সুখতারার খোজে পর্ব -বোনাস

0
86

#সূখতারার_খোজে🧚‍♀️
#লেখক:আর আহমেদ
বোনাস পর্ব

উপস্থিত সকলে ঘটনায় জড়িত! এ যেন একে অপরকে নিয়েই তৈরি পুরো ঘটনা! যে যেমন যাকে ভালোবেসেছে, সে ঠিক তেমনি অন্যায় করেছে! করেছে কারো প্রতি অন্যায় নয়তো ভালো। তারা দু’পলক তূরকে, আরেক পলক অভ্রের দিকে। সূদুর আকাশ পানে তাকিয়ে স্হির অভ্র। হয়তো তার খুব কষ্ট হচ্ছে! বুক ফেটে যাচ্ছে। সব হাড়িয়ে আজ সে নিঃসন্দেহে নিঃস! এখতেয়ার সহ অপরাধী তনয়াও। জানা হলো না তারার অপরাধ। এখতেয়ার ইলিমার থেকে চোখ সরিয়ে বলে উঠলেন,

-আজ যদি তূর আর তনুকে ইলিমা দেখে রাখতো তো হয়তো দুজনে এমন কুটিল কাজ করতো না!

কথাটায় ইলিমা চট করে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। এখতেয়ার থামিয়ে দিলেন ইলিমাকে। বলে উঠলেন,

-আহ্! তুমি চাইলেই ছেলে মেয়ে দুটোকে আটকাতে পারতে। ওরা নিজেদের জন্য,ভুলের জন্য নিজেদের সহ তিন তিনটে জিবন নষ্ট করেছে। কি তূর? কেন তোমরা এমন করেছিলে?

অভ্র হঠাৎ বলে উঠলো,

-আমার আর তারার সম্পর্ক জানিনা তূর কিভাবে জানলো, সেদিন ও আমায় তারার বিরুদ্ধে ওর অন্তরালে ওর কোচিং সেন্টারের রোহান সম্মন্ধে এমনসব কথা বলেছিলো যা আমি…

তারা অভ্রের দিকে হতাশার শ্বাস টেনে বললো,

-ও! আজ বুঝলাম! এইতো বিশ্বাস! ভাগ্যিস এই ঠুঙ্ক সম্পর্ক ভেঙেছে! জানেন? কষ্ট হচ্ছে কবিতার জন্য!

-ও আমায় কিছু ফটোও দেখিয়েছিলো, যেখানে তুমি আর রোহানের হেঁসে কথা বলার ছবি! কি তাইতো তূর?

নিশ্চুপ তূর। মুখ ফুটে কথা বলার সামর্থ্য নেই তার। আফসোস হচ্ছে তনয়ার। কতোগুলো সম্পর্ক শেষের পথে আজ! এখতেয়ার আবারো বলতে লাগলেন,

-আমি আন্দাজ করে বলি সবটা? যেহেতু তূর তারাকে আর তনয়া অভ্রকে ভালোবেসেছিলো, তাই ওরা খুব জঘন্য ও কুটিল একটি বুদ্ধি করে৷ অভ্রকে ভুল বুঝায় দুজনে মিলে। এর এর ফলস্বরূপ তারা কি ভালো আছে? পেয়েছে নিজের ভালোবাসার মানুষকে? পায়নি!

অভ্র উঠে দাড়ালো। তার বুকে ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে কষ্টে! সকল একাকিত্ব বোধ বুঝি তার”ই জন্য বরাদ্দ! দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দু’পা এগোলো অভ্র। ফের পিছে এসে তারাকে বললো,

-যদি কখনো মনে করো আমার ক্ষমা পাওয়া উচিত তখন না হয় মাফ করে দিও?

অশ্রুসিক্ত নয়নে বেড়িয়ে গেলো অভ্র। দিক সারা লাগছে তারার কাছে। তূর একপ্রকার ছুটে ঘরে চলে গেলো। তনয়া হঠাৎ জড়িয়ে নিলো তারাকে। অঝোর বৃষ্টির মতো কেঁদে উঠলো তনয়া। চাইতে লাগলো মাফ! হয়তো ক্ষমার যোগ্য নয় বলেই তারাও উঠে চলে গেছিলো তখন।

কেটে গেলো প্রায় এক মাস!

সবাই সবটা জেনে গেলো। জানলো কবিতার মা-বাবা সকলে। অনেক বলে কয়েও ফ্লাট থেকে ফেরাতে পারলো না কবিতাকে। তারাও ব্যার্থ হলো। অভ্রকে তার মা বাবা ও বলেছিলো কবিতাকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব তার। অভ্র হাত জোর করেছিলো পর্যন্ত!একমাসে সবথেকে খারাপ অবস্থাটা অভ্রের! নিজের বাবাই তাকে মৃত ঘোষণা করেছে! বহিষ্কার করেছে অভ্রকে! আজ দু সপ্তাহ সে বের হয়নি বাড়ি থেকে। ঘর বন্দি থাকে সব সময়। প্রতিটা সেকেন্ড তার জন্য অতি কষ্টকর! একা সে পুরো পৃথিবীতে! আজ হয়তো সে ও বাড়িতেই আছে কিন্তু তার পাশে নেই কেউ! ইরা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। ছেলে আর ছেলের বৌয়ের চিন্তায় তিনি ক্রমান্বয়ে অসুখের পথে।

এক্সাম শেষ! কবিতা আর একটিও এক্সাম ভালো দিতে পারেনি! বলতে গেলে পুরো পড়াশোনাই বন্ধ করে দিয়েছিলো কবিতার। এক একটা দিন তাকে কাটাতে হচ্ছে কষ্টে।

-কবি আসবো?

দারে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো তারা। কবিতা স্বর চিনেই বললো,

-আয়।

-কি করছিস? সবসময় এমন বসে থাকিস কেন তুই?

-ভালো লাগছিলো না তা…

-তোর কি কোন সময়েই ভালো লাগেনা? সবসময় দেখি বলকনিতে। কি এতো বেলকনিতে তোর?

কবিতা আড়ালে চোখের পানি মুছে ঘরে এলো। বিছানায় বসলো তারা। ব্যাগ থেকে বের করলো একটা লাল ডিব্বা। কবিতা যেন দেখেই চিনলো এর ভেতরে কি আছে। বলে উঠলো,

-তুই নাড়ু এনেছিস কেন?

-তোর জন্য। খা তারাতাড়ি।

-পড়ে খাবো..

কবিতাকে থামিয়ে চেঁচিয়ে বললো তারা,

-তারা প্লিজ! একটু নরমাল হ। তোর প্রিয় নাড়ু নিজ হাতে বানিয়ে এনেছি। এমন করিস না প্লিজ। খেয়ে নে।

-খিদেই পায়না।

-চেষ্টা করেছিস কখনো? তুই অভ্রকে ছাড়া বাঁচতে পারবি না কবিতা। প্লিজ ফিরে চল।

-এখনো তুই ফিরতে বলছিস?

-আচ্ছা তুই আন্টি আঙ্কেলের কথা একবার ভাব। তুই তোর মা বাবার কথা একবার ভাব, ওনারা আজও আমায় ফোন করে বলেছেন। প্লিজ কবি চল আমার সাথে।

-আর কতদিন তিনমাসের?

-ত..তারমানে তুই ডিভোর্স নিবিই নিবি?

-হুম নিবো।

-এ তিনটে মাস তোকে ও বাড়িতে থাকতে হতো তারা। তুই এখানে থাকলেই কি পাবি ডিভোর্স?

-পাবো!

-কিন্তু..

-আমার মামাই যেখানে একজন জর্জ তারা..

-তো তুই এটার অপব্যবহার করবি?

-করবো। আমি ডিভোর্স চাই। আর দহন সম্ভব নয়। আর নয়।

-কবি..

তারার কথার মাঝেই বেজে উঠলো ফোনটা। কবিতা ফোন রিসিভ করলো। ওপাড় থেকে বলে উঠলো কেউ,

-কবিতা আরেকবার ভাবো। দুমাস প্রায় শেষ তু…

-পেপার্স পাঠিয়ে দিবেন। রাখছি!

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here