#মেঘবৃষ্টির_গল্পকথা
#লেখনীতে_সাবরিন_জাহান
পার্ট:০১
রাইসাঃ বৃষ্টি ছাড় ওকে!
নুরিঃআরে মরে যাবে ও!
বৃষ্টিঃআই ডোন্ট কেয়ার।
বলেই নিজের হকি স্টিক দিয়ে এলোপাথারি মারতে লাগলো।
উৎসঃতোদের কে কথা বলতে বললো?
নুরিঃবলবো না,ও যেভাবে মারছে মরে যাবে তো!
বিভোরঃতুই জানিস না?ওকে থামতে বললে আরো খেঁপে যায়?
রাইসাঃকিন্তু আঙ্কেলের কানে এই কথা গেলে কি হবে ভাবতে পারছিস?
বিভোরঃজানিনা।
নুরিঃকিছু কর।
উৎসঃথেমেছে।
সবাই বৃষ্টির দিকে তাকালো।বৃষ্টি ক্লান্ত হয়ে হকি স্টিক ফেলে দিল।এক হাটু গেড়ে ছেলেটির সামনে বসলো।
বৃষ্টিঃইয়ার আমি সহজে খেঁপি না।কিন্তু তোর সাহস দেখে অবাক।তুই আমার বান্ধবীদের বাজে কথা বলেছিস,আবার আমাকে বাজে ভাবে ছুঁলি?নেক্সট টাইম এই ভুল করিস না।
বলেই উঠে দাড়ালো।
ছেলেটিঃখুব বড় ভুল করলি,তুই জানিস না এই রাহাত তোর সাথে কি কি করতে পারে।
বৃষ্টিঃস্পর্শিয়া বৃষ্টি এই সব থ্রেটে ভয় পায় না।আর তুই কথা বলিশ কোন সাহসে?
বলেই বুক বরাবর লাথি দিলো।রাহাত ব্যাথায় কুকড়ে উঠলো।
বিভোর:কেনো এমন করিস বৃষ্টি?
বৃষ্টি:এই বৃষ্টি অন্যায় করেও না আর সয় ও না।
উৎসঃ কথাটা আংকেলের কানে গেলে কি হবে ভাবতে পারছিস?
বৃষ্টি:মিস্টার ফারাজ ব্যানার্জির কানে গেলো কি গেলো না তা আমার দেখার বিষয় না।
নুরি:বৃষ্টি তুই বোঝার চেষ্টা কর।
বৃষ্টি:লিভ দিস নও!
রাইসা:ওকে বলে লাভ নেই, ও নিজের ছাড়া কারোর শুনবে না।
বৃষ্টি: ইউ নো আজকে তোদের মত মেয়েদের জন্য এসব ছেলেরা আরো অনেক নিরীহ মেয়েদের সাথে এরকম অসভ্যতামি আর নোংরামি করার সুযোগ পায়।এদের শিক্ষা না দিলে জন্মেও শুধরাবে না।আর এতে যদি আমার সো কলড বাবা মিস্টার ফারাজ ব্যানার্জি যদি আমাকে নিজের বাড়ি থেকেও বের করে দেয় আমার আফসোস নাই।আর তোদের যদি মনে হয় আমার সাথে থাকলে তোদের মান সম্মান ক্ষয় হবে দেন বাই!
বলেই চলে গেলো।
নুরি:আরে বৃষ্টি শোন! যা চলে গেলো।
উৎসঃ তোদের কি বেশি কথা না বললে চলে না তাই না?
রাইসা:আরে আমি তো ওর কথা ভেবেই বললাম,তুই জানিস আংকেলের সাথে ওর বনে না।ইভেন ওই বাড়িতে কেও ওকে সহ্য করতে পারে না।এই কথা যদি বাড়ি অবধি যায় ওর উপর কি যাবে বুঝতে পারছিস?
বিভোর:কিন্তু বৃষ্টিকে বদলানোর সাধ্য আমাদের নেই যে।
“ছোট থেকে পরিবারের অবহেলা যে সহ্য করে আসছে,পরিবারের কটু কথা শুনে শুনে বড় হয়েছে,সে এমন হবে না তো কি হবে?”
পিছন থেকে কথাটি বললো আয়েশা।
বিভোর:তুমি এখানে?
আয়েশা:কাজ ছিল!
বিভোর:কেমন আছো?
আয়েশা:বাবার কানে অলরেডি কথাটা চলে গেছে, তাই আসলাম।কি রকম আর থাকবো তাহলে?
উৎসঃ আচ্ছা একটা কথা বল তো?তুই আর বৃষ্টি একই মায়ের মেয়ে।তাহলে তোকে ভালোবাসা দেয় কিন্তু ওকে কেন এত অবহেলা করে?কেন এত কষ্ট দেয়?
আয়েশা:উত্তর টা আমারও অজানা।এখন বল আসলে হয়েছে টা কি?
নুরি:শোন।
ফ্ল্যাশব্যাক
ভার্সিটির থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট বিভোর,উৎস,আয়েশা,নুরি,রাইসা আর বৃষ্টি।আয়েশা আর বৃষ্টি দুই বোন।অপরদিকে রাহাত ভার্সিটি ফোর্থ ইয়ারের স্টুডেন্ট।আজ ভার্সিটি আসার পর রাহাত তার গ্যাং নিয়ে নুরি আর রাইসা কে বাজে ভাবে স্পর্শ করে আর নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে।তাও নুরি আর রাইসা কোনো প্রতিবাদ করে না।আর এইসব দেখে বৃষ্টির জুনিয়র তানহা ওকে গিয়ে সব বলে দেয়।
তানহা:আপি,রাহাত ভাইয়ারা নুরি আর রাইসা আপুর সাথে বাজে বিহেভ করছে।এমনকি গায়েও হাত দিচ্ছে।
ব্যাস আর কি লাগে।বৃষ্টি রাহাতের কাছে যায়।রাহাত বৃষ্টির দিকে বাজে ভাবে তাকায়।
রাহাতঃবাহ,এই রসের হাড়ি আজ নিজের থেকে আমার কাছে?কি ব্যাপার?কিছু চাই মামণি?
বলেই বৃষ্টির কোমরে হাত রাখলো।বৃষ্টি একবার রাহাতের হাত আরেকবার ওর দিকে তাকালো।বাঁকা হেসে নিজের শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে বলল,
বৃষ্টিঃবহুদিন কাওকে না মেরে হাতে যম ধরে গেছে।আজকে ছাড়াবো।
বলেই কোমরে থাকা রাহাতের হাত মুচড়ে ধরলো।রাহাতের সঙ্গীরা আগেই পালিয়েছে।কারণ বৃষ্টির মার ওরা আগে খেয়েছে। মারতে মারতে এক পর্যায়ে হকি স্টিক দিয়ে মারা শুরু করে।আর বাকিটা জানা।
ফ্ল্যাসব্যাক এন্ড
আয়েশা দ্বীর্ঘশ্বাস ফেললো।কি বলবে?ওর বোন তো এমনি।
রাইসা:এখানে দাড়িয়ে না থেকে আমাদের এসবি এর রাগ ভাঙাই চল!
তানহাঃআপু!
বৃষ্টিঃবল।
তানহাঃআয়েশা আপুকে নিচে দেখলাম।
বৃষ্টিঃতার মানে খবর পৌঁছে গেছে।
তানহা কিছু বললো না।
আয়েশাঃ বৃষ্টি!
বৃষ্টিঃজ্ঞান দিবি না প্লিজ।
আয়েশাঃকেন বুঝিস না তোর এমন কাজ বাবা মাকে তোর থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিবে।
বৃষ্টিঃকাছে কবে ছিলাম?
আয়েশা চুপ করে গেলো।কি দিবে এর জবাব?
রাইসাঃরাহাত কিন্তু খুব বাজে।
বৃষ্টিঃআই ডোন্ট কেয়ার।
উৎসঃব্যাস,এবার অফ যা,যা হওয়ার হইছে।
বিভোরঃআদিল কই?
রাইসাঃদেখ কাকে লাইন মারতেছে।এই আভি কই?
আভিঃহ্যাল্লো লেডিস,তুম লোকো নে বুলায়া অর বান্দা হাজির।
তানহা আভি কে দেখে চুপিচুপি বের হতে নিলে আভি বলে উঠে,
আভিঃহেই!ঝাণ্ডুবাম।
তানহা এতে তেতে উঠলো,
তানহাঃওই মিস্টার লেজহীন বাঁদর,খবরদার আমায় ঝাণ্ডুবাম বলবেন না।
আভিঃতো কি বলবো?আম…টিকটিকির লেজ?
তানহাঃআপু…
আভিঃআমার সাথে না পারলেই আপু।
বৃষ্টিঃআভি,কি শুরু করলি?
বিভোরঃওর কথা বাদ দে।
বৃষ্টিঃতানহা ক্লাসে যা।
তানহা মাথা দুলিয়ে আভি কে ভেঙচিয়ে চলে গেলো।
আভি মুচকি হেসে ওর যাওয়া দেখলো।
উৎসঃভার্সিটিতে নিউ স্যার আসছে।
নুরি লাফিয়ে বলে উঠলো,
নুরিঃসত্যি!!
উৎসঃইহ,যেই শুনেছে নিউ স্যার ওমনেই লাফানি স্টার্ট।
রাইসাঃইয়াং স্যার হলে ওর ক্রাশ খাইতে সুবিধা হবে।
নুরি:তোরা কি বুঝবি,ক্রাশ ইস লাশ।
উৎসঃ তুই আর তোর ক্রাশ,থাক দুইটা।
বিভোর:তুই চেতিস কেন?
আভি: বুঝি বুঝি।
উৎসঃ কি বুঝিস?
বৃষ্টি:তোদের এই কচু মার্কা কথা বাদ দিবি?
বিভোর:ইয়ার তুই একটু মেয়েলি ভাবে কথা বলতে পারিস না?
নুরি:ওর এই ছেলে টাইপ আচরণেই অনেকে ফিদা,আর মেয়েলি হলে খুঁজে পাওয়া যেতো না।
রাইসা:আচ্ছা বৃষ্টি তুই কাওকে কখনো প্রোপজ করেছিস?
আয়েশা: ও আর প্রপোজ? হাসালি।আজ পর্যন্ত সব ছেলেই ওর হাতে মাইর,থাপ্পড় ছাড়া কিছু খায় নাই।
বিভোর:চল,বৃষ্টি তোকে আজ প্রমাণ করতে হবে।
বৃষ্টি:হাব ভাব ভালো টিকছে না।
বিভোর:আরে তুই যে সব পারিস তার একটা ছোট্ট টেস্ট।এখানে হাব ভাবের কি হলো?
বৃষ্টি:কি টেস্ট?
বিভোর:তুই ডেয়ার হিসেবে একটা ছেলেকে প্রোপজ করবি।
বৃষ্টি: আশা রেখে লাভ নাই।
উৎসঃ আরে জাস্ট প্রপোজ করবি।আর কি?
আভি:আরে ছাড় ও পারবেনা।
বৃষ্টি:এই বৃষ্টি পারবেনা এমন কোনো কাজ নেই।
রাইসা:তাহলে চ্যালেঞ্জ?
বৃষ্টি:চ্যালেঞ্জ!
নুরি:নিচে চল।
সবাই নিচে গেলো,
নুরি:রাইসা দেখ ঐ রেড টি শার্ট কে!!
রাইসা: হায়।
সামনে রেড টি শার্ট পরিহিত,কালো চশমা,কালো জিন্স আর হোয়াইট কেডস পরা,ব্রাউন সিল্কি চুলের অধিকারী ব্যাক্তি কাধে ব্যাগ নিয়ে মোবাইল চালাতে চালাতে আসছে।
বৃষ্টি: হোয়াট আ নমুনা।
নুরি:তোর একে নমুনা মনে হয়?
বৃষ্টি:কোনো সন্দেহ?
রাইসা:তুই তো এলিয়েন এর চেয়ে কম না!!
বিভোর:বৃষ্টি পেয়েছি!তুই এই নমুনা কে প্রপোজ করবি।
বৃষ্টি: আর কাওকে পাইলি না ?
বিভোর: না পাই নাই , এখন প্রোপজ কর ,
যা।
বৃষ্টি বিরক্তিকর চোখে তাকালো। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছেলেটির সামনে দাঁড়ালো। এদিকে হুট করে কেউ সামনে আসাতে চোখ তুলে তাকালো মেঘ । হাতা গোটানো চেক শার্ট পরিহিত আর জিন্সের সাথে সু পড়া মেয়েটিকে দেখে অবাক হলো । চেহারা এবং কোমর অব্দি ঢেউ খেলানো চুলে মেয়েটিকে মেয়ে বলে মনে হলেও, পোশাক-আশাকে ছেলে বলেই ধারণা করা যায়
বৃষ্টি: ওই মিস্টার ?
মেঘ: মেঘালয় মেঘ ।
বৃষ্টি: হোয়াট এভার ! শুনেন আই লাভ ইউ ।
মেঘ হতভম্ব হয়ে রইল ।
#চলমান
( হাজির হলাম নিউ গল্প নিয়ে। সারা পেলে পরবর্তী পর্ব দেখবো। কেমন লাগলো জানাবেন)