মেঘের আড়ালে চন্দ্রলোকিত-০৫

0
53

পর্ব-০৫
#মেঘের_আড়ালে_চন্দ্রলোকিত💖
#লেখিকা-লামিয়া রহমান মেঘলা

আমান চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস নেয়,
— মেয়েটা শুধু মাত্র তোর শত্রু আর কিছু নয় তুই এটা ভাবতে পারিস না আমান । সংযত হওয়া প্রয়োজন ,
আমান অন্য পাশে ফিরে শুয়ে পরে,
শেবার আগে মেঘের কপালে থাকা কুচি চুল গুলো আমান সরিয়ে দেয় ,
এটাই যেন এক রাস প্রশান্তি ,
আমান ঘুমিয়ে যায় ,
পরের দিন সকালে ,
মেঘ নামাজ পড়ার জন্য উঠে গিয়ে খাবার রান্না করা শুরু করে
রান্না শেষে গিয়ে আমান কে ডাকে,
–আপনার কাজ আছে উঠুন।
আমান একটু একটু চোখ দুটো খুলে,
–হুম (ঘুমন্ত শুরে)
–উঠুন।
আমান উঠে বসে,
কিছু না বলে ওয়াসরুমে চলে যায়
মেঘ নিচে খাবার টেবিলে রাখে,
কিছুক্ষণ পরে আমান নিচে নেমে আসে সুট বুট পরে,
ছেলেটা দেখতে ভিশন সুন্দর তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক বেশি,
মেঘকে এই ছেলেটার সাথে মানায় না এমনটা মেঘের মনে হয়,
হয়ত উনি মা বাবার চাপে আমায় বিয়ে করেছেন এর জন্য ই এমন করেছেন৷
মেঘ মাথা নিচু করে খাবার দেয় আমানের প্লেটে,
আমান খাবার খেয়ে নেয়
কিছুক্ষণ পর মেঘের দিকে তাকায় মেঘ নিচের দিকে তাকিয়ে আছে,
–তুমি খেয়েছো?
–না।
–তাহলে এসো খেয়ে নেও।
মেঘ আমানের সাথে বসে খেয়ে নেয়
যাবার সময় আমান মেঘের দিকে এক বার তাকায়,
কেন জানি না ইচ্ছে হচ্ছে না যেতে মেয়েটার কাছে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে কিন্তু এমনটা কেন মনে হচ্ছে আমানের জানা নেই,
আমান মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে,
মেঘ কিছু বুঝতে পারছে না।
মেঘ আমনের দিকে তাকিয়ে চোখ উপরে দেয়
–কি?
–কিছু না।
আমান চলে যায় আর পেছনে তাকায় না

মেঘের ও বিষয় টা খেয়ালে আসল।
লোকটা চাইছিল না মেঘকে ছেড়ে যেতে সত্যি চাইছিল না।। কিন্তু কেন,
মেঘ নিজের মনের ভুল মনে করে চলে আসে উপরে,
নামাজ শেষ খাওয়া ও শেষ,
টেবিলে সব ঢেকে মেঘ দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যায়,
,
,
আমান চলে গেছে মেঘ রান্না করে রেখেছে,
অনিলা বেগম আর অর্ক খান দুজন মেঘের রান্না করা খাবার খেয়ে নেয়,
আর অর্ক খান (আমানের বাবা) চলে যায় অফিসে,
সকাল ১১ টা,
মেঘের ঘুম ভাঙে,
শরীর টা কেমন ভালো নেই কাল রাতে ঠান্ডার মাঝে এসেছিল,
হয়ত চাঁদর ছিল গায়ে কিন্তু তাও ঠান্ডা লেগেছে,
মেঘের শ্বাসকষ্ট আছে,
সেটাই কেমন বেড়েছে মনে হচ্ছে,
ভেতর টা কেমন শব্দ শব্দ মনে হচ্ছে,
মেঘ বুঝে হাত দিয়ে বসে আছে খাটে,
অনিলা বেগম তখন রুমে আসে,
— কিরে মা তুই এভাবে বসে আছিস কেন?
–মা আমার না ভালো লাগছে না।
–কেন রে মা কি হয়েছে (চিন্তিত হয়ে
মেঘের কাছে এসে)
–মা আমার না দম বন্ধ হয়ে আসছে,
–কেন রে।
অনিলা বেগম উত্তেজিত হয়ে মেঘকে চা করে এনে দেয়,
–চা খা।
–মা সারাকে ফোন করেন ওকে ঔষধ নিয়ে আসতে বলেন।
–কি ঔষধ,
–মা ও জানে আমার কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে।
অনিলা বেগম সারাকে ফোন করে,
–আসসালামু আলাইলুম মা।
কেমন আছেন?(ফোনের ওপাশ থেকে সারা)
–ভালো না সারা মেঘের কেমন শ্বাস কষ্ট হচ্ছে তুমি জলদও চলে এসো ওর ঔষধ নিয়ে ও শুধু বলল সারাকে ঔষধ আনতে বলেন কথা বলতে পারছে না।
–কি বলেন মা আমি এখনি আসছি।
আপনি করেন না।
সারা ফোন কেটে দেয়,
–কি হয়েছে সারা (আরিফ)
–মেঘ অসুস্থ ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে চলো বাসায় চলো জলদি।
–হ্যাঁ চলো কিন্তু ওর কি হয়েছে?
–শ্বাস কষ্ট,
সারা দৌড়ে বাইরে আসে,
–মা ও মা।
বড়ো মা।
–হ্যাঁ কিরে চিল্লাতে আছিস কেন (চাঁদনি বেগম)
–বড়ো মা মেঘ আসুস্থ আমায় যেতে হবে।
–কি হয়েছে?
–ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে ঔষধ টা দেও জলদি।
–আচ্ছা দাড়া
মেঘের মা দৌড়ে ঔষধ এনে দেয়,
সারা সেটা নিয়ে রওনা হয় ,
,
এদিকে,
মেঘের অবস্থা বেশ একটা ভালো না।
সারা আসতে প্রায় ৪০ মিমিট লাগিয়ে দেয়।
জ্যাম এর জন্য,
সারা এসে মেঘকে ঔষধ দেয়,
মেঘ কিছুক্ষণ পরে ঘুমিয়ে যায়,
সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো,
মেঘ ঘুমিয়ে আছে,
সারা মেঘকে ডেকে তুলে,
–উঠ খেয়ে নে দুপুরে খাস নি ঘুমিয়ে আছিস,
মেঘ হালকা করে উঠে বসে,
–তোর ভাইয়া আসে নি?
–না আসে নি উনি নাকি কাজে গেলেন।
–হুম কিন্তু অনেক সকালে বের হয়েছিলেন আসার কথা ছিল তাই না।
— তুই এসব চিন্তা করিস কেন খেয়ে নেয় সোনা।
মেঘ খেয়ে নেয় একটু করে,
— আর না।
— কেন আর না শেষ কর,
— প্লিজ সারা।
— আচ্ছা আসুস্থ জোর করলাম না তুই ফ্রেশ হয়ে নে আমি চা দি।
— হুম

মেঘ ওয়াসরুমে চলে যায়,
সারা চা নিয়ে আসে,
মেঘ সারার কাঁধে মাথা দেয়,
— কি হয়েছে?
— ভালো লাগছে না।
–হুম কার জন্য শরীরের জন্য নাকি তার জন্য,
–ধুর তুই ও না শুধু খেপাস।
–খেপাবো কেন

–সারা।
–হুম।
–আমার না চিন্তা হচ্ছে সারা।
–মেঘ তুই ও না ফোন করে নে,
–ফোন করবো?
–ও মা বর কে ফোন করবি এতে এতো ভাবা কিসের।
–(তুই যদি জানতি ভাবা কিসের মেঘ মনে মনে)
–কি হলো চুপ করে আছিস কেন?
–কিছু না।
মেঘ ফোন হাতে নিয়ে আমন কে কল করে
বেশ কিছু সময় পর আমন ফোন পিক করে,
–আসসালামু আলাইকুম

–ওয়া আলাইকুম সালাম

বলো।
–আপনি কই?
–কাজে আছি।
–খেয়েছেন?
–না।
–কেন?
–বলদের মতো প্রশ্ন করো নাকি সংবাদ দেখেছো আজ?
–না।
–না দেখলে কিভাবে বুঝবে।
–কখন আসবেন?
–দেরি হবে।
তোমার কন্ঠ এমন শোনাচ্ছে কেন অসুস্থ তুমি?
–না অসুস্থ না আপনি আসুন রাখছি,
মেঘ ফোন কেটে দেয়
আমান ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
মেয়েটা বড্ড আজব
এদিকে,
–তুই বললি না কেন ভাইয়াকে তুই অসুস্থ,
–শুধু শুধু এসব কথ জানিয়ে লাভ কি বল,
–ও মা এটা কেমন কথা।
–(আমি বললেও যা না বললেও না তাট উপর কোন প্রভাব পরবে না সে ত আমায় ভালোইবাসে না মনে মনে মেঘ)
–কিরে কোথায় গুম হলি।
–হ্যাঁ,
কোথাও না।
–আচ্ছা তুই থাক তোর ভাইয়া আসবে আমি যাই।
–আচ্ছা যা।
সারা চলে যায়,
মেঘ শুয়ে পরে,
–আমার কেন আপনার জন্য খারাপ লাগছে ইচ্ছে হচ্ছে আপনাকে পাশে দেখতে।
আমি জানি না কেন কিন্তু এটাই বাস্তব যে আমি ভালোবেসে ফেলেছি।
এই সল্পস্থয়ী সংসার টার প্রতি মায়া চলে এসেছে ।
আপনি আমায় বলবেন কি আমার দোষ টা কোথায়।
মেঘ সব কিছু ভাবতে ভবতে ঘুমিয়ে যায়।
আসলে ওর ঔষধ এ ঘুমের ঔষধ ও দেওয়া হয়েছে,
এদিকে,
–আমি যা করছি তা কি ঠিক?
ওকে কি আমার বলে দেওয়া উচিত কেন আমি ওর উপর রেগে।
কিন্তু ও।
নাহ এসব আর ভাবা উচিত না।
আজ রাতের ওর সাথে কথা বলব।
–স্যার। গাড়ি রেডি আপনি আসুন।
হটাৎ গর্ড এর কথায় আমান পেছনে ফিরে,
–হুম আসছি,
আমান চলে আসে,
চলবে,
(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here