লালগোলাপ💔 Part-24

লালগোলাপ💔 Part-24
Writer-Moon Hossain

মায়ের মুখ-খানি দেখে মনে করার চেষ্টা করছে রাফা।
মায়ের কোন সৃতি মনে পড়ছেনা তার।
কোন ফটোও ছিলো না বাড়িতে।
-কেমন লাগছে তোমার?
-বলতে পাচ্ছিনা।
-আমাকে মনে আছে?
-না।
-আমাকে তোমার মনে থাকার কথা নয়। আমি বোকার মতো প্রশ্ন করেছি।
-আপনিই আমার মা?
-হ্যাঁ মা, আমিই তোমার মা।
আমাকে চেনো না তুমি। না চেনার কথা। তোমার জন্মের পর পর-ই আমি ছিলাম না।
-আমাকে একটু কোলে নেবেন?
-এসো মা।
রাফা তার মায়ের কোলে মাথা রেখেছে। মা তার মেয়েকে পরম স্নেহে চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে।
শীতলের শাশুড়ীর বয়স বোঝা যাচ্ছেনা। মাথার চুল গুলো ঘন কালো।
বয়সের ছাপ পড়েনি চোখে মুখে। কন্ঠস্বর ভাঙেনি। এখনো মিষ্টি শোনায়। গাঁয়ের চামরায় ভাজ পড়েনি। রাজের মতো এতো বড় ছেলে আছে সেটা কেউ বিশ্বাস করবে না।
এখন যেমন সুন্দরী মনে হচ্ছে, না জানি তরুণী থাকাকালীন কতটা সুন্দরী ছিলেন তিনি।
হাসি হাসিমুখ ঠিক রাফার মতো। রাফা ওর মায়ের রুপ পেয়েছে খানিকটা। তবে রাফিয়া পায়নি। সে কালো। কিন্তু যে কোন সুন্দরীকেও হার মানাবে রাফিয়ার সৌন্দর্যে।
ক্যাবিনের জানালা দিয়ে পশ্চিম আকাশের সূর্যে কিরণ রাফার মুখে এসে পড়েছে।
-মা গো আমাকে মাফ করে দিও পারলে। আমি তোমাদের চোখে দোষী। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছেও দোষী।
রাফা কোন কথা বলছেনা।
মা বলল- জানো মা, আমি তোমাদের স্কুলে মাঝে মাঝে যেতাম। তোমাদের লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম।
তোমাকে, তোমার ভাইয়া, তোমার আপা সবাই কে দেখতাম লুকিয়ে থেকে।
কত যে কাছে যেতে ইচ্ছে হয়েছে। চুমু খেতে মন চেয়েছে। আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে মন চেয়েছে।
রাফা শুধু তার মা কে দেখছে। এতো অপরুপ কেন তার মা?
এতো মায়া ভরা কথা কিভাবে বলছেন তিনি?
-আপনি অনেক ভালো।
-সব মায়েরাই ভালো হয় মা।
-আপনাকে একবার মা বলে ডাকব?
-আমি তো তোমার মা।একটা মেয়ের জীবন সার্থক হয় মা ডাক শোনার মধ্যে।
-মা! মা! মা!
রাফা ক্যাবিনেই নামাজ পড়ে এখন। ভাই আর ভাবীর ফুটফুটে একটা শিশু দেখার আফসোস করলো রাফা।
শীতলের শশুর ক্যাবিনে ঢোকার সময় শীতলের শাশুড়ীকে দেখতে পেলো।
আপাদমস্তক ঢাকা ছিলো তবুও চিনতে অসুবিধা হলো না।
তিনি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলল-কেমন আছো?
-আলহামদুলিল্লাহ। তুমি?
-আলহামদুলিল্লাহ।
ব্যাস এইটুকুই কথা হলো তাদের মধ্যে দীর্ঘ বছর।
রাফা শুক্রবারে মারা যাওয়ার আগে জলপাইয়ের তেল দিয়ে গরম ফেনা তোলা ভাত খেতে চেয়েছিলো তার মায়ের হাতে। খাওয়ার এক ঘন্টা পরেই সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলে।
-বাবা আপনি শক্ত হোন।
বাবা পাঞ্জাবির হাতা দিয়ে চোখের পানি মুছে লুকানোর চেষ্টা করছে।
-বাবা অনেক কেঁদেছেন।
ধৈর্য ধরতে হবে আপনাকে।
আল্লাহ তায়ালা কি বলেছেন জানেন?
আবূ মূসা (রাঃ) আনহু হতে বর্ণিত-:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায়
আল্লাহ ফিরেশ্তাদের কে বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার সন্তানের প্রাণ নিয়েছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যা।’
অতঃপর আল্লাহ বলেন, তোমরা তার অন্তরের ফল কেড়ে নিয়েছ? ‘ তাঁরা বলেন, ‘হ্যা।’

তারপর তিনি বলেন, ‘আমার বান্দা কী বলেছে? ‘ তাঁরা উওরে বলেন, ‘সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং “ইন্না লিল্লা-হি অইন্না ইলাইহি রা-জীঊন” পড়েছে।’
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘ তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি গূহ নির্মাণ কর এবং তার নাম রাখ প্রসংশা-গূহ।’
রিয়াদুস স্বালেহীন ৯২৭। (তিরমিযী, হাসান) তিরমিযী ১০২১, আহমাদ ১৯২২৩)
শীতলের শশুর বলল- ইন্না-লিল্লা-হি অইন্না ইলাইহি রা-জীঊন !!
রাফা মারা গেলো এক শুক্রবারে। পরের শুক্রবার
জুম্মার দিনেই শীতলের শশুরও শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো। মেয়ের মতো তিনিও জলপাইয়ের তেল দিয়ে ভাত খেতে চেয়েছিলেন স্ত্রীর হাতে।শীতলের শাশুড়ীর বাড়িতে শীতল তার শশুরকে নিয়ে গিয়েছিলো।সেখানেই চুপচাপ দুই প্লেট ভাত খেয়েছিলেন জলপাইয়ের তেল দিয়ে।
সেখান থেকে আসার পর নিজের কামরায় ইজিচেয়ারে বসলেন বিকেল থেকেই।
ইজিচেয়ারে বসে ঘুমুচ্ছিলো বরাবরের মতোই।
রাফিয়া মনে করেছিলো বাবা ঘুমুচ্ছে। ভোরে ফজরের নামাজের জন্য ডাকার সময় বুঝতে পারলো তিনি নেই। তার বাবা আর নিশ্বাস নিচ্ছে না।
মাঝরাতে শীতলের ঘুম ভেঙে গেলো। রাফিয়ার ডুকরে ডুকরে কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
শীতল হাত দিয়ে অনুভব করলো তার ভেতরের অস্তিত্বকে। রাজ ঠিক বলেছিলো, বাবুটা খুব দুষ্টু আর শক্তিশালি হবে। ঠিক তার বাবার মতো।
পেটে থেকেই যা করছে, না জানি দুনিয়াতে এসে কি করে। কি কান্ড ঘটাবে সে।
বেশকিছু দিন ধরেই চাঁচি মা এবং শাকিলা বিদেশ থেকে ফিরেছে।
শাকিলা রাফা আর তার চাচার মৃত্যুতে খুব বেশি-ই শোক প্রকাশ করলো।
চাঁচিও তার ব্যাতিক্রম হলো না।
সকালে শীতল নাশতা দিচ্ছে টেবিলে। আজকাল একটুতেই সে হাঁপিয়ে পরে।
-ইশশ,এটা কি জুস হলো?
কমলা কি কম পড়েছিলো?
-কেন?
-এটা কে জুস বলা যায়?
-ভোরে জুস আপনার ভালো লেগেছিলো। কিছুটা জুস বাড়তি ছিলো। সেটাই এখন খেলেন।
শাকিলা চুপ হয়ে গেলো।
-কাকে কি বলছিস?
ও কি কখনো জুস বানিয়েছে নাকি? সারাজীবন তো কমলা আস্তো সিচুয়েশনেই খেয়েছে।
-জ্বি। আস্তো কমলায় খেয়েছি। গ্রামের মেয়ে আমরা। আমাদের শহরের মতো ফ্যাসিলিটি নেই গ্রামে।
চাঁচি সবজি স্যুপ মুখে দিয়ে বলল-তুমি তো রাজরানি হয়ে আছো।
একাই সবকিছু ভোগ দখলে রেখেছো।
-জ্বি! মানে।
-মানে সোজা। হাসব্যান্ড কোমায় মেডিক্যালে আছে, শশুর নেই, শাশুড়ী থেকেও নেই, ছোট ননদটাও নেই, বড় ননদ থাকা না থাকা একই কথা। তুমি দিব্যি আছো রাণীর হালে। রাজত্ব করছো পুরো সমপত্তি দখলে নিয়ে।
-কি? তাকিয়ে আছো কেন?
ভুল কিছু বলেছি?
ফোনের রিংটোন বাজছে।
শীতলের মা কল করেছে৷
বেশ কিছুক্ষণ মায়ের সাথে কথা বলে মনটা হালকা হয়ে গেলো।
দুপুরের কড়া রোদ রাজের মুখে পড়েছে। রাজ আধঘুমন্ত সিচুয়েশনে সাইকোলজিস্টের কাছে রয়েছে। মানসিক চূড়ান্ত চিকিৎসা হচ্ছে তার।
-নাম বলুন?
-মোঃ আব্দুস সাত্তার।
-বাহ! ইসলামিক অর্থ গোপনকারী।
-ইয়েস।
-কে রেখেছিলো?
-মা।
-সবাই কি বলে ডাকে?
-রাজ।
-রাজ অর্থ লুকায়িত রাখা।
আপনিও তো নিজের কষ্ট গুলো লুকিয়ে রেখেছেন।
-ইয়েস।
-ডাক নাম কে রেখেছিলো?
-বাবা।
-মায়ের নাম রাখা নামে কেন সবাই ডাকেনা?
-আমি ডাকতে নিষেধ করেছি।
-হোয়াই?
মায়ের উপর কোন রাগ পুষে রেখেছেন?
-মেবি
-সেটা কাউকে বলতে পারেন নি?
-নো।
-আপনার মা কেন চলে গিয়েছিলেন আপনাদের ছেড়ে?
-আই ডোন্ট নো।
-ইউ নো দ্যাট।
-নো।
-আপনার মা-কে খুব ভালোবাসতেন আপনি?
-ইয়েস।
-সস সময় মায়ের কাছে থাকতে চাইতেন তাইনা?
-ইয়েস।
-মা ইগনোর করতো আপনাকে?
-মেবি।
-মা তার বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে মেতে থাকতেন?
-ইয়েস।
-কখনো বাসায় তাদের ইনভাইট করে নিয়ে আসতেন?
-ইয়েস।
-ছেলে বন্ধুরাও আসতো ইনভাইট পেয়ে।
-মেবি।
-একজন বিশেষ বন্ধুও ছিলো নিশ্চই?
-মেবি।
-তিনি ইনভাইট ছাড়াও আসতো। যখন আপনার বাবা বাসায় না থাকতেন বিশেষ করে।
-ইয়েস। চকলেট দিয়ে খেলতে পাঠাতো দাড়োয়ানের সাথে।
-তিনি আসার সংবাদটা যেন না দেওয়া হয় বাবা কে সেজন্য প্রচুর চকলেট দিতেন তাইনা?
-হতে পারে।
-তিনি থাকাকালীন দারোয়ান আপনাকে বাসার ভেতরে ঢুকতে দিতেন না। এমনকি মায়ের কাছেও যেতে দিতেন না?
-মেবি।
-আপনার ছোট মন ছটফট করতে থাকতো উনাদের গল্পগুজব শুনতে?
-হতেপারে।
-সেই সাথে কিছু প্রশ্নও ছিলো?
-ইয়েস।
-যেগুলোর আনসার খুঁজতেন আপনি?
-ইয়েস।
-চকলেট খাওয়ার পরেও আপনি বলে দিতেন বাবাকে। যেদিন বলে দিতেন সেদিন খুব ঝগড়া হতো বাবা-মায়ের?
-ইয়েস।
-আপনার মনে দুটো কথায় ঘুরছিলো। এক হলো মায়ের বন্ধু আর মা কি কথা বলে যেখানে বাসার ভেতরে যাওয়া যায়না। দুই হলো বাবা কেন এই বিষয় পছন্দ করতেন না এবং মায়ের সাথে ঝগড়া করতো। ঝগড়াঝাটির কথা গুলো আপনি মুখস্থ করে রাখতেন। এবং সব সময় এগুলো বুঝতে চাইতেন বাট কিছুতেই বুঝতে পারতেন না৷
-ইয়েস।
-কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন সেদিন, যেদিন মা কে বাড়ি থেকে ঐ বন্ধু লোকটি নিয়ে যান।
এবং আর কখনো আসবেন না বলে আপনাকে আরও কিছু চকলেট দেওয়া হয়েছিলো।
-হু।
– আপনার ভেতর আপনার প্রশ্নগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। চারপাশে কি হচ্ছে তা কিছুই বুঝতে পাচ্ছিলেন না৷
একদম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন প্রিয় মা চলে যাওয়ায়। আপনার উওর গুলো আপনার মা তার চলে যাওয়া দিয়ে বুঝিয়ে ছিলেন। বাট আপনি বুঝতে পাচ্ছিলেন না বয়সের কারণে।
বয়স হতে থাকে, আপনি উত্তর পেয়ে বুঝতে থাকেন, এবং মায়ের প্রতি প্রচন্ড আক্রোশ জমতে থাকে।
প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই আপনাকে জিজ্ঞেস করে লজ্জা দিতো যদিও তারা সবকিছু জানে।
তখন আপনি সহ্য করতে পারতেন না, সবাইকে আঘাত করতে থাকতেন।
একদম স্তব্ধ হয়ে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি শেষ করলেন সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে। ততদিনে আপনার উপর মেন্টাল ওয়ার্ডটা বসে গিয়েছিলো। ছোট থেকেই বেশ অনেকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন আপনি। কয়েকবার চেষ্টাও করেছিলেন।সেই সাথে সবাইকে মাডার করারও প্রবণতা দেখা দিয়েছিলো আপনার মধ্যে। আপনাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো এজন্যই৷ আপনার বাবা বিত্তবান লোক। আপনাকে সব রকম চিকিৎসা করা হয়। বিদেশেও বছর-খানেক ছিলেন। পাবনা মেন্টাল হসপিটালেও ছিলেন। ডক্টর সার্টিফিকেট দিয়ে আপনাকে চূড়ান্ত মেন্টাল হিসেবে সাব্যস্ত করেন৷
প্রিয় মা এবং মায়ের বন্ধুর উপর তীব্র ক্ষোভে আপনি দিশেহারা হয়ে গেলেন। ছোট-খাট ব্রেন স্টোকও হয়েছিলো আপনার।বয়স অনুযায়ী আপনার সেন্স অফ হিউমার ৫ বছরের বাচ্চাদের মতো হয়ে যায়। আপনি বয়স যত বাড়ে ততই আপনার মানসিক বয়স কমতে থাকে।
মানুষ যখন তীব্র আঘাত পায় তখন ভেঙে পড়ে এবং পুনরায় তীব্র আঘাত পেলে নিজেকে কঠোর ভাবে গড়ে তোলে। এর উদাহরণ এখন আপনি নিজেই।
-ইউ আর রাইট ডক্টর।
-রিয়েলিটি মেনে নিতে পারেন নি আগে। এখন রিয়েলিটি মেনে নিয়েছেন?
-একদম।
-আপনি কি আপনার সব প্রশ্ন খুঁজে পেয়েছেন?
-ইয়েস ডক্টর।
-এখন আপনি কেমন আছেন?
-আই এম অলরাইট। আই এম পারফেক্টলি ফাইন ডক্টর।
রাজ নিজের পায়ে হেঁটে ঐ দিন বাসায় আসে। শীতল সহ সবাই অবাক হয়ে যায়।
চাঁচি শাকিলা সবাই রাজের কেয়ার নেওয়ার জন্য বিজি হয়ে পড়লো।
রাফিয়া ভাইয়ের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে।
ময়মনসিংহের সকল আত্মীয় স্বজনরা ভীড় জমায় রাজদের বাড়িতে। রাজ সবাই সাথেই স্বাভাবিক বিহেভ করে।
দুই দিনের মধ্যেই সে বাবার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করে। হাসানের কাছ থেকে অফিস বুঝে নেয়। ম্যানেজার সাহেবের কাছ থেকে সকল দেশ-বিদেশের ব্যাবসা- বানিজ্য বুঝে নেন। সেই সাথে ম্যানেজার সহ অনেক অফিসারদের ছাঁটাই করেন।
রাজ পুরোনো নিয়ম কানুন ভেঙে নিজের নিয়ম তৈরী করে। 1% ডিসিপ্লিন ওয়েস্ট করা সে টলারেট করেনা।
সবকিছুর মধ্যে শীতল চুপিচপি রাজকে দেখে।
রাজের সামনে আসতে ইতস্তত লাগে।
রাজ শীতলকে নিজের ইচ্ছেতে কখন কাছে ডাকবে, সেই অপেক্ষায় আছে।
শীতলের এই বাড়িতে যেন কোন অস্তিত্বই নেই৷ দুদিন আগে পর্যন্ত এই বাড়িতে, এমনকি সবকিছুর উপর শীতলের আধিপত্য ছিলো।
রাজ ল্যাপটপে কাজ করছিলো। চোখে চশমা থাকায় খুব ম্যাচিউর লাগছিলো।
শীতল ঔষধ বরাবরের মতো চুপিচুপি দিয়ে চলে যাচ্ছিলো রাজ পেছন থেকে।
হঠাৎ-ই শীতল চমকে উঠলো। রাজ সামনে দাড়ানো।
শীতল চোখ বন্ধ করে ফেললো। ভীষণ লজ্জা করছে তার।
-চোখ খুলো শীতল। আমাকে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আমি তোমার স্বামী।
রাজ হাতে ইশারা দিয়ে কাছে আসতে বলল।
মূহুর্তেই শীতলের হৃদয় শহরে তোলপাড় হয়ে গেলো। এই অনুভূতি শুধু অনুভব করা যায়। শুধু অনুভব।
-তুমি তো শীতল!
-জ্বি।
-আমাকে সুস্থ্য করার জন্য তোমাকে আমার ওয়াইফ বানিয়ে এই বাড়িতে আনা হয়েছিলো।
-জ্বি।
-তোমাকে মেন্টালের সাথে ট্রিকস করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। তুমি বাঙালি নারী তাই মেনে নিয়েছিলে। অনেক কষ্ট সহ্য করেছো। আমাকে এন্ড আমার ফ্যামিলি রিলেটিভ দের ক্ষমা করে দিও।
-ক্ষমা করার মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা। আমার কোন অভিযোগ নেই। দায়িত্ব পালন করেছি।
-আমার পাগলামি, ছেলেমানুষী ইত্যাদি ইত্যাদি সহ্য করতে হয়েছে তোমাকে।
-আমি এসবে বিরক্ত হইনি আমার আল্লাহ তায়ালা জানেন।
-তুমি আসলেই খুব গুড গার্ল। ধার্মিক নারী।
তোমার দায়িত্ব শেষ হয়েছে। আমি সুস্থ্য।
-আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আপনি সুস্থ্য।
একটা পেপার শীতলের হাতে দিয়ে রাজ বলল- সাইন করে দিও। তোমার জন্য আলাদা কিছু প্রোপার্টি রেখেছি।
তোমার কোন অসুবিধা হবেনা। তুমি বাকি লাইফ সুখে থাকবে। নতুন করে লাইফ শুরু করবে।
-আলহামদুলিল্লাহ। আপনি সুস্থ হয়েছেন। আমার আর কোন চাওয়া-পাওয়া নেই।
আমি এখন থেকে নতুন জীবন শুরু করব।
-শুনে হেপি হলাম।
সাইন করার আগে দেখে নাও পেপারটা।
শীতলের সব দুঃখ যেন সমাপ্ত হয়েছে। আল্লাহর কাছে সে শুকরিয়া জানালো।
ইংরেজিতে ডিভোর্স লেখা পেপারে। রাজের নাম আর নিজের নামও দেখতে পেলো সে। এটা কি সপ্ন?
-লিসেন। তুমি তোমার নতুন জীবন শুরু করো। তোমার অধিকার আছে কষ্টের পর সুখে থাকার।
আমার বেবির জন্ম দিয়ে তুমি চলে যাবে। বাকিটা জীবন আমি আমার বেবিকে নিয়ে কাটিয়ে দেব।
-মানে?
রাজের শীতলের পেটে হাত বুলাতে বুলাতে বলল-
আমার বেবিকে আমার কোলে তুলে দেওয়া পর্যন্ত এই বাড়িতে থাকবে। ওকে আমার হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তোমার সকল দায়িত্ব এবং আমাদের সম্পর্ক শেষ হবে।
তারপর আমরা দুজন দুজনের আলাদা রাস্তায় চলে যাব।
-জ্বি! আমি কিছু বুঝতে পাচ্ছিনা।
-তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই বিকোজ আমি একাই একশত। নাউ লিভ মি এলন ফরএভার।আই হোপ ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড!💔

.
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯ টি নামের দুটি নাম আরবি,বাংলা)
❤৩১. ﺍﻟْﺨَﺒِﻴﺮُ আল-খবীর সম্যক অবগত❤
❤৩২. ﺍﻟْﺤَﻠِﻴﻢُ আল-হ়ালীম ধৈর্যবান, প্রশ্রয়দাতা❤

চলবে…….

গল্পের শহর
গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম......... গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ (জুয়েল) (১৪তম পর্বের পর থেকে) আমি গিয়ে অবন্তীর পাশে বসলাম। অবন্তী আমার কানের কাছে ওর মুখ এনে বললো.... অবন্তীঃ...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪|রোমান্টিক ভালোবাসার নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪ (জুয়েল) (১৩তম পর্বের পর থেকে) বিকালবেলা অবন্তীকে কল দিলাম, কিছুক্ষণ পর অবন্তী কল ধরলো.... আমিঃ ওই কল ধরতে এতো দেরি করো...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩|ভালোবাসার রোমান্টিক নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩ (জুয়েল) (১২তম পর্বের পর থেকে) লিমা আমার ডেস্ক থেকে চলে গেলো। আমি অবন্তীকে কল দিলাম। কল দিয়ে কথাটা বললাম, অবন্তী শুনেই...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১২

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১২ (জুয়েল) (১১তম পর্বের পর থেকে) ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম, কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। তাকিয়ে...

Recent Comments

Mohima akter on Ek The Vampire 18
error: ©গল্পেরশহর ডট কম