☁ নীল আকাশ 💔 Part : 16

0
194

☁ নীল আকাশ 💔
Part : 16
Writer : Maliha Rahman

তাহলে আজকে আমি তোকে বুঝাব আমি কি।
কথাটা আকাশ যখন বলছিল তখন নীলা আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে আকাশ এত মদ খেয়েছে যে ঠিক মতো কথা বলতে পারছে না।

নীলা বুঝতে পারছে আকাশ এখন ওর কোন কথাই শুনবে না আর বুঝতে পারবে না। নীলা তাই দৌড় দিয়ে পালাতে চাইলে আকাশ নীলা কে শক্ত করে হাত ধরে দেয়ালে চেপে ধরে ।

আকাশ আমার লাগছে ব্যাথা পাচ্ছি আমাকে ছেড়ে দিন। আকাশ নীলার কথায় কোন প্রতিক্রিয়া হয় না।
বরং আরও শক্ত করে ধরে নীলা কে কোমর ধরে ঠোঁটে কিস করে।

আকাশ নীলা কে ঠোঁটে কামড় দেয়। এতে করে নীলার ঠোঁটে থেকে রক্ত পরে ।

আকাশ এরপর নীলাকে গালেও কিস করে কামড় দেয়।
নীলা ব্যাথায় আকাশের সাথে হাতাহাতি করতে থাকে। কিন্তু পেরে ওঠে না। একটা সময় নীলা আকাশ কে লাথি মেরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রুম থেকে দৌড়ে বাহিরে চলে যায়।

সারা বাড়িতে কেউ নেই যে আজকে আকাশের কাছ থেকে নীলা কে কেউ বাচাবে। যে খালা কাজ করে সে তো কাজ করে চলে যায়। আর আকাশের বাবা মা কই গেছে তা নীলা যানে না।

নীলা আকাশের কাছ থেকে বাচার জন্য একটা রুমে ঢুকে পরে। নীলা রুমে ঢুকার আগেও জানতো না এটা কার রুম। কিন্তু নীলা রুমে ঢুকে বুঝতে পারছে রুমটা কার। কারন দেয়ালের প্রতিটা ছবি বলে দিচ্ছে আবির রুম।

নীলা দেয়ালে ছবিগুলো তে হাত দিয়ে কান্না করছিল। কারণ দেয়ালে প্রতিটা ছবি নীলা আর আবিরের ছোট বেলা থেকে বড় বেলার পযর্ন্ত ছিল। ওদের ভালোবাসার চিহ্ন ছিল।

নীলা ছবিগুলো হাত দিয়ে কান্না করছিল আর বলছিল আবির তুমি কই। এই দিন দেখার জন্য আমাকে ভালোবেসেছিলে। আমাকে বিপদে রেখে তুমি চলে গেলে। একটা বারও চিন্তা করলে না আমার কথা।

নীলা যখন কান্না করছিল হঠাৎ দরজা লক করার শব্দ হয়। নীলা পিছনে তাকিয়ে দেখে আকাশ দরজা লক করে আছে। নীলা তো রুমে ঢুকে দরজা লক করতে ভুলে গেছে। আর এ ভুলের ফল কত যে ভয়ংকর হবে তা নীলার যানা নেই।

আকাশ চোখ দুটি রক্ত লাল হয়ে আছে। আরও বেশি রেগে যায় দেয়ালে নীলা আর আবির অনেক রোমান্টিক ছবি দেখে।

আকাশ রেগে গিয়ে আবিরের রুমের জিনিস পএ ভাঙচুর করতে থাকে। তা দেখে নীলা আরও ভয় পেয়ে দেয়ালে এক কোনায় লুকিয়ে থাকে।

আকাশ নীলার দিকে তাকিয়ে বলে — এতকিছুর পরেও তুই এত রুম থাকতে আবির রুমে আসলি। তোকেও তো আমি আগেই বলেছিলাম যা করার বিয়ের আগেই করতে বিয়ের পর কার কথা আমার সামনে তো দূরের কথা মনের মধ্যে আনবি না। তুই মনে হয় আমার কথার বুঝতে পারিস নাই।

আজকে তোরে এই রুমে যা করার করব যাতে আবির কথা চিন্তা করার আগে তোর এ রাতে কথা মনে পরে। আজকের রাতের কথা যেন তুই চাইলেও জীবনে কোন দিন ভুলতে না পারিস।

নীলা আকাশের কথায় বুঝতে পারছে আজকে ওর শেষ দিন।

আকাশ নীলার কাছে গিয়ে নীলার গারে হাত দিয়ে কাছে টেনে এক টানে নীলার শাড়ী খুলে ফেলে। এরপর নীলাকে জোরে ধাক্কায় দিয়ে আকাশের বেডে ফেলে দেয়।

আকাশ নীলার কাছে গিয়ে নীলার শাড়ী দিয়ে নীলার হাত বাধে তারপর নীলার হাত গুলো খাটের সাথে বাধে।

নীলা আকাশের কাছে অনেক মাফ চায় কিন্তু আকাশ নীলার কোন কথায় শুনছে না।

আকাশ নীলাকে নীলার গাল দুটো চেপে ধরে বলে – এতদিন তো ভালোবেসে কিস করেছিলাম সারা শরীরের। আর আজকে সারা শরীরের তোর কামড়ানো দাগ থাকবে যাতে করে তুই আমাকে ছাড়া কারো কথা চিন্তা করতে না পারিস।

কথা গুলো বলে আকাশ নীলাকে পাগলের মতো কামড়াতে থাকে। নীলা যে ব্যাথায় চিৎকার করছে আকাশের হুশ নেই কোন।

যে নীলাকে আকাশ এত লাভ করে আজকে তাকেই এত কষ্ট দিচ্ছে আকাশ। মদ খেয়ে সবকিছুই ভুলে গেছে আকাশ।

আকাশ নীলার সাথে শারীরিক সম্পর্কে করতে থাকে। আর নীলা একটা সময় অঙ্গান হয়ে যায়। আকাশ ও একটা সময় ঘুমিয়ে যায়।

অনেক বেলা করে আকাশের ঘুম ভেঙ্গে যায়। আকাশ ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখে বেলা এগারোটা বাজে।
আকাশের মাথা অনেক ব্যাথা করছিল। আর গতকাল কি হয়েছে আকাশের কিছু মনে নেই।

আকাশ দেয়ালে তাকিয়ে দেখে আবির আর নীলার অনেক ছবি। কিন্তু আকাশ ভাবতে থাকে তার রুমে এছবি কেন। কিছু বুঝতে ভালো করে খেয়াল করে এ রুম টা আবিরের।

তাহলে আমি কি করে আবিরের রুমে আসলাম আর নীলা কই। কিছুই যেন আকাশের মাথায় ঢুকছে না।

আকাশ মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখে নীলা পাশে শুয়ে আছে আকাশের। আকাশ নীলার কপালে কিস করতে গিয়ে দেখে বেডে অনেক রক্ত। আর নীলার শরীরের কামড়ানোর দাগ অনেক। যা থেকে রক্ত পরে শুকিয়ে গেছে।

আকাশ এসব দেখে ভয় পেয়ে যায়। কি করেছে সে নিজের বউয়ের সাথে। এই সে নীলাকে লাভ করে। তাই
এত কষ্ট দিয়েছে নীলাকে আকাশ।

নিজেকেই জানোয়ার মনে হচ্ছে আকাশের।

আকাশ নীলার কাছে গিয়ে পানি দিয়ে নীলার ঙ্গান ফিরাতে চেষ্টা করছিল কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।

আকাশ দ্রুত কাপড় পরে ড্রাইভার কে গাড়ি বাহির করতে বলে।
আর নীলাকে কাপড় পরিয়ে একটা শাল পেচিয়ে কোলে করে দ্রুত নীচে নিয়ে যায়। গাড়িতে ওঠে আভিকে হাসপাতালে আসতে বলে। নীলা কে আভির হাসপাতালে নিয়ে যায় আকাশ।

পাগলের মতো করতে থাকে। আর আকাশের এসব দেখে হাসপাতালে মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

আভি আকাশ কে শান্ত হতে বলে। আর আভি নীলাকে নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়।

এদিকে আকাশ নিজের ভুলের জন্য আল্লাহ কাছে মাফ চাইতে থাকে আর নীলার জীবন জন্য দোয়া করতে থাকে। আকাশ কান্না করতে থাকে। আর হাসপাতালে মানুষ আকাশের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে আছে।

এক ঘন্টা পর আভি অপারেশন থিয়েটার থেকে বাহিরে আসে। আকাশ আভিকে দেখতে পেয়ে গিয়ে বলে নীলার কি অবস্থা এখন। আভি বলে নীলা এখন ঠিক আছে।

তিন ঘন্টা পর ঙ্গান ফিরবে। আর আভি আকাশ কে নিজের কেবিনে নিয়ে গিয়ে দরজা লক করে দেয়।

আভি নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আকাশ কে একটা থাপ্পড় মারে আভি।

হঠাৎ হওয়াতে আকাশ নিচে পরে যায়।

আকাশ খুবই অবাক যে আভি আকাশ কে মেরেছে।
কারন আভি কোনদিনও আকাশ সাথে ঝগড়া করে নাই আর সে থাপ্পড় মেরেছে।

আভি রেগে আকাশের কলার চেপে ধরে বলে ছি আকাশ তুই আমার বেষ্ট বন্ধু এ কথাটা বলতে আজকে আমার লজ্জায় লাগছে ছি তুই এত খারাপ আজকে বুজলাম।

[ কেমন হচ্ছে দয়া করে বলবেন। আপনাদের মতামত আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে লেখার আগ্রহ বারিয়ে তোলে। ধন্যবাদ সবাই কে 💐💖🌷]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here