সতীত্ব পর্ব ১

0
102

–“ তোর চেয়ে পাড়ার বেশ্যা অনেক ভালো, আর কাউকে পেলিনা? আমার কপালেই জুটতে হলো?”

ফুলশয্যা রাতে স্বামীর মুখে এই কথা শুনে আনিসার মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তে। এই যন্ত্রণা এতটাই ভয়ংকর যা প্রকাশ করার নয়। লজ্জায় না পারছে কিছু বলতে, কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে, মনে বইছে যন্ত্রনার ঝড়, আনিসা মনে মনে বললো, এরকম পরিস্থিতিতে যেন পৃথিবীর কোনো মেয়েই না পড়ে। এর চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

আনিসার স্বামী রুবেল দাঁতে দাঁত চেপে কড়া মেজাজে আবার প্রশ্ন করলো,– কিরে, সত্যি কথা ক বিয়ের আগে কয়বার আকাম ( শারীরিক মেলামেশা ) করছো কয়জনের সাথে?!

আনিসা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললো,– আপনি কেমন কথা বলছেন এসব! ওসব আমি কখনও করিনি বিশ্বাস করেন!

রুবেল দাঁতে দাঁত চেপে কড়া মেজাজে বললো,– যদি মেলামেশা কারো সাথে না-ই করিস তাইলে প্রথমবার রক্ত বের হইলো না ক্যান, আমারে বোকা ভাবছো!

রুবেল বলতে চাইছে যে আনিসা যদি আগে কারো সাথে শারীরিক মেলামেশা না-ই করে থাকে তাহলে এই ফুলশয্যা রাতে রুবেলের সাথে প্রথম মিলনে সতীচ্ছদ ( হাইমেন ) ছিড়ে রক্ত কেন বের হলো না!

আর রক্ত বের হয়নি বলে রুবেলের বিশ্বাস আনিসা এর আগে নিশ্চয়ই কারো সাথে শারীরিক মেলামেশা করেছে!

বিয়ে, সংসার, এসব একটা মেয়ের বড়ো সপ্ন, যে মানুষটা নিয়ে এত স্বপ্ন আশা, সেই মানুষটার কাছে এমন অপ্রত্যাশিত জঘন্য কিছু পাবার চেয়ে হয়তো মরে যাওয়া অনেক ভালো!

বুকের ভেতর দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণায় আনিসার, আর চোখের জল গাল বেয়ে টপটপ করে ঝরে পড়ছে।

চঞ্চল, চটপটে, হাসিখুশী মেয়েটির মনের আকাশ আজ দুঃখের কালো মেঘে ছেঁয়ে চোখ দিয়ে বেদনার অশ্রু ঝরাচ্ছে।

আনিসাকে কাঁদতে দেখে রুবেল বললো,– এসব ন্যাকামি বন্ধ কর।

আনিসা কান্না জড়িত কণ্ঠে বললো,– বলেন আমি কি করলে আপনার বিশ্বাস হবে আমি সত্যিই বিয়ের আগে কারো সাথে শারীরিক মেলামেশা করিনি, আপনার দুটি পায়ে পড়ি এভাবে আমাকে আর মিথ্যা অপবাদ দিবেননা।

রুবেল বললো,– তোর মতো বেশ্যা নিজের কুকর্মের কথা ঢাকতে সবই করতে পারে, তুই বিদায় হলেই হবে, আর কিছু করতে হবেনা।

সদ্য বিবাহিত একটি মেয়ে স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত হওয়া যে কতবড় দূর্বিষহ সেটা কেবল ভুক্তভোগী জানে। সমাজ দেখবে না যে কিকারণে মেয়েটির সাথে এমন হলো, দোষটা আসলে কার। সবাই মেয়েটাকেই দুষবে এটা এ সমাজের প্রচলিত প্রথা।

আর বিষয়টি এমনই যে না যায় বলা, না যাও সওয়া।

আনিসা চুপচাপ খাট থেকে নেমে গিয়ে রুমের এক কোণে গিয়ে গুটিশুটি মেরে বসে হাঁটুতে মুখ গুঁজে অঝোরে কাঁদছে।

রুবেল উঠে গিয়ে রুমের লাইট অফ করে দিয়ে এসে খাটে শুয়ে পড়লো।

রুবেলের সঙ্গে হয়তো স্বপ্ন সাজানোর স্বপ্নটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আর রুবেলের প্রতি অল্প সময়ে জন্মানো আকাশ সমান ভালোবাসা ইতিমধ্যে আকাশ সমান ঘৃনায় পরিনত হয়ে গেছে। বিয়ের পরে ছাড়াছাড়ি হলে এটা মা-বাবার জন্য অনেক বড়ো কষ্টের একটা বিষয়, তাছাড়া নিজেকে পুনরায় বাবার কাঁধে বাড়তি বোঝা মনে হয়। আনিসা ভাবছে মা-বাবাকে কি বলবে! বিয়ে হতে না হতেই ছাড়াছাড়ির কথা শুনলে পাড়াপ্রতিবেশিরা কি ভাববে! ভাবনা শেষে আনিসা মনস্থির করলো কারো কাঁধে বোঝা না হয়ে, কারো কাছে অবিশ্বাসী হয়ে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। আনিসা মনস্থির করলো আত্মহত্যা করবে…

চলবে…

গল্পঃ সতীত্ব। ( প্রথম পর্ব )

লেখাঃ ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here