সাঁঝেরবেলায় তুমি আমি পর্ব ৭

0
62

#তাসনিম_তামান্না
#সাঁঝেরবেলায়_তুমি_আমি
#পর্ব_৭

🍁🍁🍁

সময় বহমান। কেটে গেছে বেশকিছু দিন। প্রমি আরমানের সম্পর্কটা আগের মতোই আছে প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারোর সাথে বেশি একটা কথা বলে না। আরমান যতটা সম্ভব প্রমির প্রতি দায়ীত্ব পালন করে। প্রমি আগের থেকে এখন অনেক পড়ালেখাই সিরিয়াস হয়েছে। তার মধ্যে আশাকে কাজে হেল্প করা গল্প করা তো আছে। প্রমি আর সাবিহার মধ্যে সম্পর্কটাও বেশ ভালো হয়েছে।
.
.
প্রমি সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়ে নিচে এসে আশার উৎফুল্ল কন্ঠ শুনতে পাই। আশার পারলে তো বাড়ি মাথায় করে রাখতো। প্রমি এগিয়ে গিয়ে আশার পাশে সোফায় বসলো আশা ফোনে কারোর সাথে উৎফুল্ল হয়ে কথা বলছে। আশার চোখ মুখে খুশির আভা। প্রমি বুঝতে পারছে না আশার এমন হঠাৎ খুশি হওয়ায় ফোনে কে কি বলছে তাও বুঝতে পারছে না প্রমি। কিন্তু আশার ‘যাবো না মানে অবশ্যই যাবো কতদিন পর তোদের সাথে দেখা হবে’ আশার এইটুকু কথায় বুঝতে পারলো কোথাও যাবে। প্রমি বসে রইলো আশার ফোন কাটার অপেক্ষায়। প্রায় বেশ কিছুক্ষণ পর ফোন কেটে দিলো আশা।

-প্রমি রে আমার এতো খুশি লাগছে কি বলবো তোকে (আশা)

-কেনো মামনি কি হইছে তোমাকে খুব খুশি দেখাছে (প্রমি)

-খুশি হবো না আমার বড় বোনের সাথে দেখা হবে কতদিন পর বলতো সেই কবে দেখা হইছে ব্যস্ততার কারণে তো কারোর সাথে কারোর দেখা হয় না এই অনুষ্ঠানে যদি দেখা হয় (আশা)

-অনুষ্ঠান? কিসের অনুষ্ঠান মামনি (প্রমি)

-ওহ ঔ দেখ তোকে তো কিছুই বলি নি আচ্ছা শোন…. যখন আমি তোর মামার সাথে পালিয়ে আছি তখন আমার বাবা-মা আমার ওপর খুব রেগে যান এমনিতেই আমরা দুবোন কোন ভাই নাই। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে আমার জন্য ছেলে দেখতেছিলো তার মধ্যে আমি পালিয়ে চলে আশায় তারা খুব রেগে যায় তখন তোর মামার বাবা-মা ছিলো না আর তেমন বড়লোক ও ছিলো না। যখন আমরা পালিয়ে বিয়ে করে নি তখন হাতে মাত্র ৪৫৮০ টাকা ছিলো এই অল্প টাকায় কিভাবে চলবো। আর শহরে সব জিনিসের দাম ই বেশি। অনেক খুঁজে বস্তিতে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে খুব কষ্টে জীবন কাটাতে লাগলাম তোর মামাও কাজ খুজতে লাগলো কিছুদিনের মধ্যে কাজ পেয়েও গেলো। তাও আমাদের ভালো চলছিলো না দিন আনি দিন খাইয়ের মতো অবস্থা টাকাও জমাতে পারছি না তখন আমি তোর মামাকে বললাম ‘আমি ও কাজ করি তুমি ও কাজ করবা আমিও কাজ করি’ এই কথা শুনে তোর মামার কি রাগ। (একটা শ্বাস নিয়ে আবার বলল)…এরপর তোর মামা কাজের মধ্যেও চাকরি খুঁজতে লাগলো কপাল ভালো থাকায় কয়েকদিনের মধ্যে একটা চাকরি পেয়েও গেলো আস্তে আস্তে আমাদের উন্নতি হতে লাগলো বস্তির ভাড়া বাসা থেকে আমরা উঠলাম ইটের দালান বাড়িতে। তোর মামা সব দিকেই সামলে নিয়েছিলো তার কিছু মাস পর তোর মামা নিজের ব্যবসা শুরু করলো তখনি একটা খুশির সংবাদ পেলাম আমি ‘মা’ হবো পবিত্র একটা ছোট প্রাণ আসতে চলেছে। সেদিন আমি আর তোর মামা খুশিতে খুব কেঁদেছিলাম প্রথম মা বাবা হওয়ার অনুভূতি তোকে বলে বুঝাতে পারবো না। তোর মামা দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেলো আমার দেখাশোনা সাথে ব্যবসা বড় কেউ নাই যে হেল্প করবে পাশে দাড়িয়ে ভরসার হাত রেখে বলবে ‘আমি আছি তো তোদের সাথে ভয় কিসের’ কিন্তু আপসোস কেউ ছিলো না। আমরা দুজন একে ওপরের ভরসা ছিলাম। (আবার দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলল)…. জানিস তোর মামা আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় পেতো অনেক আছে না বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায় ওমন টাইপ কিন্তু আমি ভরসা দিয়ে বলতাম তোমাদের ছেড়ে কোথাও যাবো না।।।।। আসল লেখিকা-তাসনিম তামান্না।।।। আস্তে আস্তে ডেলিভারির ডেট ঘনিয়ে আসলো আমাকে হসপিটালের ভর্তি করা হলো। আমার রক্ত লেগেছিলো অনেক খুব একটা খারাপ অবস্থা তোর মামা একা ছোটাছুটি করেছে। আমাকে সুস্থ করে তুলেছে জানিস। আমাদের রিলিজ দিয়ে যখন এবাড়িটাতে আনলো আমি খুব অবাক হয়েছিলাম তখন আমার অবাক হওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলো ‘আজ থেকে এটা আমাদের বাড়ি তোমার সংসার সামলে নিও’ অনেক খুশি হয়েছিলাম আমি। তোর মামা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাড়িটা বানিয়েছিলো আমি জানতাম না বলেছিলো ‘আমার ছেলে ভাড়া বাড়িতে কেনো যাবে নিজের বাড়িতে থাকবে আজ থেকে ওর কোনো ত্রুটি রাখবো না আমার মতো জেনো আমার ছেলেকে কখনো কষ্ট পেতে না হয়’ সেই থেকে বাড়িটা। আমার ছেলে হওয়ার কথা শুনে আর তোর মামা একজন বিজনেস ম্যন বলে আমার বাবা-মা মেনে নিয়েছে।।।। আসল লেখিকা-তাসনিম তামান্না।।।। এর মধ্যে বড়বোন আমার সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছিলো কিন্তু বাবা-মা করতে দেই নি। ওবাড়িতে যাই না বেশি কিন্তু মা-বাবাকে খুব মিস করি। যখন মিস করি তখন ফোনে কথা বলে নি। আর আমার বড় বোনের ছেলের বিয়ে বুঝলি কতদিন পর দেখা হবে। (আশা)

প্রমি চোখে পানি কতটা পরিশ্রম, কষ্ট করে এতোদূর এসেছে। আশার চোখেও পানি কিন্তু মুখে তৃপ্তির হাসি।

-এই তুই কাঁদছিস কেনো? (আশা)

প্রমি চোখের পানি মুছে হেসে বলল

-কতটা কষ্ট করে এখানে আসছো সেটা শুনে (প্রমি)

-সবসময় পাকা পাকা কথা তাই না (আশা)

প্রমি হাসলো। আশা আবার বলল…

-শোন লাগেজ গুছিয়ে নিস আমরা দুই দিনের মধ্যে যাবো (আশা)

প্রমি কিছু একটা ভেবে বলল

-মামনি আমাকে নানুমনির কাছে দিয়ে আসো এই ক’দিন আমি ওখানে থাকি তোমরা তার মধ্যে ঘুরে আসো (প্রমি)

আশা কঠিন চোখে তাকালো প্রমির দিকে প্রমি চুপসে গেলো। কঠিন ভাবেই বলল

-চল আমার সাথে ছাগলটা কি করছে দেখে আছি? (আশা)

প্রমির হাসি পেলো কারণ আশা আরমানকেই ছাগল বলছে। প্রমি আশার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিলো। সেটা দেখে আশা বলল

-হয়েছে চল (আশা)
.
.
আশা দরজা ঠেলে ভিতরে ডুকলো প্রমিও পিছনে পিছনে আসলো। প্রমি আগে কখনো আরমানের রুমে আসে নি। আসার দরকারও পড়ে নি। সন্ধ্যার সময় ঘর অন্ধকার দেখে প্রমি অবাক হলো তাও দরজার ফাঁক দিয়ে কিছু টা আলো আসছে। আশা সুইস দিয়ে ঘর আলোকিত করে দিলো।।।। আসল লেখিকা-তাসনিম তামান্না।।। প্রমি ঘরের চারিদিকে চোখ বুলিয়ে নিলো সারা রুম পরিপাটি করে গুছানো কিন্তু বিছানা অগোছালো সেখানে আরমান বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে আছে। আশা দুবার আরমানকে ডাকলো আরমান উঠছে না দেখে গ্লাস থেকে একটু পানি দিয়ে আরমানের মুখে দিলো আরমান ধরপরিয়ে উঠে বসলো। বোঝার চেষ্টা চালাছে কি হইছে কিছুক্ষণ পর বুঝতে পেরে রাগি চোখে তাকিয়ে বলল

-আম্মুউউ…ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিলে তো (আরমান)

প্রমি মুখ টিপে হাসছে। আশা জোরে জোরে হাসলো। সেটা দেখে আরমান ওয়াসরুমে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর এসে ওদের দুজনকে দেখে বলল…

-কি হইছে (আরমান)

-কি হই নি তাই বল (আশা)

-মানে (আরমান)

-সাব্বিরের বিয়ে!!.. (আশা)

-কিহহ!! (আরমান)

-জী (আশা)

-সত্যি (আরমান)

-হুম (আশা)

-ইয়েএএএ তারমানে আমরা যাচ্ছি (আরমান)

-হুম (আশা)

-কবে (আরমান)

-তোর বাবা জানে (আশা)

-ওফ আম্মু খুব মজা লাগতাছে ভাইয়ার বিয়েতে যাবো কতদিন পর দেখা হবে দাঁড়ও ভাইয়াকে ফোন দি না থাক এখন তো সন্ধ্যা ও চেম্বারে ফোন ধরবে না (আরমান)

-পাগল ব্যাগ গুছিয়ে রাখিস চল প্রমি (আশা)
.
.
প্রমি রুমে এসে পড়তে বসেছে কিন্তু পড়ায় মন নেই। প্রমি মনে মনে নানান জল্পনা কল্পনা করছে ‘সবারই তো একজন না একজন ভালোবাসার মানুষ থাকে। কিন্তু আমার তো কেউই নাই না আছে মা আর বাবা তো থেকেও নেই নানুমনি, মামা, মামনি এরাই বা কত করবে আমার জন্য অনেক করছে ওরা আমাকে আগলে রাখছে কত ভালোবাসা দিচ্ছে কিন্তু কোথাও যেনো একটা ফাঁক থেকেই যায় কেনো জানি না কাউকে আপন ভাবতে পারছি না ভয় করছে যদি ছুড়ে ফেলে দেই তখন কি হবে আমার আমি ও তো ওদের অনেক ভালোবেসে ফেলছি’ এমন অনেক কথা ভাবছে প্রমি।

#চলবে….
#Tasnim_Tamanna

[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠন মূলক কমেন্ট করবেন। একটা কথা না বললেই নয় আমি এতো কষ্ট করে গল্প লিখি আর এটাকে কিছু কপিবাজ কপি করে নিজের নাম দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে আমি এতো কষ্ট করে লিখে আমার কোনো কের্ডিট নাই। যাই হোক এসব বাদ দেন]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here