সত্য ঘটনা অবলম্বনে পর্ব শেষ

0
66

সত্য ঘটনা অবলম্বনে
পর্ব_৪_ও_শেষ_পর্ব

রাতে আমার সাথে খারাপ কিছু ঘটতেছে তা জানা শুনা সত্বেও আমার বাবা মায়ের কিচ্ছু করার ছিল না। ২য় বিয়েটাও টিকলো না শুধুমাত্র এই বদ জ্বীনের আশ্র‍য়ের জন্য। ২য় বিয়ের বাড়ির লোকজন বলত আমি নাকি পরকীয়াতে জড়িত তাই নিজের স্বামী চিনি না কিন্তু রাতের বেলায় পর পুরুষের সাথে ঠিক ই থাকি। এসব বাজে কথা আমার বাবা জানতে পেরে সেখান থেকে ও সম্পর্ক ছিন্ন করে আমায় বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর এভাবেই আমার দিন গুলি কাটতে থাকে কিন্তু সেই পরিস্থিতি আদৌ ঠিক করতে পারে নি কোনো কবিরাজ ধরেও। পিরিয়ড হলে আমার বাবা মা সবাই আমায় নিয়ে চিন্তিত থাকে কারন পিরিয়ডের সময় পুরু শরীর নাপাক থাকে আর তখন যেকোনো ক্ষতি করতে আমি ২ বার ভাবি না। আপন পর কাউকে চিনি না। আমার এই অবস্থার জন্য আমার ছোট বোনটির ও প্রায় ৪ বছর বিয়ে দিতে সমস্যা হয়েছিল। এলাকাবাসী সবাই ভাবতো জমিদ উদ্দিনের মেয়ে পরকীয়া করে করে বেড়ায়। কেউ বিশ্বাস করতো না যে আমায় কোনো এক বদ জ্বীন আশ্রয় করে। আমার নামে অনেক খারাপ অপবাদ সৃষ্টি হয়েছিল যার ফলেই হয়তো আজকের এই বেলা পর্যন্ত আমি এখনো বাপের বিটেতেই রয়ে গেলাম। তো যা ই হোক তার কিছুদিন পর আমার বাবা এক বড় এলেমের খোঁজ পেলেন সেখানে আলাপ করে দেখলেন যে উনি পারবে এর সমাধান করতে। তারপর উনি অনেক তাবিজসহকারে পুরো বাড়ি বন্ধ করে আর আমাকেও অনেক নিয়মাদি দিয়ে ২০-২৫ দিনের মধ্যেই আল্লাহর রহমতে আমায় এর থেকে মুক্তি করে দিলেন কিন্তু তিনি ও বলে দিয়েছেন যে পিরিয়ডের সময় আমায় রাতে ঘরের বাহির থেকে বন্ধ করতে হবে অন্যথায় আমায় বাড়ি ছেড়ে নিয়ে যেতে পারে এভাবে ১৮ মাস চলার পরে আমি এর থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাব। তখন ঠিক তার কথা মতো অপেক্ষা শেষে এখন আমি এর থেকে অনেক ভালো আছি কিন্তু এই কষ্টের গ্লানি আমায় সারা জীবন বয়ে বেরাতে হবে কারন আমার নাই কোনো স্বামী নাই কোনো সন্তান নাই কোনো ভাই,,, বোনের বিয়ের পর বোন চলে গেছে আর মা তো এইদিকে প্যারালাইজড বাবা তো দিন দিন শারীরিক ভাবে দূর্বল হয়ে যাচ্ছে তাহলে আমার আর কোনো ভবিষ্যৎ রইলো না। মোটকথা আমার জীবনটা বরবাদ করে দিয়ে গেল🙂

এখন আপাদতো বাবা মায়ের সাথেই আছি কোনো রকমে জীবন কাটাচ্ছি।

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here