হৃদয়ের স্পন্দন পর্ব ১৭+১৮

0
151

#হৃদয়ের_স্পন্দন 💙
#পর্ব_১৭
#নন্দিনী_চৌধুরী

[২৩.]
সকালের মিষ্টি রোদে ঘুম ভাংলো শুভ্রতার।আড়মোড়া দিয়ে উঠে বসলো বিছানায়।আসে পাশে তাকিয়ে দেখলো।কিছুখনের ভিতরে মনে পরলো কাল তার বিয়ে হয়েছিলো।সে এখন তার শশুড়বাড়িতে আছে।শুভ্রতা পাশে তাকিয়ে দেখলো আরিয়ান নেই।সেদিকে পাত্তা না দিয়ে শুভ্রতা ফ্রেশ হতে চলে গেলো।ফ্রেশ হয়ে একটা হলুদ কালারের জামদানি শাড়ি পরলো।মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিচে আসলো।আরিয়ানের মা শুভ্রতাকে দেখে মিষ্টি একটা হাসি দিলো।

আরিয়ানের মা:আরে তুইতো দেখি চলে আসছিস।আমি আরো যাচ্ছিলাম তোকে ডাকতে।কোনো অসুবিধা হচ্ছে নাতো এখানে?
শুভ্রতা:না মা কোনো অসুবিধা হচ্ছেনা।
আরিয়ানের মা:আচ্ছা চল নাস্তা করে নে।আরিয়ান সকাল হতেই থানায় চলে গেছে।বাড়িতে যে নতুন বউ তার খেয়াল নেই।তুই কিছু মনে করিস না মা।
শুভ্রতা:না মা কি যে বললেন না।

তারপর আরিয়ানের মা আর শুভ্রতা নাস্তা করে নেয়।আরিয়ানের বাবা বাজারে গেছেন সকালে।শুভ্রতা নাস্তা করে রুমে আসে।আরিয়ানের রুমটা অনেক সুন্দর ঘুছানো।আরিয়ানের কয়েকটা ছবি দেয়ালো রাখা।আরিয়ানের ছোট বেলার ছবিও রাখা।শুভ্রতা ছবি গুলো দেখছে আর ভাবছে।

শুভ্রতা:কারো সাথে কারো চেহারার কি এতোটা মিল হতে পারে।এটাকি আসলেই কাকতালিও নাকি এর পিছনে অন্য রহস্য আছে।জানিনা কেন আমার মন বলে আপনি আমার শিশির।কিন্তু আপনি শিশির হলে কেন আমার থেকে দূরে দূরে ছিলেন।কেন এখানে আরিয়ান হয়ে আছেন।আর এই আরিয়ান!আসলে আরিয়ান আপনি নাকি আপনি শিশির।

শুভ্রতা এসব ভাবনার মাঝে ওর ফোনে কল আসে।ফোন হাতে নিয়ে দেখে সাবিনা কল দিছে।সাবিনার সাথে কিছু সময় কথা বলে আরিয়ানের মায়ের কাছে যায়।আরিয়ানের বাবা বাজার করে এনেছেন।শুভ্রতা তার কাছে গিয়ে রান্না ঘরে তাকে রান্নায় সাহায্য করে।আরিয়ানের না করার পরেও শুভ্রতা রান্না করে।

এদিকে,,,

আরিয়ান ওরফে শিশির বসে আছে একটা কফিনের সামনে।কফিনে একটা লাশ এসেছে আজকে সকালে।শিশিরের চোখে পানি চকচক করছে।কিন্তু ছেলে মানুষের তো সবার সামনে কাঁদতে নেই।মেহেদি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।আরিয়ান আর মেহেদি বর্তমানে একটা বাড়িতে আছে।আরিয়ানের বিষেশ ইনফর্মার তাকে জানিয়েছিলো আসল আরিয়ানের খোজ।কিন্তু শিশিরদের আসতে বড্ডো দেড়ি হয়ে গেছে।আসল আরিয়ান তাদের ফাকি দিয়ে দূর আকাশে চলে গেছে।আসল আরিয়ানকে কেউ মেরে এখানে কফিনে রেখে গেছে।শিশিররা এসে শুধু এখানে লাশটাই পেয়েছে।

মেহেদি:স.স্যার!
আরিয়ান:অনেক দেড়ি করে ফেললাম আমি মেহেদি অনেক দেড়ি করে ফেললাম।আমার ভাই.আমার ভাইয়কে ওরা মেরে ফেললো মেহেদি মেরে ফেললো।
মেহেদি:স্যার নিজেকে সামলান প্লিজ।আপনি ভেংগে পড়লে অই শয়তানরাতো জিতে যাবে।ওরাতো চায় আপনাকে ভেংগে দিতে।
আরিয়ান:মেহেদি আমার মা তো জানেই না তার যে আরেকটা নাড়িছেড়া ধন এই দুনিয়ায় ছিলো।আর মিসেস ইকবাল তাকে।তাকে আমি কিভাবে জানাবো এই কথা।
মেহেদি:স্যার।

শিশির মেহেদি যখন আসল আরিয়ানকে খুজে এখানে আসে এখানে এসে দেখে যে আসল আরিয়ানের লাস আর সাথে একটা লেটার,,

“বার বার বেচেঁ যে ফিরবি তার আশা রাখিস না শিশির।তুই কি মনে করেছিস তুই আমার চোখ ফাকি দিতে পারবি।তোর বাবার কাছে তোর ভাইকে পাঠিয়ে দিলাম।যদিও তুইতো জানতিস না এটা তোর।ভাই যাক আজকে জানিয়ে দিলাম এটা তোর ভাই।এভার নিজের পরিবারের দিকে নজর দে।আমার কাজে বাধা দিলে এভাবেই একজন একজন করে হারাবি তুই।”

মেহেদি:কিন্তু স্যার ওরা জানলো কিভাবে যে আপনি শিশির?
শিশির:ওদের লোক আমাদের মাঝেই আছে মেহেদি।তাইতো ওরা আমাদের সব পদক্ষেপ জেনে যাচ্ছে।আর আমাদের আগে সব কাজ করে ফেলছে।
মেহেদি:তাহলে স্যার এখন কি হবে?আর স্যার আরিয়ান আপনার ভাই কিভাবে আমি এখনো সেটা বুজতে পারছিনা।

শিশির:বলছি আমি,,,,

আমার মায়ের যখন প্রথম বাচ্চা হয় মানে আমি হই তখন আমার মায়ের অবস্থা অনেক খারাপ ছিলো।আমার মায়ের বিয়ের ৪বছরেও বাচ্চা হচ্ছিলোনা।কিন্তু একটা সময় আমি আমার মায়ের গর্ভে আসি।কিন্তু ডাক্তার জানায় যে আমার মায়ের এই প্রেগ্নেন্সিতে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।আর সেরকমই হয়।মায়ের শরীল ৫মাসে পরতেই অনেক সমস্যা দেখা দেয়।সেই সমস্যা নিয়েই মা আমাকে পেটে রাখে।কিন্তু ডেলিবারির সময় আমার পজিশন উলটা ছিলো।তাই আমার আর মায়ের অনেক রিস্ক ছিলো।মায়ের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো।কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি মা দুজনেই সুস্থ ভাবে বেচেঁ আসি।তখন ডাক্তার আমার মাকে জানায়নি যে আমার সাথে সাথে আরো একটা ছেলে বেবি মায়ের হয়েছে।মানে টুইন বেবি হয়েছে মায়ের।আমাকে মায়ের কোলে পরেরদিন সকালে দেওয়া হলেও আমার ভাইকে দেওয়া হয়নি।আমার মা বাবাকে বলাই হয়নি আমার ভাইয়ের কথা।আর আমার সেই ভাই আর কেউ না আরিয়ান।আরিয়ানকে মিস্টার আর মিসেস আহমেদ দত্তক নিয়েছিলো ওই হাসপাতাল থেকে।

মেহেদি:কিন্তু আরিয়ান ওনাদের কাছে গেলো কিভাবে আর ওই হাসপাতালের ডাক্তার আরিয়ানের কথা কেন জানালেন না আপনার মা বাবাকে।

শিশির:ডাক্তারকে কেউ এমনটা করতে বলেছিলো তার বদলে টাকা পেয়েছিলো সে।আমাকেও নাকি এভাবে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছিলো।কিন্তু আমি হবার পরেই নার্স আমাকে আমার বাবার কাছে দিয়ে দিয়েছিলো তাই আমাকে সরাতে পারেনি।
আরিয়ান আমার ভাই সেটা আমি নিজেও জানতাম না কিন্তু শিশির থাকা অবস্থায় হেডকোয়াটার থেকে বাবার ফাইলটা যখন নেই তখন আমি বাবার ফাইলটা থেকে অনেক কিছু জানতে পারি।এটাও জানতে পারি কে এসবের পিছনে আছে।ইকবাল মাহমুদের কাছেই বড় হয়েছে আরিয়ান।ও একজন পুলিশ অফিসার হয়েছে।আরিয়ান ঈ এই নারী পাচার কারী চক্সটাকে ধরার কাজে লেগেছিলো।কিন্তু একদিন হঠ্যাৎ করেই আরিয়ান নিখোঁজ হয়ে যায়।হেডকোয়াটার থেকে ইকবাল স্যারকে জানানো হয় আরিয়ান একটা গোপন কেসে গেছে।কিন্তু আসলেতো আরিয়ান নিখোঁজ ছিলো।এরপর সেদিন যেদিন আমরা ফিরোজকে ধরতে যাই।সেদিন প্ল্যানিং ছিলো আমার।যে আমি ফিরোজের ফায়ারিং এ মারা যাবো আর আরিয়ান হয়ে আবার ফিরে আসবো।হেডকোয়াটার থেকে আমি সব ঠিক করে নিয়েছিলাম।সব প্ল্যানিং মতোই হলো।আরিয়ান হয়ে ফিরে আসলাম ইকবাল স্যারের কাছে।জয়েন হলাম থানায় শিশিরের পদে।তারপর তোমাকে সব জানালাম।

মেহেদি:এবার বুজতে পারছি স্যার।সবটা এবার ক্লিইয়া।শুভ্রতা ম্যাম এর মামা আজমির যাদের হয়ে কাজ করতো তারা ছিলো ফিরোজ।আর ফিরোজ যাদের হয়ে কাজ করে তারা হলো আপনার শত্রু।আজমির কে তো আমরা জেলে রেখেছি।কিন্তু ফিরোজকে কেউ বের করে নিয়ে গেছে।
শিশির:হ্যা আর তাতে জেলের কেউ জরিতো আছে।তবে এসবের সমাপ্তি খুব তাড়াতাড়ি আমি করতে চলেছি খুব তাড়াতাড়ি।

রাতে,,,,

রাতে আরিয়ান বাসায় আসলো।সারাদিনের এতো ক্লান্তি তার উপর আসল আরিয়ানের মৃত্যু সব মিলিয়ে একদম চুপসে গেছে আরিয়ান।আরিয়ান বাসায় আসা মাত্র ওর মা ওর কাছে এগিয়ে আসলেন।

আরিয়ানের মা:কিরে বাবু তোর চোখ মুখ এমন লাগছে কেন?
আরিয়ান মায়ের কথায় কি বলবে জানেনা।এই মা যখন জানতে পারবে যে তার আরিয়ান আর নেই তখন কি হবে।আরিয়ান মাকে জরিয়ে ধরে বলে,

আরিয়ান:কিছুনা মা একটু ক্লান্ত।তুমি কি খেয়েছো।শুভ্রতা খেয়েছে?
আরিয়ানের মা:হ্যা খেয়েছি।কিন্তু শুভ্রতা তোর জন্য অপেক্ষা করছে।
আরিয়ান:আচ্ছা মা। তুমি তাহলে এখন ঘুমাও বাবা ঘুমিয়েছে।
আরিয়ানের মা:হ্যা।আচ্ছা যা রুমে যা।

আরিয়ান রুমে চলে আসলোশুভ্রতা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে।শুভ্রতা বৃষ্টি উপভোগ করছে।আরিয়ান এসে সোজা ওয়াশরুমে চলে যায়।রুমে কারো আসার শব্দ পেয়ে শুভ্রতা রুমে এসে দেখে বিছানায় গাড়ির চাবি মোবাইল ওয়ালেট পড়ে আছে।শুভ্রতা সেগুলো গুছিয়ে রাখে।কিছু সময় পর আরিয়ান গোসল করে রুমে আসে।শুভ্রতা তখন বিছানায় বসা।শুভ্রতাকে দেখে আরিয়ান বলে,

আরিয়ান:আমার জন্য অপেক্ষা করবেনা।আমার আসতে রাত হয় অনেক।খেয়ে নেবে মা বাবার সাথে।
শুভ্রতা:আপনি এতো রাত করে আসেন।না খেয়েই নাকি ঘুমিয়ে যান।এতে তো আপনার শরীল খারাপ করবে।দেখুন আমি আপনাকে ভালোবাসিনা বা স্বামী হিসাবে মানতে সময় লাগবে কিন্তু আমি একজন মানুষ।আর একজন মানুষ হয়ে কাউকে এভাবে থাকতে দেখতে পারবোনা।তাই আপনি আসলে আপনার সাথেই আমি খাবো।

আরিয়ান আর কিছু না বলে চুপচাপ বসে পরলো খাটে।শুভ্রতা নিচে গিয়ে খাবার গরম করে নিয়ে আসলো।এসে দেখে আরিয়ান ঘুমিয়ে গেছে।শুভ্রতা গিয়ে দুইবার ডাক দিলো কিন্তু উঠলোনা।অনেক ক্লান্ত থাকায় গভীর ঘুমে আছে।শুভ্রতা খাবার ঢেকে রেখে আরিয়ানের পাশে বসলো।আরিয়ান ঘুমের ঘোরে বীড়বীড় করে বললো,

“সরি শুভ্রতা আমি সরি।আমি তোমাকে ইচ্ছা করে দূরে রাখছিনা।আমি চাইলে তোমাকে কাছে আনতে পারছিনা।পারছিনা তোমাকে সত্যিটা বলতে।আমি হেল্পলেস শুভ্রতা।আমি হেল্পলেস।আমি একজন ভালো ভাই হতে পারলাম না।পারলাম না ভালো ছেলে হতে।”

শুভ্রতা আরিয়ানের কথাগুলোর মানে কিছুই বুজতে পারছেনা।তবে এটা সে বুজতে পারছে এই আরিয়ান যে কতটা রহস্যময়।
#হৃদয়ের_স্পন্দন 💙
#পর্ব_১৮
#নন্দিনী_চৌধুরী

[২৪.]

বারান্দায় বসে সিগারেট খাচ্ছে শিশির।এই নিয়ে এক প্যাকেট সিগারেট শেষ করলো সে।যখন অনেক চিন্তায় থাকে সে তখন সিগারেটের ক্রেভিং হয় তার।শিশির সিগারেট শেষ করে ফোন বের করে মেহেদিকে কল লাগায়।কিছুক্ষন রিং হবার পর কল ধরলো মেহেদি।

শিশির:কোনো খবর পেলে?
মেহেদি:স্যার অতি দুঃখের সাথে এটা বলতে হচ্ছে কোনো খোজঁ এখনো আমরা পাইনি শুভ্রতা মেডামের।আমাদের সব ফর্স মেডামেএ খোজঁ করছে কিন্তু কোনো খোজঁ মিলছেনা।
শিশির আর কোনো কথা না বলে কল কেটে দিলো।ফোনটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে পাশে থাকা ওয়াইন এর বোতলটা হাতে নিলো।দুই চুমুক খেয়ে জোরে চাপ দিলো বোতলটায় যে বোতলটা ভেংগে গেলো আর ঝরঝরিয়ে রক্র বের হলো শিশিরের হাত থেকে।শিশির রক্তের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,

“এই রক্ত ঝরাতেও এতো কষ্ট পাচ্ছিনা।যতটা তোর হারিয়ে যাওয়ায় পুড়ছি আমি।তোমাকে আমি খুজে নিয়ে আসবো শরৎশুভ্রতা।যেই তোমাকে আমার থেকে আলাদা করুক না কেন তাদের আমি কিছুতেই সফল হতে দেবোনা।মিস ইউ শুভ্রতা।কোথায় হারিয়ে গেলে টুমি।”

কথা টুকু বলতে বলতে শিশিরের চোখ ভিজেঁ এসেছে।আজ ১দিন পুরা হলো শুভ্রতা নিখোঁজ।কোথাও শুভ্রতার খোজ মিলছেনা।বিগত ২সপ্তাহ সব ভালোই যাচ্ছিলো।কিন্তু হঠ্যাৎ সব বদলে গেলো।শুভ্রতা হারিয়ে গেলো।

একদিন আগে,

শুভ্রতা আরিয়ানের বিয়ে হয়েছে ২সপ্তাহ হয়েছে।শুভ্রতা এখনো আরিয়ানের সাথে স্বাভাবিক না।তবে সে আরিয়ানের কোনো কিছুতে অযত্ন রাখেনা।সব কিছুর খেয়াল রাখে।আরিয়ান ও শুভ্রতার সাথে স্বাভাবিক ব্যবহার করে।রোজ সকালে শুভ্রতা উঠে আরিয়ানের জন্য নাস্তা বানায়।আরিয়ান ঘুম থেকে উঠলে ওকে কফি করে দেয়।তারপর নাস্তা দেয়।আরিয়ান চলে যাওয়ার পর শুভ্রতা আর আরিয়ানের মা খাবার খায়।শুভ্রতা আসার পর কাজের চাপ একদম কম হয়ে গেছে তার।দুপুরে শুভ্রতা রান্না অরে বক্সে করে ড্রাইভারকে দিয়ে খাবার পাঠায় আরিয়ানের জন্য।রাতে আরিয়ান আসলে দুজনে এক সাথে খায়।শুভ্রতা আরিয়ানকে ভালোবাসতে পারেনি কিন্তু দায়িত্বের কোনো কমতি সে রাখেনি।শিশিরের জায়গাটা এতো সহজে কাউকে দেওয়া সহজ ব্যাপার নয়।তবুও শুভ্রতার মনে কেন জানি মনে হয়ে এই তার শিশির।কিন্তু তেমন কোনো প্রমান তার হাতে আসেনি।তাই তার এই মনে করাটা মনের মাঝেই থাকে।

সেদিন দুপুরে,,শুভ্রতা আজকে রান্না করে নিজে খাবার নিয়ে যাবে আরিয়ানের জন্য।ড্রাইভার গেছে আরিয়ানের বাবার সাথে।তাই যেমন ভাবা তেমন কাজ। শুভ্রতা রান্না করে গোসল করে একটা নীল কালারের শাড়ি আর হিজাব বেধেঁ খাবার নিয়ে বেরিয়ে পরলো।টেক্সি করে যাবে ভাবছে শুভ্রতা।কিন্তু রোডে কোনো টেক্সি সে পাচ্ছেনা।শুভ্রতা টেক্সির জন্য অপেক্ষা করছিলো যেই রাস্তায়।সেই রাস্তাটা দুপুরে একটু নির্রজন থাকে।শুভ্রতা দাঁড়িয়েই ছিলো তখন কথা থেকে একটা কালো রং এর গাড়ি আসলো।তার ভেতর থেকে ৪জন লোক বেরিয়ে আসলো।একজন শুভ্রতার মুখে একটা কাপড় চেপে ধরলো।বাকিরা শুভ্রতাকে চেপে ধরে গাড়িতে উঠালো।ঘটনা এতো তাড়াতাড়ি হলো যে শুভ্রতা চিল্লানোর সময়াটাও পেলোনা।এর মাঝেই ঘটে গেলো সব কিছু।রাতে আরিয়ান বাসায় আসার পর ওর মায়ের থেকে জানতে পারে শুভ্রতা তার কাছে যাবে বলে বেরিয়েছে কিন্তু এখনো বাড়ি ফেরেনি।আরিয়ান এই কথা শুনা মাত্র শুভ্রতাকে খোঁজার জন্য যায়।কিন্তু কোথাও হদিস মেলেনি তার।সব পুলিশ অফিসারদের নামিয়ে দিয়েছে শুভ্রতাকে খোঁজার জন্য কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।এখনো কোনো খোজ মেলেনি।কাল থেকে আজ পুরো একদিন হয়েগেছে শুভ্রতা নিখোঁজ।

🌸

শুভ্রতার মামা বাড়ির সব পালটে গেছে শুভ্রতার নানা মারা গেছেন এক মাস হলো।আজমির কে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়েগেছে ২মাস হলো।শুভ্রতার বড় মামা তাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছে।শুভ্রতার মেঝ মামা আর মামি এখন আগের মতো নেই।মেয়ে পাচার কারীর ফ্যামিলির পরিচয় হয়ে গেছে তাদের পাড়ায়।তাই মেয়ের বিয়ের সমন্ধ আসলেও তা হচ্ছেনা।অথচ তার মেয়ে দেখতে কত সুন্দর।সারাজীবন শুভ্রতাকে কালো বলে অবজ্ঞা করার সাজা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি।
ছোট মামি এখন তার ভুল গুলো বুজতে পারছে।আয়না আগের মতো স্কুলে গেলেও।এখনো ভয়ে ভয়ে থাকে সে।সায়ান এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে।সে আর ২য়বার শুভ্রতার কাছে যায়নি আর না প্রিয়াকে সুযোগ দিয়েছে।সে জানে সে সুন্দর্যের মোহে পড়ে জীবনে কি ভুল না করেছে।প্রিয়ার বিয়ে হয়েতো গেছে কিন্তু স্বামীর ঘরে সুখে নেই সে।মাঝে আবার সায়ানকে সে কল দিয়েছিলো।সায়ান কল রিসিভ করে অনেক অপমান করে দিয়েছে প্রিয়াকে।সায়ানের মতে,
আজ এই কালনাগীনির জন্যেই তার শুভ্রতাকে পাওয়া হলোনা।

শুভ্রতার মা অনেকবার এসেছিলেন শুভ্রতার খোজ নিতে কিন্তু কেউ তাকে খোজ দেয়নি।মেয়ের জন্য তার বুক ও কম পুড়ছেনা।মেয়ের বিয়ে হয়েছে শুনে সেই বাড়িতে গিয়েছিলো ঠিকই কিন্তু মেয়ে তার সাথে দেখা করতে আসেনি।শুভ্রতার মা বুজতে পারছেনা তিনি তার অজান্তে তার মেয়েটার মনে কত অভিমানের পাহার জমিয়েছেন।শুভ্রতার মা মেয়ের কাছে একবার মাফ চেয়ে নিতে চান।এই ভোজা আর সে সইতে পারছেনা।

সকালে খাবার টেবিলে খাবার দিচ্ছে আরিয়ানের মা।শুভ্রতার চিন্তায় তার ও মন ভালোনা।তার উপর তার ছেলেও একদম চুপ হয়েগেছে।আরিয়ানের জন্য কফি নিয়ে রুমে আসলো আরিয়ানের মা।রুমে এসে দেখে রুমে আরিয়ান সোফায় শুয়ে আছে।কফিটা টেবিলে রেখে আরিয়ানকে ডাকতে লাগলেন তিনি।কয়েকনার ডাকার পর চোখ খুলে তাকালো আরিয়ান।মাকে দেখে মায়ের কোলে মাথা দিয়ে আবার শুয়ে পড়লো।আরিয়ানের মা বুজতে পারছে স্ত্রীর চিন্তায় তার ছেলে চুপসে গেছে।আরিয়ানের মা আরিয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর বলছে,

আরিয়ানের মা:বাবু চিন্তা করিস না।আল্লাহকে ডাক দেখ তিনি ঠিক শুভ্রতাকে ফিরিয়ে দেবেন।
আরিয়ান:মা আমার শুভ্রতা কোথায় হারিয়ে গেলো বলোনা।ওকে তো আমি কোথাও খুজে পেলাম না।আমার শুভ্রতাকে কিভাবে ফিরে পাবো আমি মা।(কান্না করে কথা গুলো বলছে আরিয়ান)
আরিয়ানের মা:বাবু এভাবে কাঁদিস না।তোকে শক্ত হতে হবেতো।তুই গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।থানায় যাবিনা আজকে?
আরিয়ান:হ্যা যাবো।তুমি যাও আমি ফ্রেশ হচ্ছি।
আরিয়ানের মা:আচ্ছা আয় তাহলে।

আরিয়ানের মা চলে যাওয়ার পর আরিয়ান চোখ মুছে উঠে দাঁড়ালো।পুরো রুম জুরে শুভ্রতার শুন্যতা অনুভব হচ্ছে তার।আরিয়ান জলদি ফ্রেশ হয়ে ইউনিফর্ম পরে নিচে আসলো।না খেয়েই চলে গেলো থানায়।ওর মা এতো বললো খেয়ে যেতে কিন্তু খেলোনা।

থানায় সবাই শুভ্রতাকে খোঁজার কাজে ব্যস্ত।কিন্থ কোনো হদিসই মিলছেনা।এটা যেনো কেউ আশা করছেনা।একটা মেয়ে কোথায় এভাবে উধাও হতে পারে।মৌ শুভ্রতার ফোন ট্রেস করছে কিন্তু ফোন ট্রেস হচ্ছেনা।আরিয়ান আসার পর সব আপডেট পেয়ে চুপ করে কিছুক্ষন বসে থাকলো।তারপর নিজেই নিজেকে বলতে লাগলো,

এভাবে সারাদিন খুঁজলেও আমি পাবোনা শুভ্রতাকে।কারন আমি জানি এই কাজ তাদের ছাড়া কারো না।তারা চায় আমি তাদের কাছে ধরা দেই।তাই তারা শুভ্রতাকে নিয়ে গেছে।এভার সময় এসেছে এই খেলার আসল মাস্টার মাইনকে ধরার।শুভ্রতাকে আমার সেফলি ফিরিয়ে আনতে হলে।আমাকে এভার ওদের কাছে যেতে হবে।হ্যা আমার শুভ্রতাকে বাঁচাতে।আমি নিজে ওখানে যাবো।

অন্ধকার রুমে বন্ধি করে রাখা হয়েছে শুভ্রতাকে।কাল থেকে অজ্ঞান ছিলো সে।সকালে জ্ঞান এসেছে তার।জ্ঞান ফিরে নিজেকে একটা বন্ধ অন্ধকার রুমে আবিষ্কার করে।চেয়ারের সাথে বাধা অবস্থায় পরে আছে সে।শুভ্রতার খুব পানির পিপাসা পেয়েছে।কিন্তু তার হাত পা সব বাধা।শুভ্রতা মুখ দিয়ে আসতে আসতে আওয়াজ করতে লাগলো।

শুভ্রতা:কেউ কি এখানে আছেন।কেউ শুনতে পাচ্ছেন আমাকে।আমার খুব পানির পিপাসা পেয়েছে।একটু পানি দিন প্লিজ।

কেউ শুভ্রতার কথা জবাব দেয়না।বেশ কিছুক্ষন পর একটা ছেলে পানির গ্লাস হাতে করে নিয়ে আসে।শুভ্রতার সামনে পানির গ্লাস ধরতেই সে পুরা পানিটা খায়।পানি খাইয়ে ছেলেটা চলে যায়।শুভ্রতা এভার ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখে আসে পাসটা।এতোক্ষন তেস্টায় চোখ মেলতে পারছিলোনা সে।এখন কিছুটা ভালো লাগছে।

শুভ্রতা:এই আমি কোথায়।আমিতো রাস্তায় ছিলাম। আরিয়ানের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিলা।তাহলে এই আমি কোথায় আসলাম।আমাকে এখানে কারা নিয়ে আসলো।আল্লাহ এ আমি কোথায় আটকা পরলাম।

শুভ্রতার এসব চিন্তার মাঝেই রুমের দরজা আবার খুলে গেলো সাথে রুমের লাইট গুলো সব আবার জ্বলে উঠলো।শুভ্রতা সামনে তাকিয়ে যাকে দেখলো তাকে দেখার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা।শেষে কিনা এই লোকটা এমন বের হলো।শুভ্রতা অবাক নয়নে বললো,

“শিশিরের চাচ্চু সায়িদ!!”

#চলবে

গল্প এখন প্রায় শেষের পর্যায়।বাকি রহস্য কাল প্রকাশ পাবে।❤️
#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here