লালগোলাপ💔Part-30

লালগোলাপ💔Part-30
Writer-Moon Hossain

“মহান আল্লাহ তায়ালা, পরম দয়ালু, করুণাময়, ক্ষমাশীল,সকল প্রশংসার অধিকারী আমাকে মাফ করে দাও। আমি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আমার স্বামীর গায়ে হাত তুলেছি। জানি আমার ক্ষমা নেই। তবুও মাফ করে দাও।
আমি অনুতপ্ত, তওবা করেছি। দয়া করে আমার তওবা কবুল করো।
শীতল তওবা করে, কান্নাকাটি করে, অনুতপ্ত হয়েছে। সে নিজেকে নিজেই বিশ্বাস করতে পাচ্ছেনা। কিভাবে পারলো স্বামীর গায়ে হাত তুলতে।
কাদির সহ অন্যান্য কাজের লোকেরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো।
চাঁচি আর শাকিলা চমকে উঠেছিলো।
খুব ভয় পেয়েছে তারা।
সকাল থেকে রুম থেকে বের হয়নি।
কাজের লোকেদের বলা হয়েছে শীতল পাগল হয়েছে স্বামীর মতোই। চাঁচি তাদের আত্মীয়স্বজনদেরও এই কথা বলেছে ফোন করে।
এই ঘটনার পর রাজ কি করে সেটাই দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।
রাজ এমনিতেই সহ্য করতে পাচ্ছেনা শীতলকে।
তার গায়ে হাত তোলা, আবার বাড়ি ভর্তি লোকের সামনে।
রাজ নিশ্চয়ই শীতলকে ঘাড় ধরে বের করে দেবে বাড়ি থেকে।
পরে দেখা গেলো রাজ কিছুই করলো না।
বরং শীতলকে চ্যাকআপ করার জন্য দুটো লেডি ডক্টর নিয়ে এলো বাড়িতে।
শীতল বসে থাকতেও পারেনা। কষ্ট হয়।
ধরে ধরে বিছানা থেকে নামাতে হয়।
রাফিয়া শীতলকে সাহায্য করছে ওয়াশরুম যেতে।
বেলকুনিতে যেতে।
জায়নামাজে বসাতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন হাদিসের বই পড়িয়ে শোনায়।
কোরআন তেলওয়াত করে শোনায়।
রাজও কোরআন তেলওয়াত করে যতক্ষণ পর্যন্ত সে বাড়িতে থাকে।
শীতল দুই দিন রাগ করে কথা বলেনি রাজের সাথে।
হঠাৎ একদিন রাতে তার ঘুম ভেঙে যায়।
প্রায় প্রায় তার এমন হয়।
যতরকমভাবে দুঃস্বপ্ন দেখা যায় তা সব দেখে। ভয়ংকর ভয়ংকর সব সপ্ন।
ভয়ে অস্থির হয়ে যায় শীতল।
চোখ মেলে তাকালেই সপ্নের কথা মনে পড়ে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে।
পেট ব্যথা শুরু হয়ে যায়। মাঝরাত থেকে পরেরদিন পর্যন্ত এই ব্যথা থাকে।
কাউকে বলেনা সে কথা। যার স্বামী স্ত্রীর দুঃখ বোঝেনা, তার দুঃখ অন্যরা কি করে বুঝবে।
চুপচাপ থেকে ব্যথা গুলো সহ্য করে সে।
মাঝে মাঝে ব্যথায় লাল হয়ে যায় শরীর তখন চুপচাপ কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে থাকে আর মহান আল্লাহ তায়ালা কে ডাকে।
যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছে।
তেমনি একরাতে শীতল সপ্ন দেখে ভয়ে অস্থির হয়ে সজাগ হয়ে যায়।
হালকা ব্যথাও করছে পেটে। ওয়াশরুমেও যেতে হবে।
রাজ বেঘোরে ঘুমুচ্ছে। বেচারা সারাদিন কত কাজ করে অফিসে। এদিকে রাফিয়ার বিয়ের আয়োজন করছে।
বিছানায় এসেই গা এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
ডাকার কোন মানেই হয়না।
শীতল চুপচাপ কাঁদতে থাকে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে কাঁদা শুরু হয়, আর সেটা সকাল পর্যন্ত থাকে।
সারাদিন এতোটা খারাপ লাগেনা যতটা রাতে লাগে। বিশেষ করে মাঝরাতে ঘুম ভাঙার পর।
নিজেকে অতি ক্ষুদ্র মনে হয় তখন, বুকের বামপাশে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। চোখের পানি বাঁধ মানেনা৷
মাথায় কোন ভাবনাও আসেনা, চোখ বন্ধ করলেই সবকিছু অন্ধকার মনে হয়।
রাজ শীতলের সবটুকু জায়গা নিয়েছে। রাজকে ছাড়া শীতল অপূর্ণ।
কিভাবে থাকবে রাজকে ছাড়া? অসম্ভব।
শীতলের কাছে এই পৃথিবীটা জাহান্নামের এক অংশের মতো লাগছে।
না জানি জাহান্নাম কতটা ভয়ানক হবে।
.
-রাফিয়া! আসসালামু আলাইকুম!
-ওয়ালাইকুম আসসালাম!
-কেমন আছো?
হাসানের গলাটা যেন কোন মৃত মানুষের গলা।
কয়েকদিনেই ফর্সা মুখটা একেবারে ব্যথায় নীল হয়ে রয়েছে।
চোখ অসম্ভব ফোলা।
ঘুম হয়না নাকি? নাকি সারা-রাত কান্নাকাটি করে।
ধূর কিসব ভাবছে রাফিয়া। ছেলেমানুষরা আবার কাঁদে নাকি? তাদের তো কোন কষ্ট হয়না, কষ্ট হলে কি ভাইয়া ভাবিকে দূরে সরিয়ে দিতে পারতো।
-আপনার চোখ-মুখ অমন দেখাচ্ছে কেন?
হাসান রাফিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে যদিও চোখ দুটো হিজাবের আড়ালে আছে। আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে।
রাফিয়া এই প্রথম হাসানের চোখের দিকে তাকালো গভীর ভাবে। এই চোখে আছে প্রবল ঢেউ, গভীরতা, তীব্রতা। রাফিয়া যেন হাসানের চোখের অতল সমুদ্রে হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে যেন হাজার বছরও হারিয়ে যেতে পারবে সে।
রাফিয়া চোখ নামিয়ে নিলো।
জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলো।
রাফিয়ার গাড়ি এসেছে।
হাসান রাফিয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো একই স্থানে দুই-ঘন্টা।
.
শীতল রাতে ওয়াশরুম যাবে বলে রাজকে কয়েকবার ডেকে বলল।
রাজ ঘুমরের ঘোরে শুধু হু হু করলো।
শীতল একাই চলে গেলো।
পা ফেলতে সমস্যা হচ্ছিলো।
অন্ধকারে সুইচ খুঁজে পাচ্ছিলো না।
গা ঝমঝম করছে শীতলের।
শীতল কোথায় পা ফেলবে সেটাও বুঝতে পাচ্ছেনা।
ধপ করে শব্দ হলো।
শীতল ওয়াশরুমে পড়ে গেলো।
কেন যেন মনে হচ্ছে এটাই শেষ নিশ্বাসের দিন।
ব্যথায় কুঁকড়ে গেলো।
হালকা জ্ঞান ছিলো।
গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছিলো না।
রাজকে ডাকতেও পাচ্ছেনা।
রাজ বেঘোরে ঘুমুচ্ছে।
শীতল নিজেকে বেডে আবিষ্কার করলো।
ঐ তো রাজ সোফায় বসে কাজ করছে।
ডক্টরের ইউনিফর্ম পরা দুজন মহিলা শীতলের পাশে।
মাথা ব্যথা করছে খুব। পেট ব্যথাও করছে। অসহ্য যন্ত্রণা।
-হাউ আর ইউ?
-ফাইন।
-রাতে কখনো একা একা চলাফেরা করবেন না।
ওয়াশরুমে একা কেন যান? হাসব্যান্ডকে বলবেন৷
শীতল রাজের দিকে তাকিয়ে বলল- জ্বি।
হঠাৎ শীতলের পেটে হাত দিলো। কাল চোট লেগেছিলো। এখনো ব্যথা করছে।
তবে কি!
আল্লাহ এটা কি করলে তুমি!
শীতল আমার সন্তান, আমার সন্তান বলে চিৎকার করতে লাগলো।
রাজের কোন ভাবান্তর হলো না। সে একবার তাকালোও না। শীতল রাজের দিকে তাকিয়ে কান্না করছিলো ভয়ে।
-আপনাদের বেবি ঠিক আছে।
নিজেকে কন্ট্রোল করুন মিসেস রাজ।
চিৎকার করলে প্রবলেম হবে।
শীতল পেটে হাত দিয়ে বলল- আল্লাহর নাম নিয়ে বলুন আমার সন্তান ঠিক আছে।
-আল্লাহর নাম নিয়ে বললাম ঠিক আছে।
আপনি শান্ত হন।
এখন হা করুন কিছু খেয়ে নিন। তারপর ঔষধ খেয়ে ঘুমুবেন।
শীতল শান্ত হলো।
ডক্টরদের সাথে আল্লাহর রহমত থাকে। লেডি ডক্টর গুলো খুব বিনয়ী।
একদম মায়েদের মতো ব্যবহার।
কয়েকবার রিং হওয়ার পর রাফিয়ার কল রিসিভ করলো।
-আসসালামু আলাইকুম
-?
– লজ্জা লাগছে? সালামের উওর দাও এটলিস্ট।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
-তোমার নাম্বার জোগাড় করেছি একটু কথা বলার জন্য।
তেমন কোন কথা নয়। ভয় পেয়োনা।
তোমার পছন্দ অপছন্দ গুলো জানার জন্য। বিয়ের শপিং করতে হবে তো।
মালয়েশিয়া যাব আগামীকাল। তারপর থেকে বিয়ে পর্যন্ত খুব ব্যাস্ত থাকব।
তোমার সাথে আজ-ই প্রথম এবং আজ-ই শেষ ফোন আলাপ হবে। মানে বিয়ের আগে।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

আচ্ছা তুমি কি উওম জীবনসঙ্গী পাওয়ার আমল জানো?
-না।
-আমি তোমাকে কিছু কথা বলছি। অবশ্য তোমার বিয়ে তো হয়ে যাচ্ছে। তবুও একটু আশা আছে আমার থেকে উওম জীবনসঙ্গী পাওয়া যদি আমল গুলো করো।
উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার আমলঃ
যারা এখনো বিয়ে করেননি, সৎ ও উত্তম জীবন সঙ্গী পাওয়ার জন্য পবিত্র কুরআন মাজীদ থেকে তাদের জন্য ২টি গুরুত্বপূর্ণ আমল উল্লেখ করছি।
সম্ভব হলে সব সময় দুয়া গুলো পড়তে চেষ্টা করবেন।
বিশেষ করে সালাতুল হাজত কিংবা তাহাজ্জুদের নামাজের সিজদায় গিয়ে নিচের ২টি দোয়া অতি বিনয়ের সাথে পড়বেন।
আশা করছি, আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে অতি দ্রুত উত্তম ফয়সালা হয়ে যাবে, ইংশা-আল্ল-হ।
(১) হযরত মূসা (আঃ) এই দুআটি পাঠ করেছিলেন। যার বরকতে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে উত্তম আশ্রয়, উত্তম রিযিক ও তাঁর বিয়ের উত্তম ব‍্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ্। তাই উত্তম আশ্রয়, উত্তম রিযিক ও উত্তম বিয়ের জন্য বেশি বেশি দুআটি পাঠ করা উচিত।
ﺭَﺏِّ ﺍِﻧِّﯽۡ ﻟِﻤَﺎۤ ﺍَﻧۡﺰَﻟۡﺖَ ﺍِﻟَﯽَّ ﻣِﻦۡ ﺧَﯿۡﺮٍ ﻓَﻘِﯿۡﺮٌ
রব্বি ইন্নী লিমা আংঝালতা ইলাই ইয়া মিন খয়রিন ফাক্বি-র।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে আমি তার মুখাপেক্ষী।
(সুরা কাসাস ২৮: আয়াত ২৪)
( ২) উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য, নেককার সন্তান লাভের জন্য নিচের দোয়াটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ :
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐۡ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦۡ ﺍَﺯۡﻭَﺍﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﯾّٰﺘِﻨَﺎ ﻗُﺮَّۃَ ﺍَﻋۡﯿُﻦٍ ﻭَّﺍﺟۡﻌَﻠۡﻨَﺎ ﻟِﻠۡﻤُﺘَّﻘِﯿۡﻦَ ﺍِﻣَﺎﻣًﺎ
রব্বানা হাবলানা মিন আঝওয়া-জিনা ওয়া যুররিইয়া-তিনা- ক্বুররতা আ’ইউনিও ওয়াজআ’লনা লিলমুত্তাক্বী-না ইমা-মা।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।
(সুরা ফুরকান ২৫: আয়াত ৭৪)
মনে রাখবে, যেকোন দোয়া কবুলের শর্ত হল :
সকল হারাম ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
এরপরেও যদি গুনাহ হয়ে যায়, সাথে সাথেই তওবা করা।
খুব আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
দোয়ার শুরুতে এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা ও দুরুদ পাঠ করা।
একজন নিঃস্ব অসহায় ভিক্ষুক হিসেবে মহান আল্লাহ তাআলার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করা।
দোয়া করার পর ধৈর্য্য ও বিশ্বাসের সাথে দোয়া কবুলের জন্য অপেক্ষা করা।
এখন থেকে দোয়া গুলো পড়বে তাহলে এমনও হতে পারে আমার থেকে আরও আরও উওম জীবনসঙ্গী পেতে পারও এই কয়দিনের মধ্যে, হা!হা!হা!
আচ্ছা তোমার প্রিয় রং কি?. আমার সবুজ।
এই দেখ আমি একাই কথা বলছি। তোমাকে বলতে দিচ্ছি না। আসলে কথা বলার মানুষ নেই। তাই ফোনে প্রচুর কথা বলি। বিয়ের পর যখন বাহিরে থাকব তখন কয়েক মিনিট পর পর তোমাকে কল করব।
বিরক্ত হলেও করব।
.
শীতল একটু সুস্থ বোধ করছে।
আজ রাফিয়ার বিয়ে উপলক্ষে ডেকোরেশনের লোক বাড়ি সাজাচ্ছেন।
আত্মীয় স্বজনরাও এসেছে।
বাড়ির বউ হিসেবে শীতলকে দেখা করতে হবে। আপ্যায়ন করতে হবে।
শীতল সিঁড়ি দিয়ে ভয়ে ভয়ে নামছে।
মনে হচ্ছে কখন যেন পড়ে যায়।
যেই ভাবা সেই কাজ।
শীতল পা পিছলে পড়ে গেলো।
আতংকে শীতলের দু-চোখ বন্ধ।
কারও হাতের স্পর্শ পেলো সে।চোখ মেলে রাজকে দেখতে পেলো।
রাজ রাগে ক্ষোভে তীব্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো শীতলের উপর।
শীতলকে কোলে তুলে নিলো।
শীতল চোখ মেলে দুই হাত দিয়ে রাজের গলা জরিয়ে ধরলো।
রাজের বুকের সাথে সে নিজেকে মিশিয়ে রেখেছে।
রাজের হৃদয়ের স্পন্দন শোনা যাচ্ছে। নিশ্বাসের আওয়াজও শোনা যাচ্ছে।
বিছানায় শীতলকে শুইয়ে দিয়ে রাজ আর উঠতে পারলোনা।
শীতল আজ একটু সাজগোছ করছে। গয়না পড়াতে খুব সুন্দর লাগছে। নতুন বউ মনে হচ্ছে।
শীতলের কপালে একটা চুমু দিলো রাজ। শীতলের নাকে নাক ঘষে দিলো।
শীতল রাজের চুলে বিলি কাটছে। টুকটুকে ঠোঁট জোড়া নড়ছে অসম্ভব ভাবে।
রাজ শীতলের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো।
.
শীতল ঘুম থেকে উঠে দেখে রাজ তার দিকে তাকিয়ে আছে।
শীতল লজ্জা পেলো।
-একটা কথা বলা দরকার।
-কি?
-তুমি ডিভোর্সের সাথে সাথে আমার বেবির আমাকে দিতে নিজেকে প্রস্তুত আছো তো?
-মানে?
-আমার বেবি কিন্তু আমার সাথে থাকবে।
-আমার ডিভোর্স হবেনা। আমি বেঁচে থাকতে সম্ভব না। এবং আমার বেবি আমার কাছেই থাকবে।
-ডিভোর্স আমাকে তুমি দেবে। সেটার প্ল্যান আমার কাছে আছে।
এবং আমার বেবিও আমাকে দেবে।
-ওকে আমি গর্ভে ধারণ করেছি। ও আমার মাঝে বেড়ে উঠেছে। ও আমার সন্তান।
-ভুলে যেওনা একা একা তুমি সন্তান ধারণ করোনি।
– ভুলে যায়নি। শুধু সন্তান জন্ম দিলেই কেউ বাবা হয়না।সন্তানের উপর অধিকার জন্মায় না। অনেক দায়িত্ব-কর্তব্য থাকে যা পালন করতে হয়৷
-আমি কি তোমাদের অযত্নে রেখেছি? যা প্রয়োজন তা প্রয়োজনের আগেই দেওয়া হচ্ছে। কোন কিছুর কমতি রাখিনি।
-টাকা দিয়ে সব কিছু করে ফেলতে চান? কোন কিছুর কমতি রাখেননি। কমতি আছে শুধু আপনার। প্রয়োজনের আগে সবকিছু দিচ্ছেন। প্রয়োজন শুধু আপনাকে।
আমাদের কিছু লাগবেনা আপনাকে ছাড়া। আপনার কাছে আমরা একটু আশ্রয় চাই, একটু ভরসা চাই, বিশ্বাস চাই,নিরাপত্তা চাই।
কথাটা ভালো ভাবে মাথায় ঢুকিয়ে নিন। আমাদের আপনাকে লাগবে। আমার স্বামী প্রয়োজন, আমার সন্তানের তার বাবা প্রয়োজন।
.
.
শীতল বোরখা পড়ে ফুলির সাহায্যে নিচে যাচ্ছে।
হাসান না কি জরুরি কথা বলবে।
-ভাবি আমি চলে যাচ্ছি।
-মানে?
-সৌদি আরব।
-হঠাৎ? আজ তো বিয়ে।
আপনার কোন সমস্যা হচ্ছে?
আমরা কি কোন ভুল করেছি?
-না না। আমি চির কৃতজ্ঞ। আপনারা আমাকে বিপদের দিনে সাহায্য করেছেন।
-এটা মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য।
একে অন্যের বিপদে সাহায্য করা।
-ভালো থাকবেন ভাবি। আপনার সব দুঃখ চলে গিয়ে সুখ আসবে। ইনশাআল্লাহ! আমিন।
-আজ-ই চলে যাবেন?
-না। বন্ধুর সাথে মেসে থাকব। কিছু ফর্মালিটি আছে পূরণ হলেই চলে যাব।
-মেসে না থেকে আমাদের এখানে থাকুন। যাওয়ার সময় যাবেন।
-সম্ভব না। আজ-ই যাব এখান থেকে।
একটা উপকার করবেন?
-বলুন।
-এই বাক্সে একটা স্বর্ণের গয়না আছে। ওটা রাফিয়া ম্যাডামকে বিয়েতে উপহার দিতে চাই। এটা টাকা জমিয়ে শেষ সম্বল দিয়ে কিনেছি।
-আপনি নিজে দিন। ওর ভালো লাগবে।
-সম্ভব না। আসি ভাবি।
আসসালামু আলাইকুম।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম!
রাফিয়া কে খুব সুন্দর লাগছে সবুজ জামদানীতে। হালকা গয়না পড়েছে।
চুল গুলো খোলা রেখেছে।
-তুমি কি এই বিয়েতে রাজি?
-?
-কি হলো বলো?
-বিয়ের সময় এসব কি বলছো?
-রাফিয়া তুমি উপর থেকে খুশি দেখাচ্ছো। কিন্তু মনে মনে কিছু কষ্ট চাপা দিয়ে রেখেছো।
বিয়েতে তুমি খুশি না?
-কি বলছো ভাবি।
এমন ছেলে আমার সৌভাগ্য। সবার সপ্নে এমন ছেলে থাকে। আমার মতো মেয়ে অমন সুপুরুষ স্বামীর স্ত্রী হবে এটা তো কল্পনার বাহিরে।
রাজ কামরায় শেরওয়ানি পড়ছে।শেরওয়ানীর বোতাম লাগায়নি । শীতলের ইচ্ছে করছে বোতাম লাগিয়ে দিতে।যেমনটা আগে লাগিয়ে দিতো। রাজপুত্রের মতো লাগছে রাজকে।
লম্বা দাঁড়িতে হালকা সবুজ পাঞ্জাবি বেশ মানিয়েছে গায়ের রংয়ের সাথে।
শীতল সবুজ জামদানী পড়েছে। তবে খুব সিম্পল। রাফিয়ার মতো জমকালো নয়। ভারি একটা নেকলেস পড়েছে। সুন্দর দেখাচ্ছে।
রাজ আড়চোখে তাকিয়ে বার বার চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
-একটা কথা বলব?
-আবার ন্যাকা কান্না শুরু করোনা। মোড নষ্ট হোক চাইনা। বোনের বিয়েতে ভাই হিসেবে অনেক দায়িত্ব আছে আমার।
-আমাদের বিষয় নিয়ে কিছু না৷
-তাহলে?
-রাফিয়া আপা।
-কি হয়েছে?
-এই বিয়েতে উনি খুশি নন। বিয়েটা না হলে হয়না?
মানে রাফিয়া আপার পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে।
-তোমার মাথা ঠিক আছে? নাকি আমার রেশ লেগে পাগল হয়েছো?
বিয়ে ভেঙে দেব মানে? কত লোকজন এসেছে জানো তুমি? ময়মনসিংহের কেউ বাকি নেই, ঢাকা, চিটাগাং, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল সব বিভাগের বিশিষ্ট বিজনেসম্যান এসেছে। মান সম্মান ধূলোময়লার মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়বে। ওর আবার পছন্দ অপছন্দ কি? আমার পছন্দ ওর পছন্দ।
-ইসলামে পছন্দ অপছন্দের অধিকার আছে সবার।
বিয়েটা পবিত্র বন্ধন। সারাজীবন কাটানোর বন্ধন।
এই বিয়েতে আপা খুশি নন।
আপনার কিছু করতে হবেনা। আপনি অনুমতি দিন। আমি সবকিছু সামলাচ্ছি।
রাজ রেগে শীতলের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো।
রাফিয়ার সামনে গিয়ে বলল-তোমার ভাবি কি বলছে? তুমি নাকি এই বিয়েতে খুশি নও?
তোমার নাকি পছন্দ আছে?
-?
-কি হলো বলো? আন্স মি?
রাফিয়া মাথা নিচু করে বলল- আমি এই বিয়েতে রাজি।
আমার কোন সমস্যা নেই।
রাজ শীতলের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।
-হয়েছে শান্তি। শুনেছো তুমি?
-আপনি বিষয়টি বুঝতে পাচ্ছেন না।আপার মতামত না নিয়ে বিয়ে ঠিক করেছেন। একবারও জিজ্ঞেস করেন নি। হুট করে ছেলে নিয়ে এলেন। হঠাৎ বিয়ের আয়োজনও করে ফেললেন।এজন্যই তিনি কিছু বলছেন না।
-লিসেন। আমি ওর গার্ডিয়ান। ওর ভালো মন্দ আমি বুঝি। ও আমার দায়িত্বে আছে। ওকে সৎ পাত্রের হাতে তুলে দেওয়া আমার কর্তব্য।
এবং সেটাই আমি করব।
-কিন্তু।
-কোন কিন্তু নেই। কামরায় চলো। তোমার মাথা গরম হয়ে আছে। ক্লান্ত দেখাচ্ছে। বিশ্রাম নেবে।
শীতলকে কোলে নিয়ে রাজ শুইয়ে দিলো বিছানায়।
ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলল- কোন কথা নয়।
রেস্ট নাও।
রাফিয়া বিশাল কামরার বিছানায় ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। কামরাটায় ফুল দিয়ে সাজানো। ফুলের সুভাসে পুরো রুমটা মৌ মৌ করছে।
অপেক্ষা শেষ হলো। রাফিয়ার স্বামী দরজায় কড়া নাড়লো।
-আসসালামু আলাইকুম! বলেই দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিলো।
প্রকান্ড খোলা জানালা দিয়ে আসা চাঁদের আলো রাফিয়ার মুখে পড়েছে।জলমলে চিকচিক হয়ে উঠেছে তার মুখখানি।
-তোমাকে খুব সুন্দর লেগেছিলো।
শীতল হাসলো।
-যাইহোক, অনেক দিন পর কেউ বলল।
রাজ বিয়ের সবকিছু মিটিয়ে রাফিয়াকে বিধায় দিয়েছে অনেক আগেই।
এখন মাঝরাত।
-রাফিয়ার জন্য মন খারাপ হচ্ছে?
-একটু।
ও তো ছোট। তেমন বড় হয়নি। ভালো পাত্র পেয়ে হাত ছাড়া করিনি।
-বোনের বিয়ের জন্য সব ভাইয়েরা মন খারাপ করে। তবে বোন সুখী হলে ভাইয়ের আর কি চাই!
শীতলকে আচমকা কপালে একটা চুমু দিলো রাজ।
-ঘুমিয়ে পড়।
-আপনি ঘুমুবেন না?
-ঘুমুব।তাহাজ্জুদ পড়ব। আমি বরং তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য অজু করে আসি।
রাজ তাহাজ্জুদ পড়ে সবে শুয়েছে।
শীতল আধঘুমন্ত সিচুয়েশনে রাজকে জরিয়ে ধরেছে।
রাজ শীতলের পেটে হাত দিয়ে বলল-তুমি চলে গেলে কিছুদিন খারাপ লাগবে বাট আমি মানিয়ে নিতে পারব। মেয়েদের প্রতি আমার বিরক্তি এসেছে, বোনটাকেও বিয়ে দিয়ে দিলাম তাই। তুমিও চলে যাবে। শুধু আমি একাই থাকব। একা একা কত রজনী যে পার করতে হবে।
রিংটোন বেজে উঠলো।
রাজ ফোন রিসিভ করলো।
অপাশ থেকে রাফিয়ার শশুর বাড়ি থেকে কে যেন কথা বলল।রাফিয়া চার তলা ছাঁদ থেকে পড়ে গিয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেলে রাফিয়ার স্বামী তাকে নিয়ে গিয়েছে।
রাজ স্তব্ধ।
শীতল আধঘুমু ভাবে বলল-কি হয়েছে? কে ফোন করেছে?
-আপা কিভাবে কি হয়ে গেলো।
-বুঝতে পারিনি ভাবি।
রাফিয়া পুরো থেঁতলে গিয়েছে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যান্ডেজ। যে বেডে শুয়ে আছে সেটা লাল রক্তে ভরে উঠেছে। ডক্টর বললো বাঁচার সম্ভবনা ০%।
রাজ কেবিনের ভেতর একটু দূরে চুপচাপ জানালা ধরে দাড়িয়ে আছে।
রাফিয়ার স্বামী পাশে বসে কাঁদছে।
চোখের সামনে মৃত্যু দেখার যন্ত্রণা শীতল নিতে চায়না।
কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো সে।
হাসান কেবিনের বাহিরে দাড়িয়ে আছে।
শীতল সিঁড়ি দিয়ে নামছে।
হাসান চমকে গিয়ে বলল-ভাবি আপনার কি মিস ক্যারেজ হয়েছে?
শীতল ধাপে ধাপে সিঁড়ি দিয়ে নামছে আর সিঁড়ি গুলোর প্রতিটা ধাপে টকটকে লাল রক্ত। শীতল দাড়িয়ে নিচে ফ্লোরে তাকালো। ফ্লোরে টপটপ লাল রক্ত।
শীতল অস্ফুট আওয়াজে বলল- মিসক্যারেজ হয়েছে আমার।
❤মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নামের তিনটি নাম (আরবি,বাংলা)
৪৬. ﺍﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ আল-হ়াকীম সুবিজ্ঞ, সুদক্ষ
৪৭. ﺍﻟْﻮَﺩُﻭﺩُ আল-ওয়াদূদ স্নেহশীল
৪৮. ﺍﻟْﻤَﺠِﻴﺪُ আল-মাজীদ মহিমান্বিত❤
চলবে

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

Golper Sohor
গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম......... গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles

error: ©গল্পেরশহর ডট কম