রক্ষিতা পর্ব -০২

0
174

#রক্ষিতা
#আশুথিনী_হাওলাদার (ছদ্মনাম)
পর্ব-২
নিফান স্টাডি রুমে বসে কাজ করছিল। অর্ঘমা এসে নিফান কোলে বসে তার গলা জড়িয়ে ধরে। ভ্রু কুচকে তাকায় নিফান কি ঘটলো সেটা বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় পার করে। রাগে চোখ দুটো বন্ধ করে কিছু সময় পর চোখ-মুখ শক্ত করে অর্ঘমার দিকে তাকায়। অর্ঘমা ভাবশালিন ভাবে নিফানের দিকে তাকিয়ে আছে। নিফান তার ডান হাত দিয়ে অর্ঘমার কোমড় চেপে ধরে। ব্যাথায় কুকড়ে উঠে অর্ঘমা আরও কিছুটা নিফান কে আস্টে পিস্টে জড়িয়ে ধরে নিফানের গলায় মুখ লুকায়। ফিসফিস করে বলে,,
_ভালবাসি নিফান কেন বোঝো না তুমি
অর্ঘমার ফিসফিস করে বলা শব্দ গুলো শুনে নিফানের হাতের বাধন হালকা হয়। আলত করে অর্ঘমার কোমড় স্লাট করে নিজের অজান্তেই। আবেশে চোখ বন্ধ করেনায় অর্ঘমা। বেশ কয়েকবার নিজের ঠোঁট ছোয়ায় নিফানের ঘাড়ে। নিফান অর্ঘমার পেটের কাছ থেকে শাড়ির সরিয়ে ওর উন্মুক্ত পেটে দু’হাত ছুইয়ে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয় তাকে। অর্ঘমা মিসে নিফানের সাথে। নিফান গভীর চুম্বন করে অর্ঘমা উন্মুক্ত পিঠে। কেপে উঠে অর্ঘমা। খানিক্ষন পর হুসে আসে নিফান হাত সরিয়ে নেয়। বড় বড় শ্বাস ফেলে নিজেকে সামলে। অর্ঘমাকে নিজের কোল থেকে উঠিয়ে ধাক্কা দেয়। অবাক হয়ে অর্ঘমা তাকায় নিফানের দিকে। নিফান ফ্লোর থেকে অর্ঘমার শাড়ি তুলে তার দিকে ছুড়ে মেরে পিছনে ফিরে তাকায়। অর্ঘমা নিজের দিকে তাকায় শরীরে শাড়ি নেই শুধু ব্লাউজ আর পেটিকোট। লজ্জায় গুটিয়ে নেয় নিজেকে। শরীরে শাড়িটা পেঁচিয়ে চলে যেতে নিতেই হাতে টান পরে। পিছনে তাকিয়ে দেখে নিফান তার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। অর্ঘমার হাত পিছনে মুচরে তাকে নিজের কাছে কিছুটা টেনে এনে বলে,,
__‘তোমাকে কি ওয়ার্ন করেছিলাম আমি। বলেছিলাম কি না! বউ হওয়ার চেষ্টা করবেনা রক্ষিতা রক্ষিতার মতো থাকবে। তারপরও কোন সাহসে তুমি আমার কাছে এসেছো।’
অর্ঘমা ভাবশালীন ভাবে জবাব দেয়,
__‘আমি তো আমার লিমিটের মধ্যেই আছি নিফান। রক্ষিতা তো আমি রক্ষিতার কাজটায় করছিলাম একজন রক্ষিতা বা পতিতা তো এভাবেই মনোরঞ্জন করে তার ক্লাইন্ডের। আমি তো পতিতার থেকে কম নই। তোমার কাছে। তাই না?
‘অর্ঘমার বলা কথাটায় নিফানের কিছুক্ষনের জন্য নিশ্বাস আটকে যায়। শীতল চোখে তাকায় অর্ঘমার দিকে। কেমন এক অচেনা অর্ঘমা কে দেখছে। এটা তার অর্ঘমা লাগছে না মনে হচ্ছে অন্য কেউ। হাতের বাধন ছেড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যায় নিফান।
অর্ঘমা সেদিকে তাকিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দেয়।

বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায় নিফান। একটা নিরিবিলি যায়গায় গিয়ে বসে। আজকের অর্ঘমাকে তার অন্য কেউ লাগছে। এক অনুভুতি শূন্য রমনী লাগছে কিন্তু এটা তো অর্ঘমা না। অর্ঘমা তো অন্য কেউ যে কিছুটা চঞ্চল, দুষ্ট বা কিছু টা আদুরে, বাচ্চা একটা মেয়ে কিন্তু আজকের অর্ঘমাকে খুব বড় বড় লাগছে শক্ত শক্ত কথা বলছে। কাকে তা? তাও আবার নিফান আহমেদ কে যার সাথে কথা বলতে মেও মেও করতো।
নিজের অজনাতেই মুচকি হাসে নিফান।
‘অর্ঘমা স্টাডি রুমের’ই এক কোনায় ওভবে শাড়ি পেচিয়ে বসে পরে। আজ বড্ড অতীত মনে পরছে। তার আর নিফানের অতীত সেই সোনালী দিন গুলো। নিফানের সাথে তার দেখা নাটক সিনেমা বা উপন্যাসের হিরো হিরোইনের প্রথম দেখার থেকে কম ছিল না।

“অতীতে ডুব দেয় অর্ঘমা”.
সেদিন অর্ঘমার ভার্সিটিতে পঞ্চম দিন ছিল। খুব আনন্দ নিয়ে নাচতে নাচতে ভার্সিটির ভিতরে যাচ্ছিলো অর্ঘমা তার কারন সে এখন অব্দি সিনিয়রদের র‍্যাগের সম্মুখীন হয়নি। ওপাশ থেকেই নিফান তার কিছু ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলতে বলতে বের হচ্ছিলো তখন’ই অর্ঘমার সাথে ধাক্কা লেগে যায় অর্ঘমা পরে যেতে নিলে নিফান তার হাত ধরে আটকাতে নিলে দু’জনেই পাশের লেকে পরে যায়।
অর্ঘমা ডুবতে নিলে নিফান তাকে কোলে তুলে নেয় আর কোলে থেকেই অর্ঘমা বলে,
_ওয়াও ওয়াই কি রোমান্টিক! হিরোইন পরে যাচ্ছিল হিরো তাকে ধরতে গিয়ে দু’জনেই পরলো তারপর হিরো হিরোইন কে কোলে নিলো। ওও মাই গুডনেস আল্লাহ তুমি এত তাড়াতাড়ি আমার হিরো সাথে দেখা করিয়ে দেবে বুঝতেই পারিনি ধইন্যবাদ ধইন্যবাদ।

‘নিফান চোখ ছোটো ছোটো করে তাকায় অর্ঘমার দিকে। পাগল নাকি। নিফান লেক থেকে উঠে ঘাসের উপর ছুড়ে মারে তাকে। কোমড়ে লাগায় চোখ কটমট করে উপরের দিকে তাকায় অর্ঘমা। নিফানের দিকে তাকাতেই একদফা ক্রাশ খায়। উজ্জ্বল শ্যাম বর্নের এক সুপুরুষ তার সামনে কোমড় হাত দিয়ে রাগী চেহারায় তার দিকে তাকিয়ে আছে। নিফানের তাকানো দেখে নিজের দিকে তাকায় অর্ঘমা ভিজে পোশাক শরীরে সাথে লেপ্টে গেছে। চোরা চোখে আর একবার নিফানের দিকে তাকিয়ে লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলে। অর্ঘমার হঠাৎ লজ্জা পাওয়ার কারন বুঝতে পেরে নিফান কিছুক্ষন এদিক সেদিক তাকিয়ে অর্ঘমাকে ফেলে চলে যায়। অর্ঘমা হা করে তাকিয়ে থাকে নিফানের যাওয়ার দিকে। এটা কি হলো এই ভিজে পোশাকে একটা মেয়েকে এভাবে ফেলে চলে গেল ম্যানারলেস ‘ক্রাশ হিরো’

“হিহি করে হেসে ওঠে অর্ঘমা পুরুনো দিন গুলো যদি আবার ফিরে আসত তার ম্যানারলেস “ক্রাশ হিরো” টা যদি আবার তাকে সেই আগের মতো ভালবাসত। হাসতে হাসতে ডুকরে কেদে উঠে অর্ঘমা। সব ঠিক থাকলে আজ তারা আর দশটা হ্যাপি কাপলের মতো হতো। একটা বাচ্চা থাকত। বাচ্চার কথা ভাবতেই অর্ঘমার নিজের পেটে হাত ছোয়ায়। ঠিক এখানে তাদের ভালোবাসার চিহ্ন তাদের বেবি একটু একটু করে বড় হতো। তার ও তো ইচ্ছে ছিল অন্য সব মেয়েদেরো মতো স্বামী বাচ্চা নিয়ে ভড়া সংসারের। অন্য আর সবার মতো স্বামীর ভালবাসা পাওয়ার কিন্ত! কিন্তু তার স্বামী তাকে বউ করে নয় রক্ষিতা করে ঘরে তুলেছে। অদ্ভুত না একটা সাইন করে সে নিফান আহমেদের বউ হলো আবার ঠিক আর একটা সাইন করে বউ থেকে রক্ষিতা হয়ে গেল। কিন্তু সে হার মানবে না চেষ্টা করবে খুব করবে ‘রক্ষিতা’ থেকে বউ হওয়ার। নিফান তো বাচ্চাদের খুব ভালোবাসে নিজের বাচ্চা হলেও তো তাকে ভালবাসবে৷ অর্ঘমা ভাবলো নিফান তাকে যতই দূরে সরাক না কেন সে ততই তার কাছে যাবে তা সেটা বউ না হয়ে ‘রক্ষিতা’ হয়ে হলেও যাবে। যদি তাদের মাঝে একটা বাচ্চা আসে তাহলে হয়ত নিফান আর এমন করবেনা। নিজের বাচ্চাকে তো কেউ ফেলে দেয়না সেটা যদি নিফান হয় তাহলে তো কথাই নেই।
অর্ঘমা গুনগুনিয়ে বলে,,
__“রক্ষিতা করে এনেছিলে না নিফান আজ থেকে তোমার প্রেমিকা বা স্ত্রী অর্ঘমা নয়। তোমার করে আনা রক্ষিতা কে দেখতে পাবে যে ঘরের বউনা তোমার ভাষ্যমতে ‘রক্ষিতা’
‘নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলে অর্ঘমা পাতলা ফিনফিনে শাড়ি যাতে শরীরে বেশির ভাগ দৃশ্যমান। ঠোটে গাড়ো লাল টকটকে লিপস্টিক। ভাড়ি মেকাপ। নিজেকে সাজিয়ে তুলে আয়নার দিকে তাকায় অর্ঘমা সব ঠিকঠাক এখন নিফানের ঘরে ফেরার অপেক্ষা।
রাত একটা ছুই ছুই সময়ে ঘরে ফেরে নিফান। কেমন নিরব নিরব লাগছে সব। বেশ কয়েক বার অর্ঘমাকে ডাকে নিফান সারা না পেয়ে বেড রুমে যায়। বেড রুমের লাইট অফ অন্ধকারের হাতরে লাইট অন করে আশ্চর্য হয় নিফান। অর্ঘমা খাটের উপর ফুল বিছিয়ে বসে আছে। নিফান কে দেখে অর্ঘমা মুচকি হাসি দিয়ে খাট থেকে নেমে নিফানের কাছে এসে দাঁড়ায়। নিফান অর্ঘমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাগে শরীর কাপছে তার অর্ঘমা এসব কি পোশাক পরেছে। পা থেকে মাথা অব্দি দেখে নেয়। শরীরের সব কিছু দেখা যাচ্ছে। ব্লাউজ শাড়ি দেখে মনে হচ্ছে এসব পরা না পরা এক কথা। রাগী ভাবে কিছু বলতে নেয় নিফান তার আগেই অর্ঘমা ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে তাকে প্রশ্ন করে,
__‘আমাকে বাজারি মেয়েদের মতো লাগছে না? এবার ঠিক আছে ত্যি আপনার বউ না। ‘রক্ষিতা বা বাজারি পতিতা দের মতো লাগছে তো আমায়?’

চলবে,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here