রক্ষিতা পর্ব -০৭+৮

0
139

#রক্ষিতা
#আশুথিনী_হাওলাদার (ছদ্মনাম)
পর্ব-৭

সে ঘটনার পর নিফান ততটা ঘাটে না অর্ঘমাকে। তার মতো তাকে ছেড়ে দিয়েছে। ইদানিং কাজের চাপ বেড়েছে তাই নিফান অফিস টু বাসা। বাসা টু অফিস করে যাচ্ছে। অর্ঘমার সাথে তেমন একটা কথা বলেনা অর্ঘমাও বলে না।
কিছু দিন পরের কথা। অর্ঘমা ডাইনিং এ খাবার সাজাচ্ছিল তখন কলিং বেল বেজে ওঠে খুলে দেখে নিফান আজ আবারও একটা মেয়ে নিয়ে এসেছে। নিফানের চোখ দু’টো লাল টকটকে। অর্ঘমা কোনো প্রশ্ন না করে দরজা ছাড়ে দাঁড়ায়। নিফান মেয়েটার কোমড়ে হাত দিয়ে একপ্রকার জড়িয়ে ধরে রুমে গিয়ে এক অর্ঘমার দিকে এক পলক তাঁকায় অর্ঘমাও তার দিকে তাঁকিয়ে ছিল। দু’জন এর চোখাচোখি হয়। নিফান রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। অর্ঘমা গিয়ে নিশ্চুপ ভাবে ডাইনিং এর চেয়ারে বসে থাকে। তার বুঝতে বাকি নেই বদ্ধ ঘরে ঠিক কি হচ্ছে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অর্ঘমা। মাথায় খুব যন্ত্রনা হচ্ছে পাশের রুমে গিয়ে ঘুমের মেডিসিন খেয়ে ঘুমিয়ে পরে। এভাবে কিছুদিন যায় নিফান প্রতিদিন রাতে একটা করে নতুন মেয়ে আনে। তার সামনে তাকে নিয়ে ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সকাল বেলা দু’জনে গোসল করে বের হয়। নিজেকে এই পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে নেয় অর্ঘমা। মেনে নেয় নিফান তাকে ভালবাসে না। ভালোই যখন বাসেনা তাকে আটকে কেন রাখছে। দম বন্ধ হয়ে আসে এখানে অর্ঘমার একটু শান্তিতে নিশ্বাস নিতে চায় সে। পরের দিন সকালে নিফান এক প্রকার লুকিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় অর্ঘমা। বাড়িতে দম আটকে আসছিল তার। সামনে একটা পার্কে গিয়ে বসে অর্ঘমা সামনে কিছুদূর তাকিয়ে দেখে পার্কের একটা বেন্সে নিফান বসে আছে তার হাতের উপর হাত দিয়ে উরবুশি নামের মেয়েটা বসে আছে। অনেক কাছাকাছি আছে দু’জন। তাচ্ছিল্য আসে অর্ঘমা। সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে আসে-পাশে তাঁকায় ছোটো ছোটো বাচ্চারা খেলছে। ওদের দেখে বুক খা খা করে ওঠে অর্ঘমার। এমন একটা সন্তান তো তারও থাকতে পারতো। আজ তার বয়স ২৬ কিন্তু তার চেয়ে ছোটো ছোটো মেয়েদের স্বামী সন্তান নিয়ে ভরা সংসার। আর সে নিজের স্বামীর বিয়ের করা রক্ষিতা উপাদি নিয়ে আছে। বুকের ভিতর যন্ত্রনা শুরু হয় সাথে শ্বাস অর্ঘমা ব্যাগ হাতরে ইনহেলার খোজার চেষ্টা করে পায়না। এদিকে তার শরীর খারাপ হচ্ছে। এমন সময় তার সামনে কেউ ইনহেলার রাখে অর্ঘমার তার হাত থেকে সেটা কেড়ে নিয়ে গ্যাস নেয়। হাতের মালিকের দিকে তাঁকিয়ে স্তব্দ হয় অর্ঘমা। সামনের মানুষটি তার পাশে বসা। ভরসার মানুষটাকে পেয়ে অন্য কিছুনা ভেবে তার বুকে ঝাঁপইয়ে পরে হুহু করে কেঁদে দেয় অর্ঘমা। নিহিতা লাগলে নেয় অর্ঘমাকে। অর্ঘমার চোখের জল মুচিয়ে দেয়। নিহিতা তার হাত ধরে প্রশ্ন করে,,
__‘কেমন আছিস?
মলিন হেসে উত্তর দেয় অর্ঘমা,,
__‘যেমন দেখছিস, তেমন আছি।
দূরে বসে থাকা নিফান কে দেখে নিহিতা বলে,,
__‘আরে ওটা নিফান ভাই না? উনি এখানে এতদিন পর। আর তুই এভাবে বসে আছিস ওনার কাছে যাচ্ছিস না কে?
অর্ঘমা ভাবশালিন ভাবে উত্তর দেয়,,
__‘গিয়ে কি হবে? শুধু শুধু ঝাঁমেলা হবে।
নিহিতা অবাক হয়
__‘কি বলছিস অর্ঘ? তুই এটা বলছিস? নিফান ভাইয়ার হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার পর তোর কেমন অবস্থা হইছিলো মনে আছে? আজ যখন উনি এখানে এভাবে,, ওকে তুই না যাস আমি যাচ্ছি।
অর্ঘমা এক পলক দূরে থাকা নিফান উরবুশির দিকে তাঁকিয়ে। মৃদু হেসে বলে,,
__‘এক বাড়িতে এক ঘরেই তো থাকি। দূরে কোথায়। ওনার সাথে এখন ওনার প্রেমিকা আছে ডিস্টার্ব করা ঠিক হবে না।
নিহিতা হতবাক হয়ে বলে,
__‘মানে এক বাড়ি, এক ঘরে কি করে?
চোখের কোন থেকে জল মুছে অর্ঘমা বলে,,
__‘জানিস তো দাদুমের ক্যান্সার ধরা পরেছে। আমাদের বাড়িটা ছাড়া তো আর কিছু নেই। বাকি যা ছিল তা দাদুম আমায় সুস্থ করতে খরচ করে ফেলেছে। দাদুম চায়নি তার ভিটে হাতছাড়া করতে। তাই আর বিক্রি করতে দেয়নি। কিন্ত আমারও তো দাদুম ছাড়া কেউ নেই। মাম্মাম-পাপা ভাইয়া তো সেই সাড়ে তিন বছর আগে আমায় ফেলে চলে গেছে। এখন দাদুম ও যাওয়ার পায়তারা করছে। দাদুমের কিছু হয়ে গেলে আমার কি হবে বলতো? অনেক টাকার ব্যাপার। বাড়ি বিক্রি করলে ম্যানেজ হতো দাদুমও দিব্যি দিয়ে রেখেছে তার ভিটে বিক্রি করা যাবে না। যখন সব পথ বন্ধ তখন তিন বছর পর দেখা নিফানের সাথে। সে বলে, সে সব টাকা দেবে। তবে শর্ত আছে। আমাকে তার রক্ষিতা হয়ে থাকতে হবে। দাদুমকে বাঁচানোর কোনো পথ এছাড়া নেই। তাই রাজি হয়ে যাই আজ ৭ মাস ধরে আছি তার বাড়িতে তার রক্ষিতা হয়ে। এক বছর ছয় মাসের জন্য সে আমায় কিনে নিয়েছে। (কথা শেষ করে হাসে অর্ঘমা)
নিহিতা হতবিহ্বল হয়ে চেয়ে আছে অর্ঘমার পানে। অর্ঘমা -নিফান তাদের ভার্সিটির ‘মেট ফর ইচ আদার’ জুটি ছিল’। আজ তারা কিনা এভাবে। নিফান তো খুব ভালোসাতো অর্ঘমাকে। প্রথমে অর্ঘমাকে মাঝ পথে ছেড়ে চলে গেল। আবার ফিরে এসে বউ না রক্ষিতা করে ঘরে তুলছে। কি করে সম্ভাব এটা নিফানের দ্বারা।

ড্রিংক করে বেশ রাত করে বাড়ি ফিরে নিফান। ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ঘরের দরজা খুলে ভিতরে আসে। রুমের লাইট অফ ডিম লাইটের মৃদু লাল আলোতে দেখতে পায় অর্ঘমা শুয়ে আছে। শাড়ি জায়গায় নেই। শরীরের বেশির ভাগ দৃশ্যমান। খানিক্ষন ঘোড় লাগা দৃষ্টিতে সেদিকে তাঁকিয়ে থাকে। কিছু একটা মনে পরে যাওয়ায় রাগ হয় নিফানের। অর্ঘমার উপর গিয়ে শুয়ে পরে। তার গরম নিশ্বাস অর্ঘমার মুখে আছড়ে পরে। অসস্থি হয় অর্ঘমার ঘুম ভেংগে যায়। পিটপিট করে চোখ খুলে। নিফান কে তার এত কাছে দেখে থতমত খেয়ে যায়। নিফানের চোখে অন্য কিছু দেখতে অর্ঘমা। কামুকতা,,রাগ দুটোই তার চোখে দেখতে পাচ্ছে। নিফানের এমন দৃষ্টিতে ভরকে যায় সে বিছানার চাদর খামছে ধরে। কিছু বলতে নেয়। তার বলার আগে নিফান তার হক বুঝে নেয়। ঝাঁপিয়ে পরে তার উপর। কিন্তু নিফানের ছোঁয়ায় ভালবাসা পাচ্ছেনা অর্ঘমা। এ যেন রাগের বহিঃপ্রকাশ। শুকনো ঢোক গিলে অর্ঘমা। নিফান কে ছাড়াতে চায় নিজের থেকে। রেগে যায় নিফান। অর্ঘমার গলায় জোড়ে কামড় বসিয়ে দেয় নিফান। ডুকরে কেঁদে উঠে অর্ঘমা। নিফান যদি ভালবেসে তার কাছে আসত অর্ঘমা নিজে থেকে তার কাছে যেত কিন্তু এ ছোঁয়ায় বিন্দু মাত্র ভালোবাসার ছিটে ফোটা পাচ্ছেনা অর্ঘমা। যন্ত্রনায় কেঁদে ওঠে অর্ঘমা। সেদিকে নিফানের নজর নেই নিজের কামুকতায় ব্যাস্ত। আজ বোধায় নিফানের ‘রক্ষিতা’ দেয়া নামটা সার্থক হলো। আজ তাকে নিফান ভালোবেসে বউও এর মতো না উলটো রক্ষিতার মতো ট্রিট করছে। নিফান তার কাজ শেষে অর্ঘমার উপর শুয়েই তার ঘাড়ে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরে। অর্ঘমা যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে চোখের পানি ফেলে সারা-রাত কাটিয়ে দেয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠেও রেহাই দেয়নি তাকে নিফান। আজ এতদিন পর নিজেকে ‘রক্ষিতা’ মনে হচ্ছে। সকালে উঠে নিফান তার চাহিদা মিটিয়ে অফিসে চলে যায়। সাথে শাসিয়েও যায় রাতের জন্য তৈরী থাকতে। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকায় অর্ঘমা। সারা শরীরে কামড় আর নখের দাগ। ঠোঁট দুটোও ফুলে গেছে। বেলা ১১ টা বাজে। কাল রাত থেকে এত বেলা অব্দি নিফান তার চাহিদা মিটিয়ে গেছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে গায়ে চাঁদর পেঁচিয়ে উঠে ওয়াশ্রুমে যায় ফ্রেস হতে। #রক্ষিতা
#আশুথিনী_হাওলাদার (ছদ্মনাম)
পর্ব-৮
বুকের ভিতর কষ্ট হচ্ছে অর্ঘমার। নিজেকে হারিয়ে ফেলছে সে। নির্জীব লাগছে এমন তো সে নয়। কখনো কোনো কিছুর অভাব অর্ঘমার ছিলনা। পরিবারের ছোটো মেয়ে সে। মাম্মা-পাপার আদরের রাজকন্যা ভাইয়ার আদরে বোন। দাদুমের আদরে নাতনি। দুঃখ কি অভাব বলতে সে কখনো বুঝেনি। মুখ ফুটে কিছু চাওয়ার আগে সব তার সামনে হাজির হতো। পাপ্পা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন ভাইয়া পুলিশের এস আই। মাম্মাম কলেজ প্রফেসর। এমন কি দাদুমও ছোটো খাটো বিজনেস করতেন। সে পরিবারের ছোটো বিধায় বেশ আদরের ছিল। তার সাথে দুষ্ট। কখনো কোনো কিছুর অভাব তার ছিল না। নিফান কে প্রথম দেখাতে ভালবেসে ফেকে সে। ১৯ বছরের জীবনে কাউকে দেখে তার মনে হয়নি যে ‘একে’ তার পছন্দ হয়েছে। নিফান একমাত্র পুরুষ যে ছিল তার মনের অধিকারী। কিন্তু নিঝুম তাকে মাঝ পথে এসে ছেড়ে চলে যায়। তার কিছুদিন পরে ভাইয়া। ভাইয়ার সাথে বাবা-মাও। একের পর এক ধাক্কা সামলাতে না পেরে মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অর্ঘমা। আথে তার সবুকে ব্যাথার রোগের শুরু। শ্বাসের উপদ্রব থাকলেও সেই ঘটনার পর সেটা বেড়ে যায়। দাদুম ছিল তার একমাত্র আপনজন। বাংলাদেশে চিকিৎসায় যখন অর্ঘমা সুস্থ হচ্ছিলোনা তাকে নিয়ে সিংগাপুর যাওয়া হয় সেখানে চিকিৎসা হয় তার। তারপর সুস্থ। অর্ঘমার চিকিৎসার পিছনে জমানো সব টাকা- কিছু জমি খরচ হয়ে যায়। শুধু থেকে যায় তাদের সাত তলা বিশিষ্ট বাড়িটা। বাড়ি ভাড়ার টাকা দিয়ে চলে যায় তাদের দু’জনের। কিন্তু বিপদ তাদের পিছন ছাড়েনি। দু’এক বছর পর অর্ঘমার দাদির ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরে। অর্ঘমা চোখে অন্ধকার দেখে। একা একাটি মেয়ে যার কেউ নেই। এক দাদি ছিল সেও পরপারে যাওয়ার জন্য এক পা বাড়িয়ে রেখেছে। শেষ ভরসা বাড়িটা সেটা বিক্রি করে দাদুমের চিকিৎসা করতে চায় অর্ঘমা। সেখানেও বাদ সাধে দাদুম। তিনি চাননি মাথার ছাদ হাড়াতে। তার কিছু হয়ে গেলে অর্ঘমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই বাড়িটা ছাড়া। যখন সব পথ বন্ধ হয়৷ তখন ফেরেস্তা রুপে সামনে আসে নিফান সে সাহায্য করে কিন্তু সাহায্যর বিনিময়ে নিজেকে বিক্রি করতে হয় অর্ঘমার। নিফান কিনে নেয় তাকে। অবশ্য লোক দেখানো বিয়ের রেজিস্ট্রি অবশ্য করেছিল। চার কলেমা আর কবুল ও পরেছিল। কিন্তু সেটা নামে পবিত্র বন্ধন। যাতে তার অর্ঘমাকে ছোঁয়াটা হারাম নয় হালাল হয়। প্রথম প্রথম তাকে মানুষিক অত্যাচার করলেও কখনো শারিরীক, যৌন অত্যাচার নিফান তাকে করেনি কিন্ত আজ তাও করছে। নয় মাস হয়ে গেছে এখনো বাকি ন’মাস তাকে নিফানের সাথে থাকতে হবে তারপর চুক্তি শেষ। ইদানীং বুকে খুব কষ্ট হয়। নিজেকে আবারো পাগল মনে হয় অর্ঘমার। ইদানিং সে তার চোখের সামনে মাম্মাম-পাপা, ভাইয়া সবাইকে দেখতে পায়। তাদের সাথে কথাও বলে কিন্তু সে জানে তারা কেউ বেঁচে নেই তবুও। ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে অর্ঘমা। তার মনে হচ্ছে। সে আগের মতো কল্পনায় নিফান কে দেখতে পাচ্ছে। এটা শুধু ভ্রম সে আবার পাগল হয়ে যাচ্ছে। তাই নিফানকে সে তার কাছে দেখতে পাচ্ছে। এ ভ্রমে যদি নিফান তাকে হাজারো অত্যাচার করে তাতেও সে খুশি নিফান কে তো নিজের কাছে পাশে দেখতে পাচ্ছে।

বেশ রাত করে বাড়িতে আসে নিফান। আজও ড্রাংক ঘরে এসে দেখে আজও রুমের লাইট অফ তবে ড্রিম লাইট জ্বালানো। ড্রিম লাইটের আলোতে অর্ঘমাকে দেখা যাচ্ছে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাঁকিয়ে আছে। পাতলা সাদা জর্জেট শাড়িতে বেশ আবেদনময়ী লাগছে তাকে। নিফানের কথা মতো সে আসার আগে নিজেকে তার জন্য তৈরি করে রাখে অর্ঘমা। চোখ পিট পিট করে বেশ কয়েক বার সেদিকে তাঁকিয়ে হেলেদুলে অর্ঘমার পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়। অর্ঘমার উন্মুক্ত পেটে হাত ছোঁয়ায়। কেপে উঠে অর্ঘমা চোখ বন্ধ করে নেয়। নিফান অর্ঘমাকে নিজের কাছে টেনে নেয়। পিঠ থেকে চুল সরিয়ে ঠোঁট ছোয়ায় সেখানে। কোলে তুলে নেয় অর্ঘমাকে বিছানায় শুইয়ে তার চাহিদা মেটায়।
ভোরে ঘুম ভেংগে যায় অর্ঘমার। ব্যাথায় টনটন করছে তার শরীর। কিন্তু নড়ার উপায় নেই। নিফান তার উপরে শুইয়েই তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। এক পলক নিফানের দিকে তাঁকায় অর্ঘমা। কোনো রকমে নিফান কে সরিয়ে গায়ে শাড়ি জড়িয়ে উঠে ফ্রেস হতে যায় অর্ঘমা। ফ্রেস হয়ে এসে আয়নায় নিজেকে দেখে। আজ কেমন পরিপূর্ণ নারী মনে হচ্ছে নিজেকে। অত্যাচার করার জন্য হলেও তার স্বামী তার কাছে এসেছে তাকে ছুঁয়েছ। তাকে পরিপূর্ণ এক নারীতে পরিনত করেছে। নিজের শরীরে নিফানের দেয়া দাগ গুলোতে হাত বুলায় অর্ঘমা। তার স্বামীর দেয়া চিহ্ন এগুলো। একজন নারীর কাছে এর চেয়ে বড় চাওয়া কি আছে। কিন্তু তার স্বামী তাকে পরিপূর্ন ঠিক’ই করেছে তবে ভালবেসে নয়। তাঁকে অত্যাচার করার পন্থা হিসেবে৷ মৃদু হাসে অর্ঘমা। তাঁর জীবনের ২৬ বছর একা কাটানোর পর সে এখন পরিপূর্ণ এক নারী। ২৬ বছরের জীবনে সে প্রথম কোনো পুরুষের ছোঁয়া পেয়েছে তাও কম কিসে। হোক না তা অত্যাচার। চোখের কোনের জল মুছে কিচেনে চলে যায় অর্ঘমা। নিফান ওঠার আগে খাবার রেডি করতে হবে। বাড়ির সব কিছু সার্ভেন্টের দায়িত্বে থাকলেও রান্নার দায়িত্ব শুধু তার। নিফানের আদেশ তা। যা হয়ে যাক রান্না অর্ঘমা কে করতে হবে। অবশ্য সেটাও অত্যাচারের অন্য এক পন্থা। তবে নিফান তো জানেনা। আজকের অর্ঘমা চার বছর আগের অর্ঘমা এক না। আজকের অর্ঘমা এতিম। ঘর ছাড়া। কারো টাকায় কেনা ‘রক্ষিতা’। যে রান্না থেকে শুরু করে সব পারে। চার বছর আগের অর্ঘমা ছিলো বাবা-মায়ের আদরে বাদর হওয়া রাজকন্যা, ভাইয়ের কলিজার টুকরো। মলিন হাসে অর্ঘমা রান্নার জোগাড় করতে করতে পাশে তাঁকায়। দেখে তার মা দাঁড়িয়ে আছে পাশে। মা’কে দেখে মলিন হেসে বলে অর্ঘমা,,
__‘তোমার রাজকন্যা রান্নাটা ঠিকঠাক করছে তো মাম্মাম? দেখ আমি রান্নাও শিখে গেলাম। প্রিন্সেস অর্ঘ রান্না শিখে গেছে অদ্ভুত না। প্রিন্সেস অর্ঘ এখন কিচেনেও যায়। তুমি কিন্তু পাপ্পা আর ভাইয়া কে বলো না ওরা খুব কষ্ট পাবে। সব কথার মতো এটাও আমাদের সিক্রেট।
মায়ের দিকে চোখ সরিয়ে নিজের মনে বলে অর্ঘমা,
__‘তুমি এখন যাও তো মাম্মাম। তোমার সাথে এভাবে একা একা কথা বলতে দেখলে মানুষ আমায় পাগল ভাব্বে। ওরা তো আর জানেনা যে তুমি আসো আমার কাছে। আমি তোমমাদের দেখতে পাই। কথা বলতে পারি। শুধু,,
মন খারাপ করে বলে অর্ঘমা,,
__‘শুধু ছুঁতে পারিনা’

আজকাল প্রতিদিন নিফান অর্ঘমার সাথে মিলিত হয়। অর্ঘমাও তাকে বাধা দেয়না। বরং বলা যায় বাধা দিতে পারেনা। কারন নিফান তার হক বুঝে নিচ্ছে৷ অর্ঘমা তা দিতে বাধ্য। তবে নিফান কখনো তাকে ভালবেসে কাছে টেনে নেয়নি। প্রতিবার এক অজানা আক্রোশ নিয়ে তার কাছে আসে নিফান। তাদের মধ্যে তেমন কথাও হয়না শুধু প্রতি রাতে শরীরের সাথে শরীরের মিলন হয়। আজও নিজেকে নিফানের জন্য তৈরী করে রাখে অর্ঘমা। প্রতি রাতে’ই নানা ভাবে নিজেকে নিফানের সামনে প্রেজেন্ট করে। তাদের মধ্যে যেটুকু হয় তা শুধু প্রফেশনাল। নিফান তাকে টাকা দেয়। অর্ঘমার টাকার বিনিময়ে শরীর দেয়। এভাবে চলছে দিন। প্রতিদিনের মতো ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে বাড়ি ফিরে নিফান। তবে আজ একা না সাথে উরবুশি নামের মেয়েটা। অবাক হয় অর্ঘমা। এখন উরভুশিকে কি দরকার। যেখানে সে আছে। নিফান হয়তো তার মনের প্রশ্ন বুঝতে পেরেছে তাই কাটকাট গলায় উত্তর দেয়,
__‘প্রতিদিনের জন্য তো তুমি আছো। আজ আমার ওকে দরকার তাই ওকে এনেছি। আজ তোমার ছুটি পাশের রুমে গিয়ে শুয়ে পরো। বুকের ভিতর ক্ষতবিক্ষত হলেও মুখে তা প্রকাশ করে না অর্ঘমা। নিশ্চুপ ভাবে হেটে পাশের ঘরে চলে যায়। যেতে যেতে শুনতে পায় পাশের ঘরের ছিটকিনি আটকানোর শব্দ।

চলবে,
(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here