মেঘের আড়ালে চন্দ্রলোকিত-০৩

0
80

পর্ব-০৩
#মেঘের_আড়ালে_চন্দ্রলোকিত💖
#লেখিকা-লামিয়া রহমান মেঘলা
মাঝরাতে মেঘের মনে হচ্ছে কেউ তার উপর উঠে বসেছে,
মেঘের দম কেমন আটকে আসছে,
মেঘ চোখ খুলতে পারছে না ঘুমের জন্য,
মেঘ চোখ খুলতে সামনে আমান কে দেখে এক চিৎকার দেয়,
আমান মুখ বন্ধ করে ধরে,
–কি হয়েছে চিল্লাচ্ছো কেন?
মেঘ তরিঘরি করে চোখ খুলে,
আমান পাশ থেকে মেঘের মুখ চেপে ধরেছে,
মেঘ পুরা ঘেমে গেছে,
আমান উঠে মেঘের মুখ থেকে হাত সরায়,
–তুমি এভাবে ঘেমছো কেন এই শীতে,
আমান মেঘকে পানি এগিয়ে দেয়,
মেঘ কিছু বলছে না নিশ্বাস নিচ্ছে বড়ো বড়ো
কি সাংঘাতিক স্বপ্ন ভাই এটা কেমন স্বপ্ন
সব যেন বাস্তব ফিল হচ্ছে,
মেঘ আমনের থেকে পানি টুুকু নিয়ে খেয়ে নেয়,
–কি হয়েছে মেঘ (নরম শুরে)
–কিছু না।
আমি একটু বেলকনিতে যেতে পারি?
–হুম যাও কিন্তু চলে এসো,
মেঘ উঠে বেলকনিতে চলে আসে,
একটা বেবি ব্লু কালারের থ্রি পিচ পরা মেঘের,
চুল গুলো ছাড়া,
বেলকনির হালকা বাতাসে তার চুল উড়ছে,
মেয়েটাকে দেখে আমানের চোখ আঁটকে যাচ্ছে,
সেই দিনের মেঘ আর আজকের মেঘের মাঝে কোন পার্থক্য নেই,
শুধু সময়টা বদলেছে,
সে দিন মেঘ শুধুমাত্র একটা সাধারণ স্টুডেন্ট ছিল আজ মেঘ আমানের স্ত্রী,
সে দিন যদি মেঘ সত্যি এমন না করত তাহলে হয়ত আজ আমনের ভেতর এক রাস ভালোবাসা থাকত নাকি এতো ঘৃণা,
আমান চোখ সরিয়ে নেয়,
উল্টো দিকে ফিরে শুয়ে পরে,
ভেঙে পরলে চলবে না দুর্বল হলেও চলবে না শক্ত হতে হবে।
মেয়েটাকে আমান ভালোবাসতে পারে না,
মেঘ বেলকনির হাওয়া ফিল করছে আর ভাবছে,
যদি এমন না হতো সুস্থ সাধারণ দম্পতির মতো জীবন কাটাতো তাহলে কতোই না ভালো হতো,
মেঘের ভালোবাসার কমতি থাকতো না,
ভালোবাসারও কমতি হতো না।
মেঘ মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস নিচ্ছে,
কিছুক্ষণ পর রুমে চলে আসে,
বেলকনির দরজা দিয়ে শুয়ে পরে
ঘুমিয়ে যায়,
পরের দিন সকালে,
মেঘ সকাল সকাল উঠে নামাজ আদায় করে আবার এসে শুয়ে পরে
কিন্তু ঘুম আসছে না আজ,
কেন জানিনা এতো খারাপ লাগছে৷
মেঘ কিছু সময় এপাশ ওপাশ করে উঠে ছাঁদে চলে যায়,
মাত্র কুয়াশার ঘেরা সূর্য এসেছে পৃথিবীতে আলো দিতে,
সকালের ফুল গুলো ছাঁদের চারিদিকে ফুটে আছে,
ছাঁদের বেড়ি টা বেশ রঙিন
মেঘ এক পাশে দাঁড়িয়ে দুর সীমান্তের দিকে তাকিয়ে আছে,
একটা ঠান্ডা শীতল মেজাজের মেয়ে হওয়ায় অনেক সময় আশে পাশের অনেক কথাই তাকে শুনতে হয়েছে,
সমাজের,
সব সময় চেয়েছে কিভাবে মানুষের উপরকার হয়,
বন্ধু বান্ধবীর জন্য সব সময় নিজের টা উজার করে দিছে কিন্তু আজ সেই মানুষ টা নিজের সংসার সামলাতে পারছে না,
মা সব সময় বলত দেখবি একটা সুন্দর সংসার হবে তোর,
তুই তখন তোর আশে পাশের সব কিছু ভুলে যাবি,
মেঘ চোখ বন্ধ করে মায়ের কথা ভাবছে,
মায়ের বলা কথা গুলো নাকি বিফলে যায় না।
তাহলে এখন কেন যাচ্ছে
–মেঘ,
হটাৎ সারার কন্ঠ পেয়ে মেঘ পেছনে ফিরে,
–কিরে এতো সকালে এখানে কি করিস? (মেঘ)
–আমি উঠলাম ঘুম থেকে তোকে খুজতে ছিলাম তুই ত উঠিস,
তাই কিন্তু তোর রুমে তুই ছিলি না।
–ওহ উনি কি উঠে গেছে?
–না আমায় বলল তুই নেই তার পর আবার ঘুমিয়ে গেছে।
— ওহ
– -আয় দেখ সামনের পরিবেশ টা,
সারা মেঘের পাশে গিয়ে দাড়ায়,
দু’জন মিলে প্রকৃতি দেখছে,
— সারা একটা কথা বলব।
— হুম বল
— আমি বোধহয় অনেক বড়ো ভুল করে ফেলেছি।
— কিসের ভুল।
— সারা আসলে,
— মেঘ (হটাৎ আমনের চিৎকার শুনে মেঘ কিছুটা কেঁপে উঠে)
— তুই যে বললি আমান ঘুম (আস্তে)
— আমি ত দেখে এসেছিল (আস্তে)
— আচ্ছা থাক আমি আসি,
— হুম চল আমিও জাবো,
মেঘ সারা চলে আসে,
মেঘ ঘরে এসে আমানের দিকে তাকায়
আমান মেঘের দিকে এগোতে থাকে,
মেঘ পেছতে থাকে,
পেছতে পেছতে দেয়ালে ঠেকে যায় মেঘ,
আমান নিজের দু হাত মেঘের দু পাশে দেয়,
মেঘ আমানের দিকে তকিয়ে আছে,
— কি বলতে চাইছিলে সারাকে?
— ও আমার বোন আমি যা ইচ্ছে তাই বলতে পারি ওকে।
— উহ পারো কিন্তু কি ভুল করেছো না কি বলোত৷
— আমি ভুল করি আর প্রেম করি তাতে আপনার কি,
মেঘের মুখে প্রেমের কথাটা শুনে আমানের বেশ রাগ হলো কিন্তু এই রাগের কারন কি সত্যি আমান জানে না।
— কি বললে ( রেগে )
— বললাম আমি ভুল করি আর প্রেম করি তাতে আপনার কি ?
— তুমি আমার স্ত্রী ।
মেঘের হাত চেপে ধরে,
— ভুলে যেয়েন না মাত্র কিছু দিনের জন্য বিয়ে করেছেন আমায় কোন অধিকার নেই আপনার আমার উপর আর ৫ টা দম্পতির মতো যদি আমাদের শর্ত বিহিন বিয়ে হতো তাহলে আমিও আপনাকে স্বামী হিসাবে মেনে নিতাম । ( চিল্লিয়ে৷ )
— তুমি লিমিট ক্রস করছো ।
— আমি লিমিট ক্রস করছি না লিমিট আপনি ক্রস করেছেন তাও অনেক বেশি,
আপনার কোন অধিকার নেই আমার জীবন নিয়ে খেলার,
আপনি ব্লাকমেইল করেছেন আমায় আপনি আমার বোনকে নিয়ে ব্লাকমেইল করেছেন।
আমান মেঘের হাত থেকে হাত সরিয়ে দেয়
হাতটা লাল হয়ে আছে মেঘের,
মেঘ আমানের থেকে সরে আসে
আর নিচে চলে আসে চোখ মুছে,
আমান বিছনার এক পাশে বসে আছে,
ভিশন খারাপ লাগছে,
মেয়েটার কথা গুলে সত্যি,
মেয়েটা যা বলেছে তাই সত্যি,
কি বলবে সে,
আমান ওয়াসরুমে চলে যায় গোসল।করে বেরিয়ে আসে,
মাথা খারাপ লাগছেতে তার প্রথম কেউ এতো কথা শোনালো,
— এই মেয়েটা এই মেয়েটার জন্য জীবনে প্রথম আমি অপমানিত হয়েছি।
এই মেয়েটা আজ আমায় জীবনের প্রথম এতো কথা শোনালো,
আআআ মেঘ আই হেট উ,
তোমায় প্রতিটা কাজের মাশুল দিতে হবে দেখো ক্ষম করবো না কখনো তোমায়৷
আমান রেডি হয়ে বেরিয়ে আসে,
নিচে এসে সবার সাথে ব্রেকফাস্ট করে,
— আমান ।
— জি বাবা ।
— তুমি আর আরিফ আজ মেঘ সারার বাসায় যাবে ওদের নিয়ে,
— কিন্তু কেন ( আমান খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে বলল )
— কেন তুমি জানো না যেতে হয় আজ তোমাদের ছুটি ,
— কিন্তু বাবা আমি ত ছুটি পাবো না। (৷আমান )
— আমি কিছু শুনতে চাই না এই পেশা তোমার নিজের বেছে নেওয়া,
কথাটা বলে রয়হান খান ( আমনের বাবা ) চলে যায় উপরে ,
লোকটা আমানকে নিয়ে আসলে বিরক্ত ,
আমান কখনোই বাবার কথার অবাধ্য হয়না কিন্তু কিছু কাজ আমানের বাবা পছন্দ না
আমান উঠে রুমে চলে আসে ,
মেঘ খাচ্ছিল সব কথা আর আমানের রিয়াকশন দেখার পর মেঘের খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় ,
সারার দিকে তাকায়
সারা বুঝতে পারছে সমস কিছু একটা হচ্ছে কিন্তু কি সমস্যা তা বুঝতে পারছে না ,
সারা ঠিক করেছে বাসা থেকে এসে শুনবে কি হয়েছে ,
কিছুক্ষণ পর ,
সারা আরিফ আর মেঘ আমান রওনা হয় মেঘদের বাসার উদ্দেশ্যে
প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা পৌঁছে যায় ,
চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here