স্নিগ্ধ অনুভব পর্ব ৯+১০

0
101

#স্নিগ্ধ_অনুভব
#পার্ট:৯
#পিচ্চি_লেখিকা

মুখ ফুলিয়ে বসে আছি। ঠিক করেছি আজ আর ওই এনাকন্ডার সাথে কথা বলবো না। ওর জন্যই এত কথা শুনতে হলো খচ্চর বেডা। নিজে নিজে বলতে শুরু করলাম,,
“এতই যখন তোর সমস্যা তাইলে বিয়ে করলি কেন হ্যাঁ? আমারে বউ বলে পরিচয় দিতে না পারলে বিয়ে করার কি দরকার হ্যাঁ? ঢং দেখায় ঢং। রাগ, জিদ, ইগো আর এটিটিউডের ডিব্বা একদম। থাকবো না এই বাড়িতে। কেন থাকবো হ্যাঁ?”

মনে মনে তো অনুভবের ১৫ গুষ্ঠি উদ্ধার করে ফেলছি এখনো বাকি আছে। তখন থেকে রুমে এসে বসে আছি। ভার্সিটিও যায় নি। অনুভব তখন থেকে রুমে আসেনি। জানেই রুমে আসলে সিডর হবে আজ। একটু পরই কাচুমাচু হয়ে রুমে ঢুকলো অনুভব। উনাকে দেখেই চোখ গরম দিয়ে অন্য দিক ফিরে বসলাম।
“আমার বউ মনে হয় রাগ করছে!”
এই সময় এমন গা জ্বালানো কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলাম। ইচ্ছা তো করছে নাক মুখ ঘুষি মেরে ভেঙে দেয় কিন্তু কিছু না বলে চুপ করে রইলাম। আমাকে চুপ দেখে অনুভব আবার বললো,,
“বউ ও বউ চকলেট আনছি খাবা?”
উনার মুখে বউ শব্দ শুনে শিহরণ বয়ে গেলো। তার উপর তুমি করে বললো!এটাও সম্ভব?
“দেখ না বউ আমি তুমি বলতেই পারি না। সেই ছোট থেকে তুই বলে অভ্যাস তাই তুমি বলতে পারি না। চকলেট আনছি খাবি?”
“আপনি যান মিরার কাছে। খাবো না আমি কিছু।”
“এই রে বউ আমার দারুণ ক্ষেপছে। বউ রে আইসক্রিম খাবি?”
“খাবো না আমি যান এখান থেকে।”
অনুভব আমার কাছে এসে বসে বললো,,
“আমি কি করছি? আমার উপর রাগ করে আছিস কেন? তো….
উনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গিয়ে সুক্ষ্ম ভাবে আমার দিকে তাকালো। উনার চাহনি আমার ঠোঁটের দিকে। উনি হুট করে আমাকে এক ঝটকায় কাছে টেনে নিয়ে বললো,,
” তোর ঠোঁট কাটলো কিভাবে? মিরা তোকে মেরেছে?”
আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে রইলাম।
“বুঝেছি। ওর এত বড় সাহস! হাতই রাখবো না আমি ওর।”
অনুভবের চোখে মুখে স্পষ্ট রাগের ছাপ। উনি উঠে যেতে লাগলে আমিই হাত টেনে ধরে টেনে বেডে বসিয়ে দিলাম।
“আপনি এর থেকেও বেশি ক্ষত বিক্ষত করেন সেইটা চোখে পড়ে না? আর মিরা মেরেছে তাতেই এত রাগ!”
“শোন তুই আমার বউ। তোর উপর সব অধিকার আমার। তোকে মারবো আদর করবো বকবো ভালোবাসবো সব টাই আমি করবো। অন্য কেউ কোন সাহসে তোকে টাচ্ করবে?”
“হয়ছে। সব দোষ আপনার। আপনার যখন এতই বাদে আমাকে বউ বলে পরিচয় দিতে তাহলে বিয়ে করছেন কেন?”
“ওরে বইন রে বিশ্বাস কর মিরা জানে তুই আমার বউ। ইচ্ছা করে তোকে অপমান করছে।”
“মিথ্যা কথা।”
“এই দেখ বউ তোর মাথা ছুঁয়ে বলছি ও জানতো তুই আমার বউ!”
“এই এই হাত সরান। একদম আমার মাথায় হাত রেখে মিথ্যা বলবেন না।”
“আচ্ছা আমার মাথায় হাত রেখে বলছি দেখ।”
“ধুরু সরেন!”
অনুভবকে সরিয়ে দিয়ে উঠে আসতে যাবো তখনই উনি পেছন থেকে বললেন,,
“একটা কথা বলে যা স্নিগ্ধু।”
“আবার কি?”
“তোর সাথে এত অন্যায় করার পরও তুই এই বাড়িতে কেন আসলি? আমার সাথে সম্পর্ক আগের মতো কেন করছিস?”
উনার কথা গুলো শুনে কেমন যেন হাসি পাচ্ছিলো।
“যদি কথা হয় কেন এই বাড়িতে আসলাম? তাহলে উত্তর হচ্ছে,,আমি চায়নি মেঘলার বাড়িতে কোনো সমস্যা হোক। আর ওর বাড়িতে কতদিনই বা থাকতাম? তাই চলে এসেছি। আর দ্বিতীয়ত আমি সম্পর্ক আগের মতো কখন করলাম? আপনার সাথে আছি মানেই সংসার হয়ে যাচ্ছে! একটা সংসারে দুজনের দুজনের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা, আন্ডারস্ট্যান্ডিং, ভালোবাসা সবটাই থাকা দরকার যা আপনার আর আমার মাঝে নেই। আর হ্যাঁ এতো কিছুর পরও আমি আপনার কাছে আছি কারণ…
” কারণ কি?”
“আপনি অমানুষ হলেও আমি আমার ভালোবাসাকে সম্মান করি আর যদি আসে আপনার শাস্তির কথা তাহলে বলবো রিভেঞ্জ অফ ন্যাচার বলে কথাটা আছে না! সেটাই হবে। আপনি নিজেই শাস্তি পেয়ে যাবেন আমাকে দিতে হবে না।”
এটুকু বলেই বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। এমনটা না আমি উনাকে শাস্তি দিতে পারতাম না! অবশ্যই পারতাম কিন্তু আমি তো উনার মতো না। আমি পারি ক্ষমা করতে আর নিজের ভালোবাসাকে কি ই বা শাস্তি দিবো? আমি তো নিজেই এই স্নিগ্ধ অনুভবে আবদ্ধ। এই অনুভবকে আমি ৫ টা বছর স্বযত্নে ভালোবেসে গেছি। যখন বুঝতে শিখেছি ভালো লাগা কি? তখন তার প্রথম নাম টাও অনুভবেরই ছিলো। যখন বুঝতে শিখেছি ভালোবাসা কি? তখনও অনুভবের অনুপস্থিতি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে এই অনুভবকে কতটা ভালোবাসি! যাকে ৫ বছর কাছ থেকে দেখার জন্য ছটফট করেছি তাকে কি করে শাস্তি দিবো? যার জন্য অন্যের পা ধরতেও দ্বিধাবোধ করিনি তাকে কি করে শাস্তি দিবো? অনুভব আমার সাথে যাই করুক ভালোবাসে এটা আমিও জানি। তবে ওর এই কষ্টদায়ক ভালোবাসা তো কখনোই আমি চায়নি তবে? তবে কেন পেলাম এমন পরিস্থিতি?

অনুভব হসপিটালে গেছে তাই একা একা রুমে বসে আছি এমন সময় তিশা আপু ঝড়ের গতিতে আমার রুমে ঢুকলো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে রেগে আছে। আপু কিছু না বলে আমার পাশে বসে পড়লো।
“ক..কি হয়ছে আপু?”
“তুই এই বাড়িতে আসছিস কেন?”
“আ..আপু মেঘলা….
” জানি সব। তোর কি একটুও মায়া হয় না নিজের প্রতি? কেন ভালোবাসিস এতো?”
আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে একটু হাসলাম। যেমন তেমন হাসি না তাচ্ছিল্যের হাসি।
“তোর মনে হয় না অনুভব ভাইয়ার শাস্তি পাওয়া দরকার?”
“জানি না।”
“স্নিগ্ধু ভাইয়ার কাছে না ফিরলেও তো পারতি!”
“বাদ দেও না!”
“কি বাদ দিবো? স্নিগ্ধু তোর কি আত্মসম্মান নেই?”
“থাকবে না কেন? অবশ্যই আছে। তবে ইগো নেই। ইগো হার্ট হলে কখনোই অনুভবকে ক্ষমা করতাম না। তবে সেই আত্মসম্মান দিয়ে কি করবো যা আমার ভালোবাসার মানুষ থেকে দুরে সরিয়ে দেবে। আমি তো জানতাম ভালোবাসলে ক্ষমা করা যায়। তবে হ্যাঁ অনুভবের কাছে শুধু একটাই সুযোগ আছে। এই সুযোগেও সে ওইরকম বিহেভ করলে আর ক্ষমা করতে পারবো না।”
“তোর সাথে কথায় পারা যাবে না। অনুভব ভাইয়া কই?”
“হসপিটালে গেছে।”
“তুই ভার্সিটি যাসনি কেন?”
“এমনি। ভালো লাগছিলো না তাই।”
“মেঘলা তোকে অনেকবার কল দিছে তুই নাকি তুলিস নি তাই আমাকে পাঠিয়ে দিলো।”
“ফোন যে কই কে জানে?”
দুজন আরো অনেকক্ষণ গল্প করলাম। তারপর আপু চলে গেলো।

সন্ধ্যা বেলা বারান্দায় বসে আছি। অনুভব এখনো আসে নি। বাইরে বৃষ্টি নেমেছে। বৃষ্টি আমার অনেক ভালো লাগে কিন্তু ২ আগে জ্বর থেকে উঠছি এখন আবার বৃষ্টিতে ভিজলে খবর হয়ে যাবে। বৃষ্টি দেখে অনুভব ফোন করে বলে দিয়েছে যেন বৃষ্টিতে না ভিজি নয়তো আমাকে ছাদ থেকে ফেলে দেবে😐 ভয়েই আরো যায়নি। বারান্দা থেকে মুখ হালকা বাহিরে বের করে দিতেই ফোটা ফোটা বৃষ্টির ফোয়ারা ছুঁয়ে দিয়ে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ হলো বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু থামার তো নামই নেই। অনুভব এই বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি আসবে কিভাবে? কত ঝামেলা।
বাইরে তাকাতেই দেখলাম অনুভব ভিজতে ভিজতে বাড়িতে আসছে। গাড়ি কই উনার? আজব লোক তো। এই বৃষ্টিতে কেউ ভিজে? উনাকে আসতে দেখে তাড়াতাড়ি দরজার কাছে গেলাম। ঠান্ডায় রীতিমতো কাঁপতেছে। কোনো রকম ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে এসেই শুয়ে পড়লো। তাও টি-শার্ট পড়েনি শুধু টাউজার পড়েই কাথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়লো। উনার গায়ের কাঁপুনি দেখে জ্বর আসছে মনে হচ্ছিলো। এগিয়ে গিয়ে উনার পাশে বসে কাঁপা কাঁপা হাতে কপালে হাত দিতেই দেখি জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে শরীর। গায়ের তাপমাত্রা প্রচন্ড বেশি। জ্বরের ঘোরে কি সব বলছে তাও বুঝতে পারছি না। অনুভবকে রেখে তাড়াতাড়ি কিচেনে গিয়ে বাটিতে করে পানি আর একটা কাাপড় নিয়ে আসলাম। জলপট্টি দিতে গিয়ে দেখি উনি উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। এটা আবার কি ধরনের শোয়া এই লোকের। মাত্রই তো ঠিক করে শুয়িয়ে রেখে গেলাম। বাটি টা সেন্টার টেবিলে রেখে উনাকে ঠিক মতো শুইয়ে দিতে গিয়ে চোখ উনার পিঠের দিকে পড়তেই আতকে উঠি। কয়েক ধাপ পিছনে সরে যায়। পিঠে অনেক গভীর ভাবে আঘাত করা। একেকটা জায়গা পুরো কেটে যাওয়ার মতো হয়ে আছে। আমি এত মাইর খাওয়ার পরও কখনো এমন দাগ হয়নি। উনার পিঠে এমন দাগ কিভাবে হলো? কেউ কি উনাকে মেরেছে? সব চিন্তা রেখে আগে উনার কাছে গিয়ে ডাকতে লাগলাম।
“অ..অনুভব!”
“………….
” শুনছেন। উঠুন না! সোজা হন।”
অনেকক্ষণ ধাক্কা দিয়ে ডেকে তুলে সোজা করিয়ে দিলাম। টি- জ্বরের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে জলপট্টি দিতে লাগলাম। এখন একটু জ্বর কমেছে। উনি আবারও জ্বরের ঘোরে কি সব বলছে। কানটা উনার মুখের কাছে নিতেই উনি জাপটে ধরলেন। অনুভবের এহেন কাজে তো আমি হা হয়ে গেছি। অনুভব খুব শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে আছে। আর বিড়বিড় করে কিছু বলছে। এর ভেতর থেকে নিজেকে ছাড়ানো বড্ড কঠিন। যেভাবে ধরে আছে বাবাগো!

সকাল বেলা আবছা আলো মুখে পড়তেই চোখ মুখ কুচকে উঠতে গিয়ে মনে হলো কেউ শক্ত করে ধরে রেখেছে। পিটপিট করে চোখ মেলে মাথা টা উচু করতেই দেখি অনুভব মুচকি মুচকি হাসছে আর আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। উনাকে দেখে আমি ছাড়িয়ে নিতে যাবো উনি আরো শক্ত করে ধরে বললো,,
“আমি নাকি বিড়ালের বাচ্চার মতো ঘুমায় তো আপনি কি করেন ম্যাম?”
“ওই ছাড়েন। এমনে ধরে রাখছেন কেন? আর আমি ভালো ভাবেই ঘুমায়।”
“এহহহ ভালো ভাবে ঘুমায়। কত ভালো ভাবে ঘুমাস দেখলাম তো।”
“হয়ছে এবার ছাড়েন। আপনি জেগে গিয়েও আমাকে না ছেড়ে এভাবে ধরে আছেন?”
“সো হোয়াট? আমি আমার বউকে ধরছি ওকে অন্যের বউকে না!”
“ধুরু মিয়া ছাড়েন তাড়াতাড়ি। আমার ভার্সিটি আছে।”
“রোমান্সের সময় ভার্সিটির কথা মনে রাখতে হয় না বউ। রোমান্সের সময় শুধু রোমান্স করতে হয়।”
“আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে ছাড়েন বলছি।”

ছাড়ার কথা বললেই আরো চেপে ধরে। আবার বড় বড় করে রোমান্সের কথা বলছে!সেইমলেস লোক একটা। কি করি এখন?

একটু চুপ থেকে জোড়ে করে একটা চিমটি কাটতেই উনার হাত আলগা হয়ে গেলো। এই ফাকে আমি দৌড়। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি উনি এখনো বসে আছে। রাতের কথা মনে হতেই উনার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম,,
“রাতে ভিজে বাসাই আসলেন কেন? বৃষ্টিতে ভিজলে আপনার জ্বর হয় ভুলে গেছেন নাকি? আর গাড়ি কই আপনার?”
“এক এক করে প্রশ্ন কর। মাঝ রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছিলো পরে বাধ্য হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে হেঁটে আসছি।”
“তাই বলে হেঁটে আসবেন?”
“বাদ দে না।”
“আপনার পিঠে মারের দাগ কেন?”
আমার কথা শুনে চমকে আমার মুখের দিকে তাকালো অনুভব। আমতা আমতা করে বললো,,
“আব..কোথায় মারের দাগ? কারো সাহস আছে আহান আবরার অনুভবকে মারার!”
“তাহলে এমন ভাবে লাগলো কি করে? দেখে মনে হচ্ছে কেউ খুব বাজে ভাবে মেরেছে। আমি এত মাইর খেয়েও এরকম বাজে ভাবে দাগ হয়নি। আপনার পিঠের দাগ গুলো দেখে যে কেউ বলবে,,কেউ খুব নির্দয় ভাবে মেরেছে। ”
“তোর মাথা। সর এখান থেকে। আমি ফ্রেশ হবো।”
অনুভব আমাকে কথা বলতে না দিয়ে উঠে চলে গেলো। এড়িয়ে গেলো বিষয়টা তা বুঝলাম। একটা কথা কিছুতেই মাথায় আসছে না এই দাগ গুলো কিভাবে হলো?

ব্রেকফাস্ট শেষ করে লিভিং রুমে বসে আছি। কলিংবেলের শব্দে দরজা খুলতেই দেখি মেঘলা, আন্টি, আঙ্কেল দাঁড়িয়ে আছে।
“আঙ্কেল-আন্টি আসসালামু আলাইকুম।”
“ওয়ালাইকুম আসসালাম।”
“কেমন আছেন আপনারা?”
“আলহামদুলিল্লাহ..তুমি কেমন আছো?
” আলহামদুলিল্লাহ। তা কি মনে করে এই মেয়ের বাড়ি আসা। কখনো তো আসেন না!”
মুখ ফুলিয়ে বলায় আঙ্কেল-আন্টি হেঁসে দিয়েছে। পেছন থেকে মেঘলা বললো,,
“শুধু তো আঙ্কেল-আন্টি এসেছে আর কেউ তো আসে নি! কাউকে তো আর চোখে পড়ে না?”
“ওলে বাবালে আরেকজন আবার রাগ করছে হুহ।”
“আম্মু দেখছো স্নিগ্ধু ভেতরেও যেতে বলছে না চলো আমরা যায় গা।”
“ওই ছেরি ওই কত বড় সাহস তোর। ভেতরে আয় তাড়াতাড়ি। ”
৩ জনকে বসিয়ে অনুভবকে ডাক লাগালাম।
“উনি ভেতরেই আছে। চলে আসবে। আপনারা বসুন।”
নাস্তা নিয়ে গিয়ে আন্টিদের সাথে বসলাম। এতক্ষণে অনুভবও চলে এসেছে। আঙ্কেল আন্টি চা খেতে খেতে বললো,,
“যাক দুজন খুশিতে আছো এই অনেক। তো যে জন্য আসা।”
আঙ্কেল একটা কার্ড আমাদের দিকে এগিয়ে দিলো। কার্ড খুলে দেখি বিয়ের কার্ড। মেঘলার দিকে তাকিয়ে দেখি লজ্জা পাচ্ছে ওর এরকম অবস্থা দেখে শব্দ করেই হেঁসে দিয়েছি। অনুভব আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। আমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললাম,,
“আর লজ্জা পাইস না মেরি মা। এখনো বিয়েই হয়নি আর লজ্জায় লাল, নীল হচ্ছিস।”
“ওই চুপ ডাইনী। যা রেডি হয়ে আয়। আজ সবাই এক সাথে ঘুরবো। অনুভব ভাইয়া আপনার কোনো সমস্যা নাই তো?”
অনুভব এক গাল হেঁসে বললো,,
“আমার কোনো সমস্যা নেই শালিক পাখি তোমরা যাও। আমারও আজ হসপিটালে অনেক কাজ তুমি ওকে একটু বাড়িতে ড্রপ করে দিয়ো প্লিজ।”
“ঠিক আছে।”

আঙ্কেল-আন্টি চলে গেলেন। অনুভব হসপিটালে গেলো। আমি আর মেঘলা ভার্সিটির দিকে গেলাম। সেখান থেকে তন্নি তামিম ফাহিম ভাইয়া সবাই মিলে ঘুরতে বের হলাম। সারাদিন অনেক ইনজয় করলাম। অনুভব ফোন দিয়ে বলে দিয়েছে যেন পাকনামি না করে মেঘলার গাড়িতেই বাড়ি যায়। অগত্যা তাই করছি। তন্নি আর তামিমও আছে। ৩ জনেই আড্ডা দিতে দিতে যাচ্ছি। মেঘলা আর ফাহিম ভাইয়া নিজেদের মতো করে টাইম স্পেন্ড করছে। আর তো মাত্র কয়েকটা দিন। ৩ জন আড্ডাতেই মেতে ছিলাম হঠাৎ করেই চোখ বাইরে যেতেই আমার পিলে চমকে যায়।
#স্নিগ্ধ_অনুভব
#পার্ট:১০
#পিচ্চি_লেখিকা

রুমের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছি। পুরো রুমে অন্ধকার। অনুভব এখনো ফিরেনি। বাড়ি এসেছি অন্তত পক্ষে ৪০ মিনিট হবে কিন্তু এখনো ফ্রেশ হয়নি। ভয়ে এক প্রকার কাঁপছি। মাত্র সুখের দেখা পেয়েছি সেই সুখ কি আবারো শেষ হয়ে যাবে। রাহাত বিডিতে এসেছে সত্যি। রাহাতের বিডিতে আসার খবর অনুভব জানলে কেমন প্রভাব পড়বে আমাদের সম্পর্কে? তখন গাড়ির বাইরে তাকাতেই রাহাত কে চোখে পড়ে। রাহাতকে দেখেই ভয়ে আত্মা কেঁপে উঠে। রাহাতকে ভয় পায় এমন না। ভয় তো পাই অনুভবকে। সে একবার জানলে আবারও আমার জিবনটা কালবৈশাখী ঝড়ের মতো এলোমেলো হয়ে যাবে। না না আর ভাবতে পারছি না। মাথা চেপে বসে আছি। হঠাৎ করেই রুমের লাইট জ্বলে উঠলো,,চোখ মুখ কুঁচকে সামনে তাকাতেই দেখি অনুভব। আমাকে এমন এক কোণায় বসে থাকতে দেখে বললো,,
“তুই ওখানে কি করিস স্নিগ্ধু?”
আমি শুকনো ঢোক গিলে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিয়ে বললাম,,
“এ..এমনি তেই এখানে বসে আছি। ভালো লাগছিলো না তো তাই এখানে বসে আছি।”
“শরীর খারাপ নাকি দেখি তো!”
অনুভব দ্রুত গতিতে আমার সামনে এসে কপালে হাত ছুঁইয়ে দিয়ে বললো,,
“কই জ্বর তো নেই। কেন খারাপ লাগছে তোর? কোথায় খারাপ লাগছে বল!”
“কিছু হয়নি। আপনি ফ্রেশ হয়ে আসেন।”
অনুভব আমার দিকে পূর্ণ দৃষ্টি রেখে বললো,,
“কখন ফিরেছিস?”
“এই তো একটু আগেই।”
“ফ্রেশ হোসনি কেন?”
এসির মধ্যেও ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছি। অনুভব কি বুঝলো কে জানে হঠাৎ করেই পাজা কোলা তুলে নিলো,,
“আরে আরে কি করছেন? নামান নামান।”
“ওই চুপ। এত লাফাস কেন তুই? বেশি লাফালাফি করলে ফেলে দিবো।”
ফেলে দেওয়ার কথা শুনে অনুভবের গলা জড়িয়ে ধরলাম। নয়তো সত্যি ফেলে দিতে পারে যে ডেঞ্জারাস লোক। অনুভব কোলে নিয়েই ওয়াশরুমে ঢুকে আমাকে নামিয়ে দিলো,,
“ওয়াশরুমে কেন আনলেন?”
“বউয়ের সাথে রোমান্স করার জন্য😐”
“ধুর সরেন আমি যায়।”
উনাকে সরিয়ে আসতে যাবো তখনি উনি হেচকা টানে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। ঝর্ণা বেয়ে পানি পড়ে ভিজিয়ে দিয়েছে দুজনকেই।
“ধুর কি করলেন এটা?ভিজে গেলাম তো। ছাড়েন তাড়াতাড়ি।”
“পারলে ছাড়িয়ে নে।”
“আপনার মতো বডি বিল্ডারের সাথে কি আমি পারবো? আরে পুরো ভিজে যাচ্ছি ছাড়েন।”
“এখন ছেড়ে কি হবে? ভিজেই তো গেছিস।”
“ধ্যাত ভাল্লাগে না।”
অনুভবকে এক প্রকার তাড়া দিয়ে শাওয়ার শেষ করিয়ে বের করে দিলাম। এর জন্য এই রাতের বেলা আমার শাওয়ার নিতে হচ্ছে। বজ্জাত লোক। যত এটাকে ইগনোর করতে চাই তত কাছে চলে আসে। তাড়াতাড়ি শাওয়ার নিয়ে নিলাম।
“এহহহ আমাকে তো অনুভব নিয়ে আসছে। আমি তো কাপড় না নিয়ে ঢুকছি এখন কি করি?”
ওয়াশরুমের দরজা একটু খানি খুলে মাথা বাইরে দিয়ে দেখি অনুভব বেডে বসে কি যেন ভাবছে।
“” আমি এখন কি করি? উনি তো এখানেই বসে আছে। রুমেও যেতে পারবো না তাহলে কি করবো?”
জোড়ে করে শ্বাস নিয়ে মাথাটা আবারও একটু বের করে অনুভবকে উদ্দেশ্য করে বললাম,,
“শুনছেন?”
“……………
কোনো সাড়া শব্দ নেই। আমি এবার আরেকটু জোড়ে বললাম,,
” ওই এনাকন….না মানে অনুভব শুনুন না!”
“আমি কিছু শুনতে পারবো না।”
“কেন পারবেন না?”
“তুই আমাকে বের করে দিলি কেন তাই!”
“ধুর শোনেন না!আপনি তো আমাকে ওয়াশরুমে নিয়ে এসেছেন কিন্তু ড্রেস দেন নাই তো! দিয়ে যান না প্লিজ!”
“পারবো না। নিজে এসে নিয়ে যা।”
“এমন করেন কেন? দিয়ে যান না!”
অনুভব কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললো,,
“দিতে পারি বাট আমার একটা ইচ্ছা পূরণ করতে হবে তাহলে দিবো নয়তো না।”
“এটা আবার কেমন কথা?”
“এমন কথাই। শুনলে দিচ্ছি না শুনলে নিজে নিয়ে যা।”
“ধুর। বলেন কি ইচ্ছা?”
“বলবো আগে তুই চেঞ্জ করে আয় তারপর।”
“তো ড্রেস দেন।”
“উহু তার আগে প্রমিজ কর। যা চাইবো তা দিবি!”
“না শুনে কেন প্রমিজ করবো? আজব!”
“ওকে নিজে নিয়ে যা।”
“এই এই আমি প্রমিজ করবো তো।”
“ঠিক আছে প্রমিজ কর আগে।”
“আগে বললে কি হবে আজব!”
“বেশি কথা বললে নিয়ে যা তুই।”
“আরে ঠিক আছে প্রমিজ যা বলবেন তা শুনবো এবার কাপড় দেন!”
অনুভব ঠোঁট কামড়ে হেঁসে কাবার্ড থেকে একটা ড্রেস বের করে দিয়ে চলে গেলো। আমিও চেঞ্জ করে এসে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছছিলাম।
“এবার ঝট পট এটা পড়ে রেডি হয়ে নে।”
অনুভবের দিকে তাকিয়ে দেখি হাতে একটা প্যাকেট। আমি ভ্রুকুচকে বললাম,,
“কিসের প্যাকেট এটা?”
“বড্ড বেশি প্রশ্ন করিস তুই। খুলে দেখ কি আছে?”
আমি অনুভবের হাত থেকে প্যাকেট নিয়ে খুলে দেখি কালো রঙের একটা শাড়ি। সিল্কের শাড়ি। শাড়ি দেখে উনার দিকে তাকিয়ে বললান,,
“এটা কার জন্য?”
“ধুরো গাধা মহিলা। আমার আরো ৪-৫ টা বউ আছে তাদের জন্য আনছি।”
“ওই ওই কি বললেন আপনি?”
“তুই আসলেও গাধি সর। কথা কম বলে শাড়িটা পড়ে আয়।”
“শাড়ি আর আমি? হাউ ফানি! আমি পারি না শাড়ি পড়তে!”
“তা পারবি কেন? তুই তো শুধু পারিস ফ্যাচ্ ফ্যাচ্ করে কান্না করতে আর ঢ্যাং ঢ্যাং করে নাচতে।”
” 😒😒
“অনার কাছে যা অনা পড়িয়ে দেবে।”
“অনা পারে?”
“হুম পারে। আমিও পারি। তোরে তো আবার আমি ছুঁইলেই ছ্যাকা লাগে।”
“হ লাগেই তো। সরেন,,”
অনুভবকে সরিয়ে দিয়ে প্যাকেট টা নিয়ে অনার রুমে গেলাম। অনা পড়তেছে। দরজার কাছে গিয়ে নক করলাম,,
“আসবো ম্যাম?”
অনা আমার দিকে তাকিয়ে পড়ার টেবিল ছেড়ে আমার সামনে এসে বললো,,
“নিজেদের বাড়িতেই পারমিশন নিয়ে ঢুকতেছো?”
“এইটা তো তোমারও বাড়ি অনা আর তাছাড়া তুমি যদি ব্যস্ত থাকো এই ভেবেই নক করলাম।”
“আচ্ছা আসো। তা কি মনে করে আমার রুমে আসা?”
“আরে দেখো না আমি তো শাড়ি পড়তে পারি না অথচ অনুভব শাড়ি দিয়ে সাফ সাফ বলে দিয়েছে পড়তে। তাই তোমার কাছে আসলাম।”
অনা আমার কথা শুনে মুচকি মুচকি হাসছিলো। আমি তা খেয়াল করে বললাম,,
“ওই হাঁসছো কেন?”
“এমনি তেই। আসো শাড়ি পরানো শুরু করি।”
“হুম।”
অনা শাড়ি পড়াতে পড়াতে বললো,,
“ভাবি একটা কথা বলবো?”
“হুম বলো না!”
” তুমি এ বাড়ি থেকে আর যেয়ো না প্লিজ।”
আমি সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে অনার দিকে তাকালাম। ওর কথায় অনেক করুন সুর। কেন? হঠাৎ এমন কেন বলছে?
“হঠাৎ এভাবে বলছো যে!”
“হুম বলছি। জানো ভাবি আমি প্রথম প্রথম ভাবতাম স্যার তোমাকে পছন্দ করেন না,,ভালো ও বাসেন না। কিন্তু…
” কিন্তু কি?”
“লাস্ট যেদিন তোমাকে স্যার মেরেছিলো সেদিন আমি মাইরের শব্দে তোমাদের রুমের কাছে গেছিলাম। গিয়ে দেখি তুমি সেন্সলেস আর স্যারের গায়ের শার্ট রক্তে ভিজে ছিলো । পুরো পিঠ রক্তাক্ত ছিলো। স্যার তখনও তোমাকে জড়িয়ে অনেক কাঁদছিলো।”
অনার কথা শুনে হা হয়ে গেছি। কি বলছে এসব? তার মানে অনুভব নিজেই নিজেকে..এত দয়ামায়াহীন কেন এই লোক?
“সেদিন তুমি চলে যাওয়ার পর স্যারের রুম থেকে ভাঙচুরের আওয়াজ পেয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখি স্যার সব ভেঙে ফেলেছে। আর ফ্লোরে হাঁটু মুড়ে কান্না করছে। তোমাকে সব বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার নাম্বার ছিলো না আর সেদিন বলার সুযোগও পায়নি।”
অনার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে আছি দেখে অনা চোখের সামনে তুরি বাজিয়ে বলে,,
“কোন দেশে হারালে গো ভাবি? তোমার শাড়ি পরানো হয়ে গেছে যাও।”
“হুম থ্যাঙ্কস।”
অনার কথা গুলোই মাথায় বার বার আসছে। অনুভব এসব কেন করছে? আর যদি এতই ভালোবাসে তবে কেন এত অত্যাচার? কেন কাছে এসে আবারও দুরত্ব বাড়িয়ে দেওয়া?

অনার কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই রুমে চলে এসেছি। সামনে তাকিয়ে দেখি অনুভব ব্ল্যাক একটা পাঞ্জাবি পড়েছে,,ব্ল্যাক ওয়াচ,,ব্ল্যাক সানগ্লাস,,চুল গুলো স্পাইক করা,, আরো একবার ক্রাশ খাইলাম আর কি,,আমাকে দেখে অনুভব হাতা ফোল্ড করতে করতে বললো,,
“হা করে তাকিয়ে না থেকে যা করার তাড়াতাড়ি কর বের হবো আমরা।”
“তাকায়নি আমি ওকে৷ আর কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
“রাতের শহর ঘুরবো আমরা।”
অনুভবের কথায় অবাক হয়ে ওর মুখের দিকে তাকালাম। এই রসকসহীন লোক কি না বলছে রাতের শহর ঘুরবে? কেমনে সম্ভব?
“আবার কি হয়ছে? আরে যা তাড়াতাড়ি তোর সাজ গোজ শেষ কর।”
“হুম.”
“শোন!”
“হুম বলেন!”
“চুল বাঁধিস না খুলে রাখিস। ”
“এটা কেমন কথা! এই গরমে….
” চুপ থাক একটাও কথা বলবি না। যা বলছি তা কর।”

অগত্যা চুল খোলা রেখে হালকা সেজে নিলাম। বুঝি না এই রাতের বেলায় চুল খুলে কোন মহাভারত অশুদ্ধ করবো আজব!

রাতের শহর টা সত্যি অসাধারণ। কখনো সেভাবে সুযোগ হয়নি এই রাতের শহর ঘুরে দেখার তবে ইচ্ছা ছিলো অনেক। অনুভব আর আমি পাশাপাশি হেটে যাচ্ছি। দুজনেই খালি পায়ে হাটছি। আমার জুতা আর উনার জুতা সব জুতা উনার হাতে ধরিয়ে দিয়েছি হিহিহি।
“কেন যে তোরে নিয়ে বের হতে গেছিলাম?”
“কেন? বের হয়ছেন তো কি হয়ছে?”
“কি আবার হবে? ভাবলাম এত সুন্দর পরিবেশে বউয়ের সাথে রোমান্স করবো প্রেম করবো অথচ কি করছি? জুতো হাতে নিয়ে হেঁটে চলেছি। ভাল্লাগে না।”
অনুভবের কথায় শব্দ করে হেঁসে দিয়েছি।
“আহারে বেচারা।”

দুজনে একটু হেঁটে সামনে এসে দেখি ফুসকা, চটপটি, ঝালমুড়ি আরো অনেক কিছু আছে। এগুলো দেখেই তো লাফ দিয়ে উঠলাম।
“এই এই ব্যাঙের মতো লাফাচ্ছিস কেন?”
“ফুসকা খাবো। চলেন”
“নো। একদম না। এসব খেয়ে শরীর খারাপ করা যাবে না।”
“এরকম করেন কেন? কিছু হবে না। প্লিজ প্লিজ চলেন।”
“না একদম না।”
অনেক ঘ্যান ঘ্যান করে মহাশয় কে রাজি করিয়ে ফুসকা ওয়ালা মামার কাছে গেলাম।
“মামা ২ প্লেট ফুসকা।”
“২ প্লেট কে খাবে?”
“কেন? আপনি আর আমি।”
“নিজে খাবি খা আমারে টানবি না এসবে।”
“হুহ টানবো না যান।”

ফুসকা খেয়ে দুজন রিকশা করে ঘুরে অনেকটা সময় কাটিয়ে বাড়ি এসে পড়লাম। আজকের সময়টা অনেক ভালো কেঁটেছে। আমাদের সম্পর্কটাও আগের চেয়ে একটু সহজ হয়ে গেছে। অনুভব ফ্রেশ হয়ে এসে সোফায় শুয়ে পড়লো। আমি বেডে হেলান দিয়ে বসে আছি। হঠাৎ করেই অনার বলা কথা গুলো মনে পড়তেই অনুভবের কাছে গেলাম ঝড়ের গতিতে। অনুভবের হাত ধরে টানছিলাম। তা দেখে অনুভব বললো,,
“এভাবে টানছিস কেন?আজব!”
“উঠেন। সত্যি করে বলেন তো আপনার পিঠে এভাবে কাটলো কি করে?”
“আবারও এই কথা নিয়ে পড়েছিস!”
“হুম পড়েছি্। আপনি বলেন?”
“তুই যা ঘুমা।”
“না।”
“স্নিগ্ধু,,যা ঘুমা বলছি!’
অনুভবের ধমক খেয়ে চুপচাপ এসে শুয়ে পড়লাম। কাট্টি এই লোকের সাথে। কথা বলবো না আর হুহ।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করে আমি ভার্সিটি আর অনুভব হসপিটাল গেলো। ভার্সিটির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। মেঘলা আর তন্নি বললো বাইরে দাঁড়াতে। হঠাৎ করেই কেউ যেনো দৌড়ে এসে ঝড়ের গতিতে জড়িয়ে ধরলো। আমি তো পাথর বনে গেছি্। কি হলো এটা? কয়েক সেকেন্ড পর ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম লোক টা কে। কিছু বলতে যাবো তখন খেয়াল করলাম এটা আর কেউ না রাহাত। আমি রাহাতকে দেখে একটা ঢোক গিলে বললাম,,
” আ..আপনি এখানে কেন?”
“তোমাকে দেখতে আসলাম স্নিগ্ধু।”
“আপনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন কখনো আসবেন না আমার কাছে তাহলে এখন কেন?”
“তোমার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। অনুভবের সাথে!”
“হুম।”
“তোমার ভালোবাসা তবে স্বার্থক হলো বলো!”
“হুম।”
“ভালো আছো তো?”
“হুম।”
“আচ্ছা ভালো থাকলেই ভালো। আল্লাহ হাফেজ।”
এটুকু বলেই রাহাত কোথায় যেনো চলে গেলো। আবার কেন এসেছে উনি? আবারও আমার জিবনে দুঃখ আসবে। অনুভব কতটা জানে রাহাতের বিষয়ে? রাহাত বিডিতে এটা জানলে কি করবে অনুভব? ভুল বুঝবে আমাকে? না, আর ভাবতে পারছি না। কি হতে চলেছে আল্লাহ ভালো জানে। আচ্ছা অনুভবের এই রাগের পিছনে কোথাও এই রাহাতের বিষয়টা নেই তো? কিন্তু আমার তো কোনো দোষ নেই।

ক্লাস শেষ করে আজ আর আড্ডা না দিয়ে সোজা বাড়ি চলে আসলাম। অনুভবের সাথে একটা কথাও বলিনি। পুরোটা সময় চুপ করে ছিলাম। বারান্দায় গিয়ে তিশা আপুকে ফোন দিলাম,,
“হ্যাঁ ম্যাম বলেন। কি মনে করে এই আপুকে মনে করলেন?”
“আপু মজা করো না।”
“কি হয়েছে বল তো? তোর কন্ঠ এমন কেন?”
“আপু রা..রাহাত!”
“কিহহ,,রাহাত কি? কোথায় রাহাত?”
“বিডিতে আপু।”
“কি বলছিস এসব? রাহাত তো বলেছিলো ও কখনো আসবে না। তবে?”
“জানি না কি হবে?”
“তুই কোথায় দেখলি রাহাতকে?”
“আমার ভার্সিটির সামনে এসেছিলো। কথাও বলেছে।”
“অনুভব ভাইয়া জানে কিছু?”
“না আপু। উনি জানলে আবারও ঝড় উঠবে বুঝতেছো।”
“হুম বুঝছি। ভয় পাস না। দেখ কি হয়?”
“হুম।”
ফোন কেটে দিয়ে ভাবতে লাগলাম কি হবে? হঠাৎ করেই অনুভবের গম্ভীর কণ্ঠ শুনে চমকে উঠে পিছনে তাকালাম,,
“রাহাত বিডিতে স্নিগ্ধু?”
“……
” চুপ করে না থেকে বল!”
“হু..হুম।”
অনুভব কিছু না বলে আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ নিরব থেকে বললো,,
“এই সেই রাহাত তাই না?”
“হুম।”
“সেই সময় টা তে আমাকে না ঠকালেও পারতি।”
অনুভবের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি চোখে মুখে রাগের ছাপ নেই। আছে বিষন্নতার ছাপ। যা ভেবেছিলাম তাই।
“আমি আপনাকে ঠকায়নি কখনো!”
“তাহলে ৩ বছর আগে কি করেছিলি? ”
“সেইটা আপনার ফ্যামিলিকে জিজ্ঞেস করবেন তারা ভালো বলতে পারবে।”

চলবে…..

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here