোই বাসি নাই ও তো আমার একটা খেলার গুটি মাত্র যাকে আমি ইউজ করে গেছি।তোর থেকে সব কেরে নিবো আমি আসফিন সব।

রামিম ঃ আম্মু আম্মু ও আম্মু কই তুমি?

রামিমের আম্মু ঃ এইযে আমি বাবা,কি হইছে এমন ডাকছোস কেন?

রামিম ঃ আমি সিনথিয়া কে বিয়ে করার জন্য রাজি আগামি ৪ দিনের মধ্যে বিয়ের সব ব্যাবস্থা করো তুমি।

রামিমের আম্মু ঃ আলহামদুলিল্লাহ আব্বু আমি অনেক খুশি হয়েছি আমি সব ব্যাবস্থা করছি বলে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে রামিমের মা সালেহা বেগম।

সালেহা বেগম আজ অনেক খুশি কারণ তার বোনের মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে রামিম।যাক ভালোই হয়েছে অই অলক্ষির ভুত মাথা থেকে নেমেছে আমার ছেলের।অই বিদেশি মাইয়া আফ্রিন যতই আমার ননদের মেয়ে হোক এক বিন্দু ও দেখতে ইচ্ছা হয় না আমার ওরে।

সালেহা বেগম ঃ হ্যালো আফা,রামিম সিন্থিয়া কে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেছে আর বলছে ৪ দিনের মধ্যে সব ব্যাবস্থা করতে।শুনো তাড়াতাড়ি সব করে ফেল তুমি।

রিনা বেগম ঃ তাই বাকি সালু আচ্ছা আমি সব করছি।

সিন্থিয়ায়ার বাবা কই তুমি? শুনে যাও রামিক বিয়ের জন্য রাজি হয়ে গেছে আমাদের সিন্থিয়াকে সব ব্যাবস্থা করতে হবে তো আসো।

সিন্থিয়া মায়ের কথায় খুব খুশি হয়ে যায়।কিশোরী মন যে তার রামিম কে সেই কবে দিয়ে ফেলছে সে,১৮ বছর এর কিশোরী আবেগ দিয়ে ভালোবাসে সে রামিম কে।ছোট বলে রামিম কখনোই সিন্থিয়ার অনূভুতি গুলো পাত্তা দিতো না এতে অনেক কষ্ট পেতো সিন্থিয়ার ছোট মন।আজ সে খুব খুশি পেতে চলেছে তার ভালোবাসা।

আজব দুনিয়ায় কেউ ভালোবেসে না বলতে পেরে কষ্ট পাচ্ছে তো কেউ আবার পেয়েও হারালো,আর কেউ নতুন স্বপ্ন বুনছে তার ভালোবাসা কে নিয়ে।

দেখতে দেখতে কেটে গেলো ২ দিন আজ রামিম আর সিন্থিয়ার গায়ে হলুদ।দুই দিন ধরে আসফিন তার প্রিয়তমা এর দেখা পাচ্ছে না,আফ্রিন নিজেকে ঘরবন্ধি করে রেখেছে।

সালেহার গলার আওয়াহ শুনে কোনো রকম গায়ে ওরনা জরিয়ে নিচে নেমে এলো আফ্রিন।নিচে এসে দেখলো রামিম আর সালেহা বেগম এসেছেন তার বাসায়।

রামিম আফ্রিন এর দিকে তাকিয়ে চমকে গেলো আফ্রিন এই দু দিন এ নিজের কি হাল বানিয়েছে মুখটা কেমন শুকনো শুকনো লাগছে তার।রামিম এর তো খুশি হওয়ার কথা কারণ সে তো আফ্রিন এর এই অবস্থা বানিয়ে আসফিন কে কষ্ট দিতে চেয়েছিল তবে আজ তার বুকে কেন চিনচিন ব্যাথা হচ্ছে, সব অনূভুতি গুলো কে মনের কোনে আটকে দিলো হাসি মুখে আসফিন এর কার্ড এগিয়ে দিলো,

রামিম ঃ আসলে আমার কাল বিয়ে আজ গায়ে হলুদ এতো তাড়াতাড়ি সব হলো যে কাউকে জানাতে পারি নাই আমি।সবার আগে তোকে দিলাম আসফিন। ফুপি তোমরা সবাই আজ বিকেল চলে এসো আমাদের বাসায়।

আস্ফিন ঃ আর ইউ সিরিয়াস মেন তোর বিয়ে আর এখন বলছিস আমাকে?(অবাক হয়ে কারণ আসফিন আশা করে নাই এতো সহযে সরে যাবে তার জিবন থেকে)

আফ্রিন স্তব্দ হয়ে গেলো রামিম এর কথা শুনে তার পুরো পৃথিবী ঘুরতে লাগলো চোখ বুঝে আসলো তার পরে গেলো সে নিচে….

…..চলবে…

(নোটঃ সরি ভাইয়া আপুরা এজ আর স্টাডি এতো হিসাব করে দেই নাই আমি।আমি জানি না কতো এজ এ সাধারণত শেষ হয় আমি নিজেই দশম শ্রেনীর ছাত্রী। তাই ভুলটা ক্ষমা সুলভ দৃষ্টি তে দেখবেন।গল্পে কিন্তু তেমন লাইক আসছে না যা আমি আশা করি)

(আপনাদের রিসপ্নস পাচ্ছি না গল্পটা তে ভালো লাগছে না গল্পটা আপনাদের? আরো অনেক চমক আছে ওয়েট এন্ড ওয়াচ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here