মেঘভেলায় প্রেমচিঠি পর্ব -০১

0
58

“মেঘভেলায় প্রেমচিঠি”

১.

দুই তলার কাঁচের জানালায় ক্রিকেট বল এসে বারি খেতেই জায়গাটায় চরচর করে ফাটল ধরে। যদিও পুরোপুরি ভেঙে যায়নি। তবুও, ঘরে টেবিলে বসে থাকা মেয়েটার মাথায় আগুন ধরে যায়। গত সপ্তাহেই বাসা বদল করে এখানে শিফট হলো। যদি জানতো, বাড়িওয়ালার ছেলেটা এত বেয়ারা, তাহলে নাকখত দিয়ে চলে যেতো। এ বাড়ি মুখো হতো না সে। বেঁচে থাকতে তো কখনোই না। কাঠের টেবিলটায় ডান হাতের জোড়ালো বারি মেরে উঠে দাঁড়ায়। আজ একটা হেস্তনেস্ত হবেই!

ধুপধাপ পা ফেলে জানালার কাছে গিয়ে মেঝে থেকে বল উঠিয়ে নিলো। ডানহাতের তালুতে বল আঁকড়ে বাম হাতটা দিয়ে জানালা খুলে অল্প একটু মুখ বের করে নিয়ে দেখার চেষ্টা করলো। হ্যা, ঠিকই তার ধারণা। আগের সপ্তাহেও যখন স্বপরিবার সহ এ বাড়িতে ভাড়া থাকতে এলো তখনও এমন কান্ড ঘটিয়েছিলো বাড়িওয়ালার ছেলেটা। সারা ঘরটা যখন গোছগাছ করতে করতে মেয়েটার কপালের ঘাম পায়ে চুইয়ে চুইয়ে গড়াচ্ছিলো, ফ্যান ছেড়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে মুখ ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে তৎক্ষনাৎ ঠাস করে একটা বল জানালায় বারি খেয়ে তার পায়ের সামনে এসে পড়লো। তারপর বলটা তুলে ছোট ভাইয়ের হাতে দিয়ে নিচে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। অতটা গুরুত্ব দেয়নি সে। কিন্তু দুই দিন পর পরই এক জ্বালা সহ্য হচ্ছে না তার। এতোদিন সে কোনোরূপ উচ্চবাচ্য না করলেও এখন বলতে হবেই।

মুখ ফুলিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে নিয়ে জোরে চেচিয়ে বলল,

‘এই যে, এই!’

সব বাচ্চা গুলো আগেই ভয়ে সিটিয়ে ছিলো। না জানি কখন, কোনো মহিলা কটকটে গলায় চিৎকার দিয়ে উঠে! কিন্তু তার পরিবর্তে মেয়েলি স্বরে অবাক হয়ে তাকায়। কম বয়সী একটা মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। বাচ্চা গুলোর মাঝে একজন ছেলেও দাঁড়িয়ে আছে। বয়স আনুমানিক চব্বিশ। শ্যামলা চেহারায় দুষ্ট হাসি। মাথার ক্যাপটা খুলে এগিয়ে আসলো সে। মাথা উঁচু করে মেয়েটার উদ্দেশ্যে বলল,

‘বলটা দাও তো। ‘

ঠোঁট চেপে রাগ সংবরণ করলো মেয়েটি। কত বড় বেয়াদব ছেলেটা! অচেনা একটা মেয়েকে এমন করে বলছে, যেনো জন্ম জন্মান্তরের পরিচয় তাদের। রাগে কিছু না বলে বলটা এতো জোরে ছুঁড়ে দিলো, সেটা ছেলেটার কপাল বরাবর গিয়ে লাগলো। মৃদু আর্তনাদে কঁকিয়ে উঠলো ছেলেটা। সবাই হা করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে তৎক্ষনাৎ ছেলেটাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলো। দুই তলার জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা বিজয়ের হাসি দিয়ে স্বশব্দে জানালা আঁটকে দিলো। এখন বেশ শান্তি শান্তি লাগছে!

‘রোদি,আর বই নিয়ে বসে থাকিস না। যা তিন তলায় বাটিটা দিয়ে আয়। ‘

রোদসী জানালার দিক থেকে মুখ ফেরালো। নিঃশব্দে
টেবিলের বইটা বন্ধ করে দিয়ে বলল,

‘আরুকে পাঠাও, আমি গোসলে যাবো। ‘

কেয়া হোসেন রেগে গেলেন। তার চিরাচরিত স্বভাব রেগে গেলেই পুরো গুষ্টি শুদ্ধো ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেলেন। সে অনুযায়ী বড়সড় চোখ করে বললেন,

‘সবই আমার কপালের দোষ। বাপ, মেয়ে, ছেলে সবগুলো জ্বালিয়ে মারবে আমাকে! ছেলে একটা টইটই করে ঘর অগোছালো করবে, মেয়েটা সারাদিন বই নিয়ে গড়াগড়ি খাবে আর বাপটাকে আর কী বলবো! ‘

ঈষৎ বিরক্তিতে মুখ ফুলিয়ে নিলো রোদসী। চোখের চশমাটা খুলে রেখে পাশ থেকে টেবিলের উপরে রাখা পায়েসের বাটিটা নিয়ে নিলো। ওড়নাটা মাথায় টেনেই মন্থর কন্ঠে বলল,

‘থামো,যাচ্ছি। ‘

কেয়া পরক্ষণেই শান্ত হয়ে রান্না ঘরে ছুটলেন। রোদসী
বাটি হাতে রওনা হলো, উদ্দেশ্য তিন তলা। বাড়ির বাড়িওয়ালী বেশ আন্তরিক। প্রথম দিনই তাদের বাড়িতে খাবার পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তার মা-ও তাই পায়েস রেঁধে দিলো। জুতা পায়ে দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় এসে থামলো। ঘর থেকে খুব একটা বের হয়না রোদসী। কিছুটা একঘরে থাকতেই পছন্দ করে। অতিরিক্ত কোলাহল, মানুষজন মাথা ব্যাথার কারণ।
তা-ই চুপচাপ ঘরকুনো অন্ধকারে পড়ে চিৎপটাং হয়ে ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্যে বোধ করে। দরজায় এসে দাঁড়িয়ে অস্বস্তি নিয়ে কড়া নাড়লো। অপরিচিত মানুষের সাথে হুট করে মিশতে পারে না সে।

দরজা খুলতেই ভীষণ ভাবে ভড়কে গেলো রোদসী। দুই কদম পিছিয়ে সড়ে দাঁড়ালো। মোটাতাজা একজন
মধ্যবয়স্ক মহিলা খুন্তি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। মুখভর্তি রাগ। যেনো, এখনই তাঁর উপর একগাদা অভিযোগ ছুঁড়ে মারবে। ঠোঁট চেপে হতভম্ব হয়ে নিশ্চলতা নিয়ে তাকিয়ে রইলো শুধু।
অপরপক্ষে দিলারা সামনে দাঁড়ানো অল্পবয়সী মেয়েটাকে দেখে নিজেকে সামলে নিলেন। রান্নাঘরে গা গুলিয়ে দেয়া গরমে ঘর্মাক্ত হয়ে গেছেন তিনি। বড় ছেলেটার জন্য বেজায় বিরক্ত হয়ে রান্না-বান্না করছিলেন। দরজায় ঠকঠক আওয়াজে ভাবলেন ছেলেটা বুঝি এসে পড়লো। তা-ই লাঠি লন্ঠন না পেয়ে চড়া রাগ নিয়ে খুন্তি হাতেই এসে দাঁড়ালেন। ছেলেটার পরিবর্তে ভয়ার্ত চেহারার মেয়েটাকে দেখে দাঁতপাটি বের করে হাসলেন। খুন্তি নিচু করে বললেন,

‘ওও তুমি! মনিরুল ভাইয়ের মেয়ে না তুমি? এসো এসো, ভেতরে এসো। ‘

শুকনো ঢোক গিলে গলা খাঁকারি দিয়ে নিলো রোদসী।
মহিলাটির হাবভাব বুঝতে পারছে না। অদ্ভুত লাগছে বেশ। তবুও মুখের উপর না করার স্বভাবটা নেই বলেই
অস্বস্তি নিয়ে পা টেনে টেনে ভেতরে ঢুকে গেলো। মহিলাটি হাত ধরে সোফায় বসালো তাঁকে। রোদসী হাতের মুঠোয় রাখা পায়েসের বাটিটা টি-টেবিলের উপর রেখে নিচুস্বরে বলল,

‘আন্টি, আম্মু পায়েস পাঠিয়েছে। আমার একটু কাজ আছে, আমি অন্য আরেক দিন বসবো। ‘

সুইচবোর্ডের পাশের একটা সুইচ চেপে দিলারা দ্বিরুক্তি করে বললেন,

‘এখন না, পরে যেও তো। তোমাদের তো কোনো খোঁজই নিতে পারলাম না। ছোট ছেলেটার জ্বর ছিলো। কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো বাড়িতে? ‘

রোদসীর ফসফস করে রেগে বলতে ইচ্ছে করলো, শুধু সমস্যা না, সমস্যা প্রো ম্যাক্স হচ্ছে এ বাড়িতে। আপনার ছেলেটার অসহ্য রকমের কর্মকাণ্ডে অধৈর্য হয়ে গেছি আমি। রাত নেই দিন নেই, গত সাতটা দিনে মাথা যন্ত্রণায় ছটফট করছি। কী জানি একটা দিয়ে ফ্লোরে গুতাগুতি করে ফ্ল্যাটের ছাঁদ কাপিয়ে দেয়, সকাল ছয়টা বাজলেই গিটারের সঙ্গে ফ্যাসফ্যাসে গলার গানে নিজেকে প্রেমে ছ্যাকা খাওয়া অবলা নারী মনে হয়। তখন মন চায় আপনার ছেলের চুলগুলো টানতে টানতে ছিঁড়ে ফেলি। জন্মের মতো ক্রিকেট খেলার সাঁধ মিটিয়ে দেই!

কিন্তু এসব কিছু না বলে,মিষ্টি করে হেসে রোদসী মিনমিন করে বলল,

‘না না আন্টি, কোনো সমস্যা নেই। ‘

‘আচ্ছা, তুমি কীসে পড়ছো যেন? ‘

‘জ্বী, এইবার অনার্সে ভর্তি হলাম। ‘

‘এমা! এখনও বাচ্চা তুমি, অথচ লম্বায় এতো বেশি যে আমি কত বড় ভেবেছিলাম। ‘

মৃদু হেসে চুপ করে রইলো রোদসী। এই প্রসঙ্গে ঠিক কীভাবে উত্তর দিয়ে কথা বাড়াতে হয় জানে না সে।
মনে মনে প্রহর গুনতে লাগলো, কখন নিজের ঘরে গিয়ে নতুন কেনা বইটার একটু ঘ্রাণ নিতে পারবে।
কাঁচুমাঁচু মুখ করে দিলারার গল্প শুনতে লাগলো। মাঝে মধ্যে দুই একটা কথার জবাব দিয়ে তাকিয়ে থাকলো৷ দিলারা বিস্কুট আর এক কাপ চা এনে দিলেন। রোদসী হাতে চায়ের কাপটা নিয়ে বসে আছে।
ভেতর থেকে কেউ একজন দিলারাকে ডাক দিতেই, তিনি রোদসীকে বসতে বলে সেদিকে গেলেন।
এরই কিছুক্ষণ বাদে হৈ হুল্লোড় আওয়াজ করতে করতে লাফিয়ে কেউ ঘরে প্রবেশ করলো। রোদসী উসখুস করছিলো। হকচকিয়ে গেলো সে। ড্রয়িং রুমে সেই ছেলেটা লাফিয়ে লাফিয়ে ডুকছে। যাকে বল ছুঁড়ে মেরেছিলো রোদসী। আশেপাশে কেউ নেই। ছেলেটা কাঁধে ক্রিকেট ব্যাট চাপিয়ে হেলেদুলে গুনগুন শব্দ করে এগিয়ে আসছে। টাউজারে তরল কাঁদায় মাখামাখি। শার্টের হাতা গোটানো। শুকনো ঢোক গিলে গলা ভিজিয়ে নেয় রোদসী। যতই হোক, সবশেষে তো বাড়িওয়ালার ছেলে। কিন্তু এতো বড় হয়েও বাচ্চাদের মতো কেমন কাঁদামাটির মাঝে খেলাধুলা করে! দেখতে দেখতেই ছেলেটা রোদসীর সোফার কাছে এসে পড়লো। চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে। রোদসী অস্বস্তি নিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। ছেলেটা সিটি বাজিয়ে ঠোঁট গোলগোল করে পাশের সোফায় বসে পা দুটো টি টেবিলের উপর উঠিয়ে দিলো। এমন করায় রোদসীর মাথায় ধপ করে রাগ উঠে গেলো। এমনিতেই তাঁর খুঁতখুঁতে স্বভাব,ছেলেটার কাঁদায় মাখানো শরীরটা দেখেই গা গোলাচ্ছিলো। তাঁর মধ্যে টি টেবিলে খাবারের সামনে পা রাখতেই দাঁত কিড়মিড় করে উঠলো রোদসী। ঠাটিয়ে একটা চড় বসিয়ে দিতে পারলে খুব শান্তি পেতো সে। ভদ্রতা বজায় রেখে মুখ নত করে বসে থাকলো। প্রথমে একটু মায়া হচ্ছিল, মাথায় ছোট একটা ব্যান্ডেজ করা। তাঁর সেটা করা উচিত হয়নি। কিন্তু এখন মনে হলো, আরেকটু জোরে ছুঁড়ে দেয়া দরকার ছিলো৷ রোদসীকে আরও অবাক করে দিয়ে ছেলেটা রোদসীর হাতের মুঠোয় থেকে চায়ের কাপটা টেনে নিয়ে নিলো, পাশের ক্রিম বিস্কুটের বাটিটাও হাতে নিয়ে ভিজিয়ে ভিজিয়ে খেতে শুরু করলো। প্রথমে প্রচন্ড রকমের বিস্মিত হলেও রোদসীর মনে হলো, ছেলেটা বোধ হয় সুস্থ নয়। রাতদিন ক্রিকেট খেলা, দৌড়াদৌড়ি,এখন আবার এমন করে খাওয়া। হয়তো ছেলেটা মানসিক ভাবে অসুস্থ! আহারে! রোদসীর চোখ দুটো মায়ায় টলমল করছে। এতক্ষণ অসুস্থ একজন মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে ভেবে মনে মনে ধিক্কার জানালো নিজেকে। রোদসী হাসার চেষ্টা করে বলল,

‘আপনি কী অসুস্থ? ‘

ছেলেটা বিস্কুট খেতে খেতেই একবার তাকিয়ে বলল,

‘হুম। ‘

রোদসী মলিন মুখ করে খাওয়া দেখতে লাগলো। ক্ষুধা পেয়েছে যখন, তাহলে খেয়ে নেক। গালে হাত রেখে নিজেকে যখন সে গালমন্দ করতে ব্যস্ত তখন পেছন থেকে দিলারা এসে দাঁড়ালেন। কোনোদিকে না দেখেই রোদসীর দিকে তাকিয়ে বললেন,

‘ইশ, দেখেছো! আমি তো প্রায় ভুলেই গেছি তুমি এসেছো। কী করবো, ছোট ছেলেটা ঘুম ভেঙে উঠে ব্রাশ খুঁজে পাচ্ছিলো না৷ তা-ই আরকি..’

হঠাৎ নজর গেলো সোফায় বসা বড় ছেলের দিকে। ততক্ষণে ছেলেটা হাতের কাপটা রেখে মুখ মুছে নিয়েছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শার্ট ঝেড়ে নিচ্ছে। দিলারা অগ্নিশর্মা হয়ে তেড়েফুঁড়ে এলেন। ছেলেটার ডান পাশের কানটা টেনে বললেন,

‘বেয়ারার বাচ্চা! সকাল হতেই চলে গেলেন ক্রিকেট খেলতে। লজ্জা করে না! এতো বড় হয়েও বাদরামি করে বেড়াও! যাও, এক্ষুনি গোসল করে এসো। ‘

ছেলেটা কান ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,

‘উহ! মা! ছাড়ো। ব্যাথা পাচ্ছি তো। ‘

পরক্ষণেই হেঁসে ফেললো খিকখিক করে। রোদসী হা করে তাকিয়ে আছে। এই মাত্র যেমন বাচ্চার মতো মুখ করে তাকিয়ে ছিলো, মনে হচ্ছিল যেনো টডলার বাচ্চা। সবেমাত্র দাঁড়াতে শিখেছে। রোদসী বুঝতে পারলো, তাঁকে কত বড় বোকা বানিয়েছে ছেলেটা!
রাগে শরীর কেঁপে উঠলো। বেয়াদব ছেলে!

ছেলেটা যাওয়ার সময় রোদসীর দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিয়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে বের হয়ে গেলো। রোদসী পা দিয়ে ফ্লোর ঘষছে আর মুখ লাল করে আছে। দিলারা হেসে বললেন,

‘আস্ত একটা বেয়ারা ছেলে আমার! এটা আমার বড় ছেলে শহর। ‘

পরমুহূর্তেই টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললেন,

‘বাহ, খেয়েছো!’

রোদসী লজ্জায় ঠোঁট চেপে রাখলো। মেহমানদের বাড়িতে পুরো খাবার খাওয়াটা নির্লজ্জের ব্যবহার।
সেখানে বেয়াদব ছেলেটা পুরো প্লেট খালি করে ফেলেছে। আন্টি এখন নিশ্চয়ই তাঁকে পেটুক ভাবছে!
মেজাজ আরেক দফা গলা উঁচু করলো। রোদসী সালাম দিয়ে কোনোমতে বের হয়ে গেলো।

নিজের ঘরে এসে বিছানা ঝাড়ু নিয়ে পুরো বিছানা ঝাড়লো। একবার, দুইবার, তিনবার এরপর চলতেই থাকলো। টেবিলের সাজানো গোছানো জিনিস গুলো ফোঁস ফোঁস করে আবার গোছালো। রাগ উঠলে সে তা-ই করে। নিরবে জিনিস পত্রের উপর ঝাড়ে। এই যেমন হাতের ঝাড়ুটাই সে আছাড় দিয়ে বারান্দায় চলে গেলো। নজর গেলো পাখির খাঁচায়। রোদসীর মনে পড়লো, সকাল থেকে তিতুসকে খাবার দেয়া হয়নি। তিতুস হচ্ছে ওর পোষা টিয়া পাখি। গত জন্ম দিনে মনিরুল অর্থাৎ তাঁর বাবা কিনে দিয়েছিলো। তিতুস কিচিরমিচির শব্দ করে ক্ষুধার জানান দিচ্ছে। রোদসী তিতুর দিকে তাকাতেই সেটা মুখ ফিরিয়ে বলল,

‘রোদি আর ভালোবাসে না! আর ভালোবাসে না! ‘

না চাইতেও হেঁসে দিলো রোদসী। কথাটা কয়েক দিন আগে আর্শ শিখিয়েছে। আর্শ রোদসীর ছোট ভাই। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আর্শ বলে কেউ ডাকে না তাঁকে। ডাকনাম এখন আরু। কয়েক দিন আগে, রোদসী খালার বাসায় বেড়াতে যাওয়ায় আরু তখন তিতুসকে
বলেছিলো, ‘তিতুরে! রোদি এখন আর তোকে ভালোবাসে না।’ ব্যস, তারপর থেকে উনিশ-বিশ হলেই তিতুস রেগেমেগে কথাটা বলে। ভারী সুন্দর দেখতে তিতুস। মাথাটা গোলাপি আর পুরো শরীরটা হালকা সবুজ রঙের। রোদসী বাটিতে খাবার ঢেলে দিয়ে তিতুসের মাথায় হাত বুলাতেই সেটা আদুরে ভঙ্গিতে ডানা মেলে দিলো। আকাশে আবছা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। হেমন্তের শুরুতেই বৃষ্টি! হঠাৎ করেই বারান্দায় কোনো কিছু এসে রোদসীর পায়ের কাছে গড়িয়ে পড়লো। রোদসী ভ্রু কুচকে বাড়ির নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলো একটা ছোট ছেলে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। মুখ দেখতে পেলো না সে। ফ্লোর থেকে ছোট কাগজের টুকরোটা উঠিয়ে খুলতেই দেখলো সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা,

‘তোমার কাছে একটুখানি আত্মা ভেজানো প্রেম হবে?’

চলবে-
(সূচনা পর্ব)
লেখিকা -নাঈমা হোসেন রোদসী।
তারিখ-২০/১০/২১

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here