সেই_আদুরে_দিন পর্বঃ২৫এবং শেষ

সেই_আদুরে_দিন
#পর্বঃ২৫এবং শেষ
#Arshi_Ayat

সিশা আর রৌদ্রুপ মুখোমুখি বসে আছে।মুখে ভয়ডরহীন চাহনী সিশার।যেনো ও জানতো এমন একটা দিন আসবে।রৌদ্রুপ ওর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল,’শুদ্ধতা কোথায়?’

সিশার ঠোঁট অদ্ভুত রহস্যময় হাসি দেখা গেলো।এ হাসির অর্থ কি!সিশা মুখে হাসি ভাবটা ধরে রেখে বলল,’ও এখন এই দেশে নেই।পাচার করে দিয়েছি সৌদি আরব।এতক্ষণ তোর বউ কার সাথে আছে কে জানে!’

রৌদ্রুপ কষে একচড় দিলো সিশার গালে।বলল,’বাজে বকা বন্ধ কর।বলে দে শুদ্ধতা কোথায়?এতে তোরই ভালো।অল্পতে ছেড়ে দেবো।আমার রাগ উঠালে কি হবে সেটা তুই কল্পনাও করতে পারবি না।তাই আবার বলছি শুদ্ধতা কোথায়?’

‘সত্যি বলছি আমি।তোর কি মনে হয়।এতে কাঁচা কাজ করবো আমি!এখনো আমার কাছে রেখে দেবো ওকে!কারণ আজ হোক কাল হোক তুই আমাকে পেয়েই যাবি তাই আগেই ওকে পাচার করে দিয়েছি।এখন আমি শান্তিতে মরব।তুইও কষ্ট পাবি শুদ্ধতাও কষ্ট পাবে।আর তোদের কষ্ট দেখেই আমার শান্তি মিলবে।’

সিশার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে শুদ্ধতাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না ভাবতেই রৌদ্রুপের দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।দুইহাতে মাথা চেপে ধরে বলল,’ওহ!শীট’

কাল রাতে ডাক্তার বাহারের কাছে কল করা নাম্বারগুলো সাহায্যে খুঁজে খুঁজে রৌদ্রুপ সিশার কাছে পৌঁছুতে পেরেছে।কিন্তু এখন ওর মুখে এসব কথা শুনে শুদ্ধতাকে ফিরে পাওয়ার আশা ধপ করে নিভে গেলো রৌদ্রুপের।রাগে রিভালবারটা উঁচিয়ে ধরলো সিশাকে স্যুট করার জন্য কিন্তু সিশার মুখে ভয়ের বদলে অদ্ভুত এক প্রশান্তির হাসি লক্ষ করে রৌদ্রুপের ভেতরটা জ্বলে গেলো।এভাবে এতো শান্তিতে মরতে দিবে না রৌদ্রুপ ওকে।যতোটা কষ্ট সিশা ওদের দিয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ কষ্ট ফিরিয়ে দিবে রৌদ্রুপ।এমন প্রতিজ্ঞা করে রিভালবারটা প্যান্টের পকেটে রেখে দিলো।তারপর বাঁকা হেসে বলল,’তুই আমার শুদ্ধতাকে কেড়ে নিলে আমি তোর পরিবারকে ছেড়ে দি কি করে?মৃত্যুর আগের নিজের পরিবারের ধ্বংস দেখতে পাবি তুই।তোর বাবা,মা,ভাই,ভাবি।কেমন হয় যদি একটা বোমব্লাস্ট করি!’

সিশার প্রশান্ত মুখে এবার ভয় নামলো।আতংকে বলে উঠলো,’আমার পরিবারের সাথে কিছু করবি না।প্লিজ!যা করার আমার সাথে কর।মেরে ফেল আমাকে।প্লিজ তবুও ওদের কিছু করবি না।’

‘কিচ্ছু করার নেই বাধ্য করলি তুই আমায় এটা করতি।আমার পরিবার নেই।শুদ্ধতাকে আমি আমার পরিবার ভাবি।তুই আমার পরিবার,আমার ভালোবাসা আমার থেকে কেড়ে নিলে তোর পরিবারকে আমি ছেড়ে দেই কি করে!’

কথাটা বলে রৌদ্রুপ বের হতে নিলেই সিশা চিৎকার করে বলে,’স্টপ রৌদ্রুপ।প্লিজ!এমন করিস না।শুদ্ধতাকে তুই বাঁচাতে পারবি এখনো।’

রৌদ্রুপ সিশার শেষ কথাটা শুনে দাঁড়িয়ে পড়লো।ভ্রু কুঁচকে বলল,’কিভাবে?’

‘ওরা এখানো বাংলাদেশের সীমানা ছাড়ে নি।আর একঘন্টার মধ্যেই ছেড়ে যাবে।বিকেল পাঁচটায় বঙ্গোপসাগরে ওদের তিনটা ট্রলার ছাড়বে।’

‘ওরা এখন কোথায় থাকতে পারে।’

‘কক্সবাজারে কিন্তু এক্সেক্ট লোকেশন জানি না।’

রৌদ্রুপ তৎক্ষনাৎ ওদের ডিপার্টমেন্টের হেড অফিসারকে ফোন দিলো।উনি রিসিভ করতেই বলল,’স্যার আই ওয়ান্ট টু উইথড্র মাই রিজাইন লেটার।’

‘ওহ!দ্যাটস রিয়েলি গ্রেট।ইউ আর হোপ ফুল টু ইউ।’

‘স্যার আই নিড ইউর হেল্প।’

‘ইয়েস!টেল মি।’

‘স্যার খবর পেয়েছি কক্সবাজারে একটা নারী চক্র বিকেল পাঁচটায় বাংলাদেশের বর্ডার ছাড়বে।বেশকিছু সংখ্যক নারীকে সৌদি আরব পাচার করবে।আমাদের আটকানো উচিত ওদের।’

‘ইয়েস!আমি কক্সবাজার থানায় ইনফর্ম করছি।তুমি এখনি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হও।কুইক!’

‘ইয়েস স্যার!’
রৌদ্রুপ ফোন রেখেই তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।হেলিকপ্টার একটা টিম পাঠানো হলো কক্সবাজারে।উপর মহলের নির্দেশে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে।

একঘন্টার মধ্যেই রৌদ্রুপের টিম পৌঁছে গেলো কক্সবাজার।সরাসরি সমুদ্র বন্দরে চলে গেলো।ইতিমধ্যে দু’টো নারীপাচার কারী দলকে আটক করা হয়েছে।প্রত্যেক’টা দলে বিশজন করে নারী আছে।ওদের মধ্যে শুদ্ধতা নেই।তারমানে শেষ যে চক্রটা আছে ওইখানে পাওয়া যাবে শুদ্ধতাকে।

খানিক পরেই ওইদলটা কেও পাওয়া গেলো।সার্চ করার পর অবশেষে শুদ্ধতার দেখা মিললো।কিন্তু শুদ্ধতা গাড়ির ভেতর অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলো আর বাকি মেয়েরা ভয়ে তটস্থ হয়ে আছে।রৌদ্রুপের দেখেই মায়া হলো।তৎক্ষনাৎ ওর মাথাটা বুকে চেপে ধরে কপালে একটা চুমু খেলো আর ওকে হসপিটালাইজড করা হলো।বাকি মেয়েদের ঠিকানা অনুযায়ী বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছ।এই সকল চক্রের সাথে রাহাতও ছিলো!ওকে সহ বাকি সদস্যদের হাজতে নেওয়া হয়েছে।

বারো ঘন্টা পর…
ক্লান্ত আখিদ্বয় মেলে চাইলো শুদ্ধতা।আস্তে আস্তে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই বুঝলো এটা হসপিটাল।পাশেই রৌদ্রুপ ওর একহাত ধরে ঘুমিয়ে রয়েছে।অজান্তেই শুদ্ধতার মুখে হাসি ফুটলো।চোখ দিয়ে একফোঁটা পানিও পড়লো।এভাবেই আবার দেখা হবে ভাবতেই পারে নি সে।সব আশা ছেড়েই দিয়েছিলো।

হুট করে ফোন বাজতেই রৌদ্রুপ ঘুম থেকে উঠে পড়লো।চোখ খুলতেই প্রথমে শুদ্ধতার হাস্যজ্বল মুখশ্রী দেখতে পেলো।নিজেও একটু হেসে ফোনটা রিসিভ করলো।কমিশনারের ফোন।উনি বললেন,’নাউ হাউ ইজ শি?’

‘আগের চেয়ে ভালো।জ্ঞান ফিরেছে।’

‘কখন?’

‘একটু আগেই।’

‘আচ্ছা যত্ন নিও ওর।রাখি।আল্লাহ হাফেজ।’

‘ইয়েস স্যার!আল্লাহ হাফেজ।’
ফোন রেখে শুদ্ধতা দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো।নিজের হাতটা ওর গালে দিয়ে নরম কন্ঠে বলল,’এখন কেমন আছো?’

‘ভালো।একি! কাদছো কেন?’

‘এতোদিন কাঁদতে পারি নি তাই!’কথাটা বলেই রৌদ্রুপ চোখ মুছলো নিজের।এরপর শুদ্ধতার চোখে পানি দেখে বলল,’তুমি কাঁদছো কেনো?’

‘হাসি,কান্না সংক্রামক জানো না?তুমি কাদছো বলেই তো কাঁদলাম।’

রৌদ্রুপ হেসে ফেললো শুদ্ধতার কথা শুনে।তারপরই খেয়াল করলো শুদ্ধতা আজ ‘আপনি’ সম্বোধন করে নি।মুচকি হাসলো রৌদ্রুপ।এখন মধ্যরাত।আরো কয়েকঘন্টা পরই সকালের আলো ফুটবে।দু’জনেরই কেউই ঘুমাচ্ছে না।কয়েকদিনে জমানো কথাগুলো বলে যাচ্ছে একে একে!মাঝেমধ্যে ভালোবাসা বিনিময়ও হচ্ছে।

একমাস পর…..
‘ডাক্তার ২০২ নম্বর বেডের পেশেন্ট’টা প্রচন্ড পাগলামি করছে।কারো কথা শুনছে না।হিংস্র আচরণ করছে।কাউকে কাছে যেতে দিচ্ছে না।’

‘ওনাকে ঘুমে ইনজেকশন পুশ করুন।আমি পারছি না স্যার।আপনি একটু আসুন।’

‘ঠিকাছে চলুন।’

গত একমাস ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি আছে সাবেক গোয়েন্দা উপ প্রধান শারমিন সিশা।অবস্থার কোনো উন্নতি নেই দিনদিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে সে।তার সারাদিন কাটে ঘুমিয়ে।ঘুম থেকে জেগে উঠলেই চিৎকার করতে থাকে।তাই বেশিরভাগ সময়ই তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়।হঠাৎ এভাবে ভারসাম্য হারানো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না কেউই।
—————–
‘একটা গান ধরো তো!’

‘ঠিকাছে।তবে ডুয়েট।’

‘আচ্ছা।তুমি আগে শুরু করো।’রৌদ্রুপ গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে বলল।

কিছুক্ষণ আগেই দু’জনে হুট করে প্ল্যান করলো লং ড্রাইভে যাবে আজ।চটপট বেরিয়েও পড়লো।গাড়ির খোলা ছাঁদে ওপর থেকে তারাভরা আকাশ,মৃদু হাওয়া আর ভালোবাসার মানুষ!আহা!সেই আদুরে দিন!

শুদ্ধতা গাইতে আরম্ভ করলো।সাথে রৌদ্রুপ তাল মেলালো।

কিছু কথার পিঠে কথা
তুমি ছুঁয়ে দিলেই মুখরতা,
হাসি বিনিময় চোখে চোখে
মনে মনে রয় ব্যাকুলতা।

আমায় ডেকো একা বিকেলে
কখনো কোনো ব্যথা পেলে,
আমায় রেখো প্রিয় প্রহরে
যখনই মন কেমন করে।

কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি তো এসেছো আমারই হতে,
কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি চিরসাথী আমার জীবনের
এই পথে।।

কোথাও ফুটেছে ফুল
কোথাও ঝরেছে তারা,
কোথাও কিছু নেই
তোমার আমার গল্প ছাড়া।

তুমি আমার স্বপ্নসারথি
জীবনে তুমি সেরা সত্যি।

কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি তো এসেছো আমারই হতে,
কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি চিরসাথী আমার জীবনের
এই পথে।।

সময় ফুরিয়ে যাক
প্রেমের কবিতা পড়ে,
ছড়াও কিছু সুখ
যখন তোমার ইচ্ছে করে।

তুমি আমার গল্প জোনাকি
তোমারই আশায় থাকি।

কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি তো এসেছো আমারই হতে,
কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি চিরসাথী আমার জীবনের
এই পথে।।

সমাপ্ত.
(ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।)

সিশা আর রৌদ্রুপ মুখোমুখি বসে আছে।মুখে ভয়ডরহীন চাহনী সিশার।যেনো ও জানতো এমন একটা দিন আসবে।রৌদ্রুপ ওর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল,’শুদ্ধতা কোথায়?’

সিশার ঠোঁট অদ্ভুত রহস্যময় হাসি দেখা গেলো।এ হাসির অর্থ কি!সিশা মুখে হাসি ভাবটা ধরে রেখে বলল,’ও এখন এই দেশে নেই।পাচার করে দিয়েছি সৌদি আরব।এতক্ষণ তোর বউ কার সাথে আছে কে জানে!’

রৌদ্রুপ কষে একচড় দিলো সিশার গালে।বলল,’বাজে বকা বন্ধ কর।বলে দে শুদ্ধতা কোথায়?এতে তোরই ভালো।অল্পতে ছেড়ে দেবো।আমার রাগ উঠালে কি হবে সেটা তুই কল্পনাও করতে পারবি না।তাই আবার বলছি শুদ্ধতা কোথায়?’

‘সত্যি বলছি আমি।তোর কি মনে হয়।এতে কাঁচা কাজ করবো আমি!এখনো আমার কাছে রেখে দেবো ওকে!কারণ আজ হোক কাল হোক তুই আমাকে পেয়েই যাবি তাই আগেই ওকে পাচার করে দিয়েছি।এখন আমি শান্তিতে মরব।তুইও কষ্ট পাবি শুদ্ধতাও কষ্ট পাবে।আর তোদের কষ্ট দেখেই আমার শান্তি মিলবে।’

সিশার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে শুদ্ধতাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না ভাবতেই রৌদ্রুপের দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।দুইহাতে মাথা চেপে ধরে বলল,’ওহ!শীট’

কাল রাতে ডাক্তার বাহারের কাছে কল করা নাম্বারগুলো সাহায্যে খুঁজে খুঁজে রৌদ্রুপ সিশার কাছে পৌঁছুতে পেরেছে।কিন্তু এখন ওর মুখে এসব কথা শুনে শুদ্ধতাকে ফিরে পাওয়ার আশা ধপ করে নিভে গেলো রৌদ্রুপের।রাগে রিভালবারটা উঁচিয়ে ধরলো সিশাকে স্যুট করার জন্য কিন্তু সিশার মুখে ভয়ের বদলে অদ্ভুত এক প্রশান্তির হাসি লক্ষ করে রৌদ্রুপের ভেতরটা জ্বলে গেলো।এভাবে এতো শান্তিতে মরতে দিবে না রৌদ্রুপ ওকে।যতোটা কষ্ট সিশা ওদের দিয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ কষ্ট ফিরিয়ে দিবে রৌদ্রুপ।এমন প্রতিজ্ঞা করে রিভালবারটা প্যান্টের পকেটে রেখে দিলো।তারপর বাঁকা হেসে বলল,’তুই আমার শুদ্ধতাকে কেড়ে নিলে আমি তোর পরিবারকে ছেড়ে দি কি করে?মৃত্যুর আগের নিজের পরিবারের ধ্বংস দেখতে পাবি তুই।তোর বাবা,মা,ভাই,ভাবি।কেমন হয় যদি একটা বোমব্লাস্ট করি!’

সিশার প্রশান্ত মুখে এবার ভয় নামলো।আতংকে বলে উঠলো,’আমার পরিবারের সাথে কিছু করবি না।প্লিজ!যা করার আমার সাথে কর।মেরে ফেল আমাকে।প্লিজ তবুও ওদের কিছু করবি না।’

‘কিচ্ছু করার নেই বাধ্য করলি তুই আমায় এটা করতি।আমার পরিবার নেই।শুদ্ধতাকে আমি আমার পরিবার ভাবি।তুই আমার পরিবার,আমার ভালোবাসা আমার থেকে কেড়ে নিলে তোর পরিবারকে আমি ছেড়ে দেই কি করে!’

কথাটা বলে রৌদ্রুপ বের হতে নিলেই সিশা চিৎকার করে বলে,’স্টপ রৌদ্রুপ।প্লিজ!এমন করিস না।শুদ্ধতাকে তুই বাঁচাতে পারবি এখনো।’

রৌদ্রুপ সিশার শেষ কথাটা শুনে দাঁড়িয়ে পড়লো।ভ্রু কুঁচকে বলল,’কিভাবে?’

‘ওরা এখানো বাংলাদেশের সীমানা ছাড়ে নি।আর একঘন্টার মধ্যেই ছেড়ে যাবে।বিকেল পাঁচটায় বঙ্গোপসাগরে ওদের তিনটা ট্রলার ছাড়বে।’

‘ওরা এখন কোথায় থাকতে পারে।’

‘কক্সবাজারে কিন্তু এক্সেক্ট লোকেশন জানি না।’

রৌদ্রুপ তৎক্ষনাৎ ওদের ডিপার্টমেন্টের হেড অফিসারকে ফোন দিলো।উনি রিসিভ করতেই বলল,’স্যার আই ওয়ান্ট টু উইথড্র মাই রিজাইন লেটার।’

‘ওহ!দ্যাটস রিয়েলি গ্রেট।ইউ আর হোপ ফুল টু ইউ।’

‘স্যার আই নিড ইউর হেল্প।’

‘ইয়েস!টেল মি।’

‘স্যার খবর পেয়েছি কক্সবাজারে একটা নারী চক্র বিকেল পাঁচটায় বাংলাদেশের বর্ডার ছাড়বে।বেশকিছু সংখ্যক নারীকে সৌদি আরব পাচার করবে।আমাদের আটকানো উচিত ওদের।’

‘ইয়েস!আমি কক্সবাজার থানায় ইনফর্ম করছি।তুমি এখনি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হও।কুইক!’

‘ইয়েস স্যার!’
রৌদ্রুপ ফোন রেখেই তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।হেলিকপ্টার একটা টিম পাঠানো হলো কক্সবাজারে।উপর মহলের নির্দেশে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে।

একঘন্টার মধ্যেই রৌদ্রুপের টিম পৌঁছে গেলো কক্সবাজার।সরাসরি সমুদ্র বন্দরে চলে গেলো।ইতিমধ্যে দু’টো নারীপাচার কারী দলকে আটক করা হয়েছে।প্রত্যেক’টা দলে বিশজন করে নারী আছে।ওদের মধ্যে শুদ্ধতা নেই।তারমানে শেষ যে চক্রটা আছে ওইখানে পাওয়া যাবে শুদ্ধতাকে।

খানিক পরেই ওইদলটা কেও পাওয়া গেলো।সার্চ করার পর অবশেষে শুদ্ধতার দেখা মিললো।কিন্তু শুদ্ধতা গাড়ির ভেতর অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলো আর বাকি মেয়েরা ভয়ে তটস্থ হয়ে আছে।রৌদ্রুপের দেখেই মায়া হলো।তৎক্ষনাৎ ওর মাথাটা বুকে চেপে ধরে কপালে একটা চুমু খেলো আর ওকে হসপিটালাইজড করা হলো।বাকি মেয়েদের ঠিকানা অনুযায়ী বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছ।এই সকল চক্রের সাথে রাহাতও ছিলো!ওকে সহ বাকি সদস্যদের হাজতে নেওয়া হয়েছে।

বারো ঘন্টা পর…
ক্লান্ত আখিদ্বয় মেলে চাইলো শুদ্ধতা।আস্তে আস্তে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই বুঝলো এটা হসপিটাল।পাশেই রৌদ্রুপ ওর একহাত ধরে ঘুমিয়ে রয়েছে।অজান্তেই শুদ্ধতার মুখে হাসি ফুটলো।চোখ দিয়ে একফোঁটা পানিও পড়লো।এভাবেই আবার দেখা হবে ভাবতেই পারে নি সে।সব আশা ছেড়েই দিয়েছিলো।

হুট করে ফোন বাজতেই রৌদ্রুপ ঘুম থেকে উঠে পড়লো।চোখ খুলতেই প্রথমে শুদ্ধতার হাস্যজ্বল মুখশ্রী দেখতে পেলো।নিজেও একটু হেসে ফোনটা রিসিভ করলো।কমিশনারের ফোন।উনি বললেন,’নাউ হাউ ইজ শি?’

‘আগের চেয়ে ভালো।জ্ঞান ফিরেছে।’

‘কখন?’

‘একটু আগেই।’

‘আচ্ছা যত্ন নিও ওর।রাখি।আল্লাহ হাফেজ।’

‘ইয়েস স্যার!আল্লাহ হাফেজ।’
ফোন রেখে শুদ্ধতা দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো।নিজের হাতটা ওর গালে দিয়ে নরম কন্ঠে বলল,’এখন কেমন আছো?’

‘ভালো।একি! কাদছো কেন?’

‘এতোদিন কাঁদতে পারি নি তাই!’কথাটা বলেই রৌদ্রুপ চোখ মুছলো নিজের।এরপর শুদ্ধতার চোখে পানি দেখে বলল,’তুমি কাঁদছো কেনো?’

‘হাসি,কান্না সংক্রামক জানো না?তুমি কাদছো বলেই তো কাঁদলাম।’

রৌদ্রুপ হেসে ফেললো শুদ্ধতার কথা শুনে।তারপরই খেয়াল করলো শুদ্ধতা আজ ‘আপনি’ সম্বোধন করে নি।মুচকি হাসলো রৌদ্রুপ।এখন মধ্যরাত।আরো কয়েকঘন্টা পরই সকালের আলো ফুটবে।দু’জনেরই কেউই ঘুমাচ্ছে না।কয়েকদিনে জমানো কথাগুলো বলে যাচ্ছে একে একে!মাঝেমধ্যে ভালোবাসা বিনিময়ও হচ্ছে।

একমাস পর…..
‘ডাক্তার ২০২ নম্বর বেডের পেশেন্ট’টা প্রচন্ড পাগলামি করছে।কারো কথা শুনছে না।হিংস্র আচরণ করছে।কাউকে কাছে যেতে দিচ্ছে না।’

‘ওনাকে ঘুমে ইনজেকশন পুশ করুন।আমি পারছি না স্যার।আপনি একটু আসুন।’

‘ঠিকাছে চলুন।’

গত একমাস ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি আছে সাবেক গোয়েন্দা উপ প্রধান শারমিন সিশা।অবস্থার কোনো উন্নতি নেই দিনদিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে সে।তার সারাদিন কাটে ঘুমিয়ে।ঘুম থেকে জেগে উঠলেই চিৎকার করতে থাকে।তাই বেশিরভাগ সময়ই তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়।হঠাৎ এভাবে ভারসাম্য হারানো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না কেউই।
—————–
‘একটা গান ধরো তো!’

‘ঠিকাছে।তবে ডুয়েট।’

‘আচ্ছা।তুমি আগে শুরু করো।’রৌদ্রুপ গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে বলল।

কিছুক্ষণ আগেই দু’জনে হুট করে প্ল্যান করলো লং ড্রাইভে যাবে আজ।চটপট বেরিয়েও পড়লো।গাড়ির খোলা ছাঁদে ওপর থেকে তারাভরা আকাশ,মৃদু হাওয়া আর ভালোবাসার মানুষ!আহা!সেই আদুরে দিন!

শুদ্ধতা গাইতে আরম্ভ করলো।সাথে রৌদ্রুপ তাল মেলালো।

কিছু কথার পিঠে কথা
তুমি ছুঁয়ে দিলেই মুখরতা,
হাসি বিনিময় চোখে চোখে
মনে মনে রয় ব্যাকুলতা।

আমায় ডেকো একা বিকেলে
কখনো কোনো ব্যথা পেলে,
আমায় রেখো প্রিয় প্রহরে
যখনই মন কেমন করে।

কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি তো এসেছো আমারই হতে,
কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি চিরসাথী আমার জীবনের
এই পথে।।

কোথাও ফুটেছে ফুল
কোথাও ঝরেছে তারা,
কোথাও কিছু নেই
তোমার আমার গল্প ছাড়া।

তুমি আমার স্বপ্নসারথি
জীবনে তুমি সেরা সত্যি।

কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি তো এসেছো আমারই হতে,
কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি চিরসাথী আমার জীবনের
এই পথে।।

সময় ফুরিয়ে যাক
প্রেমের কবিতা পড়ে,
ছড়াও কিছু সুখ
যখন তোমার ইচ্ছে করে।

তুমি আমার গল্প জোনাকি
তোমারই আশায় থাকি।

কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি তো এসেছো আমারই হতে,
কোনো এক রূপকথার জগতে
তুমি চিরসাথী আমার জীবনের
এই পথে।।

সমাপ্ত.
(ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।)

গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম......... গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Latest Articles

error: ©গল্পেরশহর ডট কম