স্নিগ্ধ আবেশে তুমি পর্ব -১২

0
48

#স্নিগ্ধ_আবেশে_তুমি
#তানজিনা_তিহা (লেখনীতে)
#পর্ব_১২

আজ ভালো লাগছে না সেই সকাল থেকে মাথাটা প্রচুর ব্যাথা করছে। বিছানায় শুয়ে আছি আমি উঠার শক্তি আমার মাঝে নেই। বিকেল বেলা! জানালার ফাঁকে ঠাণ্ডা হাওয়া আসছে বেশ ভালো লাগছে কিন্তু উঠতে পারছি না। তূর্য তো অফিসে, সেই সকালে গেছেন এখনো আসেন নি। শুয়ে শুয়ে বোর হচ্ছি আমি। হঠাৎ দরজার কেচকেচ আওয়াজ শুনতে পেলাম। দরজায় তাকিয়ে দেখলাম আদ্রিজা। আমাকে দেখে হাসছে সে। সে এসে আমার কাছে বসলো। আমি চুপ করে আছি কিছু বললাম না তাকে।

সে আমাকে নিরব দেখে বললো,
মিসেস তাসকিন মাহমুদ তূর্য কেমন আছেন?

আমি আশ্চর্য হলাম। হঠাৎ কি চাচ্ছে সে? কথা বলতে ইচ্ছে করছে না তবুও বললাম, ভালো।

তো আজ যে নিচে যাচ্ছেন না কি হয়েছে?

তেমন কিছু না মাথাটা হঠাৎ ব্যাথ্যা করছে।

সে বোধহয় খুশি হলো‌। নেকামি করে বললো, আহারে অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই না?

আমি চুপ করে রইলাম। সে বললো, তোমার সাথে তো আমার হিসেবটা বরাবর হয় নি।

আমি অবাক হলাম। এরপর বললাম, কি বলছেন আপনি?

সে অট্টোহাসিতে ফেটে পড়লো।

তুই আমার তূর্যকে নিয়েছিস কি ভেবেছিস তুই? আমি এতো তাড়াতাড়ি মেনে নেবো? নেভার এভার। তূর্য শুধু আমার আমারই বুঝলি।

আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম।

এবার সে আমার সন্নিকটে এসে আমার গাল চেপে ধরলো বেশ কষ্ট হচ্ছে আমার। এবার সে বললো, তোকে তো আমি ছাড়বো না।

হঠাৎই রুমে কেউ প্রবেশ করলো। সে সাথে সাথে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, ভাবি বেশি ব্যাথ্যা হচ্ছে? কোথায়? কোথায়? মলম দিয়ে দিবো।

আমি তো অবাকের চরম পর্যায়ে। দেখলাম তূর্য এসেছেন। আমি বেশি কিছু বললাম না। তাকে আপাতত এসবের কিছুই জানাতে চাচ্ছি না। জানি না সে বিশ্বাস করবে কিনা। তূর্য আমার দিকে সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আর আদ্রিজা তো নেকামি করেই যাচ্ছে। সে হঠাৎই আদ্রিজাকে এক ধমক দিয়ে বললেন, আদ্রিজা তুমি বাহিরে যাও।

আদ্রিজা আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে চলে গেলো। তূর্য এসে একেবারে আমার পাশ ঘেঁষে বসে পড়লেন‌। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন, কি হয়েছে বউ?

আমি বললাম, কিছু না।

এবার সে আমাকে আলতো করে বসিয়ে দিলেন‌। আমার মাথা তার বুকের মাঝে নিয়ে নিলেন। দুহাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে বুকে চেপে ধরলেন। আমি নিরব তিনিও কিছু বলছেন না। হঠাৎ সে আমার কপালে গাঢ় এক চুম্বন এঁকে দিলেন। আমি লজ্জায় মাথা নুইয়ে নিলাম। সে তা দেখে মুচকি হাসলো।

মেহু! কি হয়েছে বলো না,,

তেমন কিছু না।

এবার তিনি আমার দু গাল আঁকড়ে ধরলেন তার নিঃশ্বাস যেন আমার মুখ আঁচড়ে পড়ছে‌।‌ আমার ওষ্ঠ্যাধরের নিকটে মুখশ্রী নিয়ে এলেন। আমি লজ্জায় লাল নীল বেগুনী হয়ে যাচ্ছি।

তিনি তার অধর দুটি নাড়িয়ে বললেন, কি হয়েছে বলবে? নাকি আমি অন্য ,,

সকাল থেকেই মাথাটা প্রচুর ব্যাথা করছে।

এবার তিনি আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ড্রয়ার থেকে মলম নিয়ে এসে আমার মাথায় লাগিয়ে দিলেন। এরপর আমার মাথায় অনবরত বিললি কাটতে থাকলেন।

সারাদিন পরিশ্রম শেষে সবে মাত্র বাসায় এলেন তাও আবার আমায় নিয়ে ব্যস্ত। জামাকাপড়ও বদলাতে পারেন নি।

হয়েছে আপনি যান। ফ্রেশ হয়ে আসুন আমি খাবার দিচ্ছি।
বলে আমি উঠে বসতে নিলাম কিন্তু সাথে সাথেই তিনি আমাকে এক হেঁচকা টান দিয়ে খাটের উপর ফেলে দিলেন। আমার কাছে এসে বললেন, একদম উঠবে না পা ভেঙে দিবো।

আমি চুপ করে শুয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ পরে সে বললো, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। তুমি কিন্তু উঠবে না।

আমি শুয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ বাদে তাকে দেখে আমি চিৎকার করে উঠলাম। সে আমার দিকে বিস্মিত নয়নে চেয়ে আছে। আমার চিৎকার শুনে আমার কাছে এসে আমার মুখ চেপে ধরলেন। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। খানিকক্ষণ বাদে আমার মুখ ছেড়ে দিয়ে বললেন, মেহু! চিৎকার দিচ্ছো কেন?

আপনি আপনি এভাবে এসেছেন কেন?

এবার তিনি বললেন, তো?

তো মানে? এভাবে জাস্ট একটা তোয়ালে পড়ে ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে এসেছেন আপনার লজ্জা করে না?

আমার কথায় সে বোকা বনে গেলো। আমার দিকে রাগে কটমট করতে করতে বললো, তো এই জন্য এভাবে চিৎকার করতে হয়?

হুম। আপনি এভাবে এসেছেন কেন?

শার্ট প্যান্ট নিতে ভুলে গেছি তাই।

তাড়াতাড়ি যান।

তিনি এবার এক শয়তানি হাসি দিয়ে বললেন, যাবো কেন?

আপনি নিজের অবস্থা দেখেছেন?

হ্যাঁ, দেখেছি। সমস্যা কি? আমরা তো হাসবেন্ড ওয়াইফ আর আমাদের মাঝে লুকোনোর কিছুই নাই বেবি।

তার কথায় আমার কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। সে এবার আমার আরো কাছে চলে এলেন। আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। সে এবার আমার অধর স্পর্শ করে বললেন, তোমার মধ্যে কি নেশা আছে বলো তো বউ?

আমি চুপ করে থাকলাম। হঠাৎ সে আমার অধরযুগল নিজের আয়ত্তে করে নিলো। তার হঠাৎ কাণ্ডে আকাশে পৌঁছে গেলাম। আমি তাকে নিজ থেকে সরানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু ব্যর্থ। আমার মুখ থেকে উম উম শব্দ বের হচ্ছে কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। এক পর্যায়ে শান্ত হয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর সে আমাকে ছেড়ে দিলো। আমি চুপটি করে বসে থাকলাম। লজ্জায় মাথা নিচু করে আছি আমি। সে আমায় দেখে হাসছে। আমার কানের কাছে এসে বললো, বাকি পাওনাটা রাতে উসুল করে নিবো।
আমি এবার কাঁপতে থাকলাম। তার কথায় আমি জমে পাথর।
তূর্য আমার অবস্থা দেখে মিটিমিটি হাসছেন আর বলছেন, এতো লজ্জা পেলে কিভাবে হবে বউ?

আমি চুপ করে রইলাম। সে শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে আমার পাশে এসে বসলেন এরপর বললেন বোতামগুলো আটকে দাও।

আমি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকলাম। সে আবার বললো, লাগাবে নাকি আমি,,,

আমি আর কিছু বলতে না দিয়ে বোতাম গুলো লাগাতে শুরু করলাম। আমার মুখের উপর নেমে আসা অবাধ্য চুলগুলোকে সে কানের পিছনে গুঁজে দিচ্ছেন আর আমার গাল টেনে দিচ্ছেন। আমি লজ্জায় নুয়ে যাচ্ছি।

তিনি বললেন, এতো লজ্জা কেন পাও বলতো? আমি তো এখন বাবা ডাক শুনতে চাচ্ছি।

আমার মুখ লাল হয়ে গেছে তার কথায়।

হঠাৎ তিনি বললেন, মেহু! ঘুরতে যাবে?

আমি অবাক হলাম। বিয়ের এতো গুলো দিন হয়ে গেলো আজ পর্যন্ত আমাকে নিয়ে উনি বের হন নি। আমাকে কখনো বলেনও নি। মিফতা বায়না করলেও সে মানা করে দিয়েছে। এমনকি কলেজেও একা যেতে দেন না। বোরখা তো আমার নিত্য সঙ্গী। তার ধারণা রাস্তায় বের হলে ছেলেরা আমাকে বাজে ইঙ্গিত দিবে। আমারো কিছু বলার নেই বাড়িতেই ভালো আছি। তার শাসনে আমার বারোটা বেজেছে। কিন্তু হঠাৎ করে আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবেন বলছেন কেন?
তিনি আমার কোলে মাথা রেখে বললেন, ও বউ আজকে তোমাকে নিয়ে বের হতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে।

আমি চুপ করে থাকলাম।

সে বললো, যাবে না?

আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম।

সে মুচকি হেসে উঠে বসলো বললো,

তাড়াতাড়ি রেডি হও। ড্রয়ারে একটা কালো রঙের শাড়ি আছে সেটা পড়ো। আর হালকা সাজবে কেমন?
.
.
.
.
.
.

খালা মণি ওই মেয়েকে আমি ছাড়বো না। তূর্য আমার দিকে তাকায় না শুধু মাত্র ওই মেয়েটার জন্য।

হুম। চুপ করে থাক মা। তূর্য তোরই হবে। সাথে এই বিশাল সম্পত্তিও। যেভাবে ওর মাকে সরিয়ে ওর বাবাকে হাত করেছি সেভাবে ওকেও হাত করবো। তুই শুধু একটু ধৈর্য ধর।

যা করো তাড়াতাড়ি করো আমার আর ভালো লাগছে না খালা মণি।

সে আমায় শাড়ি পড়তে বলেছেন কিন্তু আমি তো শাড়ি পড়তে পারি না। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছি আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। তূর্য আমায় বললেন, বসে আছো কেন যাবে না?

আমি ঠোঁট উল্টে বললাম, শাড়ি পড়তে পারি না।

সে আমার কাছে এসে বললো, এটা তো বলবে চুপ করে বসে থাকলে হবে?

আমি চুপ করে থাকলাম। সে আমার কানের কাছে এসে বললেন, এবার কি ব্লাউস পেটিকোট ও আমি পড়িয়ে দিবো?

আমি বড় বড় চোখ করে তার পানে চেয়ে রইলাম। সে বললো, তো পড়িয়ে দিবো?

আমি ওয়াসরুমে চলে গেলাম।

ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে দেখলাম তূর্য খাটের উপর বসে আছেন। আমি এক পা দু পা করে সামনে এগোচ্ছি। সে আমাকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন। আমার কাছে এসে আমার কোমর জড়িয়ে ধরলেন।

আমার সুন্দরী বউটা।

এরপর আমার গায়ে পেঁচিয়ে রাখা শাড়িটা নিয়ে আমায় পড়িয়ে দিলেন। হালকা করে সাজিয়ে দিলেন আমায়। তার কাণ্ডে আমি অবাক। কি বলবো কিছু বুঝতে পারছি না। হঠাৎ তার কি হলো? হঠাৎ এতো পরিবর্তন?

.
.
.
.
.
.

তূর্য আমাকে নিয়ে একটা পার্কে এলেন। সবুজ সমাহারে তার হাত ধরে হাঁটছি আমি। সে অনেক শক্ত করে আমার হাত ধরে রেখেছেন। চারপাশের দৃষ্টি আমাদের দিকে।

তূর্য বললেন, মেহু! তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে। একদম পরি আমার মেহু পরিটা।

আমি চুপ করে থাকলাম। অনেকটা পথ হেঁটে একটা বেঞ্চে এসে বসলাম। তূর্য আমার হাত আঁকড়ে ধরে বললেন, মেহু! তোমাকে আমি কিছু বলতে চাই।

আমি সম্মতি দিলাম। কিন্তু আশ্চর্যও বটে। কি বলতে চাচ্ছেন উনি?

এরপর উনি যা বললেন হা হয়ে থাকলাম।

চলবে…….

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here