রক্ষিতা পর্ব -১৩+১৪

0
145

#রক্ষিতা
#আশুথিনী_হাওলাদার (ছদ্মনাম)
পর্ব-১৩
মাত্র তিন মাস বাকি। তারপর দু’জনে পথ ভিন্ন। সময় গুলো মনে হচ্ছে খুব তারাতাড়ি চলে যাচ্ছে। অর্ঘমা আর নিফানের মধ্যকার সম্পর্ক কিছুটা ভালোর দিকে। অবশ্য তাতে অবদান নিফানের। সে এগিয়েছে। অর্ঘমাকে সময় দিচ্ছে। হেসে হেসে গল্প করছে। অর্ঘমা আবেগ নিয়ে দ্যাখে সেই হাসি। আর পাঁচ টা স্বামী-স্ত্রীর মতোই কাঁটছে দিন গুলো। তবে তাদের মধ্যে সেক্সুয়াল কোনো রিলিশন হয়নি।
অর্ঘমা কিছুটা মানিয়ে নিয়েছে নিফানের সাথে। যদি নিফান চায় তবে সে ভেবে দেখবে নিফানের সাথে থাকবে। তাছাড়া যাবেই বা কোথায়? সে একা একটা মেয়ে। আপন বলতে তো কেউ নেই।
শাওয়ার নিয়ে চুল মুচতে মুচতে ওয়াশরুম থেকে বের হয় অর্ঘমা। নিফান বেডে বসে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে। অর্ঘমা নিফান কে দেখে বলে,,
__‘এসেছেন? আপনি একটু বসুন আমি খাবার রেডি করছি।’
নিফান তাঁকায় অর্ঘমার দিকে। ভেজা চুল। পাতলা জর্জেট শাড়ি চুলের পানিতে ভিজে শরীরের প্রায় অংশ দৃশ্যমান। ল্যাপটপ রেখে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায় নিফান। অর্ঘমার খুব কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। অর্ঘমা নিফানের চোখের দিকে তাঁকিয়ে ঢোক গিলে। শাড়ি সরিয়ে পেটে হাত রাখে নিফান। কেঁপে উঠে অর্ঘমা। জোড়ে জোড়ে শ্বাস নেয়। ভিতু চোখে তাঁকায় নিফানের দিকে। নিফান কামুক চোখে তাঁকিয়ে তার দিকে। অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে তার। শুকনো ঢোক গিলে। আজ প্রায় তিন মাস পর নিফান তার কাছে এসেছে। নিফানের হাত বিচরন করছে তার শরীরে। আজ নিফানের ছোঁয়ায় ভালবাসা খুজে পাচ্ছে সে। নিফানের চোখের দিকে তাঁকায় অর্ঘমা। নিফান তার দিকে তাঁকিয়ে আছে। অনুমতি চাচ্ছে। বার কয়েক আশে-পাশে চোখ বুলায় অর্ঘমা। খানিক বাদে অর্ঘমা নিজ থেকে নিফান কে জড়িয়ে ধরে সম্মতি দেয়। অর্ঘমার সম্মতি পেয়ে হাসে নিফান। বাঁকা হেসে কোলে তুলে নেয় অর্ঘমাকে। বিছানায় শুয়ে দেয়। মেতে উঠে আদিম খেলায়। আজ নিফানের ছোঁয়ায় ভালবাসা খুজে পাচ্ছে সে। নিজেও সারা দেয় নিফানের সাথে।
“সকালের মিষ্টি আলোতে ঘুম ভাংগে অর্ঘমার। মিষ্টি হেসে নিফানের দিকে তাঁকায়। নিফান তাকে জড়িয়ে ধরে তার উপরেই ঘাড়ে মুখ গুজে ঘুমিয়ে আছে। নিফানের চুলে গালে হাত বুলায় সে। আজ নিজেকে একজন স্ত্রী হিসেবে পরিপূর্ণ লাগছে। আজ মনে হচ্ছে পাঁচ বছর পর তার স্বামী তার কাছে এসেছে। তাকে ছুঁয়েছে। তাকে পরিপূর্ণ করেছে। মুচকি হাসে অর্ঘমা। নিফানের কপালে ঠোঁট ছোয়ায়। ঘুমের ভিতর ভ্রু কুচকে উঠে নিফানের। তা দেখে হেসে উঠে অর্ঘমা। তার হাসির শব্দে ঘুম ভেংগে যায় নিফানের। ঘুমঘুম চোখে তাঁকায় অর্ঘমার দিকে। সকালের মিষ্টি রোদে বেশ আবেদনময়ী লাগছে তাকে। নিফান কে জাগতে দেখে থতমত খায় অর্ঘমা। এক’ই চাদরের নিচে দু’জন। নিফান উঠতে নেয়। লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে অর্ঘমা। তা দেখে নিফান বাঁকা হেসে। ভালো করে জড়িয়ে যায় তার সাথে। স্পর্শ কাতর জায়গা গুলোতে হাত বুলায় কেঁপে উঠে অর্ঘমা। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা হয় তার। নিফানের থেকে ছুটাতে চায় নিজেকে।
অর্ঘমা চোখ বন্ধ করে বলে,,
__‘ছাড়ুন প্লিস”
হাসে নিফান। নিজের সাথে জড়িয়ে নেয় তাকে বলে,,
__“যদি না ছাড়ি?
ঢোক গিলে উত্তর দেয় অর্ঘমা,
__‘মরেই যাবো”
ঠোঁট কামড়ে হাসে নিফান। অর্ঘমার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলে,
__‘মেরেই ফেলবো।
নিশ্বাস আঁটকে যায় অর্ঘমার। বিছানার চাদর খামছে ধরে। নিফান তা দেখে হাসে। শুধু হাসে না খিল খিল করে হাসে। আজ তার অকারনেই খুব হাসি পাচ্ছে। নিজেকে সুখি মানুষ মনে হচ্ছে। এমন একটা বাচ্চা বউ যার আছে সে খুশি হবে না কেন? আবার হাসে। হেসে অর্ঘমার নাকে নাক ঘষে। কোলে তুলে নেয় তাকে। কোলে তুলে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়। আজ তার ইচ্ছে জেগেছে এক সাথে গোসল করার।
দেখতে দেখতে এক মাস শেষ হয়ে যায়। এই এক মাসে অর্ঘমা পুরুনো নিফান কে পেয়েছে। সেই নিফান যে তাকে ভালবাসত। নিফান কাছে আসলে কখনো বাধা দিতো না অর্ঘমা। তবে নিফান তার সম্মতি নিয়ে তার কাছে আসত। নিফানের ছোয়ায় ভালবাসা খুজে পেতো অর্ঘমা। আর সে কারনে কখনো তাকে বাঁধা দিতো না। অবশ্য নিফান তাকে কখনো জোড় করেনি। হেসে খেলে দিন গুলো ভালো যাচ্ছিল।
অফিসের জন্য রেডি হচ্ছে নিফান। টাই খুজে পাচ্ছেনা। হাক ছেড়ে ডাকে অর্ঘমাকে। একবার না কয়েকবার ডাকতে থাকে। কিচেনে কাজ করছিল অর্ঘমা। বিরক্ত হয়। খুন্তি নিয়ে রুমে আসে। রাগে তেরে আসে তার দিকে। থতমত খায় নিফান। বউয়ের রণচন্ডী রুপ দেখে।
অর্ঘমা বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করে,,
__‘কি চাই?
নিফান ক্যাবলা হেসে আমতা আমতা করে বলে,,
__‘টাই! টাই খুজে পাচ্ছিনা।
অর্ঘমা টাই হাতে দিয়ে চলে যেতে নেয়। নিফান তার হাত ধরে আঁটকে দিয়ে কোমড় আঁকড়ে ধরে কাছে টেনে আনে।
এক গাল হেসে বলে,,
__‘বউ কেও চাই’
অর্ঘমার দিকে এগিয়ে যায় নিফান। তার ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়াতে নিলে অর্ঘমা খুন্তি সামনে রাখে। নিফানের ঠোঁট গিয়ে খুন্তিতে লাগে। ক্রুর হাসে অর্ঘমা। খেতে যাওয়ার তাগিদ দিয়ে কিচেনে চলে যায়। নিফান ক্যসবলার মতো ঠোঁটে হাত দিয়ে কিচ্ছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে। কন্ঠ জোর এনে অর্ঘমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে,,
__‘বউ পুরুনো হয়ে গেলে বর দের দিকে আর নজর থাকে না বউ দের। রাতে আমারও সময় আসবে।
নিফানের কথা কানে যাওয়া মাত্র খিল খিল করে হেসে উঠে অর্ঘমা। অর্ঘমার হাসির শব্দ পেয়ে। মুচকি হাসে নিফান। আয়নার দিকে তাঁকিয়ে চুল হাত বুলিয়ে। ফিটফাট হয়ে ডাইনিং এ যায় । খাবার শেষে অফিসের জন্য বের হতে নিলে। ভ্রু কুচকে কোমড়ে হাত দিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় অর্ঘমা। তার কোমড়ে শাড়ি গোজা। সেদিকে তাঁকিয়ে হাসে নিফান। পুরোদস্তর গিন্নি লাগছে তাকে। অর্ঘমা ঠোঁট বাঁকিয়ে প্রশ্ন করে,,
__‘তা এতো সেজেগুজে কই যাওয়া হচ্ছে?
নিফান হাসার চেষ্টা করে বলে,,
__‘অফিসে’
অর্ঘমার নিফানের দিকে এগিয়ে গিয়ে চুল মেলো করে দিয়ে বলে,
__এবার ঠিক আছে তবে,,
কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে,
__‘আপনি কি অফিসে মেয়েদের দেখাতে যাচ্ছেন? চুল এলোমেলো করলাম তাতে আরো সুন্দর লাগছে। আপনাকে এত সুন্দর হতে কে বলছে?
নিফান হ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সে সুন্দর হয়েছে তাতে তার দোষ কোথায়?

মেডিকেল রিপোর্ট হাতে নিয়ে বসে আছে অর্ঘমা তার চোখে জল। কিছুদিন ধরে অসুস্থতা বোধ করছিলো। মাথা ঘুরাচ্ছিলো। বমি বমি পাচ্ছিলো। পিরিয়ডের ডেটও মিস হয়। সন্দেহ হচ্ছিলো অর্ঘমা। তাই হস্পিটালে আসে চেকাপ করাতে। যা ভেবেছিলো তাই’ই হয়েছে। সে প্রেগন্যান্ট ‘মা’হতে চলেছে সে। নিফান বাবা। নিজেকে পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষ মনে হচ্ছে। অজান্তেই পেটে হাত দেয় সে। এখানে তার ভালবাসা। তার স্বামী নিফানের অংশ বেড়ে উঠছে। তাদের সন্তান। চোখের পানি মুছে উঠে দাঁড়ায় অর্ঘমা। ছুটে যায় নিফানের কাছে তাকে জানাতে সে বাবা হচ্ছে।
#রক্ষিতা
#আশুথিনী_হাওলাদার
পর্ব-১৪
__‘তুই ঠিক কি চাচ্ছিস?
টেবিলে হাতের ভর দিয়ে মাথার চুল খামছে ধরে নিফান। চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে বলে,,
__“জানি না”
বিরক্তি হয় আরাফ। বিরক্তিতে মুখ দিয়ে “চ” শব্দ করে। বলে,,
__‘তুই বুঝতে পারছিস তুই কি অন্যায় করে ছিস? যে কারনে অন্যায় গুলো করেছিস সেটা ভিত্তিহীন ছিল।
অভ্র তোর বোনকে ঠকায়নি। নবনীতা ভুল বুঝে ছিল তাকে। বলতে বাধছে না সম্পুর্ন দোষ নবনীতার ছিল। একবার যদি বিশ্বাস রাখতো নিজের ভালবাসায় তাহলে এ দিন দেখতে হতো না। নবিনীর সাথে সাথে অভ্রও সুইসাইড করে ফেলেছিল। ঠিক সেদিন’ই অভ্রর সাথে সাথে তার বাবা মাও গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যায়।
চেয়ার গা এলিয়ে দেয় নিফান। চোখ বন্ধ। তবে বন্ধ করে রাখতে পারছে না চোখ জ্বলছে। আজ যদি নবনীতার বান্ধুবি রিসার সাথে দেখা না হতো তাহলে হয়তো কখনো সত্যিটা জানতে পারতো না সে। রিসা’ই ছিল সেই মেয়ে যে নবনীতাকে বুঝেয়েছে অভ্র তাকে নয় রিসা কে ভালবাসে। নবনীতা তার কথা বিশ্বাস করে এত বড় স্টেপ নেয়।
আরাফ আবার বলে,,
__“তুই কি এটা জানিস? যে অর্ঘমা এত এত মানুষিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল। যাকে এক কথায় পাগল বলে।”
চট করে চোখহ খুলে ফেলে নিফান। অবিশ্বাস চোখে আরাফের দিকে তাঁকায়। তার মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছে না। ঢোক গিলে নিফান। কাঁপা হাতে টেবিল থেকে পানির গ্লাস তুলে পানি খায়। নিজেকে শান্ত করে প্রশ্ন করে,,
__‘মানে? অওঅঅঅর্ঘ পাগল?
আরাফ বলে,
__‘নিহিতার সাথে সব ঠিক হয়ে গেছে। নিহিতা’ই আমাকে সবটা বলল। তোর ওকে ঠকানো। বাবা -মা, ভাইকে হারানো এসব চাপ সহ্য করতে না পেরে মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সে। এবং দীর্ঘদিন সিংগাপুরে চিকিৎসাদিন ছিল।

“বুকে চিন চিন ব্যাথা অনুভব করছে নিফান। এত বড় ভুল হয়ে গেল তার দ্বারা। অর্ঘমা ক্ষমা করবে তাকে?
চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আরাফ। কপালে আংগুল দিয়ে স্লাট করে। নিফানের অবস্থাটা সে বুঝতে পারছে। কিন্তু কিছু করার নেই। সব হাতের বাইরে চলে গেছে।
__‘তুই কি এটাও জানিস ? যে অর্ঘমার দাদি দুই মাস হলো মারা গেছে?
নিফান বলে,
__‘হুম”
কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে আরাফ,,
__“তোর উচিত অর্ঘমাকে মুক্ত করে দেয়া। অবশ্য এমনিতেও তোর এই ‘রক্ষিতা’ ‘রক্ষিতা’ খেলার মাত্র দুই মাস বাকি। অর্ঘমা তো এটাও জানেনা যে তুই ওকে পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেছিলি শুধু প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। ফেলেও গিয়েছিলি তাই। আর চার পর বছর ওকে “রক্ষিতা” করে ঘরেও তুলিছিলি প্রতিশোধ নেয়ার নেশায়। আমার মনে হচ্ছে তুই কখনো অর্ঘমাকে ভালইবাসিনি। ভালোবাসলে ওভাবে ফেলে যেতে পারতি না। ওকে রক্ষিতা করে ঘরেও রাখতে পারতি না। একটা বছর ধরে অত্যাচার করতে পারতিস না। বাজারি মেয়েদের স্থানে নামিয়ে ফেলিছিস তুই ওকে। একটা পতিতার মতো ব্যাবহার করেছিস। ‘ও’ বউ ছিল তোর। “রক্ষিতা” না। বউ মানে বুঝিস নিফান? তোকে আমি বারবার বলেছিলাম দোষ অভ্রর ছিল। অর্ঘমার নয়। অর্ঘমা শুধু অভ্রর বোন। আজ অর্ঘমার মতো আমারও মনে হচ্ছে তুই কখনো তাকে ভালোবাসিসনি।
অবাক চোখে তাঁকায় নিফান। আরাফ কে বলে,
__‘তুইও বিশ্বাস করিস আমি অর্ঘকে ভালবাসিনা’
আরাফ হাসে। বলে,,
__‘ভালোবাসলে নিজের বিয়ে করা বউকে রক্ষিতা করে রাখতে পারতি না ”
কথাটা নিফানের বুকে গিয়ে লাগে। কিছু বলতে নেয়। বাইরে কিছু পরে যাওয়ার শব্দে দরজার দিকে তাঁকায় নিফান আর আরাফ। অর্ঘমাকে দেখে হতোবম্ব হয়ে যায় তারা। অর্ঘমা অবিশ্বাস্য চোখে তাঁকিয়ে থাকে নিফানের দিকে। অর্ঘমার এমন চাহনিতে শ্বাস আটকে যায় নিফানের। স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে সে। কয়েক পিছিয়ে যায় অর্ঘমা। হাত থেকে মেডকেল রিপোর্টটা পরে যায়। পরে যেতে নেয় অর্ঘমা। হাতের ব্যালেন্স রাখতে দেয়াল আঁকড়ে ধরে। কষ্ট হচ্ছে তার। বুকের ভিতর কেমন করে জ্বলছে। কিন্তু চোখ থেকে কোনো পানি বের হচ্ছে না। বুকের ভিতর দিয়ে ঝড় ভনয়ে যাচ্ছে। সব, সব মিথ্যে? নিফান তাকে কখনো ভালোইবাসেনি। অভিনয় ছিল সব। এতো, এতোটা নিখুঁত হয় অভিনয়। তাদের ভালবাসা, বিয়ে। তাকে ছেড়ে যাওয়া। সবশেষে তাকে “রক্ষিতা” করে ঘরে তোলা। তাকে মানিষিক, যৌন অত্যাচার করা সব সব প্রতিশোধ ছিল। কোনো ভালবাসা ছিল না। এতদিন মরিচীকার পিছনে ছুটেছে সে? বোনের মৃত্যুর প্রতিশোধ? কিন্তু, প্রতিশোধ তো তার নেয়ার কথা। দোষ করলো নবনীতা। সেই দোষের শাস্তি পেলো তার গোটা পরিবার। তাহলে প্রতিশোধের বলির পাঠা কেন সে হলো? নবনীতার ভাই নিফান? ভাই বোন দু’জনেই এক গোটা পরিবার টাকে শেষ করে দিয়েও আশা মিটলো না।
রিপোর্ট ফ্লোর থেকে হাতে তুলে। অফিস থেকে দৌড়ে বেড়িয়ে যায় অর্ঘমা। নিফান সেখানেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে। অর্ঘমা সব জেনে গেছে?
ভয় হচ্ছে নিফানের। অর্ঘমাকে তাকে ভুল বুঝছে? এটা ভাবছে যে, নিফান তাকে কখনো ভালবাসেনি। শুধু প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অভিনয় ছিল সব। দিশেহারা হয়ে যায় নিফান। টেবিলের সব জিনিস ফেলে দেয় সে। আরাফ নিশচুপ হয়ে দাঁড়িয়ে। সে কখনো চায়নি অর্ঘমা সবটা জেনে যাক। মুখে বললেও আরাফ নিজে জানে। নিফান অর্ঘমাকে পাগলের মতো ভালবাসে। কিন্তু এবার কি হবে?

রিপোর্ট টা পাওয়া মাত্র নিফানের অফিসে ছুটে এসেছিল অর্ঘমা। তাকে জানাতে সে বাবা হতে চলেছে। তাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছে। তাচ্ছিল্য হাসে অর্ঘমা। নিফান কে সারপ্রাইজ দিতে আসলেও সব চেয়ে বড় সারপ্রাইজটা তো সে পেয়েছে। এত বড় সারপ্রাইজ এ জীবনে সে পায়নি। তার ভালোবাসা। তার স্বামী তাকে ঠকিয়েছে। নাটক করেছে তার সাথে। সব ভালোবাসা মিথ্যে ছিল। নিফানের তাকে হঠাৎ বিয়ে তারপর ডিভোর্স পেপার দিয়ে উধাও হওয়া। আবার যখন ফেরত আসলো তখন তাকে রক্ষিতা করে ঘরে তুলল। তার বাইয়া কে ব্লেম করে নিফান তাকে ঠকালো? এভাবে?
অর্ঘমা নিফানের অফিস থেকে বেড়িয়ে বাসায় চলে যায়। গিয়ে নিফানের দেয়া ডিভোর্স পেপারে সাইন করে দেয়৷ হাত কাপলেও কিছু করার ছিলনা। কারন যেখানে ভালবাসা নেই। শুধু প্রতিশোধ প্রতিশোধ খেলা ছিল সেখানে অর্ঘমা থাকবেনা। ডিভোর্স পেপারের সাথে প্রেগ্ন্যাসির রিপোর্ট রেখে দেয় অর্ঘমা। নিফানের জানা উচিত সে বাবা হতে চলছিল। তার করা “রক্ষিতার” গর্ভে তার সন্তান তার অংশ একটু একটু করে বেড়ে উঠছে। এক কাপুড়ে বেড়িয়ে যায় বাড়ি থেকে অর্ঘমা। কথা যাবে কি করবে কিছু জানে না। শুধু এটুকি জানে। এ জীবনে সে আর নিফানের দারপ্রান্ত হবে৷ না।

“১৫ বছর পর”
__“ম্যাডাম ম্যাডাম।
ভার্সিটির ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিলো অর্ঘমা। তখন কারো ডাকে দাঁড়িয়ে যায় সে।
আশু দৌড়ে অর্ঘমার সামনে এসে দাঁড়ায়।
মৃদু হাসে অর্ঘমা। মেয়েটা ভারি চঞ্চল। আশুকে দেখলে মাঝে মাঝে তার ছোটো বেকার কথা মনে পরে যায়।
আশুকে প্রশ্ন করে অর্ঘমা,,
__“কিছু বলবে আশু?
আমতা আমতা করে উত্তর দেয় আশু,,
__‘ইয়েস ম্যাম। আসলে ম্যাম আপনি,, আপনি
__‘আমি কি? (ভ্রু কুচকে বলে অর্ঘমা)
চোখ বন্ধ করে বলে আশু,,
__‘ম্যাম আপনি আমার ভাইয়া কে বিয়ে করবেন? আমার ভাবি হবেন? আমার আপনাকে খুব ভালো৷ লাগে।
বিষম খায় অর্ঘমা। বলে কি মেয়ে।
ঠোঁট প্রসারিত করে হাসি অর্ঘমা। চোখের চশমা ঠিক করে বলে,,
__“তোমার ভাইয়ের বয়স কত আশু?
আমতা আমতা করে বলে আশু,
__‘জি ম্যাম ৩১
হাসে অর্ঘমা। প্রশ্ন করে,
__‘আর তোমার,
__১৯ ম্যাম
এক গাল হেসে বলে অর্ঘমা,
__‘আমার বয়স কত জানো?
আশু ঠোঁট কামড়ে মাথা এদিক ওদিক ঘুরায়।
মানে না।
আবার হাসে অর্ঘমা। হেসে বলে,
__‘আমার বয়স ৪২। তুমি আমার মেয়ের বয়সি। জানোতো তোমার মতো ১৪ বছর বয়সি আমার দু’টো বাচ্চা আছে। একবার আমার বাসায় এসো ওদের সাথে মিট করবে।
হেসে চলে যায় অর্ঘমা আশু হাবলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে। কি বলল? ম্যাম। তার বয়স ৪২? কি করে পসিবল ম্যাম কে দেখে বড় জোর ২৯-৩০ লাগে।
মাথা ঘুড়ে ওঠে আশুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here