সেই_আদুরে_দিন পর্বঃ১৩

0
210

সেই_আদুরে_দিন
পর্বঃ১৩
#Arshi_Ayat

বারান্দা থেকে অদূরের বিশাল আকাশটা বেশ ভালো ভাবেই দেখা যাচ্ছে।অন্তরীক্ষের অনামিশায় হিরের কণার ন্যায় ঝকমক করছে অসংখ্য নক্ষত্র।আর তাদের মাঝেই আত্ম অহমিকায় আলো ছড়াচ্ছে আজকের নিশীথিনী।শুক্লাদ্বাদশীর এগারোতম দিন হওয়ায় চাদের ঔজ্জ্বল্যতা কিছুটা কম।আর মাত্র তিনদিন পরই পূর্ণিমা।

‘শুনেছিলে গত একমাস আগে পহেলা বৈশাখের দিন রবীন্দ্র সরোবরে,রমনা পার্কে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিলো!’রৌদ্রুপ হঠাৎই প্রশ্নটা করলো।

‘হ্যাঁ।’মাথা নেড়ে জবাব দিলো শুদ্ধতা।

‘ওই ঘটনার মাস দুয়েক আগেই আমরা খবর পাই দেশে একদল জঙ্গি ঢুকে পড়েছে এবং কিছুদিনের মধ্যেই জঙ্গি হামলা হবে খবরটা পাওয়ার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সিক্রেট টিম সর্বত্র নজরদারি জোরদার করে।ওই ইউনিটের নেতৃত্বে আমি ছিলাম।এই খবর পাওয়ার বেশ কয়েকদিনের মধ্যেও কোনো হামলা হয় নি।আমরা ফল’স নিউজ ভেবে নিয়েছিলাম কিন্তু তারপরই ১৪ ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখে একই সময় রবীন্দ্র সরোবর,রমনা পার্কে বোমা বিস্ফোরণ হয়।দু’টোই আত্মঘাতী বোমা হামলা ছিলো।অনেক মানুষ মারা যায় ওইদিন।ওই ঘটনার পর আমাদের সিক্রেট টিম মাঠে নেমে পড়ে।আর সাতদিনের জন্য বাংলাদেশের আউট গোয়িং ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা বসানো হয়।কেউ আসতেও পারবে না যেতেও পারবে না।আর সারাদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।ইতিমধ্যে আমাদের স্পেশাল টিমও কাজ শুরু করেছে।কয়েকজন জঙ্গিকে আটক করা হয়েছিলো।ওদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পরও কোনো কিছুই জানা যায় নি তাই ক্রসফায়ার করা হয়েছে।অভিযান তখনো চলছিলো।জঙ্গিগুলো একে একে ধরা পড়ছিলো।কয়েকটা নিজেই আত্মহত্যা করেছিলো আর কয়েকটা ক্রসফায়ারে মরেছিলো।একসপ্তাহের মধ্যেই এই ভয়ানক অভিযান শেষ করেছিলাম আমরা।তারপর আবার
দেশ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।১৪৪ ধরা তুলে নেওয়া হয়,বাংলাদেশের ফ্লাইটও চালু করা হয়।সীমান্তের অতিরিক্ত পুলিশও সরিয়ে ফেলা হয়।কিন্তু কিছুদিন পরই আমাদের গোয়েন্দা টিমের সকল সদস্যের কাছে একটা মেইল পাঠানো হয়।মেইলটাতে বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ছিলো যেগুলো পেলে সহজেই একটা রাষ্ট্রকে দখল করা সম্ভব।মেইলটা দেখে আমাদের সব সদস্যদের ঘুম উড়ে গেছে।এবং এই তথ্যগুলো কোনো প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের হাতে পড়লে ওরা রাষ্ট্র দখলের চেষ্টা করবে।এটা নিয়েই বেশ তোলপাড় চলছিলো।আমাদেরকে হুকুম দেওয়া হয় তথ্যগুলো যে করেই হোক উদ্ধার করার জন্য।অফিসিয়ালি কাজ শুরুও করে দেওয়া হয়েছিলো।কিন্তু আনঅফিশিয়ালি আমরা একটা দল করি।হোল ইউনিটের কয়েকজন তুখোড় গোয়েন্দা মিলে টিম’টা করেছিলাম আমরা।আমরা অনেক গুপ্তচর আর অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের সংস্থায় এমন কেউ আছে যে টেরোরিস্টদের সাথে হাত মিলিয়ে এসব তথ্য পাচার করছে।আমরা উঠে পড়ে লাগি কালপ্রিট’টাকে খুঁজে বের করতে।কারণ ওদের বার করতে পারলেই সব জানতে পারবো।অনেক অনুসন্ধানের পর জানতে পারি ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মী টেরোরিস্টদের সাথে মিলিত।ওকে আটক করে কৌশলে ওর থেকে তথ্যগুলে উদ্ধার করলাম কিন্তু ওই টেরোরিস্টদের ধরার আগেই ওরা পালিয়ে যায়।তবে আমাদের ধারণ ওরা ভিনদেশী গুপ্তচর।আমরা ওদের ধরার জন্য একটা প্ল্যান বানিয়েছি সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।এমন প্ল্যান করেছি যে ওরা দেশ থেকে পালাতে পারবে না আর দেশে থাকলে আমাদের হাতে পড়তেই হবে।

সব শোনার পর শুদ্ধতা বলল,’কিন্তু আমরা পালিয়ে আসলাম কেনো ঢাকা থেকে?’

‘কারণ এটাও প্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত।শুধু প্ল্যানের বাইরে ছিলো আমাদের বিয়েটা।এখনো কেউ জানে না আমি বিয়ে করেছি।’

‘কিন্তু আপনি ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন কেনো বিয়ের দিন?’

‘আমি একটা টেরোরিস্টের পিছু নিয়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম তবে বিয়ে বাড়ির ভিড়ে ওকে হারিয়ে ফেলি।পুরো বিয়ে বাড়ি চষেও পেলাম না।পরে কি করবো দাড়িয়ে দাড়িয়ে বিয়ে দেখা শুরু করলাম কিন্তু তাতেও শান্তি নেই তোমার এক্স হবু বরের মা অশান্তি শুরু করলো।দেখলাম ওরা চলে যাচ্ছে তো আমি সেই সুযোগটা কাজে লাগালাম।এমনিতে তো মেয়ে দেখা,শপিং,হলুদ,বিয়ে,বৌভাত একশটা করতে হতো তাই ভাবলাম অল্পতে বিয়ের কাজটা সেরে ফেলি সারাজীবন কি আইবুড়ো থাকবো নাকি!’এটা বলেই রৌদ্রুপ চোখ মারলো।

শুদ্ধতা চোখ পাকিয়ে বলল,’ফাজিল একটা।’
———————
এতক্ষণ বাইরে ছিলো রিভান।গোডাউনে ফিরে দেখলো সিনাত চেয়ারে বসে ঘাড় কাত করে ঘুমিয়ে পরেছে।যার কারণে ওর খোলা চুলগুলো সামনে এসে মুখটা পুরো ঢেকে গেছে।রিভান ওর দিকে একবার তাকিয়ে নিজের চেয়ারে বসে নিক্স’কে ফোন দিলো।ফোন রিসিভ করতেই রিভান বলল,’কোথায় তোমরা?’

‘আমি আর আনা ফিরছি।বুড়োটাকে পেলাম না আর ভিকি কোথায় জানি না।’

‘আচ্ছা।মেয়েটাকে কি করবো?’

‘আমরা না ফেরা পর্যন্ত কিছু করবে না।’

‘ওকে।’
রিভান কল কেটে দিলো।বিরক্ত লাগছে নিক্সের প্রতি।জীবনেও রিভান কোনো মেয়েকে পাহারা দেয় নি।কিন্তু আজ দিতে হচ্ছে।এফ এস বি এর টপ ক্লাস এজেন্ট নাকি একটা মেয়েকে পাহারা দিচ্ছে বাহ!বাহ!সাব্বাশ!এরই মধ্যে সিনাতের ঘুম ভেঙে গেলো।সামনে রিভানকে দেখতে পেয়ে হাই তুলে বিরক্তির স্বরে বলল,’আপনারা কেমন মানুষ?একটা মেয়েকে তুলে আনলেন সেই কখন।এখন পর্যন্ত কিছু খাওয়ান নি।নিজে তো ঠিকই খেয়েছেন আমাকে কিছু খাওয়ান না।খিদেতে পেটে ছুঁচো দৌড়াচ্ছে।’

রিভান শুনেও না শোনার ভান করে বসে রইলো।সিনাত মরিয়া হয়ে আবারও বলল,’কি হলো?প্লিজ কিছু আনুন।আমি নাহলে খিদে তে মারা যাবো।আপনার কাছে টাকা না থাকলে আমার গলার চেইন’টা বিক্রি করে আনুন।এটা পিউর গোল্ড কিন্তু!এটা বেঁচে দিয়ে আমার জন্য খাবার কিনে বাকি টাকা আপনি নিয়ে নিয়েন সমস্যা নেই।’
এতো কথা বলতে পারে মেয়েটা!রিভান অতিষ্ঠ হয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।সিনাত বলল,’যান না তাড়াতাড়ি আনুন।’

রিভান একবার অগ্নিচোখে ওকে ভস্ম করে বাইরে যেতে লাগলো।পেছন থেকে সিনাত ডেকে বলল,’চেইনটা নিবেন না?’
রিভান কিছু না বলে কটমট করতে করতে চলে গেলো।
———————-
একটা স্লাবের ওপর শক্ত করে ভিকির হাত পা বেধে রাখা হয়েছে।গায়ে এক টুকরো কাপড়ও নেই ওর।সারা শরীরে লাল পিপড়া কিলবিল করছে।প্রচন্ড যন্ত্রণায় ভিকি চিৎকারও করতে পারছে না কারণ তার মুখ সুপার গ্লু দিয়ে আটকানো। সামনে টমস আর জর্জ স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ওর দিকে।আরো কিছুক্ষণ পর ভিকির শরীরর থেকে পিঁপড়াগুলো ঝেড়ে সরিয়ে ফেলা হলো।সারা শরীর লাল হয়ে ফুলে আছে।জর্জ এক মগ কড়া গরম পানি ওর মুখের ওপর ঢেলে দিলো।গরম পানি পড়ায় আস্তে আস্তে ঠোঁট থেকে আঠাটা ছুটে গেলেও।ঠোঁটের অবস্থা নাজুক!রক্ত পড়ছে ঠোঁট থেকে।ভিকি কাতর স্বরে বলল,’স্যুট মি!আমি তোমাদের কিছু বলবো না।’

‘বলবে তুমি সব বলবে তবে ডোজটা আরেকটু বাড়িয়ে দিতে হবে।’টমস বলল।

ভিকি ঠোঁটের রক্ত জিহ্বা দিয়ে চেটে নিয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,’আমাকে মারলেও কিছু করতে পারবে না তোমরা।বাংলাদেশ ধ্বংস হবেই আরো তোমরাও।’

ভিকির কথা শুনে সিশা,টমস ওরা কিছু বলল না আবারও মুখে সুপার গ্লু দিয়ে আটকে দিয়ে ক্রমাগত শক দিতে শুরু করলো।ভিকি থেকে থেকে মরণ যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর ইলেক্ট্রিক শক বন্ধ করে আবারো গরম পানি ওর মুখে ঢালা হলো।মুখের আঠা সরতেই যন্ত্রণায় কাতরাতে লাগলো ভিকি।সিশা ওর গলাটা চেপে ধরে বলল,’বল তোরা কোন দেশের গুপ্তচর?’

ভিকি ছটফট করতে করতে অনেক কষ্টে বলল,’ব-ল-ছি।

চলবে…
(ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।আমার পরীক্ষা চলছে তাই কয়েকদিন একটু অনিয়মিত গল্প দিবো।পরীক্ষা শেষ হলে প্রতিদিনই দেবো।আশাকরি আমার পাঠকরা বুঝবেন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here