রক্ষিতা পর্ব -১৭+১৮ ও শেষ

0
118

#রক্ষিতা
#আশুথিনী_হাওলাদার (ছদ্মনাম)
পর্ব-১৭
__“মাম্মাম আপু কিন্তু আমাকে বকছে”
দু’জনের ঝগড়া দেখে খিল খিল করে হেসে দেয় অর্ঘমা। অর্নীফ অহনিফা ঝগড়া বন্ধ করে তাদের মায়ের হাসি মুখের দিকে মুচকি হেসে তাঁকিয়ে খাওয়ায় মন দেয়। সব কিছুতে মাম্মামের এই হাসিটা মিস করছিল দু’জন। অর্ঘমা হেসে দু’জনকে দু’পাশ থেকে জড়িয়ে কাছে আনে। এক সাথে দু’জনকে খাইয়ে দেয়।
“দূর থেকে ফটাফট কয়েকটি ফটো তুলে নেয় নিফান। কত বছর পর সে অর্ঘমাকে দেখলো। তার হাসি হাসি মুখখানা দেখলো। মাক্সের আড়াল থেকে মৃদু হাসে নিফান। চোখের কোনের জল টুকু মুছে আড়চোখে তাদের দিকে তাঁকায়। তার সন্তান। দু’জনকে চোখ ভোরে দেখে সে। হাত বাড়ালেই ছুতে পারে। কিন্তু হাত বাড়ানোর অধিকার তার নেই। আজ নিজেকে তার পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্বামী নিকৃষ্ট বাবা মনে হচ্ছে। কি করে পারলো সে এভাবে এত ভাবে অর্ঘমাকে অত্যাচার করতে। কি করে? অর্ঘমার তো কোনো দোষ ছিল না। সে তো জানতো, দোষ যা ছিল সেটা অভ্রর। তাহলে কেন সে এটা করলো? রাগের বশে যে ভুল, যে অন্যায় সে করেছে তার জন্য ১৫ টি বছর ধরে অনুতাপের দহনে পুড়ছে সে। এর চেয়ে বড় শাস্তি হয়তো আর নেই। তিনজন কে খুব হ্যাপি লাগছে। আচ্ছা সে থাকলে পরিবারটা পরিপূর্ণ হতো না? একটা হ্যাপি ফেমিলি হতো তাদের। বাচ্চা দু’টোর কে দেখছে কি চটপটে। মেয়েটা একদম মায়ের মতো। সাহসি চটপটে। ভাবে নিফান, আচ্ছা অর্ঘমা ওই ছোট্টো পেটে দু’জন কে ক্যারি করছিল কীভাবে? খুব কষ্ট হইছিল হয়ত। এই সময় তো মেয়েদের সবচেয়ে স্বামী কে দরকার হয়। বুকের চিনচিন করে ওঠে নিফানের। মাথায় খুব যন্ত্রণা দিচ্ছে সব, সব কিছু। চোখদুটো বন্ধ করে টেবিলের সাথে হাত ঠেসে মাথায় হাত দিয়ে ভর দেয় সে। নিজের করা অন্যায় গুলোর জন্য প্রতিনিয়ত অশান্তিতে থাকে সে।
“অর্ঘমার বুকে হঠাৎ চিনচিন করে উঠলো। সেই চেনা গন্ধ ১৫ বছর পর নাকে এসে লাগলো। এটা তো নিফানের পারফিউম আর শরীরের স্মলের মিক্স স্মেল। শুকনো ঢোক গিলে সে। চোখ ঘুড়িয়ে আশেপাশে তাঁকায় সে। বুকের ভিতর কেমন করে উঠে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। আজ ১৫ বছর পর মনে হলো নিফান তার আশেপাশে কোথাও আছে। কাঁপাকাঁপা হাতে টেবিল থেকে পানির গ্লাস নেয়। পরে যেতে নিলে অর্নীফ ধরে ফেলে। মা’কে আগলে ধরে। অহনিফা হতবম্ব হয়ে তাঁকায়। অহনিফা ব্যাগ খুজে ইনহেলার বের করে মায়ের হাতে দেয়।

‘‘খাটের সাথে হেলান দিয়ে শুয়ে অর্ঘমা। পাশে সোফায় রোহান বসে আছে। তাকে পেয়ে অভিযোগের ঝুড়ি খুলে বসে অহনিফা। অর্ঘমা মেয়ের দিকে তা্ঁকিয়ে মিটমিট করে হাসে।
__‘মামু। মাম্মাম নিজের কোনো যত্ন নেয় না। দেখো কি অবস্থা হয়েছে। মাম্মাম তো জানে যে, কোনো কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করলে তার বুকে ব্যাথা হয়। শ্বাস হয় তারপরও কেন মাম্মাম চিন্তা করে? তুমি এক্ষুনি জিজ্ঞেস করো তাকে?

কথা গুলো একটানে শেষ করে মুখ ফুলিয়ে থাকে অহনিফা। রোহান অহনিফাকে সমর্থন করে বলে,,
__“তাই তো অর্ঘ তুই আর মানুষ হলি না। সেই ছোটবেলার মতো এখনো তোকে সব ধরে বেঁধে সব করাতে হবে।
অহনিফা মন খারাপ করে বলে,,
__‘আজ যদি আমাদের বাবা থাকত। মাম্মামকে এত কষ্ট করতে হতো না তাই না মামু। আমাদের বাবা নেই বলেই তো মাম্মাম সব দিক সামাল দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পরেছে।
রোহানের কথার উত্তরে চোখ ছোটো ছোটো করে কিছু বলতে নেয় অর্ঘমা। তার আগে অহনিফার বলা কথায় সে থমকায়। থমকায় রোহানও। অহনিফা কথা শেষ করে রুমের বাইরে চলে যায়। চোখ ভিজে ওঠে অর্ঘমার। সে কি একসাথে “ওদের” বাবা মায়ের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। অহনিফার কি এটা মনে হচ্ছে যে, তাদের বাবা থাকলে তারা খুব ‘খুশি’ থাকতো।
রোহান অর্ঘমার হাত ধরে তাকে আশ্বাস দিয়ে বলে,
__‘নিফা শুধু তোর কষ্ট থেকে এটা বলেছে। তাছাড়া এটা তো জানা ছিল। নিফা, অর্ন একদিন বড় হবে। তাদের বাবার সম্পর্কে জানতে চাইবে। তাই এতো তাড়াতাড়ি ভেংগে পরলে চলবে?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালার বাইরে তাঁকায় অর্ঘমা।

গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে সিগেরেট টানছে নিফান। তার একটু দূরে। অর্নীফ একটা ছেলেকে মারছে। সে অবশ্য এখানে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে কেউ এ পাশ দিয়ে যাচ্ছে কিনা। ছেলে না জানুক নিফান নিজে তো জানে যে, সে অর্নীফের বাবা। তাই বাবা হিসেবে তো কিছু দায়িত্ব, কর্তব্য আছে। সেই কর্তব্যের খাতিলেই দূর থেকে পাহারা দিচ্ছে। অর্ঘমা জানলে অবশ্য তাকে ঝাঁটা দিয়ে পেটাবে। তবে সে মজা নিচ্ছে। তার ছেলে তার মতোই কিছুটা। সবার সামনে আলাভোলা টাইপ ভিতরে মিচকে শয়তান। মৃদু হেসে শেষ সিগারেটর ছোট্ট অংশটা রাস্তায় ফেলে পা দিয়ে পিশে নেয়।
“অর্নিফ ছেলেটাকে মেরে। তার গলায় পারা দিয়ে বলে,,,
__‘তুই আমার বোন কে টিচ করিস? হুম। আর একবার এই সাহস দেখাস জানে মেরে দেব।
ছেলেটা কুকিয়ে ওঠে। রাগে অর্নীফ আরও কয়েক ঘা লাগিয়ে দেয়। গলা টিপে ধরে বলে,,
__‘আজকে এখানে যা ঘটেছে কারো কানে যেন না যায়। যদি যায়। তোকে জানে মেরে দেব। কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নে।
“আশে পাশে তাঁকিয়ে বাসার দিকে চলে যায় অর্নীফ। তারাতাড়ি বাড়িতে যেতে হবে। না হলে মা, আপু চিন্তা করবে। ছেলেটাকে মারতে গিয়ে নিজের শরীরেও কিছু আঘাত লেগেছে অর্নিফের। তাই আঘাত গুলোতে আরও কিছু আঘাত করে। এমন ভাব নেয় যাতে বুঝায় সে কোথাও পরে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে।
অর্নিফের পিছু পিছু নিফানও বাড়ি অব্দি আসে। অর্নীফকে বাড়ির ভিতরে যেতে দেখে বাঁকা হেসে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যায়। অর্ঘমা তার সন্তানদেরর তার কাছ থেকে দূরে রাখলেও স্বভাবে ঠিক তার মতই হয়েছে। আজ মনে হলো অর্নীফের মধ্যে সে নিজেকে দেখতে পাচ্ছে। সেই রাগ, সেই জেদ। সেই বোনের প্রতি ভালোবাসা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিফান। তবে সেটা তার মতো অতিরিক্ত যেন না হয়। সে যে ভুল করেছে তা যেন কখনো তার সন্তান না করে এটাই চাওয়া। অবশ্য অর্ঘমার উপর বিশ্বাস আছে তার সে কখনো এমন হতেও দেবে না
#রক্ষিতা
#আশুথিনী_হাওলাদার (ছদ্মনাম)
পর্ব-১৮ (শেষ পর্ব)
“হাতে পায়ে ব্যাথা নিয়ে অর্নিফকে বাড়ি ফিরতে দেখে হতবাক হয় অর্ঘমা। ভাল ছেলে বের হলো। ফিরলো হাতে পায়ে দাগ নিয়ে। ছেলেকে এভাবে দেখে নিজের অসুস্থতা ভুলে যায় অর্ঘমা। অহনিফা পারলে তো বাড়ি মাথায় করে। ইচ্ছে মতো বকেও দেয় অর্নীফ কে। রাতে পাকনামি করে বাইরে যেতে কে বলছিল। না গেলে তো এতসব হতো না। কতটা কেঁটে গেছে হাতে পায়ে। ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দেয় অহনিফা। অর্নীফ হতবাক হয়ে বোনের দিকে তাঁকায়। কাটলো কার? ব্যাথা পেল কে? আর কাঁদে কে? অর্নীফ হোহো করে হেসে ওঠে অহনিফার কাঁদা দেখে।
অহনিফা কাঁদা বাদ দিয়ে অর্নীফকে মারতে নেয়। তবে অর্নীফের শরীরে ব্যাথা দেখে না পেরে ফ্যাসফ্যাস করে কাঁদতে থাকে। মেয়ে দিকে একবার তাঁকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অর্ঘমা। দুই ভাইবোন দু’জন দু’জনকে খুব ভালবাসে। শ্যাবলন তুলে ভিজিয়ে হাতে-পায়ে লাগিয়ে দিয়ে রেষ্ট নিতে বলে। খাবার রেডি করতে কিচেনে চলে যায় অর্ঘমা। কিচেনে গিয়ে চোখের কোনের পানি টুকু মুছে। মলিন হাসে। বড্ড মাম্মা-পাপা ভাইয়ার কথা মনে পরছে তার। যদি নবীনতা তাদের জীবনে না আসত তাহলে হয়ত তাদের পরিবারটা এভাবে শেষ হয়ে যেতো না। কিচেন থেকে এক পলক সন্তানদের দেখে সে। অহনিফা আলতো হাতে ধরে অর্নীফ কে বেডরুমে নিয়ে যাচ্ছে। বুকের ভিতর কেমন মুচড়ে উঠে তার। ভাইয়ার কথা বড্ড মনে পরছে। সেও তো এভাবে সারাক্ষন ভাইয়ার সাথে লেগে থাকত আর যখন ভাইয়া একটু কোথাও ব্যাথা পেতো নিজে কেঁদে বাড়ি মাথায় তুলতো। আজ হঠাৎ কান্নারা দলা পাকিয়ে আসতে চাচ্ছে। কোনো মতে ঢোক গিলে কান্না আঁটকে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে খাবার গরম করে নেয়।
ছেলে মেয়েকে খাইয়ে নিজের ঘরে চলে যায় অর্ঘমা। জানালার পাশে বসে, অতীত ভেবে চলেছে। বাইরে বৃষ্টি পরছে। গাড়ির সীটের হেলান দিয়ে জানালার পাশে বসা অর্ঘমাকে দেখতে থাকে নিফান। দু’জনের মধ্যে কতটা দূরত্ব । কিন্তু এই দূরত্বটা তার নিজের তৈরি।

সকাল থেকেই শুরু হয় অর্ঘমার ব্যাস্ততা। অহনিফা অর্নীফকে ঘুম থেকে তোলা এক প্রকার যুদ্ধতার কাছে। অহনিফার রুমে গিয়ে তাকে তুলে কিচেনে যায় সে। কিচেন থেকে আবার হাক ছেড়ে ডাকে। দু’জনের কোনো খবর নেই। খুন্তি নিয়ে ঘিরে যায় এবার দুটো কে খুন্তি পিটা করে তুলবে। কিছুটা চেচিয়ে বলে,,
__“অর্ন, নিফা উঠবি নাকি তোদের খারচুনের বাড়ি দেব।? প্রতিদিন এক জ্বালা। জমিদারের ছেলে -মেয়ে বাবা যেমন ছিল এ দুটোও সেই বাপের মতোই হইছে।
কথা শেষ করে থমকায় অর্ঘমা। খুনন্তিটা হাত থেকে পরে যায়। চোখ জ্বালা করছে। বুকের ভিতর কেমিন কষট হচ্ছে। তবে সেটাকে পাত্তা না দিয়ে হাক ছেড়ে অর্ন,নিফাকে ডেকে কিচেনে চলে যায়। তার কাজ আছে অনেক এসব ভাবার সময় কই। ছেলে মেয়েকে খাইয়ে তাদের স্কুলে দিয়ে নিজেকে ভার্সিটিতে যেতে হবে। কত কাজ সেখানে অন্য কারো কথা ভাবার সময় কই। দীর্ঘশ্বাস আসে তার সেটা না ফেলে ফিরিয়ে ন্যায়। শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে কি হবে? কার জন্য ফেলবে? যে তাকে কখনো ভালোইবাসেনি। শুধু প্রতিশোধের গুটি ছিল মাত্র সে। বুকের ভিতর খা খা করে উটগে তার। কাঁদবে না কাঁদবেনা ভেবেও ডুকরে কেঁদে দেয়। নিফানের প্রতারনা তাকে ভাল থাকতে দিচ্ছে না। গত ১৫ বছরে একদিনও সে ভাল থাকতে পারেনি। যখন ভেবেছে, তখনই মনে পরেছে নিফান তাকে ভালোবাসেনি। একটুও কি ভালোবাসা যেত না তাকে? হাসে অর্ঘমা। ভালবাসলে কখনো নিজের বউ কে রক্ষিতা করে রাখতে পারতো না। সারাক্ষন কানের কাছে এসে এটা বলত না। ‘বউ হওয়ার চেষ্টা করোনা “রক্ষিতা”রা কখনো ঘরের বউ হয় না” দু’হাতে কান চেপে ধরে অর্ঘমা। এত গুলো বছর পরও বারবার কথা গুলো মনে হচ্ছে কানের পাশে বাজছে। কিচেনের ফ্লোরে বসে পরে সে। সব পারলেও এই কথা গুলো থেকে সে আজও বাঁচতে পারেনি। সারাক্ষন কানের পাশে টেপ রেকর্ডারের মতো বেজে চলে। খানিখ বাদে চোখ নুচে উঠে দাঁড়ায়। রান্না শেষে খাবার টেবিলে রেখে ফ্রেস হতে যায়। একেবারে তৈতৈরি হয়ে আসে। এসে দেখে অর্নীফ অহনিফা তৈরি হয়ে ডাইনিং এ খেতে বসেছে। মৃদু হেসে সেও তাদের সাথে যোগ দেয়। একবার বাচ্চাদের দিকে তাকায় অর্ঘমা। ভাবে, অর্নীফ অহনিফা আজকাল আর জানতে চায় না বাবা কে? কোথায় থাকে? হয়তো মেনে নয়েছে তাদের মা কখনো বাবা সম্পর্কে তাদের কখনো জানাবে না। তবে ছোট বেলায় খুব জ্বালাতো বাবা কোথায় আসে না কেন? কলিং বেলের শব্দে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসে অর্ঘমা। কিছুটা অবাক হয়। এ সময় তো কেউ আসে না।
অহনিফা, অর্নীফকে খেতে বলে সে দরজা খুলতে যায়।

সামনের মানুষটাকে দেখে কাঁপতে থাকে অর্ঘমা। চোখ বড় বড় করে দেখে মানুষটাকে ১৫ বছর পর নিফান কে নিজের সামনে দেখছে অর্ঘমা। মাথা ঘুরে উঠে তার পরে যেতে নেয়। নিফান তাকে ধরতে নিলে পিছিয়ে যায় সে। দূর্বল শরীর টেনে নিয়ে কোনোরকমে কাউচে গিয়ে বসে। অর্নীফ, অহনিফা দু’জনের দিকে হতবাক হয়ে তাঁকিয়ে আছে। অর্ঘমাকে এভাবে অসুস্থ হতে দেখে নিফা পানি এনে তাকে দেয়। অর্নীফ দরজার সামনে দাঁড়ানো মানুষটাকে একবার দেখে বোনের দিকে তাঁকায়। মনে হচ্ছে তাদের চেহারা কেটে লোকটার মুখে লাগিয়ে দিয়েছে। হুবহু এক। টেবিল থেকে পানির গ্লাস তুলে পানি খেয়ে নেয় অর্নীফ সে কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পেরেছে লোকটা কে হয় তাদের।
“নিফান অর্ঘমা সোজাসুজি কাউচে বসে। অর্ঘমা মাথায় হাত দিয়ে আড়চোখে তাঁকায় তার দিকে। ঠোঁটের কোনে সেই বাকা হাসি দেখে কেঁপে উঠে অর্ঘমা। চোখ বন্ধ করে কাউচে গা এলিয়ে দেয়। খানিকবাদে নিফান বলে উঠে
__‘অর্ন, নিফা তোমরা তোমাদের ঘরে যাও। তোমাদের মাম্মামের সাথে আমার কথা আছে।
অর্নীফ, অহনিফা মায়ের দিকে তাঁকায়। মা অনুমতি দিলে তারা যাবে। অর্ঘমা চোখ বন্ধ অবস্থা বলে,,
__‘ আমি না বলা পর্যন্ত তোমরা রুম থেকে বের হবে না। ‘
অর্নীফ, অহনিফা চলে যাওয়া মাত্র নিফান উঠে অর্ঘমার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তার পাশে বসে তার হাত ধরতে নেয়। অর্ঘমা নিজের হাত সরিয়ে নেয়। ব্যাথিত হয় নিফান। তবে এটা হওয়ার ছিল৷ মলিন হেসে অর্ঘমার দিকে তাঁকায়। দেখতে থাকে নিজ স্ত্রীকে ১৫ বছর পর। তবে অর্ঘমা এখন অব্দি তাকে দেখেনি। নিফান বলে,
__“কথা বলবে না? অভিমান করে আছো? আজও? ১৫ বছরেও তোমার অভিমান একটুও ভাংগেনি?
নিফানের দিকে ফিরে তাঁকায় অর্ঘমা। পুর্ন দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে বলে,
__‘আপনার সাথে আমার অভিমানের সম্পর্ক না মি.আহমেদ।
নিচু তবে শক্ত কন্ঠে উত্তর দেয় নিফান,,
__‘তুমি আমার স্ত্রী অর্ঘ’
শব্দ করে হেসে দেয় অর্ঘমা। ব্যঙ্গ করে বলে,
__“স্ত্রী ”
হাসে অর্ঘমা। নিফান ব্যাথিত হয়। মলিন হয়ে যায় মুখ।
দমে যায় না নিফান। মলিন তবে শক্ত কন্ঠে বলে,,
__“তুমি আমার সন্তানদের আমার থেকে দূরে রেখেছো অর্ঘ। ওদের উপর আমার পুরু হক আছে।
“হাসে অর্ঘমা। হেসে উত্তর দেয়।
__“আপনার কেন মনে হলো ওরা আপনার সন্তান? এনি প্রুভ? “রক্ষিতা, বাজারি মেয়েদের এক পুরুষে হয়? এমনও তো হতে পারে ওরা অন্য কারো সন্তান।
“নিফান হতবাক হয়ে তাঁকিয়ে থাকে। অর্ঘমার ঠোঁটের কোনে ক্রুর হাসি। “রক্ষিতা” এই একটা শব্দে এতগুলো মানুষের জীবন পালটে গেল। নিফানের চোখে জল চলে আসে তবে অর্ঘমা ভাবশালিন। অর্ঘমার মন কি পাথর হয়ে গেল? জ্বীভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নেয় নিফান শুকনো ঢোক গিলে বলে,,
__‘সব সত্য অর্ঘ তবে সব সত্যের মধ্যে এটাও সত্য আমি তোমাকে ভালবাসি। ১৫ বছর শুধু তোমাকে, তোমাদের খুজে চলেছি।
থমকায় অর্ঘমা। মৃদু হেসে নিফানের চোখের সাথে চোখ মিলিয়ে বলে,
__‘ভালোবাসলে কখনো ‘রক্ষিতা’ করে রাখতেন না। আমার শরীরে রক্ষিতা ট্যাগ লাগাতেন না। আমাকে নানা ভাবে অত্যাচার করতে পার‍তেন না। জানোয়ারের মতো শরীর টাকে খুবলে নিতে পারতেন না। তাছাড়া আমাদের এতদিনে ডিভোর্স হয়ে গেছে। আমি সেদিন ডিভোর্স পেপারে সাইন করে এসেছি।
__‘আমি ডিভোর্স পেপার ছিড়ে ফেলেছি। (নিফানের উত্তর)
নিফান আকুল কন্ঠে বলে,,
__ নতুন করে সব শুরু করা যায় না?
নিফানের থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয় অর্ঘমা। উত্তেজিত কন্ঠে উত্তর দেয়,
__‘আমি ভুলতে পারছিনা নিফান। ১৫ বছর ধরে এখনো আমার কানের কাছে বাজে “ঘরের বউ হওয়ার চেষ্টা করবে না। রক্ষিতারা কখনো বউ হয়না” আমি পারছিনা। পারছিনা এই শব্দ গুলো ভুলতে। সন্তানরা যদি চায় তাহলে তারা তাদের বাবার সাথে যেতে পারে বা আমার সাথে থেকে যোগাযোগ রাখতে পারে। “কি বলতে বা বুঝাতে চেয়েছি বুঝছেন নিশ্চয়ই।”
স্তব্ধ হয় নিফান। কথা শেষে উঠে দাঁড়ায় অর্ঘমা। নিফান কে স্তব্ধ রেখে অর্নীফ, অহনিফার ঘরে চলে যায় অর্ঘমা। আজ যখন নিফান নিজ থেকে এসেছে তাই তার অধিকার থেকে বঞ্চিত তাকে সে করবে না। সন্তানদের জানিয়ে দেবে ড্রইংরুমে যে ভদ্র লোক বসে আছেন তিনি তাদের “বাবা”

অসমাপ্ত
( সমাপ্ত কিনা জানিনা। অনেকে হয়তো রাগ করতে পারেন মিল দিলাম না কেন। কিন্তু পারলাম না মিল বা বিচ্ছেদ কোনোটাই করতে তাই এভাবে শেষ করলাম। এবার হয়ত নিফান অর্ঘমাকে মানোর চেষ্টা করবে কোনো এক সময় হয়তো অর্ঘমা মেনেও যাবে। একটা সুখি পরিবারও হবে। একটা নারীর কাছে তার আত্মমসম্মান আগে নিফান তাকে তার আত্মসম্মানেই বারবার আঘাত করছে। যা একজন নারী মেনে নিতে পারেনা কখনোই আমার মতে। রক্ষিতা রিলিটেড একটা গল্প পড়েছিলাম। এক আপু লিখতো। গত পরসু দিনে তার গল্প শেষ হয়। তবে সেখানে শেষটা অন্যরকম আর শেষ যে ভিন্ন হবে কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম তাই । ভাবলাম আমি নিজেই ‘রক্ষিতা’ প্লট নিয়ে গল্প লিখি। ফার্স্ট পার্ট লেখার আগেই। যখন ওই আপুর গল্পটা আমি পড়ত তখন’ই কল্পনায় মিলিয়ে নেই। ১৫ বছরের গ্যাপ দেব। আর শেষটা এমন হবে তাই যেমন ভাবছিলাম তেমন ভাবেই শেষ করলাম। হয়ত আপনাদের মন মতো হয়নি তবে ভেবে দেখুন তো একটা মেয়েকে কখনো রক্ষিতা এই ট্যাগ টা যে দেয়। তাকে কখনো ক্ষমা করতে পারে কিনা। অন্য সব বাদ দিলাম তাকে ঠকানো তার ফেমিলি মারা যাওয়া সব। কিন্তু এই একটা জিনিস কখনো কোনো মেয়ে মেনে নিতে পারে না আমার মতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here