সবটাই_তুমিময় ✨স্পেশাল পর্ব✨

0
238

সবটাই_তুমিময় ✨স্পেশাল পর্ব✨
#লেখনিতে-মিথিলা মাশরেকা

-বাসা থেকে বেরোও অদ্রি।রাইট নাও!

কলটা রিসিভ করেছিলাম অঙ্কুরকে অভিনন্দন জানাবো বলে।কিন্তু তার এই কথাটায় সে রাতের মতো আজও‌ ভেতরটা ধক করে উঠলো।তানহার একটা কল এসেছিলো বলে সবেই বেরিয়ে গেলো ও।একটা শুকনো ঢোক গিলে বললাম,

-আপনার সামনে বিয়ে।আমার সাথে কেনো দেখা করতে চাচ্ছেন?

-এই মুহুর্তে যদি বাসা থেকে না বেরোও,আমি বাসায় ঢুকে দাদুকে আমাদের বিয়ের সত্যিটা বলে দেবো অদ্রি!

কল কেটে গেলো।মনটা আবারো বিষাদময় হয়ে উঠলো।আজও এভাবে বিয়েটার বিষয়ে আমাকে থ্রেট দিচ্ছেন উনি।এই মুহুর্তে দাদুকে কিছু জানালে সবটা নষ্ট হয়ে যাবে।ড্রয়িংয়ে এসে দেখি দাদু দাদীমা বসে।আমাকে দেখে দাদীমা বললো,

-এমন দেখাচ্ছে কেনো তোকে বোনু?কি হয়েছে?চোখমুখ লাল কেনো?তানহা চলে গেলো কেনো?

-ওই,আসলে তিহান ফোন করেছিলো।আর আমার চোখে পোকা ঢুকেছিলো,তাই এমন হয়ে আছে।ও কিছু না।

-কিন্তু….

-কোনো কিন্তু না!তোমরা এখন রুমে গিয়ে রেস্ট নাও?আমি ডিনারের সময় ডেকে দেবো তোমাদের।

দাদু,দাদীমা উঠে রুমে চলে গেলো।একটা জোরে শ্বাস নিয়ে বেরোলাম বাসা থেকে।রাস্তার ল্যাম্পপোস্টটাও জ্বলেনি আজ।মোবাইলের ফ্লাশ অন করে গেইটের বাইরে পা রাখতেই চারপাশ আলোতে ভরে উঠলো।বাসার সামনে পুরো রাস্তাটার উপর দিয়ে সাদা মরিচবাতি টানানো।বিস্ময়ে চারপাশ দেখতে লাগলাম।কোথাও কেউ নেই।গুটিগুটি পায়ে আরেকটু এগোতেই গিটারের টুংটাং শব্দের সাথে কানে আসলো,

আমার অজানায়,
হলো কি?
তোমাকে তা কখনো,
বুঝতে দেবো না..
দৃষ্টির পানে আকাশে চেয়ে
তোমাকে আর খুজবো না
আকাশের পানে চেয়ে চেয়ে
ভালোবাসি তা বলবো না…..

পেছন ফিরতেই স্তব্ধ হয়ে গেলাম আমি।এ্যাশ রঙের গিটার হাতে স্বয়ং অঙ্কুর দাড়িয়ে।স্বপ্ন নাকি বাস্তব তা পরখ করতে চোখ দিয়ে বেরোনো জল হাতে ছুয়ে দেখলাম।এটা বাস্তব!সাদা ধবধবে শার্ট,কালো প্যান্ট পরনে ওনার।হাতা গুটানো,কপালের চুলগুলো মৃদ্যু বাতাসে উড়ছে।মুচকি হাসি নিয়ে দাড়িয়ে অঙ্কুর।আর আমি?কান্না পাচ্ছে আমার।তার গানের কথায় আরো কাতর হয়ে আছে মনপ্রান।বলে চলেছে,একটাবার বলুন অঙ্কুর।ভালোবাসি।একটাবার।শুধু ওইটুক নিয়েই বেচে থাকবো!আর কিছুই চাইনা!চাইবো না কোনোদিন।কিছু না বলে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে রইলাম।

আমার ভাবনার মাঝে হঠাৎই বিকট শব্দ!চমকে উঠে শব্দ অনুসরন করে পিছনে তাকালাম।রাস্তাটা কিছুটা দুরেই মোড় নিয়েছে।সে মোড়ে বাজির আলোতে উপরে আকাশজুড়ে আই লাভ ইউ লেখাটা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।চোখ ভরে উঠেছে আমার।পেছন থেকে অঙ্কুর গিটারে সুর তুলে গাইতে গাইতে এগোলেন,

-তুমিও কি আমার মতো করে
একটু ভালো বাসবে না?

তারদিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম আমি।এবার হাতের বা পাশে শব্দ আসলো।সেদিক ফিরতে আবারো থমকে গেলাম।তিনতলা বিল্ডিংটার সবটা অন্ধকারে ঢাকা।ছাদে লাইটের মতো জ্বলতে থাকা বড় আই অক্ষর।তৃতীয়তলার ব্যালকনিতে ওরকম অক্ষর দিয়েই লাভ কথাটা লেখা।দ্বিতীয়তলায় ইউ লেখা।অঙ্কুরের কন্ঠে,

-তুমিও কি আমার মতো করে
একটু কাছে ডাকবেনা?

তার গানের সুরের সাথে ভেসে তৃতীয়বারের আসা শব্দে হাতের ডানপাশে তাকালাম।ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠটার পুরোটা জুরে ফুল,মরিচবাতি দিয়ে সুবিশাল লেখনি- আই লাভ ইউ।বাজিও ফুটছে।ওখান থেকে তিনটে বেলুন উড়ে গেলো।তাতেও আই লাভ ইউ লেখা।পিছনে অঙ্কুরের গিটারের সুর তুলেছেন,

-তুমিও কি আমার মতো করে
একটু ভালোবাসবে না?
তুমিও কি আমার মতো করে
একটু কাছে ডাকবেনা?

তারদিক ফিরলাম।অনেকটা এগিয়েছেন অঙ্কুর।অষ্টদিক বন্ধ আমার।এই ভালোবাসার বলয়ে নিজেকে জরিয়ে নেওয়ার চেয়ে সৌভাগ্যের হয়তো আর কিছুই না।তবুও চুপ করেই রইলাম।দাতে দাত চেপে সামলাচ্ছিলাম নিজেকে।অঙ্কুর একদম সামনে দাড়ালেন আমার।শান্ত চোখে তাকিয়ে থেকে গাইলেন,

-আগেও তো ভালো,বাসতে তুমি
আগেও তো কাছে,ডাকতে তুমি
তবে আজ কেনো দুরুত্বটা
সবচেয়ে কাছের?
ভালোবেসে কি ভুল,
করেছি আমি?

এটুকো বলেই গিটারটা ছেড়ে দিলেন উনি।বললেন,

-যে কথাগুলো তানহাকে বলেছো,আমাকে বলতে পারবে না অদ্রি?আজ অন্তত বলো?

এতোক্ষনে যেনো শ্বাস বেরোলো ভেতর থেকে।বাধা দেইনি আর নিজেকে।নিরবে দুফোটা চোখের জল ফেলে চোখ বন্ধ করে তার বুকে মাথা ঠেকালাম।শান্ত গলায় আস্তে করে বললাম,

-আই লাভ ইউ অঙ্কুর!ভালোবাসি আপনাকে।

উনি একহাতে জরিয়ে আরেকহাতে মাথার চুল মুঠো করে নিলেন আমার।চুলে ঠোট ছুইয়ে দিলেন বারকয়েক।কান্নায় প্রচন্ড শান্তি পাচ্ছিলাম ওই মুহুর্তে।বেশ কিছুটা সময় পর পিছিয়ে গেলাম তাকে ছেড়ে।যা বলেছি,তা নিয়ে আক্ষেপ হচ্ছিলো না একদমই।না বললে দম আটকে মারা যেতাম আমি।অঙ্কুর এগিয়ে দুগাল ধরে মুখ উচিয়ে ধরলেন আমার।চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে ঠোট টিপে হেসে বললেন,

-এট লাস্ট!বললে?ভালোবাসো!

….

-ভয় পেয়েছিলে?

….

-এতো কঠিন কেনো তুমি অদ্রি?কেনো স্বীকার করো নি এতোদিন?তাহলে এতো কষ্ট দিতে হতো না তোমাকে।আমাকেও এতোটা সইতে হতো না।

….

-বিয়েটা রাইতাকে করছি,সেটা একবারও বলেছি তোমাকে?

বিস্ময়ে তাকালাম।উনি ঠোট কামড়ে অন্যদিক তাকিয়ে একটা হাসি দিলেন।বললেন,

-বিয়ে একজনের সাথেই হয় অদ্রি।আর আমার বিয়ে তোমার সাথে হয়ে গেছে।তারসাথেই,যে আমার মতো করে আমাকে ভালোবাসে।ওটাতো সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করবো বলে বলেছিলাম।

-এতোদিন আপনি বলেন নি কেনো ভালোবাসেন?

-আজও তো বলিনি!তুমিই বললে।সিডনিতে আমার ম্যাচের দিন তুমিই তো বলেছিলে,ভালোবাসি শুনতে চাও না আমার কাছে।আজ আবার শুনতে চাইছো যে?

ভ্রুকুচকে তাকালাম আমি।অঙ্কুর গম্ভীরভাবে বললেন,

-সেদিন সব সত্যিটার সাথে তোমায় ভালোবাসি বলবো বলে প্রস্তুত করেছিলাম নিজেকে।কিন্তু তুমি?বলে দিলে শুনতে চাওনা!তাই এটুকো দুরুত্বের কষ্ট দিতে হলো তোমাকে,সইতে হলো আমাকেও।এইসব আই লাভ ইউ লেখাটেখা দেখে একদম নিজেকে আকাশে তুলো না!মুখে বলিনি কিন্তু এখনো!বলবোও না!শাস্তি তোমার!

রাগ উঠলো প্রচন্ড।এতোরকমভাবে প্রকাশ করেও এটিচিউড ছাড়বে না এই লোক!তার বুকের দিকের শার্ট খামচে ধরলাম।জোর গলায় বললাম,

-বলতে হবে না!আমিও উথড্রো করছি আমার কথা।আমি ভ্…

উনি আরো কাছে টেনে নিলেন আমাকে।বললেন,

-ভালোবাসি অদ্রি।ভালোবাসি।যদি তোমাকে ভালোবাসার অধিকার আমার নাও থাকে,তবুও সে অনোধিকার চর্চা করবো আমি।যদি ভুল হয়েও থাকে,এই ভুলে বারবার নিজেকে জড়াতে চাই আমি।যদি এ ভালোবাসার পরিনতি আজীবন এমনটাই যন্ত্রনাময় হয়,তবুও সে যন্ত্রনা সয়ে ভালোবাসতে চাই তোমাকে।বাচতে হলে আমার তোমাকেই লাগবে।নিজেকে অনেক আগেই হারিয়েছি।তোমাতে।বিশ্বাস করো অদ্রি,আমি না হয় আজ জানালাম তোমাকে,কিন্তু আমার অশান্ত,অগোছালো মনটা অনেক আগেই আমাকে জানিয়েছে।আমার মাঝে আমি নেই।আমার…আমার তো সবটাই তুমিময়।*সবটাই তুমিময়*

ঠোট কামড়ে ধরে কাদছিলাম।উনি জরিয়ে নিলেন আমাকে।পেছন থেকে জরিয়ে রেখে বললেন,

-আচ্ছা আচ্ছা,সরি!এবার তো থামো?আমি কি করে জানবো তুমি এতো ভালোবাসো আমাকে?সবসময় তো রাগটাই দেখিয়েছো।দেখো,আজ যখন তানহার ফোন থেকে জানলাম তুমিও আমাকে ভালোবাসো,আজই প্রপোজ করলাম তোমাকে।

নাক টেনে টেনে কাদছিলাম।অঙ্কুর আঙুল দিয়ে আকাশে তাকানোর জন্য ইশারা করলেন।তাকালাম।অন্ধকার আকাশ জুড়ে আলোর খেলা।তাতে স্পষ্ট লেখা,” উইল ইউ ম্যারি মি?”

-এগেইন?

অঙ্কুর আমার কানে ফিসফিসিয়ে বললেন কথাটা।এবার হেসে দিলাম আমি।ওভাবেই জরিয়ে রেখে সামনে আমার হাত তুলে ধরলেন উনি।আলতো স্পর্শে অনামিকা আঙুলে একটা আংটি পরিয়ে দিলেন।ওটা দেখে মনপ্রান ভরে উঠলো।পেছন ফিরে সবে তার গালে হাত ছোয়াবো বলে হাত বারিয়েছি,সাথেসাথে অনেক কোলাহল কানে বাজলো আমার।রাস্তাটা লোকে লোকারন্য হয়ে গেছে।অনেকগুলো গার্ডস্ মিলে ক্যামেরাধারী সাংবাদিক,পাব্লিককে আটকে রেখেছে।অঙ্কুরকে ছেড়ে মাথা নিচু করে খানিকটা পেছনে দাড়ালাম তার।প্রচন্ড ইতস্তত লাগছিলো।উনি হাত ধরে সামনে দাড় করালেন আমাকে।সবার সামনে বলে উঠলেন,

-মিট মাই ফিয়ন্সে।জার্নালিস্ট আকাশ ইলিয়াস আর অনিতা মেহরানের মেয়ে,আহানিতা সিদরাতুল।ওর সাথেই বিয়ে হতে চলেছে আমার।

সবাই একপ্রকার হুমড়ি খেয়ে পরছে এগোবে বলে।একের পর এক প্রশ্নও ছুড়ছে।অঙ্কুর বললেন,

-সবেমাত্র প্রোপোজ করলাম।এই লাভ বার্ড দুটোকে আপাতত ছেড়ে দিন?সবসময় সব পরিস্থিতিতে কোথথেকে অবতীর্ন হোন আপনারা,কে জানে!যাই হোক,আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর বিয়ের ইনভিটিশন কার্ডসহ পৌছে দেবো।প্রথমবারের মতো আপনাদের প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য দুঃখিত।এক্সকিউজ আস!

গার্ডদের ইশারা করে ভীড় ঠেলে উনি হাত টেনে বাসার ভেতরে নিয়ে আসলেন আমাকে।ভেতরে ঢুকে দেখি মনিমা হাসিমুখে দাদু,দাদীমার সাথে কথা বলছে।অঙ্কুর আস্তেকরে বললেন,

-মাকে মেয়েপক্ষের বাসায় পাঠিয়েছিলাম,বিয়ের কথা বলতে।আর তুমি তো রাইতাকে কল্পনা করে কেদেকেদে একসা!

সরু চোখে তাকালাম তারদিকে।উনি ইনোসেন্ট একটা হাসি দিলেন।বললাম,

-আপনি সবটা জেনেশুনে…

-প্রথমবার দেখার পর থেকেই‌ আলাদা অনুভুতি ছিলো তোমাকে ঘিরে অদ্রি।মায়ের কথা মনে রেখে,ভেবেছিলাম,ইট উড বি আ রিভেন্জ স্টোরি।কিন্তু পারিনি নিজেকে সামলাতে।আমার অজান্তেই,ইট টার্নড্ ইনটু লাভস্টোরি।ইউ টার্নড্ ইনটু মাই এভরিথিং!যদি ভালোবাসি বলে ভালোবাসি নাই শুনতে পাই,তারচেয়ে কষ্টের আর কিই বা হতো?তাই তোমাকে জেলাস ফিল করাতে রাইতাকে নিয়ে এসব…

-তাই বলে এতোটা অঙ্কুর?এটা বলুন?আপনার জায়গায় আমি যদি অন্য কোনো ছেলের সাথে ওভাবে চলাফেরা করতাম?আপনি কি করতেন?

-ওমা!এজন্যই তো তিহানের বিয়েটা আগে দিলাম!তাছাড়া,এমনিতেও জানতাম,তিহানকে যখন রিজেক্ট করেছো,তোমার দ্বারা আমি ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসা পসিবল না!

ফু দিয়ে শ্বাস বের করলাম।দাদু আমাদের দরজায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে বললো,

-সবটা তো লাইভ টেলিকাস্ট দেখলাম।কিছুই বলার দরকার নেই।আমরা বড়রা বিয়ের ডেইট ফাইনালাইজ করছি,ততক্ষন তোমরা না হয় নিজেদের মধ্যে কথা বলে নাও?

-থ্যাংকস্ জমিদারমশাই!

তাদের কথাকে ইগ্নোর করেই মনিমার দিকে এগোচ্ছিলাম।কিন্তু অঙ্কুর হাত ধরে টানতে টানতে রুমে নিয়ে আসলেন আমাকে।হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম,

-আরেহ্!এভাবে রুমে আনলেন কেনো?সবাই কি ভাবছে?চলুন বাইরে!ওরা….

-সবাই জানে তুমি আমার হবু বউ!ইনফ্যাক্ট তোমার দাদুকে প্রথমদিনই বলেছিলাম,তোমাকে ভালোবাসি।বিয়ে করতে চাই তোমাকে।তার কথা ছিলো,তোমার মতামত।আজ দেখেছে,উই লাভ ইচ আদার!আর কোনো কথাই নেই তার।আর রইলো মা?সে তো জানে,তুমি আমার বউ!

-তারমানে দাদু…

উনি এগোলেন।দুপা পেছোলাম আমি।অঙ্কুর মুচকি হেসে বললেন,

-ওসব ছাড়ো।এটা বলো,কলেজ লাইফের পর এএসএ প্রথমবারের মতো ব্যাট ছেড়ে গিটার ধরলো।কাজে দিয়েছে তাইনা?ওর ভালোবাসার মানুষটা ওকে ভালোবাসি বলেছে।এমনি এমনি বলি না অদ্রি,আমার বিশ্বাস সবসময় জিতে যায়।

মুচকি হেসে বললাম,

-আপনার এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে নিঃস্ব হতে চাই অঙ্কুর।যাতে সবসময় আপনার বিশ্বাস জিতে,আমাকে জিতিয়ে দিয়ে যায়,রাঙিয়ে দিয়ে যায়,আপনার ভালোবাসার রঙে।

উনি এগোলেন।কিছুটা হচকিয়ে গিয়ে বললাম,

-এ্…একি?এগোচ্ছেন কেনো?

-রাঙাই?আমার ভালোবাসার রঙে!

শিউরে উঠলাম।ওনার থামার নামগন্ধ নেই।পিছোতে গিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলো আমার।আমার ঘাড়ের একপাশ দিয়ে দেয়ালে হাত রেখে দাড়ালেন উনি।কেমন যেনো অসম্ভব কম্পন শুরু হয়ে গেলো শরীরমন জুরে।নিজেকে শক্ত দেখাতে মাথা তুলে বললাম,

-দেখুন…

-হুম?

-স্ সরুন!য্ যেতে দিন।

-কেনো?বউ হও আমার!

-তাই?তা কষ্টও তো কম দেননি!

-এবার থেকে আদর করবো!

ভয়ের শুরু।এক অদ্ভুত আনন্দমিশ্রিত ভয়!পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গলা ঝেড়ে বলতে লাগলাম,

-আপনি জানেন আপনি একটা নিষ্ঠুর,স্বার্থপর,চরম কঠিন,অসম্ভব রহস্যময় একটা মানুষ।আর হ্যাঁ,খুব বোকাও!বাজে একটা লোক!এভাবে কষ্ট দিয়ে কি লাভ হলো?আমি তো….

আরো কিছু বলার আগেই অঙ্কুর একহাতে আমার কোমড় জরিয়ে ধরে কাছে টেনে নিয়েছেন আমাকে।গালে একহাত রেখে ঠোট নিজের আয়ত্ত্বে নিয়ে নিয়েছেন তৎক্ষনাৎ।পুরোপুরিভাবে নুইয়ে গেলাম আমি।চোখ বন্ধ করে জামা খামচে ধরে রইলাম।অনেকটাসময় পর ছেড়ে দিলেন উনি আমাকে।মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আমি।উনি বললেন,

-হ্যাঁ,আমি সব।

….

-বলেছিলাম না?তোমার এই চোখ তুলে কথা বলা সহ্য হয় না আমার।অতিরিক্ত সাহস কেড়ে নেবো তোমার।আজ দেখো,এতোটুকো চোখ তুলে তাকাতে পারছো না তুমি।মিসেস পর্বতশৃঙ্গের সাহসের কমতি পরা শুরু হয়ে গেছে।কি হবে তোমার অদ্রি?এটুকোতেই এই?আমার জমা করা সব ভালোবাসা যখন উজার করে দেবো তোমাকে,তখন কি হবে তোমার?

সত্যিই কোনো কথা বলতে পারছিলাম না।বেরোচ্ছিলোই না মুখ দিয়ে।জীবনে প্রথমবার,কারো এই ছোয়া,আমার নিজস্বতা কেড়ে নিয়েছে।অল্প কিছুক্ষনের ওই মুহুর্ত কথা বলার সব ক্ষমতা বিলীন করে দিয়ে গেছে আমার।অবশ লাগছে শরীর।অঙ্কুর আবারো হাত টেনে তার সামনে দাড় করালেন আমাকে।কপালের চুলগুলো কানে গুজে দিয়ে বললেন,

-হ্যাপি ফার্স্ট মান্থ এনিভার্সেরি অদ্রি।

বিস্ময়ে তাকালাম আমি।উনি মুচকি হেসে বললেন,

-ভুলোমনা বলেছিলে না আমাকে?কে হলো তবে?ভুলোমনা?

আবারো মাথা নিচু করে নিলাম আমি।উনি আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বললেন,

-পুরো পৃথিবীর দৃষ্টিতে আমার বউ হবে বলে প্রস্তুত হও অদ্রি।গেট রেডি!দুজনের প্রতি দুজনার এই দগ্ধ ভালোবাসার সুমিষ্ট পরিনতির জন্য যে বড্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে আছি।আর দুরে রাখতে পারবো না তোমাকে।এতোটুকোও না!

#চলবে…

[ অতো বকলেন কেনো?ভুল কি বলেছিলাম?মন তো ভেঙেছেই অঙ্কুর ক্রাশদের তাইনা?এখন যদি অঙ্কুরোদ্রির বিয়ের দাওয়াত না দেই?😐
এনিওয়েজ,লেখিকা কিপ্টে না।সিয়া শুদ্ধর বিয়েতে দাওয়াত দেইনি বলে এতোএতো কথা শুনিয়েছেন সবাই মিলে!অঙ্কুরোদ্রির বিয়েতে আপনারা সবান্ধবে আমন্ত্রিত।আসিয়েন!ঠিকানা”….”
আর হ্যাঁ,আজ যারা গঠনমুলক মন্তব্য করবেন না,ঠিকানা চোখে পরবে না তাদের।ডট ডট দেখবেন😒তাই অঙ্কুরোদ্রির বিয়েতে পেটপুর্তি করতে চাইলে দুলাইন রিভিউ লিখে যাইয়েন!
হ্যাপি রিডিং♥ ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here