মেঘের আড়ালে চন্দ্রলোকিত-০২

0
58

পর্ব-০২
#মেঘের_আড়ালে_চন্দ্রলোকিত💖
#লেখিকা-লামিয়া রহমান মেঘলা
মেঘ ভাবছে তার সাথে কি হচ্ছে,
সব কিছু কেমন অগোছালো হয়ে আছে,
মেঘ নিজের পরনের ভারি শাড়িটা পাল্টে একটা নরম কাপড় পরে নেয়,
আমান বেরিয়ে এসে মেঘকে দেখে কিছু বলে না বিছনায় শুয়ে পরে,
মেঘ আমানের দিকে তাকিয়ে অন্য দিকে ফিরে শুয়ে পরে,
আমান চোখ বন্ধ করে নেয়
মেয়েটার কাছে আসায় একটা তিব্র ঘ্রাণ পায় আমান যেটা সহ্য করা সম্ভব না কোন মতেই,
আমান চোখ বন্ধ করে এক গ্লাস পানি খেয়ে শুয়ে পরে ,
মেঘ সারা দিন টায়ার্ড থাকায় ঘুমিয়ে যায়,
মাঝরাতে ,
মেঘের ঘুমের মাঝে একটা অভ্যাস আছে আসে পাশের মানুষ কে না ধরে সে ঘুমোতে পারে না এটা রোজ কার কাজ,
আসলে সব সময় ওর সাথে সারাই ঘুমোয় তাই সারাকে ধরেই ঘুমোয় মেঘ
মেঘ আশে পাশে কাউকে খুঁজতে থাকে হাতের কাছে কাউকে পেয়ে সোজা মাথাটা তার বুকের মাঝে লুয়িে তাকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পরে ,
মেঘের এমন কান্ডে আমান অবাক,
ঘুম ভেঙে গেছে তার মেঘের খোঁজ করার জন্য ,
মেঘ হাত দিয়ে টুকা টুকি করছিলো যার জন্য আমানের ঘুম ভেঙে যায়,
আমান বেশ অবাক হয়,
— আই হেড উ ড্যামেড আমাকে নিজের মায়ায় আটকাতে চেও না পারবে না
আমান দাঁতে দাঁত চেপে কথা গুলো বলে কিন্তু আমানের বুকের মাঝে গুটিয়ে থাকা মেয়েটার কোন ভ্রুক্ষেপ নাই সে এক বার ভ্রু যুগল কুঁচকে আবার ঘুমিয়ে যায় যেন আমনের কথা মেঘকে ভিশন ডিসটার্ব করছে থামলে সে খুশি হতো,
আমান আর কিছু ভাবে না,
এমনি মেয়েটার আশেপাশে ঘেঁষলে আলাদা রকম তিব্র একটা ঘ্রাণ থাকে কিন্তু এখন সেই ঘ্রাণ টা আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেছে,
আমানের এই ঘ্রাণে নেশা ধরে গেছে মনো হচ্ছে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে,
আমান ঘুমিয়ে যায়,
ভোরের পাখি কিচমিচ ডাকে কোলাহল শুরু করেছে,
মেঘের অভ্যাস ঘুম থেকে সকাল সকাল ওঠা,
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখতে পায় সে আরামসে আমান কে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে,
নিজেকে তৎক্ষনাৎ দুরে সরিয়ে নিয়ে আসে,
হার্টবিট ধুকপুক শুরু করেছে,
মেঘ উঠে ওজু করে গোসল করে নামাজ পড়ে নেয় ,
তার পর আমানের থেকে ডিস্টেন্স মেপে আবার ঘুমিয়ে যায় ,
,
আমানের পরিবার হলো বাবা মা, আরিফ আর সে মিলে,
এই বাড়িতে কেউই সকালে উঠে না সকালে খাবার তৈরি করার জন্য আলাদা সার্ভেন্ট রাখা আছে তাই বাড়ির বউদের কিছুই করতে হবে না৷
সকাল ৮ টা আমানের অফিস আছে,
মেঘ উঠে নিচে চলে আসে,
সেখানে গিয়ে দেখে সব তৈরি,
মেঘ সব গুছিয়ে দেয়,
কিছুক্ষণ পর মেঘের শ্বাশুড়ি মা অর্থাৎ আমানের মা চলে আসেন,
— আরে মা তুমি এগুলো কেন করছো,
— এমনি মা,
— এসব করার প্রয়োজন নেই তুমি গিয়ে আমার ছেলেটাকে তুলে দেও ওকে বলো গোসল করে নিচে আসতে ওর অফিস আছে,
মেঘ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়,
মেঘ গিয়ে আমান কে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়,
মেঘ আমানের কাছে গিয়ে ওকে ডাকে,
— এই-যে শুনছপন উঠুন আপনার অফিস আছে,
— উম মা প্লিজ পরে
— আমি আপনার মা নই উঠুন,
আমান আদো চোখ খুলে
সামনে সাদা ঢাকাই শাড়ি পরা নিজের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী কে দেখে আমানের হুস আসে,
উঠে বিছনায় বসে,
তার পর চলে যায় ওয়াসরুমের দিকে
মেঘ নিচে চলে আসে,
— এতো রুড কেউ হয় কিভাবে হয় ( মেঘ আস্তে আস্তে বলতে বলতে আসছিল কিন্তু এটা আমানের মা শুনে ফেলে )
— মেঘ মা ।
— জি মা ।
— তোমার সাথে আমার একটু দরকার আছে খাবার শেষে অপেক্ষা করো কেমন।
— ঠিক আছে মা।
সারা আরিফ এবং আমান আর তার বাবাও চলে আসে,
সবাই এক সাথে খেয়ে বেরিয়ে যায়,
বাসায় শুধু সারা মেঘ আর আমানের মা অনিলা বেগম ।
— মেঘ (সারা)
— হ্যাঁ,
— কাল থেকে কলেজ যেতে হবে

— হুম যাবো আজ অনেক টায়ার্ড ,
— হুম কেন বলত ( সারা ভ্রু উঁচু করে বলল )
— সারা আস্তে মা আছে তুই ত মহা পাজি ।
— হ্যাঁ তুই ত পাজি না ।
— হুহ
— আমি আসছি উপর থেকে,
সারা চলে যায়,
অমিলা বেগম কিচেন থেকে বেরিয়ে আসে,
— দেখো মা তুমি আমার ঘরের বউ বড়ো বউ ৷
সারা ছোট ওর থেকে তোমার দায়িত্ব বেশি ।
— জি মা ।
— আমার ছেলেটা বড্ড ঠান্ডা মেজাজের মানুষ রে মা ।
ও সব সময় রেগে থাকে ।
আমি জানি না কেন ছেলেটা বড্ড বদমেজাজি ,
তুমি ওকে একটু ভালোবাসা দিও মা ।
ওরে যদি একটু ভালোবাসা দেও তাহলে ও হয়ত ঠিক হয়ে যাবে ।
মেঘ মাথা নিচু করে আছে ,
অনিলা বেগম আবার বলে,
— মেঘ সত্যি একটা কথা জানো
আমি আমার ছেলেটার জন্য নরম সভাবের একটা মেয়েকে খুঁজেছিলাম যে ওকে ভালোবেসে আটকে রাখতে পারবে।
তুমি নরম সভাবের মেয়ে। আমি জানি না আমার আমান তোমার সাথে ঠিক কেমন ব্যবহার করেছে,
তুমি ওকে মানিয়ে নিও ,
আর ও যদি কখনো তোমায় হার্ট করে কিছু বলে তাহলে তখনি আমায় বলবে৷ ৷
আমি জানি আমার ছেলে গরম বদমেজাজি হলেও ও কাউকে কষ্ট দেয় না ।
অনিলা বেগমের কথা শুনে মেঘ ভাবছে,
( আপনি কি জানেন না আপনার ছেলে আমার সাথে সব থেকে বড়ো ভুলটা করেছে,
এটা সত্যি হয়ত একটা মেয়ের কাছে পৃথিবীর সব থেকে বড়ো ভুল )
মেঘের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরতে যাচ্ছে ,
মেঘ নিজেকে সামলে বলে,
— জি মা আমি একটু রেস্ট নিবো ।
— হ্যাঁ মা যাও ।
মেঘ চলে আসে নিজের রুমে ,
শুতেই ঘুমের দেশে চলে যায় ,
সেদিন দুপুরে আমন বাসায় আসে নি তবে বাকি সবাই এসেছিল,
মেঘ খাবার খেয়ে নেয়
রাতে সারার সাথে পড়তে বসে,
বেশ কিছু সময় পড়ার পর ওরা নিজেদের রুমপ চলে আসে
আরিফ চলে এসেছে সারা আরিফের সাথে খেয়ে নেয় ,
কিন্তু মেঘ আমানের জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে ,
অনিলা বেগমের কথ গুলো তাকে লেট করতে বাধ্য করলো আজ ,
সুযোগ দিতে চায় হয়ত মেঘ জানে না কিসের জন্য আমান এমন করেছে ,
তাও সে দেখতে চায় ,
আমান ঠিক কিসের জন্য এমন করেছে ,
রাত ১১ টা ,
আমান ফিরেছে বাসায় ,
মেঘকে টেবিলে দেখে আমান কিছু না বলে উপরে চলে যায়
মেঘ আমান কে দেখে খাবার গরম করতে যায়
তার পর টেবিলে রাখে,
আমান এসে খাবার খাওয়া শুরু করে
— তুমি খেয়েছো ?
— না ।
— তাহলে দাঁড়িয়ে আছো কেন ?
মেঘ বসে খেয়ে নেয় আমানের সাথে,
তার পর দু’জনে উপরে চলে আসে,
দু’দিকে ফিরে ঘুমানোর জন্য বসে
তার পর মেঘ শুয়ে পরে,
চোখ বন্ধ করে নেয়,
মেঘ সত্যি ভাবছে এটা কেন করছে আমান কিসের প্রতিশোধ এটা মেঘ জানে না।
কিছু সময় পর,
দু’জনেই ঘুমিয়ে যায়,
মাঝরাতে মেঘের মনে হচ্ছে কেউ তার উপর উঠে বসেছে,
মেঘের দম কেমন আটকে আসছে,
মেঘ চোখ খুলতে পারছে না ঘুমের জন্য,
মেঘ চোখ খুলতে,
চলবে,
(আমি আজ বাসায় আসলাম রাস্তায় ছিলাম সারা দিন জার্নি করেছি তাই দেরি হলো)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here