মেঘভেলায় প্রেমচিঠি পর্ব -০৬+৭

0
59

“মেঘভেলায় প্রেমচিঠি”

৬.

বাসার বুয়া এসে দরজা খুলে দিয়েছে৷ রোদসী চমকে গেলো, যখন দেখে তাঁর সামনে বরাবর দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ মুখে শয়তানী হাসি খেলাধুলা করছে। রোদসী শুকনা ঢোক গিলে। কারণ ওই হাসির মানে জানে সে, মুখের হাসিটি তাঁকে যেন উপহাস করে বলছে,

‘এবার কোথায় পালাবে, রোদচশমা? ‘

রোদসীর মনে হলো, কেউ একজন কথাটা মিথ্যা বলেনি ‘যেখানে বাঘের ভয়,সেখানে সন্ধ্যা হয় ‘। কী সুন্দর ভাবে তাঁর সঙ্গে মিলে গেলো। রোদসী মিনমিন করে এগিয়ে এসে ড্রইং রুমের সামনে আসতেই দিলারা এসে বললেন,

‘আরে রোদি মা যে! এসো এসো, শিশির ওই রুমটায় থাকে। ‘

বলে রোদসীকে নিয়ে যেতে লাগলেন। হঠাৎ নজর পড়লো শহর এই সময় ঘরে আছে। কিন্তু ছেলেটা এই বিকেলের সময়টায় কখনো ঘরে থাকেনা। মাঠে ধুলোবালিতে নেচে-কুঁদে বেড়ায়। আর ঘরে থাকলেও পুরো ঘরটা চিড়িয়াখানার মতো নোংরা করে নাকে তেল দিয়ে পড়ে পড়ে ঘুমায়। পড়াশোনার নাম গন্ধেও নেই। তবে আজ কী হলো! তিনি সন্দিগ্ধ মনে তাকিয়ে শহরকে বললেন,

‘এই হতচ্ছাড়া,তুই ঘরে কী করছিস? ‘

শহর নিষ্পাপ একখানা মুখ করে টেবিলে বসে বলল,

‘এমন করে বলছো আম্মা, আমি মনে হয় কখনো বাড়িতে আসিইনা! ‘

‘আমি কী বলেছি তা? তোর তো ঘরের কিছুতে মন বসে না। তাহলে আজ কেনো? শোন তুই ঘরে থাকলেই কীসব হ্যানত্যান ক্রাফট করিস! কয়েক দিন আগেও আমার শখের কাঁচের কাপ-পিরিচ, প্লেট ভাঙলি। খবরদার, যদি এবার এমন কিছু করিস। ‘

‘ তোমার শোকেসের প্লেট শুধু সারাজীবন দেখেই গেলাম। এমন জিনিসের বেঁচে থেকে লাভ কী? ‘

‘এক থাপ্পড় দিয়ে কানপট্টি গরম করে দিবো! আমার শোকেসে একদম নজর দিবি না। যাহ, তুই দূর হ আমার বাসা থেকে। ‘

‘যাচ্ছি যাচ্ছি, তোমার বাসায় থাকতে আমার বয়েই গেলো। ‘

‘দেখা যাবে৷ আবার ফিরে আসিস। দুগালে জুতা না দিয়েছি! ‘

‘আসলেও আমি আমার বাপের বাড়িতে আসবো। মেয়েরা যেমন নাইয়রে যায়। তেমন আরকি! কিন্তু সমস্যা একটাই, আমার তো বউ নেই। ‘

‘বেহায়ার জাত! মায়ের সঙ্গে ইয়ার্কি করিস।’

শহর ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানেনা এমন মুখে হাসি দিয়ে বাহিরে চলে গেলো। রোদসী বড় একটা হা করে মা ছেলের ঝগড়া দেখছিলো। এরকম ঝগড়া সে কখনো দেখেনি। মা যেমন কথায় কথায় খোঁচা দিয়ে দেয়, ছেলেও তেমন করে একদফা এগিয়ে যায়। দিলারা শহরকে বকতে বকতে রোদসীকে শিশিরের রুমে নিয়ে গেলেন৷ রোদসী রুমে ঢুকে অবাক না হয়ে পারলো না। এখানে আসার সময় দিলারা তাঁকে শহরের রুমটাও দেখিয়েছে। নাক কুঁচকে এসেছিলো বটে। কিন্তু, ছোট ক্লাস ফাইভে পড়া ছেলেটার রুম এতো গোছানো। দেখে মনে হয় এটা কোনো মেয়ের রুমে এসে পড়েছে সে। রোদসী আসতেই বাথরুম থেকে টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে একটা ছেলে বেরিয়ে আসলো। রোদসী দেখলো, কিছুটা গুলুমুলু, ফোলা ফোলা গালের গোছানো পরিপাটি একটা ছেলে এসে দাঁড়ালো। রোদসীর মনে হলো, ছেলেটা তাঁরই কার্বন কপি। এই যে, এইমাত্র যখন টেবিল থেকে গোল চশমাটা চোখে নিয়ে লাগিয়ে মিষ্টি করে শান্ত হাসলো, তখন মনে হলো রোদসীই এমন করছে। কী অদ্ভুত! একই মায়ের পেটের দুই ভাই৷ একজন কী শান্তশিষ্ট! আরেক জন হাড় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খায়। শহর আর রোদসীর ভাই আর্শ এক ক্যাটাগরীর মানুষ। যারা কথা ছাড়া বাঁচে না। বকবক না করলে পেটের ভাত হজম হয়না। আর শিশির ছেলেটা ভদ্রর মতো সালাম দিয়ে পাশে বসলো। দিলারা গর্বিত মুখে বললেন,

‘জানো মা, আমার শিশির পড়াশোনায় খুব ভালো। একবার পড়লেই মুখস্থ হয়ে যায়। তোমার মতোই বইপ্রেমী। ‘

রোদসী মৃদু হেসে বলল,

‘জ্বী আন্টি, দেখেই বুঝতে পারছি৷ ‘

‘আচ্ছা তাহলে, তুমি আজকে শুধু কথাবার্তা বলে নাও। আমি একটু আসছি। ‘

‘জ্বী। ‘

রোদসী টেবিলের অপরপাশে গিয়ে বসতেই শিশিরও অন্য পাশে চেয়ার টেনে বসলো। রোদসী জিজ্ঞেস করলো,

‘ক্লাসে রোল কত তোমার? ‘

‘জ্বী, এক। ‘

রোদসী বুঝতে পারলো শিশির সত্যিই ভালো ছাত্র।
টুকটাক কথাবার্তায় যথেষ্ট শান্ত মনে হলো তাঁর। সে মনে মনে একটু ভয়ই পেয়েছিলো। ভেবেছিলো শিশিরও যদি শহরের মতো হয়! একজনই তাঁর জীবনটা তেজপাতা বানিয়ে দিলো। দুইজন হলে মরেই যাবে। কিন্তু এখন চিন্তা মুক্ত লাগছে। হালকা পাতলা কিছু পড়া বিষয়ক আলোচনা করে বের হলো রোদসী।
কাল বিকেল থেকে রোজ পড়াবে সে। যেহেতু খুব কাছেই বাসা, তাই কোনো ঝামেলা নেই। ঘরে এসে বিছানাটা ঝেড়ে দিলো। টেবিলটা মুছে বারান্দায় গেলো। তিতুসের বাটিটায় ওর কিছু খাবার দিয়ে চুপ করে পাশেই বসে রইলো বই নিয়ে। আর্শ সবেমাত্র মাঠ থেকে খেলে বাড়ি এসে পড়েছে। সে এসেই রোদসীকে ঝাকিয়ে বলল,

‘জানো আপু, আজকে উপরের তলার শহর ভাইয়া আমাকে চকলেট কিনে দিয়েছে। ভাইয়াটা অনেক ভালো। আমাকে ক্রিকেট খেলায়ও নিয়েছে। ‘

রোদসী বিরক্ত মুখে বলল,

‘এমন নোংরা হয়েছিস! ফ্রেশ না হয়ে এখানে এলি কেনো? আর বলেছিলাম না, ওই শহর ছেলেটার থেকে দূরে থাকবি। ‘

আর্শ মুখ অসম্মতিসূচক নেড়ে বলল,

‘কিন্তু আপু, শহর ভাইয়া খুব আদর করে আমাকে। ‘

‘এই যা তো এখান থেকে! ছেলেটার নাম নিবি না আমার সামনে৷ ‘

আর্শ মুখ মলিন করে বের হলো। কেয়া ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন৷ আর্শকে বললেন,

‘কী হয়েছে? এমন মুখ করে আছিস কেনো? ‘

‘মা, আপু আগে তো আমার সঙ্গে কত খেলা করতো,বিকেল হলেই ঘুরতে নিয়ে যেতো। কিন্তু এখন কথাও বলেনা। ‘

‘কথা তো কারও সঙ্গেই বলেনা। তোর সাথে কোনো শত্রুতা নেই। মন খারাপ করিস না। যা ঘরে টিভি দেখ।’

‘কিন্তু এমন কেনো করে আপু?’

‘তুই ছোট এখনো, অত বুঝতে হবে না। ‘

আর্শ চলে যেতেই তিনি চোখের কোণের জলটুকু মুছে নিলেন। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবেনা। সময় সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে থাকবে। মনে মনে ঠিক করলেন, যতদ্রুত সম্ভব তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিবেন। নাহলে, এভাবে একা থাকতে থাকতে মেয়েটা মানসিক রোগীতে পরিনত হবে। মেয়েকে বাঁচাতে হলে, তাই করতে হবে। কেউ কিছু জানার আগেই কাজ সারতে পারলেই স্বস্তি।
“মেঘভেলায় প্রেমচিঠি”

৭.

‘বললাম তো, আমি এখন বিয়ে করবো না। ‘

‘তুই করবি না, তোর বাপ করবে! ‘

‘তো যাও, তোমার সতীনের আগমনের প্রস্তুতি নাও। আমার পড়া আছে। ‘

‘রাখ তোর পড়া। দেখ, তোকে তো আর এখনই করতে বলছিনা। তুই শাড়ি পড়ে শুধু সামনে আসবি। পছন্দ না হলে আর কিছু বলবো না। ‘

রোদসী নিরীহের মতো চুপ করে থাকলো। তাঁর মাথায় ঢুকছে না, এত তড়িঘড়ি করে কেনো বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে মা! কেয়া এসে আবারও জোর করে উঠিয়ে হালকা আকাশীরং এর শাড়ি পড়িয়ে দিলেন৷ রোদসী হতাশ হয়ে কিছুটা সেজে বসলো। সাজতে তাঁর খারাপ লাগেনা। বরং একসময় পার্লারের মতো মেকআপ করা শিখতে আগ্রহী হয়েছিলো। কিন্তু কারণবশত তা হয়নি। তবুও,তীব্র অনিচ্ছায় এখন অসহ্য লাগছে। রাগে মাথা চিরচির করছে। একটামাত্র মাস হয়েছে এই নতুন বাড়িতে এসেছে। শিশিরের সঙ্গে বেশ ভালো বোঝাপড়া। দুইজনের মিল আছে বটে, তাই হয়তো। শহরের সঙ্গে প্রতি দিনই নিয়ম করে ঝগড়া হবেই। যেমন, সকালে যখন শহর গিটার বাজায় তখন দুজনের তুমুল ঝগড়ায় তিতুস বেচারা অতিষ্ট। বিকেলে ইচ্ছে করেই শহর গায়ে মাখিয়ে রোদসীর কাছে আসে। গায়ে ধুলো না লাগলেও মুঠোভর্তি করে এনে ছাঁদে চলে যায়, বিকেলের সময়টা রোদসীকে একমাত্র সেখানেই পাওয়া যায়। রোদসী যখন চোখ বড়সড় করে ‘ইয়াক, ছিহ’ বলে তখন শহর শয়তানী হাসি দিয়ে রোদসীর দিকে তা ছুঁড়ে দেয়। একদিকে যেমন দু’জনের একশো একবার ঝগড়াঝাটি হয় তেমনই রুটিন করে শহর রোদসীকে ভার্সিটি পৌঁছে দেয়। অবশ্য এটা সে অদৃশ্য অধিকারের জোরেই করে। রোদসী যেতে না চাইলেও শহর এসে এমন কান্ড ঘটিয়ে দেয় যে, না যেয়ে উপায় থাকে না। বাসে উঠতে নিলেই শহর হেল্পারকে চেঁচিয়ে বলে,

‘উঠায়েন না ভাই, এর কাছে টাকা নেই। কাল আমি গাড়ি ভাড়া দিয়ে ঠকেছি । একা মেয়ে মানুষ ভেবে ছেড়ে দিলাম। ‘

হেল্পার বাসে আবারও উঠে দুটো চাপড় মেরে অবাক হয়ে বলল,

‘তাই বলে, পাঁচ টাকাও নেই! ‘

রোদসী হতভম্ব হয়ে বলতে নিলেই, শহর আগবাড়ানো গলায় ভালো মানুষের মতো বলল,

‘না ভাই। গরীব মানুষ তো। থাক, আপনি যান। ‘

রোদসীর তখন ইচ্ছে করে থাপড়িয়ে শহরের শ্যামলা চেহারাটা কালচে লাল বানিয়ে দিতে। যেই সে বিনাবাক্যে রিকশার খোঁজ করে, তখন আবার শহর রিকশাওয়ালাকে বলে,

‘চাচা, বউ রাগ করেছে। তাই এমন করছে, চলে যান চাচা। ‘

রিকশাওয়ালাও তা বিশ্বাস করে চলে যায়। রোদসী রাগে ফেটে পড়ে বলে,

‘কী সমস্যা আপনার! আমি কী আপনার প্রেমিকা? নাকি বউ? কোনটা? আমাকে পৌঁছে দিয়ে কী লাভ আপনার? ‘

শহর নিজের পকেট থেকে চকচকে লাল রঙের একটা সানগ্লাস বের করে চোখে পড়ে। যে ধরনের সানগ্লাস গুলো গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চারা ঈদের দিন পড়ে। কয়েক দিন আগেই শহর ঝগড়ার মধ্যে জানতে পেরেছে রোদসীর লাল রঙে প্রচুর অনীহা। দেখলেই নাকি ক্ষেপা ষাঁড়ের মতো ছুটে আসে। আর মূলত এই কারণে ফুটপাত থেকে কমদামি এই রঙচঙে সানগ্লাস কিনে এনেছে। উদ্দেশ্য, কীভাবে রোদসীকে আরেকটু জ্বালিয়ে ছারখার করা সম্ভব। শহর যখন চোখে সানগ্লাসটা পড়ে রোদসীর সামনে দাঁড়ালো তখন রোদসী তাঁর বাঁদরামি বুঝতে পেরে মাথার সবগুলো চুল টেনে ধরলো শহরের। রোদসীর যেমন, নোংরা জিনিসের ছুঁকছুঁকে স্বভাব। তেমনি, শহরের মাত্রাতিরিক্ত অপছন্দ চুলে হাত দেয়া। রোদসী তাই চুলগুলো এলোমেলো করে চলে গেলো। এভাবেই একদিন অতিষ্ট হওয়ার দরুন রোদসী নিয়মিত শহরের সাইকেলে করে যাতায়াত করে। রোদসীর অবশ্য একটা জিনিস ভালো লাগে, যে বয়সে ছেলেরা বাবার টাকায় বাইক কিনে হিরোগিরী করে বেড়ায়। সেখানে এত বড় বাড়ির মালিকের ছেলে হয়েও তাঁর নেই কোনো অহংকার, অহমিকা। সে যেন প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা কোনো যুবক। মাটির সঙ্গে যার নিত্য বাস। ধনী- গরীব সকলের সঙ্গে ওঠাবসা। রোদসী এটাও দেখেছে,
শহরের কোনো বড়লোক বন্ধু নেই। প্রতিটা বন্ধুর সাথে দেখা করার সময়,শহরের গায়েও থাকে নিম্ন সাদামাটা জামা। সব বন্ধুরা মাটিতে বসে আড্ডা দিলে সেও ওভাবেই বসে। রোদসী যে শহরের সামনে এসব নিয়ে প্রশংসা করে, মোটেই তা নয়। সে আরও বাড়িয়ে চড়িয়ে দুই লাইন খুঁত তুলে ধরে।

শাড়ি পড়ে চুপচাপ হেঁটে এসে পাত্রপক্ষের সামনে বসলো রোদসী। গত একটা মাস তাঁর কানের কাছে মাছির মতো ভনভন করে বিয়ের কথা বলছে। আজ আর না পেরে শেষমেশ এসে তৈরি হলো। সোফায় বসার পর একটু সামনে তাকিয়ে দেখলো, সবাই তাঁকে এমন ভাবে দেখছে যেনো সে চিড়িয়াখানার কোনো নতুন জন্তু। সামনে বসা, পাত্রের মা। ভদ্রমহিলা খুঁটে খুঁটে দেখছেন। রোদসীর দিকে তাকিয়ে একটু হেঁসে বললেন,

‘ঠিক আছে, কিন্তু গায়ের রংটা আরেকটু ফর্সা হলে ভালো হতো। ‘

রোদসী মনে মনে ভেঙচিয়ে বলল, ‘এহ! নিজের ছেলে যেনো কী আহামরি! ‘ অবশ্য রাগ হওয়ার কারণ আছে। রোদসীর গায়ের রং না কালো, না অতিরিক্ত ফর্সা। সে সাধারণ আট দশটা মেয়ের মতো উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রংএর। মহিলাটি আবারও বললেন,

‘একটু হেঁটে দেখাও তো। ‘

রোদসী নতমুখী হয়ে চুপচাপ হেঁটে দেখালো।তিনি আবারও কিছুটা গালমন্দ করলেন। রোদসীর পা নাকি বাঁকা। সব দেখার পর, যখন তিনি রোদসীকে বললেন,

‘তোমার কিছু বলার থাকলে, বলো। ‘

রোদসী এবার মাথা উঁচু করে বসলো। লম্বা একটা শ্বাস নিলো। যেন এতক্ষণের শ্বাসের ঘাটতিটুকু দূর করে নিলো। পাত্রকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে বলল,

‘দেখি, আপনি একটু উঠে দাঁড়ান তো। ‘

পাত্র মায়ের দিকে হা করে তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালো। রোদসী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বলল,

‘এবার হাঁটুন। ‘

ছেলেটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে করুণ স্বরে ‘মা আআ ‘ বলে ডেকে উঠলো। মহিলাটি রাগী স্বরে বলল,

‘এসব কী হচ্ছে! ‘

রোদসী নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে আবারও বলল,

‘আহা! আপনার ছেলে তো দেখছি আমার চেয়েও খাটো! আল্লাহ, কথাও দেখি তুতলিয়ে বলে! গায়ের রং এতো চাপা কেনো! ‘

পাত্রের মা দারুণ রেগে বললেন,

‘আমার ছেলে যেমনই হোক, আমার কলিজার টুকরো। অনেক কষ্টে মানুষ করেছি আমি। ‘

‘ওহ, আমার মা তো আমাকে প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে এনেছিলো। ‘

মহিলা মুখ কালো করে ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। রোদসী মুচকি হেঁসে ঘরে ঢুকে গেলো। পাশে কেয়া কপাল চাপড়ে হা হুতাশ করছেন। রোদসী প্রথমেই রুমের জানলার সামনে এসে লম্বা একটা ডাক দিলো,

‘মিস্টার বাড়িওয়ালার ছেলে! ‘

শহর ওখানেই কারো সাথে কথা বলছিলো। রোদসীর ডাক শুনে দৌড়ে এসে দাঁড়ালো। মাথা উঁচু করে বলল,

‘কী হয়েছে, রোদচশমা? ‘

‘ধন্যবাদ। ‘

‘কীসের জন্য? ‘

‘আপনার আইডিয়া ব্যবহার করাতে, পাত্রপক্ষ পালিয়েছে। ‘

‘এই খুশিতে,তোমার কী উচিত না? আমাকে ট্রিট দেয়া?

শহরের বলার ভঙ্গি দেখে হেঁসে ফেললো রোদসী। জোরে চেচিয়ে বলল,

‘কাল দশটায় ‘ ব্লু বার্ডস ‘ রেস্টুরেন্টে পৌঁছে যাবেন। ‘

‘ওটায় চলবে না। ‘

‘তাহলে কী? ‘

‘কামাল চাচুর বিখ্যাত ফুসকা খাওয়াতে হবে। ‘

রোদসী অবাক হয়ে বলল,

‘ছেলেরা ফুসকা খায়!’

শহর হেঁসে বলল,

‘আবার জিগায়! কাল ডেকেই দেখো। ‘

‘ঠিক আছে, ডান। ‘

চলবে-

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here