স্নিগ্ধ অনুভব পর্ব ২০+২১+২২

0
88

#স্নিগ্ধ_অনুভব
#পার্ট:২০
#পিচ্চি_লেখিকা

রাতে সবাই জমজমাট আড্ডা দিয়ে যে যার মতো করে ঘুমিয়ে গেছি। ভোর ভোর ঘুম ভেঙে যাওয়ায় চারদিকে একবার পরখ করে দেখি তুষার ভাইয়া ফ্লোরে বসে বেডের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তার৷ কাঁধে মাথা রেখে তন্নি ঘুমাচ্ছে। মেঘু সোফায় হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে আর তিশা আপু আমার কাঁধে মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তামিম পুরো হাত পা ছড়িয়ে সোফার সাথে মাথা দিয়ে হা করে ঘুমাচ্ছে। তামিমের এমন ভাবে ঘুমানো দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আপনমনেই হেঁসে দিয়েছি। কোলের ওপর কিছু অনুভব করতেই তাকিয়ে দেখি আমার মিস্টার বর অনুভব সাহেব আরাম করে কোলে মাথা রেখে পেট জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। আমি তো হা হয়ে গেছি। অনুভবকে আমি বেডে ঘুমাতে দিয়েছিলাম। উনি কখন নিচে আসলো আজব! আর এভাবে যেভাবে ধরে আছে কেউ দেখলে আমাকে পঁচাইতে পঁচাইতেই শেষ করে দিবে। কোনো রকম অনুভব কে ছাড়ানোর জন্য হাত সরিয়ে দিতেই ও আরো জাপটে ধরলো। এবার কি করি? হায় আমি শেষ আজ। অনেক কষ্টে অনুভব কে ছাড়িয়ে মাথা হালকা করে তিশা আপুর কোলে দিয়ে তিশা আপুকে বেডের সাথে মাথা ঠেকিয়ে দিলাম।

ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি সবাই উঠে পড়েছে। অনুভব বাচ্চাদের মতো ফেস করে সবার দিকে তাকিয়ে আছে।
“বাব্বাহ সবাই উঠে পড়েছো?”
“তুই কখন উঠেছিস?” (তিশা আপু)
“এই তো কিছুক্ষণ আগে। তা কে কোথায় কিভাবে ঘুমিয়েছো খেয়াল করছো নাকি আমি মনে করাবো?”
ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বসলাম। তন্নি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। আর বাকি সবাই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। আমি তুষার ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম,,
“ভাইয়া তুমি চুপ কেন? বলো বলো,,
” এই স্নিগ্ধু চুপ।”(তন্নি)
তুষার ভাইয়া একবার তন্নির দিকে তাকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,
“কি হয়ছে রে স্নিগ্ধু?”
“এমা তুমি কিছুই জানো না। তন্নি তুই আগে উঠেছিস নাকি?”
বলেই মুখ টিপে হাঁসছি। এবার তুষার ভাইয়া ভ্রু যুগল কিঞ্চিত কুচকে বলল,,
“কি হয়ছে? ক্লিয়ার করে বল!”
“আরে ত…..
বাকিটুকু বলার আগেই তন্নি মুখ চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো,,
” বইন আমার ২ ডা পায়ে ধরি চুপ কর। নয়তো এই পর্বত আমাকে গিলে খাবে। প্লিজ চুপ।”
আমি মুখ থেকে হাত সরিয়ে ফিসফিস করেই বললাম,,
“কিছু বলবো না ঠিক আছে। বাট তুই আগে ঘুষ দে!”
“এহহ ছিঃ তুই জানিস না ঘুষ দেওয়া আর নেওয়া ২ টাই অপরাধ।”
“ওরে আমার সাধু। আচ্ছা যা আমি ভাইয়াকে বলেই দি।”
“এই না না,, আমি দেবো তোকে ঘুষ। এবার চুপ যা মেরি মা৷”
আমাদের ফিসফিস করা দেখে তামিম বললো,,
“এই ২ ফকিন্নি তোরা ফিসফিস না কইরা কাহিনি কি হেইডা ক!”
“কাহিনি কি হেইডা তুই দেখবি?”
“হ দেখা।”
“দাঁড়া।”

আমি ফোন বের করে তামিমের সামনে ধরতেই ওর চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। আমার হাত থেকে দ্রুত গতিতে ফোন কেড়ে নিতে গেলেই আমি নিয়ে নেই। ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে তন্নি,তুষার ভাই আর তামিমের পিক তুলে নিয়েই গেছি হিহিহি।
“এই এই স্নিগ্ধু এটা কিন্তু ঠিক না। তুই এটা কিভাবে করলি? দেখ বইন মান সম্মান খাইস না। প্লিজ ময়না দিয়া দে ফোন!”
“উহু। তুই আমাগো ফকিন্নি কইলি কেন? এখন আমি সবারে দেখামমু এইডা।”
“না না।”
তামিম বাচ্চাদের মতো করে ঠোট উলটে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর আমি ওর কান্ড দেখে শব্দ করেই হেঁসে দিয়েছি। কেউ কিছু বুঝতে না পেড়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
“উফফ কি শুরু করলি তোরা? তামিম যাও ফ্রেশ হয়ে আসো তুষার ভাইয়ার সাথে। তন্নি তুমি আর মেঘলা আমার সাথে চলো আর স্নিগ্ধু তুই অনুভব ফ্রেশ করিয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আয়।”
“আচ্ছাা আপু যাও আসছি।”

আপুরা চলে গেলো৷ আমি দরজা টা ভালো ভাবে লাগিয়ে অনুভবের কাছে আসতেই উনি মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে হয়ে দাঁড়ালো। আজব! কি এমন হলো?
“কি হয়েছে? ওভাবে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ালেন কেন?”
“…………
” কি হলো বলেন?”
“…………..
উনাকে নিশ্চুপ দেখে উনার সামনে দাঁড়াতেই উনি অন্যদিকে ফিরলেন। আমি এবার মুখে হাত দিয়ে সোজা করে ধরে বললাম,,
” রাগ করছেন? কেন?”
“আপনি অনেক পঁচা। আপনি আমাকে রেখে কোথায় চলে গেছিলেন?”
“আমি তো ফ্রেশ হতে গেছিলাম৷ আর এখানে তো আপুরা সবাই ছিলো তাহলে?”
“আমার আপনি ছাড়া সবাইকে ভয় করে। আর আপনি এসেও তো আমার সাথে কথা না বলে ওদের সাথে কি সব বলছিলেন?”
“আচ্ছা মেরি জামাই সরি। এবার চলেন ফ্রেশ করিয়ে আনি। আজ তো আবার গেস্ট আসবে আমাদের বাসাই।”
“কে আসবে? কেন আসবে?”
“আগে চলেন।”
অনুভবকে ফ্রেশ করিয়ে রুমে এনে বসালাম। তারপর কাবার্ড থেকে ড্রেস বের করে উনাকে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতে বললাম। উনিও বাধ্য ছেলের মতো ফ্রেশ হয়ে আসলেন। তারপর চুল গুলো ব্রাশ করে সুন্দর ভাবে পরিপাটি করে নিচে নিয়ে যেতে যাবো তখনই অনুভব বললো,,
“আপনাকে একটা কথা বলবো?”
“হুম বলেন।”
“আসলে ওই যে আমি এই বাড়িতে আসার পর একজন মহিলা আমাকে ধরে কান্না করলো না? উনাকে আমি আগেও দেখেছি।”
আমি অনুভবের কথা শুনে হা করে ওর মুখের দিকে তাকালাম। ওর কি আগের কথা মনে আছে? কিন্তু ডক্টর তো কিছু বলেনি।
“কোথায় দেখেছেন?”
“আমি আগে যেখানে ছিলাম সেখানে…
“কিহহহ?”
ওহ শীট আমি এত বড় পয়েন্ট কি করে মিস করে গেলাম। ওহ মাই গড.. যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে।
“উনারা আমার কে হয়?”
“হ্যাঁ? চলুন নিচে। আপু ওয়েট করছে।”

নিচে গিয়ে দেখি আপুরা সবাই বসে আছে। সবাই মিলে ব্রেকফাস্ট করে লিভিং রুমেই বসে রইলাম। তিশা আপু আর তুষার ভাইয়া এখন কোথাও যাবে না। তন্নিকেও আমি যেতে দেবো না। মেঘুকে ওর হাজবেন্ড এসে নিয়ে যাবে আর তামিম যেতে চেয়েছিলো পরে আর যেতে দেয়নি। সবাই আড্ডা দিচ্ছি আর আশে পাশে আড় চোখে তাকাচ্ছি। কাকি সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে কটমট করে তাকাচ্ছে। আমি পাত্তা না দিয়ে আড্ড দিতে লাগলাম। তামিম জোকস শোনাচ্ছে আর অনুভব হেঁসে কুটি কুটি হচ্ছে। এই হাসি যে কারো সহ্য হচ্ছে না তা তো ভালো ভাবেই বুঝতে পারছি। জ্বলছে জ্বলুক আমার কি? আমি তো এত কিছু করলামই জ্বালানোর জন্য। এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। এতক্ষণ তো এটার অপেক্ষা করছিলাম। এটা তো বাজারই ছিলো। ওপারে কে আছে তা আমার জানা। বাঁকা হেঁসে দরজা খুলে দেখি অনা আর রাহাত এসেছে। ২ জনই আমাকে দেখে অবাক হলো। তারপর অনা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো,,
“তুমি এতদিন কোথায় ছিলে ভাবি? অনেক মিস করেছি তোমাকে!”
“আমিও। আরে রাহাত ভাইয়া কেমন আছেন?”
রাহাত একটু মলিন হেঁসে বললো,,
“এই তো ভালো,,তুমি?”
“আলহামদুলিল্লাহ,, আসেন ভেতরে আসেন।”
রাহাত আর অনা কে ভেতরে নিয়ে আসতেই ২ জনই অবাক চোখে অনুভবের দিকে তাকিয়ে আছে। অনা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,
“অনুভব স্যার? উনি তো….
” আরে অনা তুমি এখানে এসেছো আর এটা জানো না অনুভব আর আমি ২ জনই ফিরে আসছি। ইসসস এটা কোনো কথা?”
অনা হাঁসার চেষ্টা করে বললো,,
“ওই আর কি।”

অনা আর রাহাত গিয়ে সোফায় বসলো। অনুভব ভয়ে তিশা আপুর হাত জড়িয়ে বসে আছে। কাকি কে উদ্দেশ্য করে বললাম,,
“কাকি যাও তো অনা আর রাহাত ভাইয়ার জন্য নাস্তা নিয়ে আসো।”
কাকি আমার কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললো,,
“আমার কিসের ঠ্যাকা হ্যাঁ? পারলে তুই নিয়ে আয়। আশ্রীতা কোথাকার!”
“মুখ সামলে কথা বলো কাকি। এটা আমার স্বামীর বাড়ি। আইনত সব সম্পত্তি আমার স্বামীর সো আমি না তোমরা হলে আশ্রীতা। তাই বেশী কথা না বলে যাও নাস্তা নিয়ে আসো!”
কাকি কটমট করে কিছু বলতে গেলে চোখের ইশারায় কাকা থামিয়ে দেয়। কাকি তা পাত্তা না দিয়ে তুষার ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,
“তুষার তোর সামনে তোর মা কে এই মেয়ে এভাবে অপমান করছে আর তুই চুপচাপ শুনছিস?”
তুষার ভাইয়া কথা টা কে জাস্ট পাত্তা না দিয়ে ফোনে স্ক্রল করছে। এর মাঝেই অনা বললো,,
“আমরা খেয়ে এসেছি ভাবি। সমস্যা নাই।”
কাকি কিছু না বলে সাথে সাথে উপড়ে চলে গেলো। তিশা আপু বিড়বিড় করে বললো,,
“যেমন কর্ম তেমন ফল।”

অনা আর রাহাত চলে গেলে তুষার ভাইয়া আর তিশা আপু বাবাই, মামুনি, কাকা, কাকি সবাইকে নিয়ে লিভিং রুমে বসে পড়লো। আমি অনুভব, তন্নি, তামিম ৩ জন মিলে বের হলাম ডক্টরের কাছে যাওয়ার জন্য। মেঘুকে ফাহিম ভাইয়া এসে নিয়ে গেছে।

অনুভবকে ডক্টর দেখিয়ে ৪ জন মিলে পার্কে ঘুরলাম। তখনই দেখা হয়ে যায় সীমার সাথে। সীমাকে দেখে দৌড়ে ওর কাছো গেলাম।
“সীমা আপু,,
সীমা আপু আমাকে দেখে বলল,,
” আপনি এখানে?”
“হুম। অনুভবকে ডক্টর দেখিয়ে এখানে আসলাম ঘুরতে। যায় হোক দেখা হয়ে ভালোই হলো। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। সেদিন আপনি বিপদের সংকেত না দিলে আমি তো কিছুই করতাম না।”
“একটা ক্যাফে চলো। তোমার এখনো অনেক কিছু জানা বাকি!”
সীমা আপু, তন্নি, তাামিম,আমি আর অনুভব একটা ক্যাফে বসে আছি। তন্নি আর তামিমকে দেখে সীমা আপু একটু ইতস্তত বোধ করছিলো।
“আপু সমস্যা নাই। আপনি বলেন।”
“হুম। আগে বলো তোমার কি কিছু জানার আছে বা জানো?”
“আমি কিছুটা জানি আপু। বাট আপনার থেকে কিছু জানার আছে!”
“হুম বলো কি জানতে চাও?”
“আপনি কি জানেন অনুভব কিভাবে এমন হলো? ওর তো এক্সিডেন্টের পর সব ঠিক ছিলো তাহলে এমন কি করে হলো?”
” অনুভব এক্সিডেন্টের ২ দিন পর ওকে নিয়ে আসা হয় এই হসপিটালে যেখানে তুমি ওকে পেয়েছো। এই হসপিটাল টা কেমন অদ্ভুত টাইপের। আমি এখানে আসার পর থেকে অস্বাভাবিক অনেল কিছু দেখেছি। একদিন হুট করেই অনুভব স্যারকে চোখে পড়ে। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না উনি এখানে কেন? উনার মতো এত বড় ডক্টর এখানে কিভাবে? পরে একটা নার্সের থেকে জানতে পারি উনি অসুস্থ। এত বড় ডক্টর কি না পাগল? আর যদি সে পাগল হয় তবে এই রকম একটা হসপিটালে কেন? ২ দিন পর ওখানে একজন মহিলা আর একজন পুরুষ আসে। ভুলবশত উনাদের কথা শুনে ফেলেছিলাম। উনারা এখানকার ডক্টর কে অনেক টাকা দেন স্যারকে পুরোপুরি পাগল করে দেওয়ার জন্য। তারপর থেকেই দেখতাম গভীর রাতে শকড দেওয়া হয় স্যারকে। কড়া ডোজের মেডিসিন সাথে মারধোর। স্যার শুধু চেঁচাতো। আসলে যখন উনাকে এসব থেরাপি দিতো তখন ড্রাগস দিতো। তাই স্যার কিছু করতে পারতো না। আর ধীরে ধীরে এভাবে চলতে থাকলো।”
“আপনি আমাকে….
” জানি তুমি কি বলতে চাও! আমি তোমাকে কিভাবে চিনলাম? আসলে স্যার আর আমি অ্যামেরিকায় পরিচিত হয়। স্যার আমাকে একদম ছোট বোনের মতো ভালোবাসতো। উনি অনেক কথা বলতো তার স্নিগ্ধবতীকে নিয়ে। স্যারের পুরো রুম জুড়ে তোমার ফটো। তাই তোমাকে এক পলক দেখেই চিনেছিলাম। অদ্ভুত বিষয় কি জানো? স্যারের অবস্থা খারাপ হওয়া স্বত্বেও সে তোমার নাম ভুলেনি। কতটা ভালোবাসতে পারে এই মানুষটা। আমি তো বলবো তুমি লাকি। খুব বেশিই লাকি এমন একটা মানুষ পেয়েছো। আগলে রাখো। খুব তাড়াতাড়ি স্যার সুস্থ হয়ে যাবে।”

কেটে গেছে ১ মাস। এখন অনেক কিছুই স্বাভাবিক। এই ১ মাসে সবাই খুব ভালো করে খেয়াল রেখেছি সবটা। কে কি করেছে? তার সব প্রুফ এখন আমাদের কাছে। সকাল সকাল অনুভব রুমে একা। এলোমেলো হয়ে বসে আছে। হঠাৎ করেই কেউ একটা ধারালো ছুড়ি নিয়ে কেউ এগিয়ে যাচ্ছে অনুভবের দিকে। কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই অনুভবের। মানুষটা অনুভবকে আঘাত করতেই……………
#স্নিগ্ধ_অনুভব
#পার্ট:২১
#পিচ্চি_লেখিকা

আপনজন সেজেও অনেকে থাকে যারা আপনজন নয়। যারা পাশে আছি বলেও পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। নাম মাত্রই আপন তারা। আসলে তো মুখোশ পড়া শত্রু তারা।

অনুভবকে ছোট একটা নাইফ দিয়ে আঘাত করতে গেলেই অনুভব তা ধরে ফেলে। তখনই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ি আমরা। তুষার ভাইয়া, তন্নি, তিশা আপু, আমি সবাই রুমে ঢুকলাম। আমাদের দেখে মামুনি আর কাকির চোখ কপালে উঠে গেছে। অনুভব ঝটকা মেড়ে নাইফ নিয়ে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকাতেই কাকি আর মামুনি ভয়ে ২ পা পিছিয়ে যায়। অনুভব শুধু রাগে ফোস ফোস করছে। তুষার ভাইয়া আর তিশা আপুও নিজেদের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে। আমি বাঁকা হেঁসে মামুনি আর কাকির পাশে গিয়ে বললাম,,
“এমা তোমরা বুঝি অনুভবকে মারতে এসেছিলে? আহারে পারলে না।”
“ত..তুই এসব কি বলছিস?” (মামুনি)
“থাক থাক তুতলিয়ে লাভ নাই মিসেস আতিয়া আফরা(মামুনি)। আপনাদের সব রহস্য আমরা জানি।”
আমার কথা শুনে কাকি একটা ঢোক গিলে তেজ নিয়ে আঙুল তুলে বলতে আসলো,,
“ক.কি জানিস তুই? একদম বড় বড় কথা বলবি না।”
আমি কাকির আঙুল ধরে মুচড়ে বললাম,,
“একদম আঙুল তুলে কথা বলবে না। অপরাধ করেও এত বড় বড় কথা কিভাবে বলো? সাহস কত তোমাদের? চলো নিচে চলো। আজ হিসেব মিটাবো।”
মামুনি আর কাকি কে নিয়ে লিভিং রুমে আসলাম৷ তুষার ভাইয়া বাবাই আর কাকা কে নিয়ে আসলো। সবাই সোফা তে বসে আছে। অনুভব হাত মুঠো করে মাথা নিচু করে সিঙ্গেল সোফায় বসে আছে। তুষার ভাইয়া এক কোণায় দেওয়ালের সাথে লেগে দাঁড়িয়েছে। ভাইয়াও রেগে আছে। তিশা আপু কে নিয়ে তন্নি আরেক সোফায় বসে আছে। কিছুক্ষণ চুপ থাকতেই কলিং বেল বেজে উঠলো। দরজা খুলতে দেখি অনার হাত ধরে মেঘু দাঁড়িয়ে আছে। রাহাত আর ফাহিম ভাইয়া পাশে দাঁড়িয়ে। আমি অনাকে দেখে বললাম,,
“আরে বাহ্ চলে এসেছো। তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি। মেঘু তোর একমাত্র জা- এর কোনো সমস্যা হয়নি তো আসার।”
মেঘু দাতে দাত চেপে বললো,,
“আরে আসতে একদম সমস্যা হয়নি। আমি আমার জা-এর সমস্যা হতেই দেয়নি। তাই না অনা?”
অনা মাথা নিচু করে আছে। মেঘু অনাকে নিয়ে গিয়ে সোজা কাকি আর মামুনির দিকে ধাক্কা মারলো৷ আমি এগিয়ে গিয়ে বললাম,,
“তো এখনো তোমাদের সঙ্গী বাকি আছে তাই না? আচ্ছা সে আসতে আসতে তোমরা বলো তোমরা কি কি কুকর্ম করেছো?”
“আ.আমরা কিছু করিনি। তুই মিথ্যা বলছিস!” (মামুনি)
“আরে মামুনি..উফফস তোমাদের মতো মানুষকে তো মামুনি ডাকতেও লজ্জা লাগে আরে আমি না হয় তোমার মেয়ে নয় কিন্তু মা বলে তো ডেকেছি। জন্মের পর কখনো নিজেীর মা কে পায়নি তাই তোমাকে মা ডেকেছি,এই লোকটা কে বাবা বলেছি তোমাদেরকেই নিজের পরিবার মনে করেছি আর তোমরা? ছিঃ আমার ভাবতেও লজ্জা লাগে তোমরা এতোটা নিচ।”
কেউ কোনো কথা বলছে না। সবাই চুপ। আমি অনাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,,
“তোমাকে তো ওই বাড়িতে নিজের বোনের মতো দেখেছি। অনুভব ছোট বোনের মতো তোমার সব দায়িত্ব পালন করে গেছে। তোমাকে খাওয়ানো, পড়ানো সবটা ও নিজে দায়িত্ব নিয়ে করেছে আর তুমি? কতটা নিচ তোমরা? তুমি তো আমাকে ভাবি ডাকতে এটাও জানতে আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি বোন হিসেবে তাহলে? এই তোমার হাত কাঁপলো না আমাকে রাস্তার মাঝে ধাক্কা দিতে?”
আমার কথা শুনে চট করে অনুভব, তন্নি, তুষার ভাইয়া, তিশা আপু, মেঘু, ফাহিম ভাইয়া, রাহাত সবাই তাকালো। আমি ওদের বলিনি যে সেদিন কে ধাক্কা দিয়েছিলো তাই ওরা এভাবে তাকালো। তিশা আপু কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,,
“তোকে সেদিন অনা ধাক্কা দিয়েছিলো? কই আমাদের তো বলিস নাই।”
“ভেবেছিলাম আজ বলবো তাই কাউকে কিছু বলিনি। সেদিন যখন আমাকে কেউ ধাক্কা দেয় তখন আমি তাকিয়েছিলাম সেখানে অনাকে দেখেই একটা ধাক্কা খেয়েছি। তখনই একটা গাড়ি এসে মেরে দেয়। ভাগ্য বশত বেঁচে যায়। ভেবেছিলাম আগে অনুভবের সাথে দেখা করে সবটা বলবো তাই চুপ ছিলাম। পরে তো জানলাম ওর কি অবস্থা।”
“কাকি, মামুনি তোমরা কি এখনো চুপ করে থাকবে? কেন করেছো এসব বলো? অন্তত নিজেদের মাঝে একটু তো অপরাধবোধ আনো।”
একটু চেঁচিয়েই বললাম। আমার চেঁচানোতে মামুনি ক্রোধে জোড়ে বলে উঠলো,,
“যা করেছি বেশ করেছি। কিসের অপরাধ হ্যাঁ?”
“আরে বাহ। যাক গলা খুলেছে আপনার। তো বলুন অনুভবের বাবা আর মা কে তো আপনারা ৪ জন মিলেই মারছেন তাই না?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ মেরেছি্।”
অনুভব এবার তেতে উঠে এগোতে নিলে তুষার ভাইয়া আর ফাহিম ভাইয়া আটকে দেয়।
“কত বড় সাহস এদের? আমার বাবা কে মার্ডার করে এখন বড় গলায় কথা বলছে! যদি ওদের বাবা আর মা না ডাকতাম তো আজকেই পর জিভ কেটে ফেলতাম আমি।”(অনুভব)
” শান্ত হ ভাই শান্ত হ। এরা মানুষ না জানোয়ার। ওদের মেরে নিজের হাত নোংরা করে কি লাভ?”(তুষার ভাইয়া)
“আম্মু আব্বু তোমরা এসব কেন করেছো? আচ্ছা আদৌও কি আমি তোমাদের মেয়ে?” (তিশা আপু)
“এভাবে কেন বলছিস মা? তুই আমার মেয়ে। ১০ মাস ১০ দিন তোকে গর্ভে রেখেছি।” (মামুনি)
“আমার তো আফসোস এখানেই যে আমি তোমার মতো মানুষের গর্ভে জন্ম নিয়েছি। এই স্বার্থপর লোক গুলো আমার বাবা আর মা।”(তিশা আপু)
” তিশা!”(মামুনি)
“কি তিশা হ্যাঁ? কি? এই মানুষটা নিজের ভাই না তবুও কত আগলে রাখে আমাকে। আর তোমরা? ওরই বাবা মা কে মার্ডার করেছো। কেন বলো?”
মামুনি করুন চোখে তিশা আপুর দিকে তাকিয়ে বললো,,
“তোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে এত কিছু করলাম আর তুই এই কথা বলছিস?”
“হাহাহাহা হাউ ফানি। তোমরা আমাদের ভালোর জন্য ভবিষ্যতের জন্য এত কিছু করেছো? তোমরা শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝো আর তা আমরা সবাই জানি। কিভাবে আর কেন মেরেছো আঙ্কেল আন্টিকে তা বলো?”
উনাদের চুপ থাকতে দেখে আমি বললাম,,
“উনারা তো চুপ হয়ে আছে। তাহলে না হয় আমিই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটা বলি। তো,,

অনুভবের বয়স যখন ৩ বছর তখন বাবাই,কাকাই জব করতো অনুভবদের অফিসে। কিন্তু এই জব দিয়ে উনাদের হতো না। উনারা বরাবরই ছিলো লোভী। লোভ উনাদের খুব খারাপ ভাবে আকৃষ্ট করেছিলো। উনারা আসলে ছিলো বড়লোক। বাবাই আর কাকাই নেশা করতো, একদম বাজে হয়ে গেছিলো। উনাদের এই অবস্থা দেখে দাদাভাই উনাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন+ সব প্রোপার্টি একজন ছেলের নামে করে দেয়। এটা উনাদের সহ্য হয়নি। বাসা ছেড়ে চলে আসার সময় নিজেরই বড় ভাইয়ের হাজার ক্ষতি করেছে। এখানে আসার পর যখন দেখলো এভাবে তাদের চলবে না। আরম আয়েশ লাগবে তখন প্ল্যান করলেন অনুভবের বাবা আর মা কে কিভাবে মেরে সব প্রোপার্টি নিজেদের নামে করা যায়। প্ল্যান মতো উনারা স্যারদের এক্সিডেন্ট করিয়ে দেয়। কিন্তু সেদিন অনুভব ছিলো না গাড়িতে। বাড়িতে ছিলো। একজন আয়ার কাছে। অনুভবের বাবা মা মারা যাওয়ার পর বাবাইরা যায় লয়ারের কাছে যান এবং জানতে পারেন সব প্রোপার্টি আঙ্কেল অনুভবের নামে করে দিয়েছিলেন। ব্যাস এবার উনারা বাড়িতে আসেন। অনুভবকে রেখে আয়াকে বের করে দেয়। যত্ন সহকারে অনুভবকে বড় করে। কিন্তু বড় করার পর সব প্রোপার্টি কিভাবে নিবে অনুভবের থেকে? তাই উনারা ওকে মারার প্ল্যান করে্ আমি থাকলে তো আর পারবে না কিছু করতে তাই আগে আমাকে সরিয়ে দিয়েছে। তারপর অনুভবকে পাগল করার জন্য ওই হসপিটালে রেখে আসে। পুরোপুরি পাগল হলে সাইন করিয়ে বা টিপ ছাফ দিয়ে নিতো। ঠিক বলেছি তো মামুনি? ভুল থাকলে ধরিয়ে দাও!”
“তুই এসব কিভাবে জানলি? ”
আমি রহস্যময় হাসি দিয়ে বাবাই আর কাকার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম,,
“তোমাদের দাদাভাই বের করে দিছিলো মানে ওই বাড়ির কাহিনি আমি আমার বোনের থেকে জেনেছি। আচ্ছা বাবাই কাকা আমি তো তোমাদের নিজের ভাইয়ের মেয়ে তাই না? তাহলে আমার সাথে তোমরা এমন করতে পারলে? মায়া লাগলো না তোমাদের? হয়তো লেগেছিলো। আমি যখন বুঝতে শিখি তখন জানতাম আমার জন্মের সময় আমার মা মারা গেছে আর যার কাছে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত থেকেছি তাকে আমার বাবা জানতাম আসলে এসব ছিলো তোমাদের conspiracy..আমি তো তোমাদের রক্ত নিয়ে জন্মেছি হাজার হলেও তোমার ভাইয়ের মেয়ে তাই জন্মের পর মার্ডার করার জন্য নিয়ে আসলেও সেদিন মারতে পারো নি। মায়া হয়েছিলো। তাই অন্য একটা লোককে দিয়ে আমাকে মানুষ করিয়েছো কিন্তু সেই লোকটাও মারা যায় এক্সিডেন্টে। তাই তোমরা আমাকে নিয়ে আসলে। এবার আমাকে আর অনুভবকে এক সাথে মারতে চেয়েছিলে। কতটা স্বার্থপর আর নিচ মনের তোমরা! আরে একটা কুকুর কে যদি নিজেদের কাছে কয়েকদিন রাখা হয় তাহলেই তার প্রতি আমাদের মায়া পড়ে যায় আর আমরা? আমরা তো মানুষ আমাকে তোমরা ১২ বছর ধরে বড় করছো অনুভবকে তো ছোট থেকে লালন পালন করছো তাও তোমাদের মনে আমাদের জন্য মায়া জন্মায় নি। কতটা লোভ তোমাদের ঘিরে রেখেছে ছিঃ। অনুভব তো তিশা আপু, তুষার ভাইয়া, তুবা ৩ জনকেই নিজের ভাই বোনের মতো দেখেছে ওদের ভাগ ওদের ঠিকই দিয়ে দিতো। একটা বার বলে তো দেখতে!”
“ছেড়ে দে স্নিগ্ধু!কাকে কি বলছুস? ওরা মানুষ যে ওদের কানে এসব কথা যাবে?” (তুষার ভাইয়া)
“তুষার!” (কাকা)
“কি তুষার? আজকে তোমাদের জন্য আমরা ওদের কাছে ছোট হয়ে গেছি। অনুভব হয়তো আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ না তবুও ওকে ভাই বলেই ভালোবেসেছি আজও তাই বাসি। কিন্তু তোমাদের জন্য ওর কাছে মুখ দেখাতেও আমাদের লজ্জা করে। ভাগ্যিস আজ তুবা নেই। নয়তো বেচারি এত বড় শকড সহ্যই করতে পারতো না।”
তুষার ভাইয়ার কথা শুনে কাকা চুপ হয়ে যায়। বাবাই এই পর্যন্ত একটা কথাও বলেনি। কেন বলেনি? জানি না! সবাই এত কিছু শুনে শকড হয়ে গেছে। অনুভব মাথা নিচু করে আছে। হয়তো কান্না লুকাচ্ছে। যাদের নিজের থেকে বেশি ভালোবাসতো তারাই তো ঠকালো। শত্রুর দেওয়া কষ্ট সাদরে গ্রহণ করা যায় কিন্তু আপনজন সেজে থাকা মানুষগুলোর দেওয়া কষ্ট মেনে নেওয়া বড্ড কঠিন। এরা তো আমার কাকাই কাকিয়া তবুও আমাকে নিয়ে নোংরা খেলা খেলেছে আর অনুভবকে কত বড় শাস্তি দিয়েছে। সবার মাঝেই বিরাজ করছে পিনপতন নিরবতা। এমন সময় তামিম মিরা কে নিয়ে বাড়ির ভেতর আসলো। মিরাকে দেখেই অনা চমকে উঠলো। মেঘা মিরাকে নিয়ে অনার পাশে বসিয়ে দিলো। এবার অনা আর মিরার পালা।
“ওয়েল ওদের তো কর্মকান্ড ধরাছোয়ার বাহিরে। এবার তোমরা বলো তোমাদের এতো কিসের রাগ? যে অনুভব তোমার জন্য এতকিছু করেছে তার প্রতি এতো অকৃতজ্ঞ কেন তোমরা?”
“কি করেছে উনি আমাদের জন্য? উনার জন্য শুধুমাত্র উনার জন্য আমার মা আর বোন মারা গেছে। খুনি উনি। উনার কোনো অধিকার নেই বেঁচে থাকার। আমার তো সেদিনই ইচ্ছা করছিলো ওকে খুন করে দিতে শুধুমাত্র এই এদের জন্য ওকে মারতে পারিনি তাই জন্যই এত কিছু হচ্ছে। সব তো সবাই জেনেই গেছে কিন্তু আমি ওকে মেরেই মরবো।”
অনা এটুকু বলেই সোফা ছেড়ে উঠে দ্রুত পায়ে অনুভবের দিকে এগিয়ে যেতে নিলে…………
#স্নিগ্ধ_অনুভব
#পার্ট:২২
“পিচ্চি_লেখিকা

অনা তেড়ে আসতে গেলে ওর হাত ধরে শরীরে সব শক্তি দিয়ে একটা থাপ্পড় দিলাম।

” কারো বিষয়ে সব না জেনে কমেন্ট করার সাহস কই পাও? আরে তোমার বোনকে তো অনুভব মার্ডার করেনি। তাহলে অনুভবকে দোষ দেও কেন সাহসে? এত বোনের মায়া বোন কি করতো বা কেন আত্মহত্যা করেছে তার পুরোটা খোজ নিয়েছো? অনুভবকে তোমার বোন ইরা ভালোবাসতো পরে অনুভব সাফ সাফ না করে দেয়। না করার কারণ ছিলাম একান্তই আমি। অনুভব না করে দেওয়ার পরও ইরা অনুভবকে বোঝাতো। পরে অনুভব ইগনোর করতে থাকে। এর মধ্যে ইরার রিলেশন হয় একটা বড়লোক প্লে বয়ের সাথে। যার কাছে মেয়ে মানেই ভোগপন্য। তোমার বোনও ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে ওই ছেলের সাথে রুম ডেট করে যার ফলে ইরা হয় প্রেগন্যান্ট। তখন রবিন ইরার বফ ওকে অস্বীকার করে। অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে। তোমার বোন লোক সম্মুখে মুখ কিভাবে দেখাবে এটা ভেবে ভুল পদক্ষেপ নেয়। আর তোমার বোনের লাশ দেখে তোমার মা হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। এতে অনুভবের কি দোষ? সব সত্যি না জেনে কখনোই কারো কাছে রিভেঞ্জ নিতে যেয়ো না। নিজের জালে নিজেরাই ফেঁসে যাবে যেমন গেছে তোমার বাবা। তোমাদের বোকামির জন্যই তোমার বাবাা মারা যায়।”
“সাট আপ,,জাস্ট সাট আপ। আর একটাও বাজে কথা বলবে না। ইরা আপু শুধু অনুভবকে ভালোবাসতো আর ও প্রেগন্যান্ট ছিলো না।”
“এই গলা নামিয়ে কথা বলো। এত বড় বড় কথা না বলে যাও পোষ্টমটমের রিপোর্ট দেখে আসো। আর প্রেগন্যান্সির রিপোর্ট ও আছে,, দাঁড়াও। ”
অনা কে ছেড়ে নিজের হ্যান্ডব্যাগ থেকে একটা রিপোর্ট এনে ওর হাতে ধরিয়ে দিলাম। অনা রিপোর্ট দেখেই ধপ করে বসে পড়লো। এতক্ষণে অনুভবের দিকে তাকিয়ে দেখি ও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হয়তো ভাবছে আমি এত কিছু কিভাবে জানলাম?আমি জানি এই প্রশ্ন অনা মিরা ২ জনেই করবে। তাই ওদের প্রশ্নের অপেক্ষায় আছি।
“আপু যে অনুভব ভাইয়ার জন্য প্রেগন্যান্ট হয় নাই তা তুমি কিভাবে শিওর হচ্ছো?”
“বিশ্বাস করতে হয় করো নাা করলে না করো! যাও রবিনের কাছে শুনে এসো। আর হ্যাঁ তোমার বোন যখন রবিনের সাথে রিলেশনে ছিলো তখন অনুভব দেশের বাইরে ছিলো।”
“এত কিছু তুমি কিভাবে জানলে?”
“আরো অনেক কিছুই জানি। এই যেমন ধরো মিরা, ইরা আর তুমি ৩ বোন। মিরা অনুভবের কাছে কাছে থাকতো যাতে ওকে সহজেই কিছু করতে পারে। তুমি যেদিন আমাকে ধাক্কা দাও সেদিন আমি তোমাকে দেখেছি। সব সময় ভাবতাম তোমার সাথে আমার কি শত্রুতা যার জন্য আমাকে রাস্তা ধাক্কা পর্যন্ত দিয়ে মারতে চাইলে। তারপর দেখা হয় অনুভবের সাথে। তন্নির সাথে দেখা করে জানতে পারি রাহাত তোমাকে বিয়ে করেছে। অদ্ভুত! যে তোমাকে চেনে না জানে না সে কেন তোমাকে বিয়ে করলো? তখন আমার মাথায় আসে রাহাত তো জানতো না আমার আর অনুভবের বিয়ের বিষয়ে। আমার ফ্যামিলির সাথে তো ওর যোগাযোগ ছিল না তাহলে জানলো কি করে? তোমার বাড়িতে হিডেন ক্যামেরা লাগানো ছিলো। সেটা থেকে জানতে পারি তোমরা রিলেশন করে বিয়ে করছো। তোমাকে মাঝে মাঝেই ফোনে কথা বলাও দেখেছি। তারপর অনেক কষ্টে তোমার ফোন থেকে কল ডিটেইলস বের করে জানতে পারি তুমি অনেক আগে থেকেই রাহাতের সাথে অ্যাটাচে আছো। তুমিই ওকে বলেছিলে বিডিতে আসতে। হুটহাট ও সব জায়গায় কিভাবে আসতো তখন বুঝেছি। এদিকে মিরাও তোমার বোন। ইরার কথা জেনেছি তোমার মুখ থেকেই। সেদিন তুমি মিরাকে ফোন করে বলেছিলে ইরার মারা যাওয়ার জন্য অনুভব দায়ী। আর এবার অনুভব কে মারবেই। যায় হোক অনেক কাঠ খড় পুরাই এত কিছু করছি আমরা সবাই। আহ হাপায় গেছি্। এখন তোমাদের ব্যবস্থা করে রেস্ট নিবো😌। আর মামুনি তোমরা কত বোকা গো,,যে অনুভব কে ৫ টা মানুষ ১ সেকেন্ডের জন্য একা ছাড়তো না তারা আজ অনুভবকে রুমে একা রেখে বাইরে ঘুরছে সন্দেহজনক না? তোমাদের এত ক্রিমিনালি বুদ্ধির মাথায় এটুকু সন্দেহ হয়নি। হাউ ফানি!”
“তা..তার মানে তোরা ইচ্ছে করে….
” ইয়াহ। এই তো তোমাদের ব্রেইন খুলছে।”
“অনুভব তো অসুস্থ ছিলো তাহলে ও সুস্থ কিভাবে হলো? ওর ওপর যে ডোজ গুলো পড়তো তাতে ওর এত সহজে সুস্থ হওয়ার কথা না।”
“আরে তোমাদের দেখি অনেক ইন্টারেস্ট। দাঁড়াও এটা তোমাদের বলবে অন্য একজন।”
আমমি সিমা কে কল করতেই সে বাড়ির ভেতর এলো। সিমাকে দেখেই মামুনি রা চমকে উঠলো।
“তো আপু তুমি বলো অনুভবের ওপর এত কড়া ডোজ পড়া স্বত্বেও সে কি করে সুস্থ হয়ে গেলো? আমার সো কলড কাকিয়ারা এসব শুনতে চাচ্ছে তুমি একটু বলো!”
“অনুভব স্যার কে যখন কারেন্ট শকড দিতো তখন ওরা ফুল পাওয়ার দিতো বাট আমি চুপি চুপি পাওয়ার একদম লো করে দিতাম। যখন ওরা ওষুধের ডোজ বা ড্রাগস দিতো আমি তখন সেটা বদলে ঘুমের ইনজেকশন দিতাম। যার ফলে স্যারের তেমন কোনো ক্ষতি হতো না। এটা হসপিটালের ওই ডক্টররা প্রথমে খেয়াল না করলেও পরে খেয়াল করে। আর তখন নিজেরা দাঁড়িয়ে সব করতো। আমি তখন যায়তে পারতাম না স্যারের কাছে। বাট যতটা পারছি করছি আমি। লাস্ট ২ মানথ অনুভব স্যারকে মাঝে মাঝে ডোজ দিতো। আর কড়া ডোজ যার ফলে উনি সাময়িক ভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তবে পুরোপুরি মেন্টাল পেশেন্ট হয় না। তারপর তো স্নিগ্ধা স্যারকে নিয়ে আসে। আর প্রোপার ট্রিটমেন্ট কেয়ার এসবের ফলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়। ওরা যেমন কড়া ডোজে স্যার কে পাগল করতো তেমনই কড়া ডোজেই স্যার সুস্থ হয়েছে।”
“হয়ে গেছে শোনা। এবার বলো কার মাথায় এসেছিলো অনুভব কে শকড দেওয়ার বিষয়টা?”
কেউ কোনো কথা না বলে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাকি শুকনো ঢোক গিললো। আমি কাকির সামনে গিয়ে বললাম,,
“ইচ্ছা তো করছে তোমাকেও শকড দিয়ে দেখায় কিন্তু তুমি অপরাধী হলেও আমারই কাকি। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে তুমি তুষার ভাইয়া আর তুবার মা। নয়তো তোমাকে এখানেই শকড দিয়ে দেখাতাম কেমন লাগে?”
“তুই কিভাবে জানলি তুই আমাদের নিজের ভাইয়ের মেয়ে?” (কাকা)
“আরে কাকা তোমরা আমাকে মারতে চেষ্টা করার পর যারা আমাকে বাঁচিয়েছে তারাই তোমাদের ভাই। ওদের কাছে আমি তোমাদের এলবাম দেখেছিলাম। তারপর তোমাদের রুমে লাগানো ক্যামেরা থেকে জেনেছি। যায় হোক আর কিছু বলতে চায় না। এত কিছু বলতে গেলে দিন পেরিয়ে রাত হয়ে যাবে।(ক্লান্ত হয়ে গেছি এত কিছু সমাধান করতে বাপ রে😑)
কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মামুনির সামনে গিয়ে শান্ত কন্ঠে বললাম,,
“ছোট থেকে এটাই জানতাম আমার মা আমার জন্মের সময় মারা গেছে। আর আমার ৮ বছর বয়সে আমার বাবা মারা গেছে। তার পর থেকেই মা হিসেবে তোমাকে আর বাবা হিসেবে বাবাইকে মেনেছি। কখনো নিজের মা কে তো মা ডাকতে পারিনি কিন্তু তোমাকে ডেকেছি। তোমাকে নিয়েই আমার অনুভূতি ছিলো মা হিসেবে। মামুনি ডাকটাও তুমি শিখিয়েছো। আমার কথা বাদই দিলাম। অনুভব? সে তো তোমাকে মা বলেই ডাকতো। কত ভালোবাসতো তোমাকে! তুমি তো চাইলে সব ভুলে অনুভবকেই ছেলে হিসেবে মানতে পারতে।”
কথা গুলো বলার সময় চোখ ছলছল করছিলো। অনুভব আর ১ মিনিটও নিচে দাঁড়ায়নি। দ্রুত পায়ে হেঁটে চলে গেছে। জানি উনি এখন কাঁদবে। কাদুক! কাঁদলে নাকি মন হালকা হয়। উনিও কেঁদে নিজের মনকে হালকা করুক। হাজার হলেও তো আমরা ২ জনই এই মানুষগুলো কে বাবা মা ভেবেই ভালোবেসেছি।

২ ঘন্টা পর……..
আম্মুর কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি। তিশা আপু, তুষার ভাইয়া আর অনুভব নিজেদের রুমে। বাবাই, মামুনি, কাকা, কাকি, অনা আর মিরা কে পুলিশ এসে নিয়ে গেছে। আব্বু আম্মু আমাকে তখন থেকে এসে আগলে বসে আছে। এত গুলো দিন পর নিজেদের মেয়েকে পেয়ে যেন ছাড়তেই চাইছে না। তন্নি কে তুবার রুমে রেস্ট নিতে পাঠিয়েছি। তুবা ভাগ্যিস বাড়ি নেই নয়তো এত কিছু সহ্যই করতে পারতো না। তামিম কে গেস্ট রুমে পাঠিয়ে দিয়েছি। আব্বু আম্মুর সাথে লিভিং রুমে বসে আছি। সবাইকে যার যার রুম দেখিয়ে দিয়ে এসেছি্। আব্বু আম্মুকে অনেক কষ্টে রুমে দিয়ে এসে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছি। অনুভবকে তখন কান্না থামিয়ে শুইয়ে দিয়ে গেছিলাম। রুমে গিয়ে দেখি রুম অন্ধকার। লাইট অন করে অনুভবের কাছে গেলাম। অনুভব ঘুমাচ্ছে,,কান্না করার ফলে ঘুমাচ্ছে। বাচ্চাদের মতো ঘুমের মাঝেই নাক টানছে। অনুভবের গায়ে কাথা টেনে দিয়ে ফ্রেশ হতে গেলাম।

ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে সব কিছু ঠিকঠাক করে সার্ভেন্ট কে রান্না করতে বলে ছাদে চলে আসলাম। বিশুদ্ধ বাতাস শরীর ছুঁয়ে মন ছুঁয়ে যাচ্ছে্। এত কিছুর ফলে বিষন্নতায় মন ছেয়ে গেছিলো। এখন ভালো লাগছে। কিছুক্ষণ ওভাবেই থাকলাম। হঠাৎ কাঁধে কারো হাত পেয়ে পিছে তাকিয়ে দেখি অনুভব। চুল গুলো এলোমেলো। চোখ ২ টা লাল হয়ে আছে। কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,,
“এই অবেলায় রোদে আর গরমে ছাদে কি করিস তুই?”
“আপনি গরম কই পান? দেখেন না কি সুন্দর বিশুদ্ধ বাতাস। আর এই রোদ আর কি? যে নিয়ন বাতির মতো রোদ এতে আমার কিছুই হবে না।”
“তুই আজকাল অতিরিক্ত পাকনামি করিস। এতদিন কি শুধু গোয়েন্দাগিরি করেছিস নাকি একটু পড়াশোনা টাও করেছিস?”
এই রে খাইছে। গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে তো বইয়ের নাম টাও ভুলে গেছি আর পড়া তো দুর। এখন কি করি? এইটা তো এখন ঠিক হয়ে গেছে। আগের মতো কথায় কথায় ধমক মারবে। শালা বজ্জাত।
“স্নিগ্ধু কই হারালি? তোকে কিছু জিজ্ঞেস করছি তো?(ধমক)
ধমক দিলো? কি বাজে লোক রে। ওরে আমি সুস্থ করলাম কোথায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে তা না করে বকা দিচ্ছে। আহ কি কপাল। ভাইবাই আমার কান্না পাচ্ছে। আমি আমতা আমতা করে বললাম,,
” ওই আসলে…
“কি আসলে নকলে? যা বলবি ক্লিয়ার বল!”
“না মানে আমার জন্য নিচে সবাই অপেক্ষা করছে্। সরেন যায়।”
“পাক্কা চুন্নি তুই। যা নিচে যা। আর আজ থেকে ঠিক মতো পড়াশোনা না করলে খবর আছে!”
“ওই কি বললেন? আমি চুন্নি? আপনাকে তো….
” এই নিচে যা তো। তোর সাথে ঝগড়া করার মুড নাই আমার।”
আর কিছু না বলে ফুঁসতে ফুঁসতে নিচে চলে এলাম। এই লোকটা আগেই ভালো ছিলো। আমিই ধমক দিতে পারতাম হুহ। এখন সুস্থ হয়ে আমারে ধমক দেয়। আবার বলে কি না আমি চুন্নি? আমি? ইচ্ছে তো করছে সব কয়টা চুল ছিড়ে হাতে ধরায় দেই। উগান্ডার খচ্চর,,এনাকন্ডা, হাতি, মহিষ, ইঁদুর তোর কপালে বউ জুটবে না রাক্ষস। আমাকে এভাবে বিড়বিড় করতে দেখে তন্নি এগিয়ে এসে বললো,,
“কিরে এভাবে বিড়বিড় করছিস কেন?”
“আরে বলিস না। একটা এনাকন্ডা আছে আমাদের বাড়িতে। সে বলে আমি নাকি চুন্নি😤😤।
” এমা তোকে চুন্নি কে বলেছে? ওইটা তো ডাকাতরানী হবে।”
“কিহহ? এত বড় কথা? তন্নির বাচ্চা তোর চুল আমি আজকে!”
“এই থাম থাম। তোর ভাই আমারে মানলোই না আর তুই কি না আমার বাচ্চাও আইনা দিলি!”
“হুরু ছেরি চুপ।”
“আচ্ছা শোন না,, একটু তুষার ভাইয়ার রুমে যাবি আমার সাথে? একা যেতে ভয় করছে! যদি থাপ্পড় খেতে হয় তোর মতো!”
“ভীতুর ডিম। আবার নাকি আমার ভাইয়ের সাথে প্রেম করবে। তুই যা ভাইয়া কিছু বলবে না।”
“না তুইও চল। তুই দরজার বাইরে থাকিস আমি ভেতরে যাবো।”
তন্নি একপ্রকার টেনে হিঁচড়ে আমাকে তুষার ভাইয়ার রুমের সামনে দাঁড় করিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে ঢুকে পড়লো। তুষার ভাইয়া থাই গ্লাসের ওপর বসে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিষন্ন মন নিয়ে বসে আছে। থাকারই কথা। হাজার হলেও তাদের বাবা মা ছিলো উনারা। ছিল কি এখনো আছে। কিন্তু এভাবে থেকে কি লাভ? উনারা উনাদের অন্যায়ের শাস্তি পাচ্ছে। মার্ডার করার জন্য মৃত্যুদন্ড না হলেও আজীবন কারাবাস হবেই। তন্নি গিয়ে তুষার ভাইয়ার সামনে গলা ধাকাড়ি দিতেই চট করে তন্নির দিকে তাকালো। কয়েক মিনিট তাকিয়ে অন্য দিকে ফিরে বললো,,
“তুমি? এখানে?”
“কেন? আমার কি আসাও বারন?”
“তা বলিনি। এই সময় এলে যে তাই বললাম।”
“ধরে নিন কষ্টের ভাগ নিতে এসেছি।”
তন্নির কথা শুনে দ্রুত তুষার ভাইয়া ওর দিকে তাকালো। তন্নি মুচকি হেঁসে তুষার ভাইয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে।
“সবাই তো সুখের ভাগই নিতে আসে তাহলে তুমি কেন কষ্টের ভাগ নিতে আসবে?”
তন্নি মৃদু হেঁসে বললো,,
“ভালোবাসার মানুষটার সুখের আর দুঃখের ২ ভাগই আমার চাই। তাই চলে আসলাম।”

দুজনের কথা শুনে মুচকি হেঁসে চলে আসলাম। ২ জন একটু আলাদা টাইম স্পেন্ড করুক। তুষার ভাইয়া বেশি সময় তন্নি কে দুরে রাখতে পারবে না। তন্নির চোখের দিকে তাকালেই তার জন্য গভীর ভালোবাসা দেখতে পাবে ভাইয়া। মেয়েটা আগে সবার সাথে ফ্লার্ট করতো। অবশ্য এতে ওর দোষ নেই। ছেলেরাই বিরক্ত করতো। ও কখনোই কাউকে সিরিয়াস নিতো না। তন্নির কথা ভাবতে ভাবতেই তিশা আপুর রুমের দিকে পা বাড়ালাম। আপুও মন খারাপ নিয়ে বসে আছে৷ কি করে আবার এদের স্বাভাবিক করবো জানি না কিন্তু করতে তো হবেই। তিশা আপু বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি গিয়ে পাশে দাঁড়ালাম।
“আপু!”
আপু আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,
“হুম!”
“রাগ করছো?”
“রাগ কেন করবো?”
“আমার জন্যই আজ তোমরা বাবা মায়ের থেকে আলাদা।”
আপু মৃদু হেঁসে বললো,,
“উনারা উনাদের পাপের শাস্তি পাচ্ছে। তাতে তোর ওপর কেন রাগ করবো? আজ উনারা অন্যায় না করলে তারাও আমাদের সাথেই থাকতো। সুন্দর একটা পরিবার হতো। উনারা উনাদের লোভের জন্য আজ এই অবস্থায়। আর আমার তো এটা ভেবে ভালো লাগছে তুই কোনো ভাবেই পিছুটান নিয়ে সরে যাস নি। সরে গেলে তো উনারা শাস্তি পেতো না আর পরে আরো অন্যায় করতো হয়তো। আর সব থেকে বড় কথা হলো আমরা সবাই জানতাম এই দিনটা আসবে।”
আমি আপুর কথায় একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম,,
“আপু আবিদ ভাইয়া কেমন আছে?”
“হুম ভালো আছে। তুই হঠাৎ ওর কথা জিজ্ঞেস করছিস?”
“উনার নাম্বার টা দাও না? প্লিজ প্লিজ!”
“তুই ওর নাম্বার দিয়ে কি করবি?”
“প্রেম করবো। দাও!”
“এহহ ভাইয়া শুনলে কাঁচা চিবিয়ে খাবে তোকে!”
“ধ্যাত। দাও না!”
“ফোন নিয়ে আয়।”
তারপর আপুর ফোন নিয়ে এসে ঝটপট নাম্বার নিয়ে কল দিলাম……….

চলবে…
(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here