☁ নীল আকাশ 💔 Part : 15

0
203

☁ নীল আকাশ 💔
Part : 15
Writer : Maliha Rahman

নীলা ঘুম থেকে ওঠে নিজকে দেখে অবাক।
নীলা শাড়ী ধরে দ্রুত আয়নার সামনে গিয়ে নিজকে দেখতে লাগে।
এত গহনা কে পরিয়ে দিল। নীলার যতটা খেয়াল আছে এগুলো সে পরেনি ঘুমানোর আগে।
তাহলে কে পরিয়ে দিয়েছে আমাকে।

মনের অজান্তেই আকাশ কথা মনে হল। আকাশ ছাড়া কার এত সাহস নেই তার বউয়ের শরীর কেউ টাচ করবে।
আজকে কেন জানি নীলার কাছে নীলাকে অনেক অন্য রকম সুন্দর লাগছিল।
বউ হলে আসলেই মেয়েদের অন্য রকম সুন্দর লাগে।
নীলার নাকে হীরার নাক ফুল টা যেন নীলার চেহারা টা আরও যেন আলোকিত করেছে।
নীলা নিজকে দেখে হাসতে লাগে হঠাৎ দরজা খোলার আওয়াজ শুনে তাকিয়ে দেখে
ও খালা আপনি ভিতরে আসেন।
মা তোমাকে আকাশ বাবা নিচে ডাকছে নাস্তা করতে।
জি আপনি যান আমি আসছি খালা।

নীলা ফ্রেশ হয়ে নিচে যায়।

আকাশ কখন থেকে নীলার জন্য অপেক্ষা করছে।
বেচারা অনেক ক্ষুধা লাগছিল কিন্তু নীলাকে ছাড়া তো আকাশ খাবে না।

আরে আমার বউটা কই এতক্ষন লাগে আসতে।
হঠাৎ পায়েলের শব্দে আকাশ পিছনে তাকিয়ে দেখে অবাক।

নীলা শাড়ী তো পরেনি পেচিয়ে রেখেছে আর হাটতে পারছে না। শাড়ী ধরে নামছে শিড়ি দিয়ে।
আকাশ নীলার শাড়ী পরা দেখে জোরে জোরে হাসতে
থাকে।
নীলা দেখে লজ্জা পায় আর আকাশের ওপর রাগও হয়। কারণ নীলা শাড়ী পরতে পারে না একথাটা আগেই আকাশ কে বলেছিল।
আর এখন ছাগলের মত হাসছে।
আকাশ নীলা কাছে যায়। গিয়ে দেখে নীলা রাগে আগুন হয়ে আছে।
আকাশ নীলাকে কোলে তুলে নেয়।
নীলা হঠাৎ এমন হওয়াতে অনেক টা অবাক হয়ে গেছিল।
আকাশ নীলাকে খাবার টেবিলে চেয়ারে বসিয়ে দেয়।
নীলা বসে ছিল চুপচাপ।

এই যে মেডাম চুপচাপ বসে থাকতে এসেছেন। আমার কিন্তু অনেক ক্ষুধা লাগছিল সো খাওয়া শুরু করো।
নীলা নিজে খেতে গেলে আকাশ বলে – বাহ আমাকে কে খাওয়াবে শুনি। বিয়ে করে এনেছি কি নিজের হাতে খাওয়ার জন্য। তাহলে রোমান্স কি করে হবে।

নীলা আকাশের কথা শুনে বলে আপনি এতদিন তো নিজের হাতে খেয়েছেন তো এখন খেলে কি সমস্যা।

আকাশ নীলার দিকে একটা ডেবিল হাসি দিয়ে বলে আচ্ছা আমাকে খাওয়াতে তোমার অনেক সমস্যা।
ওকে তুমি আমাকে এখনো জামাই হিসাবে মানতে পারনি। ঠিক আছে তোমাকে দুবাইয়ে বুইড়া কাছে বিক্রি করে দিব সে তোমাকে অনেক আদর করবে। আমার থেকে বেশি খুশিতে রাখবে।

আকাশের কথা শুনে নীলার চোখ দুটি বড় বড় হয়ে যায়।
নীলা দ্রুত আকাশ কে খাওয়াতে শুরু করে।
আকাশ নীলার চেহারা দেখে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।
আকাশ নীলা কে খাওয়া দেয়।

খাওয়া শেষ হলে আকাশ নীলাকে কোলে করে রুমে নিয়ে যায়।

আকাশ নীলাকে দাড় করিয়ে দেয়।
তারপর নীলার শাড়ী খুলে ফেলে এক টান দিয়ে আকাশ।
এরপর আকাশ নীলাকে ধীরে ধীরে শাড়ী পরিয়ে দেয়। আর নীলা কে দেখতে থাকে।
নীলা লজ্জায় নীচে তাকিয়ে আছে।
আকাশের প্রতিটা ছোঁয়া নীলা যেন কেপে ওঠছে।
আবির ছোঁয়া নীলা কখনও এমন অনুভূতি হয় নাই।
আকাশ যখনই নীলার কাছে আছে নীলাকে টাচ করে তখনই নীলা কেপে ওঠে। এমনটা কেন হয় নীলার জানা নেই।

আকাশ নীলাকে শাড়ী পরিয়ে দেয়। আর নীলা কে সামনে বসিয়ে বলে –
আমি যতদিন বেচে থাকবো ততদিন আমি তোমাকে শাড়ী পরিয়ে দিব। আর যখন আমি থাকব না তখন অন্য পোশাক পরবা। শুনছো বউ একথাটা যেন মনে থাকে।

নীলা আজকে আকাশের কথা শুনে অনেক ভালো লাগছিল। অন্য রকম অনুভব।

নীলা কিছু না বলে রুম থেকে বাহিরে চলে যায়।

নীলা ছাদের এক কোনায় বসেছিল। আর ভাবছিল
আবির কোথায়। কেন ওর সাথেই এমন করছে। আর আকাশ কেন ওর সাথে কখনও ভালোবাসা দেখায় কখনো বলে আমাকে বিক্রি করে দিবে।
আসলে আমি কি আমার কি মনের কোন ইচ্ছা নেই। আমার মতামতের দাম নেই কেন আমি মেয়ে বলে।
যখন যার ইচ্ছে সে আমাকে নিয়ে খেলা করবে। আমিও মানুষ আমারও মন আছে ইচ্ছা আছে।
মেয়েদের সবাই খেলনা মনে করে আসলেই। আল্লাহ কেন মেয়ে হিসাবে তৈরি করলা।

নীলা কান্না করছিল আর কথা গুলো ভাবছিল।
আসলে ভালোবাসা জোর করে হয় না।
যা হয় মন থেকে হয়।

নীলা এখন কি করবে। আবিরকে ভুলতে পারছে না আর আকাশ কেও মানিয়ে নিতে পারছে না।
আকাশের কাছে গেলে তিথির কথা মনে পরে যায়।

আকাশ নীলা কে কোথাও না পেয়ে ছাদে চলে আসে।

আকাশ দেখে নীলা এক কোনায় বসে আছে।

আকাশ নীলাকে দেখে নীলা কান্না করছিল।
আকাশ নীলার কান্না সহ্য করতে পারে না।

আকাশের নীলার কান্না দেখে মাথায় রক্ত ওঠে যায়।

কি হয়েছে তোমার কান্না করছো কেন তুমি।
নীলা চুপচাপ কোন কথার উওর দিচ্ছে না।
এর জন্য আকাশ রেগে গিয়ে নীলাকে কোল করে নিয়ে রুমে নিয়ে দরজা লক করে দিয়েছে।

নীলা আকাশের দিকে একবার তাকিয়ে আর তাকাতে পারছে না। কারণ আকাশের চোখ দুটি রক্ত লাল হয়ে ছিল।

আকাশ নীলা কে একটানে কাছে এনে নীলা কে শক্ত করে ধরে বলে কি হয়েছে বলবা আমাকে। চুপ কেন হাম।
তোমার সমস্যা কি বল। এতকিছুর পরে তোমার মন কেন পাচ্ছি না। আমি তোমাকে এত ভালোবাসি তুমি কেন বুঝ না।

নীলা এরপরও চুপ।

আকাশ নীলার চুপচাপ দেখে আরও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। নীলাকে শরীয়ে দেয়।

আকাশ নীলাকে চিললায়ে বলে তারপর নীলা চুপচাপ কান্না করছিল।

আকাশ রাগে রুমের সবকিছুই ভাঙচুর করতে থাকে।
নীলা ভয়ে এক পাশে দাড়িয়ে থাকে।

একটা সময় আকাশ রুম থেকে বাহিরে চলে যায়।

অনেক রাতে আকাশ মদ খেয়ে রুমে আসে।
এসে দেখে নীলা নীচে শুইয়ে আছে।
আকাশ নীলাকে কোলে করে বেডে শুইয়ে দেয়। নীলার চেহারা টা যেন আকাশ কে অনেক কাছে টানছে।
আকাশ যেন নীলাকে নিজের কাছ থেকে সরাতে পারছে না।
আকাশ নীলার কাছাকাছি যেতেই নীলার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
নীলা আকাশ কে নিজের এত কাছাকাছি দেখে আকাশ কে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। আর বলে আপনি জীবনে পরিবর্তন হবে না।
আপনি শুধু আমাকেই ভোগ করতে বিয়ে করেছেন। আর আমি যাতে আবির কে না বিয়ে করতে পারি তার জন্য আমাকে জোর করে বিয়ে করেছেন।
আমি এজন্য আপনাকে ঘৃণা করি আর কোনদিন আপনাকে ভালোবাসতে পারব না।
নীলা কান্না করছিল আর কথা গুলো বলছিল।

আকাশ নীলার কথা শুনে নীলাকে বলে –
এত ভালোবাসার পরও যখন তুই আমাকে বুঝতে পারিস না।
তাহলে আজকে বুঝাব আমি কি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here