মেঘাচ্ছন্ন_আকাশে_প্রেমের_রংধনু 🌸 #পর্ব- ১৩,১৪

0
113

#মেঘাচ্ছন্ন_আকাশে_প্রেমের_রংধনু 🌸
#পর্ব- ১৩,১৪
#Jannatul_ferdosi_rimi (লেখিকা)
১৩

আরফান অর্ষাকে হিচকে টেনে ধরে,মিরা এসে তা দেখে ফেলে।বর্ণ তা দেখে আরফানের থেকে সরিয়ে থেকে,অর্ষাকে পুনরায় কোলে তুলে চেচানো সুরে বলে, ‘ বলেছিলাম না?আপনি হাঁটতে পারবেন না। পরে যাবেন। তবে কেন আগ বাড়িয়ে গাড়ি থেকে নামতে গেলেন। যদি কিছু হয়ে যেতো। ‘
অর্ষা কিছু বলার পূর্বেই মিরা এগিয়ে এসে অস্হির হয়ে বর্ণকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করে, ‘ কি হয়েছে অর্ষার? ‘
‘ আমার গাড়ির সাথে উনার বাইকের ছোট্ট একটা এক্সি/ডেন্ট হয়েছিলো, ডোন্ট ওয়ারী আমি উনাকে হসপিটালে নিয়ে গিয়ে, ওয়াশ করিয়ে এনেছি। রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। ‘
বর্ণের উত্তরে মিরা আরফানের দিকে আড়চোখে তাঁকিয়ে ফের অর্ষাকে প্রশ্ন করে, ‘ কোথায় ছিলি তুই? ‘ অর্ষা মিরাকে আসস্হ করে বলে, ‘ আমি কাউন্সালারের মিটিং এ ছিলাম, তিনি ডেকে পাঠিয়েছিলেন। ফিরে আসার পথে হুট করে অঘ/টন ঘটে যায়। ‘

মিরা বর্ণকে উদ্দেশ্য করে দ্রুততার সাথে বলে,’ বর্ণ ভাইয়া আপনি ওকে নিয়ে গিয়ে বসানোর ব্যবস্হা করুন। আমি দুধের ব্যবস্হা করছি। দুধ খেলে কিছুটা দূর্বলতা কাটবে। ‘

মিরার কথায় সায় জানিয়ে বর্ণ অর্ষাকে ভেতরের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। অর্ষা এবং বর্ণের কথায় মিরার ভিতরে থাকা সমস্ত সংদেহ নিমিষেই দূরে ঠেলে অপরাধবোধের জন্ম দেয়। মনে মনে কয়েকবার ক্ষমা চেয়ে নেয় অর্ষার কাছ থেকে।আরফান মিরাকে এড়িয়ে ভিতরের দিকে যাচ্ছিলো। মিরার একটা প্রশ্ন শুনে সে থেমে যায়। মিরা আরফানের হাত ধরে, নিজের সামনাসামনা দাঁড় করিয়ে বলে, ‘ তুমি এতো লেট করেছো কেন আরফান? সবকিছু নিয়ে কিসের এতো অনীহা তোমার? তুমি কি আদোও বিয়েতে ইন্টেরেস্টেড? ‘

আরফান নিষ্চুপ হয়ে গেলো। অপরদিকে বর্ণ ছাদে অর্ষাকে কোলে তুলে সকলের সামনে নিয়ে আসলো। অরু মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। রোজিয়ানাও আড়চোখে দেখে নিলো। সকলে কেমন ভাবে আড়চোখে দুজনকে দেখে যাচ্ছে। অর্ষার কেমন একটা অস্বস্হি লাগলো। শার্ট খামছে চোখের ইশারায় বর্ণকে বুঝাতে চাইলো, তাকে যেন নামিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু বর্ণ আদোও কি বুঝলো? সে কোনপ্রকার কেয়ার না করে, অর্ষাকে কোলে করে একটি চেয়ারে বসিয়ে দিলো এবং সকলকে উদ্দেশ্য করে বললো, ‘ ওয়াট?এখানে ড্রামা চলছে? এইটা ব্যাচালার পার্টি,কোন নাট্যমঞ্চ না। ‘

বর্ণের কথায় সকলে চোখ নামিয়ে ফেললো। রোজিয়ানা নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। বর্ণ পাশে বসে পরলো অর্ষার। কয়েকজন ওয়েটার এসে সকলকে ড্রিংক পরিবেশন করলো। বর্ণকে নিজ পাশ বসতে দেখে, কিছুটা সরতে চাইলো অর্ষা। কিন্তু পারলো না। নীচের দিকে তাকিয়ে দেখে বর্ণ বেশ ভাব নিয়ে তার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে। যেন হাত ছেড়ে দিলেই অর্ষা কোথাও পালিয়ে যাবে। অর্ষা কিঞ্চিৎ ভ্রু কুচকে তেজি গলায় বলে, ‘ আপনি শুরু করেছেন টা কী? দেখুন! আমাকে এইভাবে টাচ করলে, আপনাকে আমি। ‘

‘ আপাতত আপনার পায়ে চ/ট লেগেছে, সুতরাং মা/রা/মা/রি। আপনাকে দিয়ে হবে না। খেয়ে নিন চুপচাপ। ‘

কথাটি বলে অর্ষার দিকে দুধের গ্লাস এগিয়ে দেয়। একদম গরম গরম। অর্ষা বর্ণের দিকে তাঁকাতেই, বর্ণ
নিজের কলার ঝাড়তে ঝাড়তে বলে, ‘ সার্ভেন্টকে দিয়ে গরম করিয়ে এনেছি। খেয়ে নিন। চটপট ভালো লাগবে। বেশি গরম। ফু দিয়ে দেই কেমন? হাল্কা ঠান্ডা হবে তাহলে। ‘

বর্ণ দুধের গ্লাসে হাল্কা ফু দিতে থাকে। অর্ষা অবাক পানে শুধু নিষ্পলক তাঁকিয়েই থাকে। তার মনের সুপ্ত গহীনে শুধু একটাই প্রশ্ন উঁকি দেয়, ‘ এতো খেয়াল রাখেন কেন আমার? আমি আপনার কে হই? আপনি তো অচেনা কেউ, তবে কেন এতো চেনা? কেন এতো আপন? ‘

বর্ণ অর্ষার দিকে দুধের গ্লাস বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
‘ জানেন মিস ঝাঁঝওয়ালী? ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার সাধ্য হয়তো আমাদের থাকে না, কিন্তু আড়ালে তাকে আগলে রাখার সাধ্য থাকে। ভালোবাসা না হোক, তাকে আগলে রেখে আজীবন ভালোবাসাতেই তো প্রাপ্তি পাওয়া যায়। তাই না? ‘
বর্ণের প্রশ্নের কোনরুপ উত্তর দিতে পারলো না অর্ষা।
_________________

অন্যদিকে মিরার প্রশ্নে আরফান মিরার গালে হাত রেখে, কোমল সুরে বলে, ‘ আমি তোমাকে ভালোবাসি মিরা। আমি কেন বিয়ে করতে চাইবো না। হ্যা অনেক কারণে অকারণে তোমাকে আমি সময় দিতে পারছি না। কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি, এন্ড ট্রাস্ট মি!
বিয়ের পরে ভালোবাসার কোন কমতি আমি থাকতে দিবো না। একটিবার শুধু আমায় ভরসা করে দেখো।’

মেয়েদের স্বভাবই, একটি মধুর কথা শুনলেই, অপর পাশের মানুষকে সহজে বিশ্বাস করে নেওয়া। সে যদি ভালোবাসার মানুষ হয়, তখন জেনে না বুঝে নির্দ্বিধায় তাকে বিশ্বাস করে ফেলে, তাকে ভরসা করে ফেলে, কিন্তু অপরপ্রান্তের থাকা ব্যাক্তি কী আদোও সেই ভরসার যোগ্য? মিরা আরফানের বুকে মাথা রেখে অনুনয়ের সুরে বলে,

‘ আমাকে যদি তুমি মে/রেও ফেলো ।কোনরুপ অভিযোগ করবো না। মৃ/ত্যুর যন্ত্রনা সহ্য কটা যায়, কিন্তু আমাকে কখনো ধোঁ/কা দিও না। ভালোবাসার মানুষের ধোঁ/কা সহ্য করা যায় না। বড্ড কষ্ট হয়। ব্যাথা করে বুক। তখন সেই ব্যাথা আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। ‘

আরফান ও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো মিরাকে। ছাদের উপর থেকে রোজিয়ানা তা দেখে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসঁলো।

মিরা এবং আরফান ছাঁদে আসতেই, সকলে তাদের ঘিড়ে ধরে।

অরু না চাইতেও বার বার অর্ষা এবং বর্ণকে দেখে যাচ্ছে। তার কিছুতেই দুজনকে একসাথে সহ্য হচ্ছে না। সে বর্ণের দিকে এগিয়ে এসে, মিষ্টি হেসে বললো,

‘ বর্ণ ভাইয়া, গাঁয়ে হলুদের দিন তো আসর জমিয়ে দিয়েছিলে, আজকেও কিন্তু গাইতে হবে, তাও আমার সঙ্গে। আপনার বেয়ানের এইটুকু আবদার তো রাখতে হবে। আপনাকে। কি বলো সবাই?’

অরুর প্রশ্নে সকলে একসাথে ‘ একদম ‘বলে চেচিয়ে উঠে।

বর্ণ তার শার্টের কলার সামান্য ঠিক করে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, ‘ ওকে ওকে লেডিস! আই উইল ট্রাই। স্টার্ট মিউজিক। ‘

সকলে উচ্ছাসে মেতে উঠে। হাত বাড়িয়ে অরুর হাত ধরে নিজের দিকে টেনে ধরে, কিছুক্ষন ঘুড়িয়ে গাইতে থাকে, ‘

আমি তোমাকে আরো কাছে থেকে
তুমি আমাকে আরো কাছে থেকে

আমি তোমাকে আরো কাছে থেকে
তুমি আমাকে আরো কাছে থেকে

অরু লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। সে আলতো করে বর্ণের বুকে হাত রাখে। বর্ণ আড়চোখে অর্ষার দিকে তাঁকায়। কেমন ক্ষিপ্তভাবে মুখ ঘুড়িয়ে বসে রয়েছে। বর্ণ অরুকে ঘুড়িয়ে দেয়৷ বর্ণের আরেকজন ফ্রেন্ড অরুকে নিয়ে নাঁচতে থাকে। অরু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। বর্ণ অর্ষার কাছে হাটু গেড়ে বসে গাইতে থাকে,

‘ যদি জানতে চাও, তবে

ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও

ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও

বর্ণ অর্ষার নিজের অজান্তে গান গাইতে গাইতে অর্ষার গালে হাত রাখে। অর্ষা নেত্রপল্লব জোড়া বন্ধ করে ফেলে। তার অশ্রু এসে বর্ণের হস্তে এসে লিপ্ত হয়। অর্ষা অশ্রুভেঁজা আখির দিকে তাকিয়ে বর্ণ বলে,

‘ আমার দিকে মায়াবী চোখে তাঁকাবেন না, আপনাকে ভালোবাসাতে ইচ্ছে করে খুব। ‘

_________________

আজ মিরা এবং আরফানের বিয়ে। সকাল থেকেই নানা চিন্তায় রয়েছে অর্ষা। আরফানের মতো বাজে ছেলের সাথে তার মরুর বিয়ে হবে,ভাবতেই শরীর শিউরে উঠছে তার। মিরাকে পার্লার থেকে সাঁজানোর জন্যে লোকরা এসেছে। অর্ষা একপলক মিরাকে দেখে নেয়। গাঁয়ে তার লাল লেহেংগা। চোখমুখে তার ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার খুশি যেন উপচে পড়ছে। অর্ষার খুব খারাপ লাগে। যাকে এতোটা ভালোবেসে ফেলছে মিরা, তার স্বরুপ জানলে কতটা কষ্ট পাবে মিরা? কিন্তু সারাজীবন কষ্ট পাওয়ার থেকে খনিকের কষ্ট পাওয়া অনেক ভালো।
মিরাকে প্রায় সাঁজানো শেষ, এদিকে পাত্রপক্ষরাও চলে আসছে। অর্ষার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে…..

চলবে কি?

#মেঘাচ্ছন্ন_আকাশে_প্রেমের_রংধনু 🌸
#পর্ব- ১৪
#Jannatul_ferdosi_rimi (লেখিকা)
নিজের বর্তমান প্রেমিকের বিয়ের আসরে বসে, তার বউয়ের দিকে অদ্ভুদ্ভাবে তাঁকিয়ে রয়েছে রোজিয়ানা। মিরা হেঁসে যাচ্ছে বধুবেশে,নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়ার খুশিতে। আড়চোখে নিজের ফোনের স্ক্রিনে থাকা আরফানের হাসজ্বল ছবিখানা বারংবার বের করে দেখছে এবং হেসে বলছে, ‘ অবশেষে তোমাকে নিজের করে পাবো। একদম নিজের করে। যেখানে থাকবে না অন্য কোন নারীর অধিকার। মাই ডেয়ার হাজবেন্ড লাভ ইউ সো মাচ!’
রোজিয়ানার পাশে দাঁড়িয়ে অর্ষাও মিরাকে পর্যবেক্ষন করে যাচ্ছে। অর্ষার কাছে এসে বিড়বিড়িয়ে বললো, ‘ বর্ণ কোথায় জানো তুমি?’
রোজিয়ানার এমন প্রশ্ন যেন অর্ষাকে চরম বিরক্তিতে ফেলে দিলো। মেয়েটা আসার পর থেকে বর্ণ বর্ণ করে যাচ্ছে। যা প্রচন্ড অসহ্য মনে হয় অর্ষার কাছে। সে কিছু বলতেও পারে না, সহ্যও করতে পারে না। শুধু মনে হয়, মানুষটার পাশে অন্য কেউ থাকবে কেন? অন্য কেউ তার খোঁজ নিবে কেন? মনের সুপ্ত গহীন থেকে অদ্ভুদ্ভাবেই বর্ণের প্রতি আলাদা এক অধিকারবোধ জন্ম হয়েছে অর্ষার। সে চেঁচিয়ে চেয়ারে ধপ করে বসে বলে,’ আমি জানবো কী করে সে কোথায়? আপনাদের সাথেই তো তার আসার কথা। আপনার বন্ধু আপনি খুঁজুন। ‘

রোজিয়ানা মিটিমিটি করে হেঁসে অর্ষার পাশে বসে বলে, ‘ আরে জাস্ট চিল! এতো অভাররিয়েক্ট করার কি আছে? তুমি একটু বেশিই রাগ করে ফেলছো। বর্ণকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাই। ‘

অর্ষা কোনরুপ উত্তর দেয় না। বিরক্তি নিয়ে উঠে চল যায়। রোজিয়ানা কি ভেবে যেন আলতো হেসে উঠলো। অর্ষা সকলের থেকে দূরে এসে দাঁড়ালো। বরযাত্রির গাড়ি করে সকলে এক করে করে চলে এসে পড়েছে। অবশেষে সকলের অবসান দূর করে, আরফানের গাড়ি চলে আসলো। সঙ্গে সঙ্গে মিরার কাজিনেরা ছুটে গেলো। ফুলে ফুলে পরিপূর্ণ করে ফেললো আরফানের পথ। আতশবাজি চারদিকে ফুটতে শুরু হলো। সকলে বলাবলি করছে, ‘ মিরার বর এসেছে। ‘মিরা নিজের মাথা নিচু করে ফেললো লজ্জায়।

সকলের মাঝে অর্ষার আখিজোড়া চাতক পাখির ন্যায় বর্ণকে খুঁজে যাচ্ছে। আরফান বেড়োলো বর বেশে। তার পাশে সাদা পাঞ্জাবিতে সোনালী কোটি পড়ে, চোখে সানগ্লাস পড়ে বর্ণ বেড়িয়ে গেলো। সকলে একপ্রকার হুমড়ি খেয়ে পড়লো বর্ণের দিকে,যেন বিয়ের বর সে! অরু আরেকটা গ্লাস শরবত বের করে, বর্ণের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

‘ বেয়ান সাহেব আপনিও খেয়ে দেখুন না। আমি নিজের হাতে করেছি। ‘

সঙ্গে সঙ্গে বর্ণের অন্য বন্ধুগণ হায় হুতাশ করে বলতে লাগলো, ‘ আজ দেখতে খারাপ বলে, সুন্দরী বেয়ানেী হাতের শরবতটুকু কপালে জুটলো না। ‘

বর্ণসহ সকলে হেঁসে উঠলো। বর্ণ আড়চোখে অর্ষার দিকে তাঁকালো। বর্ণের সাথে চোখাচোখি হতেই, নিজের দৃষ্টি সরিয়ে ফেললো অর্ষা। বর্ণ কি ভেবে যেন বাঁকা হেসে অরুর হাত ধরে, শরবতটুকু খেয়ে নিলো। তা দেখে একপ্রকার তেলে -বেগুনে জ্ব/লে উঠলো অর্ষা। লা/ত্থি দিয়ে চেয়ারটা ফেলে দিয়ে, শার্টের হাতা হাতের কনুই পর্যন্ত উঠিয়ে, গটগট পায়ে চলে গেলো অর্ষা। বর্ণ তা দেখে অদ্ভুদভাবে হেসে উঠলো। আজকাল মেয়েটাকে জ্বা/লাতন করতে তার বড্ড আনন্দ লাগে। মনে হয় ও তো আমার জন্যেই নিজের মনে লড়াই করে যাচ্ছে নিজের অনুভুতিকে নিয়ে। সেই অনুভুতি কি আদোও বুঝতে পারছে অর্ষা? বর্ণ বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলো, ‘ আপনাকে নতুন করে অনুভুতি সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো, নিজের সমস্ত প্রেমকে উজাড় করে। মিস ঝাঁঝওয়ালী। ‘

অর্ষা দৌড়ে মিরাদের বাড়ির অন্ধকার একটি ঘরে দরজা মৃদ্যু চাপিয়ে দিয়ে, বসে পড়ে। জানালার হাল্কা হাল্কা আলো ঘরে এসে কিছুটা আলোকিত করে তুলেছে। অর্ষা মাথায় হাত দিয়ে অনুনয় কন্ঠে বলে, ‘ বড্ড অসহায় লাগছে নিজেকে। কেন আবারোও সেই ভয়ংকর অনুভুতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছি আমি? কেন বর্ণের সাথে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারছি না আমি। কেন? ‘

‘ ভালোবাসেন বলে। ‘

ধীর কন্ঠে কেউ বলে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে অর্ষা একপ্রকার লাফিয়ে উঠে চিৎকারের সুরে বলে, ‘ না না না! আমি কাউকে ভালোবাসতে পারি না। এই অনুভুতি আমার জীবনে প্রবেশ করতে পারে না। ভালোবাসার মতো বিষা/ক্ত অনুভুতি আর কিচ্ছু হতে পারে না। ভালোবাসা ন/রকের য/ন্ত্রনা দিতে পারে। জীবনটাকে রঙ্গহীন করে তুলে দিতে পারে মুহুর্তেই। ‘

‘ ভুল মানুষকে ভালোবাসলে,ভালোবাসা যেমন নরক য/ন্ত্রনা দিতে পারে, তেমনি জীবনে সঠিক কাউকে বেঁছে নিলে, ভালোবাসা আপনাকে স্বর্গীয় অনুভুতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবে। সঠিক মানুষকে বেঁছে নিলে, ভালোবাসা মন্দ নয়। ‘

কথাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে মাথা তুলে বর্ণকে দেখে ছিটকে দূরে সরে যায় অর্ষা। বর্ণ হাটু গেড়ে বসে পড়ে। অর্ষার দিকে হাত বাড়িয়ে বলে, ‘ ভরসা করে একটিবার আমার হাত ধরবেন? এক জায়গায় নিয়ে যাবো। ‘

অর্ষা ফুঁপাতে ফুঁপাতে ধীর গতিতে নিজের হাতখানা রাখলো বর্ণের হাতে। বর্ণ মিষ্টি হেসে, অর্ষার হাত ধরে পাশের রুমে নিয়ে যেতে লাগলো। অর্ষাকে কক্ষে প্রথমে প্রবেশ করতে বললো। অর্ষার কেন যেন আজ বর্ণ নামক মানুষটাকে বড্ড ভরসা করতে ইচ্ছে করছে। সে এগিয়ে গেলো রুমটির দিকে। সঙ্গে সঙ্গে মুখে হাত দিলো। রংধনুর সাত রং দিয়ে পুরো রুমে আলপনা করা হয়েছে। চারদিকে সাত রকমের ক্যান্ডেল লাইট দিয়ে, ছোট্ট একটি পানির পুল সুসজ্জিত রয়েছে। এতো কিছু বর্ণ কখন করলো? কীভাবে করলো? অর্ষা এগিয়ে গেলো। হুট করে তার পায়ে কিছু একটার সঙ্গে সামান্য আলতো ধাক্কা খেলো। সে হোচট খেতে লেগে, হাত বাড়িয়ে বর্ণ তাকে সামনে নিলো। বর্ণ নিচু হয়ে অর্ষা পা ধরতেই, অর্ষা তড়িৎ গতিতে বলে, ‘ কি করছেন কি আপনি?’

বর্ণ নিষ্চুপ থেকে অর্ষার পায়ের থেকে কাঁচখানা যত্নের সহিত বের করে দিলো। পাশের রুমে কাচ ভে/ঙ্গে যাওয়াতে একটি কাচ বেখায়ালিতে অর্ষার পায়ে ঢুকে গিয়েছিলো, তা থেকে র/ক্ত বের হচ্ছিলো, তা খেয়ালই ছিলো না অর্ষার। অর্ষা নেত্রপল্লব বুজে ফেলে। বর্ণ ধীর কন্ঠে বলে উঠে, ‘ আপনার চলার পথের সমস্ত কাটাকে উপড়ে দিয়ে, ফুল দিয়ে সুজ্জিত করে তুলবো আমি। ‘

কথাটি বলে পকেট থেকে দুটি গোলাপ ফুল বের করে, পাশের পানির পুলে রেখে তাতে রং দিয়ে দেয়। অর্ষার পাশে দাঁড়িয়ে বলে, ‘ মিস ঝাঁঝওয়ালী। ক্লোজ ইউর আইস প্লিয! ‘

অর্ষা সঙ্গে সঙ্গে তার নেত্রপল্লব খুলে তাঁকায়। দেখতে পায় একটি কালো গোলাপ এবং একটি লাল গোলাপ পানিতে ভেঁসে রয়েছে। তাদের উপর সামান্য রং ছিটানো হয়েছে। লাল গোলাপের সঙ্গে কালো গোলাপও রঙ্গিন হয়ে উঠছে। অর্ষা তা দেখে বর্ণের দিকে তাঁকাতেই, বর্ণ হাত ভাজ করে কালো গোলাপটি উঠিয়ে বলতে থাকে, ‘ ঠিক এই গোলাপের মতো, আপনার মেঘাচ্ছন্ন জীবনের আকাশকে প্রেমের রংধনু দিয়ে, রঙ্গিন করে তুলবো। ‘

বর্ণ হাত বাড়িয়ে, অর্ষার কালো কেষকে খুলে দেয়। তা কোমড় পর্যন্ত ছুইঁ ছুঁই করছে। বর্ণ গোলাপটি অর্ষার কানে গুজে দেয় আলতোভাবে। সঙ্গে সঙ্গে নিজের শার্টের খামচে ধরে অর্ষা। তার আখিজোড়া ছলছল করছে। বর্ণ এগিয়ে এসে, অর্ষার গালে হাত রেখে, ভেজা গলায় বলে, ‘ আমি আপনাকে ভালোবাসি। বড্ড ভালোবাসি আপনাকে। ‘

বর্ণের কথায় হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যায় অর্ষার। স্তব্ধ হয়ে পরে কিছুক্ষনের জন্যে।

লেখিকাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসি রিমি

____________
অপরদিকে মিরা অর্ষাকে অনেক খুঁজে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই অর্ষার ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাচ্ছে না সে। এদিকে কাজি সাহেব বিয়ে শুরু করে দিয়েছেন। নিজের জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে অর্ষাকে না পেয়ে, মন খারাপ হয়ে গেলো মিরার। আরফান বর্ণ এবং অর্ষাকে একসাথে না দেখে, মনে মনে সংদেহ করলো, বিয়েটা কি আদোও তারা হতে হবে? জানেনা আরফান। আরফান দ্রুত কাজি সাহেবকে বিয়ে পরানোর কাজ শেষ করতে বলে। কাজি সাহেব মিরাকে কবুল বলতে বলে। মিরা কবুল বলার পূর্বেই……..

চলবে কি?

নোটঃ 🙂[পর্বটা বেশ অগোছালো হয়ে গেছে জানি অনেক তাড়া নিয়ে লিখিছি। কিছু পারিবারিক সমস্যার কারণে ফোন একদম হাতে পাচ্ছি না🙂সকলের কাছে দুঃখিত আমি।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here